Thursday, December 31, 2009

অন্যের গর্ভে নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান

0 comments

গুজরাটের আনন্দ শহরের এক ক্লিনিকে গর্ভাশয় ভাড়াদানকারী কয়েক মা বিশ্রাম নিচ্ছেন
লিওনার্দ ও নিকোলাস জার্মান দম্পতি জন বালাজ ও সুসান লোলের ফুটফুটে যমজ সন্তান। তবে তারা শুধু জার্মান দম্পতিরই সন্তান নয়, তাদের জন্মে অংশীদারিত্ব আছে এক ভারতীয় নারীরও। ভারতীয় নারীর জরায়ুতে তাদের বেড়ে ওঠা অর্থের বিনিময়ে। আইনগত দীর্ঘ ঝুটঝামেলা শেষে সম্ভবত আগামী বছরে লিওনার্দ ও নিকোলাস জার্মানি যেতে পারবে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে গুজরাটের একটি ছোট শহর আনন্দের এক সন্তান জন্মদান ক্লিনিকে তাদের জন্ম। সেই থেকে কার্যত রাষ্ট্রবিহীন নোম্যান’স ল্যান্ডের অধিবাসী লিওনার্দ ও নিকোলাস। জার্মানি কিংবা ভারত সরকার কেউই তাদের নাগরিকত্বদানে আগ্রহী নয়। তারা রাষ্ট্রহারা। অবশ্য নিষ্পাপ দুই শিশুর জার্মান মা-বাবা মরিয়া ছিলেন সন্তানদের নাগরিকত্ব আদায়ে। তারা অব্যাহতভাবে ভারত ও জার্মান কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়েছেন শিশু দুটিকে নাগরিকত্ব প্রদানে।

জার্মান দম্পতির দুঃখ-দুর্দশা আবারো তুলে ধরেছে কী ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় বিদেশি নিঃসন্তান দম্পতিদের। যারা কি না ভারতে আসেন ভাড়া করা মায়ের জঠরে সন্তান জন্মদানের আশায়। আনন্দের আকাক্সক্ষা ইনফারটিলিটি ক্লিনিকের পরিচালক ড. নয়না প্যাটেল জানান, ‘আমি তাদের প্রতিনিধি মাতৃত্ব (ভাড়া করা গর্ভাশয়) বিষয়ক চুক্তি করার আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তারা পরে একটি উপায় বের করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।’ ডা. প্যাটেল প্রতিনিধি মাতৃত্বের মাধ্যমে নিঃসন্তান জার্মান দম্পতির সন্তান জন্মদানের চিকিৎসক ছিলেন।

‘প্রতিনিধি মাতৃত্ব’ চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক চমক লাগানো পদ্ধতি। এ প্রক্রিয়ায় জরায়ুর বাইরে শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলন ঘটানো হয়, পরে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হয় ভাড়া করা এক নারীর জরায়ুতে।

জন্মদানের পর যমজ সন্তানদের জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে বালাজ-সুসান দম্পতির। কেননা জার্মান আইনে মাতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি মাতৃত্ব বা ভাড়া করা মাতৃত্বের স্বীকৃতি নেই। ভারতেও এ বিষয়ে কোনো আইন নেই। আর এ কারণেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিদেশি দম্পতির যমজ সন্তানদের পাসপোর্ট ইস্যু করতে নারাজ। ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সেটি সম্ভব নয়। কেননা লিওনার্দ ও নিকোলাস জার্মান দম্পতির সন্তান।

ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট এ অচলাবস্থায় এগিয়ে এসেছেন। সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দুই শিশুর জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র (ট্রাভেল ডকুমেন্ট) ইস্যু করতে। কিন্তু পাসপোর্ট নয়। অবশ্য ট্রাভেল ডকুমেন্টের মাধ্যমেই জার্মান দম্পতি তাদের শিশুদের নিজ রাষ্ট্রে নিতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই দুই শিশুকে ‘পণ্য’ কিংবা ‘রাষ্ট্রহীন’ বলে অভিহিত করা যাবে না। কোর্টের নির্দেশে প্রাথমিক বাধা দূর হয়েছে বটে। তবে পাসপোর্ট ছাড়া দুই শিশুর আইনগত স্বীকৃতি বা জার্মানির নাগরিক হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পেতে অসুবিধা হবেÑ এমনটাই মনে করছেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন জার্মান দম্পতি। শিশু দুটির যদি ভারতীয় পাসপোর্ট থাকতো তবে তারা জার্মান মা-বাবার দত্তক সন্তান বলে বিবেচিত হতো। নিশ্চিতভাবে ভোগ করতো সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।

বছরখানেক আগে জাপানি এক দম্পতির ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতীয় এক নারীর গর্ভাশয়ে মান ঝি নামের কন্যাশিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার কয়েক মাস আগে জাপানি দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সন্তান আগ্রহী জাপানি মা সিদ্ধান্ত পাল্টে ক্লিনিককে জানিয়ে দেন, তার এখন আর সন্তানের দরকার নেই। বিষয়টি ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন) প্রচার করেছিল। মান ঝির বাবা ড. ইকুফুমি ইয়ামাদা এবং দাদি ইমিকো ইয়ামাদা অবশ্য জাপান থেকে তাকে নিয়ে যেতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় আইন সে ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতীয় আইন মতে, শিশুর পাসপোর্ট নিতে হলে মাকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। ঝামেলা এড়াতে মান ঝির বাবা নিজ সন্তানকে দত্তক নেয়ার প্রস্তাব করেন। তবে ভারতীয় আইনে তাও সম্ভব ছিল না। দত্তক নেয়ার ক্ষেত্রেও মায়ের উপস্থিতি আবশ্যক ছিল।

মর্মান্তিক এ বিষয়টি তখন আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মান ঝিকে একটি জন্ম সনদ দেয়া হয়Ñ যাতে শুধু বাবার নাম উল্লেখ করা হয়। গত বছরের শেষদিকে মান ঝি জাপানের ওসাকার উদ্দেশে উড়াল দিতে সক্ষম হয়।

ডা. প্যাটেল স্ট্রেইট টাইমসকে বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ সালে প্রণীত। তখন প্রতিনিধি মাতৃত্ব বা অন্য নারীর গর্ভাশয় ভাড়া করে সন্তান জন্মদানের বিষয়টি অজানা ছিল। এখন প্রতি বছর বহু বিদেশি এ পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের আশায় ভারতে আসছেন। তাদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক আইন দরকার। তিনি আরো বলেন, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমার কাছে এ ধরনের দম্পতি আসছেন। আমি তাদের সবাইকে আগে নিজ দেশের নাগরিকত্ব আইন ভালোভাবে পড়তে বলি। অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির পরামর্শ দিই।

ডা. প্যাটেলের ক্লিনিক বন্ধ্যত্ব বিষয়ক চিকিৎসার জন্য ভারতে সবচেয়ে বিখ্যাত। প্রথমে এটির নাম ছিল ‘ক্রাডেল অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্বের সূতিকাগার। ২০০৩ সালে ডা. প্যাটেল আন্তর্জাতিক পত্রিকার শিরোনাম হয়ে ওঠেন প্রতিনিধি মাতৃত্বের বিষয়টি সার্থকভাবে সম্পন্ন করে। এ সময় তিনি একজন স্থানীয় নারী জোগাড় করেছিলেনÑ যিনি নিজ গর্ভাশয় ভাড়া দিয়েছিলেন তার বৃটেনে থাকা মেয়ের সন্তান ধারণের জন্য। সে ক্ষেত্রে ওই দাদি যমজ সন্তানের জন্ম দেন, যারা কি না তার জেনেটিক গ্রান্ড চাইল্ড।

ভারতজুড়ে ডা. প্যাটেলের ক্লিনিকের মতো অনেক ক্লিনিক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিধি মাতৃত্বকে ‘গর্ভাশয় ভাড়া’ কিংবা ‘পুনরুৎপাদন পর্যটন’ শিল্প বিভিন্ন উপনামে ডাকা হয়। এ শিল্পসংশ্লিষ্টদের আন-অফিশিয়াল হিসাব মতে, ভারত প্রতি বছর এ খাত থেকে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (৪৪৫ মিলিয়ন ডলার) আয় করছে। ডা. প্যাটেল গত পাঁচ বছরে ১৫০ নিঃসন্তান দম্পতিকে ভাড়া করা গর্ভাশয়ের মাধ্যমে মা-বাবা হতে সাহায্য করেছেন। এভাবে ১৮৫টি শিশুর জন্ম দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে যমজ সন্তানও রয়েছে।

কিছু রাষ্ট্র গর্ভাশয় ভাড়া দিয়ে অর্থ রোজগারের বিষয়টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে ২০০২ সাল থেকে ভারতে বিষয়টি বৈধ। নিঃসন্তান দম্পতিদের পছন্দসই একটি পদ্ধতি এটি। কেননা এটি অ্যাডভান্স মেডিকেল সিস্টেম। অধিকাংশ চিকিৎসকই ইংরেজিভাষী। ভারতে এর খরচ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে প্রতিনিধি মাতৃত্বে খরচ প্রায় ১২ হাজার মার্কিন ডলার, যা কি না যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচগুণ কম। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে আইনগত শর্ত আরোপ করা হয় যে, প্রতিনিধি মাতৃত্বের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। ভারতে সে ধরনের বিধান বা শর্ত নেই। আর সে কারণে গর্ভাশয় ভাড়া দিতে রাজি দরিদ্র নারীদের লাইন পড়ে যায় এখানে। ডা. প্যাটেল জানান, প্রতিনিধি মাতৃত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো গুজরাটের আনন্দ বা এর আশপাশের এলাকার দরিদ্র রমণীরা। সূত্র মতে, গর্ভাশয় ভাড়া দিয়ে একজন নারী আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি (সাড়ে সাত হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার ডলার) আয় করেন। এ ধরনের সব নারীই দারিদ্র্যজর্জরিত। অর্জিত অর্থে কেউবা নিজের ছিন্ন কুঁড়েঘরকে ইটের বাড়ি বানাতে চান, কেউবা শিশুদের ভালো শিক্ষাদানে আগ্রহী। আবার কেউ কেউ অর্জিত অর্থ খরচ করেন কন্যার যৌতুকদানে। গর্ভাশয় ভাড়াদানকারী অধিকাংশ মা-ই গর্ভকালীন চেকআপের জন্য নিয়মিত পার্শ্ববর্তী প্রসূতি ক্লিনিকে যান। সমালোচকরা প্রতিনিধি মাতৃত্বকে বিদেশি দ্বারা উন্নয়নশীল দেশের নারীদের শোষণ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদেশিরা এ ধরনের মাতৃত্বের ক্ষেত্রে নিজ দেশের উচ্চ খরচ বহনে অক্ষম কিংবা অনিচ্ছুক।
source: Jaijaidin

Tuesday, December 29, 2009

মাঝের আঙুলটি লম্বা কেন

0 comments
আমরা বলি, হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না। অর্থাত্ এটা তো দেখাই যাচ্ছে, এর আবার কারণ কী? আর তা ছাড়া সব সমান হলে চলবে কেন? কথাটি ঠিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ছোট-বড় হওয়ার পেছনের কারণটি কী? এর কোনো নিশ্চিত উত্তর জানা না গেলেও বলা যায়, জীবনের প্রয়োজনেই মাঝের আঙুলটি লম্বা হয়েছে। ধারণা করা হয়, যেহেতু কোনো কিছু শক্ত মুঠিতে ধরতে হলে মাঝের আঙুলটির ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, সে কারণেই এর হাড় শক্ত ও একটু লম্বা। মানুষের দীর্ঘ বিবর্তনের ধারায় মাঝের আঙুলটি লম্বা হয়েছে। আদিম মানুষ মূলত গাছের ফলমূল খেয়ে বাঁচত। তাদের এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফ দিয়ে যাওয়ার সময় শক্ত করে ডাল ধরার প্রয়োজন ছিল দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক চাহিদা। এ সময় হাতের মুঠির মাঝের আঙুলটির সামর্থ্যের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করত। সোজা কথায় বলা যায়, সেই যুগে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মাঝের আঙুলটি একটু লম্বা হওয়া দরকার ছিল। হয়তো অনেক মানুষের মাঝের আঙুলটি লম্বা ছিল না। ফলে তাদের পক্ষে ফলমূল জোগাড় করে বেঁচে থাকা কঠিন হতো এবং তারা বংশ বিস্তারের আগেই মারা পড়ত। এভাবে শুধু সেসব মানুষের বংশধরেরাই টিকে থাকে, যাদের মাঝের আঙুলটি লম্বা। এটাই বিবর্তন। হাতের সব মাংসপেশি মাঝের আঙুলের হাড়ের চারপাশ ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে কোনো কিছু ধরতে হলে এই আঙুলটির মাধ্যমে পুরো হাতের জোর প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। সে তুলনায় তর্জনী একটু ছোট এবং বুড়ো আঙুল ও তর্জনী মিলে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম কাজ, যেমন সুইয়ে সুতা পরানো, পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার প্রভৃতি করা হতো। আর মাঝের আঙুলটি একটু লম্বা আকৃতির হওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি বলপ্রয়োগের কাজ করার গুরুদায়িত্ব তার ওপরই বর্তায়।

Saturday, December 26, 2009

শকুন্তলা

0 comments
বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা। মা মেনকা শকুন্তলার জন্মের পর তাকে মালিনী নদীরতীরে ফেলে চলে যান। পরে কণ্ব মুনি শকুন্তলাকে দেখতে পেয়ে অরণ্যেই নিজ কন্যার মতো লালন-পালন করে বড় করেন। শৈশবে নদীতীরে পাখিরা [শকুন্ত] তাকে বন্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করেছিল বলে তার নাম রাখা হয় শকুন্তলা। তিনি ছিলেন অপরূপা সুন্দরী। রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়ায় এসে কণ্ব মুনির আশ্রমে শকুন্তলাকে দেখতে পান এবং তার রূপে মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করতে চান। শকুন্তলাও বিয়ে করতে রাজি হন। তবে একটি শর্ত দেন যে, তার গর্ভজাত পুত্র দুষ্মন্তের অবর্তমানে সিংহাসনে বসবেন। দুষ্মন্ত তাতে রাজি হন এবং বনের গভীরে গিয়ে গান্ধর্ব মতে বিয়ে করেন। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরে চতুরঙ্গিনী সেনা পাঠাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুষ্মন্ত নিজ প্রাসাদে ফিরে যান। কিন্তু অনেকদিন চলে যাওয়ার পরও দুষ্মন্তের পক্ষ থেকে তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। এদিকে শকুন্তলা একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন। পুত্র একটু বড় হলে কণ্ব মুনির নির্দেশে শকুন্তলা পুত্রকে নিয়ে দুষ্মন্তের প্রাসাদে যান। কিন্তু দুষ্মন্ত তাকে না চেনার ভান করে কটু কথা বলে অপমান করেন। সেসব শুনে শকুন্তলা যখন রাগ করে চলে যাচ্ছিলেন, অন্তরীক্ষ হতে তখন দৈববাণী হলো যে, শকুন্তলা যা বলেছে, সব সত্য। দুষ্মন্তই এই সন্তানের পিতা এবং এর নাম হবে ভরত। এটা শোনামাত্র দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে গ্রহণ করেন। এই ভরতই কৌরব ও পাণ্ডবদের একজন পিতৃপুরুষ।

ঢাক

0 comments
ঢাককে বলা হয় মানবদেহে উদ্দীপনা জাগানোর বিশেষ যন্ত্র। বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে এই বাদ্যযন্ত্র। ঢুলিদের তাল মেলানো ঢাকের শব্দে নেচে ওঠে মন। তবে বিশ্বের সব জাতির মানুষের মধ্যেই ঢাকের ব্যবহার আছে। নানা প্রয়োজনেই ঢাকের বাজনা বাজিয়ে চলছে বিশ্বের বিভিন্ন জাতির মানুষ। সামাজিক অনুষ্ঠান, যুদ্ধ, খবরের আদান-প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঢাককে আপন করে নিয়েছে সবাই। কোথাও আবার ঢাককে মৃত মানুষের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আধুনিক পৃথিবীতে ঢাক বেশি ব্যবহার করা হয় বিনোদনের কাজে। তবে ঢোল বা ঢাক হলো বাদন উপকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্ভবত ঢাকই হচ্ছে মানুষের জ্ঞাত সবচেয়ে প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র। বেশিরভাগ সংস্কৃতির মানুষ নিজের সুবিধা অনুযায়ী ঢাক তৈরি করে নিয়েছে। কিন্তু সব স্থানের ঢাকের ডিজাইন প্রায় এক। বেশিরভাগ ঢাকের তিনটি মূল অংশ থাকে। ফাঁপা, নলাকা অংশের এক বা দু'দিকেই টান করা পাতলা চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে। ঢেকে রাখা এ অংশকে বলে 'ঢাকের মাথা'। ঢাকের মাথা আবার খোলের সঙ্গে যুক্ত থাকে লম্বা চামড়ার ফালি ও গোলাকার কাঠের টুকরার সঙ্গে। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পল্গাস্টিকের 'ড্রামহেড' আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এ কাজে শুধু পশুর চামড়াই ব্যবহার করা হতো। জাপানিরা শত শত বছর আগে থেকে 'তাইকো' নামের এক ধরনের ঢাক ব্যবহার করে আসছে। আফ্রিকায় এক ধরনের ঢাক, যার নাম 'টকিং ড্রাম' বা কথা বলা ঢাক। আফ্রিকার আদিবাসীরা আগে ঢাকের মাধ্যমে আওয়াজ করে আশপাশের গ্রামগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করত। কোনো জরুরি তথ্য ঢাকের মাধ্যমে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেত। উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দারাও 'হুপ ড্রামস' নামের এক ধরনের ঢাক তৈরি করে। এটা তৈরি করা হয় পাতলা ফ্রেমের ওপর তিমির জিভকে টেনে বসিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় 'স্টিল ড্রাম' নামের এক ধরনের ঢাক ব্যবহার হতো। এটা তৈরি করা হতো যুদ্ধের সময় বাতিল করা তেলের ব্যারেল দিয়ে। উলম্ব আকৃতির এক ধরনের ঢাক আছে, যা তৈরি করা হয় কাঠ বা বাঁশ দিয়ে। এগুলোকে মাটির সঙ্গে আছড়ে বাজাতে হয়। আধুনিক বিশ্বে ঢাকের চেহারা বদলেছে, ব্যবহার বেড়েছে অনেক। কিন্তু আবেদন কমেনি একটুও। প্রবাদেও আছে, 'নিজের ঢাক নিজেই বাজাই', নয়তো অন্যকে দিলে ফাটিয়ে ফেলতে পারে!
আমির খসরু সেলিম

