Thursday, September 30, 2010

বাউফল

0 comments
বাউফল উপজেলার ঐতিহাসিক পুরার্কীতিগুলো এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। এখানকার উল্লেখযোগ্য কীর্তিগুলো হচ্ছে : চন্দ্র দ্বীপ রাজ্যের রাজধানী কচুয়া, কমলা রানীর দীঘি, ঘষেটি বিবির মসজিদ, তমিরুদ্দিন আউলিয়ার মাজার, কালিশুরীতে সৈয়দ আরেফিনের মাজার ও আদি যুগের মেলা, মদনপুরা গ্রামের ঢোল সমুদ্র দীঘি, কাছিপাড়া কানাই বলাই পুকুর, বগাতে ভারতবর্ষের সুপ্রাচীন চালের গোলা এবং বিলবিলাসে শেরেবাংলার পূর্ব পুরুষের মাজার। এসব কীর্তি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার এবং সংরক্ষণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগ নেই, এমনকি নামফলকও দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে কোনো কোনো স্থানের স্থাপত্য নিদর্শনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। দু'চারটি যা আছে তাও বিলুপ্তের পথে।


রাজা যশো রাজপাল মায়ের আদেশে বিশাল আকৃতির দীঘি খননের কাজ শুরু করেন। মায়ের আদেশ ছিল দীঘির তলদেশ হতে ঢোলের শব্দ শোনা মাত্র দীঘি খননের কাজ বন্ধ করতে হবে। যখন ঢোলের শব্দ শোনা গেছে তখন দীঘির খনন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিশালাকায় অর্থাৎ সমুদ্রের মতো দীঘি নামকরণ হয়েছে ঢোল সমুদ্র দীঘি। দীঘির চিহ্ন এখনো বিদ্যমান।


বিলবিলাসের কাজিবাড়ি ছিল শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের পূর্ব পুরুষের বাড়ি। আঠারো শতকের দিকে ভগলপুর থেকে শেরবাংলার পূর্বপুরুষ বিচারকের চাকরি নিয়ে বিলবিলাস গ্রামে আসেন। শেরেবাংলার দাদা কাজি আকরাম ১৮২০ সালে বিলবিলাস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


কমলারানীর দীঘি থেকে আধা কিলোমিটার দক্ষিণে রাস্তার পাশেই সুউচ্চ বটবৃক্ষের নিচে মাজারটি। দেড় থেকে দুইশ বছর আগে যশোর হতে পাগল বেশে ওই ব্যক্তির এলাকায় আগমন ঘটে। ওই ব্যক্তিকে নিয়ে বহু অলোকিক ঘটনা, কল্পকাহিনী এলাকার প্রবীণদের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। মাজারে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসে। জানা গেছে, প্রতিবছর চৈত্র মাসে মাজারের পাশে হয়। মাজারে পাশে বসবাস করছেন লালবরু বেগম জানান, তমির উদ্দিন আউলিয়া মারা গেছে ঠিকই কিন্তু এলাকার অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পান। আবার চোখের পলকের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান। এলাকার নিবাসী নয়া মিয়া জানান, আমরা তমির উদ্দিন আউলিয়ার সম্পর্কে দাদা-দাদির কাছে অলৌকিক কাহিনী শুনে আসছি। কিন্তু মাজারটি রক্ষণাবেক্ষণ করার ব্যবস্থা নেই। মাজার ঘরটি পুরনো হয়ে গেছে। মাজারের পাশে স্তম্ভটি লেখা নেই।


বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়েছিল চন্দ্র দ্বীপ রাজ্য। চতুর্দশ শতকে চন্দ্রদ্বীপ ছিল বাকলা নামে পরিচিত। আর বাকলার রাজধানী বাউফলের কালাইয়া বন্দরের অদূরে কচুয়া নামক স্থানে ছিল। কালের বিবর্তনে ও তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাসে রাজধানী কচুয়ার কোনো চিহ্ন নেই। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাকলার রাজধানী থেকে দনুজমর্দন দেব, তার ছেলে রমা বল্লব, তৎপুত্র কৃষ্ণ বল্লবের পর পর্যায়ক্রমে হরি বল্লব, জয়দেব এবং তার কন্যা কমলা রানী এরা ৪০০ বছর চন্দ্র দ্বীপ রাজ্য শাসন করে গেছেন। রাজা জয় দেবের মৃত্যুর পর কন্যা কমলা রানী ১৪৯০ সালে সিংহাসনে বসেন। ওই সময় গৌরের সুলতান ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। কথিত আছে ৪০০ বছর যারা চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য শাসন করেছেন তাদের মধ্যে সর্বগুণসম্পন্ন শেষ্ঠ শাসক ছিলেন কমলা রানী। নারী হয়েও ওই যুগে রাজ্য শাসন করা ছিল অকল্পনীয়। কমলা নেই, আছে শুধু কালের সাক্ষী হয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের শোর্যবীর্যের স্মৃতিচিহ্ন কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, কমলার নামেই দীঘির নামকরণ করা হয়েছে। ওই দীঘিতে ডুবেই কমলা মৃত্যুবরণ করেন। দীঘিতে ডুবে কমলার মৃত্যু হওয়ার কারণে ইংরেজ লেখকরা বাউফলকে বউ-ফল নামে অভিহিত করেন। স্ত্রী কমলার নামেই দীঘির নামকরণ করা হয়। দীঘির পশ্চিম পাড়ে শ্বেতপাথর দিয়ে ঘাট বাঁধানো হয়। দীঘি কাটা হলেও আশ্চর্যের বিষয় দীঘিতে পানি ওঠে না।







-সাইফুল ইসলাম, বাউফল

আহসান মঞ্জিল

1 comments
পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল বা নবাব বাড়ি সে এক অতীত ঐতিহ্য এ কথা সবার জানা। আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যারা জানেন তাদের কাছে নতুন করে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। আজ আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তা-ই যথেষ্ট নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে নবাব বাড়ির এক অন্ধকার অধ্যায়।

নবাব বাড়ির নবাব কি সত্যি নবাব ছিলেন? এর উত্তরে হয়তো সবাই বলবেন, অবশ্যই খাজা আবদুল গনি। কিন্তু কোথায় পেলেন তিনি এই নবাব খেতাব আর এই বাড়িটি তিনি কেনেন কোথা থেকে_ এসব জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে সুদূর অতীতে।

প্রাণেশ সমাদ্দারের কিশোর ইতিহাস 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' বইটিতে আহসান মঞ্জিল তথা নবাব বাড়ির আদি কথা তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস উত্তাল সারা ভারত। ইংরেজ বেনিয়া শাসককুল ঢাকায় বিদ্রোহ থামাতে অত্যন্ত সচেতন, কিন্তু ঢাকার সিপাহীদের থামাতে চাই ভিন্ন কৌশল। কারণ সিপাহীদের সদর কেন্দ্র জলপাইগুড়ি থেকে বিদ্রোহের খবর এসেছে। সদর কেন্দ্র বিদ্রোহী হলে ঢাকাকে রক্ষা করা যাবে না। তাই ইংরেজ জাত বাঁচানোর তাগিদে ৩০ জুলাই ঢাকা কলেজে এক সভা ডাকেন। (বাহাদুর শাহ পার্কের ঠিক পশ্চিমে যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পরিণত হয়েছে) সে সভায় সাদা জাতির তীক্ষ্ন বুদ্ধি থেকে বের হয় এক নতুন ষড়যন্ত্র। ঢাকার বিদ্রোহ দমাতে চাইলে, এদের শায়েস্তা করতে হলে একজন 'গাদ্দার' রেব করতে হবে। যাকে কেনা যাবে টাকা ও সম্পদের মোহ দিয়ে। অতি অল্প সময়ে পাওয়া গেল একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে। সেই নাগরিক হলেন ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি। এই সেই আবদুল গনি, ঢাকার উন্নয়নকল্পে তার অবদান অস্বীকার করা যায় না। তিনি মূলত ছিলেন চামড়া ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে ইংরেজদের সঙ্গে যোগযোগ প্রায়ই হতো। ফলে তাকে বাগে পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি ইংরেজদের। দেশবাসীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কোম্পানি বাহাদুর এনাম হিসেবে দিলেন নবাব এবং পরবর্তী সময়ে স্যার (কেসিএসআই) উপাধি। বেইমানির পুরস্কার হিসেবে তিনি ঢাকায় এক বিরাট ভূখণ্ড চিরস্থায়ী লিজ পান। এ ভূখণ্ডটিতে কোম্পানি বাহাদুর নবাব আবদুল গনির পুত্র আহসানের নামে এই ঐতিহাসিক আহ্সান মঞ্জিলটি গড়ে দেন। মূলত এ মঞ্জিলটি তৈরি হয়েছিল ইংরেজদের দুর্গ হিসেবে, পরে তা নবাব আব্দুল গনিকে এনাম হিসেবে দেওয়া হয়।

