Monday, May 31, 2010

চাঁপাই নবাবগঞ্জ

0 comments
উত্তরবঙ্গের আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হয় এ জেলাতেই। এ জেলার সর্বত্রই মাইলের পর মাইল জুড়ে ছড়িয়ে আছে আমবাগান। এ জেলাতে আছে প্রাচীন গৌড়ের নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ জেলার উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা অবস্থিত। মহানন্দা এ জেলার প্রধান নদী। রাজধানী থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের দূরত্ব ৩১৭ কিলোমিটার।

মহানন্দা নদী ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মহানন্দা নদী। এককালের প্রমত্তা মহানন্দা এখন অনেকটা মরে গেলেও এর সৌন্দর্য কমেনি কোনো অংশে। নদীর উপরে শহরের কাছেই রয়েছে মহানন্দা সেতু। আমের সময়ে শহরের থানাঘাটে প্রতিদিন সকালবেলা দূর-দূরান্ত থেকে অনেক নৌকা ভিড় জমায়। খুব ভোরে শুরু হয়ে এ বাজার, বেলা ওঠার কিছু পরেই শেষ হয়ে যায়। সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে দিনে দিনে নৌকার সংখ্যা কমে আসছে এ বাজারে।

কোতোয়ালি দরওয়াজা ঃ ভারত- বাংলাদেশের সিমান্তে ছোট সোনা মসজিদ স্থল বন্দর থেকে ভারতের প্রবেশপথে অবস্থিত। নগর পুলিশের ফারসি প্রতিশব্দ কোতওয়ালের অনুকরণে এর নামকরণ। এ নগর পুলিশ প্রাচীন গৌর নগরীর দক্ষিণ অংশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল বলে জানা যায়। প্রবেশপথের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে ছিদ্র আছে। এগুলি দিয়ে শত্রুর ওপর গুলি কিংবা তীর ছোড়া হতো বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। কোতোয়ালি দরওয়াজাটি সাধারণভাবে কাছে গিয়ে দেখার উপায় নেই। সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে দাঁড়িয়ে কেবল দূর থেকে দেখা সম্ভব। কারণ এটি ভারতের অংশে পড়েছে।

খনিয়াদিঘি মসজিদ ঃ সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পূর্ব দিকের সড়ক ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সড়কের বাম পাশে আমবাগানের ভেতরে খনিয়া দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত মসজিদটি। ইটের তৈরি এ মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। প্রার্থনাকক্ষের ঠিক উপরে বিশাল আকারের এ গম্বুজটির অবস্থান। মসজিদের মূল প্রার্থনা কক্ষের বাইরে একটি বারান্দা আছে। বারান্দা থেকে মূল প্রার্থনাকক্ষে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি দরজা। পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি মেহরাব। মাঝের মূল মেহরাবটি অন্য দুটি অপেক্ষা বড়। পুরো মসজিদটি এক সময় টেরাকোটায় আচ্ছাদিত ছিল, যার অনেকগুলো এখনো বিদ্যমান।

ধুনিচক মসজিদ ঃ খনিয়াদিঘি মসজিদের প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি মসজিদ। মসজিদটির উত্তর ও দক্ষিণের দেয়াল এবং ভেতরের পাথরের স্তম্ভ এখনো টিকে আছে। ছাদ এবং পূর্ব দেয়াল পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইটের তৈরি এ মসজিদটি আয়তকার। মসজিদটির নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে নির্মাণশৈলী বিবেচনায় এ মসজিদটিও পনেরো শতকের শেষের দিকে ইলিয়াস শাহী আমলে নির্মিত।

দরসবাড়ি মাদ্রাসা ঃ সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের পশ্চিম পাশে অবস্থিত প্রাচীন একটি মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ। চারপাশে প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বর্গাকৃতির এ স্থাপনাটিতে চল্লিশটি কক্ষ ছিল। ৪১.৫ মিটার আঙিনার চার পাশে ঘিরে ছিল ৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে বর্গাকৃতির এ কক্ষগুলো। এখানে একটি ঢিবির কাছে চাষ করার সময় কৃষকরা কয়েকটি ইট নির্মিত প্রাচীর ও একটি শিলালিপির সন্ধান পান। এ কারণে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর সেখানে ১৯৭৪-৭৫ সালে পরীক্ষামূলক খনন কাজ চালায়। আর সে খননের ফলেই আবিষ্কৃত হয় মাদ্রাসাটির ভিত্তির। শিলালিপি থেকে জানা যায় মাদ্রাসাটি সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫০৬ সালে নির্মাণ করেছিলেন। দরস অর্থ শিক্ষা আর দরসবাড়ি অর্থ শিক্ষাকেন্দ্র। আর দরসবাড়িই কালক্রমে দারাসবাড়ি নামে রূপান্তরিত হয়েছে।

দরসবাড়ি মসজিদ ঃ দরসবাড়ি মাদ্রাসা থেকে সামান্য পশ্চিমে বড় একটি পুকুরের ওপারে অবস্থিত দরসবাড়ি মসজিদ। কলকাতার ইণ্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত এ মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায় ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ কর্তৃক নির্মিত হয় মসজিদটি। এর বাইরের দিকের পরিমাপ দৈর্ঘ্য ৩৪ মিটার এবং প্রস্থ ২০.৬ মিটার। আর ভেতরের দিকের দৈর্ঘ্য৩০.৩ এবং প্রস্থ ১১.৭ মিটার। মসজিদটির ছাদ বহু আগে ভেঙে পড়েছে। আর সামনে ভেঙে পড়া বারান্দার ধ্বংসাবশেষ আছে। বাংলার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংবলিত এ মসজিদের বাইরে ও ভেতরে লাল ইটের এবং পাথরের টেরাকোটা স্থান পেয়েছে। মসজিদের দুটি অংশ- একটি সামনের বারান্দা এবং পশ্চিমে মূল প্রার্থনা কক্ষ ।

তাহ্খানা ঃ সোনা মসজিদ স্থলবন্দর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সোনা মসজিদের পশ্চিম পাশে কিছুটা ভেতরের দিকে বিশাল একটি দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত পাশাপাশি তিনটি প্রাচীন স্থাপনা। এর সর্বদক্ষিণেরটি হলো তাহখানা। ভবনটিতে বেশ কয়েকটি কক্ষ ছিল। ভবনটির লাগোয়া পূর্ব দিকে আছে দিঘি। দিঘির ভেতর থেকেই ভিত্তি গড়ে ভবনটির পূর্বাংশ তৈরি করা হয়েছিল। এর নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে জনশ্রুতি আছে সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজা ১৬৫৫ সালে ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন তার বসবাসের জন্য। আবার কারো কারো মতে শাহ সুজা গৌড় অঞ্চলে বসবাসকারী তার পীর শাহ নিয়ামত উল্লাহর জন্য এ ভবন নির্মাণ করেন।

শাহ নিয়ামত উল্লাহ মসজিদ ঃ তাহ্খানা লাগোয়া উত্তর পাশের তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদটির পূর্ব দিকে একটি খোলা আঙিনার চার পাশে আছে অনুচ্চ দেয়াল। পূর্ব দেয়ালের মাঝামাঝি জায়গায় আছে তোরণসহ প্রবেশপথ। মসজিদটির পূর্ব দেয়াল তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে প্রবেশপথ আছে। মসজিদটি নির্মাতা কে ছিলেন সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে জনশ্রুতি আছে সম্রাট শাহজাহান শাহ নিয়ামত উল্লাহকে বছরে পাঁচ হাজার টাকা আয়ের একটি সম্পত্তি দান করেন। তিনি ৩৩ বছর এ সম্পত্তি ভোগদখল করেন এবং এর আয় থেকে তার খানকার ব্যয় নির্বাহ করে উদ্বৃত্ত অংশ দিয়ে এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

শাহ নিয়ামত উল্লাহর সমাধি ঃ মসজিদের লাগোয়া উত্তর দিকের ভবনটি শাহ নিয়ামত উল্লাহর সমাধি। প্রায় তিন বিঘা জায়গাজুড়ে সমাধি এলাকার বেস্টনী প্রাচীর । দক্ষিণ দেয়ালে আছে প্রবেশপথ। এখান থেকে পাকা পথ ধরে কিছুটা সামনেই সমাধিসৌধ। সৌধটির চারপাশে রয়েছে পাথরে বাঁধানো বেশ কিছু কবর। দিল্লির করনৌল প্রদেশের অধিবাসী শাহ নিয়ামত উল্লাহ ছিলেন একজন সাধক পুরুষ। কথিত আছে, ভ্রমণের প্রতি তার ছিল প্রবল ঝোঁক। ভ্রমণ করতে করতে একসময় তিনি এসে উপস্থিত হন গৌড় এলাকায়। শাহ সুজা তখন বাংলার সুবাদার। শাহ সুজা নিয়ামত উল্লাহর সাক্ষাতে মুগ্ধ হন। এরপর তিনি এ জায়গায় বসবাস শুরু করেন। ১৬৬৪ সালে এখানেই তিনি মারা যান। তবে তার কবরের উপরে সৌধটি কে নির্মাণ করেন, সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায় না।

ছোট সোনা মসজিদ ঃ তাহ্খানা থেকে পূর্বপাশে প্রধান সড়ক লাগোয়া অবস্থিত সুলতানি স্থাপত্যের রতœ হিসেবে খ্যাত ছোট সোনা মসজিদ। কালোপাথরে নির্মিত এ মসজিদটির স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য খুবই আকর্ষণীয়। প্রধান প্রবেশপথের উপরে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস মনসুর ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপি থেকে নির্মাণের তারিখ সংবলিত অক্ষরগুলো মুছে যাওয়ায় মসজিদটি নির্মানের সঠিক তারিখ জানা যায় না। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ-এর নাম থাকায় ধারণা করা হয় মসজিদটি তাঁর রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোনো এক সময় নির্মিত।

মসজিদটির মূল ভবনটি আয়তকার। বাইরের দিকে উত্তর-দক্ষিণে ২৫.১ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫.৯ মিটার। পূর্ব দিকের সম্মুখভাগে পাঁচটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশপথ আছে। পূর্ব দেয়ালের প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালের অভ্যন্তরে পাঁচটি অর্ধবৃত্তকার মেহরাব রয়েছে। মসজিদের পূর্বপাশে একটি পাথরের প্লাটফর্মের উপরে দুটি সমাধি রয়েছে। এখানে কারা সমাহিত হয়েছেন তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ঐতিহাসিক কানিংহাম সমাধি দুটি মসজিদের নির্মাতা ওয়ালী মুহাম্মদ ও তার পিতা আলীর বলে মনে করেন। মসজিদ প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দুটি আধুনিক সমাধি রয়েছে, যার একটিতে সমাহিত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।

কানসাট বাজার ঃ সোনামসজিদ থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ ফেরার পথে পড়বে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের বাজার কানসাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বাজারে চলে আমের বিকিকিনি। দূর-দূরান্ত থেকে সাইকেল কিংবা রিকশা-ভ্যানে করে আম নিয়ে সকাল থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন আম চাষিরা। বাজারটি ঘুরে দেখতে পারেন।

আমবাগান ঃ মহানন্দা সেতু পেরিয়ে সোনা মসজিদ স্থল বন্দর পর্যন্ত সড়কের দুপাশে যে দিকে চোখ যাবে সেদিকেই শুধু আম বাগান আর আম বাগান। পছন্দের যে কোনো বাগোনে নেমেই ঘুরে দেখতে পারেন।

কখন যাবেন ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জে সারা বছরই বেড়ানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মে থেকে জুলাই। কারণ এ সময়ে জেলার সর্বত্র আম বাগানগুলোতে ফলে পূর্ণ থাকে।

কীভাবে যাবেন ঃ রাজধানী থেকে সরাসরি সড়কপথে চাঁপাই নবাবগঞ্জ যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে ছাড়ে এ পথের বাসগুলো। এ পথের বাস সার্ভিস হলো- মডার্ন এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১২২৮২১৭), ন্যাশনাল ট্রাভেলস (০১৭১১২২৮২৮৬), হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৮১৩০৪৯৫৪৩), লতা পরিবহন, দূর-দূরান্ত পরিবহন ইত্যাদি বাসগুলো সরাসরি যায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে এ পথের বাসগুলো। ভাড়া ৩০০-৩২০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কানসাট, সোনামসজিদ স্থল বন্দরে যাবার জন্য লোকাল ও বিরতিহীন বাস সার্ভিস আছে। ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা।

কোথায় থাকবেন ঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের শান্তি মোড়ে হোটেল আল নাহিদ (০৭৮১-৫৫৭০১-৩, ০১৭১৩৩৭৬৯০২), আরামবাগে হোটেল স্বপ্নপুরী (০৭৮১-৫৬২৫০), লাখেরাজ পাড়ায় হোটেল রাজ (০৭৮১-৫৬১৯৩), একই এলাকায় হোটেল রংধনু (০৭৮১-৫৫৮০৭)। এছাড়াও আরো বেশ কিছু হোটেল আছে এ শহরে। এসব হোটেলে ২০০-১০০০ টাকায় অবস্থান করা যাবে।

ফোন ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা (০৭৮১-৫৫২২০), সদর হাসপাতাল (০৭৮১-৫৫২০৭), ফায়ার সার্ভিস (০৭৮১-৫৫২১২)।

Saturday, May 29, 2010

Musa Ibrahim

0 comments
 Musa Ibrahim is the first mountain climber of Bangladesh. He was born in 1979 at Lalmonirhat's Mogolhat villege. His fathers name is Md. Ansar Ali and mothers name is Bilkis Beguam. His wife a Judge of Mymensing district name Soraban Tohura.
To know more about him go here

রেকর্ড বুকে এভারেস্ট

0 comments
প্রথম শৃঙ্গ জয় : ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের তেনজিং শেরপা সর্বপ্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।
একা : সর্বপ্রথম একা এভারেস্ট জয় করেন ইতালির পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার, ২০ আগস্ট ১৯৮০ সালে।

শীতে : শীতকালে সর্বপ্রথম এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন পোলিশ পর্বতারোহী লেসজেক চিচি ও ক্রিস্টোফ উইলিস্কি, ১৭ ফেব্র“য়ারি ১৯৮০ সালে।

নারী : ১৯৭৫ সালের ১৬ মে জাপানের জুনকো তাবেই প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।

অক্সিজেন ছাড়া : ৮ মে ১৯৭৮ সালে পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার ও পিটার হ্যাবেলার অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন! যা একসময় অসম্ভব ভাবা হতো।

বুড়ো : ২০০৮ সালের ২৫ মে সবচেয়ে বেশি বয়সে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন নেপালের বাহাদুর শেরচান (৭৬)। সবচেয়ে কম বয়সে এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েন যুক্তরাষ্ট্রের জর্ডান রোমেরো (১৩) গত শনিবার।

২০ বার : সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের রেকর্ড নেপালের আপা শেরপার। গত শনিবার তিনি ২০ বারের মতো ওই চূড়ায় পা রাখেন।

বাঙালি : প্রথম বাঙালি হিসেবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও বসন্ত সিংহ রায়।

সবচেয়ে দ্রুত : সবচেয়ে দ্রুত এভারেস্টে ওঠার রেকর্ড অস্ট্রিয়ান ক্রিস্টিয়ান স্টেনগালের। বেইস ক্যাম্প থেকে চূড়ায় পৌঁছতে তিনি সময় নেন মাত্র ১৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালে।

সবচেয়ে দ্রুত চূড়া থেকে নেমে আসার রেকর্ডটি ফ্রান্সের জ্যঁ-মার্ক বোয়াভিনের। তিনি প্যারাগ্লাইডিং করে মাত্র ১১ মিনিটে নেমে আসেন বেস ক্যাম্পে।

চূড়ায় অবস্থান : সবচেয়ে বেশি সময় চূড়ায় অবস্থানের রেকর্ড নেপালের বাবু চিরি শেরপার। তিনি সাড়ে ২১ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

অভিযাত্রীর মৃত্যু : এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখতে গিয়ে ২০০৯ সালের শেষভাগ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ’ অভিযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

বিপজ্জনক এলাকা : খুম্বু আইস ফল। সেখানে ১৯ জন অভিযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

অভিযাত্রী দল : এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিযাত্রী দল এভারেস্ট জয়ে গেছে চীন থেকে। ১৯৭৫ সালে ৪১০ জনের একটি অভিযাত্রী দল ওই অভিযানে অংশ নেয়।

প্রথম মৃত্যু : এভারেস্টে চড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। অফিশিয়ালি প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৯২২ সালে। এ সময় হিমবাহ ধসে মারা যান সাত শেরপা।

খোঁড়া হয়েও চূড়ায় : ১৯৯৮ সালে বিশ্ববাসীকে চমকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টমাস হুইটাকের। একটা কৃত্রিম পা নিয়েও দুর্গম এভারেস্টকে পরাভূত করেন তিনি।

প্রথম অন্ধ : ২০০১ সালের ২৫ মে প্রথম অন্ধ ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এরিক ভিয়েনমায়ার।

সবচেয়ে কম বয়সে : এ বছরই ২২ মে ঘটনাটা ঘটান আমেরিকান এক কিশোর। জর্ডান রোমেরা নামের এই কিশোরের বয়স মাত্র ১৩ বছর।

Friday, May 28, 2010

ব্যান্ডউইডথ

0 comments
ব্যান্ডউইথ শব্দটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটের ভিজিটররা একটি ওয়েবসাইটের যতটুকু পরিমাণ ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পান তা-ই ব্যান্ডউইথ। সাধারণত ওয়েবসাইটে ডেটা হোস্টিং করার জন্য যতটুকু স্পেস থাকে তার ১০ গুণ পরিমাণ ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ থাকে ওয়েবসাইটটিতে। যদি ওয়েবসাইটটির জন্য নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইথ সীমা পার হয়ে যায়, তবে ওয়েবসাইটটি খোলা সম্ভব হয় না। অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইথ সীমা পার হয়ে গেলে 'ব্যান্ডউইথ লিমিট একজিডেড' বার্তা প্রদর্শন করে।