কোকাকোলা, পেপসি, নোভা,

0 comments
স্লোগান নিয়ে নানা কথা
নানা ঘটনা ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয় স্লোগান। রাজনীতির পাশাপাশি এসব স্লোগান পণ্যের ব্যাপক প্রচারের জন্যও ব্যবহৃত হয়। আজও বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এমন কিছু পণ্য উৎপাদনের পর তা বাজারজাতকরণের আগে তৈরি করা হয়েছিল স্লোগান। এসব স্লোগানের একেক ভাষায় একেক রকম অর্থ দাঁড়াত।
1 'কোকাকোলা' চীনা শব্দ। প্রথম দিকে একে বলা হতো 'কিকৌকেলা', যার অর্থ 'মোমের ব্যাঙাচি কামড়াও' অথবা 'মোমের মাদিঘোড়া'। পরে ৪০ হাজার শব্দ গবেষণা করে 'কিকৌকেলা'-এর প্রতিশব্দ 'কোকাকোলা' আবিষ্কার করা হয়। এর অর্থ 'পানেই সুখ'।
2 দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকায় জেনারেল মোটরস নোভা (ঘড় াধ) কার বাজারজাত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। 'নোভা' (ঘড় াধ) একটি স্প্যানিশ শব্দ, এর অর্থ 'এটি অচল'।
3 'দুধ পেয়েছ কি?' ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের এই প্রচার ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখার পর তারা মেক্সিকোতে প্রচার চালাতে উৎসাহী হয়। কিন্তু তারা দ্রুত বুঝতে পারে যে, স্প্যানিশে এর অর্থ_ 'আপনি কি স্তন্যদান করেছেন?'
4 যখন আমেরিকান এয়ারলাইন্স মেক্সিকান মার্কেটে চামড়ার তৈরি প্রথম শ্রেণীর আসনের জন্য বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চেয়েছিল, তখন তাদের স্লোগান ছিল 'চামড়ার আসনে ভ্রমণ করুন'। কিন্তু স্লোগানটি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়াত_ 'উলঙ্গ হয়ে ভ্রমণ করুন'।
5 ফ্রাঙ্ক পারডিউস চিকেনের স্লোগান ছিল 'এটি একজন শক্তিশালী মানুষকে নরম মুরগির বাচ্চায় পরিণত করে' আর এটিকে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করলে দাঁড়াত_ 'এটি একজন কামোত্তেজিত ব্যক্তিকে স্নেহপ্রবণ মুরগির বাচ্চায় পরিণত করে'।
6 পেপসির প্রথম দিকের স্লোগান ছিল 'পেপসি প্রজন্মের সঙ্গে জেগে ওঠো'। কিন্তু চাইনিজ ভাষায় এটিই অর্থ দাঁড়ালো_ 'পেপসি তোমার পূর্বপুরুষদের কবর থেকে জাগিয়ে তুলবে'।
ইন্টারনেট অবলম্বনে সুইট আদিত্য

বিদ্যুৎ ব্যবহারের শুরু যেভাবে

0 comments

আলো ছাড়া জগৎ অন্ধকার। কিন্তু সেই অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আগুনের সাহায্য নেওয়া হয়, আবিষ্কার করা হয় বিদ্যুৎ এবং বৈদ্যুতিক বাতি। ব্যাটারিও সেই ভাবনা থেকেই আবিষ্কার করা হয়। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষে এগুলোকে আধুনিককালের আবিষ্কার বলে মনে করলেও মোটেই তা আধুনিক নয়। কারণ দুই হাজার বছর আগেই ইরাকে ব্যাটারির ব্যবহার ছিল আর এ ব্যাটারি ব্যবহৃত হতো বাতি জ্বালাতে। বাগদাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি গ্রামে পাওয়া একটি বাক্স থেকে এমনই ধারণা করছে বিজ্ঞানীরা। ব্যাটারির আকৃতি ৬ ইঞ্চি উঁচু। এর ভেতরে আছে ৫ু১ দশমিক ৫ ইঞ্চি আকৃতির একটি সিলিন্ডার এবং তা কপার ও বিটুমিন দিয়ে আটকানো। এটি অ্যাসফাল্ট লেয়ার লোহার দণ্ডের সঙ্গে আটকানো ছিল। এর চেম্বারে ছিল এসিডিক করিসন। আর এসব কিছু মিলিয়েই তৈরি করা হয়েছিল ব্যাটারি, যা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। জার্মান ভূতত্ত্ববিদ উইলহেম কনিগ এ ব্যাটারির ধারণা থেকেই আধুনিক ব্যাটারি তৈরির পরিকল্পনা করেন। তার এ পরিকল্পনা এগিয়ে নেন প্রকৌশলী উইলার্ড এফএম গ্রে। ১৯৪০ সালে তিনি আবিষ্কার করেন আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যাটারি। ব্যবহার করেন প্রাচীন ব্যাটারিতে পাওয়া সব উপাদান। গ্রের আবিষ্কারকে আরও একধাপ এগিয়ে নেন জার্মানের আরনে এগাব্রেচট। ১৯৭০ সালে কপার সালফেটের সঙ্গে অন্য এক ধরনের এসিড ব্যবহার করে সিলভারের বাক্সে তৈরি করেন আরেকটি ব্যাটারি, যা দশমিক ৮৭ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এ পরীক্ষাটিই প্রমাণ করে ১৮০০ বছর আগেও মানুষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করত। সম্প্রতি বাগদাদের ওই গ্রামে আরও এক জোড়া পুরনো ব্যাটারি পাওয়া গেছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে অনেকেই মনে করছেন, ওই বাক্সে বিটুমিনের ব্যবহার প্রমাণ করে, এটি অবৈদ্যুতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। অধিকাংশ বিজ্ঞানীই মনে করছেন, পিরামিডের চেম্বার সাজসজ্জার জন্য আগে আলোর কোনো উৎস না থাকায় ব্যাটারির সাহায্যে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হতো। আর এটি সেই প্রাচীন পদ্ধতিতে তৈরি ছিল। এসবই প্রমাণ করে ২ হাজার বছর আগেও বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল। ইরাকের ওই ব্যাটারিগুলো রাখা হয়েছে বাগদাদ জাদুঘরে। তবে তৈরির সঠিক সাল নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। মনে করা হচ্ছে, খ্রিস্টপূর্ব ২২৬ থেকে ২৪৮ সালে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
হ এসআই বাঁধন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘোড়া

0 comments
সেরিন থমসপোন নামের এক ব্যক্তির ঘোড়াটির উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি। ঘোড়াটির নাম পো।  পোর ওজনও ৩ হাজার পাউন্ড আর দাঁড়ানো অবস্থায় তার উচ্চতা হয় ৮০ ইঞ্চি! দানবাকৃতির এ ঘোড়াটি দৈনিক ১০ পাউন্ডের মতো খাদ্যশস্য গ্রহণ করে আর পানি পান করে ৭৫ গ্যালনেরও বেশি! প্রাণীটি সবার খুব প্রিয়। কিন্তু সমস্যা একটাই আর তাহলো বিশাল দেহ। ভয়ে কেউ ঘোড়াটির কাছে যেমন যেতে চায় না, তেমনি চাবুক হাতে পিঠেও উঠে না কোনো সহিস।

অর্জুন

0 comments
মহাভারতের বর্ণনা অনুসারে অর্জুন পঞ্চপাণ্ডবের তৃতীয় পাণ্ডব। পাণ্ডুর স্ত্রী কুন্তির পাঁচ পুত্রের মধ্যে তৃতীয় এই অর্জুন ছিল তীর চালনাবিদ্যায় অদ্বিতীয়। নারায়ণের ছোট ভাই নারা পুনর্জন্মের পর অর্জুন হয়ে জন্মেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। মহাভারতে তার অন্যতম ভূমিকা ছিল কৃষ্ণের ভগি্নপতি এবং বন্ধু হিসেবে যার মাধ্যমে সে ভগবত গীতা সম্পর্কে জানতে পারে। তার ছিল চার স্ত্রী_ দ্রৌপদী [রাজা দ্রুপদের কন্যা], চিত্রাঙ্গদা, উলুপী আর সুভদ্রা। অবশ্য প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দ্রৌপদী অর্জুনের স্ত্রী ছাড়াও ছিলেন বাকি চার ভাইয়ের স্ত্রী। অর্জুন যখন তীর চালনার কৌশলে দ্রৌপদীকে জয় করে আনে, ভাইয়েরা তখন মায়ের কাছে কিছু একটা জয় করে আনার গল্প বলতে থাকলে মা কুন্তি পুরো ঘটনা না শুনেই বলে বসে যে, যাই হোক পাঁচ ভাই ভাগ করে নাও। মায়ের কথা রক্ষা করার জন্য অর্জুন তাই করেন। তবে এই ঘটনা মূলত শিবের দেওয়া বর হিসেবেই দ্রোপদীর কাছে আসে। পূর্বজন্মে অকারণে দ্রৌপদী পাঁচ গুণসম্পন্ন স্বামী চাইলে তাকে এই বলে সাবধান করে দেওয়া হয় যে, এক পুরুষের মধ্যে হয়তো এই পাঁচ গুণ পাওয়া সম্ভব নয়, তাই পরজন্মে তাকে বর দেওয়া হয় পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী হিসেবে।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু

0 comments
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু
ফ্রান্সের দক্ষিণে মিলাও নদীর ওপর অবস্থিত যে ঝুলন্ত সেতুটি, সেটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু বলে মনে করা হয়। এই সেতুটির নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রকৌশলী লর্ড ফোস্টার। আর তার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফরাসি প্রকৌশলী মাইকেল ভিরলগেক্স। মিলাও নদীর ওপর তৈরি এই সেতুটির উচ্চতা ১ হাজার ১১৮ ফুট বা ৩৪১ মিটার।
উচ্চতার দিক থেকে এটি ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার থেকে সামান্য ছোট এবং ইমপিয়ার স্টেট বিল্ডিং থেকে ১৩২ ফুট বা ৪০ মিটার ছোট। সেতুটি ২০০৪ সালে গাড়ি পারাপারের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
লিঙ্কন বিশ্বাস
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হিল
নিজেকে একটু লম্বা ভাবতে কে না চায়? খাটো হলে তো কথাই নেই। নিজেকে উঁচু দেখাতে তাই পায়ে পরে হাইহিল। কিন্তু সেগুলো আর কত উঁচু? বড় জোর দুই বা আড়াই ইঞ্চি। তবে সম্প্রতি এক জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ১৬ ইঞ্চি উঁচু এবং ১১ ইঞ্চি পল্গাটফর্মের হাইহিল তৈরি করেছে, যা ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জুতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই জুতা পায়ে দিয়ে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার নারী অনায়াসে ৬ ফুট লম্বা হতে পারে। তবে এই জুতা কিন্তু সবার ব্যবহারের জন্য নয়। কেবল সার্কাসে একটি বিশেষ ক্লাউন চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই বানানো হয়েছে। এটি পরে মঞ্চে দিব্যি নাকি হেঁটে বেড়ানও ওই চরিত্রের অভিনয়শিল্পী!
লুৎফর রহমান রুবেল
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঝরনা
এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঝরনাটির অবস্থান দুবাইয়ে। এখানেই গড়ে উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি। ৩০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত দুবাই লেকের ধারে এই ঝরনাটি তৈরি করা হয়েছে। এই ঝরনার পানি তীরবেগে ৫০০ ফুট অর্থাৎ ৫০ তলা ভবনের সমান উঁচু হতে পারে। ৯০০ ফুট লম্বা এমন পাঁচটি ঝরনা দিয়ে অনবরত পানি উপরে উঠে শোভাবর্ধন করছে। এটির নকশা করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার লাস ভেগাসে অবস্থিত বেল্লাজিও ঝরনার অনুকরণে। এটি তৈরিতে খরচ পড়েছে ২১৭ মিলিয়ন ডলার। এই ঝরনায় নিয়মিত ব্যবহৃত হয় ৬ হাজার ৬০০টি বাতি, ৫০টি নানা রঙের প্রজেক্টর এবং ১০০টি স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণযন্ত্র। কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই ঝরনা পরিচালনার সময় চলে গান। ফলে দর্শনার্থীদের জন্য স্থানটি হয়ে ওঠে আরও মনোরম ও আনন্দদায়ক।
লুৎফর রহমান রুবেল

ইকারোস

0 comments
গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, ইকারোস ছিলেন এথেন্সের প্রথম রাজা দাইদালোসের পুত্র এবং ইয়াপুক্সের ভাই। দাইদালোস ছিলেন স্থপতি ও ভাস্করশিল্পী। নগর গঠনে তিনি অনেক কাজ করেছেন। দাইদালোস অপরিসীম ক্ষমতাধর শাসকও ছিলেন। তিনি কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিচার করে অপরাধীকে শাস্তি দিতেন। ক্ষমতা-দ্বন্দ্বের কারণেই তিনি তালউসকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেন। কিন্তু তালউসের বাহিনী আক্রমণ করলে তিনি সন্তান ইকারোসকে নিয়ে পালাতে থাকেন। তারা মোম দিয়ে পাখা তৈরি করে উড়ে যাচ্ছিলেন। দাইদালোসের নির্দেশ ছিল বেশি ওপর দিয়ে না উড়তে। কিন্তু ইকারোস নির্দেশ অমান্য করে উঁচু স্থান দিয়ে উড়তে গেলে সূর্যের তাপে মোম গলে যায় এবং তিনি সাগরজলে ডুবে মারা যান। দাইদালোস তার এই প্রিয় সন্তানকে পরে সমাহিত করেন।

গরুড়

0 comments
মহাভারতের বর্ণনানুসারে, গরুড় কশ্যপ ও বিনতার পুত্র। বিনতার বোন কদ্রু [কশ্যপের আরেক স্ত্রী] একবার কশ্যপের কাছে বর প্রার্থনা করেন যে, ওর যেন এক হাজার নাগসন্তান জন্মগ্রহণ করে। একথা শুনে বিনতা কশ্যপের কাছে বর চান যে, ওর দুটি সন্তান হলেই চলবে। তবে সে সন্তান যেন বলশালী হয়। বিনতার সেই দুই সন্তানের একজন হলেন সর্পভোজী গরুড়। ঘটনাচক্রে বিনতা কদ্রুর দাসী হয়েছিলেন। কদ্রুর সর্প সন্তানরা গরুড়কে এই শর্ত দিয়েছিলেন যে, তিনি যদি অমৃত নিয়ে আসতে পারেন তাহলে বিনতার দাসীত্বমোচন হবে। গরুড় তার শক্তিশালী বাহুবলে ইন্দ্রসহ অন দেবতাদের পরাস্ত করে যখন অমৃত নিয়ে ফিরছিলেন, বিষ্ণু তাকে অমৃতলোভী না বলে বর দিতে চাইলেন। গরুড় বললেন, অমৃত পান না করেও তিনি অজেয় হতে চান। বিষ্ণু গরুড়কে বর দিয়ে তাকে বাহন হিসেবে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে গরুড় তাতে রাজি হয়ে যান। ফেরার পথে ইন্দ্রের সঙ্গে আবারও প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। কিন্তু ইন্দ্র তার কোনো ক্ষতি করতে পারলেন না। গরুড় অজেয় বুঝে ইন্দ্র অমৃত বর চাইলেন। গরুড় বললেন, এই অমৃত বিশেষ উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইন্দ্র খুশি হয়ে তাকে বর দিলেন যে, মহাবল সর্পরা গরুড় ভক্ষ্য হোক। গরুড় অমৃত এনে কুশের ওপর রাখতেই সর্পরা বিনতাকে দাসীত্ব থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু অমৃত পান করার আগেই ইন্দ্র তা হরণ করে নিয়ে যান।

ক্রিসমাস ট্রির কথা

0 comments
ছোটবেলায় বড়দিনের কথা শুনে মনে করতাম, দিনটি বোধহয় বছরের যে কোনো দিনের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু মজার বিষয় হলো, বড় হয়ে জেনেছি বছরের সবচেয়ে ছোট দিন ২২ ডিসেম্বর আর তার কাছাকাছি ২৫ ডিসেম্বরেই পালিত হয় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন উৎসব। অর্থাৎ ছোট দিনেই পালিত হয় বড়দিনের উৎসব। দিনটির নাম বড়দিন হলো কেন, তার কোনো ব্যাখ্যা আসলে নেই। অনেকেই মনে করেন, মহামানব যিশুর জন্মদিন বলেই এ দিনের নাম হয়েছে বড়দিন। ইংরেজিতে এই দিনের নাম ক্রিসমাস বা এক্সমাস।
বড়দিনের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় ২৪ ডিসেম্বর রাতে। রাত ১২টার পর থেকেই গির্জাগুলোতে শুরু হয় প্রার্থনা। আর সারাদিন সবার সঙ্গে আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে চলে উপহার বিনিময়।
বড়দিনের ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর প্রচলন আগের দিনে ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো ছাড়া বড়দিনের উৎসব যেন কল্পনাই করা যায় না। বড়দিনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এবং উপহার দেওয়ার শুরু কীভাবে হয় তার লিখিত কোনো দলিল নেই। এ নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন কাহিনী। প্রথম কাহিনী : রোমের এক গরিব কাঠুরের ঘরে একদিন এক শীতার্ত শিশু হাজির হলো। কাঠুরে দম্পতি ছিল যিশুভক্ত। তারা শিশুটিকে আদর করে খাওয়ালেন, নরম বিছানায় শুতে দিলেন। সকালে ওই শিশু দেবদূতের রূপ ধরে বলল, 'আমিই যিশু'। তাকে আদর-আপ্যায়ন করার জন্য কাঠুরে দম্পতিকে তিনি একটি গাছের ডাল দিলেন এবং তা মাটিতে পুঁতে রাখতে বললেন। এরপর ক্রিসমাসের দিন দেখা গেল ডালটি সোনালি আপেলে ভরে গেছে। তখন তারা এ গাছের নাম দেন ক্রিসমাস ট্রি।
আরেকটি কাহিনী এ রকম : একদিন এক গরিব শিশু কিছু পাইন গাছের চারার বিনিময়ে পয়সা দেওয়ার অনুরোধ করল এক গির্জার মালিকে। মালি গাছগুলো নিয়ে গির্জার পাশে পুঁতে রাখল। ক্রিসমাসের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখল, গাছগুলো গির্জার চেয়েও বড় হয়ে গেছে এবং সেগুলো থেকে অজস্র তারার আলো ঝরে পড়ছে। মালি তখন গাছগুলোর নাম দিল ক্রিসমাস ট্রি।
একই রকম আরও একটি কাহিনীর উল্লেখ বিভিন্ন গ্রন্থে আর তা হলো : সপ্তম শতকের দিকে সেন্ট বোনিফেস নামে এক মিশনারি একটি ওক গাছ দেখতে পান। তা ছিল প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় চিহ্নের মতো। তখন তিনি ওই গাছ কেটে ফেলেন। কিছুদিন পর দেখতে পান সেখানে একটি ফার গাছের চারা গজিয়েছে। তখন তিনি এটিকে ঈশ্বরের বার্তা হিসেবে ধরে নেন। আর সেদিন থেকেই ফার গাছ ক্রিসমাস ট্রির
মর্যাদা পায়।
হ ইবনে মজিব