ইংরেজ জাতির চামচা হওয়ার ফলে 'নবাব' উপাধিও হয়ে যায় বংশগত উপাধি। ফলে বংশানুক্রমে নবাব আহসানউল্লাহ, নবাব সালিমুল্লাহ, নবাব হাবিবউল্লাহ আরো অনেকে নবাব উপাধি বহন করে এসেছেন। ঢাকার প্রকৃত ও আদি নবাবের বাড়ি ছিল ঢাকার নিমতলীতে। তাই তারা আবদুল গনিকে কাগুজে নবাব বলতেন। (শতবর্ষের ঢাকা : আহমেদ মীর্জা খবীর), এদিকে খাজা আবদুল গনি প্রচার করতে থাকেন খাজা আলিমউল্লাহ ১৮৩৫ সালে ফরাসি কুঠিয়ালদের কাছ থেকে এ বাড়ি কিনেছিলেন। তারপর থেকে সবাই জানে আহসান মঞ্জিলের সব বংশধর নবাব ছিলেন। এখন কথা হচ্ছে, '৪০০ বছরের ঢাকার ইতিহাস' এবং 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' এ দুটি বইতে আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা বিতর্কিত। কারণ, দুটি অতীত ইতিহাস ভিন্নরকম, প্রমাণ দেওয়া কঠিন আসল সত্য কোনটি। তবে মিথ্যা সত্যকে কখনোই পরাজিত করতে পারে না।

তথ্য সূত্র : সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা
জেরিন আকতার রুনা

Wednesday, September 29, 2010

মুসলিম জাতিকে মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী বলা হয় কেন