Thursday, May 27, 2010

বিশ্বের প্রথম সাহিত্য

0 comments
পৃথিবীর প্রাচীনতম সাহিত্য হিসেবে ৩৫০০-২৫০০ খ্রিস্টপূর্ব যুগের মিশরীয় কতকগুলো ছোট ছোট লোকগানের কলি আজ স্বীকৃত। এই গানগুলো বিভিন্ন সমাধিফলকের দেয়ালে হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে খোদাই করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে পুরনোটি ৩৩০০ খ্রিস্ট্রপূর্ব সময়ের। একই ধরনের গান এক বা দুই শতক আগে অপেক্ষাকৃত কম টেকসই মাধ্যম পেপিরাসে লেখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কোনো দেশেই এত আগে সাহিত্যের সূচনা হয়নি।

নগোর্নো কারাবাখ

0 comments
আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যবর্তী একটি বিতর্কিত ছিটমহল হলো নাগোর্নো কারাবাখ। এই ছিটমহলটি আর্মেনিয়ার বংশদ্ভূত খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি। স্থানটি আর্মেনিয়ার দখলে ছিল। তবে ১৯২৩ সালে তৎকালীন শাসক লেলিন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রশাসনিক কারণে এই ছিটমহলটিকে আর্মেনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করে। মূলত এরপর থেকেই খ্রিস্টান জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯৮১ সালে এই ছিটমহলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব সংর্ঘষে রূপ নেয়। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টির ওপর হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর পুনরায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে অনেক লোক নিহত ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। আজারবাইজানের তুলনায় আর্মেনিয়া সামরিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী, বিধায় আর্মেনিয়া আজারবাইজানের নিকট থেকে ছিটমহলটি দখলের চেষ্টা চালায়।

নওগাঁ

0 comments
প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরপুর নওগাঁ জেলার ইতিহাস গৌরবে গাঁথা। এখানে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ বিহার পাহাড়পুর। বহু পুরাতন ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নে সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী নওগাঁ জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত।

নামকরণের ইতিহাস

নওগাঁ জেলার নামকরণে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। নওগাঁ গ্রামের নাম থেকে সম্ভবত নওগাঁর উৎপত্তি। ধারণা করা হয়, বর্তমান জেলা সদর প্রাথমিক পর্যায়ে নয়টি গ্রামের সমন্বয়ে একটি মৌজার অন্তর্গত ছিল। প্রচলিত আছে যে, ইংরেজি Nine-এর বাংলা রূপ Nao অর্থাৎ নয় এবং village-এর বাংলা রূপ Gaon অর্থাৎ গাঁ। জেলাটির নামকরণ সম্ভবত Nao এবং Gaon -এর সম্বয়েই Nao gaon বা নওগাঁ নামে রূপান্তরিত হয়। মতান্তরে সন্নিহিত নয়টি চক বা জনবসতির সমন্বয়ে গঠিত হয় নয়গাঁ। এই নয়গাঁ-ই কালক্রমে নওগাঁ নামে রূপান্তিরত হয়।

আয়তন ও অবস্থান

আয়তনের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা বাংলাদেশের ১৩তম বৃহত্তম জেলা। এই জেলার মোট আয়তন ৩৪৩৫.৬৭ বর্গ কিমি, যা সমগ্র বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১.৯৩%। ভোগোলিকভাবে নওগাঁ জেলা ২৪০৩র্২ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৫০১র্৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০২র্৩ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৮৯০১র্০ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। জেলাটির উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য; দক্ষিণে নাটোর ও রাজশাহী জেলা; পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।

নদ-নদী
আত্রাই, পুনর্ভবা, ছোট যমুনা, চিড়ি, তুলসীগঙ্গা।
প্রশাসনিক পটভূমি
১৮৬৬ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলার অধীনে নওগাঁ মহকুমা গঠিত হয়। প্রথমে নুরুল্লাবাদ সদর দপ্তর স্থাপিত হলেও ১৮৮২ সালের ৯ জুন এক আদেশবলে মহকুমা নওগাঁয় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৪ সালে নওগাঁ মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ১১টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা, ৯৯টি ইউনিয়ন, ২৫৬৫টি মৌজা, ২৭৯৫টি গ্রাম রয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে ধামইরহাট, সাপাহার, পতœীতলা, পোরশা, বাদলগাছি, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, নওগাঁ সদর, মান্দা, রানীনগর ও আত্রাই।
জলবায়ু
সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৭.৮০ সে এবং সর্বনিম্ন ১১.২০ সে। মোট বৃষ্টিপাত ১৮৬২ মিমি।
দর্শনীয় স্থানসমূহ
উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে রয়েছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, জগদ্দল বিহার, দুবলহাটি রাজাড়ি, বলিহার রাজবাড়ি, কাশিমপুর রাজবাড়ি, বালুভার মন্দির, পাল আমলের স্মৃতিস্তম্ভ, দিব্যক স্মৃতিস্তম্ভ, কুশুম্বা মসজিদ, রবীন্দ্রনাথের কাছারিবাড়ি, ভীমের পাল্টি ইত্যাদি। এছাড়া নওগাঁর নির্জন, নিরিবিলি, মনোরম পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে খুঁজে পাওয়া যায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
সড়কপথে ঢাকা থেকে নওগাঁয় যাওয়ার জন্য দূরপাল্লার পরিবহন আছে। হানিফ, কেয়া, শ্যামলী, এসআর প্রভৃতি পরিবহন চলে এ পথে। ঢাকা থেকে নওগাঁর দুরত্ব ২৩৩ কিমি। সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা।
এস এম রাজু

নিউজিল্যান্ড

0 comments
দক্ষিণের গ্রেট ব্রিটেন নামে খ্যাত, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০০০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বদিকে ভাসমান সাগরে অবস্থিত অসংখ্য ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত, ওশেনিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ। দেশটির পরিবেশ ও প্রাণিকুল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
নামকরণের ইতিহাস
ইউরোপীয়দের আগমণের পূর্বে দেশটির নাম ছিল মাওরিব। ২০ শতকের পূর্ব পর্যন্ত উত্তর দ্বীপটি আওটেয়ারোয়া নামে পরিচিত ছিল। আওটেয়ারোয়ার অর্থ হলো ‘দীর্ঘ সাদা মেঘের ভূমি’। সাধারণ অর্থে আওটেয়ারোয়ার ইংরেজি হলো নিউজিল্যান্ড। অন্য একটি তথ্য থেকে জানা যায়, ডাচ কার্টোগ্রাফার নেদারল্যান্ডের জিল্যান্ড প্রদেশের নামানুসারে এর নাম রাখেন নোভা জিল্যান্ডিয়া।
ঐতিহাসিক পটভূমি
৮০০ সালে পলিনেশীয় বংশোদ্ভূত মাওরিরা নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে। ১৮৪০ সালে দেশটি ব্রিটেনের সঙ্গে যুক্ত হয়। জনপ্রিয় নেতা ওয়াইটংগাই রানী ভিক্টোরিয়ার ওপর সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করেন। একই বছরে ব্রিটিশরা এখানে প্রথম উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৮৪৩ থেকে ১৮৭২ সালের যুদ্ধে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পরাভূত হয়। ১৯০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা স্বাধীনতা লাভ করে এবং উভয় বিশ্বযুদ্ধেই তারা যুক্তরাজ্যের সৈন্য বাহিনীকে সমর্থন করে। নিউজিল্যান্ডের সামরিক বাহিনী মিত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত যুক্ত থাকে।
দ্বীপসমূহ
এন্টিপোডান দ্বীপপুঞ্জ, অকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, বাউন্টি দ্বীপপুঞ্জ, ক্যাম্পবেল দ্বীপ, চাথাম দ্বীপপুঞ্জ, কার মেডিক দ্বীপপুঞ্জ।
অবস্থান ও আয়তন
৪১০১র্৭ দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং ১৭৪০২র্৭ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তরে ফিজি ও টোঙ্গা।
দেশটির আয়তন প্রায় ২৬৪০২১ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের ৭৪তম বৃহত্তম দেশ।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা
অধীনস্থ ১৬টি রাজ্য ৫৭টি জেলা আছে।
উচ্চতম ও নিম্নতম স্থান
দেশটির উচ্চতম স্থান হচ্ছে মাউন্ট কুক, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৩৪৯ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এবং নিম্নতম স্থান হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ সমতল।
জলবায়ু
প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ, তবে অঞ্চলভেদে বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
প্রধান নদী
ওয়াকাটো, ক্লুথা।
প্রাকৃতিক সম্পদ
প্রাকৃতিক গ্যাস, আকরিক লোহা, বালু, কয়লা, কাঠ, সোনা, চুনাপাথর।
রাষ্ট্রীয় নাম: নিউজিল্যান্ড
রাজধানী: ওয়েলিংটন
জাতীয়তা: নিউজিল্যান্ডার
আয়তন: ২৬৪০২১ বর্গ কিমি
আন্তর্জাতিক সীমান্ত: চতুর্দিকে সমুদ্র, কোনো স্থল সীমান্ত নেই। মোট সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি ১৫১৩৪ কিমি।
ধর্ম: অ্যাঙ্গলিকান (২৬%), প্রেসবিটেবিয়ান (১৮%), রোমান ক্যাথলিক (১৫%), মেথোডিস্ট (৫%), ব্যাপটিস্ট (২%) অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট (৩%), অধর্মাবলম্বী (৩৩%)।
জনসংখ্যা: ৪৩ লক্ষ
মুদ্রা: নিউজিল্যান্ড ডলার (NZ)জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ: ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫
জাতীয় দিবস: ৬ ফেব্রুয়ারি
ভাষা: ইংরেজি, মাওরি
সরকার পদ্ধতি: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
সরকার প্রধান: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় খেলা: রাগবি
জাতীয় পাখি: কিউই
স্বাধীনতা লাভ: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯০৭ (যুক্তরাজ্য থেকে)

Wednesday, May 26, 2010

গরমে চুলের যত্ন

42 comments
ধুলাবালি, রোদের তীব্রতা আর ঘামে চুলগুলো কি প্রাণহীন মনে হচ্ছে? চিন্তা নেই, দেখে নিন রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানার দেওয়া পরামর্শ।
‘রোদের তাপ, ধুলাবালুর অত্যাচারে এ সময় আমাদের চুল হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ। চুলের গোড়া ঘেমে চুল হয়ে ওঠে আঠালো। রোদের তাপে চুলে পোড়াটে ভাব, ডগা ফাটা, চুল পড়া এসব সমস্যা তো আছেই। তাই এ সময় চুলের জন্য চাই বাড়তি পরিচর্যা।’ বলছিলেন রাহিমা সুলতানা। তাঁর মতে, এ সময় প্রথম গুরুত্ব দিন চুলের পরিচ্ছন্নতার দিকে। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। শুষ্ক, স্বাভাবিক, তৈলাক্ত, কোঁকড়া, রিবন্ড, রং করা চুলের ধরন বুঝে আলাদা আলাদা শ্যাম্পু বেছে নিন। শ্যাম্পু করার আগে ভালো করে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন। প্রথমে চুল ভালোভাবে পানিতে ভেজান। তারপর শ্যাম্পু লাগান। হালকা করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। তারপর আবার শ্যাম্পু লাগান। পানির ধারায় খুব ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখুন, চুলের গোড়ায় যেন শ্যাম্পু না লেগে থাকে। চুলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করা ঠিক নয়। এতে চুলের স্বাভাবিক লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তবে সপ্তাহে তিনবার শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাঁদের মাথার তালু ঘামার প্রবণতা বেশি, তাঁরা একদিন অন্তর অন্তর ভেষজ উপাদান দ্বারা চুল ধুয়ে নিতে পারেন। রাহিমা সুলতানা ভেষজ কিছু উপাদানের কথা বলেন—
 মুলতানি মাটি দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ফুলে উঠলে তা ভালোভাবে মিশিয়ে শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
 রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে এর পানিটা শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন।
 পানিতে বেসন গুলে তা দিয়ে শ্যাম্পু করতে পারেন।
 সরিষার তেল পানিতে ভিজিয়ে রেখে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পুর পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটাও আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী বেছে নিন। কেরাটিন, অয়েল ও প্রোটিন-সমৃদ্ধ যেকোনো কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ভেষজ নানা উপাদানও ব্যবহার করা যায়।
 চায়ের লিকার ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
 লেবুর পানিতে চুল ধুয়ে নিতে পারেন।
 পাকা কলা ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
চুল ধোয়ার পর খুব হালকাভাবে চুলের পানি মুছে নিন। কখনোই চুল জোরে ঘষে ঘষে মুছবেন না। এতে চুল ভঙ্গুর হয়ে ফেটে যেতে পারে। চুল শুকানোর পর চুল আঁচড়াবেন। ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াবেন। চুলটা ফ্যানের বাতাস দিয়ে শুকানোই বেশি ভালো। আর ড্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে এর ঠান্ডা বাতাস দিয়ে চুল শুকান। মোটা দাঁতের চিরনি বেছে নিন। এতে চুল ছিঁড়বে না। রোদের তীব্রতায় যাঁদের চুলে পোড়া ভাব দেখা দিয়েছে, তাঁদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন রাহিমা সুলতানা।
 বাইরে থেকে ফিরে ঠান্ডা পানিতে চুল ধুয়ে নিন।
 গোলাপজল পানির সঙ্গে মিশিয়ে বরফ করে তা পোড়া চুলে আলতো করে ঘষতে পারেন।
 ঠান্ডা কাঁচা দুধ চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
 নারকেল তেল ও তিলের তেল মিশিয়ে লাগাতে পারেন।
 মধু ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে লাগান।
যাঁদের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চুলের একটু বাড়তি যত্ন নিন।
 সপ্তাহে একদিন মেহেদি লাগান চুলের গোড়ায়।
 পেঁয়াজের রসটাও খুব উপকারী।
 কাঁচা আমলকী ছেঁচে এর রস চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন।
 কাঁচা আমের আঁটি সেদ্ধ করে সে পানিটা ঠান্ডা করে চুলে লাগাতে পারেন।
‘চুলের আগা ফাটা, মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যাওয়া রোধ করতে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করা খুব উপকারী।’ বললেন রাহিমা সুলতানা। এ জন্য তেল কুসুম গরম করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে হাতের আঙুলের মাথা দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন। মাঝেমধ্যে চুলে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান। এতে চুল বাইরের পুষ্টি পাবে। তবে চুলের সৌন্দর্যের জন্য সঠিকভাবে খাবার গ্রহণও জরুরি। ভিটামিন এ এবং ই সমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজি খান ও পান করুন প্রচুর পরিমাণে পানি। চুলটা এ সময় খোলা না রেখে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে পারেন। অথবা করে নিতে পারেন সুন্দর একটা খোঁপা। মাথায় বেঁধে নিতে পারেন রঙিন একটি স্কার্ফ অথবা মাথায় দিতে পারেন চমৎকার কোনো টুপি।

Monday, May 24, 2010

সাধু থমাস চার্চ

0 comments
ঢাকার আয়তন প্রায় ১,৪৭১ কি.মি. আর এর পুরো এলাকাজুড়েই রয়েছে ঐতিহাসিক সব স্থাপত্য নিদর্শন। আদিকাল থেকেই পুরান ঢাকা, রাজধানী ঢাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে। কারণ ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য নির্দশনগুলোর বেশিরভাগই পুরান ঢাকায় অবস্থিত। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমান বাহাদুর শাহ্ পার্ক) এর উত্তর দিকে ৫৪ জনসন রোডে অবস্থিত গির্জাটি পুরান ঢাকার স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরনো গির্জাগুলোর একটি। যার বয়স প্রায় ২০০ বছর। গির্জাটি 'সাধু থমাস চার্চ' নামে পরিচিত। গির্জাটি ঢাকার কারাগারের কয়েদিদের শ্রমে গড়ে তোলা হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বেশ কিছু ইংরেজ কর্মচারী-কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করে। তাদেরই প্রার্থনার প্রয়োজন বোধে ১৮১৯ সালে ঢাকার কারাগারে বেশ কিছু কয়েদির মাধ্যমে এ গির্জাটি গড়ে তোলা হয়। ১৮২৪ সালে প্রেরিত সাধু থমাস যিনি তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেছিলেন, তার নামানুসারেই এ গির্জাটির নামকরণ করা হয় 'থোমাস গির্জা'। কলকাতার লর্ড বিশপ 'রেজিনাল্ড হেবার' এ গির্জাটিকে তার নামে উৎসর্গ করেন। ১৮৬৩ সালে এ গির্জাটির চূড়ায় একটি ঘড়ি স্থাপন করা হয়। একসময় পুরান ঢাকাবাসী এ বিশাল ঘড়িতেই সময় দেখত। কিন্তু কালের আবর্তে পর্যাপ্ত যত্ন ও মেরামতের অভাবে ঘড়িটি আজ বন্ধ হয়ে আছে। বর্তমানে 'চার্চ অব বাংলাদেশ' নামক একটি সংগঠনের তত্ত্বাবধানে গির্জাটির দেখাশোনার কাজ চলছে। 'চার্চ অব বাংলাদেশ' মিরপুর-২ এ অবস্থিত একটি গির্জা ও সংগঠন। এ সংগঠনটি স্থানীয় গরিব শিশুদের জন্য 'থমাস গির্জাতে' বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে আসছে। অনেকদিন থেকে।প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে গির্জা প্রাঙ্গণে গরিব শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়াও সংগঠনটি এসব শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিন, স্কুল ড্রেস, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদির ব্যবস্থাও করে থাকে। সাম্প্রতিক এ গির্জাটিতে একটি বাইবেল স্কুল চালু হয়েছে। এখানে স্থানীয় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সঠিক ও নির্ভুল ভাবে বাইবেল পাঠ শিখানো হয়। প্রতি সপ্তাহে রোবববার গির্জাটিতে স্থানীয় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করে।এছাড়াও ইস্টার সানডে, ক্রিস্টমাস ডে ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফ্রিক ওয়েভ