সুমন্ত্র

0 comments
মহারাজা দশরথের আটজন অমাত্যের অন্যতম। সুমন্ত্র ছিলেন সূতজাতীয়, মহারাজের রথচালক। রামায়ণের বর্ণনামতে, তিনি কেবল দশরথেরই নয়, রাম, ভরতসহ অনেকেরই প্রধান সহায়ক ছিলেন। রাম সুমন্ত্রকে সম্মান করতেন। সুমন্ত্রও ছিলেন রামের বিশেষ শুভানুধ্যায়ী। রামের বনবাসের সময় দশরথের মতো তিনিও শোকার্ত হন। দশরথের শোকাহত অবস্থা দেখে সুমন্ত্র কৈকেয়ীকে ভর্ৎসনা করে বলেন যে, কৈকেয়ী পতিঘাতিনী। কৈকেয়ীর মা-ও যে স্বামীর প্রাণনাশ করতে চেয়েছিলেন, সে ঘটনাও সুমন্ত্র জানতেন। সুমন্ত্র কৈকেয়ীকে বলেছিলেন, তিনি যেন তার মা নন। দশরথের নির্দেশে সুমন্ত্র রথে করে রামকে অরণ্যে নিয়ে গেছেন। ফিরে যাওয়ার পথে যখন সুমন্ত্র কাঁদছিলেন, তখন রাম তাকে বললেন যে, সুমন্ত্রের মতো সুহৃদ ইক্ষ্বাকুবংশে আর কেউ নেই।
ফিরে এসে সুমন্ত্র দশরথ, কৌশল্যা ও সুমিত্রাকে রাম-সীতা-লক্ষ্মণকে বনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিস্তারিতভাবে বলেন।
এরপর ভরত যখন রামকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন, তখন সুমন্ত্রও ভরতের সঙ্গে ছিলেন। উত্তরকাণ্ডে সীতার নির্বাসনের সময়ও লক্ষ্মণের সঙ্গে সুমন্ত্র ছিলেন। তিনিই লক্ষ্মণকে সীতার জন্য দুঃখ করতে বারণ করেছিলেন। মহামুনি দুর্বাসা ওদের জীবন সম্পর্কে কী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সে কথা জানিয়ে সুমন্ত্র লক্ষ্মণকে প্রবোধ দেন।

চিত্রসেন

0 comments
গন্ধর্ব দেশের রাজার নাম ছিল চিত্রসেন। ইনি যখন দ্বৈতবনের সরোবরে সদলবলে বিচরণ করছিলেন, তখন দুর্যোধনও সেখানে বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। মহাভারতে বর্ণিত আছে, দুর্যোধন মূলত এখানে এসেছিলেন বনবাসী পাণ্ডবদের দুর্দশা দেখার জন্য এবং সেসঙ্গে নিজের অর্থ ও সৌভাগ্য পাণ্ডবদের সামনে প্রদর্শন করে তাদের ঈর্ষাগ্রস্ত করে তুলবেন। গন্ধর্বদের সেখানে দেখে দুর্যোধন তার সৈন্যবাহিনীকে নির্দেশ দিলেন তাদের বিতাড়িত করতে। কৌরব সৈন্য আক্রমণ করতেই চিত্রসেন প্রথমে যুদ্ধে কর্ণকে পরাজিত করেন। কর্ণ এরপর পলায়ন করলেন। কিন্তু আপন ভাই দুর্যোধন ও তাদের স্ত্রীরা চিত্রসেনের হাতে বন্দি হন। প্রাণভয়ে ভীত দুর্যোধনের মন্ত্রীরা পাণ্ডবদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে যুধিষ্ঠিরের নির্দেশে অর্জুন গিয়ে চিত্রসেনকে পরাজিত করেন। পরাজিত চিত্রসেন অর্জুনকে সখা বলে সম্বোধন করে বলেন যে, দুর্যোধন ও কর্ণ পাণ্ডবদের উপহাস করতে এসেছিলেন বলে দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে তিনি দুর্যোধনকে বন্দি করেন। যুধিষ্ঠিরের অনুরোধে চিত্রসেন দুর্যোধনকে মুক্ত করে দেন। ইন্দ্র অমৃত বর্ষণ করে নিহত গন্ধর্বদের পরে পুনর্জীবিত করেন।

হুলহুলিয়া : যেন রূপকথার এক গ্রাম

0 comments
নবীউর রহমান শিপলু, নাটোর
এ এক আশ্চর্য গ্রাম, যেখানে শিক্ষার হার শতভাগ। নেই একজনও নিরক্ষর। বরং অধিকাংশই উচ্চশিক্ষায় আলোকিত। এসএসসি পাস যারা, তারা বিবেচিত 'অর্ধশিক্ষিত' হিসেবে। নেই মামলা-মোকদ্দমা বিবাদ-হানাহানি। গ্রামের মানুষ রাষ্ট্রীয় শাসন মেনে চলে বটে, কিন্তু তারপরও গত দুশ' বছর ধরে রয়েছে নিজস্ব গণতান্ত্রিক শাসন আর বিচার ব্যবস্থা। গ্রামের আর্থিক, সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি সংবিধানও। স্থানীয়ভাবে তৈরি এই সংবিধান অনুযায়ী ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন সহকারী চেয়ারম্যানসহ রয়েছে ২৩ সদস্যের একটি কমিটি। যারা বিচার-আচারসহ গ্রামোন্নয়নের সব কাজ করেন। তাদের গ্রামের সবাই মেনে চলেন। আর সে কারণেই ঘটে না কোনো হানাহানি। যেতে হয় না থানা-পুলিশ বা সরকারি বিচারালয়ে। নিসর্গ-সৌন্দর্যে ঘেরা এ গ্রামে শীতে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি। কিন্তু পাখি মারার প্রবণতা নেই গ্রামবাসীর। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বশাসন ব্যবস্থা চলে আসছে এখানে। ১৯৫৭ সাল থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রামের সর্বোচ্চ আদালতের পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। এখনও সেই
বিচার ব্যবস্থা চলমান। আরও বিস্ময়কর যে, সারাদেশ যখন রাজনৈতিক বিভাজনে বিরোধে বিভক্ত, তখনও এই গ্রামে রাজনীতি সৃষ্টি করেনি বিরোধ-বিবাদ!
প্রিয় পাঠক নিশ্চয়ই বিস্মিত হচ্ছেন এই ভেবে যে, একুশ শতকের এই সংঘাতমুখর বাস্তবতায় এমন গ্রামও আছে এ দেশে! হ্যাঁ আছে। গ্রামের নাম হুলহুলিয়া। জেলা নাটোর। থানার নাম সিংড়া। ইউনিয়নের নাম চৌগ্রাম। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক আছেন বটে। কিন্তু নেই দলবাজি। নেই বিরোধ। সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের। উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়ার্কার্স পার্টির। ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াতের। নির্বাচনী প্রচারে নেতারা আসেন জেলা, উপজেলা থেকে। কিন্তু গ্রামবাসী নীরবে যে যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। প্রকাশ্য কোনো দলাদলি নেই। রূপকথার মতো শোনালেও হুলহুলিয়া বাস্তবেই এক বিস্ময়কর গ্রাম।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম হুলহুলিয়া। নাটোর সদর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার এবং সিংড়া থানা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের হুলহুলিয়া গ্রাম স্বকীয়তায় একটি আদর্শ গ্রামের মডেল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।
সিংড়ার চৌগ্রাম ইউনিয়নের হুলহুলিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে 'নিয়ামত খাল' নামের একটি ছোট নদী, যা আত্রাই নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের কোলের এই গ্রামের চারদিকে পানিতে থই থই করে। এ সময় সমুদ্রের আকার ধারণ করা চলনবিলের পানির বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে গ্রামের চারদিকে। তবে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক সময় খুব খারাপ ছিল। ছিল না কোনো রাস্তাঘাট। নৌকাই ছিল বর্ষা মৌসুমের প্রধান বাহন। এখন থানা সদরের সঙ্গে পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় চলাচল সহজ হয়েছে।
প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস এই গ্রামে। ভোটারের সংখ্যা এক হাজার ৩৫০। 'হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ' নামের একটি সর্বোচ্চ পরিষদের মাধ্যমে এই গ্রামের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। একজন চেয়ারম্যান ও একজন সহকারী চেয়ারম্যানসহ এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৩। গ্রামবাসীর ভোটে এ কমিটির সদস্যরা নির্বাচিত হন। প্রতি দু'বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হানাহানি, জমিসংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন জটিল বিষয় নিষ্পত্তি করা হয় এ কমিটির মাধ্যমে। এর জন্য রয়েছে একটি আদালত। পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরাই ওই আদালতের বিচার কাজ পরিচালনা করেন। ছোটখাটো সমস্যা মেটাতে গ্রামের প্রতিটি পাড়ায় রয়েছে বিচার বিভাগ।
মোট ১১টি পাড়া নিয়ে হুলহুলিয়া গ্রাম। এর মধ্যে চকপাড়াকে 'ক্যাপিটাল সিটি' হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যগুলো হলো_ তালুকদারপাড়া, মণ্ডলপাড়া, প্রামাণিকপাড়া, শেখপাড়া, খলিফাপাড়া, বড় ফকিরপাড়া, ছোট ফকিরপাড়া, মোল্লাপাড়া, চোদরীপাড়া ও পুকুরপাড়া। এর বেশিরভাগেরই নামকরণ হয়েছে বংশীয় পদবির কারণে। ১৬টি পুকুর ও দুটি দীঘি থাকায় নামকরণ হয়েছে পুকুরপাড়ার।
১৮৬৯ সালে হুলহুলিয়া গ্রামে স্থাপিত হয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে এই গ্রামের সাধক মরহুম ফরিদ উদ্দিন শাহ ১৯৬৬ সালে হুলহুলিয়া হাইস্কুল নামে একমাত্র হাইস্কুলটি স্থাপন করেন। সে সময়ের শিক্ষকদের অনেকেই বিনাবেতনে এবং অর্ধবেতনে পাঠদান করতেন। স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মরহুম মছির উদ্দিন মৃধা ১২ বছর স্কুল থেকে কোনো বেতন নেননি। তার অবসরের পর প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী মৃধা অর্ধেক বেতন নিতেন। এছাড়া এ গ্রামে রয়েছে দুটি ব্র্যাক স্কুল, একটি মসজিদ, একটি গোরস্তান, দুটি মাজার, একটি ডাকঘর, একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, একটি খেলার মাঠ, একটি বাজার, বরেন্দ্র প্রকল্পের দুটি গভীর নলকূপ ও বায়োগ্যাস প্লান্ট চারটি। ১৯৪৪ সালে 'দ্য ডায়মন্ড ক্লাব' নামে একটি ক্লাব গঠন করা হয়। মাধ্যমিক পাস না করা পর্যন্ত এই ক্লাবের সদস্য হতে পারেন না কেউ।
গ্রামের বাসিন্দা হুলহুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান (৫৩) জানান, গ্রামের শিক্ষার হার শতভাগ। যারা মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তারাই এ গ্রামের অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি। অধিকাংশ পরিবারের সদস্য উচ্চশিক্ষিত। গ্রামের কৃতী সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন আণবিক শক্তি কমিশনের পরিচালক মরহুম ড. হানিফ উদ্দিন মিয়া, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মরহুম এ কে তালুকদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান রহমত উল্লাহ, শিক্ষাবিদ মরহুম মছির উদ্দিন মৃধা, বাংলাদেশ বিমানের অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তছলিম উদ্দিন, সেনাবাহিনীর কর্নেল মঞ্জুরুল কাদির, নৌবাহিনীর কমান্ডার জামসেদ আলী প্রমুখ। এছাড়া গ্রামের শতাধিক ব্যক্তি উচ্চতর শিক্ষা শেষে বিভিন্ন দেশে বড় বড় পদে চাকরি করছেন।
তিনি আরও জানান, 'ব্রিটিশ আমল থেকেই নিজস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে গ্রামটিতে। এ নিয়ে আজও কারও নেই কোনো দ্বিমত। পরে ১৯৫৭ সাল থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রামের সর্বোচ্চ আদালতের পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। এখনও একইভাবে চলছে ওই আদালতের কার্যক্রম। বিচারে ধর্মীয় গোঁড়ামি বা শরিয়তের দোহাই দিয়ে কোনো অমানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা শাস্তি দেওয়া বা দোররা মারার ঘটনা ঘটেছে বলে জানি না। হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি ওই আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।'
পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও বিচারক আবদুল মালেক (৫৯) জানান, 'বিচারকাজ পরিচালনায় পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও পাঁচজন উপদেষ্টা অংশ নেন। পরিষদের রায়ের ওপর আস্থা আছে বলেই ভুক্তভোগীরা ওই আদালতে বিচারপ্রার্থী হন। কোনো কারণে বিচার মনঃপূত না হলে সবার মত নিয়ে থানা বা আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়। তবে এ রকম ঘটনা খুবই কম ঘটে। বিচারকাজ ছাড়াও দুস্থ-মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দেয় পরিষদ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন গিয়াস বলেন, 'হুলহুলিয়া গ্রামের সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। এ গ্রামে কোনো কারণে বিবাদ বা সংঘর্ষ হয় না। কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে সরাসরি তা গ্রামের আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের সর্বত্র চালু থাকলে কোথাও কোনো হানাহানি হতো না। হুলহুলিয়া গ্রামের অনুসরণে বিচার ব্যবস্থা আমার চৌগ্রাম ইউনিয়নের সব গ্রামেই চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আমার চেষ্টা সফল হলে ইউনিয়নটি একটি মডেল হয়ে থাকবে।'
তবে এত কিছুর পরও স্বস্তিতে নেই এই গ্রামের মানুষ। কারণ নাগর নদী। এই নদীর কারণে বর্ষা মৌসুমে হুমকির সম্মুখীন হয় গ্রামটি। নাগর নদীর বাঁধ সংস্কার না করায় চলনবিলের পানির প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে আদর্শ গ্রামের বিরল দৃষ্টান্ত এই জনপদ।

Friday, December 25, 2009

আনুশেহ্ আনাদিল

0 comments

‘তখন অন্ধকারের চাদরে ঢেকে গিয়েছিল আমার চেতনা। হারিয়ে ফেলেছিলাম সত্যকে। অসম্ভব আর অলীক স্বপ্নকে সত্যি ভেবে ভুল পথে হারিয়ে গিয়েছিলাম। ছোট্ট এই জীবনের দশটি বছর বন্দি ছিলাম নেশার জগতে’, বলছিলেন এ সময়ের তারুণ্যের ক্রেজ সঙ্গীত শিল্পী আনুশেহ্ আনাদিল। দশ বছরের দাসত্বের শৃংখল ভেঙে স্পার্টাকাসের মতো বেরিয়ে এসেছেন সেই ভুল স্বপ্নের জগৎ থেকে। শুধু শৃংখল ভেঙেই ক্ষান্ত হননি, প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন আরও অসংখ্য শেকল ভাঙার, যেমন অদৃশ্য শেকলে বন্দি হয়ে আছে দেশের অগণিত তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজ।
মুম্বাইয়ের ‘ডায়ারস’ পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিজের সঙ্গে যুদ্ধরত আনুশেহ্ পাশে পেয়েছিলেন তারই মতো আরও অনেক সহযোদ্ধাকে। অদৃশ্য ইচ্ছাশক্তির জোরে যারা মুক্ত হয়েছেন অন্ধকারের দাসত্ব থেকে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আনুশেহ্ কাজ করছেন মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন করতে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘সলেস’ নামের একটি সংগঠন। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে অভিভাবকদের করণীয়, দায়িত্ব সম্পর্কে পরামর্শ ও পদ্ধতিগত সাহায্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী লুবনা মরিয়মের মেয়ে আনুশেহ্ জš§াবধি বেড়ে উঠেছেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় ওস্তাদ সগির উদ্দিন খাঁ সাহেবের কাছে। নিজের সঙ্গীত জীবন সম্পর্কে আনুশেহ্ বলেন, ছোটবেলায় পারিবারিক রেওয়াজ অনুযায়ী গান শিখতে শুরু করি। আমার গান শেখার ব্যাপারে অভিভাবকরা খুবই সিরিয়াস ছিলেন। কিন্তু আমার মনে হতো, সবকিছু যেন জোর করে করানো হচ্ছে। তবে ধীরে ধীরে অবচেতন মনে সঙ্গীত তার শেকড় ছড়াতে শুরু করল। ১৮ বছর বয়সে প্রথমে নিজের গান লেখা শুরু করি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পড়াশোনার জন্য কানাডায় ছিলাম। দেশে ফেরার পর পরিচিত হই রব ফকির, কাঙ্গালিনী সুফিয়া, শাহ আলম ফকিরদের সঙ্গে। প্রকারান্তরে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, দর্শন ও কৃষ্টির সঙ্গে। শুরু হয় বিভিন্ন আখড়ায় ঘোরাঘুরি, গান সংগ্রহ ও গান গাওয়া। এ সময় বিবি খালার (বিবি রাসেল) সঙ্গে কাজ শুরু করি। বিবি খালার একটি প্রজেক্টে মডেল হিসেবে কাজ করার জন্য সিলেটের চা বাগানে যাই।
বাংলা ব্যান্ডের বেজিস্ট ও আমার জীবনসঙ্গী বুনোর সঙ্গে সেখানেই প্রথম দেখা। বুনো তখন সিলেটের উজান ব্যান্ডের সঙ্গে হাছন রাজার গান নিয়ে কাজ করছিল। গানের সূত্রেই পরিচয় ও বন্ধুত্ব, অবশেষে পরিণয়। আমরা একসঙ্গে প্রথম পারফর্ম করি ছেউরিয়ার লালন উৎসবে। কুষ্টিয়ার বাউল ও ফকিররা আমাদের প্রচুর উৎসাহ দেয় সাইজির গান নিয়ে কাজ করার জন্য। এই উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সালে সোমি, বুনো, অর্ণব, কার্তিক মিলে ‘বাংলা’ ফর্ম করি।
এদেশের মাটির গান নিয়ে কাজ করছে ‘বাংলা’। আমাদের লোকজ সঙ্গীতকে নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করছে শ্রোতাদের কাছে এবং বাউল গানের ওপর মৌলবাদী অপশক্তির পুনঃ পুনঃ হামলা, লালন ভাস্কর্য ভাংচুর ও শাসনযন্ত্রের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে জনমত গঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে আনুশেহ্ ছিলেন সোচ্চার। আর তারই সম্মাননা স্বরূপ সম্প্রতি ভারতের দ্য মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর ইয়াং সাউথ এশিয়ান্স (মিতো) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন তিনি।
বিখ্যাত মানবাধিকার কর্মী কমলা ডাসিনের অকাল প্রয়াত মেয়ে মিতো। আহমদিয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে তার লেখা ‘কমিউনাল হারমোনি’ (সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি) বইটি পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল। সেই মিতোর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ বছর প্রচলিত হয় এই অ্যাওয়ার্ড। আনুশেহ্র সঙ্গে লাক্সমি বেন ডেস্কর নামে আরও এক গুজরাটি নারী পেয়েছেন এই অ্যাওয়ার্ড। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি অসহায় মুসলিম নারীদের জন্য কাজ করছেন। এই অপরাধে (!) তাকে সমাজচ্যুত করে মৌলবাদী সমাজপতিরা। কিন্তু হার না মানা লাক্সমি লড়ে চলেছেন দৃঢ় প্রত্যয়ে।
সম্মানসূচক এই অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় বিনয়ানত আনুশেহ্ জানান, হয়তো আমি এই অ্যাওয়ার্ডের যোগ্য নই। কারণ আমি এখনও তেমন কিছুই করতে পারিনি। তবে আমি অনেক স্বপ্ন দেখি, একটা অনেক বড় পরিবর্তনের। যে যুদ্ধটা ৭১-এ শুরু হয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ পরিসমাপ্তি এখনও হয়নি। আমি স্বপ্ন দেখি সেই যুদ্ধটায় জয়ী হওয়ার।
নিজের বুটিক আউটলেট ‘যাত্রার’ মাধ্যমে দেশীয় ক্র্যাফটস-এর উন্নয়ন ও গুণগতমানের উৎকর্ষ সাধনের কাজ করছেন আনুশেহ্। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপানসহ বেশকিছু দেশে এদেশীয় ক্রাফটস ও কারুপণ্য রফতানি করছে যাত্রা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, একদিন পৃথিবীর বড় শহরগুলোতে ‘যাত্রার’ শোরুমে শোভা পাবে আমাদের দেশীয় কারুপণ্য।
আমরাও স্বপ্ন দেখি, আনুশেহ্র মতো অগণিত স্বপ্নবাজ তারুণ্যের হাত ধরে উঠে দাঁড়াবে আমাদের লোকজ শিল্প, সংস্কৃতি। আÍসচেতন নবপ্রজšে§র অকৃত্রিম ভালোবাসায় নিখাদ হবে সোনার বাংলা। শুরু হবে এক কিংবদন্তির গল্প।