0 comments
সমসাময়িক আলোচনা কিংবা ধর্মসংক্রান্ত আলোচনায় সারসরি হোক কিংবা অন্যভাবে, মুসলিমদের প্রতি এই অভিযোগ উত্থিত হয়। ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে সব ধরনের প্রচারনা মাধ্যমগুলোতে এই দৃষ্টিভঙ্গী গভীরভাবে বদ্ধমূল যদিও তা সত্য নয়। যার ফলশ্র“তিতে এই মিথ্যা প্রচারনা মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষের জন্ম দেয়। উদাহরনস্বরূপ বলা যায়, আমেরিকার ওকলাহমায় যখন বোমা বিস্ফোরিত হয়, তখন আমেরিকার প্রচার মাধ্যমগুলো একতরফাভাবে মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে একে মধ্যপ্রাচ্যের ষড়যন্ত্ররূপে আখ্যায়িত করে। পরবর্তীতে আমেরিকার সেনাবাহিনীর একজন সৈন্য এই ঘটনায় অপরাধী হিসেবে প্রমানিত হয়। মুসলিম জাতিকে এইসকল অপরাধে অভিযুক্ত করার আগে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করা দরকার।
মৌলবাদীতা: মৌলবাদী তাকেই বলা হয় যে নাকি একটি মৌলিক ধারণা বা বিশ্বাসকে সম্পূর্নভাবে অণুসরন করে। একজন ব্যক্তি যদি সুচিকিৎসক হতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসাশাস্ত্রের জ্ঞানকে আক্ষরিকভাবে ও গভীরভাবে মেনে চলতে হবে। একজন ব্যাক্তি গনিতবিদ হতে চাইলে তাকে অবশ্যই মৌলিক গনিতশাস্ত্র বিশ্বাস করতে হবে ও তা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ তাকে অংকশাস্ত্রের ক্ষেত্রে একজন মৌলবাদী হতে হবে। ভাল বিজ্ঞানী হবার জন্য একজন ব্যক্তির উচিৎ বিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র ও বিষয়গুলো জানা, অণুসরন করা এবং ব্যক্তিজীবনে তার প্রয়োগ করা।
প্রত্যেক মৌলবাদীই এক নয়: সকল মৌলবাদীকেই একই কাতারে শামিল করা উচিৎ নয়। এবং কেউ সকল মৌলবাদীকে একতরফাভাবে ভালো কিংবা খারাপ কোনটাই বলতে পারবে না। একজন মৌলবাদী কোন বিশ্বাস বা নীতিবোধ মেনে চলে তার উপর ভিত্তি করে তার শ্রেণীবিভাগ করা হয়। একজন মৌলবাদী চোর বা ডাকাত তার কাজের মাধ্যমে সমাজের ক্ষতিসাধন করে এবং স্বভাবতই তা অনভিপ্রেত। কিন্তু অপরদিকে একজন মৌলবাদী চিকিৎসক সমাজের কল্যানের জন্য আত্মনিয়োগ করেন। তাই তার মৌলবাদীতা কাঙ্খিত।
একজন মুসলিম মৌলবাদী হিসেবে আমি গর্বিত:
আমি একজন মৌলবাদী মুসলিম কারণ আল্লাহর করুনায় আমি ইসলামের মৌলিক বিধি-নিষেধ জানি ও বুঝি এবং তা মানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। একজন প্রকৃত মুসলিম মৌলবাদী হবার কারনে কখনো লজ্জিত হয় না। আমি একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গর্বিত, কারণ আমি জানি যে ইসলাম সমগ্র জগতের এবং মানবজাতির জন্য কল্যান বয়ে এনেছে। ইসলামের এমনি কোন বিধান নেই যা সামগ্রীকভাবে মানুষের ক্ষতি করে বা মানব কল্যানের বিপক্ষে যায়। অনেক লোক ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা পোষন করে এবং ইসলামের কিছু নিয়ম বা শিক্ষাকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভুল বলে মনে করে। ইসলাম সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ও ভুল জ্ঞানের কারনেই এমনটি হয়ে থাকে। কেউ যদি উন্মুক্ত মন নিয়ে গভীরভাবে ইসলামের নীতিমালা নিয়ে গবেষনা করে তাহলে তার অস্বীকার কারা উপায় থাকবেনা যে ইসলাম ব্যক্তি জীবনের এবং সামগ্রীক জীবনের জন্য কল্যাণকর জীবনব্যনস্থা।
মৌলবাদীতার আভিধানিক সংজ্ঞা:
’ওয়েবস্টার’ অভিধান অনুসারে ’মৌলবাদীতা’ হচ্ছে একটি আন্দোলন যা আমেরিকার প্রটেস্ট্যান্ট কর্তৃক বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক লগ্নে শুরু হয়েছিল। এই আন্দোলন ছিল আধুনিকতার বিরুদ্ধে এবং উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বাস, নৈতিকতা ও ইতিহাস হিসেবে বাইবেল সত্য ও চিরন্তন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখা। এই আন্দোলন বাইবেলকে স্রষ্টা থেকে আগত ধর্মগ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চেয়েছিল। অতএব মৌলবাদীতা আসলে একদল ব্যক্তির উপর আখ্যায়িত হয় যারা কিনা বাইবেলকে সকল ভুলের উর্ধ্বে স্রষ্টার নিজস্ব মুখনিঃসৃত বানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চেয়েছিল।
অক্সফোর্ড অভিধান অণুসারে মৌলবাদীতা বলতে প্রাচীন কোন ধর্ম বা কোন বিশ্বাসকে দৃঢ়তার সাথে ধারন করা বোঝায়- উল্লেখযোগ্যভাবে ইসলাম ধর্ম।
আজকে যখনই কোন ব্যাক্তি মৌলবাদী শব্দটি ব্যবহার করে তখনই তার মানসপটে একজন মুসলিম ব্যক্তির কথা মনে হয় যে কিনা সন্ত্রাসী।
প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির সন্ত্রাসী হওয়া উচিৎ: একজন সন্ত্রাসী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে কিনা ত্রাসের সৃষ্টি করে। যে মুহুর্তে একজন চোর পুলিশকে দেখে তখনই সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তা একজন ডাকাতের চোখে সন্ত্রাসী। একই ভাবে প্রত্যেক অসামাজিক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের (চোর, ডাকাত, ধর্ষক) কাছে একজন মুসলিমের সন্ত্রাসী হওয়া উচিৎ। যখনই এসকল দু®কৃতিকারী ব্যক্তি কোন মুসলিমকে দেখবে তখনই তার ভয় পাওয়া উচিৎ। এটি সত্য যে সন্ত্রাসী শব্দটি তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় যারা সাধারন মানুষের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করে। কিন্তু একজন প্রকৃত মুসলিমের উচিৎ অসামাজিক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের নিকট সন্ত্রাসী হওয়া এবং সাধারন নিরীহ জনগনের কাছে এই রূপ প্রদর্শন করা উচিৎ নয়। আসলে একজন সত্যিকারের মুসলিম সমাজের নিরীহ মানুষের নিকট শান্তির উৎস হিসেবে অবস্থান করতে হবে
একই ব্যক্তিকে একই কাজের জন্য বিভিন্ন নামে; অর্থাৎ সন্ত্রাসী ও দেশপ্রেমী হিসেবে আখ্যায়িত করা: বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে ভারতের কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের বৃটিশ সরকার সন্ত্রাসী রূপে আখ্যায়িত করে; যদিও তারা কোন নৃশংস কাজে জড়িত ছিল না। একই কাজের জন্য এইসকল ব্যক্তিদের ভারতবাসীরা ভালবাসে এবং তাদেরকে দেশপ্রেমিক হিসেবে সম্মান করে। এভাবে একই কাজের জন্য একই ব্যক্তিকে দুই ধরনের পরিচয় বহন করতে হচ্ছে। একদল তাদেরকে সন্ত্রাসী বলছে এবং অপরদল তাদেরকে দেশপ্রেমিক বলছে। যারা বিশ্বাস করে যে বৃটিশদের অধিকার রয়েছে ভারত শাসন করার; তারা এইসকল লোককে সন্ত্রাসী ভাবে এবং যারা মনে করে ভারত শাসনের ক্ষেত্রে বৃটিশদের কোন অধিকার নেই তাদের দৃষ্টিতে এরা দেশপ্রেমিক। এর থেকে বোঝা যায় একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে নিরপেক্ষভাবে তার বক্তব্য শোনা উচিৎ এবং তার কার্যাবলী সম্পর্কে নিরপেক্ষ অণুসন্ধান করা উচিৎ। তারপর তার ব্যাপারে যেই রায় হয় তা সঠিক বলে গন্য করা উচিৎ।
ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে শান্তি: ইসলাম শব্দটি সালাম থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে শান্তি। এই ধর্মের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শান্তি এবং এর প্রকৃত অনুসারীরা বিশ্বব্যাপি শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একই ভাবে প্রত্যেক মুসলিম হচ্ছে মৌলবাদী যারা তাদের শান্তির ধর্ম ইসলামের মৌলিক নীতিমালা আন্তরিকভাবে মেনে চলে। সে শুধুমাত্র সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অসমাজিক কাজে লিপ্ত ব্যাক্তিদের কাছে সন্ত্রাসীরূপে আবির্ভূত হয়।
ইসলাম কি তরবারীর মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছিল? অনেকেই প্রশ্ন করে যে ইসলামকে শান্তির ধর্ম কিভাবে বলা যায় যখন তা তরবারীর মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছিল? অমুসলিমদের অনেকেই এই অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতার বলে ইসলাম প্রচার না করলে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মুসলমান থাকা সম্ভব নয়। নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব যে তরবারীর শক্তি নয় বরং সত্য, বিজ্ঞান ও যৌক্তিক জ্ঞানের মাধ্যমেই ইসলাম দ্রুততার সাথে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইসলাম অর্থ হচ্ছে শান্তি: ইসলাম ’সালামা’ শব্দ হতে উদ্ভূত যার অর্থ হচ্ছে শান্তি। এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে আল্লাহর (সুবঃ) কাছে আত্মসমর্পন করা। তাই ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম যা মহান স্রষ্টা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
কিছুক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখার জন্য শক্তির প্রয়োগ প্রয়োজন: পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পক্ষে। বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শান্তি বিনষ্ট করে। তাই মাঝে মাঝে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। ঠিক একই কারনে কোন দেশে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের সেই কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য পুলিশ তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করে। ইসলাম শান্তির জন্য। সেই সাথে বিশ্বের যেখানেই নির্যাতন পরিলক্ষিত হয় ইসলাম তার অণুসরীদের সেক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে বাধ্য করে। নির্যাতনের বিপক্ষে সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামে শুধুমাত্র শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্যই শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
ঐতিহাসিক ডি ল্যাসি ও ল্যরির বক্তব্য: ’ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে’ এই বক্তব্যের সুন্দর বিরোধিতা করেছেন ঐতিহাসিক ডি ল্যাসি ও ল্যরি তার ’ইসলাম এন্ড ক্রস রোড’ বইয়ের ৮ম পৃষ্ঠায়। ইতিহাস এটি প্রমান করেছে যে মুসলিমরা যে তলোয়ারের মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন জাতির মধ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে তা একটি ভ্রান্ত চিন্তাধারা যা কিনা বিভিন্ন ঐতিহাসিক বার বার বলে থাকে।
মুসলিম জাতির ৮০০ বছর স্পেন শাসন: মুসলিমরা ৮০০ বছর ধরে স্পেন শাসন করেছে। পরবর্তীতে খৃষ্টান ক্রুসেডাররা স্পেনে আসে এবং মুসলিমদের উচ্ছেদ করে। তারপর স্পেনে এমন কোন মুসলিম ছিল না যারা প্রকাশ্যে আযান দিতে পারত।
১৪ মিলিয়ন আরব হচ্ছে ’কোপটিক’ খৃষ্টান: মুসলিমরা প্রায় ১৪০০ বছর ধরে আরব শাসন করেছে। পরে কিছু সময়ের জন্য বৃটিশ ও কিছু সময়ের জন্য ফরাসীরা শাসন করেছে। সামগ্রীকভাবে মুসলিমরা ১৪০০ বছর শাসন করেছে। তথাপি এখনও আরবে এমন ১৪ মিলিয়ন আরব রয়েছে যারা ’কোপটিক’ খৃষ্টান অর্থাৎ খ্রীষ্টান ধর্মের শুরু থেকেই তারা খৃষ্টান হিসেবে রয়েছে। যদি মুসলিমরা তরবারীর মাধ্যমেই ইসলাম প্রচার করত তাহলে আরবে একজন খৃষ্টানও থাকত না।
ভারতের ৮০ শতাংশের অধিকাংশ লোকই অমুসলিম: মুসলিম জাতি হাজার বছরের উপর ভারত শাসন করেছে। যদি তারা চাইত তাহলে ভারতের সকল অমুসলিমকে ইসলাম ধর্মে আনতে পারত। বর্তমানে ভারতের ৮০% জনগোষ্ঠী অমুসলিম। এইসকল অমুসলিম ভারতীয়রা এটাই প্রমান করে যে ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় নি।
ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়া: বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছে। মালয়শিয়ার অধিকাংশ জনগন মুসলিম। আপনারা যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়ায় কোন মুসলিম সেনাবাহিনী গিয়েছিল?
আফ্রিকার পূর্ব উপকূল: একই ভাবে ইসলাম আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে বিস্তার লাভ করেছিল। আপনারা যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ইসলাম যদি সত্যই তরবারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে কোন মুসলিম সেনাবহর গিয়েছিল?
টমাস কার্লাইল: বিখ্যাত ঐতিহাসিক টমাস কার্লাইল তার ’বীরও বীরের বন্দনা’ গ্রন্থে ইসলামের প্রসার সংক্রান্ত ভুল ধারণার ব্যাপারে বলেন, ”সত্যই তলোয়ার, কিন্তু কোথায় পাবে সেই তলোয়ার? প্রত্যেক নতুন চেতনাই কেবলমাত্র একজন মানুষের মননের ক্ষুদ্র পরিসরে বেড়ে উঠে - আর সেখানেই লালিত পালিত হয়। সারা পৃথিবীর সকল মানুষের বিপক্ষে সেই একজনই তখন রুখে দাঁড়ায়। একটি তরবারী নিয়ে তখন তার পক্ষে সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধে লড়তে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। তোমার নিশ্চয়ই তোমার নিজের তরবারী খুঁজে পেতে হবে! সারকথা, সেই চেতনা নিজেই তখন তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
ইসলাম গ্রহনের ক্ষেত্রে কোন জবরদস্তি নেই: কোন তরবারীর মাধ্যমে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে? যদি মুসলিমরা তরবারীর মাধ্যমেই তা করতে চাইত তাহলেও তারা সেটা করতে পারত না। কারণ কুরানে আছে:
”দ্বীন গ্রহনের ক্ষেত্রে কোন জবরদস্তি নেই। সত্য দ্বীন ভ্রান্ত আকীদা ও বিশ্বাস থেকে পৃথক হয়ে গেছে।” [বাকারা ২:২৫৬]
জ্ঞানের তরবারী: ইসলাম যেই তরবারীর মাধ্যমে মানুষের হৃদয়-মন জয় করেছে তা হচ্ছে জ্ঞান। কুরানে এই ব্যাপারে বলা হয়েছে:
”মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান কর জ্ঞান ও সুন্দর কথার মাধ্যমে এবং তাদের সাথে উত্তম ও বদন্যতার সাথে যৌক্তিক কথা বল।”
[১৬:১২৫]
১৯৮৬ সালের ’আলমানাক’ রিডার্স ডাইজেস্ট এর একটি নিবন্ধে ১৯৩৪ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত - এই অর্ধশতাবদ্ধীতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রধান ধর্ম গুলোর প্রসারের উপর একটি পরিসংখ্যান দেয়া হয়। এই নিবন্ধটি ’দ্য প্লেইন ট্রুথ’ ম্যাগাজিনেও প্রকাশিত হয়। সবার উপরে ছিল ইসলাম, যার প্রসার হার ছিল ২৩৫% এবং খৃষ্টান ধর্ম, যার প্রসার হার ছিল মাত্র ৪৭%। কেউ কি বলতে পারবে যে এই শতকের কোন যুদ্ধ মানুষকে ইসলাম গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করেছে?
ইসলাম আমেরিক এবং ইউরোপে সবচেয়ে দ্রুত প্রসার পাচ্ছে: আজ আমেরিকায় ও ইউরোপে সবচেয়ে দ্রুত প্রসার পাওয়া ধর্মের নাম ইসলাম। কোন তরবারী পশ্চিমাদের ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করছে?
ডঃ জোসেফ এডাম পিয়ারসন বাস্তবিকই সত্য বলেছেন, ”যারা এই মনে করে ভয় পায় যে, কবে যেন আরবদের হাতে আনবিন বোমা চলে আসে!, তারা এইটুকু বোঝে না যে, ইসলামের বোমা ইতিমধ্যেই বিস্ফোরিত হয়ে গেছে। মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের সাথে সাথেই তা বিস্ফোরিত হয়েছে।”
লেকচারঃডঃ জাকির নায়েক
Posted by QuranerAlo.com