0 comments
সর্বোচ্চ কত উঁচু হতে পারে সমুদ্রের ঢেউ? লিনিয়ার মডেল অনুযায়ী সমুদ্রের ঢেউ সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত ফুলে উঠতে পারে। এর বেশি কিছুতেই সম্ভব নয়। প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রের নাবিকদের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত আছে_ দানবীয় বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে সপ্তাহে অন্তত একটি জাহাজ গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যায়। বর্তমান কালের নাবিকদের মুখেও অতর্কিত ২৫-৩০ মিটার উঁচু ঢেউ মোকাবিলা করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনা যায়। কিন্তু অনেকেরই দাবি, বিষয়টি কেবলই জেলে আর মাঝিদের গালগপ্প। বিজ্ঞানীরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এভাবে_ একটি ক্লাসের শিশুদের একটি গড় উচ্চতা আছে। কোনো কোনো শিশু এই গড় উচ্চতার কম হবে আবার কেউ কেউ এই উচ্চতার বেশি হবে। কিন্তু এরকম কখনো হবে না যে, কোনো একটি শিশু গড় উচ্চতার ৩-৪ গুণ বেশি লম্বা হবে। বৈজ্ঞানিকদের তত্ত্ব অনুসারে এরকম অস্বাভাবিক উঁচু ঢেউ বড়জোড় প্রতি দশ হাজার বছরে একবার হতে পারে। তবে এই তত্ত্ব এখন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। লিনিয়ার মডেলের পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা বিষয়ক নন-লিনিয়ার মডেল অনেককেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।বিশ্বজুড়ে লিনিয়ার মডেল এতটাই গ্রহণযোগ্য যে, বিশ্বে বিখ্যাত শিপিং ইন্ডাস্ট্রিগুলো এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে। অর্থাৎ, ১০-১৫ মিটার উঁচু ঢেউয়ের তোড়ে টিকে থাকবে এমন করেই সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে তৈরি করা হয়। ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজ ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়, মরচে ধরা জাহাজ আর নাবিকদের অদক্ষতা।এর ব্যতিক্রমও কিন্তু বিরল নয়। ১৯৯৫ সালে নর্থ সির একটি অয়েল প্লাটফর্মের ঘটনায় সচকিত হয়ে ওঠেন বিজ্ঞানীরা। ওইদিন নর্থ সিতে ফেনিয়ে উঠছিল সামুদ্রিক ঝড়। অয়েল প্লাটফর্মটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৩০ মিটারের মতো উঁচুতে অবস্থিত। ঝড়ের সময় হঠাৎ দেখা গেল একটি বিশাল ঢেউ উঠে আসছে সমুদ্র থেকে। অয়েল প্লাটফর্মটিকে বিশাল ঢেউটি স্পর্শ করে গেল। বিজ্ঞানীরা এই ঝড়কেই প্রতি দশ হাজার বছরে একবার আসা ঝড় হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এরকম ঝড় হরহামেশাই দেখা যেতে লাগল। ফলে বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলল।হেরিওট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জুলিয়ান উলফ্রাম চার বছর ধরে গবেষণা করে দেখান প্রচলিত লিনিয়ার মডেলের তত্ত্বের বাইরে গিয়ে বেশ কয়েকটি বিশাল আকারের ঢেউ ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান রিমোট সেনসিং স্যাটেলাইটে মাত্র এক সপ্তাহে ১০টি ২৬ থেকে ৩০ মিটার উচ্চতার ঢেউ ধরা পড়ে।আগের ধারণা অনুযায়ী এ ধরনের ঢেউ হওয়া একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সেটাই ঘটছে। এরপর পর্যটকবাহী দুটি জাহাজ দক্ষিণ মেরু থেকে ফেরার পথে এই অস্বাভাবিক ঢেউ বা ফ্রিক ওয়েভের মুখে পতিত হয়। জাহাজ দুটি কোনোমতে রক্ষা পেলেও বিশ্বের বড় বড় শিপিং ইন্ডাস্ট্রি আর চুপচাপ বসে থাকতে রাজি হলো না। তারা এ রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠল। অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব টুরিনের প্রফেসর অল অসবোর্ন আবিষ্কার করেন, কোন কারণে সমুদ্রের ঢেউয়ের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন দেখা যায়, দুই পাশের দুটি ঢেউয়ের উচ্চতা হঠাৎ কমে গিয়ে তৃতীয় একটি ঢেউয়ে সেই শক্তি সঞ্চারিত হয়। ফলে ওই ঢেউটির উচ্চতা অস্বাভাবিক বেড়ে তৈরি হয় ফ্রিক ওয়েভ। তবে মজার বিষয় হলো, জাহাজগুলোর দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার মূল কারণ কিন্তু এই ঢেউয়ের অস্বাভাবিক উচ্চতা নয়। আসল কারণ হলো, ফ্রিক ওয়েভের ভেঙে যাওয়া। অর্থাৎ, সমুদ্র তীরে যেমন ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে, ফ্রিক ওয়েভ মাঝ সমুদ্রে ঠিক ওইভাবে আছড়ে পড়ে। এরকম বিশাল উচ্চতার বিপুল জলরাশি যখন কোনো কিছুর ওপর আছড়ে পড়ে, তখন তার পক্ষে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। জাহাজগুলো ফুলে-ফেঁপে ওঠা ঢেউয়ের সঙ্গে লড়তে পারে কিন্তু তিন-চার গুণ ফুলে ওঠা ঢেউ যখন আছড়ে পড়ে তাকে সামাল দেওয়া এই সময়ের তৈরি জাহাজগুলোর পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। অসবোর্ন তার তত্ত্বের নাম দেন নন-লিনিয়ার মডেল। এখন সামুদ্রিক ঢেউয়ের দুটি প্যাটার্ন তৈরি হলো_ লিনিয়ার ও নন-লিনিয়ার মডেল। দেখা গেল, সমুদ্রের নাবিকরা যুগ যুগ ধরে সঠিক কথাই বলে এসেছেন। এগুলো কোনো রূপকথা নয়। বরং বিশ্ব শিপিং ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি রূঢ় সত্য। রূপকথার মতো সব গল্পই রূপ কথা নয়, অসবোর্নের গবেষণা সেটাই প্রমাণ করল। ফলে এখন নন-লিনিয়ার মডেল অনুসরণ করে জাহাজ ইন্ডাস্ট্রিগুলো ফ্রিক ওয়েভ মোকাবেলা করার পথ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জামালপুরের নকশি কাঁথা

0 comments

আবহমানকাল থেকেই বাংলার বধূরা স্বভাবগতভাবেই বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্যগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সুই-সুতোর ফোঁড়ে কাপড়ে তৈরি করত অপূর্ব সব চিত্রাবলী। গ্রামের বউ থেকে শুরু করে ঝিরা পর্যন্ত সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে শৌখিনতাবশত নকশি কাঁথা বানাত। চারদিকে অঝরে বৃষ্টি পড়ছে। আর গ্রামের গৃহবধূরা সবাই গল্পে মশগুল হয়ে মনোনিবেশ করছে নকশি কাঁথা তৈরিতে। গল্প-উপন্যাসের সেসব কথাই বাস্তবে এখনো ধরা পড়ে গ্রামে। মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মা, নানী-দাদিরা মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় বাহারি রঙের নকশি কাঁথা সঙ্গে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন না। এ যেন চিরচেনা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িতে মেহমান এলেই নানা রঙের হাতের কাজ করা বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কভার, দস্তরখানা ইত্যাদি ব্যবহার করতে দেয়া হতো।জামালপুরের নকশি কাঁথা ও হাতের কাজ করা রকমারি পোশাক সারাদেশে আগে থেকেই প্রশংসিত ছিল। বর্তমানে তার কদর বিন্দুমাত্র না কমে আরো উন্নত হয়ে দেশ ও দেশের বাইরে সমাদৃত হচ্ছে। জামালপুর, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ এবং সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে নকশি কাঁথা কম-বেশি তৈরি করা হয়। তবে নানামুখী সুযোগ-সুবিধার কারণে এর উৎপাদন এখন সদর উপজেলাতেই বেশি হয়। বিশেষ করে জামালপুর শহরে এর আধিক্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। এখানকার স্থানীয় পোশাকের গুণগতমান উন্নত এবং দাম তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান জামালপুরের জেলা প্রশাসক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ।কিন্তু আমরা যদি একটু অতীতের দিকে তাকাই তাহলে দেখব, এই ঐতিহ্যবাহী মনোমুঙ্কর সূচি শিল্পটি এক সময় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। সত্তরের দশকের শেষভাগে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের চিহ্ন অনেকটা বিলুপ্ত হতে থাকে। অবশেষে আশির দশকের প্রথমাংশে হারাতে বসা নকশি শিল্পটি পুনরুদ্ধার করে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গতি যোগ করে ব্র্যাক নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাক জামালপুরের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সূচি শিল্পীদের খুঁজে বের করে তাদের দিয়ে নকশি কাঁথা শিল্পটির নব উত্থান ঘটায়। ১৯৮৭ সালে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সংঘ এক হাজার গ্রামীণ মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নকশি কাঁথার কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ নারীরা গড়ে তোলে নিজ নিজ নকশি কাঁথার প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে এ শিল্পের আরও প্রসার ঘটে। বর্তমানে জামালপুরের সব উপজেলায়ই নকশি শিল্পের ব্যাপক হারে কাজ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ৩০০টি প্রতিষ্ঠান। যাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো_ আয়োজন, রওজা কারু পল্লী, কারু নীড়, কারু পল্লী, দোলনচাঁপা, নিঝুক, সূচিতা, তরঙ্গ, দিপ্ত কুটির, বুনন, অনিকা, মিম, মামিম ইত্যাদি। এ শিল্পটির সঙ্গে জামালপুরের প্রায় ৭৫ হাজার নারী-পুরুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে শিল্পটির তেমন প্রসার ঘটেনি।এখানকার উৎপাদিত নকশি কাঁথা ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের প্রায় সব জেলা শহরে কমবেশি বাজার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে পণ্যটি রপ্তানি হচ্ছে।স্থানীয় উদ্যোক্তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে নকশি কাঁথা বিক্রি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন নামকরা মেলাগুলোতে নকশি কাঁথা অতি গুরুত্বসহকারে স্থান পায়। জামালপুরের নকশি শিল্পের মধ্যে আরো রয়েছে_ বেড কভার, থ্রি-পিস, ওয়াল মেট, কুশন কভার, শাড়ি, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, বালিশের কভার, টিভি কভার, শাড়ির পাড়, ওড়না, কলমদানি, মানিব্যাগ অন্যতম। এসবের দাম ২৫ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মৌসুমভেদে উঠানামা করে।তবে এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। নকশি শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা খুব স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে তাদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। তার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো_ পুঁজি সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, নিখুঁত পণ্য উৎপাদন হ্রাস, বাজারের তুলনায় উপযুক্ত মূল্য না পাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্দ্য, বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা, ডিজাইনে বৈচিত্র্যের ছাপ না পাওয়া, ব্যাংক ও অর্থলগি্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সহজশর্তে ঋণ না পাওয়া, যথাযথ সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়া, সরাসরি বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ না পাওয়া ইত্যাদি। এ শিল্পের সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে এবং সরকারের হাত আরো প্রসারিত করলে এটিও হতে পারে অন্যতম একটি আয়ের উৎস।

প্রাচীন মেক্সিকোর রাজধানী তিয়ুতিহুয়াকান

0 comments
তিয়ুতিহুয়াকান ছিল প্রাচীন মেক্সিকোর ধর্মীয় রাজধানী। প্রায় ১৪০০ বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরের এ অঞ্চলটি ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। এখানকার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি। অনেকে ধারণা করেছিলেন, এটি মায়াদের বংশধরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি মহানগর। কিন্তু পরবর্তীতে এ ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়। অ্যাজটেকরা (অুঃবপং) দক্ষিণ আমেরিকার এই অংশটি দখল করে নেওয়ার কিছুকাল আগেই তিয়ুতিহুয়াকান ধ্বংস হয়ে যায়। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে আমেরিকার প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ থেলমা সালেভান একে 'দেবতাদের শহর' নামকরণ করেন। বর্তমান সময়ে অ্যাজটেক, মায়া বা নাজকা সভ্যতা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা গেছে। কিন্তু তিয়ুতিহুয়াকান সম্পর্কে এর হাজার ভাগের এক ভাগও জানা যায়নি। কেন এখানকার অধিবাসীরা হঠাৎ একদিন সবকিছু ছেড়ে চলে গেল, তা আজো প্রত্নবিজ্ঞানীদের কাছে বিরাট রহস্য। আজো জানা সম্ভব হয়নি এ শহরটির প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা ছিল। এখানে কোন্ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বা এখানে কোন্ ভাষা ব্যবহৃত হতো। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো_ সভ্যতাটি হঠাৎ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণ কি?এই প্রাচীন শহরটির ১০ ভাগের ৯ ভাগ এখনও মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। ৭৫০০ ফুট উচ্চতার যে মালভূমির উপর এই শহরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটা মেক্সিকোর উপত্যকা বা পুয়েবলা (চঁবনষধ) উপত্যকার সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী প্রাকৃতিক পথের উপরে অবস্থিত ছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিয়ুতিহুয়াকানের আগে আমেরিকার এই অংশে এবং অন্যান্য এলাকাতেও ওন্মেক সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। এ থেকে অনেকে ধারণ করেন, তিয়ুতিহুয়াকানের অধিবাসীরা আসলে ওন্মেকদেরই বংশধর। কিন্তু তাতেও দেবতাদের শহরের রহস্যের কুয়াশা পরিষ্কার হয় না। আর তারা যে ওন্মেকদের বংশধরই ছিল, তারও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