নারীর জরায়ুর ক্যান্সার, প্রয়োজন সচেতনতা

0 comments
রাসনা শারমিন মিথি: অল্প বয়সে শারীরিক সম্পর্কের কারণে নারীর জরায়ুতে ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যায় দ্বিগুন। সম্প্রতি দরিদ্র দেশের নারীদের ওপর করা জরিপ প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নালে। সারা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিচার্স অন ক্যান্সারÑএর গবেষকরা জানান, আক্রান্ত মোট রোগীর দুই-তৃতীয়াংশের অভিমত অল্প বয়স থেকে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কই এমনটার জন্য দায়ী। ২০ বছরের আগেই যারা নিয়মিত ভাবে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকিটা বেশি। একই গবেষণা থেকে দেখা গেছে, দরিদ্র দেশের নারীরা নির্দিষ্ট বয়সের আরো চার বছর আগ থেকেই নিয়মিত ভাবে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে।

অল্প বয়সে শারীরিক সম্পর্কের কারণে জরায়ু এইচ পি ভি (হিউম্যান পিপিলোমা ভাইরাস) -তে আক্রান্ত হয়। এইচ পি ভি ভাইরাস উদ্দীপ্ত করে তোলে জরায়ুর ক্ষতকে। যা পরবর্তিতে ধাবিত হয় ক্যান্সারের দিকে। এ ইনফেকশনটা যে কোন বয়সের নারীদেরই হতে পারে। তবে প-ূর্ন যৌবনেই যাদের এ সমস্যা পোহাতে হয় তাদের আর রক্ষে নেই ক্যান্সার থেকে।

তবে আশার কথা, এইচ পি ভি র প্রতিষেধক ইনজেকশন আছে। যা স্কুল বয়সেই সব মেয়ে শিশুকে দেয়া উচিত। যাতে অবাঞ্চিত ভাবে অল্প বয়সে শারীরিক সম্পর্ক শুরু হলেও সে জল যেন বেশি দূর গড়াতে না পারে। ইউরোপের দেশগুলোতে এ ইনজেকশনটার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেই সবাইকে নির্দেশ দেয়া আছে। সেখানকার স্কুলগামী ১২ থেকে ১৩ বছরের মেয়েদের এ ইনজেকশনটা দেওয়ার জন্য ব্যাপক ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে সে দেশের সরকার। যে সব নারীরা মাত্রাতিরিক্ত ধুমপানে আসক্ত তাদের ও এ সমস্যাটা ব্যাপক আকারে দেখা যায়। শুধু যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ২ হাজার ৯’শ নারী জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছে। সেখানে প্রতি এক’শ জনে দুজন এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছে ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন নারী। তবে দৈহিক মিলনের সময় জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করলে নারীদের এর ঝুঁকি ব্যাপক হারে কমে যায়। বহু লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, বহু সন্তান গর্ভধারণ, বাল্যবিবাহের কারণেও মারাত্মক ভাবে এ সমস্যায় আক্রান্ত হয় যে কোন বয়সের নারী। শুধু প্রয়োজন একটু সচেতনতা। তবেই এড়ানো যাবে এ ভয়াবহ ব্যাধি।

Thursday, December 24, 2009

চলে গেলেন ব্রিটানি মরফি

0 comments



ডিসেম্বর ২০ তারিখের সকালটা ছিল অন্যসব দিনের মতোই তুষার ঢাকা শীতার্ত। শুধু একটাই পার্থক্য ছিল পুরো ঘটনা। সকাল ৮টায় যখন লসএঞ্জেলস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কাছে যখন টেলিফোন এসেছিল ততৰণে হয়তো সৃষ্টিকর্তার ডাক পেঁৗছে গেছে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ব্রিটানি মরফির কাছে। তাকে নিয়ে আমাদের এ সপ্তাহের হলিউড লিখেছেন এমএইচ মিশু
ব্রিটানি মরফির জন্ম হয় ১৯৭৭ সালে ১০ নভেম্বর। আমেরিকার আটলান্টা জর্জিয়ায় তার জন্ম। মাত্র ২ বছর বয়সে বাবা-মার ডিভোর্স হয়ে যাওয়াতে ব্রিটানি বড় হয় নিউজার্সিতে তার মায়ের কাছে। পরবর্তীতে যখন ব্রিটানি নিউজার্সি থেকে লস এঞ্জেলসে চলে আসেন তখন থেকেই তার অভিনয়ে আগ্রহের জন্ম। মায়ের উপরে ছিল অগাধ বিশ্বাস, আর তাই হয়তো মায়ের দোয়াতেই ব্রিটনি হয়ে উঠেছিলেন খুব অল্প সময়েই হলিউডের জ্বলজ্বলে তারকাদের একজন। ব্রিটনির মা ছিলেন একজন ইউরোপিয়ান বংশদ্ভুত আর ব্রিটনির বাবা ছিলেন একজন ইটালিয়ান আমেরিকান। হলিউডে ব্রিটনির যাত্রা শুরম্ন হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে। ড্রেকসেলস ক্লাস নামে একটি ধারাবাহিকে মূল চরিত্রের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার হলিউডে তার পদার্পন ঘটে। এর পরে একনাগারে বেশকিছু হলিউড ধারাবাহিকে তাকে দেখা গেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ব্রিটনির ক্যারিয়ারে যুক্ত হয় নতুন এক ধারা। এটা ছিল এনিমেশন মুভিতে কণ্ঠ দেয়া। জনপ্রিয় এনিমেশন সিরিজ কিং অফ দি হিল এই সিরিজের মূল ক্যারেক্টার লুনি পস্নাটার-এর ভয়েজে প্রথমবারে মতো দেখা মেলে ব্রিটনি মরফির। সিনেমা ক্যারিয়ারে ব্রিটনি বেশকিছু সফল সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ছিল- ১৯৯৫ সালে রিলিজ হওয়া ক্লুলেস, ১৯৯৯ সালে রিলিজ হওয়া ইন্টারাপ্টেড, ১৯৯৯ সালে রিলিজ হওয়া ড্রপ ডেড গর্জিয়াস, ২০০১ রিলিজ হওয়া ডোন্ট সে এ ওয়ার্ড, ২০০২ রিলিজ হওয়া এইট মাইল এবং ২০০৩ রিলিজ হওয়া আফটাউন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সঙ্গীত আর মডেলিং-এও ব্রিটনি ছিলেন সমানভাবে দৰ। ৯০ দশকে বিস্নস্ড সোলড নামে একটি ব্যান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন ব্রিটনি। এছাড়া ২০০৬ এর ৬ জুন পল অকেনফোল্ড এর সাথে মিলে ফার্স্টার কিল্ড পুসিক্যাট নামে একটি অ্যালবাম রিলিজ করেন ব্রিটনি। এই অ্যালবামের গান এ লাইভলি মাইন্ড নামে গানটি আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবে ক্লাবহিট নামে সাড়া জাগায়। এছাড়া গানটি বিলবোর্ড হট ডান্স ক্লাব পেস্ন চার্টের শীর্ষে স্থান পায়। এছাড়া জনপ্রিয় এনিমেশন মুভি হ্যাপি ফিট-এর জন্য গান সামবডি টু লাভ এই বিখ্যাত গানটি। গান গাওয়া বাইরে ব্রিটনি আমেরিকার বিখ্যাত ব্র্যান্ড জর্ডেক জিন্স-এর ব্র্যান্ড এম্বাসিডর হন।
ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা সুখী ছিলেন না ব্রিটনি মরফি। অনেকের সাথে তার প্রণয়ের গল্প শোনা গেলেও ২০০৭ মে মাসে মরফি বিয়ে করেন ব্রিটিশ চিত্রনাট্যকার সাইমন মনজ্যাককে।
সফল জীবনের ধারক এই শিল্পী আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেন ২০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ৪ মিনিটে। আটকে পড়া বাথরম্নম থেকে উদ্ধার কর্মীরা যখন তাকে দ্রম্নত নিয়ে যায় কেডার্স-সিনে মেডিকেল সেন্টারে তখন সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। আপাত ডাক্তারদের ভাষ্যমতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তার মৃতু্য হয়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনেরও ছিল একই উক্তি 'এটা একটি স্বাভাবিক মৃতু্য'। কিন্তু এমন বক্তব্য কি মিলিয়ে দেবে ব্রিটনি মরফির অগোনিত ভক্তদের শোক স্মৃতি?
Very Important Persons in the World

শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্ন

0 comments
সময়টা শীত। বনে বনে পাতা ঝরার উত্সব। পাতা ঝরে গেলে গাছকে যেমন নিষ্প্রাণ লাগে, তেমনি ত্বকের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া ও ধুলাবালুতে চলার ফলে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। তাই এ সময়টিতে ছেলেদের ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। হলিফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফজালুল করিম জানালেন, শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় চামড়া শুকিয়ে খসখসে হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া থেকে শুরু করে ত্বকে চুলকানিও হতে পারে। তবে কিছু সতর্কতা জানা থাকলে এসব আর হবে না। প্রথমত, শীতকালে ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকে খসখসে ভাব কমে আসবে। গোসলের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ও গোসলের পর নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে। ফলে আর চুলকানিও হবে না এবং ত্বকও ফাটবে না। ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় এসব লোশন মেখে বের হতে হবে। এতে ত্বকে সূর্যের তাপ লাগবে না। ত্বক বাইরের ধুলাবালু থেকেও রক্ষা পাবে। কোনো অবস্থায়ই শীতকালে বেশিক্ষণ রোদে থাকা উচিত নয়। এতে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া শীতকালে অনেকের ঠোঁটও ফাটে। এই বাড়তি যন্ত্রণা এড়াতে ভালো মানের লিপজেল ব্যবহার করতে হবে নিয়মিত। এতে ঠোঁট ফাটবে না। শীতকালে ছেলেদের ত্বকের যত্ন নিয়ে কথা বললেন পারসোনা হেয়ার অ্যাডামসের রূপসজ্জাশিল্পী দেলওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ছেলেদের ত্বককে স্বাভাবিক ও সজীব রাখতে হলে মালটা ও কমলার রস মুখে মাখা যেতে পারে। এরপর কিছুক্ষণ রেখে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। কিছুদিন নিয়মিত এটি করলে ত্বকের সজীবতা ফিরে আসবে। আর ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই-জাতীয় ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া গোসলের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম-কুসুম গরম পানির ভাপ নিলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং ত্বক ভালো থাকবে। এ ছাড়া এ সময় ত্বকের ফেসিয়াল করালে ত্বক সজীব থাকবে। অনেক সময় হাতে বা কনুইয়ে খসখসে ভাব হয়। এটি দূর করতে পানি আর গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে হাতে বা খসখসে স্থানে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে নিয়মিত যত্ন না করলে কিন্তু শীতে ত্বক ভালো রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিনই একটু সময় করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

মাইকেল মুর

0 comments
ফারেনহাইট ৯/১১-এর নির্মাতাআশরাফুল হক


দৃশ্য-১
যুক্তরাষ্ট্রের ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগাম খবর—জর্জ বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। প্রচারিত হচ্ছে ফক্স নিউজ চ্যানেলে।
দৃশ্য-২
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নারকীয় ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্য। বুশকে জানানো হয়, একটু আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে একটি বিমান আঘাত করেছে। দেখা যায়, এ খবর পেয়ে বাচ্চাদের একটি স্কুলে অবস্থানরত বুশ একটুও বিচলিত হননি। আরও একটি বিমান আঘাত করেছে—এ খবর পেয়েও তিনি নির্বিকার। শুধু তা-ই নয়, ওই সময় প্রায় সাত মিনিট ধরে বুশ বাচ্চাদের একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।
দৃশ্য দুটি এ পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও ব্যবসাসফল রাজনৈতিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ফারেনহাইট ৯/১১-এর। উল্লিখিত প্রথম দৃশ্যটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যে স্বচ্ছ ছিল না, তা-ই বোঝাতে চেয়েছেন নির্মাতা। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হামলাকে একমাত্রিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয় দৃশ্যের মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন নির্মাতা। ১২২ মিনিটের ফুটেজভিত্তিক প্রামাণ্য এ চলচ্চিত্রে নির্মাতা গণমাধ্যমের বিতর্কিত ভূমিকাসহ আরও অনেক বিষয়ের অবতারণা করেছেন। রাজনীতিসচেতন চলচ্চিত্রপ্রেমীমাত্রই ছবিটি দেখে থাকবেন। এ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মাইকেল ফ্রান্সিস মুর, যিনি চলচ্চিত্রজগতে মাইকেল মুর নামে অধিক পরিচিত। মাইকেল মুর একই সঙ্গে অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক, লেখক ও উদারপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তিনি ১৯৫৪ সালের ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। ফারেনহাইট ৯/১১ ছাড়াও মাইকেল মুর নির্মিত আরও বেশ কয়েকটি আলোচিত ও ব্যবসাসফল প্রামাণ্য চলচ্চিত্র রয়েছে। এর মধ্যে বোলিং ফর কলম্বাইন (২০০২), সিকো (২০০৭), ক্যাপিটালিজম: এ লাভ স্টোরি (২০০৯) অন্যতম।
মাইকেল মুর বিভিন্ন সময় বিশ্বায়ন, বেশ কয়েকটি বৃহত্ করপোরেট প্রতিষ্ঠান, মারণাস্ত্র, ইরাক যুদ্ধ, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা প্রভৃতি বিষয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করে আলোচিত হয়েছেন। এসবই তাঁর নির্মিত বেশির ভাগ চলচ্চিত্রের প্রতিপাদ্য বিষয়।
মাইকেল মুর নির্মিত বোলিং ফর কলম্বাইন ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জয় করে। ২০০৭ সালে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের মনোনয়ন লাভ করে সিকো। এ ছাড়া তিনি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হন। ২০০৪ সালে কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে ফারেনহাইট ৯/১১ ছবিটি প্রদর্শিত হয়। তখন সবাই ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে। উত্সবের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ সময়। বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের (২০০৫) মতে, মাইকেল মুর বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্যতম।
 তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

Wednesday, December 23, 2009

CV আর Resume এর মধ্যে তফাত কি?

0 comments
আসলে তেমন কোন পার্থক্য নেই!