Tuesday, September 28, 2010

অজন্তা

0 comments
অজন্তা নামটির সঙ্গে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে একটি সুন্দর নারীর অবয়ব। একটু সাহিত্যিকমনা যারা, তারা তাদের আদরের মেয়েটির নাম খুঁজতে গিয়ে যে নামগুলো বাছাই করেন তাদের মধ্যে অজন্তা, ইলোরা বা কোনো নক্ষত্র অথবা নদীর নাম থাকে। অধিকাংশরাই এই নাম রাখেন নামের সৌন্দর্যের কারণে। খুব সহজেই এই নামটি আমরা আমাদের প্রিয় মানুষের জন্য নির্বাচন করে থাকি। অথচ এই অজন্তা তৈরিতে রয়েছে হাজারো মানুষের রক্ত এবং ঘাম। কি এই অজান্তা? কেন এবং কারা এর শ্রষ্টা।

মূলত অজান্তা একটি নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের পুরনো একটি সমৃদ্ধ চিত্রশিল্পের ইতিহাস। হায়দ্রাবাদের খান্দেশ জেলায় এই অজান্তা অবস্থিত। অজন্তা ইন্দ্রাদি পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত একটি গুহা। বাগোড়া নদী এসে এই অঞ্চলে বাঁক নিয়েছে। ফলে পাহাড়ের আকার এখানে অর্ধচন্দ্রের মতো ধারণ করেছে। পাহাড়ের এই অর্ধচন্দ্রাকৃতি পাদদেশে বেশ কয়েকটি গুহা রয়েছে। গুহার সংখ্যা ৩০টি। সবগুলো গুহা একত্রিত করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৬০০ গজ। গুহাগুলোর ছাদ ৩৫ ফুট থেকে ১০০ ফুট উঁচু। অজান্তার এই গুহাগুলো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়নি। পাথর কেটে কেটে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। চিত্র ছাড়াও এখানে বেশকিছু ভাস্কর্য রয়েছে। অজান্তা গুহাচিত্রের বিষয়বস্তু ছিল বুদ্ধের জীবনী এবং জাতকের গল্প। খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘসময় অজন্তার গুহাগুলো নির্মিত হয়। ৩০টি গুহার মধ্যে ২৫টি ছিল উপসনাগৃহ এবং চৈত্য। অজান্তার গুহাগুলোতে চিত্রাঙ্কন শুরু হয় ৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে। ৭০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই চিত্রাঙ্কন অব্যাহত ছিল। অজান্তার ১৩ নং গুহাতে সবচেয়ে প্রাচীন চিত্র পাওয়া যায়। গুহাগুলোতে বৌদ্ধ শ্রমণরা বসবাস করত এবং ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় চিত্র অঙ্কন করত। কোনো এক সময় গুহা নির্মাণকারী এবং চিত্র অঙ্কনকারী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এই স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। কি কারণে তারা এই গুহাবাস ত্যাগ করেছিলেন তা জানা যায় না। এর পর হাজার বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এটি মানুষের অগোচরে থেকে যায়। অবশেষে অজান্তার রহস্য আধুনিক মানুষের কাছে উন্মোচিত হয় উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম পর্বে। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সৈন্যরা শিবির স্থাপন করতে গিয়ে অজান্তার স্থাপত্য ও শিল্পকলার সন্ধান পায়। তাদের এই আবিষ্কার প্রথমে তেমন প্রচার পায়নি। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে একটি অনুসন্ধানী দল আসে অজন্তায়, যারা তাদের বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। সবশেষে শিল্প বিশেষজ্ঞ মি.ফার্গুসন অজান্তা পর্যবেক্ষণ করে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

অজান্তার গুহাচিত্রের বিষয়বস্তুর অধিকাংশই জাতকের গল্প। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে যেসব কল্পিত কাহিনী তৈরি হয় তাই হচ্ছে জাতকের গল্প। এগুলো ছাড়াও গুহাচিত্র হিসেবে আছে বুদ্ধের জীবনী, ধর্মের প্রতীক চিহ্ন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানাদিক। এ ছাড়াও আছে কতগুলো প্রস্তরমূর্তি এবং সামান্য কিছু অন্য বিষয়ের ছবি। ১ নং গুহাচিত্রে অধিকাংশই জাতকের গল্প। এ ছাড়াও আছে কতগুলো প্রস্তরমূর্তি। পশ্চিম দিকের দেয়ালে আছে ষাঁড়ের লড়াইয়ের চিত্র। তাছাড়াও আছে দলবদ্ধ হাতি, টিয়াপাখি,ষাঁড় এবং বানরের ছবি। অসংখ্য বুদ্ধমূর্তি আছে পূর্বদিকের প্রাচীরে। অজান্তায় কিছু নারীচিত্রও পাওয়া গেছে। এ সব ছাড়াও কিছু ভাস্কর্য পাওয়া যায় অজন্তার দেওয়ালে। পরবর্তীকালে চিত্রে পারস্যের রাজদরবারের ছবি আঁকা হয়েছে। চালুক্য রাজ পুলকেশীর চিত্রও এখানে আঁকা আছে। দ্বিতীয় গুহার চিত্রগুলোতে জাতকের কাহিনী থেকে নেওয়া বৌদ্ধ ধর্মবিষয়ক ছবি আঁকা রয়েছে। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ভঙ্গিতে বুদ্ধের প্রতিকৃতি। রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন চিত্র। পশুপাখির ছবি দেখা যায় দেয়াল চিত্রে। নবম গুহাটি ছিল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের উপসনাগৃহ। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এখানে চিত্রসমূহ ফুটে তোলা হয়েছে। ১০ নং প্রাচীন গুহাটির অধিকাংশ চিত্রই প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গৌতম বুদ্ধের জীবনের প্রথম দিকের কিছু ঘটনার চিত্র আছে ১৬ নং গুহাতে। মৃত্যুপথযাত্রী রাজকুমারীর নামে একটি চিত্র সেখানে পাওয়া যায়। শিল্প সৌন্দর্যেও বিচারে এই চিত্রটি বিস্ময়কর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। লোকালয় থেকে দূরে বসে সবাইর অজান্তে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা পার্থিব জীবনের বিষয়বস্তু নিয়ে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে যে ছবিগুলো এঁকে গেছেন তা এখনো আমাদের কাছে বিস্ময় এবং রহস্য রয়ে গেছে।



এস এম নাজমুল হক

রকমারি

0 comments
*মেরু ভল্লুক না খেয়ে থাকতে পারে একটানা ছয় মাস। একসময় শরীরের সঞ্চিত চর্বি ওদের পুষ্টিসাধন করে। তারপর যখন শরীরে খাবারের তীব্র চাহিদা দেখা দেয়, তখন শিকারের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে ওরা। এমনকি লোকজনের সুরক্ষিত ক্যাম্পে হানা দিতেও দ্বিধা করে না। মেরু ভল্লুক খাবারের গন্ধ পায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে।

*উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম দিন।

*পৃথিবীতে বিড়ালের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। এর কারণ সম্ভবত আমেরিকানদের অত্যধিক বিড়ালপ্রীতি। আমেরিকানরা পোষা বিড়ালের জন্যে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।

*এক মাইল বিস্তৃত বিজলীর আলোতে যে বিদ্যুৎপ্রবাহ থাকে, তা দিয়ে ১০ লাখ ইলেকট্রিক বাল্ব জ্বালানো সম্ভব।

*ভূপৃষ্ঠে যে পরিমাণ পানি রয়েছে, প্রতি বছর গড়ে তার তিন হাজার ভাগের এক ভাগই বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়।

*মশা, মাছি বা মৌমাছি উড়ন্ত অবস্থায় যে গুঞ্জন তোলে, তা কিন্তু মুখ বা শরীরের বিশেষ কোনো অঙ্গ থেকে হয় না। বাতাসে অসম্ভব দ্রুতবেগে পাখা নাড়ার ফলে এই গুঞ্জন তৈরি হয়।

*অধিকাংশ মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় গড়পড়তা ৪০ বার এপাশ-ওপাশ করে। যাদের অনিদ্রা রোগ আছে, তাদের বেলায় এই গড় ৭০ বার।

*মানুষের চোয়াল এতই শক্তিশালী যে, মুখের ভিতর কোনোকিছু রাখলে তার ওপর প্রায় ২৮০ কেজি বল প্রয়োগে সক্ষম।

*পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী কুকুর হচ্ছে_ পার্শিয়ান গ্রে হাউন্ড। ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ মাইল বেগে ছুটতে পারে এরা।