হাঁটা পীর হায়দার বাবা

0 comments
ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে কম-বেশি কেউ তাকে চেনেন। সবাই হয়তো ভালো মতো চিনেন না। কিন্তু ঢাকার বুকে পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ 'হাঁটা পীর' ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের দেখে চমকে ওঠেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ঢাকায় তিনি এতটাই চেনা মুখ। কিন্তু কে এই হাঁটা পীর?হাঁটা পীর বা হায়দার বাবার সত্যিকার পরিচয় তেমন কারোরই জানা নেই। এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুঁজে পাওয়া গেল গত ১৮/২০ বছর ধরে তার সঙ্গে থাকা খোকন নামের এক ব্যক্তিকে। হায়দার বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'একসময় আমাদের বাবা হাবিব ব্যাংকে চাকরি করতেন। ছাত্র হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ইংরেজি সাহিত্য এবং আরবিতে ডাবল এমএ লাভ করেন। তার পরিবারের অন্য এক ভাই খুব নামকরা ডাক্তার। সেই ভাই এখন পাকিস্তানে বসবাস করছেন। হায়দার বাবা বা হাঁটা পীরের পূর্ব পুরুষ ছিলেন ইরানের। তারা সেখান থেকে পাকিস্তানে আসেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে এবং সর্বশেষ বাংলাদেশে।'ব্যাংকার হায়দার কিভাবে হায়দার বাবা হয়ে উঠলেন? এ প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকল। শেষমেশ ইনিয়ে বিনিয়ে এই কথাও জিজ্ঞেস করা হলো খোকনকে। হায়দার বাবা সম্পর্কে তার আশপাশের লোকদের কিছু জিজ্ঞেস করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমত: তার সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে চায় না। আর দ্বিতীয়ত যদি অসাবধানবশত পীরের কোনো অসম্মান হয় তাহলে সবাই তেড়ে আসতে পারে। তবু অনুরোধ করার পর মুখ খুললেন খোকন। বললেন- 'হায়দার বাবা খুব ভালোভাবেই চাকরি-বাকরি করছিলেন। সবই চলছিল ঠিকঠাক মতো। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি চাকরির প্রতি উদাসীন হয়ে যান। এই উদাসীনতা তাকে ধীরে ধীরে সন্ন্যাস জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। কী এক অলৌকিক চিন্তার সানি্নধ্যে সন্ন্যাস জীবন বেছে নিলেন হায়দার বাবা।'হায়দার বাবার পরিচয় আর উত্থান নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া দুষ্কর। তারপরও যতটুকু জানা গেছে স্বাধীনতার পর হায়দার বাবা কাঁটাবন মসজিদের পাশে আশ্রয় নিয়ে প্রথমবারের মতো তার কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তারপর মিরপুরে এক মেজরের বাড়িতে হায়দার বাবা তার কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এভাবে যেতে থাকে বেশ কিছুদিন। তারপর হায়দার বাবা চলে আসেন মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের ১২/৯ নম্বর বাড়ির নিচতলায়। এখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে তার সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। হায়দার বাবা তার কার্যক্রম দিয়ে ধীরে ধীরে বেশকিছু ভক্ত এবং গুণগ্রাহী তৈরি করে নেন। এই ভক্ত গুণগ্রাহীরা হায়দার বাবার প্রতি এতটাই অনুরক্ত যে, তারা বাবার খুশির জন্য নূরজাহান রোডের ইউ-৪৭ লাইনে ৭ বছর আগে পৌনে তিন কাঠার রেডিমেড একটি বাড়ি কিনে দেন। বাড়িটি কিনতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লেগেছিল। গত সাত বছর ধরে হায়দার বাবার এ আস্তানাটিও বেশ জমে উঠেছে। বর্তমানে তাজমহল রোড এবং নূরজাহান রোডের দুটি আস্তানাই বেশ জমজমাট বলা চলে। হায়দার বাবার আস্তানায় প্রতিবছর একটি ওরসের আয়োজন করা হয়। অন্য যেকোনো ওরস থেকে এ ওরসের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ব্যতিক্রম। যেখানে অন্য ওরসগুলোতে গরু এবং মহিষের মাংস ব্যবহার হয় সেখানে হায়দার বাবার ওরসে ব্যবহার করা হয় খাসি। প্রতি বছর রজব মাসের ১০ তারিখে এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসে হায়দার বাবার প্রায় বিশ হাজার ভক্ত-গুণগ্রাহী উপস্থিত হন।তাবৎ মানুষ প্রাতঃ কিংবা সান্ধ্যকালীন ভ্রমণের জন্য হাঁটাহাঁটি করলেও হায়দার বাবা হাঁটেন তার ধ্যানের জন্য। হায়দার বাবা হাঁটা শুরু করলে কখন যে কোথায় যান তার কোন ঠিক নেই। আবার হায়দার বাবা কখনো একাধারে ৭/৮ দিন পর্যন্ত হাঁটেন। আবার কখনো ১ মাস, দেড় মাস কিংবা ৬ মাসও দীর্ঘ হয়ে থাকে। জানা গেছে, হায়দার বাবার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ হাঁটার রেকর্ড হচ্ছে টানা ছয় মাস। এই ছয় মাসের হাঁটার সময় তিনি পুরো ঢাকা শহর, সাভার, আশুলিয়া, আরিচা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি পর্যন্ত হেঁটেছেন। তবে হায়দার বাবার এ হাঁটার মধ্যেও রয়েছে কিছুটা বৈচিত্র্য। হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর যাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে হায়দার বাবা বসে পড়েন। আর তখন তাকে ঘিরেই তার ভক্তরা হাতে বিভিন্ন খাবার নিয়ে তৈরি থাকেন।হায়দার বাবার জীবনাচরণে আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া নেই বললেই চলে। হায়দার বাবাকে আজ পর্যন্ত কেউই গোসল করতে দেখেনি। অপরিষ্কার থাকতে থাকতে তার মাথার চুল জটবেঁধে গেছে। ব্যক্তিজীবনে হায়দার বাবা তিন সন্তানের জনক। তার বড় ছেলের নাম লাডলা, সে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত, মেজো ছেলের নাম শাহজাদা। সে একটি কালার ল্যাবে চাকরি করে। আর ছোট ছেলে এখনো কিছু করছে না। তবে তার মধ্যে নাকি অনেকে হায়দার বাবার ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন। হায়দার বাবা বা হাঁটা পীরের স্ত্রী যখন মারা যান তখন তার বড় ছেলের বয়স ছিল ১০/১১ বছর। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর হায়দার বাবা আর বিয়ে-শাদিও করেননি।হায়দার বাবার গুণগ্রাহীদের তালিকাটাও বেশ বড়। হায়দার বাবার কছে এমনিতে সব শ্রেণীর লোকই আসেন। তবে এদের মধ্যে নাকি মহিলার সংখ্যাই বেশি। আর এসব মহিলার বেশির ভাগের সমস্যা থাকে দাম্পত্য কলহ। তারা সবাই সমাধানের আশায় ছুটে আসেন হায়দার বাবার কাছে। অনেকে আবার ব্যবসায়িক সাফল্যের তদবির নিয়ে আসেন। কথা হয় এমনই বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। পুরান ঢাকার ধনাঢ্য এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী জাহানারা। তিনি গত ১৩ বছর ধরে বাবার কাছে আসা-যাওয়া করছেন। তিনি দাবি কররেন বাবার কথামতো চলে তিনি সাফল্যও পেয়েছেন। ধানমন্ডি থেকে আনোয়ারা এসেছেন তার মেয়ের বিয়ের জন্য মানত করতে। আনোয়ারাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'আমি লোকমুখে তার কথা শুনেছি। আমার বিশ্বাস উপরে আল্লাহ আর নিচে হচ্ছেন বাবা (হায়দার বাবা)। তিনি যদি চান তাহলে মেয়ের বিয়ে অবশ্যই তাড়াতাড়ি হবে। এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য অনেক পিতা-মাতা এবং অভিভাবককে বাবার (হায়দার বাবার) কাছে দোয়া নিতে দেখা গেছে। কিছুদিন তার কাছাকাছি থাকলেই মনে হবে এমন কোনো পেশা কিংবা সমস্যার লোকজন নেই যারা হায়দার বাবার কাছে আসেন না। ঢাকা শহরের সীমা ছাড়িয়ে হায়দার বাবার খ্যাতি পেঁৗছে গেছে অন্য জেলায়ও।হায়দার বাবাকে নিয়ে বিভ্রান্তি আছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও। তাজমহল রোডের বাসিন্দা আলহাজ আলতাফ হোসেন বলেন, 'হায়দার বাবার বিষয়টা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। মানুষ যে কেন তাকে নিয়ে এত মাতামাতি করে সেটা আমি বুঝতে পারছি না।' হায়দার বাবা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক কমিশনার এবং বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ সফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, 'তাকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। সেটা বললে হয়তো অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। একদিন আমি বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা হয় হায়দার বাবার সঙ্গে। যদিও এসবে আমার কোনো বিশ্বাস নেই তবু চোখের সামনে পড়ার কারণে আমি তাকে সালাম দিই। তার প্রত্যুত্তরে তিনি আমাকে বলেছিলেন ভাগ (দূর হও)। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালমন্দও করেন। এরপরও তিনি কীভাবে পীর হন আমি বুঝি না। অনেকেই তাকে বিশ্বাস করে এটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।' হায়দার বাবার সঙ্গে ঘুরলে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। হায়দার বাবার ছবি তুলতে গিয়েও বাঁধে বিপত্তি। ভক্ত অনুরাগীরা তার ছবি তুলতে দেবে না। ক্যামেরার দিকে কেউ বোতল তাক করে, কেউবা আবার তেড়ে আসে। হাঁটা পীর হায়দার বাবার প্রতি সবার এমনই বিশ্বাস আর ভালোবাসা।

বারকোড

0 comments
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, যেমন_ বই সাবান, শ্যাম্পু, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী বা অন্য জিনিসপত্রের গায়ে লম্বা সমান্তরাল কালো দাগের সমন্বয়ে তৈরি এক ধরনের সিল দেখা যায়। আমরা অনেকেই জানি না এই জিনিসটি কি বা এর দ্বারা কি বোঝানো হয়। এই সিলকে বলা হয় বারকোড। আজ থেকে প্রায় দু'দশক আগে বারকোডের প্রচলন শুরু হয়েছে। কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার ও প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বারকোডেরও প্রসার ঘটছে দ্রুতগতিতে। এক কথায় বলা যায়, দৃশ্যত বারকোড হলো পণ্যের পরিচিতিপত্র। একটি জিনিসের বারকোডের সঙ্গে আরেকটি জিনিসের বারকোডের কোনোমিল নেই। কারণ সব জিনিস তো আর এক নয়, কিংবা সে সবের মান, উৎপাদনকাল এবং দামও এক নয়। তবে পার্থক্য খুব স্পষ্ট নয়, বরং খুবই সূক্ষ্ম, যা এক রকম ধরাই যায় না। বিভিন্ন প্রকার বারকোড ছাপানোর উদ্দেশ্যে হলো ওইসব পণ্য সম্পর্কিত তথ্য ক্রেতাদের জানানো। যেমন : দাম, সংখ্যা, উৎপাদনের তারিখ, ব্যবহারের সময়কাল, গুণগত মান ইত্যাদি। এ সংকেত দেখে সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তি পণ্যের উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন না। শুধুমাত্র কম্পিউটারাইজড স্ক্যানার এ তথ্য বা সংকেত পড়তে পারে। দোকানে গিয়ে কোনো জিনিস কেনার পর ক্যাশিয়ার তার স্ক্যানারের সেন্সর ওই বারকোডের ওপর দিয়ে শুধু একবার টেনে নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্যের যাবতীয় তথ্য কম্পিউটার রেকর্ড করে নেয় এবং সেসব তথ্য কম্পিউটারের স্ক্রিনের ওপর ভেসে ওঠে। উন্নত বিশ্বের দোকানিরা এভাবেই পণ্য বিক্রি করে থাকে।

পুরুষের স্তন সমস্যা

52 comments
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন বইয়ে পুরুষের স্তনস্ফীতির সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বহু লোকের চিঠিপত্র ছাপা হয়। সেগুলোতো দেখা যায়, কারও একটি কি দুটি স্তনেরই স্ফীতি দেখা দিয়েছে, কোনটির আকার ছোট, ভেতরে গুটি' হয়েছে, আবার কোনটি নারীর মত ভেতরে বড় আকারে মাংসের পিণ্ড বা 'চাকা' হয়েছে। এই অস্বাভাবিক স্ফীতিকে চিকিৎসকরা 'গ্যায়নোকোম্যাসটোসিয়া রোগ বলে অভিহিত করেছেন। শব্দটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে, যার আভিধানিক বাংলা অর্থ- 'নারীসম স্তন'। 'গ্যায়নোকো' শব্দের অর্থ নারী এবং 'ম্যাসটোস' শব্দের অর্থ স্তন-এই দুই জুড়ে হয়েছে নারী (সম) স্তন। বয়ঃসন্ধিকালে পূর্ণ যৌবনের পুরুষের স্বাভাবিক স্তন যখন অস্বাভাবিকভাবে নারী স্তনের মতো স্ফীতিলাভ করে, তখনই তাকে গ্যায়নোকোম্যাসটোসিয়া বলা যায়।
প্রকৃত গ্যায়নোকোম্যাসটোসিয়াতে স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি হয়ে থাকে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ছেলেমেয়েদের যৌবনকাল পর্যন্ত একই পর্যায়ে থাকে। পরে বালিকার স্তন দুটি বিকশিত হয়, পুরুষের তা হয় না। পুরুষের স্তন স্ফীত হলেই তখন গ্যায়নোকোম্যাসটোসিয়া রোগ হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। এই রোগ বা অস্বাভাবিক স্ফীতি হয় কেন? সেকথা বলতে হলে স্তনের জন্মকথা থেকেই শুরু করতে হয়। ভ্রুণের বয়স যখন ছয় সপ্তাহকাল তখন এক্টোডার্মাল স্তর বিশেষ আকার ধারণ করে যার ফলে অভ্যন্তরীণ স্তনগুলো বা দুগ্ধস্রাবী পথগুলোর জন্ম হয়। শুক্রকীট ও পরিপক্ব স্ত্রী-ডিম্বের মিলনে ভবিষ্যৎ সন্তান বালক হবে কি বালিকা হবে যখন কোষের অভ্যন্তরস্থ জিন তা নির্ধারণ করে দেয় তখন থেকেই স্তনের ক্রমবিবর্তন চলতে থাকে। ভ্রুণের বুকে স্তনের আকার প্রথমে থাকে চ্যাপটা, পরে গোলাকার। আরও পরে শিকড় জাতীয় আকার ধারণ করলে প্রাথমিক দুগ্ধ নিঃসরণ তৈরি হয়। আরও পরে এগুলো যেমন বিভক্ত হতে থাকে, অন্যদিকে আবার বুকের বহির্ভাগে স্তনবৃন্তের পার্শ্ববর্তী স্থান অ্যারোলা বা স্তনবলয় জন্মলাভ করে। জন্মকালে বৃন্ত দুটি দেখা দেয় এবং সমষ্টিগতভাবে দুগ্ধনিঃসারী ক্ষুদ্রাকৃতি যে স্তন্যগ্রন্থি গড়ে ওঠে তাতেই বালক-বালিকার জন্মেরে পর স্বল্পস্ফীত স্তনের দুধ দেখা দেয়। মায়ের স্তন দুটি টিপে সেই দুধ বার করে দেয়। ইংরেজিতে নবজাত শিশুর বুকের দুধকে বলে 'ডাইনি দুধ'- যার বাংলা দেশজ শব্দ হলো 'গুটিভানা'। ইংরেজিতে 'উইচ মিল্ক’। ইংরেজিতে 'উইচ মিল্ক' বা 'ডাইনি দুধ' কথাটার পেছনে যে সংস্কার রয়েছে তা হলো, মনে করা হয় ডাইনি বা ওই ধরনের কোন অপদেবতা শিশুর দেহে আশ্রয় নেয় বলেই এটা হয়, তাই ওই দুধ বের করে দিয়ে শিশুকে ডাইনিমুক্ত করা হয়।
নবজাতক-জাতিকার বুকে এই দুধ জমা হওয়ার কারণ সম্বন্ধে চিকিৎসকরা বলেন, শিশু ভুমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মায়ের দেহে কতকগুলো হরমোনের (যেমন ইস্ট্রোজেন, প্রোল্যাকটিন) মাত্রা খুব বেড়ে ওঠে। তারই কিছু অংশ নাভিরজ্জুর মারফত চালান হয়ে যায় শিশুর দেহে। শিশুর দেহে থাকে বেশি মাত্রায় ইস্ট্রোজেন-এই সংমিশ্রণের ফলে শিশুর স্তনে স্ফীতি দেখা দেয়। সেখানে প্রোল্যাকটিন হরমোনের মাত্রা থাকে বেশি, সেখানে দুধের মতো রসক্ষরণও হতে দেখা যায়। অবশ্য এই দুগ্ধসঞ্চার ও স্ফীতি সাময়িকভাবে দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে তা আপনা-আপনি কমে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই অহেতুক টেপাটেপি করে বক্ষপ্রদাহ বা ফোড়াজাতীয় ঘা সৃষ্টি না করাই ভালো।
পুরুষের বক্ষস্ফীতির কারণ দর্শাতে চিকিৎসকরা বলে থাকেন, নারী ও পুরুষের দেহে ইস্ট্রোজেন এবং অ্যান্ড্রোজেন দুটি হরমোনই পাশাপাশি থাকে। নারীর ইস্ট্রোজেন বেশি, আন্ড্রোজেন সামান্য-পুরুষের বেলায় ঠিক এর উল্টো। স্তনস্ফীতির মধ্যে দুটো ভাগ আছে-প্রকৃত এবং অপ্রকৃত। বক্ষ প্রধানত গ্রন্থি ও নালিকার সমষ্টি। এই গ্রন্থি ও নালিকাগুলোর বৃদ্ধির দরুণ বক্ষস্ফীতি ঘটে। নারীর ক্ষেত্রে স্তনের পূর্ণবৃদ্ধির জন্য ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরোন এবং পিটুইটারি হরতোন সাধারণত দায়ী। পুরুষের পূর্ণস্ফীতির জন্য দায়ী হল ইস্ট্রোজেন। কোনো কারণে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি পড়লে অথবা এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে এই স্ফীতি দেখা যায়। আরও সোজা করে বললে বলতে হয়, ইস্ট্রোজেন এবং অ্যান্ড্রোজেনের অনুপাত নষ্ট হয়ে গেলে পুরুষের স্তনে পরিপূর্ণ স্ফীতি দেখা দেবে। অপ্রকৃত স্তনস্ফীতি বলতে যা বোঝায় তাতে গ্রন্থি ও নালিকার কোনো বৃদ্ধি হয় না বরং চর্বি বা মেদবাহুল্য, কোনো টিউমার ইত্যাদি হতে পারে। এখানে স্বাভাবিক পুরুষের বক্ষে যতটুকু গ্রন্থি ও নালিকা থাকা উচিত ততটুকুই থাকে।
এছাড়া অন্যান্য কারণে বিভিন্ন বয়সে স্তনস্ফীতি দেখা দেয়, সেগুলো হলো : শরীরবৃত্তির কারণে নবজাতকের স্ফীতি, ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে কৈশোরের স্ফীতি এবং কোনো কারণে লিভার ব্যাধিগ্রস্ত হলে, কর্টিক্যাল টিউমার হলে, অণ্ডাশয়ের টিউমার হলে অথবা অত্যধিক মাত্রায় ইস্ট্রোজেন প্রয়োগ করে কোনো রোগ সারাতে গেলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া অ্যান্ড্রোজেনের স্বল্পতার জন্য প্রদাহজনিত, আঘাতজনিত কারণে অণ্ডাশয় অকর্মণ্যপ্রায় হয়ে পড়লে, দীর্ঘকাল বুকে সামান্য চোট লাগলে, গ্যালিস বা ব্রেস বন্ধনী ব্যবহার করলে, দীর্ঘদিন অনাহারে থাকলে, কিছুকাল ধরে মাত্রাধিক টেসটসটেরন হরমোন প্রয়োগ করলে এই স্ফীতি দেখা দেয়।
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরী উভয়েরই স্তনদ্বয়ে পরিবর্তন আসে-বিশেষত কিশোরীর ঋতু শুরু হওয়ার আগে থেকেই তার স্তন বিকশিত হতে থাকে। ঋতুধর্মের সঙ্গে সঙ্গে স্তন দুটির বিকাশ ঘটতে থাকে এবং ক্রমশ তা একটু করে পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। কিশোরের এক ধরনের স্ফীতি দেখা দেয়-এক ধরনের স্ফীতি বোঝা যায় না, স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে। টিপে দেখলে ভেতরে 'গুটি' বোঝা যায়। অনেক সময় এর আকার বড়ও হয়, ভিতরে চাকার মতো বড় আকারে 'গুটি' দেখা যায়, কখনো কখনো জোরে টিপলে দুধের মতো সাদা আঠালো বা পানির মতো রসালো পদার্থ বের হয়ে থাকে। এই স্ফীতি যেমন শিগগিরই কমে যায়, তেমনি অধিক বয়স পর্যন্ত থাকতে পারে। তিরিশ-বত্রিশ বছর বয়সী যুবকের বুকেও সেই স্ফীতি লক্ষ্য করা যায়। পেশিবহুল সুগঠিত বহু পুরুষের বক্ষপেশি যেমন বিশাল হয় তেমনি স্তনবল দুটিও হয় স্ফীতিকার।
ডা. দিদারুল আহসান
ত্বক যৌন ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ
আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