British রা বলে Curriculum Viate (CV)
আর American রা বলে Resume. তবে কিছুটা পার্থক্য আছে।
পার্থক্যটা অনেকটা Shall আর Will এর পার্থক্যের মত!
CV এর মানে হল Written Record of educational qualification.
Resume এর সাহায্যে educational, এবং অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।
তবে দুটো একই কাজে ব্যবহৃত হয়। চাকরীর বিজ্ঞাপনে যদি লেখা না থাকে CV না Resume জমা দিতে হবে, তাহলে আপনার যেটা ভাল লাগে আপনি সেটা লিখবেন।
Munna

Monday, December 14, 2009

ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রিকশা

0 comments
লিখেছেন: উজ্জল

 রিকশার দেশ ভারত ও বাংলাদেশ। রিকশার কথা এলেই মনে পড়ে এই দুটি দেশের কথা। এ ছাড়া কমবেশি রিকশা চালানো হয় আরও বেশ কয়েকটি দেশে। আধুনিক প্রযুক্তির দেশ ব্রিটেনেও চোখে পড়ছে মনুষ্যচালিত এ যান। সে দেশের অনেক রাস্তায় এখন নিয়মিত রমরম করে চলছে রিকশা। দেশটির উপকূলবর্তী শহরগুলোয় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ যান।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ব্রাইটন, ওরসেস্টারশায়ার ও লিসেস্টারে রিকশা জনপ্রিয় বাহন হয়ে উঠছে। বেকার যুবকদের দুঃখ লাঘব করছে এ যান। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় চাকরি হারিয়ে সেখানকার অনেকেই রিকশার দ্বারস্থ হয়েছে। এতে উপার্জনও নেহাত কম নয়। তাই যুবকদের কাছে কর্মসংস্থানের একটি উ‍‌‌‌ৎস হয়ে উঠছে এ যান।
পূর্ব ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর গ্রেট ইয়ারমাউথে ইতিমধ্যে রিকশা চালু হয়ে গেছে। সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন লন্ডনের বাসিন্দা কিল হিয়ারনি। কী আর উপায়? গ্রেট ইয়ারমাউথে গিয়ে রিকশা চালানো শুরু করেছেন তিনি। উপার্জন ভালো দেখে তিনি এখন একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে রিকশার ব্যবসা করতে চান। প্রতিষ্ঠানের নামও ঠিক করেছেন ২৩ বছর বয়সী হিয়ারনি। এর নাম ‘পেডাল পডস’ দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটেনে পর্যটকদের কাছে তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয় রিকশা। তাই হিয়ারনি কেবল গ্রেট ইয়ারমাউথে নয়, শহরজুড়েই রিকশা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু এ জন্য তাঁকে ট্যাক্সিচালকদের মতো লাইসেন্স নিতে হবে। এ জন্য বসতে হবে পরীক্ষায়। এতে সাফল্য পেলে আরও একটি রিকশা নিতে চান তিনি। তার পর শুরু করতে চান পুরোদমে ব্যবসা।

Sunday, December 13, 2009

দিনভর ঘুরেও স্বাধীনতা পদক বিক্রি করতে পারলেন না মোস্তাক আলতাব হোসেন

0 comments

স্বাধীনতা পদক হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহমেদ

সব অর্থেই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ মোস্তাক আহমেদ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। দেশে-বিদেশে ৮০০ মিটার থেকে শুরু করে ১০ হাজার মিটার ম্যারাথন দৌড়ের রেসে টানা কয়েক দফায় প্রথম হয়েছেন তিনি। ১৯৭৩ থেকে ’৭৭ সাল পর্যন্ত অ্যাথলেটিক্সে টানা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার দখলে। অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে ৬৯টি পুরস্কার পেয়েছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ১৯৭৭

সালে প্রথম স্বাধীনতা পদক। ১৯৮৯ সালে পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার।
অনারারি ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়েছেন সেনাবাহিনী থেকে। এখনো বেঁচে আছেন তার ১২০ বছর বয়সী বাবা তকলিম আলী। মোস্তাক আহমেদ তার বড় ছেলেকে পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এতো সফলতা অর্জন খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে। এ অর্থে একজন ব্যতিক্রমী সফল মানুষ ছাড়া আর কী বলা যায় মোস্তাক আহমেদকে।
বিশাল গর্বের এসব অর্জনের পরও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহমেদ বর্তমানে দারুণ অর্থকষ্টে রয়েছেন। সাড়ে তিন লাখ টাকার ঋণের দায় এড়াতে বাড়িছাড়া হয়েছেন বহু আগে। ১৯৮৫ সালে সরকার থেকে অস্থায়ী লিজ পাওয়া ৪৫ শতাংশ জমি থেকেও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে তার বিরুদ্ধে, এমনকি হয়েছে সরকারি জমি দখলের মামলা। এসব কারণে সংসার থেকে অনেকটা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মোস্তাক আহমেদ। কিন্তু পেটের খিদে তো আর পালিয়ে বেড়ানো বোঝে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেন মোস্তাক আহমেদ। জীবনের বড় অর্জন স্বাধীনতা পদক ও ৬৯টি পুরস্কার বিক্রির জন্য সোমবার ঢাকায় আসেন তিনি। দুপুরের দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পদক বিক্রির জন্য ঘুরেছেন। কিন্তু তাকে ঘিরে মানুষের জটলা বেধেছে ঠিকই, কিন্তু কেউ এ পদক কিনতে রাজি হননি। বিকালের দিকে শাহবাগ মোড়ে দেখা হয় এ বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে। হঠাৎ আষাঢ়ের আলো ঝলমল রোদে ঝলসে ওঠে স্বাধীনতা পদকটা। সোনারঙা ঝকঝকে মেডেলটার দিকে বারবার তাকিয়ে দুই চোখে জল চলে আসে তার। আনমনে মেডেলের দাম বলতে পারেন না তিনি। শুধু হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন মোস্তাক আহমেদ। কোনো কথাই স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।
১৯৭০ সালে ইপিআরে যোগ দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথমে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরে চার নাম্বার সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা সিআর দত্তের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন মোস্তাক আহমেদ। মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহমেদের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের বারুই গ্রামে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১১। বৃদ্ধ বাবা তকলিম আলী, মা মায়ারুন নেছা (৬৫) এখনো বেঁচে আছেন। ২০০২ সালে সেনাবাহিনী থেকে অনারারি ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়েছেন তিনি। মাসে অবসর ভাতা পান সাড়ে তিন হাজার টাকা। তা দিয়ে ১১ সদস্যের সংসার চলে না মোস্তাক আহমেদের।
২০০৩ সালে ঋণ করে বড় ছেলে মাসুদ আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। অবসর নেয়ার সময় পেনশন পান প্রায় চার লাখ টাকা। পেনশনের পুরো টাকা দিয়েও ঋণের টাকা শোধ হয়নি। ভাবছিলেন ছেলে উপার্জন করে পরিবারের অভাব মেটাবে। কিন্তু ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সব স্বপ্নই ভেস্তে গেছে। বিদেশের মাটিতে মরতে বসলেও ছেলের কোনো খোঁজ নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। উল্টো ঋণের সাড়ে তিন লাখ টাকার জন্য বাড়িছাড়া হয়েছেন তিনি। চার ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে বিবাহিত। অর্থভাবে ছেলেমেয়েদের মাত্র নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করাতে পেরেছেন। মেজো ছেলে মামুন আহমেদ (২৬) ও চতুর্থ ছেলে হাবিব আহমেদ (২২) বিয়ানীবাজারে ছোট একটা ব্যবসা করেন। তৃতীয় ছেলে রুবেল আহমেদ বেকার। বড় মেয়ে রোকসানা আক্তার বিবাহিত। ছোট মেয়ে ফারজানা আক্তার বাড়িতেই আছে। এছাড়া বাবা ও সৎ মা মায়ারুন নেছা বেঁচে থাকায় তাদের ব্যয়ভারও তাকেই বহন করতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় পতিত মোস্তাক আহমেদের তিন ভাই থাকলেও তারাও বাবা-মা ও ভাইয়ের কোনো খোঁজ নিতে পারেন না।
সংসারের অভাব-অনটন দূর করার জন্য ১৯৮৫ সালে বিয়ানীবাজারে ৪৫ শতাংশ জমি অস্থায়ীভাবে তাকে লিজ দেয় সরবকার। ওই জমিতেই হোটেল করে ব্যবসা করেন মোস্তাক আহমেদের দুই ছেলে। বর্তমানে ওই জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও দেয়া হয়েছে বিয়ানীবাজার থানায়। মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমার সব কাগজপত্র আছে। ১৯৮৫ সালে আমাকে এ জমি সরকার অস্থায়ীভাবে লিজ দিয়েছে। তা দখল করতে এখন নানা মহল উঠেপড়ে লেগেছে।
নিয়েছি পদ্মা পাড়ের মানুষ হতে

বনসাই

0 comments

অনেক যতেœর পর এ ডুমুরের গাছটি নয় বছরে বেড়ে হয়েছে ১৩ ইঞ্চি। ইতিমধ্যে ডুমুর গাছে ফল ধরেছে। এ রকম অসংখ্য বনসাইয়ের মালিক প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামী। তার স্বপ্নজুড়ে রয়েছে বনসাই। বায়েজিদের বাসাবাড়ির ছাদে ও ঘরে শোভাবর্ধন করছে নানা প্রজাতির বনসাই। পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় তার বাড়িতে রয়েছে একটি চমৎকার বনসাই বাগান। ছবি : রকিবুর রহমান টুকুন
চাটমোহর

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা ‘বড় মসজিদ’

0 comments
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা ‘বড় মসজিদ’ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে বৃহত্তর সুনামগঞ্জের এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি তার গৌরব হারাতে বসেছে। ১৯৩১ সালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা রায়পুরের মহাজন ইয়াসীন মির্জা এ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। টানা ১০ বছর মসজিদের নির্মাণকাজ চলে। মসজিদের প্রধান মিস্ত্রি আনা হয় অবিভক্ত ভারতের কলকাতা থেকে। প্রধান মিস্ত্রিসহ জোগালিরা ছিলেন ভারতের। পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণে এলাকার লোকজনও সহায়তা করেন। এলাকার লোকজন এ মসজিদকে রায়পুর ‘বড় মসজিদ’ হিসেবে জানে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর দ্বিতল এ মসজিদে রয়েছে তিনটি আকর্ষণীয় গম্বুজ।

শামস শামীম ও আলমগীর হোসেন

লালবক

0 comments
লিখেছেন : সোমা

নামটি আমার বলি - লালবক

ইংরেজিতে বলি - Purple heron
বৈজ্ঞানিক নাম - ardea purpurea
আমার যত নাম - লালবক, লালকাক
দেখতে আমি যেমন - আমি আকারে প্রায় ৭০সে.মি।বুক-পিঠ নীলচে বেগুনি রংয়ের পালকে ছাওয়া। লম্বা ধারালো হলুদ ঠোঁট ও পা,উরুর পালক গুলো লালচে বাদামী রংয়ের,লম্বা গলায় লালচে বাদামী আর নীলচে বেগুনির লম্বা ডোরা আছে।আমার চিকন মাথায় টিকিও দেখতে পাবে।
যেথায় আমার বাস-নিবাস - বাংলার সুন্দরবন এলাকায় আমায় বেশি দেখতে পাবে। জলার ধারে শিকারের আশায় চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকি,দেখা পেলেই টুক করে গলা বের করে ঠোঁট দিয়ে শিকারকে গেঁথে ফেলি।উঁচু গাছের ডালে শুকনো চিকন ডাল,ও খরকুটো দিয়ে বাসা বানাই।
আমার খাবার মেন্যু - মাছ,সাপ,ব্যাঙ,শামুক।প্রজনন সময় -জুন থেকে মার্চ। ডিম সংখ্যা-৩ থেকে ৫ টি










লাল মুনিয়া

0 comments

নামটি আমার বলি - লাল মুনিয়া

ইংরেজিতে বলি - Red Munia
বৈজ্ঞানিক নাম - estrilda amandava
দেখতে আমি যেমন - আপদামস্তক প্রায় ১০সে.মি লম্বা। আমার ঠোঁট,বুক,লেজ লাল রংয়ের,ডানা ও পিঠ কালচে বাদামী,লেজের আগা ও পেটের নিচ থেকে লেজের নিচের শেষ প্রান্ত পর্যন্তও তাই।চোখে লাল বৃত্তের মাঝখানে কালো ফোঁটা,পা গোলাপী রংয়ের।আমার শরীরের পালকে ছোট ছোট সাদা ছিট ছিট দাগ আছে। প্রজনন সময়ে পুরুষ পাখি দেখতে খুব সুন্দর হয়।মেয়ে পাখির চাঁদি,পিঠ ও ডানার পালক এবং লেজ গাঢ় বাদামী আর ঘাড়,গলা, বুক হালকা বাদামী,লেজের গোড়ার পালক লাল বর্ণের হয়।
যেথায় আমার বাস-নিবাস - তোমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের পাখি আমি,খুব সহজে পোষও মানি। জলাপূর্ণ জঙ্গলা ঝোপে বা ঘাসবনে আমার দেখা মেলে,নরম শুকনো ঘাস দিয়ে গোলাকার বাসা বানিয়ে থাকি।
আমার খাবার মেন্যু - নানান রকম শস্যদানা।
(প্রজনন সময় - জুন থেকে জুলাই। ডিম সংখ্যা - ৪/৭ টি।)