*সূর্যের বয়স ৫০০ কোটি বছরেরও বেশি।
Bangladesh Protidin




সবুজ পাথর পান্না

0 comments
রত্ন হিসেবে পান্না এক কথায় অসাধারণ। রাশিচক্র অনুযায়ী, মে মাসে যাদের জন্ম তাদের বার্থস্টোন পান্না। প্রাচীনকালে এই রত্নকে বহু রোগের নিরাময়কারী হিসেবে ভাবা হতো। ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক পান্না

আজো সবার কাছে গ্রহণীয়।

পান্না মধ্যম থেকে গাড় সবুজ রংয়ের রত্ন পাথর। ষড়ভূজাতিকৃতির কেলাস আকারে এটি পাওয়া যায়। বেশিরভাগ পান্নাই ঘোলাটে বর্ণের এবং খুঁতযুক্ত। নিখুঁত ও সুন্দর পান্না খুবই দামি রত্ন। একই ধরনের খনিজ পাথরের সঙ্গে পান্নার পার্থক্য হলো_ শুধু পান্নাই অভ্র শিলাস্তরে বা চুনাপাথরে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কলম্বিয়ার মুজো এবং এল সিভর খনিতে। উরাল পর্বতমালার টকেভোয়া-তে আব্রখনিতেও পাওয়া যায়। অবশ্য সেখানে তা বেরিলিয়ামের আকরিক ক্রিসোবেরিল ও ফেনাকাইটের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। এছাড়াও অস্ট্রিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের কালিগুমানে পান্না পাওয়া যায়।

পান্না বা এমিরাল্ড আশ্চর্য এক রত্ন। আমাদের দেশে এই রত্নটি তেমন পরিচিত না হলেও পাশ্চাত্যে এর কদর যথেষ্ট। ঝলমলে পাথরে সবুজ রংয়ে বিচ্ছুরণ প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে মুগ্ধ ও মোহগ্রস্ত করছে।

পান্না এক বিরল রত্ন। বড়সড় আকারের সুন্দর করে কাটা এক খণ্ড পান্না হীরার চেয়েও দামি হয়ে ওঠতে পারে। তার কারণ, পান্না এক ধরনের বেরিল স্ফটিক। প্রায় সব রত্নে সাধারণ উপাদান অ্যালুমিনিয়াম। আর পান্না হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন ও বেরিলিয়ামের এক বিরল সমন্বয়। সেইসঙ্গে রয়েছে সামান্য পরিমাণ ক্রোমিয়াম কিংবা ভ্যানাডিয়াম, যার কারণে পান্নার এই সবুজ দ্যুতি।

এই রত্নের উৎপত্তিস্থল মিসর। খ্রিস্টজন্মের বহু আগে থেকেই সারাবিশ্বে পান্না জোগান দিত মিসর। কায়রোর ৪৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্ব ক্লিওপেট্রা মাইন। এই খনি থেকে মিসরীয়, রোমান, এমনকি তুর্কিরাও নির্বিচারে পান্না তুলেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০ থেকে ১২৩৭ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে পান্নার জোগানদার ছিল এই খনি। বিশ্বের পান্না বাণিজ্যে মিসরের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটে যখন স্পেনীয় উপনিবেশবাদীরা দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছায়। ১৫৫৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেনীয়রা বর্তমান কলম্বিয়ার মুজো নামক স্থানে পান্নার খনি আবিষ্কার করে। সবুজ পাথরের বিশাল সম্ভার তাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। স্পেনীয়রা তাদের আবিষ্কারকে কাজে লাগাতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি। স্থানীয় অধিবাসীদের দাস বানিয়ে শুরু করে পান্না উত্তোলন। ইউরোপ ও এশিয়ায় ব্যাপক হারে পান্না রপ্তানি হতে। আরবীয় বাদশাহ, পারস্যের শাহ, তুর্কি সুলতান কিংবা ভারতীয় মহারাজাদের অলংকারের অপরিহার্য উপাদান ছিল এই রত্ন। স্পেনীয়দের সময় থেকে আজো বিশ্বে এক নম্বর পান্না উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে কলম্বিয়া। রত্ন হিসেবে পান্না এক কথায় অসাধারণ। রাশিচক্র অনুযায়ী, মে মাসে যাদের জন্ম তাদের বার্থস্টোন পান্না। প্রাচীনকালে এই রত্নকে বহু রোগের নিরাময়কারী হিসেবে ভাবা হতো। ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক পান্না আজো সবার কাছে গ্রহণীয়। তবে পান্নার ঝলমলে আলোয় ঢাকা পড়ে গেছে খনি শ্রমিকদের নির্মম ইতিহাস। প্রাচীন মিসর থেকে কলম্বিয়া_ কোথাও পান্না শ্রমিকরা পায়নি তাদের ন্যায্য অধিকার। আজো শ্রমিকদের করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। একখণ্ড পান্নার মালিক হওয়া দূরের কথা, দুইবেলা খাদ্য সংস্থান করাই তাদের কষ্টকর। পান্নার সবুজ দ্যুতি আলোকিত করে না তাদের জীবন।
-
শামছুল হক রাসেল

ভাসুবিহার

0 comments
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান গড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব কোণে ভাসুবিহারের অবস্থান। তিন দিকে ফসলি মাঠ আর এক পাশে গ্রামে ঘেরা ভাসুবিহার স্থানীয়দের কাছে নরপতির ধাপ নামে পরিচিত। উঁচু টিলা আকৃতির এই ধাপটি এক সময় ছিল বৌদ্ধ বিহার। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৯-৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে এই বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। তিনি তার বিবরণে উল্লেখ করেছেন, এই বৌদ্ধ বিহারে তিনি ৭০০ ভিক্ষুকে পড়ালেখা করতে দেখেছেন। হিউয়েন সাংয়ের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে স্যার আলেকজান্ডার কানিং হাম (১৮৭৯) বর্তমানের ভাসুবিহারকে হিউয়েন সাংয়ের দেখা বৌদ্ধ বিহার হিসেবে শনাক্ত করেন।

বিহারের আশপাশে গড়ে ওঠা গ্রামের মানুষগুলো জানিয়েছে, দুই হাজার বছর আগে গড়ে ওঠা ওই জনপদ এখন টিকে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে ভ্রমণে আসেন। বিভিন্ন বেসরকারি ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা সফরে এসে খুটে খুটে খোঁজার চেষ্টা করে সে সময়ের কথা। বিহারের অপূর্ব নির্মাণশৈলী যে কাউকে তাক লাগিয়ে দেবে। পোড়া মাটি (ইট) আর সুরকির কি এমন শক্তি ছিল যে দুই থেকে আড়াই বছর পরেও চিহ্ন রেখে গেছে। তাদের কি এমন নির্মাণ কৌশল ছিল? এমন প্রশ্ন মনের মধ্যে গেঁথে যাবে আপনারও। বিহারের ধাপে ধাপে বেশ কিছু কক্ষ রয়েছে। ৫ থেকে ৭ ফুটের চওড়া ভিত ও কক্ষ দেখলে বোঝা যায় এখানে একসময় অতি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উন্নত ও নিয়মনীতির বিষয়গুলো ছিল কঠোর।

ধারণা করা হয় বিহারের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষু পড়ালেখা করত এবং আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করত। বিহারের ঠিক দক্ষিণ অংশে ভিক্ষুদের উপাসনালয়ের জন্য একটি মন্দির বা এ জাতীয় কিছু নির্মাণ করা হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ভাসুবিহার এখন শুধু ধ্বংস স্তূপ।

ঐতিহাসিকদের বিবরণের ওপর ভিত্তি করেই এই বৌদ্ধ বিহারে একাধিকবার প্রত্নতাত্তি্বক খনন পরিচালিত হয়।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ এবং ১৯৮৪ সালে পরিচালিত প্রত্নতাত্তিক খননের ফলে ভাসুবিহার প্রত্নস্থলে পাশাপাশি অবস্থিত দু'টি সংঘারাম বা বিহার ও একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। যা দশম থেকে একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত।

২০০৮ সালের ২৪ নভেম্বর এখানে আবারো খনন শুরু করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। সর্বশেষ এই খননকালে অপর একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয় যা দশম থেকে একাদশ শতকে নির্মিত হয়েছিল। এ বৌদ্ধ মন্দিরের ভিত্তিভাগের ২ মিটার নিচে আরো একটি স্থাপত্য কাঠামোর (ইটের দেয়াল) নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে যা প্রায় দেড় হাজার আগে নির্মিত হয়েছিল। এছাড়াও একই সময়ে নির্মিত বৌদ্ধ বিহারের নিচে অর্থাৎ এই কাঠামো দ্বারা আবৃত একটি বৌদ্ধ ভিক্ষু কক্ষের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম প্রাচীন কোনো বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু কক্ষের দেয়াল মেঝে হতে ১৭ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত টিকে আছে। সর্বশেষ এই খনন থেকেই প্রমাণ মিলেছে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর দেখা সেই বৌদ্ধ ভিক্ষু কক্ষের।