হেরাসিম

0 comments
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন ‘চর্যাপদ’-এ নাটক ও নাট্যাভিনয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রাচীন কালের নাটকগুলো কিভাবে মঞ্চায়ন হতো, আদৌ কোন নির্দিষ্ট থিয়েটার বা মঞ্চের ব্যবস্থা ছিল কি না, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নেই। বিভিন্ন জনের মতে, প্রাচীনকালে যেহেতু নাট্যচর্চা বা নাট্যাভিনয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল না-তাই নট, নটীদের সমন্বয়ে একেবারে সাদামাটা ভাবে নির্দিষ্ট কোন স্থানে নাট্যাভিনয় চলতো। এজন্য কোন কোন সময় উন্মুক্ত কোন উঁচু স্থান, ঘরের মেঝে, কখনোবা বড় কোন বৃক্ষের বেদিমূলকে বেছে নেয়া হতো। বাংলা তথা বাঙালির নাট্যচর্চার ইতিহাস কম করে হলেও হাজার বছর প্রাচীন। এক্ষেত্রে অষ্টাদশ শতাব্দীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়।

দীর্ঘদিন বিক্ষিপ্তভাবে এখানে-সেখানে বাংলা নাটক মঞ্চায়ন হলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি একঝাঁক বাঙালি সংস্কৃতিকর্মী বাংলা নাটককে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ যতœবান হন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি নাট্যাভিনয় ও নাট্যমঞ্চের আমূল পরিবর্তন আনতে তারা নিরলস পরিশ্রম করে যান। কিন্তু বাংলা নাটকের শ্রীবৃদ্ধিকরণে তারা যথেষ্ঠ অবদান রাখতে সক্ষম হলেও থিয়েটার বা নাট্যমঞ্চ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেননি। সে কৃতিত্ব লুফে নেন রুশ ভাগ্যান্বেষী পুরুষ হেরাসিম স্তেপানোভিচ লিবেদেফ।

হেরাসিমের জন্ম ১৭৪৯ সালে রাশিয়ার ইয়ারোসলাভে। তার পিতা ছিলেন একজন কৃষক। প্রথমদিকে তার পরিবার ইউক্রেনের একটি গ্রামে বসবাস করলেও এক পর্যায়ে পুরো পরিবারটি চলে আসে সেন্ট পিটার্সবার্গে। চার ভাই বোনের মধ্যে হেরাসিম ছিলেন সবার বড়। মেধাবী হেরাসিম খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষা আয়ত্ব করেন। মাতৃভূমিতে থাকাকালেই তার দেশের বিশিষ্ট নাট্যকার ফিয়োদর ভলকোভের সান্নিধ্যে আসেন। এক পর্যায়ে তিনি ভলকোভের নাটকে গানও গাওয়া শুরু করেন।

১৭৯৫ সালের নভেম্বর। কলকাতার ডোমতলায় অর্থাৎ বর্তমানের এজরা স্ট্রিটে বিদেশী রীতিতে প্রথম স্থাপিত হয় বাংলা থিয়েটার। হেরাসিম তার প্রতিষ্ঠিত থিয়েটারের নাম দিয়েছিলেন ‘বেঙ্গলি-থিয়েটার’। এরপর বাংলা থিয়েটার প্রতিষ্ঠায় যিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন তাঁর নাম প্রসন্ন কুমার ঠাকুর। হেরাসিম যে থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন তার চেয়ে আরো আধুনিকভাবে যদিও প্রসন্ন কুমার বাংলা থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন তথাপি এর পথিকৃত হেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ।

রাজা হরিশ চন্দ্রের প্রাসাদ ঢিবি

0 comments
সাভারের রাজাশন মজিদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ প্রাসাদ ঢিবি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ প্রায় ১৬ বিঘার ওপর দুটি ঢিবির সন্ধান মিলে, যা ইতিহাসে নির্দিষ্ট করা হয় ‘রাজা হরিশ চন্দ্রের প্রাসাদ ঢিবি’ হিসেবে। ইতিহাসে সপ্তম বা অষ্টম শতকের আগে নির্মিত। বিহারটি ৩৯.৯৭ বর্গমিটার প্রশস্ত ও স্তূপটি ১৭ বর্গমিটার প্রশস্ত। এর চারদিকে সিঁড়ি রয়েছে। এ প্রত্নস্থল থেকে বেশ কয়েকটি ভাস্কর্য খচিত পোড়ামাটির টুকরো, ব্রোঞ্জের তৈরি ক্ষুদ্রাকার বুদ্ধমূর্তি, বিভিন্ন টেরাকোঠা এবং গুপ্ত অবস্থায় লুকায়িত নকল স্বর্ণমুদ্রাও আবিষ্কৃত হয়েছে তা প্রাসাদের ফটকের গায়ে লিপিবদ্ধ আছে।

Saturday, May 22, 2010

গঙ্গাসাগর ঢাকার একমাত্র দিঘি

0 comments
কথিত আছে মোগল সম্রাট আকবর ষোল শতকের শেষের দিকে বাংলা বিজয়ের উদ্দেশ্যে সেনাপতি মানসিংহকে এ এলাকায় পাঠান। রাজা মানসিংহ ঢাকা এসে এ এলাকায় তাঁবু ফেলেন এবং ঈশা খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তখন এ এলাকায় পানীয়জলের খুব অভাব ছিল। মানসিংহ তাঁর সৈন্যসামন্ত দিয়ে বিরাট একটি দিঘি খনন করেন। নাম দেন গঙ্গাসাগর।
ঢাকায় কি কোনো দিঘি আছে_কাউকে এমন প্রশ্ন করলে কপালে ভাঁজ তুলে বলবে, ঢাকায় অসংখ্য খাল, ডোবা, পুকুর থাকার কথা শুনেছি; কিন্তু দিঘি থাকার কথা এখনো শুনিনি। হ্যাঁ, ঢাকার অতি প্রাচীন একটি দিঘি আছে। দিঘিটির নাম গঙ্গাসাগর। বাসাবোর পূর্ব প্রান্তে রয়েছে দিঘিটি। এর বর্তমান অবস্থা দেখার জন্য গত রবিবার পা বাড়াই পথে। গুলিস্তান এসে চেপে বসি রাইডার নামের বিচিত্র পরিবহনে। ডিজিটাল যুগে রাজধানীর পথে আজও এসব বাহন যাতায়াত করে ভেবে অবাক হই।
বাসাবো এসে আবার রিকশা ধরি। আঁকাবাঁকা-ভাঙাচোরা সরু রাস্তা মাড়িয়ে একসময় একটি মন্দিরের গেটে এসে রিকশা থামে। জায়গাটির নাম বড় বিচিত্র। মন্দিরের ফটকের ওপর লেখা 'রাজারবাগ শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির'। পাশের দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা বাসাবো, কদমতলী, সবুজবাগ। তবে জায়গাটি আদিতে রাজারবাগ মৌজার অধীনে ছিল। এ কারণে মন্দিরের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজারবাগ কথাটি। বর্তমানে স্থানটি সবুজবাগ থানার অন্তর্গত।
মন্দিরের ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। চোখের সামনেই বিশাল এক দিঘি। নানা ধরনের গাছগাছালিতে আকীর্ণ দিঘিটির পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে আছে ছোট-বড় অনেক মন্দির। দিঘিটিতে অনেকেই গোসল করছে। বৈশাখের শরীর-পোড়া গরমে কেউ কেউ গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে, ঘুমাচ্ছে। এ দিঘি নিয়ে আছে বহু কাহিনী, কিংবদন্তি।
কথিত আছে মোগল সম্রাট আকবর ষোল শতকের শেষের দিকে বাংলা বিজয়ের উদ্দেশ্যে সেনাপতি মানসিংহকে এ এলাকায় পাঠান। রাজা মানসিংহ ঢাকা এসে এ এলাকায় তাঁবু ফেলেন এবং ঈশা খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। তখন এ এলাকায় পানীয়জলের খুব অভাব ছিল। মানসিংহ তাঁর সৈন্যসামন্ত দিয়ে বিরাট একটি দিঘি খনন করেন। নাম দেন গঙ্গাসাগর। এটি খনন হওয়ার পর এ এলাকার সাধারণ মানুষের পানীয়জলের সমস্যা দূর হয়। শুধু তাই নয়, দিঘিটি ক্রমেই হয়ে ওঠে তীর্থক্ষেত্র। ধর্মপ্রাণ মানুষ অষ্টমী স্নান, বারুণী স্নান উপলক্ষে এখানে এসে স্নানপর্ব শেষ করে পুণ্যি লাভের আশায়। তা ছাড়া প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ দিঘিতে স্নান করে মনস্কামনা ব্যক্ত করে। পরবর্তী সময়ে দিঘিটিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় বেশ কিছু মন্দির। এসব মন্দিরের মধ্যে আছে শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, শিব মন্দির, শীতলা মন্দির, বিশ্বকর্মা মন্দির, লোকনাথ মন্দির ইত্যাদি। দিঘির উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে একটি শ্মশান এবং শ্মশান কালীমন্দির।
দিঘিটির পরিমাপ প্রায় ৪ দশমিক ৫০ একর। উত্তর-দক্ষিণ লম্বালম্বি এ দিঘির তিনটি ঘাট রয়েছে। দুটি পূর্ব দিকে, একটি উত্তর দিকে। এর সীমানাপ্রাচীর রয়েছে তিন দিকে। পূর্ব দিকে কোনো প্রাচীর নেই। এতে সারা বছর পানি থাকে। একসময় এর পানি ছিল স্বচ্ছ ও সুপেয়। এখন অবশ্য নেই। এই দিঘির আশপাশ এলাকার কয়েক লাখ লোক এর ওপর নির্ভরশীল। যখন ওয়াসার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে তখন দক্ষিণগাঁও, নন্দীপাড়া, মানিকদী, বাসাবো, মাণ্ডা, মাদারটেক, গোড়ান প্রভৃতি এলাকার মানুষ এর পানি ব্যবহার করে। তারা রান্নাবান্না থেকে শুরু করে গৃহস্থালির সব কাজে এর পানি ব্যবহার করে।
দিঘিটি জীববৈচিত্র্যের অফুরন্ত আধার। এতে নানা ধরনের মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণীও রয়েছে। আগে শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখি এসে আশ্রয় নিত। এখন আর দেখা যায় না। দিঘিটি স্থানীয়ভাবে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য মানুষ এসে এর পাড়ে বসে আড্ডা দেয়, গল্প-গুজব করে। এ জন্য এর পাশে কয়েকটি পাকা বেঞ্চ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এর দক্ষিণ দিকে অসংখ্য রিকশা আর উত্তর পাড়ে বস্তি থাকায় সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। দিঘিটিকে কেন্দ্র করে আরো আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা যায়।
মোগল সেনাপতি মানসিংহের স্মৃতিবিজড়িত প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এ গঙ্গাসাগর ঢাকার একমাত্র দিঘি। প্রজাহিতৈষী মানসিংহ এ দিঘির মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছেন। দেবোত্তর সম্পত্তির অধীন এ দিঘির আশপাশের বেশ কিছু জমি এরই মধ্যে ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। আরো জমি আত্দসাতের জন্য তারা তৎপর। খনন করার পর আজ পর্যন্ত এটি সংস্কার করা হয়নি। দিঘিটি সংস্কারের মাধ্যমে পাড় বাঁধাই করে একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
স্বপন কুমার দাস

Wednesday, May 19, 2010

দারুশিল্প

0 comments
উপমহাদেশে কাঠ খোদাই শুরু হয়েছে মৌর্য আমলে বা তার কিছু পূর্বে। কিন্তু সেই শিল্প বাংলাদেশে এসে পৌঁছতে এবং বহুল প্রচলিত হতে আরো কয়েক শত বছর লেগেছে। গুপ্ত যুগের পূর্বের কাঠ খোদাইয়ের কিছু নিদর্শন বাংলাদেশের নানা স্থানে পাওয়া যায়। কাঠ খোদাইয়ের মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন আসবাবের অলংকরণ করাই তখনকার সময় প্রাধান্য পেত। অল্প কিছু ভাস্কর্যের কাজও তখনকার সময় প্রাধান্য পেত। তবে তখনকার মানুষ কাঠের থেকে পাথর খোদাইয়ের মাধ্যমে ভাস্কর্য নির্মাণে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। দারুশিল্পের একাল ও সেকাল নিয়ে লিখেছেন সাজিদুল হক শুভ

দারুশিল্প বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্প। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে সময়ের পরিবর্তনের সূত্র ধরে দারুশিল্প পরিণত রূপ পরিগ্রহ করেছে। দারুশিল্প কবে থেকে শুরু হয় সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি। মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, ময়নামতি, মহাস্থানগড়, কান্তজির মন্দির ইত্যাদি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন খননের ফলে যে ভাস্কর্য পাওয়া গেছে সেগুলো মাটির, কাঠের নয়। এর অর্থ এই নয় যে, তখনো দারু শিল্পের উদ্ভব হয়নি। প্রতœতাত্ত্বিক খননে কাঠের সামগ্রী তথা কাঠের ভাস্কর্য বা যে কোনো ধরনের কাজের অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ সম্ভবত কাঠের ক্ষয়িষ্ণুতার জন্য। কাঠের এই ক্ষয়িষ্ণুতার পেছনে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ, ঝড়, বন্যা, প্লাবন, আগুন ইত্যাদি কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে। আর তাই সময়ের দীর্ঘ সেতু পেরিয়ে কাঠের খোদাই শিল্প অতীত ঐতিহ্য হিসেবে বর্তমানে এসে দাঁড় হতে পারেনি। তবে প্রাচীন প্রস্তর যুগের শুরু থেকেই কাঠের দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবহার ও শৈল্পিক নিদর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়। প্লাইস্টোসিন পর্বের মাঝামাঝি সময়কালে ইংল্যান্ডে ক্ল্যাকটন-অন-সিতে মধ্যপ্রস্তর যুগের হাতিয়ারের সঙ্গে কাঠের তৈরি বর্ষা ফলক পাওয়া গেছে। মৌর্য-পূর্ব যুগ থেকে বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সূত্রধর সম্প্রদায় দারুশিল্পের কাজে অভ্যস্ত ছিল, যার প্রবহমান ধারা আজও চলে আসছে।

ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণে প্রাচীনকাল থেকেই উপমহাদেশে কাঠের ওপর খোদাই করে নকশা বা ভাস্কর্য তৈরি করার শিল্প অনেক জনপ্রিয় ছিল। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এ অঞ্চলে কাঠ খুবই সহজলভ্য। তখনকার দিনে ভাস্করদেরকে খুবই নীচু শ্রেণীর মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো। সপ্তম শতকের শেষার্ধে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাস নতুন ঝাঁক নিতে আরম্ভ করে। শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেই নয়, তার সাথে সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি সাধন হয়। সূত্রধর সম্প্রদায় অষ্টম ও নব্বই শতাব্দীর সময় এ অঞ্চলে কাঠের বিভিন্ন ভাস্কর্য, রাজা-জমিদারদের ব্যবহার্য খাট-পালঙ্কসহ বিভিন্ন দেব-দেবী, কারুকার্যময় দরজা ইত্যাদি তৈরি করেছিলেন, যেগুলো সেসময়ের তৈরি পাথরের ভাস্কর্য ও শিল্প মাধ্যমের চেয়ে অধিকতর প্রাচীন, শিল্পসম্মত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। পরবর্তী সূত্রধর সম্প্রদায়ের সৃষ্টিকর্ম ধারাবাহিকতায় বাস্তুবিদ্যা থেকে ভাস্কর্যে পরিণত হয়।