মেয়ে ও ছেলে লাল মুনিয়া


মেয়ে মুনিয়া




এসকর্ট

1 comments
খবর:The weekly sheershakhabar
বিশেষ প্রতিবেদন

কলগার্লরা পতিতালয় নির্ভর নয়। তারা চলমান এবং অদৃশ্য। দেখা যায়, কিন্তু জানা যায় না। ঢাকার কলগার্ল বিজনেস খুবই সুসংগঠিত। এ পেশাটি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের নেটওয়ার্কও শক্তিশালী। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে এরা ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন এদের বিরম্নদ্ধে কোন ব্যবস'া নেয় না। ঢাকার কলগার্লদের এই নেটওয়ার্কের একটা অংশ নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকার এসকর্ট এজেন্সিগুলো(scort service)। আর বাকী অংশ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে বিচ্ছিন্ন কলগার্ল এজেন্টদের মাধ্যমে।
এজেন্ট আর ক্লায়েন্টের সম্পর্কটা এখানে ত্রিভুজের মতো। ক্লায়েন্ট-কলগার্ল এবং এজেন্ট একটা সুক্ষ্ম সম্পর্কে আবদ্ধ। সমসত্ম লেনদেন হয় এজেন্টের মাধ্যমে। এজেন্ট তার নিজের কলগার্লদের এবং ক্লায়েন্টের ডিমান্ড সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকে। এজেন্ট টারমনোলজিতে ডিমান্ডের অর্থ হল কলগার্লটির ‘ভ্যালুয়েশন।’ অর্থাৎ কলগার্লের সৌন্দর্য, স্বাস'্য এবং গস্নামার ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংযোগের মোট মূল্য (শহুরে, মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, শিড়্গিত এবং সমাজের উঁচুতলার মানুষের সঙ্গে পরিচিত)। ‘এজেন্ট’ই অধিকাংশ সময় প্রোগ্রাম তৈরি করেন। ক্লায়েন্টের চাহিদা এবং টাকা খরচ করার ড়্গমতার উপর নির্ধারিত হয় প্রোগ্রাম কেমন হবে। একটা প্রোগ্রাম আয়োজনের ‘সময়’ এবং ‘স'ান’ সি'র হয় ক্লায়েন্ট এবং কলগার্ল উভয়ের সুবিধা মত। ঢাকার এক একজন এজেন্টের অধিনে শতাধিক কলগার্ল রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। আবার এই পেশায় অনেক দিন আছেন এমন কলগার্লরা নিজেই এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন- এমন উদাহরণও বিরল নয়। ঢাকার ধানমন্ডি, উত্তরা, গুলশান, বনানলী, সেগুনবাগিচা এলাকায় ফ্যাট বাসা নিয়ে চলছে কলগার্ল বিজনেস। মডেল প্রোভাইডার হিসেবে পরিচিত অনেক প্রযোজক, পরিচালক এবং এক সময়ের নামি অভিনেত্রীরা এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। সচারচর কোন কলগার্লের বয়স বেশি হয়ে গেলে বা চাহিদা কমে আসলে তারা তখন এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরম্ন করেন। কথা হয় ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন এমন একজন কলগার্লের সাথে। মনিকা নামের এই কলগার্ল নিজেই এখন এজেন্ট। নিজের ফ্ল্যাটেই অফিস খুলে বসেছেন। তার আন্ডারেই রয়েছে ২০ জনেরও বেশি কলগার্ল। ঢাকার বেশ কয়েকটি নামি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মেয়েও যে তার সাথে কাজ করনে -এ কথা জানান তিনি। মনিকা জানান, এরা কখনোই নিজে কোন ক্লায়েন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রোগ্রামে অংশ নেয় না। কারণ হিসেবে নিজেদের গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এমনটি বলে জানান তিনি। এ প্রতিবেদক ইডেন এবং তিতুমীর কলেজে পড়ে এমন দু’জন কলগার্লের সাথে ফোনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করেন। তবে দু’জনই তাদের এই গোপন অভিসারের কথা অস্বীকার করেন। এদের একজনের সেলফোন নম্বর আবার ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে সংরড়্গিত আছে। ওয়েব পেজে তার পরিচিতিতে কলগার্ল কথাটির সাথে আবেদনময় আহ্বান রয়েছে। ওয়েব সাইটটিতে তার ছবিও আপলোড করা। ওয়েবে থাকা স্টিল ফটোগ্রাফটি নিজের বলে স্বীকার করলেও তিনি যে কলগার্ল ধরনের কিছু নন, তা বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেন। এই প্রতিবেদক তাকে বাংলায় প্রশ্ন করলেও চটপটে ইংরেজিতে উত্তর দেন মেয়েটি। কলগার্ল না হলে সেলফোন বন্ধ করে দিচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সনেত্মাষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এখানে এজেন্ট কলগার্ল সম্পর্কটা চমকে দেয়ার মতো। এজেন্টরা নিজেদের কলগার্লদের ব্যাপারে অনেক যত্নশীল। ঢাকায় এই কলগার্লরা কখনও কখনও বাইরে গিয়েও প্রোগ্রাম করেন। ডিমান্ডেবল কলগার্লদের আনত্মর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। ওয়েব সাইট ঘেঁটে দেখা যায়, এসকর্ট এজেন্সিগুলো সারা বিশ্বে একটা নেটওয়ার্ক হয়ে কাজ করে। ফলে অনেক সময় কলগার্লদের দেশের বাইরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
যেভাবে কলগার্ল ঃ
উচ্চাকাঙড়্গা পূরণ করার সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার হলো কলগার্ল বনে যাওয়া! টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকের লোভনীয় অভিনয়ের সুযোগ বাসত্মবায়ন করতে, মডেল হওয়ার খায়েশ পূরণ করতে, সখের বসে এমনকি উচ্চবিত্ত গৃহবধূ একাকিত্ব দূর করতে তার বন্ধুর মাধ্যমে জড়িয়ে পড়ে এই ধরনের পেশায়। তবে শুধু টাকার অভাবে এই পেশায় নাম লিখিয়েছে এমনটি শোনা যায়নি। কলগার্ল সুমা (ছদ্ম নাম) জানান, তার স্বামীর অন্য সম্পর্ক ছিল। সে অনেক চেষ্টা করেও তাকে না ফেরাতে পেরে জিদের বসে নিজে এমন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। কলগার্লরা নেটওয়ার্কে ঢোকেন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সিনেমা-টেলিভিশন পরিচালক-প্রযোজক, বিউটি পার্লার, ড্যান্স স্কুল এবং অন্যান্য লোকজনের মাধ্যমে। বাড়তি রোজগারের লোভে, ভাল ক্যারিয়ারের আশায়, কারোর কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে কিংবা স্বামীর অবহেলায় কানত্ম হয়ে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, নামকরা মডেল বা অভিনেত্রী হওয়ার আশায় এই শহরে গোপনে গোপনে ‘কলগার্ল’ হয়েছেন অনেকেই। এই পেশায় সিনেমা-টেলিভিশনের অভিনেত্রী থেকে শুরম্ন করে উঠতি গায়িকা, উচ্চাকাঙড়্গী মডেল ছাড়াও আছেন মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত পরিবারের বিবাহিত-অবিবাহিত মেয়েরা। এদের অনেকেই আবার সমাজে পরিচিত। অর্থাৎ তারকা হিসেবে তাদের ফেসভ্যালু রয়েছে। এসব তারকাদের যে কোন প্রোগ্রাম আয়োজনে থাকে কঠোর গোপনীয়তা। আর এড়্গেত্রে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে এজেন্ট কর্তৃপড়্গ। আর ক্লায়েন্টের তালিকায় আছেন মূলতঃ ব্যবসায়ীরা। বিদেশী ক্লায়েন্টদেরও মনোরঞ্জন করে থাকেন ঢাকার কলগার্লরা। যাদের কাঁচা টাকা ওড়াতে কোন বাধা নেই, কেবল তারাই কলগার্লদের নিয়ে মেতে ওঠেন কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার এই জমকালো আয়োজনে। তবে সাধারণ মানুষও যে নেই, তাও নয়। তবে সে সংখ্যা একেবারেই হাতে গোণা।
কলগার্ল হওয়ার পাশাপাশি এদের অন্য একটা পরিচিতিও রয়েছে। সেই পরিচিতিই এদেরকে সমাজে আড়াল করে রাখে। কেউ স্টুডেন্ট, কেউ বিউটিশিয়ান, কেউ ম্যাসিউজ, কেউ প্রাইভেট টিউটর, কেউ বুটিক চালান, কেউ অভিনেত্রী। আছেন গৃহবধূরাও। এরা যেন চেনামুখের আড়ালে অচেনাজন।
যারা ঢাকার কলগার্ল ঃ
দ্ব এরা কোনও নির্দিষ্ট পতিতালয় নির্ভর নন।
দ্ব এরা চলমান মহিলা যৌনকর্মী। একা বা কোন এজেন্ট দ্বারা নিজেদের পরিচালিত করেন।
দ্ব প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম (যৌনকর্ম) আয়োজনে থাকে গভীর গোপনীয়তা। সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই কিংবা তিনটি প্রোগ্রামে অংশ নেন একজন কলগার্ল।
দ্ব প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ হোটেল, রিসর্ট, প্রাইভেট ফ্ল্যাট ও ম্যাসেজ পার্লারে।
দ্ব এরা সকলেই শিড়্গিত এবং বাংলা-ইংরেজিতে পারদর্শী। এছাড়াও কেউ কেউ হিন্দিতেও অনর্গল কথা বলতে পারেন।
দ্ব এদের বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। উচ্চাভিলাসী মধ্যবিত্তের সংখ্যাও কম নয়। বাইরের থেকে দেখে কোনভাবেই বোঝা যাবে না এরা কলগার্ল।
দ্ব বেশিরভাগই এ পেশার বাইরেও অন্য কাজ করে থাকেন, যেখান থেকে আয়-রোজগারও যথেষ্ট।
কাদের ডিমান্ড এখানে ঃ
জানা যায়, ক্লায়েন্টদের কাছে কম বয়সী স্কুল এবং কলেজের মেয়েদের চাহিদা বেশি। ফলে এই সব এসকর্ট এজেন্সিগুলোর নজর থাকে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের সাথে সাথে স্বনাম ধন্য ঢাকার স্কুল কলেজগুলোর দিকে। এসকর্ট এজেন্টগুলো বিভিন্নভাবে ফাঁদ পেতে স্কুল-কলেজের মেয়েদের কৌশলে কলগার্লের খাতায় নাম লেখিয়ে নিচ্ছে। অর্থের লোভ দেখিয়ে নতুন নতুন মেয়েদের নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে পারঙ্গম এরা। তবে এরা পতিতালয়ের তথাকথিত ‘পিম্প’ বা দালালদের মতো নয়।
এসকর্ট এজেন্সি এবং কলগার্ল ঃ
ঢাকার এসকর্ট এবং কলগার্ল এখন একে অপরের পরিপূরক শব্দ। বৈধতার সনদ দেখিয়ে এরা প্রকাশ্যে কলগার্ল বিজনেস চালিয়ে যাচ্ছে। ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করতে কলগার্ল বিষয়ে যাবতীয় তথ্য, ছবি এবং কলগার্লের রেট দিয়ে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য অনলাইনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কলগার্ল বুকিং দেয়া যায়। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে- এসব ওয়েব সাইটে তরম্নণীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলে নতুন নতুন কলগার্ল হওয়ার জন্য আহ্বান রয়েছে। সেই সাথে ক্লায়েন্ট এবং কলগার্লদের জন্য যাবতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঢাকার এসকর্ট এজেন্সিগুলোর প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব কলগার্ল ডেটাবেজ। ছবিসহ এসব ডেটাবেজে গ্রাহক হওয়ার মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়। আবার সব কলগার্লের ছবি ওয়েবে থাকে না। কারণ স্টার কিংবা সেলিব্রেটি কলগার্লরা ওতটা প্রকাশ্যে প্রচার হতে রাজী হয় না। চাহিদা মতো এসকর্টের কলগার্ল পেতে কায়েন্টকে বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- এসকর্ট এজেন্সিকে ক্লায়েন্টের পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর প্রদান, যোগাযোগের জন্য একটা কন্ট্যাক্ট নম্বর (মোবাইল/টেলিফোন), কোন হোটেলে এসকর্ট আয়োজন করতে চাইলে তা কমপড়্গে থ্রিস্টার হোটেল হতে হয় এবং ফ্যাটের ড়্গেত্রেও হতে হয় মানসম্মত। ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, ঢাকা এসকর্ট এজেন্সি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। ঢাকা ভিত্তিক এইভাবে উন্মুক্ত কলগার্ল ব্যবসাকে বৈধ বলে দাবি করেন এসকর্ট কর্তৃপড়্গ। ঢাকা এসকর্টের আজাদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কলগার্লের এই বিজনেস প্রফেশনালি বৈধভাবে করে থাকেন তারা। আর এ প্রতিবেদক নিজেকে একজন ক্লায়েন্ট হিসেবে পরিচয় দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস সম্পর্কে বিসত্মারিত জানিয়ে মেইল করেন। আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কলগার্লদের রেট যৎসামান্য কমতে পারে বলেও তিনি জানান। ঢাকা এসকর্টের ওয়েব সাইটে দেখা যায়, ফেডারেল লেবেয়িং এন্ড রেকর্ড কিপিং ল’ (১৮ ইউএসসি ২২৫৭) অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম বৈধ এবং কর্তৃপড়্গ অনুমোদিত। কিন' একাধিক আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই আইনের দোহাই দিয়ে যৌন ব্যবসা বৈধ করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসকর্ট এজেন্সি খুলে কলগার্ল ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ গুলশান জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোনভাবেই যৌন ব্যবসা বৈধ হতে পারে না। উলেস্নখিত আইনের কথাও এর আগে শোনেননি বলে জানান তিনি। আর ওয়েব সাইটের মাধ্যমে একেবারে প্রকাশ্যে এই ধরনের যৌনব্যবসা চলছে শুনে তিনি বিস্মিত হন।
কলগার্ল হতে ইচ্ছুক ঃ
এসকর্ট এজেন্সিগুলো কলগার্ল হতে ইচ্ছুকদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আহ্বান জানায়। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়-য়া সুন্দরী মেয়ে, গৃহিনী এবং কম বয়সী তরম্নণীদের লোভনীয় প্রসত্মাবের মাধ্যমে আকৃষ্ট করার প্রবণতা লড়্গ্য করা যায়। গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ এবং কম বয়সে লাখপতি হওয়ার সুযোগ। এ রকম নানা প্রলোভনে কলগার্ল হওয়ার প্রসত্মাব দিয়ে থাকে এসব এসকর্ট এজেন্সিগুলো। তবে অধিকাংশ ড়্গেত্রে সরাসরি এজেন্টরা নতুন কলগার্ল নিতে ডিল করে না। মাধ্যম হিসেবে তৃতীয় একটি পড়্গকে ব্যবহার করে থাকে। ফলে কেউ কলগার্লের খাতায় নাম লেখালে সেড়্গেত্রে এজেন্সিকে দায়ী করা যায় না।
রেট ঃ
সাধারণতঃ ৪ ক্যাটাগরির কলগার্ল পাওয়া যায়। বয়স, ফিগার এবং ইন্টেলেকচুয়াল-এর ওপর ভিত্তি করে ক্যাটাগরি নির্ধরণ করা হয়। এলিট ‘এ’, এলিট ‘বি’, প্রিমিয়াম ‘এ’ এবং প্রিমিয়াম ‘বি’। ক্যাটাগরি অনুযায়ী কলগার্লদের পেতে টাকা খরচের অঙ্কেও পরিবর্তন আসে। এলিট ক্যাটাগরির কলগার্লদের স্বল্প সময়ের জন্য বুকিং দেয়া যায় না। প্রিমিয়ার ক্যাটাগরির কলগার্লদের আধা ঘণ্টার জন্য বুকিং দিলে কমপড়্গে ৪০ ডলার গুনতে হয়। আর এলিট শ্রেণীর সর্বনিম্ন রেট ২০০ ডলার (প্রতিঘণ্টা)। তবে সময় বাড়লে রেটে কিছুটা তারতম্য হয়। পুরো রাতের জন্য এ লেবেলের এলিট কলগার্লদের রেট ৮০০ থেকে ১০০০ ডলার। প্রতি তিন সপ্তাহ অনত্মর কলগার্লদের ডাক্তারী পরীড়্গা করা হয়। ফলে কলগার্লদের সংস্পর্শে ক্লায়েন্টদের কোন প্রকার যৌনবাহিত রোগ হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেয় এজেন্টরা। পছন্দের কলগার্লকে নিয়ে ঢাকার বাইরে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। হিল ট্রাক্টস্‌, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর সেড়্গেত্রে দরকার শুধু টাকা। এলিট কলগার্লদের প্রায় সকলেরই পাসপোর্ট রয়েছে। পছন্দসই এসকর্ট অর্ডার দেয়ার পর ঢাকা হলে এসকর্ট আয়োজনে সময় লাগবে সর্বোচ্চ একঘণ্টা। সিলেট, চট্টগ্রাম ১২ ঘণ্টা এবং দেশের বাইরে তিনদিন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের নতুন, পুরানো অনেক মডেল, টেলিভিশন ও সিনেমার বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী এমনকি প্রাইভেট চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকাও কলগার্লের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তবে এদের রেট প্রচলিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি। এদের সাথে প্রোগ্রাম কিংবা এসকর্টে অংশ নিতে হলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরম্ন করে ২ লাখ টাকা পর্যনত্ম খরচ করতে হয়। অগ্রিম টাকা নেয়া হয় না। সে ড়্গেত্রে নতুন ক্লায়েন্ট হলেও প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকে না বললেই চলে। কলগার্ল অর্ডার দেয়ার পর তাকে দেখে পছন্দ না হলে অর্ডার বাতিল করা যায়। বিভিন্ন দেশের প্রচলিত মুদ্রায় বিল পরিশোধ করা যায়। তবে এ ড়্গেত্রে টাকার সাথে সাথে ডলার, পাউন্ড এবং ইউরোকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। প্রাইভেসির জন্য শুধুমাত্র নগদ ক্যাশে বিল দিতে হয়। চেক কিংবা ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিশেষে ঃ
কলগার্ল হচ্ছে মুখোশের আড়ালে চালিয়ে যাওয়া একটি পেশা। দেশে ঠিক কতজন কলগার্ল আছে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। আর এটা এমন একটা পেশা যেখানে পেশাজীবী থাকেন আড়ালে, গোপনে। এখানে যেমন যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি জানাজানি হলে পারিবারিক ও সামাজিক অশানিত্মও অপেড়্গা করছে। ফলে সবার অলড়্গে প্রতিদিন কতজন মেয়ে এই পেশায় নাম লেখাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন' যারা কলগার্ল নিয়ে ব্যবসা করে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ সংখ্যাটি একেবারেই কম নয়। আর যদি সত্যি সত্যিই তেমনটি হয়ে থাকে, তবে তা যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ। কেননা, তাহলে যে মুখশের আড়ালে হারিয়ে যাবে বিবেকের এবং চিরচেনা বাংলার সবুজ নারী।

আরো একটা খবর পদ্মা পাড়ের মানুষ হতে
শাহজাহান আকন্দ শুভ ও হাসান জাকির:
ওয়েবসাইটে কলগার্ল ব্যবসা৷ তাও গোপনে নয়, প্রকাশ্যেই৷ রাজধানীর বনানীতে ‘এসকর্ট এজেন্সি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এ ব্যাপারে তারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে কলগার্লদের যৌন আবেদনময়ী ছবি এবং সেলফোন নাম্বার দেয়া হয়েছে৷ এছাড়াও আছে কলগার্লদের শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনা এবং তাদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার নিয়ম-কানুন৷ এছাড়াও দেহ ব্যবসা করে রাতারাতি লাখপতি হওয়ার লোভনীয় সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এসকর্টের ওয়েবসাইটে৷

জানা গেছে, আজাদ রহমান নামে এক ব্যবসায়ী এসকর্টের কলগার্ল ব্যবসা পরিচালনা করেন৷ গতকাল ফোনে তিনি জানান, ‘নিছক দুষ্টুমি করার জন্যই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে৷ মেয়েদের ছবি এবং সেলফোন নাম্বার দিয়ে কেন এই দুষ্টুমি করছেন_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো অপরাধ নয়৷’
এসকর্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, কলগার্লদের নিয়ে তাদের রয়েছে বিশাল ডাটাবেজ৷ গ্রাহক হওয়ার পরই কেবল এসব ডাটাবেজে প্রবেশ করা যায়৷ ডাটাবেজে কলগার্লদের ছবিসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে৷ অভিযোগে প্রকাশ, ৪ ক্যাটাগরির কলগার্ল নিয়ে ব্যবসা করছে এসকর্ট৷ এলিট-এ, এলিট-বি, প্রিমিয়াম-এ এবং প্রিমিয়াম-বি৷ বয়স, ফিগার এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তারা ক্যাটাগরি নিধর্ারণ করেছে৷ এলিট ক্যাটাগরির কলগার্লদের স্বল্প সময়ের জন্য বুকিং দেয়া যায় না৷ প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির কলগার্লদের আধ ঘণ্টার জন্য বুকিং দিলে কমপৰে ৪০ ডলার গুণতে হয়৷ আর এলিট শ্রেণীর সর্বনিম্ন রেট হচ্ছে প্রতি ঘণ্টা ২০০ ডলার৷ পুরো রাতের জন্য এলিট কলগার্লদের রেট ৮০০ থেকে ১০০০০ ডলার৷ প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর কলগার্লদের ডাক্তারি পরীৰা করা হয় এবং কলগার্লদের সংস্পর্শে এলে ক্লায়েন্টদের কোনো যৌনবাহিত রোগ হবে না বলেও ওয়েবসাইটে প্রচারণা চালাচ্ছে এসকর্ট৷
রাজধানী ঢাকার নামিদামি হোটেল, ফ্ল্যাট এবং ম্যাসেজ পারলারে এসকর্ট ক্লায়েন্ট-কলগার্ল প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে৷ তবে টাকা হলে পছন্দের কলগার্লকে ঢাকার বাইরে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷
ওয়েবসাইটে পরিচিতি, ছবি এবং সেলফোন নাম্বার থাকা ঢাকার দু’জন কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা গোপন অভিসারের কথা অস্বীকার করেন৷ এদের একজন ওয়েবে থাকা স্টিল ফটোগ্রাফটি নিজের বলে স্বীকার করলেও তিনি যে কলগার্ল ধরনের কিছু নন, তা বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেন৷ এসকর্ট যে বৈধভাবে এই ব্যবসা করছে তার সপৰে তারা ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল লেবেলিং অ্যান্ড রেকর্ড কিপিং ল’ (১৮ ইউ.এস.সি. ২২৫৭)-এর একটি রেফারেন্স তুলে ধরেছে৷ কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ব্যবসা কোনোক্রমেই বৈধ হতে পারে না৷ শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, সরকারের অনুমোদিত যৌনপলস্নী ছাড়া আর সব জায়গাতেই দেহ ব্যবসা অবৈধ৷