সর্বশেষ খননকালে বেশ কিছু প্রাচীনকালের পোড়া মাটির সিলিং ও এনবিপিডবিউ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত সিলিং-এর ওপর উৎকীর্ণ লিপির ধরন (ব্রাহ্মী হরফ) এবং এনবিপিডবি্লউ প্রাপ্তিতে অনুমান করা হচ্ছে যে এখানে বসতি আরো বহু আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব যুগে আরম্ভ হয়েছিল। অর্থাৎ সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে প্রায় ২ হাজার বছর আগে এখানে সমৃদ্ধ বসতি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন এর নিরাপত্তার কোনো বিধান নেই। কত শত বছর পরে আছে এভাবেই। নিরাপত্তার বিধান না থাকায় এর মাটির নিচে চাপা পড়া মূল্যবান জিনিসপত্র লুণ্ঠন যে হয়নি তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। উদ্যোগ নিলে আধুনিক পর্যটন স্পট হয়ে উঠতে পারে সারা দেশসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য। সরকারিভাবে বিহারের সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মহাস্থানগড় যেমন আজো হয়ে উঠেনি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র তেমনি ভাসুবিহারও সম্ভাবনাময় হয়েও থেকে গেছে অযত্ন-অবহেলায়। এভাবেই কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর তারপর হাজার বছর।

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁ

0 comments
শুধু রসনা বিলাস নয়! রসনার তৃপ্তির পাশাপাশি নতুন রেস্তোরাঁ কুটুমবাড়ি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ও ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কুটুমবাড়ির লিফলেটে বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। খাবারের প্যাকেজের তালিকা এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবিসহ টাকার মাপের এই লিফলেট এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছে। সুদৃশ্য এই লিফলেটটি শুধু দেখার জন্যই নয়, সংগ্রহেও রাখার মতো।

কুটুমবাড়ির বিভিন্ন খাবার প্যাকেজের সঙ্গে ছবি দেওয়া হয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠ, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, লালন শাহ, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, হাছন রাজা, এসএম সুলতান, বেগম রোকেয়া, হাসান হাফিজুর রহমান, তিতুমীর, হাজী শরীয়ত উল্লাহ, জর্জ হ্যারিসন, পণ্ডিত রবি শংকর, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, ইলা মিত্র, সূর্যসেন, প্রীতি লতাসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের। যাদের অসামান্য অবদান ইতিহাসকে করেছে মহিমান্বিত। এ সম্পর্কে কুটুমবাড়ি কর্তৃপক্ষ বলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মহান-ত্যাগী এবং যাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই তাদের আমরা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এতে তরুণদের মাঝে দেশ ও জাতি সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেবে। উল্লেখ্য, কুটুমবাড়ি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একটি প্রতিষ্ঠান। কুটুমবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজে খাবারের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী সব খাবার পাওয়া যাচ্ছে। ঠিকানা : কুটুমবাড়ি, ২/১২ ব্লক-এফ, লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭। ফোন : ০১১৯৫-৩৮১৬৩০, ০১১৯৭-২৩৫৬৮৪।
রকমারি ডেস্ক

Monday, September 27, 2010

লেক সাকার্স, ধানমণ্ডি

0 comments
সবুজের সমারোহ দেখে নিজেকে একটুখানি প্রশান্তির ছোঁয়া দিতে মন চায় কোথাও হারিয়ে যেতে। সে রকম একটি স্থান লেক সাকার্স। ধানমণ্ডির কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে এই পার্কটি। শ্রমকান্ত মানুষ আর স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা সকালে কিংবা বিকেলে ছুটে যান প্রিয় লেক সার্কাসটিতে। কোলাহলমুক্ত, শান্ত নিবীর সবুজ পরিবেশ। পাখিদের কিচির-মিচির মুখরিত চারপাশ। বৈচিত্র্য সব মানুষের আনাগোনা। মনটাকে একদম অন্যকরম এক ভালোলাগায় পরিপূর্ণ করে দেয়। ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলে থাকা যায় নগরজীবনের যন্ত্রণা, হাজার সমস্যা আর দানবতুল্য ভীতিকর যানজটাকে। সকালে ব্যায়ামের পার্ক আর বিকালে প্রেমোদ্যান হিসেবে সুপরিচিত ধানমন্ডির লেক সার্কাস। স্বয়ংসম্পূর্ণ আর পরিচ্ছন্ন এমন পার্ক এই ঢাকাতে আর সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। রোদেও সমস্যা নেই গাছের ছায়া আছে, বৃষ্টিতে সমস্যা নেই, আছে বাহারি ডিজাইনের করিডোর এবং ছাউনি। হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরা। এই রেস্তোরাঁগুলো যেমন দর্শনার্থীদের উপকার করছে, তেমনি বৃদ্ধি করছে পার্কটির সৌন্দর্য্য। আর লেকের ওপর বেশকিছু লোহার পুল আরও বৈচিত্র্যতা দিয়েছে পার্কটিকে। সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা যেকোনো সময়টাটেই আনন্দে, প্রশান্তিতে ভেসে যাবার মতো স্থান ধানমন্ডি লেক সার্কাস। এখানে বুড়োবুড়ি আসে কাক-ডাকা সকালে; একটু হাঁটাহাঁটি আর শরীচর্চা করে নিজেকে আর কিছুদিন টিকিয়ে রাখার আশায়। এখানে কিশোর যুবারা আসে দলবেঁধে আড্ডায় মেতে উঠতে। শিশুরাও চলে আসো বাবা-মা কিংবা বিভিন্ন অভিভাবকদের হাতের আঙুল ধরে লেকের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে চাঞ্চলতা আর দুষ্টামির মহড়া দিতে। দেখা যায় কেউ একা নীরবে বসে জরুরি কোনো পড়া তৈরি করে নিচ্ছেন সুন্দর পরিবেশের সান্নিধ্যে। বিশেষ করে পার্কটিতে যারা ব্যায়াম করতে আসে তাদের বেলায় কথাটা দারুণ সত্যি। এখানে ব্যায়ামের সংগঠন আছে। এরা পার্কটির নানা স্থানে স্থাপন করেছে শরীরচর্চার নানা যন্ত্র আর আইটেম। আছে ব্যায়ামাগার এবং সকলে মিলে পছন্দ করা একজন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক। তরুণ-তরুণী, যুবক-যবতীরা এলেও, ব্যায়ামের নেশায় বেশি আসেন পঞ্চাশোর্ধ মানুষেরা। এক এক করে ব্যায়ামের সকালে আইটেম শেষ করে বিদায় বেলায় কোলাকুলি করেন সবাই। কুশলাদি বিনিময় করেন। কথা হয় কখনও কখনও ব্যক্তিগত সুখ দুঃখ নিয়ে। এভাবেই লেক সার্কাস সম্পর্কেরও জš§ হয়। ব্যায়ামের পাশাপাশি এখানে রয়েছে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের এবং রক্তচাপ মাপার মেশিন। এছাড়াও লেকটির অপূর্ব এবং জনপ্রিয় একটি স্থান রবীন্দ্র সরোবর। পার্কটিতে যাওয়া হলে সহজে কেউ ওই স্থানে একটু না বসে কিংবা না হেঁটে আসতে চান না। প্রকৃতিও যেন সেখানে নিজেকে অনেক বেশি মোহনীয় করেই সাজিয়েছে। সাধারণত পার্কটিতে ঘুরতে, বেড়াতে কিংবা ব্যায়ামের জন্য নিয়মিত আসেন ধানমন্ডি, কলাগাবান, গ্রিনরোড, ঝিগাতলা, মোহাম্মদপুর এলাকাবাসীরা। তবে আশপাশের অন্য এলাকার লোকজন মাঝে মধ্যে এসে থাকেন।
Source: Ittefaq