অষ্টম শতকের পর থেকে স্বাধীন সুলতানি আমলের শেষ পর্যন্ত দারুশিল্প একটা জায়গাতেই আটকে ছিল- আসবাবপত্র অলংকরণ ও তৎকালীন রাজাদের বা রাজপরিবারের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং দেব-দেবীদের মূর্তি নির্মাণ- এই ছিল দারুশিল্পের ব্যাপ্তি। কিন্তু এই উপহাদেশে ইংরেজদের আগমনের পরে থেকে পরিবর্তন ঘটতে থাকে দারুশিল্পের ইতিহাস। কাঠকে আরো অনেক কাজে শৈল্পিকভাবে ব্যবহার করতে শেখায় ইংরেজরা। ইংরেজরা আগমণের পূর্বে প্রায় সমস্ত মূর্তিই পৃষ্ঠপটযুক্ত ফলকে বা খণ্ডে উৎকীর্ণ হতো। সময়ের পরিবর্তনের সাথে ফলক-উৎকীর্ণ ভাস্কর্য ক্রমেই পৃষ্ঠপট-নিরপেক্ষ হতে থাকে। কিন্তু মজার ব্যাপারটি লক্ষ করার মতো হচ্ছে ভাস্কর্যগুলির চোখ। মূর্তিগুলো কখনো একান্তভাবে সমতলবদ্ধ দৃষ্টি থেকে যুক্ত হতে পারেনি। ইংরেজরা এই উপহমাদেশে ছাপার কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাঠ ব্যবহার করতে শেখায়। এমনকি শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে উড কাঠের ব্যবহারও এ সময়েই শুরু হয়। ১৯শ শতকের প্রথম দিকে ঢাকায় প্রথম সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য একটি প্রেস স্থাপন করা হয়। সেখানে মূলত কাঠের ব্লক কেটে সেগুলো দিয়েই ছাপানোর কাজ চালানো হতো। পরবর্তীতে কাপড়ের নকশা করার ক্ষেত্রে কাঠের ব্লকের ব্যবহার শুরু হয়। ১৯শ শতকের পুরো ভাগটা জুড়ে ছিল দারুশিল্পের জয়জয়কার। তখন এদেশে আসা বহির্বিশ্বের সবাই উপমহাদেশের এই শিল্পের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করে। মূলত এ কারণেই এই শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে তখন। তাছাড়া কাঠ কাটা ও সংরক্ষণের আধুনিক সব পদ্ধতি ও উপাদানের আবিষ্কারের কারণে সকলকেই অধিক পরিমাণে কাঠের তৈরি জিনিসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু আরো পরে, বিংশ শতকের শুরুর ভাগে ধাতব পদার্থের প্রচুর ব্যবহার ও সহজলভ্যতা দারুশিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, যার কবল থেকে আজও বের হয়ে আসতে পারেনি এই শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও দারুশিল্প শিক্ষা দেওয়া হয়। চারুকলা অনুষদে ভাস্কর্য বিভাগ ও কারুশিল্প বিভাগে এই শিল্পের চর্চা করা হলেও বাস্তবিক এর প্রয়োগ খুবই কম। ১৯৮১ সালে দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে কাঠের ভাস্কর্যের মাধ্যমে স্বর্ণ জিতে তরুণ শিল্পী রাসা সবাইকে চমকে দিলেও বর্তমানে হাতে-গোনা কয়েকজন শিল্পী ব্যতীত তরুণ প্রজন্মের কাউকেই এ ধারায় উৎসাহী হতে দেখা যায় না। অলোক রায়, রাসা, এনামুল হক এনাম- এমন হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী ব্যতীত সবাইকেই দেখা যায় পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী দারুশিল্পের বদলে তারা আধুনিক মেটাল বা প্লাস্টারে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। এমনকি ছাপাখানা বা কাপড়ের নকশার ক্ষেত্রেও এখন কাঠের ব্লকের বদলে মেটালের ব্যবহার হচ্ছে, যা এই শিল্পের ভবিষ্যৎ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ভাস্কর রাসার মতে, সংরক্ষণের বাড়তি কষ্ট, সময়সাপেক্ষ কাজ এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবই এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশের প্রাচীন কাঠের ভাস্কর্যের ঐতিহ্যকে রক্ষা করে আধুনিক কাঠের সাম্প্রতিক ভাস্কর্যের গতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, আগের কাঠের ভাস্কর্যের মতো শুধু ধর্মকে কেন্দ্র করে ভাস্করদের চিন্তা, চেতনা, অনুভূতির প্রকাশ হয়ে উঠতে শুরু করেছে ভাস্কর্য মাধ্যম। কিন্তু দারুশিল্পের বর্তমান গতি এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদেরকে সন্দিহান করে তোলে। ভবিষ্যতে কি জাদুঘরের সজ্জাতেই ব্যবহৃত হবে বাংলার প্রাচীন শিল্পের এই নিদর্শন!

ঢাকা

0 comments
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ইতিহাস ঐতিহ্যে ঐশ্বর্যবান এক আনন্দ নগরী ঢাকা। দেশের জনপ্রিয় নদী বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে এই ঢাকার অবস্থান। সময়ের পালাক্রমে একে একে ৪০০ বছর অতিক্রম করেছে ঢাকা নগরী। বিশ্বের বহু দেশের অগনিত মানুষের প্রিয় এই নগরী। বাঙালিদের কাছে বরাবরই এক স্বর্ণালি স্বপ্নের নাম ঢাকা। মুঘল শাসন থেকে শুরু করে বহু উচ্চ বংশের শাসকরা এই ঢাকাকে ভালোবেসেছেন প্রাণ ভরে। কেউ কেউ একে করেছেন রাজধানী। কেউ এই সুন্দর তিলোত্তমা ঢাকার বুকে গড়ে তুলেছিলেন উদ্যান, নির্ভরতার আবাস-স্বরূপ বিশাল প্রাসাদ-প্রমোদ খানা। পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত ঢাকা বাণিজ্যের সাফল্যস্থান হিসেবে। কালে কালে নানা দেশের, নানা জাতির, নানা গোত্র-বর্ণের ব্যক্তিরা এখানে বাণিজ্য করেছেন, গড়েছেন নিজেদের ভাগ্য আর ঢাকাকে দান করে গেছেন হৃদয়-নিংড়ানো ভালোবাসার সবুজ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসকরাও লোভ পড়েছিলেন ঢাকার। বিভিন্ন বইয়ে তাদের ঢাকা প্রেমের উক্তি পাওয়া যায়। তছাড়া ব্রিটিশদের আঁকা ছবিসহ অনেক তোলা ফটোও সেই সাক্ষীই দেয়। এদেশের সকল অধিকার, স্বাধিকার আদায়ের সবসময় অগ্রণী অবদান এই ঢাকার। দেশ তথা পৃথিবী-বিখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার বিরাট গর্ব। এমনই হাজার গর্ব বুকে ধারণ করে বিগত ৪০০ বছর যাবত গর্বিত করে আসছে ঢাকা সমস্ত ঢাকাবাসীদের, এদেশের বাঙালিদের। সময় গতিমান। ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করে এগিয়ে চলে অবিরাম, ক্লান্তিহীন। সেই অবিরাম যাত্রার অতীত হয় বিশাল ইতিহাস। সেই ইতিহাসের ভাষায় ভর করে আজ ঢাকা সভ্যতার অনন্য ধারক। আধুনিকতার চরম যুগের হাওয়া গায়ে মেখে তিলোত্তমা ঢাকা আজ আধুনিক নগরী। তথ্যপ্রযুক্তিতে পরিপূর্ণ সম্ভাব্য গতিশীল বাংলাদেশের পনেরো কোটি হৃদয়ের স্বপ্নের রাজধানী। এ আমাদের যেমন গর্বের তেমনই আচে বিশাল কিছু হতাশা ও দুশ্চিন্তা। অপরিকল্পিত নগরায়ন আর অবিবেচনামূলক কর্মকাণ্ডে ঢাকার আজ ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি। স্রোতস্বিনী বুড়িগঙ্গা আজ ঢাকার ঘৃণা, দুঃখ ব্যাখ্যা নিতে নিতে মৃতপ্রায়।

ঝাপান খেলা

0 comments
                                                               ০০ মোঃ মেহেদী তানজির ০০
মূলত মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে বিশেষত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আয়োজিত হয় ঝাপান খেলা। একাধারে এটি একটি কৃত্য এবং সাপুড়েদের প্রতিপত্তি প্রদর্শনের লড়াই। স্থানীয় ভাষায় ঝাপাঝাপি থেকেই ঝাপান শব্দটির উৎপত্তি। ঝাপাঝাপি অর্থাৎ নৃত্য-গীত সহকারে জীবন্ত সাপের সহায়তায় ঝাপান খেলা পরিবেশিত হয়ে থাকে। আর এই গীত সংগ্রহ করা হয় পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল থেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাধানাথ রচিত পদ্মপুরাণ হতে গান সংগ্রহ করা হয় বলে জানা যায়। সুতরাং বলা যেতে পারে জীবন্ত সাপের উপস্থিতিতে নৃত্য ও গীতের সহায়তায় মনসার জীবনকাহিনীনির্ভর একটি ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা হলো ঝাপান খেলা।

নদীবিধৌত এ বনাঞ্চল পরিপূর্ণ এই বাংলায় সাপ একটি ভয়ানক প্রাণী। গ্রামে প্রায়ই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর কথা জানা যায়। এরই ফলশ্রুতিতে সাপকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রচলিত হয় বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ। আর দেবী মনসা হলেন সাপের দেবী, তাই তাকে সন্তুষ্ট রাখা অপরিহার্য। তাই মনসাকে সন্তুষ্টির জন্যই মূলত কৃত্যানুষ্ঠান হিসেবে ঝাপান খেলা প্রদর্শিত হয়। আর এই পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করনে সাপুড়েরা। যেখানে তাদের সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণের বিশাল একটি পথ হলো ঝাপান। কারণ ঝাপান খেলায় মনসার উদ্দেশ্যে গান-নাচের পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় সাপকে নিয়ে বিভিন্ন বিপদজনক খেলা। যে সাপুড়ে যত বেশি বিপদজনক খেলা প্রদর্শন করতে পারে সে তত বেশি সাফল্যের দাবিদার। তাই আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে উপনীত হয় সাপুড়েরা। তৈরি করা হয় দুইটি পক্ষ। একটি মনসাকেন্দ্রিক অপরটি চাঁদবণিক। পালাগানের মতো দুই দল উপস্থাপন করে মনসামঙ্গল ভিত্তিক নানা প্রশ্ন এবং একই সাথে দিয়ে চলে প্রতিপক্ষের প্রশ্নের উত্তর। মূলতভোর বেলায় কোনো বাগানে বা গাছের ছায়ায় চারিদিকে দড়িদিয়ে নির্দিষ্ট করা হয় আসর এবং আসরের মাঝখানে কাঠের চকি দিয়ে উঁচু করে তৈরি করা হয় সাপ খেলার স্থান। সাপকে নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থেই মূলত সকালে এবং উঁচু স্থানের ব্যবস্থা করা হয়। খেলাটির শুরু থেকেই পৃথক দুই দল নিজস্ব ঢঙে স্বপক্ষে গানের মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপন করে তার মতামতের সঠিকতা প্রদর্শনে লিপ্ত থাকে। এখানে মনসার জন্ম, দেবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। চাঁদের বিরোধিতা, বেহুলা-লখিন্দরের জন্ম, বাসরঘরে সাপের দংশন, ভাসানো এবং জিয়ানসহ মনসামঙ্গলের সকল বিষয়ই উঠে আসে। সাপুড়েরা পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে তার জানা প্রচুর সুরের ভাণ্ডার হতে উপযুক্ত সুর নির্বাচন করে তাৎক্ষণিক গান শুরু করে দেন। অবশেষে গাওয়া হয় জোড়-পাল্লার গান। যেখানে দুই দলই নিজেদের আপসহীন অবস্থা হতে সরে এসে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে ভ্রাতৃত্বমূলক অবস্থা তৈরি করে। এরই পর শুরু হয় সবচাইতে আকর্ষণীয় সাপের খেলা। যেখানে প্রত্যেক ওঝা তাদের মাহাত্ম্য প্রচারে উন্মুখ হয়ে ওঠে। অনেক সময় দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী জীবন্ত সাপকে কামড়ে খেতে পর্যন্ত দেখা যায় সাপুড়েদের। একই সঙ্গে খেলা এবং নাট্যিক ক্রিয়ার সংমিশ্রণ ঘটানো হয় ঝাপান খেলায়, যেখানে আগে থেকেই ফলাফল জানা থাকে যে, দুই দলা জোড়া-পাল্লার গানের মাধ্যমে একত্রিত হবে। তথাপি সাপের খেলা প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং একই সাথে পাল্টা গানের মাধ্যমে তৈরি করা হয় থিয়েটারের এক নতুন মাত্রা। নাটক বা থিয়েটারকে যে নতুনভাবে দেখা সম্ভব, তার আদর্শ আইকন হলো ঝাপান খেলা। খেলার মাধ্যমে পেশাগত উৎকৃষ্টতা প্রচার এবং একই সাথে মনসার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে কৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে ঝাপান খেলায় তৈরি করা হয় বহু মাত্রা, যা কিনা আমাদের লোকজ সংস্কৃতিরই রন্ধ্রে অবস্থান করছে।

Monday, May 17, 2010

বিজ্ঞান জাদুঘর

39 comments
দেশের একমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে। ছিল অল্প কিছু সংগ্রহ। কিন্তু আজ আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে রয়েছে বেশ সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। তবে তা বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের তৃষ্ণার কাছে নগণ্য। বিশ্ব জাদুঘর দিবস উপলক্ষে সেই জাদুঘর নিয়ে বিস্তারিত লিখছেন সমুদ্র সৈকতজাদুঘর প্রাঙ্গণে ঢুকেই দেখি ইয়া বড় এক ডাইনোসর হা করে আছে। ১৯৯০ সালে শিল্পী তপন কুমার দাসের তৈরি এই ডাইনোসর এতটাই জীবন্ত যে দেখামাত্রই ৬০০ কোটি বছর আগের ভয়ঙ্কর পৃথিবীর চিত্রকল্প ভেসে উঠে। পাশেই মো. শাহজাহান মৃধার নির্মিত 'এ আর খান সূর্যঘড়ি'। ঘড়িতে সকাল ১০টার কাঁটা ছুই ছুই করছে। পাঁচ টাকার টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম জাদুঘরে। ছয় কোনাকার কাচের ঘরে ছাদ থেকে ঝুলছে ৬১ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২৭ কেজি ভরের 'ফুকোর দোলক'। ভর ও দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় এটি সঠিক মান দেয়। একপাশে অ্যাকুরিয়ামে জীবন্ত হরেক রকম রঙিন মাছ। সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষুদ্র প্রয়াস।
ভৌত বিজ্ঞান গ্যালারিতে বিজ্ঞানের নানা সূত্রের প্রমাণ দেখানো হয়। নিউটনের প্রথম সূত্রের পরীক্ষা করে দেখাচ্ছিলেন গ্যালারির তত্ত্বাবধায়ক। তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে আসা উৎসুক ছাত্ররা। পাশে থাকা পেরিস্কোপে চোখ লাগিয়ে কেউ দেখছে বাইরের বাগানটাকে।
সত্যেন্দ্রনাথ বসু কর্নারে সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত এক্সরে টিউবের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। বিপরীত পাশেই কুদরাত-ই-খুদা কর্নার। সেখানে 'কেটো ল্যাকটম টটোমারিজম'-এর জন্য বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর ব্যবহৃত চশমা, ঘড়ি, কলম, সিল, সিলের প্যাড, পেপার ওয়েট প্রভৃতি রাখা।
এরপরই আছে 'নিজের সঙ্গে ভোজন' নামের একটি বিশেষ কক্ষ। সেখানে এমনভাবে আয়না বসানো আছে যে, চেয়ারে কেউ বসলে তার মনে হবে তিনি তার ছায়াকে সঙ্গে নিয়ে বুঝি খেতে বসেছেন। তার পরের গ্যালারিতে হাঁটতে গিয়ে দেখি আয়নায় আমার প্রতিবিম্ব চলে যাচ্ছে বিপরীত দিকে। আয়নার কারসাজির নাম দেওয়া হয়েছে 'ভৌতিক হাঁটা'। তার পাশে আরেকটি আয়নাঘর। সেখানে প্রতিফলন ব্যবহার করে গোলক ধাঁধার মতো তৈরি করা হয়েছে।
চন্দ্র মানচিত্রের পাশে আনুশেহ আনসারি কর্নার। আনসারিই প্রথম নারী, যিনি সম্পূর্ণ নিজের খরচে ২০০৬ সালের ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে ঘুরে এসেছেন। এ কর্নারে তাঁর ২টি ব্যাজ, পিন ও স্বাক্ষরিত একটি ছবি আছে।
শিল্পপ্রযুক্তি গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে ১৯৬৫ সালে বিটিভি-র ব্যবহৃত প্রথম ক্যামেরা। আছে একটি পুরনো ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোস্কোপও। পুরনো হলেও এর সাহায্যে বস্তুর দশ লাখ গুণ বড় প্রতিবিম্ব দেখা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন হয় টাংস্টেন ফিলামেন্টের সাহায্যে উৎপন্ন পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ ভোল্ট বিদ্যুৎ।
জাদুঘরে আছে চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা, চিনির কল, কর্ণফুলী কাগজ কল এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মডেল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রদানকৃত মিসাইল বোটের মডেল, জাইরোস্কোপচালিত দিক নির্দেশক যন্ত্র জাদুঘরের ব্যতিক্রমী সংযোজন। আছে ৬০০ কেজি ওজনের বলাকা বিমানের একটি ইঞ্জিন। এটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপহার দেওয়া হয়েছিল।
প্রযুক্তি গ্যালারির একটি কক্ষে দেখা যাবে কম্পিউটারের বিবর্তন। এখানে আছে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে আনা প্রথম এনালগ কম্পিউটার আইবিএম ১৬২০। পরমাণু শক্তি কমিশন যেটা ব্যবহার করত। একটু দূরেই আইবিএম ১৪০১, দেখতে অতিকায় আলমিরার সমান।
এই গ্যালারিতে নতুন সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক 'টাচ স্ক্রিন কম্পিউটার'। যাতে আঙুলের স্পর্শে নিমিষেই দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন জাদুঘরের সব তথ্য।
হাঁটতে হাঁটতে দোতলায়। এখানে আছে মজার বিজ্ঞান গ্যালারি। ক্যালিডোস্কোপ নামের একটি যন্ত্রে তিনটি সমতল আয়নাকে সমবাহু ত্রিভুজের তিনবাহুর আদলে বসিয়ে রঙিন তরলের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে মনোরম দৃশ্য। 'বহুরূপী ছবি' অংশে দেখলাম ময়ূরের নানা রূপ। 'ছিন্ন মস্তক' প্রজেক্ট যে কাউকে আনন্দ দেবে। ঊর্ধ্বমুখী বৈদ্যুতিক আর্কটি চমৎকার। পরিবাহী দুটি দণ্ডের মধ্য দিয়ে ২৫ হাজার ভোল্ট বিভব পার্থক্য যুক্ত করলে বিশেষ তড়িৎক্ষরণ সৃষ্টি হয়। তখন তার পাশের তিনটি রিংয়ের ঘূর্ণন দেখে যে কারও দৃষ্টিভ্রম হতে পারে।
মজার বিজ্ঞান গ্যালারির অন্য কক্ষের একপাশজুড়ে আছে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের ছবিসহ নাম, জন্ম-মৃত্যু সাল ও অবদানের কথা। গ্যালারিতে রোবট, লাভা ল্যাম্প, সৌরজগত এবং ভাসমান বলের মডেল আছে। দেওয়ালে কারুকার্যমণ্ডিত বিশাল এক গ্র্যান্ড ফাদার ক্লকের পেন্ডুলামও দোল খাচ্ছে অবিরাম।
জীববিজ্ঞান গ্যালারিতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি তিমি কি না শুয়ে আছে খটখটে ডাঙ্গায়! না, এটা তিমির কঙ্কাল, বঙ্গোপসাগর থেকে সংগৃহীত। পাশেই রাখা ১৯৯৬ সালের প্যানজেটিক ডলফিন। গ্যালারির একটা অংশে মাতৃগর্ভে ভ্রূণ থেকে ৯ মাস বয়স পর্যন্ত মানুষের বিকাশ দেখানো হয়েছে। পাশে ডিএনএ এবং আরএনএ-এর মডেল। করাত মাছের তিন হাত লম্বা সাদা কাঁটাযুক্ত করাতটি দুর্লভ সংগ্রহ। স্টাফিং এবং অ্যালকোহলের দ্রবণে সংরক্ষিত আছে নানা ধরনের পশু, পাখি, সাপ, ব্যাঙ। অক্টোপাস, সামুদ্রিক শামুক, বাজপাখি, বাদুড়, হনুমান, বনরুই, ঘড়িয়ালের নমুনাগুলো দৃষ্টিনন্দন। আলো ছড়াচ্ছে ১৯৯৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাপানের আসিমা দ্বীপপুঞ্জ থেকে সংগৃহীত লাভার অংশবিশেষ। গ্যালারির একদিকের দেয়ালে সংযুক্ত ডাইনোসরের বিবর্তন ও বিলুপ্তির সচিত্র বর্ণনা। পতঙ্গভূক ড্রসেরা বা সূর্যশিশির, ইউট্রিকুলারিয়া বা ঝাঁঝি, ডায়োনিয়া এবং কলসী গাছও যে কাউকে বিস্মিত করবে।
বিজ্ঞান জাদুঘরের পক্ষ থেকে প্রতি শনি ও রবিবার সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টা মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে আধুনিক টেলিস্কোপ দ্বারা যে কেউ দেখতে পারেন বলয়সহ শনি, পৃথিবীর নিকটবর্তী শুক্র কিংবা রহস্যময় লালচে মঙ্গল গ্রহ। সময় ধরে জাদুঘরে এলে দেখা পাওয়া যেতে পারে চাঁদের ভেতরের শুষ্ক সাগর, গর্ত কিংবা চাঁদের পাহাড়।
কথা হলো জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর সুকল্ল্যান বাছাড়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমরা খুব শিগগির ১৭টি নতুন নমুনা জাদুঘরে সংযোজন করতে যাচ্ছি। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান জাদুঘরের কাজও অনেকখানি এগিয়ে গেছে।'