Living to tell the Tale

0 comments
লিখেছেন: jotil
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের আত্মজীবনীমূলক বই " Living to tell the tale "
২০০৪ সালে পড়েছিলাম , মজার বিষয় হচ্ছে এই প্রখ্যাত লেখকের কুমারত্ব বিসর্জনের ঘটনাটি ঘটেছিল একজন পতিতার কাছে , ভদ্রভাবে যাদের আমরা যৌনকর্মী বলি । ঘটনাটি এরকম যে , মার্কেজের বাবা ডাক্তার এবং তার কিছু পাওনা টাকা বাকী ছিল সেই বিশেষ যৌনকর্মীর কাছে । তো তিনি মার্কেজকেই পাঠালেন , বয়সে তখন প্রায় কৈশোরে পড়েছেন তখন মাত্র । তো সেখানে গিয়েই ঘটনাচক্রে নিজেকে অভিজ্ঞ প্রমাণ করতে গিয়ে কুমারত্ব বিসর্জন দেন । আর অভিজ্ঞ যৌনকর্মী ঠিকই বুঝে ফেলেন যে এটাই ছিল সেই অবুঝ কিশোরের প্রথমবার ।
মজাটা অন্যখানে , সেই মহিলা জানিয়েছিলেন মার্কেজের ছোটভাই এ কাজ অনেক আগেই করেছেন এবং সেই ছোটভাই এর প্যান্ট দেখিয়ে বললেন সে যেন তা নিয়ে যায় ।
আমি এই অংশটি পরে অনেক হেসেছিলাম বেচারীর মনের অবস্থা বুঝে ।
এরপর দিন গড়িয়েছে , বেড়েছে সচেতনতা । আর আমার বাস্তবতার পালকেও জুটেছে সেরকম কিছু অভিজ্ঞতা তার মধ্যে আজকের অভিজ্ঞতাটা লিখব যৌনকর্মীদের নিয়ে ।
প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি একজন ডাক্তার আপুকে , যিনি বয়সে অনেক বড় , আর তার সাথে প্রথম দেখা দেশের বাইরে আমার এক আত্মীয়ার সাথে তিনি ছিলেন এক বিশেষ ট্যুরে । আমি সেদিন তেমন সময় দিতে না পারলেও যোগাযোগ রয়েছে এরপর থেকেই ।
পাবলিক হেলথ এর উপর এক জরিপ এবং এক NGO এর সাথে তার বর্তমান কাজের সুবাদে আমি বলেছিলাম যেন পরবর্তিতে কোন প্ল্যান থাকলে আমাকে ডাকেন , অবশেষে সেই সুযোগ এসেছিল ।
হঠাৎ এক কলেই জানান যে স্বল্প সময়ের ট্যুর কয়েকটি নিষিদ্ধ পল্লীতে , সাথে থাকবেন তার সহকর্মী , দুজনেই ডাক্তার এবং বিশেষভাবে জড়িত STD প্রতিরোধমূলক কর্মকান্ডে । আমি যাব বলেছিলাম জন্যে আমার জন্যেও বিশেষ কার্ড এর ব্যাবস্থা ছিল , যাতে আইনত আমি সেই NGO এর একজন হয়ে গিয়েছিলাম ।
তো মাথা উঁচু করে নিষিদ্ধ পল্লীতে যাবার একটা মওকা পেয়ে যাওয়াতে আমি অনেক উৎফুল্ল হয়ে গিয়ে রাজী হবার কারণে দেখলাম বিশাল আর একটা ভ্রমনের ধাক্কা পোহাতে হল ।
তো এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক ,
নিষিদ্ধ পল্লীভ্রমন
টার্গেটেড স্পটগুলোর মাথা কয়েকজনের সাথে আগেই সব ঠিক করা ছিল বলে কোন সমস্যা হয়নি । প্রথমেই যাওয়া হয় মহাখালী । বিশেষ একটি আবাসিক হোটেল এ প্রথম যাওয়া । আমি ভেতরে ভেতরে একটু অবাক হবার মত অবস্থায় ছিলাম , তবে এটা ছিল নির্দ্বিধায় একটা চরম সুযোগ বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষ করার ।
ঢোকার সময় সব স্বভাবিকই মনে হল , কিন্তু তৃতীয়তলায় গিয়ে বুঝলাম ভেতরের আসল অবস্থা । চাপা গুমোট পরিবেশ , সেখানে আবার সিকিউরিটি চেক আপ হচ্ছে যারা নতুন যাচ্ছে । আমরা কোনকিছু ছাড়াই ভেতরে গেলাম এবং যা দেখলাম তাতে অবাক হয়ে যাওয়ার পালা । প্রথম দেখায় মনে হবে একটা রুমে সারিবেধে মেয়েরা বসে আছে কোন কনফারেন্স এর জন্যে । কিন্তু দেখলাম যে কাস্টমার বা খদ্দেরবেশীরা সেখানে গিয়ে শুধু ইশারা দিয়েই ডেকে নিচ্ছে । এটাই সেখানের বৈশিষ্ট্য , যে কাউকে পছন্দ করে নিলেই হল , যৌনকর্মীদের এখানে কোন বলার কিছু নেই । তারা শুধু চুপ করে বসে থাকে । বিষয়টি আমাকে পরিষ্কার করে দিয়েছে গাইড পরবর্তিতে ।
সেখানে গিয়েই একটা বসার ব্যাবস্থা করা হল শর্ট কনফারেন্সের । আপু আর ভাইয়া তাদের পেপারস দিয়েদিলেন উপস্থিত সব যৌনকর্মীদের এবং এইডসের উপর সচেতনতা ছাড়াও আরো এই সংশ্লিষ্ট রোগ এবং সম্ভাবনার কথা বলা শুরু করলেন । আমি প্রথমে তাদের চেহারা গুলো আর গঠন এবং নিজেকে সাজানোর ধরন একনজর দেখলাম এরপর গাইড কে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম । জানতে চাইলাম এখানের নিয়মগুলো , সে আমাকে মোটামুটি বিষদ্ভাবেই জানালো সব এবং আমার নম্বর টিও নিয়ে নিল এইফাঁকে ।
জানতে পারলাম , বয়সভেদে আলাদা আলাদা রুম আছে সবরকমের যৌনকর্মীদের , এবং সে যেভাবে চোখ টিপে বলল অল্প বয়সের মেয়েও আছে , আমি একটু অবাক হলাম । বয়স জানতে চাইলে বলল , ১২-১৫ ক্যাটাগরীর মেয়েরাও আছে আর ১৮-২৪ এর মেয়েদের ক্যাটাগরীও আছে । উলেখ্য যারা দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে শুধু তারাই আছে কনফারেন্স এ আর বাকীরা দেহ বিলিয়ে দিতে ব্যাস্ত । হাতে সময় আছে ১৫ মিনিটের মত । আমি পরখ করার জন্যে বললাম দেখব আমি ।
সে বলল একটু পাশের একটা রুমে যেতে , যাবার সময়েই দেখলাম একটা পিচ্চি মেয়ে একজন যুবক কে নিয়ে রুমে গেল আর দরজা বন্ধ করে দিতে দিতে আমাদের কে তাকিয়ে একনজর দেখল । তার বয়স ১৫ এর উপরে কখনোই নয় ।
রুমে যেতেই সেই গাইড ওরফে অন্যতম দায়িত্ববান দালাল কাকে যেন ডাক দিয়ে বলল একজন কে আনতে । একটু পরই যাকে নিয়ে এল তার বয়স বড়জোর ১৪-১৬ । ফুটফুটে এরকম একজন কে এই পরিবেশে দেখতে হবে এটা আমার মাথাতেও ছিল না । আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল একদম ফ্রেশ তথা নতুন আমদানী , আমি এইকথার উত্তর দেবার ও প্রয়োজন বোধ করলাম না । অবাক বিস্ময়ে দেখতে থাকলাম সেই মেয়েটিকে ।
ভাবতে চাইলাম আসলেও এটা বাংলাদেশ কি না !! পরে নিজেকে বুঝালাম এটা চরম বাস্তবতা ।
ইচ্ছে হল পিচ্চির সাথে কথা বলতে । তাকে বললাম এবং সেটা বলতেই দালাল মিয়া পিচ্চিকে ধমকের মত বলল ... স্যার যা বলবে ঠিকমত শুনবি ... বলেই তাকে বাইরে যেতে বলে কথা বলতে বলতে দরজা ভেজাতে গিয়ে উঠলাম , ফেরত হতেই উলটো দিকে তাকিয়ে দেখি পিচ্চি ততক্ষনে কাপড়খুলে বিছানায় জুবুথুবু হয়ে বসে আছে !!!
মাথা নিচু করা , কৈশোর তখনো ভালকরে দেখা হয়নি তার , এই বয়সে কিভাবে সম্ভব এসব তা আমার মাথায় ঢুকল না !! তবে অবস্থা দেখে বুঝলাম ট্রেনিং এরমধ্যেই কিছু দেয়া হয়ে গিয়েছে ।
তার সামনে চেয়ার টেনে বসতেও নিজেরই অপ্রস্তুত বোধ হচ্ছিল , মাথা গরম , কান দিয়ে ধোয়াও বের হচ্ছিল মনে হচ্ছিল !! নগ্ন দেহ অপরিচিত নয় কিন্তু এই বয়সের টা অবশ্যই অপরিচিত । তার ন্যুড পোর্ট্রেট আঁকাটাও পাপের পর্যায়ের চিন্তাভাবনা , আর অতখানি পেডোফাইল ও নই যে তাকে দেখেই আমার হার্ড অন হয়ে যাবে । আর যদি ভাবা হয় তার মাল্টিপল অর্গাসমের কথা !!! অসম্ভব ।
শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম বাসা কোথায় , উত্তর পেয়েছিলাম কাজীপাড়া । মাথানিচু করে ছিল , আমি মোটামুটি ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি । মনে পড়ল পকেটে একটা চকোলেট বার আছে , যা কিছুক্ষন আগে যাত্রাপথে আপু দিয়েছিল । সেটাই এগিয়ে দিলাম ।
তার দিকে কাপড় এগিয়ে দিয়ে বলেছিলাম বাসায় যেতে , কোন কিছু না ভেবেই । সে একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল । সেই প্রথম তার চোখের দিকে ভাল করে তাকানোর সুযোগ হয় । আর থাকতে পারিনি । দ্রুত বের হয়ে গিয়েছিলাম সেই রুম থেকে ।
আমি জানি , এই মেয়ে হয়ত কোনদিন ব্রিটিশ চকোলেট আর চোখেও দেখবে না , হয়ত একের পর এক নিষ্পেষিত হবে সেখানে , হয়ত সেদিনই সে হয়েছে , হয়ত ভবিষ্যতেও হতে হবে , হয়তবা এই বাস্তবতার খেলায় হারিয়ে যাবে এক কৈশোর , সেখানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকবে কঠোর যৌনকর্মীর প্রতিমূর্তি যে নিজের দেহকে বিলীন করতে শিখে যাবে অন্যসবার মতই , রংমাখা ঠোঁটে বসে থাকবে আর সবার মত আর এই বয়সেও তোতাপাখির মত বলে যাবে যে " আমার বয়স আঠারো " !!
এখন যেটা মনে হয় এদের কে নিয়ে কবিতা লেখাটা তাদের প্রতি অসম্মান স্বরুপ , এবং তাদের মহৎ করতে গিয়ে দুইপক্ষই ছোট হয়ে যায় ।
এর একটু পরেই আপু আর ভাইয়াও বের হয়ে আমাকে নিয়ে আবার বের হল । একদিনে মোট চারটা স্পটে যাওয়া হল । আমি কোন কথা বলিনি তেমন এরপর , আর এটা দেখে আমাকেও আপু সেরকম কিছু জিজ্ঞেস করেননি । আমি আড়ালে বলেছিলাম ভাইয়াকে যেন যৌনকর্মীদের কে ফেলাশিও করতে নিষেধ করা হয় , মুখমেহনের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে রোগ যদি মুখে ক্ষত থাকে ।
অন্যসব স্পটের মাঝেও প্রায় একই চিত্র , কোথাও ভীড় বেশি কোথাও কম । তবে এক্ষেত্রে আমার প্রাপ্তি কয়েকটা ফোন নম্বর , অবশ্যই তা গাইডরুপী দালালদের এবং একজন যৌনকর্মীর নম্বর ও আছে এর মাঝে ।
আসল কথা কিছুই বলা হয়নি এখনো , তবে মনে হচ্ছে পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে , তাই পরবর্তীতে আর একটা পোস্ট দিব এই নিয়ে । সেখানে এসব যৌনকর্মীদের ক্লাসিফিকেশন , সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকার দরুন তাদের ধরন , স্মার্ট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু এরকম এবং অনলাইনে তাদের কিছু কার্যক্রম নিয়ে তথ্য থাকবে ।
বলা যেতে পারে এটা একটা ট্রিভিয়া এর মত হবে ,
বিষয়টা নিয়ে নিজের মতই লিখছি এবারও , কারণ এখানে পেশাদার লেখিয়েদের মত অত কিছু লেখার নেই । হয়তবা আমি লিখতেও পারিনা সেভাবে ।
আর এসবের পেছনে মানবিক , ব্যাবসায়িক , জমজমাট অনেক গল্প থাকলেও সেসব নিয়ে সব লেখা হয়ত সীমিত পরিসরে একদমই সম্ভব নয় ।
একটু দেরীতে লেখার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি , তবে জানিনা কতটুকু চাহিদা পূরণ করতে পারব ।

সেফ থেকে জেনারেল , জেনারেল থেকে ওয়াচ , এরপর আবার জেনারেল আবার কখন হয়ত ব্লকড হয়ে যাব , কোন না কোন ইশারায় , অন্ততঃ একটু আগেও এরকম খেলা দেখলাম আমার এই ব্লগ জীবনে দ্বিতীয় বারের মত ।
তাই লিখেই শেষ করি ।
বাচ্চাদের মত মডুদের প্রতি একটু হলেও ঘৃণা আছে ভেতরে সেটাকে সেখানেই পুষে রাখি ।

................................

এই পেশা বা পল্লী আইনত কি বৈধ !! ??

উত্তরটা , হ্যাঁ সূচক ।
মার্চ এর প্রথমার্ধে , ২০০০ সালেই বাংলাদেশে এই পেশাটাকে বৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হয় ।

ছবিটা জুলাই ১৯৯৯ সালের যেদিন টানবাজারের কর্মীরা মাঠে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের উচ্ছেদের বিষয়ে । সেদিন পথে নেমেছিলেন প্রায় ৩,৫০০ যৌনকর্মী !!

আর এই ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেছিলেন সিগমা হুদা একটি প্রবন্ধে আর এখানেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি তার মতামত ব্যাক্ত করেছিলেন

উল্লেখ্য , ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে টানবাজারের গোরাপত্তন হয়েছিল ।
আর শুরু সালের একটা ছোটখাট সংখ্যাতত্বের হিসেব করি ফাজলামী হিসেবে ...
১+৮+৮+৮=২৫ ; ২+৫=৭ , অর্থাৎ শুরুর নম্বরটা যেহেতু ৭ তাই এর প্রভাব নিজস্ব ক্ষেত্রে শুভই হবার কথা !!
কিন্তু অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়েও ১৯৯৯ এর সেদিন তারা আর পারেনি , উচ্ছেদ হয়ত হয়েছিল , কিন্তু আইনতঃ বৈধকরনের জন্যে হয়তবা এই প্রতিষ্ঠানের সেইসব কর্মীদের জোর গলারই অবদান রয়েছে ।
আর এখানে , ১+৯+৯+৯=২৮ ; ২+৮= ১০ । অর্থাৎ ১ যার মান সংখ্যাতত্বে সবকিছুর উর্দ্ধে !!!

অফটপিক তথ্যঃ খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৪ সনে গ্রীসের এথেন্সে প্রথম নিষিদ্ধপল্লীর তথ্য পাওয়া যায় , যা লিপিবদ্ধ আছে ।

আর , বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড রেডলাইট এই অঞ্চল আছে ১৮ টি গত বছরের শুরুর দিকের হিসেবে , এবং অ-রেজিস্টারকৃত এর সংখ্যা ছোট ছোট ক্ষেত্র হিসেবে ধরলেও ঢাকাতেই শতকের আশেপাশেই ।

দেশের বৃহত্তম রেজিস্টার্ড নিষিদ্ধপল্লী হচ্ছে দৌলতদিয়ায় , যেখানে ১৬০০ মহিলা প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ জনের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন । প্রায় ২০ বছর আগে উন্মোচিত এই নিষিদ্ধ পল্লীর উপর একটি প্রতিবেদন যদি শুনতে ইচ্ছে করে তাহলে এখানে ক্লিক করে শুনে নিন । রিপোর্ট টি ১৪ই জানুয়ারী ২০০৮ এর ।

....................................................

এবার কিছু কথাঃ

সংখ্যায় যদিও সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয় , তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫,০০০ শিশু যৌনকর্মী সারাদেশে বিদ্যমান ।
কি !
সংখ্যাটা দেখে তাজ্জব না হয়ে জেনে রাখা দরকার প্রায় ২০,০০০ শিশুর জন্ম ১৮ টি রেজিস্টার্ড নিষিদ্ধপল্লীতে আর অজানা অচেনা গুলোতে ...
নিষিদ্ধপল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়ে শিশুরা বয়স ১২ হতে না হতেই মায়ের দেখা দেখি এই পেশাতে জ়ড়াতে বাধ্য হয় আর ছেলেরা হয়ে ওঠে দালাল তথা খদ্দের শিকারী । হয়ত মেনে নেয়াটা অনেক কষ্টকর কিন্তু বাস্তবতা এটাই ।

যেখানে ২০০০ সালেই NGO দের হিসেবে ১,৫০,০০০ যৌনকর্মী ছিল বর্তমানে কত তা আমি অনুমান করে লিখতে পারছিনা ।
আর তাদের জীবনের ছন্নছাড়া গল্পগুলো কিভাবে লেখা যায় সেটাও হয়ত একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে ।

...............................

যারা অডিও ক্লিপটি শুনেছেন তারা ইতিমধ্যে হয়ত বেশ কিছু শুনলেন ।
তবে এটা ঠিক যে অধিকাংশ যৌনকর্মীর ইতিহাসই এখন শুরু হয় , অতি নিম্নবিত্তের পরিবার থেকে , যেখানে খাওয়া পরার চিন্তা নিয়ে বেড়ে উঠতে গিয়ে তাদের বাবা অথবা মা কে ভালকাজের লোভ দেখিয়ে পরে নিয়ে যাওয়া এবং পাচার করে দেয়া হয় নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে যে দালাল এর সাথে কথা বলেছিলাম , সে আফসোস করছিল নতুন অল্পবয়সী মেয়েদের চাহিদার তুলনার স্বল্পতার কথা ভেবে । দ্রুত কিভাবে আনা হবে সেই ব্যাবস্থা করতেই সে ব্যস্ত ।
মাত্র ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ এর মধ্যে মেয়ে বিক্রী হয়ে যায় , আর এখানে তাদের দৈনিক গড় আয়ের পরিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কমই ।

গার্মেন্টস এর কর্মীদের কে সেখানে এখন সহজলভ্যভাবেই পাওয়া যায় , যা রীতিমত আশঙ্কাজনক হারে শুধু বাড়ছেই ।
অর্থনৈতিক মন্দা যদি সেভাবে আরো বৃদ্ধিপায় , এই সংখ্যা যে আরো বেড়ে যাবে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

তবে , এটা ঠিক যে এখন স্বাধীনভাবে অনেকেই এই পেশায় পার্টটাইম হিসেবে চলে আসে !!! শুধু অর্থাভাবই হয়ত মূল কারণ নয় , অনেকে শুধু মজার জন্যেই একাজ করে থাকেন । স্কুল-কলেজের মেয়েদেরকেও দেখা যায় , কোননা কোন ভাবে ম্যানেজ করে ফেলতে , আর তারা সকালে এসে সকালেই চলে যায় মোটামুটি মানের নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ।

আর , ভিন্নপরিস্থিতিতে দেখা যায় অনেকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে খরচ যোগাড়ের জন্যে এই পথে নেমে আসে । তারা ক্লাস মেইন্টেইন তথা নিজেদের অবস্থানকে একটু রেখে ঢেকে চলতে পারে কিন্তু দূর্লভ নয় , চেনার চোখ থাকলেই চেনা যায় এদেরকে ।

এরকম একজন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল । প্রথমে সবই ঠিক , তবে খেয়াল করেছিলাম যে সে যেভাবেই হোক না কেন একটা নির্দষ্ট সময় অনলাইনে থাকত । নক করলে কিছু বলত না ।
এরপর হঠাৎ একদিন জানিয়েছিল তার একটা সিচুয়েশনের কথা যেখানে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে সাহায্য করাটাই খুব স্বাভাবিক ছিল ।
অনেক কথা বলার পর বেরিয়ে এসেছিল বেশ কিছু অনাকাংখিত তথ্য ।
সত্য মিথ্যার সংমিশ্রনে আর তার চটুল অবস্থানের কারণে একটু উদ্ভটভাবে পরবর্তীতে আসল তথ্য জানাটা ছিল বেশ হতাশার ।

মাঝখানে একটা ওয়েবসাইট পেয়েছিলাম গতবছর , এস্কর্টসদের নিয়ে ।
সেখানে থাকা প্রোফাইল দেখে ভূয়া ভেবেছিলাম প্রথমে ।
মনে করেছিলাম , হয়ত ফাজলামী করে কেউ করেছে এসব ।
তো দেশের বাইরে থেকেই প্রথম কয়েকটা নম্বরে কল দিয়েছিলাম , এবং এরপর যা হয়েছিল সেটা আমাকে আসলেও বেশ অবাক করেছিল সেদিন , মিষ্টি অভিবাদন জানিয়ে সাড়া দেয়া ... এরপর বলেছিলাম " কোথায় পাওয়া যাবে ? " সে উত্তরে বলেছিল ঢাকা চট্টগ্রাম দু'জায়গাতেই সম্ভব আর তাকে কত দিতে হবে এই প্রশ্নের জবাবে সে বলেছিল আলোচনা সাপেক্ষ ।

এরপর অনলাইনে যাদের কে এ্যাড করেছিলাম , এরমধ্যে বেশ কয়েকটি খুব ভাল রেস্পন্স করেছিল ।
একজন ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে বলেছিল ।
গুলশানের গৃহবধু বলে নাকি এটাই তার জন্যে সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা ! প্রথমে আস্বস্ত হবার জন্যে একটু বাজিয়ে দেখেই পরে ঝটপট বলেছিল একটি নির্দিষ্ট মেইল এ্যাড এ মেইল দিতে তার প্রোফাইলের জন্যে ।
আমি মেইল দেবার আধা ঘন্টার মধ্যেই রিপ্লাই পেয়েছিলাম । $১০০ এর প্রোফাইল !!
উল্লেখ্যঃ এরা ছদ্মনাম ব্যাবহার করে এটাও যেমন ঠিক , আবার অনেকে একটু ফ্রী হলেই বিশ্বস্ততার উপরে নির্ভর করতে পারলে আসলটাও জানিয়ে দিতে দ্বিধা করেনা ।
মেইলের ভেতরে যে প্রোফাইল ছিল সেখানে কিছু কিছু শর্তাবলীও ছিল এরকম
মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড ফাইলে একটা নাম পেলাম জনৈক মোঃ মজিবুর রহমান । হয়ত সেই ব্যক্তির কম্পিউটারে লেখা অথবা সেই লোকই রচয়িতা হয়তবা সেই লোকই দালাল !! কে , জানে !!