বাংলা একাডেমী

0 comments
বর্তমান রমনা এলাকায় তৎকালীন ইংরেজ সরকারের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের জন্য নির্মিত হয়েছিল তিনটি বিশাল অট্টালিকা। তার একটি ছিল বর্ধমান হাউজ। যা এখন বাংলা একাডেমী। ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তথা বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমীর যাত্রা শুরু হয়। পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশে বাংলা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা হলেও তা ছিল সব সময় উপেক্ষিত। এ অঞ্চলের মানুষ ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা দীক্ষায় অনেক পিছিয়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলা ভাষাভাষী লেখক পণ্ডিতরা সোচ্চার হন এ ভাষার মান রক্ষায়। ১৯২৫ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘বাংলা ভাষার জ্ঞান সাধনা ও সাহিত্য চর্চার প্রস্তাব করেন’। ১৯৪০ সালে একে ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া মুসলিম কনফারেন্সে তিনি বাংলা সরকারকে একটি অনুবাদ বিভাগ স্থাপনের অনুরোধ করেন। এভাবে বাংলাভাষা রক্ষার মৃদু দাবি ধীরে ধীরে তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয়। দেশ বিভাগোত্তরকালে ১৯৪৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষার চর্চা ও গবেষণার জন্য একটি একাডেমী গড়ে তোলার কথা বলেন। ডিসেম্বর মাসেই বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম এবং উর্দ্দুর পাশাপাশি পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালের দিকে মুসলিম লীগের প্রাদেশিক ও পাকিস্তান সরকার এ দাবির প্রকাশ্য বিরোধিতা করলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক মাঠে নেমে আসে। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রাতঃবেলা তার বুকে আঁকে তারা লাল খুনের বিজয়। ফলে বাংলাভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার দাবি আরও জোরালো হয়। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা আইন সভার নির্বাচনে বিজয়ী যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেয়। তবে ক্ষমতা গ্রহণের অল্পদিনের মধ্যেই যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতন হলে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মুখ্য মন্ত্রী আবুল হোসেন ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে বাংলা ভাষীদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার প্রথমে বাংলা একাডেমী পরিচালনায় একটি প্রিপারেটরি কমিটি গঠন করেন। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা একাডেমীর প্রথম পরিচালক হিসেবে ১৯৫৬ সালের ১লা ডিসেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাংলা একাডেমী যাত্রাকালীন ছিল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ সরকার কেন্দ্রিয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে বাংলা একাডেমীর সাথে একীভূত করে। তখন একাডেমীর অনেক কাঠামোগত পরিবর্তন সাধিত হয়। একাডেমীর পরিচালকের পদমর্যাদা মহাপরিচালকে উন্নীত করা হয়। তৎকালীন পাঠ্যপুস্তক ও ফোকলোর নামে নতুন দুটি বিভাগ খোলা হয়। এ পর্যন্ত বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজার। একাডেমীর নিজস্ব মুদ্রণালয় রয়েছে। মুদ্রণালয়টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও বৃহৎ। একাডেমী থেকে প্রধানত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষার আরও কতগুলো অভিধান সঙ্কলন করা হয়। একাডেমী নিজস্ব উদ্যোগে বিষয়ভিত্তিক পরিভাষা প্রকাশ, প্রমিত বাংলা বানানের নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রচার করে থাকে।

বাংলা একাডেমীর সর্বোচ্চ পরিষদ হচ্ছে-সাধারণ পরিষদ। এটি ফেলো, সদস্য, জীবন সদস্যদের দ্বারা গঠিত। এ পরিষদের বার্ষিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। প্রতিবছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমী চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বইমেলা। এ মেলা হাজারো বইপ্রেমীর পাশাপাশি দেশি, প্রবাসী, নবীন-প্রবীণ লেখকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় সাহিত্যে অসামান্য কীর্তির জন্য প্রদান করা হয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’।
০০ আল মেহেদী ০০

মওলা বখ্শ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট

0 comments
মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্ট পুরান ঢাকা তথা ঢাকার একটি অন্যতম সমাজসেবামূলক সংগঠন। পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জের ২৪, মৌহিনী মোহন দাস লেনস্থ মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টটি ১৯৮৮ সালের ১৫ জানুয়ারি মওলা বখ্শ সরদারের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য স্থাপন করা হয়। মওলা বখ্শ ছিলেন ঢাকার গৌরবময় একজন একনিষ্ঠ সরদার এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। দুস্থ মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ ছিল প্রগাঢ়। ১৯৮৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এ মহান সমাজকর্মীর মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে আজিম বখ্শ এবং পরিবারের সদস্যরা তার নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের ১৫ জানুয়ারি মওলা বখ্শ সরদারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়। ২৪, মৌহিনী মোহন দাস লেনের বাড়িটির ১৬ কাঠা জমির ওপর একসময় জমিদারদের রংমহল ছিল, যা পরবর্তীতে মওলা বখ্শ কিনে নেন এবং সেখানে দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র আজিম বখ্শ এ বাড়িটি সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেন। নিজের এবং পরিবারের অর্জিত সমুদয় অর্থ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। 'দাও আলো, দাও জীবন' স্লোগানের মাধ্যমে শুরু হয় ট্রাস্টটির কার্যক্রম। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাস্টটির উদ্বোধন করেন। মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় মওলা বখ্শ চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে। এ হাসপাতালে ২টি ওয়ার্ড, ৫টি কেবিন ও ২০টি বেড রয়েছে। হাসপাতালটি শনি-বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মওলা বখ্শ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এখানে মাত্র ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়াও মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পে ১৯৯৭ সাল থেকে যুক্ত হয় ঢাকা কেন্দ্র। এখানে রয়েছে ঢাকার অন্যতম ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাঠাগার, প্রদর্শনী, গবেষণা, প্রকাশনা ও চর্চা কেন্দ্র। রয়েছে ৪০ আসনবিশিষ্ট একটি লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটির ৬ হাজার ৫০০ বইয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ বই-ই ঢাকাবিষয়ক। ঢাকাবিষয়ক যেকোনো গবেষণার কাজে গবেষক, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদদের জন্য ঢাকা কেন্দ্রের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত। ঢাকা কেন্দ্রের দক্ষিণ অংশজুড়ে রয়েছে ঢাকা প্রদর্শনী কেন্দ্র। ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাট্যকার সাঈদ আহম্মেদ এটি উদ্বোধন করেন। এখানে রয়েছে ৩০ দশকের বিয়ের পোশাক, ৪০ দশকের বিদ্যুৎচালিত কলের গান, পাকিস্তান আমলের হুক্কা, রেকর্ড, টেলিফোন, চাল গুঁড়া করার কাহেল, ট্রাঙ্ক, দেয়াল ঘড়ি, ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক আলোকচিত্রসহ আরো অনেক কিছু। ঢাকা কেন্দ্রের উত্তর পাশে রয়েছে ১০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম বিলকিস বানু স্মৃতি মিলনায়তনে। এখানে ঢাকাবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ফুটেজ প্রদর্শনী করা হয়। এছাড়াও ঢাকা কেন্দ্র থেকে তিন মাস পরপর ঢাকাবিষয়ক ম্যাগাজিন 'ত্রৈমাসিক ঢাকা' প্রকাশিত হয়। ঢাকা কেন্দ্রে আরো রয়েছে বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদের নার্সারি। এ নার্সারিতে রয়েছে_ বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস, ঘনঝাড়, বাদাম, রাবার, ঝাউ, বনসাই, মনিরাজ, ক্যারো ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ গাছ। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রাচীন ঢাকার উন্নয়নে মওলা বখ্শ সরদার মেমোরিয়াল ট্রাস্টের এক অনবদ্য অবদান রয়েছে। ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ঢাকা সম্পর্কে ঢাকাবাসীকে সচেতন করে তোলা, ঢাকাবিষয়ক গবেষণা, আলোচনা, ঢাকার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ এবং সাধারণ দুস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসাই মওলা বখ্শ সরদার ট্রাস্ট ও ঢাকা কেন্দ্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

-প্রীতম সাহা সুদীপ

Sunday, September 26, 2010

লাউয়াছড়া

31 comments
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই উদ্যানে দেখা মিলে নানা বিরল প্রজাতির পশু-পাখি। প্রতিদিনই উদ্যানে আসা পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে বিলুপ্ত বন্য প্রাণী উল্লুকের ডাক। এছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন আদিবাসী খাসিয়াদের পান পুঞ্জি, উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজে ঘেরা সারি সারি চা বাগানের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য।

১৯৯৬ সালে সরকার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষণা করে। তখন থেকেই ইউএসএইডের অর্থায়নে নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প এ উদ্যানের বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্যে রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার কাজ শুরু করে। এরপর থেকে পার্কের পরিচিতি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছর প্রায় ১ লাখের অধিক পর্যটক লাউয়াছড়া ভ্রমণ করেছেন। ২০০৭ সালে ৩০ হাজার এবং ২০০৮ সালে ৬৩ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এবছর এ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী উল্লুক ছাড়াও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রয়েছে_ হনুমান, লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এর পাশাপাশি বিরল প্রজাতির বৃহৎ আকারের আফ্রিকান টিকওক, সারি সারি ডুমুর, লটকন, সেগুন, আমলকী, জলপাইসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া পাহাড়ি ময়না, ধনেশ, মথুরা, বনমোরগ, সবুজ ঘুঘুসহ ২৪৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে। আরো রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির পাহাড়ি পোকামাকড়। পাহাড়ের উঁচু-নিচু টিলায় ২টি খাসিয়া আদিবাসী পলি্ল।

ইউএসএইডের অর্থায়নে বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে সহায়তা প্রকল্পের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি আইপ্যাক সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর থেকে লাউয়াছড়ায় প্রবেশ ফি চালু করা হয়। ফি'র ৫০ ভাগ আইপ্যাক এ সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ৫০ ভাগ সরকার পাবে। লাউয়াছড়ায় বেড়াতে আসা দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপরূপ এ প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। গহিন অরণ্যে বেড়াতে এসে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তবে জাতীয় উদ্যানের ভিতর পর্যটকদের জন্য বসার স্থান, টয়লেট, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে।