মুন্সীগঞ্জ

0 comments
রাজধানী থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক জনপদ মুন্সিগঞ্জ। এর উত্তরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা, পূর্বে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলা এবং পশ্চিমে ঢাকা ও ফরিদপুর জেলা। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি ও শীতলক্ষা এ জেলার প্রধান নদী। এ জেলার বেশিরভাগ বেড়ানোর জায়গাই প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনাকেন্দ্রিক। কড়চার এবারের বেড়ানো একদিনে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণ।

ইদ্রাকপুর দুর্গ

মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে পুরনো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরের ইদ্রাকপুরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে এটি আয়তনে কিছুটা ছোট। সে সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি। সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোণে রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। দুর্গের ভেতর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। বাংলাদেশে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নির্দশন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে।

রামপাল দীঘি

জেলার রামপালে অবস্থিত। বিক্রমপুরের রাজধানী রামপালের রাজা বল্লাল সেন জনগণের পানীয় কষ্ট দূর করার জন্য এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। কিংবদন্তি আছে, বল্লাল সেনের মা প্রজাদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে তাকে একটি দীঘি খনন করার আদেশ দেন। বল্লাল সেন মাকে আশ্বাস দেন, তিনি (মা) যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততটুকু জায়গা নিয়ে দীঘি খনন করে দিবেন। পরের দিন সকালে তার মা দক্ষিণ দিকে হাঁটতে শুরু করেন। বল্লাল সেন দেখলেন তার মা অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে চলে গেছেন। তখন তার অসুস্থতার সংবাদ পাঠালে তিনি ফিরে আসেন। সেদিন বল্লাল সেনের মা যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততটুকু দীর্ঘ দীঘি খনন করেন বল্লাল সেন।

বল্লালবাড়ি

রামপাল দীঘির উত্তর পাশে অবস্থিত বল্লাল সেনের বাড়ি। এখানে ছিল বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ ও একটি পরিখা। বর্তমানে পরিখার চিহ্ন থাকলেও রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বাবা আদম শহীদ মসজিদ

জেলার রামপালের রেকাবি বাজার ইউনিয়নের কাজী কসবা গ্রামে অবস্থিত বাবা আদম শহীদ মসজিদ। এর কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের উপরের একটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, সুলতান ফতেহ শাহ’র শাসনামলে, ১৪৮৩ সালে মালিক কাফুর মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১০.৩৫ মিটার ও ৩.৭৫ মিটার। এর দেয়াল প্রায় ২ মিটার পুরু। মসজিদের উপরে দুই সারিতে ছয়টি গম্বুজ আছে। মসজিদের পাশেই আছে বাবা আদমের সমাধি। জনশ্রুতি আছে, বল্লাল সেনের রাজত্বকালে বাবা আদম নামে একজন ব্যক্তি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন। বল্লাল সেনের নির্দেশে বাবা আদমকে হত্যা করা হলে তাকে এখানে সমাহিত করা হয়।

মীরকাদিম পুল

মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মীরকাদিম খালের ওপর নির্মিত মুঘল আমলের পুল। প্রায় ৫২.৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের এ পুলটি বেশ কয়েকবার সংস্কারের ফলে এর পুরনো রূপ এখন আর নেই। চুন-সুরকিতে তৈরি এ পুলটির সঠিক নির্মাণকাল জানা যায়নি।

পণ্ডিতের ভিটা

সদর উপজেলার বজ্রজোগিনী ইউনিয়নের সোমপাড়ায় অবস্থিত শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের বসতভিটা। বর্তমানে এখানে থাই স্থাপত্য রীতিতে তৈরি একটি স্মৃতিসৌধ বর্তমান।

শ্যাম শিদ্ধির মঠ

জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত এ মঠ। মঠটির দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথের উপরের বাংলা শিলালিপি অনুযায়ী, ১৮৩৬ সালে জনৈক শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। ইট নির্মিত বর্গাকোর এ মঠের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার এবং উঁচু প্রায় ২০ মিটার।

সোনারং জোড়া মঠ

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি মঠ। এর বড়টি শিবের উদ্দেশ্যে এবং ছোটটি কালীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। শিব মন্দিরটি ১৮৪৩ সালে এবং কালী মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মিত। জানা যায়, রূপচন্দ্র নামক এক হিন্দু বণিক এর নির্মাতা।

পদ্মা রিজর্ট

জেলার লৌহজংয়ে পদ্মার চরের মনোরম একটি জায়গায় নির্মিত পদ্মা রিজর্ট। এখানে আছে কাঠের তৈরি ষোলোটি কটেজ। পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে থাকা-খাওয়ারও সুব্যবস্থা আছে। এখানকার রেস্তোরাঁটির খাবার মানও ভালো। কটেজে অবস্থান না করতে চাইলে শুধু জায়গাটি বেড়িয়ে আসা যায়। পদ্মা রিজর্টের আগাম বুকিং দেয়া যাবে এই নম্বরে ০১৭১৩০৩৩০৪৯।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও জলপথে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান ও বঙ্গভবনের দক্ষিণ পাশ থেকে নয়ন পরিবহন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট ছাড়াও বেশ কিছু বাস মুন্সিগঞ্জ যায়। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে ছোট ছোট কিছু লঞ্চ, চাঁদপুরগামী সব বড় লঞ্চই মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি স্টেশনে থামে। ভাড়া ১৫-২০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

ঢাকা থেকে দিনে দিনে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণ শেষ করে ফিরে আসা সম্ভব। তাছাড়া জেলাশহরে থাকার সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের দু-একটি হোটেল হলো- হোটেল থ্রি স্টার (০১৭১৫৬৬৫৮২৯, ০১৭১৫১৭৭৭১৬) এবং হোটেল কমফোর্ট। এসব হোটেল ১৫০-৬০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। ভ্রমণে গেলে মুন্সিগঞ্জের জায়গাগুলো দেখে সবশেষে পদ্মা রিজর্টে (০১৭১৩০৩৩০৪৯) এসে থাকলে ভালো লাগবে।

আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম

0 comments
আর্ত মানবতার সেবায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি প্রতিষ্ঠিত নাম। অসহায় দরিদ্রদের নানা ভাবে সাহায্য করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম থেকে যেসব সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে বেওয়ারীশ লাশ দাফন, এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, এতিম খানা পরিচালনা, বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান ইত্যাদি। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম পরিচালিত এতিম খানায় ছেলে এবং মেয়ে উভয় এতিম শিশুদের লালন পালন করা হয়। এছাড়া আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কর্তৃক বঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিক্ষা প্রদান করা হয়। আর আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হচ্ছে বেওয়ারীশ লাশের দাফন সম্পন্ন করা। এছাড়া কোনো লাশের ওয়ারীশ খুঁজে পেতেও এই প্রতিষ্ঠান সাহায্য করে থাকে। আঞ্জুমান মফিদুলের রয়েছে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সারা ঢাকা শহরে বিনামূল্যে পরিচালিত হয়। আর ঢাকার বাইরে স্থান ভেদে এরজন্য চার্জ দিতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জন্য যোগাযোগ করতে হবে- ৯৩৩৬৬১১ নম্বরে। অন্যান্য তথ্যের জন্য- ৭১১৯৮০৮।

Sunday, May 16, 2010

বাংলার গাড়ী

0 comments
বাংলাদেশের প্রচীন যানবাহন গুলো বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে। নিছে কিছু গ্রামীন ও আধুনিক যানবাহনের বনর্ণা করা হলো। বর্তমান সময়ে যেগুলোর বেশীর ভাগ ভীনদেশ কিন্তু আমাদের সামাজিক জীবনের সাথে অতঃপ্রতভাবে মিশে গেছে।
পালকি
আমাদের দেশে ঠিক কবে-কখন-কীভাবে-কার মাধ্যমে প্রথম এ বাহনের প্রচলন ঘটেছিল, এ ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে ধরে নেওয়া যায়, প্রাচীনকাল থেকেই নদীমাতৃক বাংলাদেশে বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে নৌকা আর পালকি। বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণীভুক্ত লোকজন সাধারণত পালকি ব্যবহার করতেন। তখনকার দিনে পাকা কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। তাই যাতায়াতের সুবিধার জন্য পালকিই ব্যবহার করতো তারা। জমিদাররা তাদের জমিদারি দেখতে অথবা রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা পর‌্যবেক্ষণের জন্যও পালকি ব্যবহার করতেন। পালকি বা ডোলি চক্রবিহীন যান যা ছয় বেহারা তাদের ছন্দিত লয়ে হাঁটার সাথে সাথে এ গাঁও থেকে ওগাঁয়ে নাইয়র, বিয়ের কনে-বর কিংবা মান্যগণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হত। জমিদার-জোতদার থেকে শুরু করে রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের যুবতী, নববিবাহিতা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের গমনাগমনের প্রধান বাহন হিসেবে। পালকি ছাড়া তখন বিয়ে-শাদি কল্পনাই করা যেত না। বর-কনে বহন ছাড়াও নিত্যদিনের বাহন হিসেবে তখন ব্যবহৃত হতো পালকি। এই বাহনটি দেখতে ঠিক বাক্সের মতো। উপরিভাগ টিন অথবা কাঠ দিয়ে গোল করে ছাওয়া। যাত্রী বসার জন্য দেড় ফুট চওড়া, তিন ফুট লম্বা এবং আড়াই ফুট উঁচু করে চারপাশে শক্ত কাঠ দিয়ে আসন থাকে। আগে পালকির মালিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত, কার পালকিতে কে কত বেশি কারুকাজ করতে পারে। তেমনি প্রতিযোগিতা চলত, কোন বেহারা ভালো সুরে গান গাইতে পারবে। 'উহুম না-রে-উহুম না... ' এই সুরেলা ধ্বনি পালকির এ গান বেহারাদের ক্লান্তি মোচনের পক্ষে বিশেষ সহায়ক।এই বাহনটির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বেহারারা। কিন্তু সমাজে তাদের কোনো মর‌্যাদা নেই। আগে জমিদারের সন্তুষ্টির জন্য যারা বেগার খাটত, প্রথমে তারাই পালকি বহন করত। কালক্রমে এদের মধ্য থেকেই সৃষ্টি হয় বেহারা শ্রেণী।
গরুর গাড়ি
 বাশেঁর মাচার সংগে চাকা লাগিয়ে তার সামনে দুইটা বলদ বেধে এই গাড়ী বানানো হয়। এগুলো মাল ও যাত্রী বহনে ব্যাবহৃত হয়। যাত্রী বাহণেরগুলোতে মাচার উপর ছই লাগিয়ে দেওয়া থাকে_রোদ, বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে।
নৌকা
 নদী মাতৃক বাংলাদেশে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য নৌকা বা নাও খুব ব্যাবহৃত হয়। আদিকালে নৌকা তৈরি হতো বড় কাঠের গুঁড়ির মাঝখানটা খোদাই করে। পরে বাঁশ, বেত, চামড়া এবং কাঠের আঁটি বেঁধে নৌকা তৈরি করা হতো। তবে শেষ পর্যন্ত কাঠই ছিল নৌকা তৈরির প্রধান উপকরণ। কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরির বিষয়গুলোকে খুব ভালোভাবেই স্থান দেওয়া হয়েছে প্রদর্শনীতে। কাঠ চেরাইয়ের আঙ্গিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটি আস্ত কাঠের গুঁড়ি ও করাত। দেখে মনে হবে, কাঠ চেরাই করা হচ্ছে। চেরাই করা কাঠকে বলা হয় তক্তা। এই তক্তা দিয়েই বানানো হয় নৌকা। নৌকা তৈরিতে লাগে পেরেক, গজাল, তারকাঁটা ইত্যাদি। তা ছাড়া ছই বানাতে লাগে মুলিবাঁশ। গজাল মেরে নৌকার বডি যখন বানানো হয়, তখন নৌকাকে বিশেষ কায়দায় কাত করে রাখা হয়।
টমটম
উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ঢাকার পথে ঘোড়ার গাড়ির দাপট ছিল প্রবল। সরদঘাট ও ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের সামনে ছিল আলাদা ঘোড়াগাড়ি স্ট্যান্ড। আর্মেনীয় ব্যবসায়ী সি. এম. সিরকো ঢাকায় প্রথম ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আসেন ১৮৫৬ সালে। তখন এর নাম ছিল 'ঠিকা গাড়ি'। সেই সময়ে যাত্রী বসার দিকটা ছিল বাক্সের মতো। সিরকোর এই গাড়ি কম সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে এই 'ঠিকা গাড়ি' ঢাকার প্রধান বাহনে পরিণত হয়। এক হিসেবে দেখা যায়, ১৮৬৭ সালে ঢাকায় 'ঠিকা গাড়ির' সংখ্যা ছিল ৬০টি। সাত বছর পর দাঁড়ায় তিন শটিতে। ১৮৮৯ সালে এর সংখ্যা হয়ে যায় দ্বিগুণ। ঢাকাইয়ারা এই গাড়িটিকে বলে 'টমটম'। উনিশ শতকের প্রথম দিকে মোটরগাড়ির আগমনে ঘোড়ার গাড়ির কদর কমতে থাকে। এখন ঢাকার পথে চলাচল করছে বিশ-বাইশটি ঘোড়ার গাড়ি। গোলাপশাহ মাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাতায়াত করে গাড়িগুলো। মাঝেমধ্যে উৎসব-অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে।
মহিষের গাড়ি
দুই দশক আগেও গ্রামের কোনো বধূর বাপের বাড়ি যাওয়ার বা স্বামীর ঘরে আসার প্রধান বাহন ছিল মহিষের গাড়ি। এখনো নাটোর সদর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া, লালপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে মহিষের গাড়ি পাওয়া যায়। অবশ্য সংখ্যায় অল্প। আজকাল মালামাল আনা-নেওয়ার কাজেই বেশি ব্যবহার হয়।  নছিমন
সাধারণ ভ্যান রিকশার চেয়ে তিনগুণ বড় তিন চাকার এই বাহনটি স্যালো মেশিনের ইঞ্জিনে চলে। মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল, হেডলাইট, মাইক্রোবাসের চাকা, কাঠের পাটাতন আর কিছু লোহা-লক্কড় দিয়ে এ গাড়ি তৈরি। প্রায় ১৪ জন যাত্রী  বহন করতে পারে। যশোরের গ্রামাঞ্চলে এই বাহন আলম সাধু নামে পরিচিত। এছাড়া করিমন, আগলামন নামেও পরিচিত এলাকা ভেদে।ভ্যান
ভ্যান তিন চাকার একটি যান যা প্রধাণত মাল ও গরু-ছাগল পরিবহণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মানুষও বহন করা হয়।রিকশা
উনিশ শ তিরিশ ও চল্লিশের দশকে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে রিকশা হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। ১৯১৯। বার্মা থেকে রিকশা প্রথম ঢোকে পূর্ব বাংলায়। চট্টগ্রামে। মজার কথা হল- ঢাকায় কিন্তু রিকশা চট্টগ্রাম থেকে আসেনি। এসেছে কলকাতা থেকে। নারায়নগঞ্জের ও ময়মনসিংহের নেত্রকোনার ইউরোপীয় পাট ব্যবসায়ীরা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কলকাতা থেকে সাইকেল রিকশা আনে। ঢাকায় চলত ঘোড়াগাড়ি, পালকি আর ধোলাই (ও অন্যান্য) খালের নৌকা। কাজেই নতুন ত্রিচক্রযানটি ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল।
ট্রাক

