Thursday, May 6, 2010

জিব্রালটা এয়ারপোর্ট

0 comments
কোনো বিমান জিব্রালটার এয়ারপোর্টে অবতরণ বা উড্ডয়ন করে তখন উইনস্টন চার্চিল রোডটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বিমানের কাজ শেষ হলে আবার সেটাকে খুলে দেওয়া হয় অনেকটা আমাদের দেশের রেললাইনের লেভেল ক্রসিংয়ের মতো করে। জিব্রালটার ব্রিটিশদের অধীনস্থ দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-ঘাঁটি। সে কারণে জিব্রালটারে ব্রিটিশদের আনাগোনার হার অনেক বেশি। তাদের এই আনাগোনাকে সহজ ও দ্রুত করতে জিব্রালটারের সুবিধাজনক স্থানে একটা বিমানবন্দর স্থাপন করা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৩৯ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যখন এটি যাত্রা শুরু করে তখন এটির সামরিক গুরুত্ব বেশি ছিল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এটাকে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করেছিল। সে কারণে প্রতিষ্ঠার পর এখানে শুধু সামরিক বিমান উঠানামা করলেও বর্তমানে এই এয়ারপোর্ট থেকে সামরিক এবং পরিবহন দুই ধরনের বিমানই চলাচল করে। প্রথমদিকে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য কম ছিল বলে এখান থেকে পরিবহন বিমান উড্ডয়ন করতে পারত না। সে কারণে পরবর্তীতে জিব্রালটার উপসাগরে পাথর ফেলে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়। পৃথিবীর অল্প কিছু ক্লাস এ টাইপ এয়ারপোর্টের মধ্যে জিব্রালটার এয়ারপোর্ট অন্যতম। শহরের কেন্দ স্থল থেকে মাত্র পাঁচশ' মিটার দূরে এর অবস্থান। বর্তমানে স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের বিমান সংস্থাগুলো জিব্রালটার এয়ারপোর্টে নিয়মিত যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন করছে।
জিব্রালটার এয়ারপোর্টে যখন কোনো বিমান উড্ডয়ন কিংবা অবতরণ করার সময় হয় তখন এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে লেভেল ক্রসিংয়ের সংশ্লিষ্টদের সেটা জানিয়ে দেয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক নিরাপত্তারক্ষীরা রাস্তার দু'পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে ফেলেন। ব্যারিকেডের সামনে গাড়িগুলো সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না বিমানে উঠানামার কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হবার পর কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নির্দেশ পেলে আবার ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়। বছরের পর বছর ধরে জিব্রালটার এয়ারপোর্ট এভাবেই চলছে। যদিও এই ব্যবস্থার কারণে বিমানের নিরাপত্তা খানিকটা বিঘি্নত হয় তবুও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

0 comments:

Post a Comment