Saturday, December 26, 2009

সুমন্ত্র

0 comments
মহারাজা দশরথের আটজন অমাত্যের অন্যতম। সুমন্ত্র ছিলেন সূতজাতীয়, মহারাজের রথচালক। রামায়ণের বর্ণনামতে, তিনি কেবল দশরথেরই নয়, রাম, ভরতসহ অনেকেরই প্রধান সহায়ক ছিলেন। রাম সুমন্ত্রকে সম্মান করতেন। সুমন্ত্রও ছিলেন রামের বিশেষ শুভানুধ্যায়ী। রামের বনবাসের সময় দশরথের মতো তিনিও শোকার্ত হন। দশরথের শোকাহত অবস্থা দেখে সুমন্ত্র কৈকেয়ীকে ভর্ৎসনা করে বলেন যে, কৈকেয়ী পতিঘাতিনী। কৈকেয়ীর মা-ও যে স্বামীর প্রাণনাশ করতে চেয়েছিলেন, সে ঘটনাও সুমন্ত্র জানতেন। সুমন্ত্র কৈকেয়ীকে বলেছিলেন, তিনি যেন তার মা নন। দশরথের নির্দেশে সুমন্ত্র রথে করে রামকে অরণ্যে নিয়ে গেছেন। ফিরে যাওয়ার পথে যখন সুমন্ত্র কাঁদছিলেন, তখন রাম তাকে বললেন যে, সুমন্ত্রের মতো সুহৃদ ইক্ষ্বাকুবংশে আর কেউ নেই।
ফিরে এসে সুমন্ত্র দশরথ, কৌশল্যা ও সুমিত্রাকে রাম-সীতা-লক্ষ্মণকে বনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিস্তারিতভাবে বলেন।
এরপর ভরত যখন রামকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন, তখন সুমন্ত্রও ভরতের সঙ্গে ছিলেন। উত্তরকাণ্ডে সীতার নির্বাসনের সময়ও লক্ষ্মণের সঙ্গে সুমন্ত্র ছিলেন। তিনিই লক্ষ্মণকে সীতার জন্য দুঃখ করতে বারণ করেছিলেন। মহামুনি দুর্বাসা ওদের জীবন সম্পর্কে কী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সে কথা জানিয়ে সুমন্ত্র লক্ষ্মণকে প্রবোধ দেন।

0 comments:

Post a Comment