ট্রাক প্রধানত মাল বাহী যান্ত্রীক বাহন। সি.এন.জি. অটোরিকশা
প্রধাণত এটি রিক্সার বিকল্প যান। পার্থক্য শুধু এটি গ্যাসে চলে আর রিকশা কায়িক শ্রমে চলে।  বাস
বাস দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মানুষ পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অভ্যান্তরীন বিভিন্ন রুটেও বাস চলাচল করে। লঞ্চ
লঞ্চ একটি আধুনিক জলজ যান। যা প্রধাণত নদীতে চলাচল করে। মানুষ ও পন্যবাহী পরিবহণ।
ট্রলি
                                                                    ছবি : ফোকাস বাংলা
ব্রিটিশ আমলে রেললাইন চেক করা হতো এ ঠেলা ট্রলি দিয়ে। কিন্তু এখনো রয়েছে বহু পুরনো এ ট্রলির ব্যবহার। ছবিটি লালমনিরহাট-সান্তাহার রেললাইনের গাইবান্ধার কুপতলা এলাকা থেকে তোলা।

বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট

0 comments
এম করিম
বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেটটিসহ বাকি ৪টি মার্কেট নিয়ে বঙ্গকমপ্লেক্স করা হয়েছে। অন্যান্য মার্কেটগুলোর মধ্যে গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, মহানগর হকার্স মার্কেট এবং আদর্শ হকার্স মার্কেট, বঙ্গ বাজারসহ এই ৪টি মার্কেট নিয়ে ২০০৪ সালে বঙ্গ কমপ্লেক্স করা হয়েছে। বর্তমানে চারটি মার্কেট নিয়ে ২৩৭০টি দোকান দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মিত আছে।
১৯৭২ সালে গুলিস্তানে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ছিল ১৯৭৫ সালে তা ভেঙে দিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন মার্কেটটি ডিআইটির তত্ত্বাবধানে ছিল। পরবর্তীতে ডিআইটি রেলওয়েকে হস্তান্তর করে আবার রেলওয়ে সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করে। গুলিস্তানে পাকা মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে ডিসিসি বিকল্প হিসেবে ফুলবাড়িয়া বিকল্প মার্কেট হিসেবে স্থানান্তর করে। এই মার্কেটটিতে ১৯৯৫ সালে দু’বার আগুন লাগে। প্রথমবার প্রায় ২২’শ দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দ্বিতীয়বার আংশিক দোকান পুড়ে যায়। আগুনে পুড়ে যাওয়া মার্কেটে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা দাঁড়ায়। সেসময় সরকার ১ কোটি টাকা, ডিসিসি ৪০ লাখ টাকা এবং টিন ১১ বান সহ দোকানদারদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে মার্কেটটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। সে সময় সরকার থেকে শুরু করে সবধরনের ক্রেতার একটি সহানুভূতি ছিল মার্কেটের ওপর।
বঙ্গ কমপ্লেক্সে সবধরনের গার্মেন্টস আইটেম পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়। দোকানদাররা দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে গার্মেন্টসের প্যান্ট, গেঞ্জি, শার্ট কম দামে ক্রয় করে এই মার্কেটে বিক্রি করছে। রফতানিযোগ্য এমন ধরনের গার্মেন্টস আইটেমও এই মার্কেটে পাওয়া যায়। যে কারণে দোকানদাররা কম দামে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে এবং মুনাফা কম করে বিধায় বিক্রি ভালো হচ্ছে। ক্রেতারও বেশ সমাগম থাকে। জানা যায়, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, ভারত ও রাশিয়া থেকে বায়াররা এসে গার্মেন্টস আইটেম নিয়ে যায়। যে কোনো পণ্যসামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি হয় বিধায় খুচরা ক্রেতাগণ সে সুযোগও পাচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশের সব জেলায় বঙ্গ কমপ্লেক্সের মালামাল পাইকাররা এসে নিয়ে যায়। বঙ্গ কমপ্লেক্সের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, এখানে লাভ কম, বিক্রি বেশি। সে হিসেবে মার্কেটের সুনাম আছে। দেশ-বিদেশেও সুনাম আছে। এখানে দূরদূরান্ত থেকে অভিজাত ক্রেতাগণ খুচরা পণ্য কিনতে চলে আসে। বিভিন্ন দূতাবাসের লোকজনও আসে। তিনি জানান, বিদেশি ক্রেতার জন্য ভাসমান কিছু লোক আছে দোভাষির কাজ করে দেয়। যেমন কোনো দোকানদারের কাছে কোনো বিদেশি লোক কাপড় কিনতে আসলে দোকানদার যদি ইংরেজি বোঝে তাহলে দো-ভাষির কাজ করে দেয় ওই ভাসমান লোকজন। এতে তারা ক্রেতার কাছ থেকে বখশিসও পেয়ে থাকে মোটা অংকের। তাছাড়া এই মার্কেটে দেশি-বিদেশি শাড়ি পাওয়া যায় পাইকারি দরে। এখানে ভারত ও চায়না থেকে এলসির মাধ্যমে শাড়ি আসে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ডিসিসি থেকে সেবামূলক কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লিনার গার্ড এসব ডিসিসি’র থাকার কথা থাকলেও এগুলো সম্পূর্ণ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা নিজেরাই করেন।

বাংলায় জাদুঘর

0 comments
বাংলায় জাদুঘরের ধারণা এসছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে। শুধু বাংলায় কেন, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশে জাদুঘরের ইতিহাসের সূচনা ১৭৯৬ সালের দিকে। ভারতীয় এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্যগণ এই উদ্যোগ প্রসারের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তারা জাতিতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্তিক, ভূ-তাত্ত্বিক এবং প্রাণী বিষয়ক নমুনা সংগ্রহ এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রদশনের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস, যিনি এশিয়াটিক সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তিনি কলকাতার পার্কস্ট্রিটে একখণ্ড জমির ব্যবস্থা করেন এবং ১৮০৮ সালে এই ভবন নির্মাণ শেষ হয়। এই প্রক্রিয়ায় ১৮১৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম জাদুঘর ‘এশিয়াটিক সোসাইটি মিউজিয়াম’-এর জন্ম ও প্রতিষ্ঠা হয়। এ তো গেল ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরগুলোর গোড়াপত্তনের কথা, কিন্তু বাংলাদেশে কখন এবং কীভাবে, কোথায় সর্বপ্রথম জাদুঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করে সে কথা বলা দরকার এখন।

১৯১০ সালের এপ্রিল মাসে দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় শরৎকুমার রায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর’ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। সে মতে চলতি বছর বাংলাদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় শতবর্ষ পূরণের বছর। সরকার বা সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরসমূহে এই লক্ষে শতবর্ষ উদ্যাপনের কোনো কর্মসূচির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অথচ আমরা জানি- ইতিহাস চর্চা একটি জাতির এগিয়ে চলার পরিচায়ক। ইতিহাস অতীতকে তুলে ধরে। ইতিহাস তো মানুষেরই ইতিহাস। এর নেপথ্য সঞ্চালক তো মানুষই। মহাকালের মানুষ জীবন্ত হয়ে ওঠে তার রেখে যাওয়া বস্তু সংস্কৃতির ভেতর থেকে। অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধুন জাদুঘর। বিভিন্ন ক্যাটাগরির জাদুঘর রয়েছে আমাদের দেশেও। জাতি-তাত্ত্বিক, প্রাকৃতিক, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর ভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও এসব জাদুঘরের লক্ষ্য কিন্তু অভিন্ন তা হলো- ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতির গৌরব বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অবহিত করা এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে জনগণকে সমন্বিত করা। কীর্তিমানদের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের উজ্জ্বল স্মৃতি ধরে রাখার জন্য যেসব জাদুঘর গড়ে উঠেছে এগুলোর বিশেষ এক ঐতিহাসিক এবং সংস্কৃতিক মূল্য থাকে। বাংলাদেশে এই বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি জাদুঘর সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। যেমন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরু, চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, সিলেটে ওসমাননি স্মৃতি জাদুঘর, ময়মনসিংহে নজরুল স্মৃতি জাদুঘর, শিলাইদহের রবীন্দ্র জাদুঘর। সবচেয়ে আশার কথাটি হচ্ছে- ওই অঞ্চলে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় শতবর্ষে ঢাকা শহরে সমস্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু উল্লেখযোগ্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গত এক দশকে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য- বঙ্গবন্ধু জাদুঘর (ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (ঢাকার সেগুন বাগিচা এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত), ভাষা আন্দোলন জাদুঘর মূলত ১৯৮৯ সালে কাজ শুরু করলেও আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয় ২০০৭ সালে। ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় বর্তমান শোভা পাচ্ছে। এই জাদুঘরটির সমস্ত কার্যক্রম স্থাপিত আছে। বাঙালি সমগ্র জাদুঘর (ঢাকার এলিফ্যান্ড রোড এলাকায় ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত), জাহানারা ইমাম স্মৃতি সংগ্রহখানা (২০০৭ সালে এলিফ্যান্ট রোডে শহীদ জননীর বাড়ির একটি ফ্লোরে স্থাপিত)। যাই হোক, আজকে পাঠকদের বলতে চাই- ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের কথা।

২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষা আন্দোলনে বায়ান্নতম বছরে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারাকে সমৃদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যথাযথভাবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কীর্তিমান বাঙালির অবদান, তাদের সৃষ্টি ও কর্ম স্থায়ী সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে ২৩৫/২, এলিফ্যান্ট রোডস্থ খায়ের ম্যানসন ভবনে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠায় এই জাদুঘর তার যাত্রা শুরু করে। এ বছর সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বাঙালি সমগ্র জাদুঘর। ঢাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অন্য সব জাদুঘরের চেয়ে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর কোথায় আলাদা সে কথাই আজ সুপ্রিয় পাঠকদের জানাব। ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোড বাটা সিগন্যাল মোড় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম জায়গা। এই স্থানে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তারিক রহমান সৌরভের কাছে। তিনি বললেন, মূলত এই ভবনটি আমাদের পৈতৃক বাড়ি। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ভাড়াটে কোনো বাড়িতে পরিচালনা করা দুরূহ হতো। আর তাছাড়া, ঢাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত এই স্থানটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের দ্রুত পরিচিতির জন্যও সহায়ক হয়েছে। সর্বোপরি পরিবারের সকলের আর্থিকসহ অন্যান্য সহযোগিতাতেই এই জাদুঘর তার যাত্রা শুরু করতে পেরেছে। বলতে পারেন বিগত ছয়টি বছর ছিল বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের প্রাথমিক পর্যায়ে এগিয়ে চলা ও পরিচিতির বিস্তার ঘটানোর সময়। অবশ্য এই ছয় বছরে দুই বাঙালি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্যসেন এবং মোহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানে এসেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে তাদের মতামতও তুলে ধরেছেন। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিসেবীর ঔপদেষ্টা হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যায় থেকেই জড়িত।

উপদেষ্টা পরিষদের বিশিষ্ট জনদের সম্পর্কে পাঠকদের জানানো দরকার। একেবারে গোড়াতে নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাঙালিসমগ্র জাদুঘরের সাথে সম্পৃক্ত। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে আরো যুক্ত হন সাঈদ আহমদ, সেলিনা বাহার জামান, চলচ্চিত্রকার এম, আবদুস সামাদ (এরা তিনজনেই প্রয়াত), মোবারক হোসেন খান, অধ্যাপক আবদুল কাইউম, সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক বিশ্বজিত ঘোষ প্রমুখ। তারিক বললেন- আমরা বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের উপদেষ্টা হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বমূলক বিশিষ্টজনদের এক জায়গায় করতে চেয়েছি। উপদেষ্টারা তাদের নিজস্ব কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সবসময় বিভিন্নরকম পরামর্শ, এগিয়ে চলার দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বাঙালি সমগ্র জাদুঘরে যা রয়েছে- সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়াত ষাট বিশিষ্ট বাঙালির প্রোর্ট্রটে বা প্রতিকৃতি রয়েছে এ জাদুঘরে। মোট ৪টি বিভাগে পোর্ট্রটেগুলোকে ভাগ করা হয়েছে তা হলো- (১) ভাষা-শিক্ষা-সাহিত্য (২) সংগীত-নাটক-চলচ্চিত্র-ক্রীড়া (৩) সমাজ-রাজনীতি-সর্বনীতি (৪) বিজ্ঞান-স্থাপত্য-শিল্পকলা। চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আফজাল পোর্ট্রটেগুলো এঁকেছেন। মাত্র বিশটি মূল স্মারক নিয়ে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরের স্মারক সংখ্যা এখন পঞ্চান্নটি। প্রতিদিন আসা দর্শনার্থীরা অবাক হয়ে দেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কবিতার মূল কপি, কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ধূমকেতু (১৯২২) পত্রিকা কলকাতা থেকে প্রকাশিত, বেগম রোকেয়ার হাতের লেখা চিঠি (১৯২৬ সালের), সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর গানের স্বরলিপি শিল্পী আবদুল লতিফের ব্যবহৃত দোতারা, চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের মুভি ক্যামেরা, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের রচনার পাণ্ডুলিপি, শিল্পী কাজী আবুল কাশেমের আঁকা তৈলচিত্র, পটুয়া কামরুল হাসানের আঁকা স্কেচ। মোট ৪টি বিভাগের আওতায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়াত ও জীবিত বিশিষ্ট বাঙালির জীবন ও কর্ম সম্পর্কে যথাযথ ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে ‘প্রতিকৃতি’ নামে শতাধিক জীবনী সংবলিত হয়েছে। ২০০৪ সালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট বাঙালির জীবন ও কর্মভিত্তিক সাক্ষাৎকারমূলক তথ্যচিত্র। সচল প্রতিকৃতি নির্মাণ করেছে। এ পর্যায়ে বিপ্লবী বিনোদবিহারী চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক ওবায়েদ উল হক, প্রথম বাঙালি মুসলমান চিত্রকর কাজী আবুল কাশেম, কলিস শরাফী, ফিরোজা বেগম, কবি আবুল হোসেন, কবি শামসুর রহমান, নাট্যকার সাঈদ আহমেদ, ‘বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগসের দর্শক বিনামূল্যে এসব জীবনীচিত্র দেখতে পারেন। প্রায় দুই হাজার স্থানীয় গড়ে উঠেছে একটি গ্রন্থাগার, যা এই জাদুঘরে আসা মনস্ক দর্শকদের বিভিন্ন অনুসন্ধিৎসার খোরাক হয়। www.bangladeshamagra.org প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্তিতে ওয়েব সাইট উদ্বোধন করে বাঙালি সমগ্র জাদুঘর। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা শেকড়সন্ধ্যানী, সংস্কৃতিপ্রেমী বাঙালি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ও মতামত পাঠাচ্ছেন উদ্যোক্তাদের কাছে। বিগত ছয় বছরে বাঙালি সমগ্র জাদুঘর চারটি প্রকাশনা নিয়ে এসেছে। চলতি বছরে আরো তিনটি প্রকাশনার প্রস্তুতি চলছে। বইগুলো হচ্ছে- ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, প্রথম বাঙালি মুসলিম চিত্রকর কাজী আবুল কাশেমের আত্মকথা- ‘পূর্বের জানালা’ বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘ঢাকার কয়েকটি জাদুঘর’- ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত জাদুঘরগুলোর দ্রষ্টব্য স্মারক ঠিকানাসহ এনজর পরিচিতি সংবলিত পুস্তিকা। এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী কীর্তিমান বাঙালির আবাসগৃহ ও কর্মস্থলগুলোকে ‘ঐতিহ্য আবাস’ বা ‘হেরিটেজ হোমস’ ‘ঘোষণা করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ, যথা চাকমা, গারো, সাঁওতালসহ এই দেশে প্রচলিত অধিবাসীর ভাষাগুলো যা এখন আর্থ-সামাজিক কারণে চর্চার অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে সেগুলো সংরক্ষণ, বাংলা সাহিত্যের যশস্বী কবি ও সাহিত্যকদের সেরা রচনাগুলো ইংরেজি ফরাসি ও ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদসহ বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় গবেষণার জন্য সহায়তা প্রদান। বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের এ সময়ের কাজসমূহের মধ্যে অন্যতম। ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডে দুই হাজার বর্গফুট স্থানে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর তার কাজকর্মের পূর্ণতাকালে সক্ষম নয়। সরকারি উদ্যোগে বাঙালি সমগ্র জাদুঘর তার স্থায়ী ঠিকানা এবং নিয়মিত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান লাভ করে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে এগিয়ে যাবে- সকলের সাথে এই প্রত্যাশা আমাদেরও।