এভাবেই সমাজের বিভিন্ন স্তরেই রয়েছে এই এক বিশেষ গোষ্ঠী । জীবিকার তাগিদে তাদের ভারসাম্য আনতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ।
দেহের মূল্য কত এই প্রশ্নটি এখানে অবিবেচ্য ।
কারণ , এর চেয়ে অনেক বেশি কিছুই জড়িয়ে আছে এর সাথে ।

.............................................

ঢাকায় ঘোষিত নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পুলিশের চাঁদাজনিত আনাগোনায় ব্যাস্ত থাকে বলে কেউ যদি দেখার জন্যেও যেতে চান , একটা পরিচয় নিয়ে যাওয়া ভাল যাতে কেউই না থামিয়ে উলটো সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয় ।

আর দেশে যে প্রচলিত আইন আছে তার তিনটি ধারা নিম্নরূপঃ
“ Section 364A - Whoever, kidnaps or abducts any person under the age of ten, in order that such a person may be or subjected to slavery or to the lust of any person shall be punished with death or with imprisonment for life or for rigorous imprisonment for a term which may extend to 14 years and may not be less than 7 years. ”
“ Section 366A - Whoever, by any means whatsoever, induces any minor girl under the age of eighteen years to go from any place or to do any act with the intent that such a girl may be or knowing that it is likely that she will be, forded or seduced to illicit intercourse with another person shall be punishable with imprisonment which may extend to 10 years and shall also be liable to fine. ”
“ Section 373 - Whoever buys, hires or otherwise obtains possession of any person under the age of eighteen years with the intent that such person shall at any age be employed or used for the purpose of prostitution or illicit intercourse with any person or knowing it likely that such person will at any age be employed or used for such purpose with imprisonment of either description for a term which may extend 10 years and fine. Any prostitute or any person keeping or managing a brothel, who buys, hires or otherwise obtains possession of a female under the age of 18 years, shall until the contrary is proved, be presumed to have obtained possession of such female with the intent that she shall be used for the purpose of prostitution. ”

আইন থাকলেও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ এখনো হয়না , আর এরপরেও যে হারে সব তোয়াক্কা করে দেশে শিশু এবং নারী যৌনকর্মী এবং তাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে তা নিজ চোখে দেখলেও হয়ত ভেতর টা অনুভব করা সম্ভব নয় ।

...................................................

Inside the slave trade শিরোনামের এই প্রামাণ্য প্রতিবেদনটি বেশ তথ্য সমৃদ্ধ
এখানে বাংলাদেশের পতিতাবৃত্তি নিয়ে কিছু হাল্কা গবেষণামূলক লেখা আছে
এখানেই আপাততঃ শেষ করছি ।
এই বিষয়টা নিয়ে আর কিছু লেখার থাকলেও , তা আর কোনদিন লিখবনা ।
এই লেখা লিখতে হয়তবা যত্নের ঘাটতি ছিল , সেজন্যে পাঠকের কাছে আগেই নিজে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি ।


ছবিটা জুলাই ১৯৯৯ সালের যেদিন টানবাজারের কর্মীরা মাঠে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের উচ্ছেদের বিষয়ে । সেদিন পথে নেমেছিলেন প্রায় ৩,৫০০ যৌনকর্মী !!
আর এই ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেছিলেন সিগমা হুদা একটি প্রবন্ধে আর এখানেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি তার মতামত ব্যাক্ত করেছিলেন
উল্লেখ্য , ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে টানবাজারের গোরাপত্তন হয়েছিল ।
আর শুরু সালের একটা ছোটখাট সংখ্যাতত্বের হিসেব করি ফাজলামী হিসেবে ...
১+৮+৮+৮=২৫ ; ২+৫=৭ , অর্থাৎ শুরুর নম্বরটা যেহেতু ৭ তাই এর প্রভাব নিজস্ব ক্ষেত্রে শুভই হবার কথা !!
কিন্তু অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়েও ১৯৯৯ এর সেদিন তারা আর পারেনি , উচ্ছেদ হয়ত হয়েছিল , কিন্তু আইনতঃ বৈধকরনের জন্যে হয়তবা এই প্রতিষ্ঠানের সেইসব কর্মীদের জোর গলারই অবদান রয়েছে ।
আর এখানে , ১+৯+৯+৯=২৮ ; ২+৮= ১০ । অর্থাৎ ১ যার মান সংখ্যাতত্বে সবকিছুর উর্দ্ধে !!!
অফটপিক তথ্যঃ খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৪ সনে গ্রীসের এথেন্সে প্রথম নিষিদ্ধপল্লীর তথ্য পাওয়া যায় , যা লিপিবদ্ধ আছে ।
আর , বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড রেডলাইট এই অঞ্চল আছে ১৮ টি গত বছরের শুরুর দিকের হিসেবে , এবং অ-রেজিস্টারকৃত এর সংখ্যা ছোট ছোট ক্ষেত্র হিসেবে ধরলেও ঢাকাতেই শতকের আশেপাশেই ।

দেশের বৃহত্তম রেজিস্টার্ড নিষিদ্ধপল্লী হচ্ছে দৌলতদিয়ায় , যেখানে ১৬০০ মহিলা প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ জনের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন । প্রায় ২০ বছর আগে উন্মোচিত এই নিষিদ্ধ পল্লীর উপর একটি প্রতিবেদন যদি শুনতে ইচ্ছে করে তাহলে এখানে ক্লিক করে শুনে নিন । রিপোর্ট টি ১৪ই জানুয়ারী ২০০৮ এর
....................................................
এবার কিছু কথাঃ
সংখ্যায় যদিও সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয় , তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫,০০০ শিশু যৌনকর্মী সারাদেশে বিদ্যমান ।
কি !
সংখ্যাটা দেখে তাজ্জব না হয়ে জেনে রাখা দরকার প্রায় ২০,০০০ শিশুর জন্ম ১৮ টি রেজিস্টার্ড নিষিদ্ধপল্লীতে আর অজানা অচেনা গুলোতে ...
নিষিদ্ধপল্লীতে জন্ম নেয়া মেয়ে শিশুরা বয়স ১২ হতে না হতেই মায়ের দেখা দেখি এই পেশাতে জ়ড়াতে বাধ্য হয় আর ছেলেরা হয়ে ওঠে দালাল তথা খদ্দের শিকারী । হয়ত মেনে নেয়াটা অনেক কষ্টকর কিন্তু বাস্তবতা এটাই ।
যেখানে ২০০০ সালেই NGO দের হিসেবে ১,৫০,০০০ যৌনকর্মী ছিল বর্তমানে কত তা আমি অনুমান করে লিখতে পারছিনা ।
আর তাদের জীবনের ছন্নছাড়া গল্পগুলো কিভাবে লেখা যায় সেটাও হয়ত একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে ।
...............................
যারা অডিও ক্লিপটি শুনেছেন তারা ইতিমধ্যে হয়ত বেশ কিছু শুনলেন ।
তবে এটা ঠিক যে অধিকাংশ যৌনকর্মীর ইতিহাসই এখন শুরু হয় , অতি নিম্নবিত্তের পরিবার থেকে , যেখানে খাওয়া পরার চিন্তা নিয়ে বেড়ে উঠতে গিয়ে তাদের বাবা অথবা মা কে ভালকাজের লোভ দেখিয়ে পরে নিয়ে যাওয়া এবং পাচার করে দেয়া হয় নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ।
আমি ব্যক্তিগতভাবে যে দালাল এর সাথে কথা বলেছিলাম , সে আফসোস করছিল নতুন অল্পবয়সী মেয়েদের চাহিদার তুলনার স্বল্পতার কথা ভেবে । দ্রুত কিভাবে আনা হবে সেই ব্যাবস্থা করতেই সে ব্যস্ত ।
মাত্র ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ এর মধ্যে মেয়ে বিক্রী হয়ে যায় , আর এখানে তাদের দৈনিক গড় আয়ের পরিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কমই ।
গার্মেন্টস এর কর্মীদের কে সেখানে এখন সহজলভ্যভাবেই পাওয়া যায় , যা রীতিমত আশঙ্কাজনক হারে শুধু বাড়ছেই ।
অর্থনৈতিক মন্দা যদি সেভাবে আরো বৃদ্ধিপায় , এই সংখ্যা যে আরো বেড়ে যাবে সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।
তবে , এটা ঠিক যে এখন স্বাধীনভাবে অনেকেই এই পেশায় পার্টটাইম হিসেবে চলে আসে !!! শুধু অর্থাভাবই হয়ত মূল কারণ নয় , অনেকে শুধু মজার জন্যেই একাজ করে থাকেন । স্কুল-কলেজের মেয়েদেরকেও দেখা যায় , কোননা কোন ভাবে ম্যানেজ করে ফেলতে , আর তারা সকালে এসে সকালেই চলে যায় মোটামুটি মানের নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ।

আর , ভিন্নপরিস্থিতিতে দেখা যায় অনেকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে খরচ যোগাড়ের জন্যে এই পথে নেমে আসে । তারা ক্লাস মেইন্টেইন তথা নিজেদের অবস্থানকে একটু রেখে ঢেকে চলতে পারে কিন্তু দূর্লভ নয় , চেনার চোখ থাকলেই চেনা যায় এদেরকে ।

এরকম একজন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল । প্রথমে সবই ঠিক , তবে খেয়াল করেছিলাম যে সে যেভাবেই হোক না কেন একটা নির্দষ্ট সময় অনলাইনে থাকত । নক করলে কিছু বলত না ।
এরপর হঠাৎ একদিন জানিয়েছিল তার একটা সিচুয়েশনের কথা যেখানে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে সাহায্য করাটাই খুব স্বাভাবিক ছিল ।
অনেক কথা বলার পর বেরিয়ে এসেছিল বেশ কিছু অনাকাংখিত তথ্য ।
সত্য মিথ্যার সংমিশ্রনে আর তার চটুল অবস্থানের কারণে একটু উদ্ভটভাবে পরবর্তীতে আসল তথ্য জানাটা ছিল বেশ হতাশার ।

মাঝখানে একটা ওয়েবসাইট পেয়েছিলাম গতবছর , এস্কর্টসদের নিয়ে ।
সেখানে থাকা প্রোফাইল দেখে ভূয়া ভেবেছিলাম প্রথমে ।
মনে করেছিলাম , হয়ত ফাজলামী করে কেউ করেছে এসব ।
তো দেশের বাইরে থেকেই প্রথম কয়েকটা নম্বরে কল দিয়েছিলাম , এবং এরপর যা হয়েছিল সেটা আমাকে আসলেও বেশ অবাক করেছিল সেদিন , মিষ্টি অভিবাদন জানিয়ে সাড়া দেয়া ... এরপর বলেছিলাম " কোথায় পাওয়া যাবে ? " সে উত্তরে বলেছিল ঢাকা চট্টগ্রাম দু'জায়গাতেই সম্ভব আর তাকে কত দিতে হবে এই প্রশ্নের জবাবে সে বলেছিল আলোচনা সাপেক্ষ ।

এরপর অনলাইনে যাদের কে এ্যাড করেছিলাম , এরমধ্যে বেশ কয়েকটি খুব ভাল রেস্পন্স করেছিল ।
একজন ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে বলেছিল ।
গুলশানের গৃহবধু বলে নাকি এটাই তার জন্যে সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা ! প্রথমে আস্বস্ত হবার জন্যে একটু বাজিয়ে দেখেই পরে ঝটপট বলেছিল একটি নির্দিষ্ট মেইল এ্যাড এ মেইল দিতে তার প্রোফাইলের জন্যে ।
আমি মেইল দেবার আধা ঘন্টার মধ্যেই রিপ্লাই পেয়েছিলাম । $১০০ এর প্রোফাইল !!
উল্লেখ্যঃ এরা ছদ্মনাম ব্যাবহার করে এটাও যেমন ঠিক , আবার অনেকে একটু ফ্রী হলেই বিশ্বস্ততার উপরে নির্ভর করতে পারলে আসলটাও জানিয়ে দিতে দ্বিধা করেনা ।
মেইলের ভেতরে যে প্রোফাইল ছিল সেখানে কিছু কিছু শর্তাবলীও ছিল এরকম
মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড ফাইলে একটা নাম পেলাম জনৈক মোঃ মজিবুর রহমান । হয়ত সেই ব্যক্তির কম্পিউটারে লেখা অথবা সেই লোকই রচয়িতা হয়তবা সেই লোকই দালাল !! কে , জানে !!

এভাবেই সমাজের বিভিন্ন স্তরেই রয়েছে এই এক বিশেষ গোষ্ঠী । জীবিকার তাগিদে তাদের ভারসাম্য আনতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ।
দেহের মূল্য কত এই প্রশ্নটি এখানে অবিবেচ্য ।
কারণ , এর চেয়ে অনেক বেশি কিছুই জড়িয়ে আছে এর সাথে ।

.............................................

ঢাকায় ঘোষিত নিষিদ্ধপল্লীগুলোতে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পুলিশের চাঁদাজনিত আনাগোনায় ব্যাস্ত থাকে বলে কেউ যদি দেখার জন্যেও যেতে চান , একটা পরিচয় নিয়ে যাওয়া ভাল যাতে কেউই না থামিয়ে উলটো সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয় ।

আর দেশে যে প্রচলিত আইন আছে তার তিনটি ধারা নিম্নরূপঃ
“ Section 364A - Whoever, kidnaps or abducts any person under the age of ten, in order that such a person may be or subjected to slavery or to the lust of any person shall be punished with death or with imprisonment for life or for rigorous imprisonment for a term which may extend to 14 years and may not be less than 7 years. ”
“ Section 366A - Whoever, by any means whatsoever, induces any minor girl under the age of eighteen years to go from any place or to do any act with the intent that such a girl may be or knowing that it is likely that she will be, forded or seduced to illicit intercourse with another person shall be punishable with imprisonment which may extend to 10 years and shall also be liable to fine. ”
“ Section 373 - Whoever buys, hires or otherwise obtains possession of any person under the age of eighteen years with the intent that such person shall at any age be employed or used for the purpose of prostitution or illicit intercourse with any person or knowing it likely that such person will at any age be employed or used for such purpose with imprisonment of either description for a term which may extend 10 years and fine. Any prostitute or any person keeping or managing a brothel, who buys, hires or otherwise obtains possession of a female under the age of 18 years, shall until the contrary is proved, be presumed to have obtained possession of such female with the intent that she shall be used for the purpose of prostitution. ”

আইন থাকলেও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ এখনো হয়না , আর এরপরেও যে হারে সব তোয়াক্কা করে দেশে শিশু এবং নারী যৌনকর্মী এবং তাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে তা নিজ চোখে দেখলেও হয়ত ভেতর টা অনুভব করা সম্ভব নয় ।
...................................................
Inside the slave trade শিরোনামের এই প্রামাণ্য প্রতিবেদনটি বেশ তথ্য সমৃদ্ধ
এখানে বাংলাদেশের পতিতাবৃত্তি নিয়ে কিছু হাল্কা গবেষণামূলক লেখা আছে

এখানেই আপাততঃ শেষ করছি ।
এই বিষয়টা নিয়ে আর কিছু লেখার থাকলেও , তা আর কোনদিন লিখবনা ।
এই লেখা লিখতে হয়তবা যত্নের ঘাটতি ছিল , সেজন্যে পাঠকের কাছে আগেই নিজে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি ।
মন্তব্য:
তামিম ইরফান বলেছেন, : আমি আমার ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি। জার্নালিজম কোর্স করার সময়(আমাদের ইংলিশে ডিপার্টমেন্টের এইটা বাধ্যতামুলক কোর্স) আমার এ্যাসাইনমেন্ট টপিক ছিলো প্রষ্টিটিউশন।তখন কাজ কারার সময় বিভিন্ন পতিতাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিলো।

একজন নীচের লেভেলের পতিতার আয় গড়ে প্রতিদিন ১৫০-২০০ টাকা(রেট ৩০০ টাকা।এখান থেকে ১০০ টাকা যায় হোটেল মালিকের কাছে,৫০ টাকা দালালের কমিশন,৫০ টাকা পুলিশ ও অন্যান্য,প্রতিদিন ৫-৮ জন গ্রাহক)
এর একটু উপরের লেভেলের আয় ৩৫০-৪৫০ (রেট ৭০০-১৫০০)....।এদের বিভিন্ন রেস্ট হাউজে দেখা যায় বিশেষ করে বারিধারা।
হাই লেভেলের রেট (৩ জনের সাথে কথা বলার সুযোগ হইছিলো।এদের মধ্যে একজন ছিলো বিশিষ্ট একজন শিল্পপতির মেয়ে.....টাকার অভাব নাই তার কিন্তু সে পেশায় আসছে কারন এটা কে একটা এ্যাডভেন্জ্ঞার মনে করে.....তার বোরিং লাইফে এইটা একটা বিনোদন)৫০০০-১০০০০০।এখানে বাংলা সিনেমার নায়িকা,মডেলও আছে।
১২০ পেজের একটা এ্যাসাইনমেন্ট ছিলো।কাজটা করতে গিয়ে এমন সব অভিজ্ঞতা হইছে যে আমার সারাজীবনও এমন অভিজ্ঞতা হবে কি না সন্দেহ আছে।