-দীপংকর ভট্টাচার্য, শ্রীমঙ্গল

এলিসি প্রাসাদ, ফ্রান্স

0 comments
এ পৃথিবীজুড়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের কোন অভাব নেই। এসব স্থাপত্যের অধিকাংশই পুরনো দিনের। আবার আধুনিক যুগেরও অনেক স্থাপত্য রয়েছে। আগের দিনের রাজা-বাদশাহদের আবাসস্থল মানেই ছিল বিশাল রাজপ্রাসাদ_ এই যুগের প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতিরাও বসবাস করেন দৃষ্টিনন্দন আলিশান বাড়িতে। এমনই এক বিখ্যাত প্রাসাদ হচ্ছে ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদ। এটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন। যেখানে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি বসবাস করা ছাড়াও মন্ত্রীরা মাসিক কিংবা সাপ্তাহিক আলোচনায় একত্রিত হন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস শহরে বিখ্যাত এই প্রাসাদটি অবস্থিত। আরমেন্ড-ক্লাউড নামক এক বিখ্যাত স্থপতির স্বপ্ন ছিল ফ্রান্সের রাজা-রানির জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করার। স্বপ্ন অনুযায়ী ১৭১৮ সালে নিজের যা কিছু ছিল তা বিক্রি করে দিয়ে শহর থেকে একটু দূরে নিজ গ্রামের পাশে কয়েকশ' কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন সুবিশাল প্রাসাদ। কিন্তু ক্লাউডের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো তখনই যখন রাজা-রানি দুইজনই প্রাসাদে বসবাস করার অসম্মতি জানান। মনের কষ্ট চাপা রেখে ক্লাউড প্রাসাদের পরিবর্তে আবাসিক হোটেল হিসেবে ভবনটি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ১৭৫৩ সাল পর্যন্ত এলিসি প্রাসাদ আবাসিক হোটেল হিসেবেই স্বীকৃতি ছিল। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সময়ই সর্বপ্রথম প্রাসাদটিতে অফিসিয়াল দফতর হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮১৬ সালে দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক সরকার ভবনটির নামকরণ করে Elysce Palace বা স্বর্গীয় প্রাসাদ।

১৯৫১ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ৫ম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট চার্লস গেইল এটাকে নিজের ব্যক্তিগত ভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে বর্তমান অবধি প্রাসাদটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাসাদটির আশপাশে রয়েছে মনোমুঙ্কর ফুল ও বিভিন্ন ফলের বাগান, প্রায় ৫০০ প্রহরী, ভিতরে রয়েছে অসংখ্য কক্ষ ও অতিথিশালা। ১০০ জন কর্মচারী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নিয়োজিত। ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ও ফার্স্টলেডি কার্লরুনি প্রাসাদটিতে বসবাস করেন। প্রাসাদটি ৩০০ বছরের পুরনো হলেও ফ্রান্সবাসীর কাছে এটি চিরসবুজ ও অবিনশ্বর হিসেবে বিবেচিত।

-রিয়াজুল ইসলাম

মহেশখালী দ্বীপ

0 comments
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় বেষ্টিত দ্বীপ মহেশখালী, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত লাবনী পয়েন্ট থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ মনোমুঙ্কর দ্বীপটি। দ্বীপটির চারদিকে সবুজ আর সবুজ। যতদূর দু'চোখ যায় শুধু সবুজের সমাহার দেখা যায়। চির সবুজের এ দেশে যে কেউ দ্বীপটি দেখলে মনে-প্রাণে দ্বীপটিকে ভালোবেসে ফেলবে।

প্রাকৃতিক ঝাউগাছের নয়নাভিরাম দৃশ্য : মহেশখালী দ্বীপটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগর। কক্সবাজার ও কুতুবদিয়ার ঠিক মাঝখানে এ দ্বীপটির অবস্থান। দ্বীপটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ছোট ছোট লেক বা হৃদ। আর হৃদের পাশেই রয়েছে অপরূপ সাজে সজ্জিত নয়নাভিরাম ঝাউবাগান। যা দেখলে যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে।

সবুজ-শ্যামল মন ভোলানো পাহাড়ি দৃশ্য : মহেশখালী দ্বীপ অন্য যে কারণে বিখ্যাত তা হলো এর এলোমেলো আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি দৃশ্য। উঁচু পাহাড়ি টিলার উপর দাঁড়িয়ে চারদিকে চোখ মেললে যে দৃশ্য চোখে পড়ে তা বিস্ময়কর। ছোট ছোট পাহাড়ি টিলার উপর নানা প্রকার গাছ-গাছালি যে কারো মনে দাগ কাটবে।

সুউচ্চ আদিনাথ মন্দির : প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমায় একটি মন্দির দেখতে, যে মন্দিরটি ৮০ বছরের পুরনো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০শ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এ মন্দিরটির নাম আদিনাথের মন্দির। সময় পেলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন নয়নাভিরাম এ দ্বীপটিতে।



রোবেন দ্বীপ

0 comments
কেপটাউন থেকে সাত মাইল দূরের রোবেন দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় নেলসন ম্যান্ডেলাকে। কালো মানুষদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হন ম্যান্ডেলা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে রোবেন দ্বীপ একই সঙ্গে ডাচ ও ব্রিটিশদের বন্দীশালা হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এখানে কুষ্ঠরোগ নিরাময়কেন্দ্র ও মানসিক হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। ম্যান্ডেলা ছাড়াও এখানে অন্তরীণ ছিলেন রবার্ট সোবুকে এবং বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। এ সময় তাঁরা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করেছেন। ১৯৯৭ সালে হাজার ৪৪৭ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই দ্বীপে জাদুঘর স্থাপন করা হয়।



মেহেদী হাসান বাবু

ফ্রেঞ্চ গায়ানা

42 comments
ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য এক স্থান এই দ্বীপ। ১৮৫৪ সালে নেপোলিয়ন-৩ এখানে বন্দিশালা প্রতিষ্ঠা করেন। মোট চারটি বন্দীশালা ছিল এ দ্বীপে। এখানে প্রায় ৮০ হাজার ফরাসি নাগরিককে অন্তরীণ রাখা হয়। এই দ্বীপকে শুকনো গিলোটিন বলা হতো। ১৯৩৮ সালে বন্দিশালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ হাজার বন্দীকে খুন করা হয় বন্দিশালাগুলোতে। এই দ্বীপে বন্দী ছিলেন হেনরি শ্যারিয়ার। ১৯৬৮ সালে লেখা তাঁর প্যাপিলন বইটি প্রকাশের পরপরই বিক্রির তালিকায় শীর্ষে স্থান করে নেয়। পরে এই বই থেকে সিনেমাও তৈরি হয়।

Saturday, September 25, 2010

হিন্দু ধর্মে এক সৃষ্টিকর্তা বিষয়ক শ্লোক

0 comments
" ন তস্য প্রতিমা আস্তি"
"তার কোন আকার নাই " [যজুর্বেদ,৩২:৩]

"তিনি উজ্জ্বলতায় সমাসীন । তিনি অমূর্ত নিরাকার, শরীর-বিহিন এক পবিত্র সত্তা, যাকে কোন অশুভ ভেদ করে নাই । তিনি সুদূরদর্শী, প্রজ্ঞাময়, সর্বব্যাপী সয়ম্ভু, যিনি যথার্থভাবে অনন্ত সময়ের জন্য লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করেছেন ।" [যর্জুবেদ-৪০:৮]


সদা-সর্বত্র বিরাজমান তন্দ্রা-নিদ্রাহীন সদা সজাগ প্রতিনিয়ত করূণা বর্ষণকারী সর্বশক্তিমান হে প্রভূ ! আমরা শূধু তোমারই মহিমা স্বরণ করি, তোমারই জয়গান গাই । প্রভূ হে ! আমাদের সর্বোত্তম আত্নিক পথে, আলোকিত পথে পরিচালনা করো । আমরা যেন সব-সময় সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকে অনূধাবন করতে পারি । [ঋগবেদঃ ৩.৬২.১০]

"একমেবা দ্বিতীয়াম"
"তিনি এক একক, যাঁর কোন দ্বিতীয় নাই ।" [চান্দোগ্য উপনিষদ ৬ঃ২ঃ১

উপনিষদের নিম্নের শ্লোকটিও দেখুনঃ
"ন-কস্য কাসুজ জানিতা ন কাধিপাহ"

"তাঁর কোন পিতা-মাতা নাই, কোন প্রভুও নাই ।"
[সেভতাসাভাতারা উপনিষদ ৬,৯, দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ২৬৩]

" আন্ধাতামা প্রাভিশান্তি ইয়ে অসম্ভূতি মুপাসতে" ।
"তারা অন্ধকারে প্রবেশ করে, যারা প্রাকৃতিক বস্তুসমূহের (আগুন,পানি ইত্যাদি) পূজা করে, তারা মহাঅন্ধকারে প্রবেশ করে যারা সৃষ্টি বস্তু (যেমন-পাথর বা মাটি দ্বারা তৈরী) পূজা করে " [৪০ঃ৯]

"দেব মাহা ওসি"
"ঈশ্বর নিশ্চয়ই মহান " (অথর্ব বেদ-২০/৫৮ঃ৩)


"মা চিদান্যাদভি শাংসাতা "
"হে বন্ধুগণ, সেই একমাত্র ঐশী সত্তা ছাড়া আর কারো উপাসনা করো না ।"
[ঋগ বেদ সংহিতি, ভলিউম-১১, পৃষ্ঠা ১ও ২ ।

" জ্ঞানী যোগিরা তাদের হৃদয় ও মন দিয়ে সে সর্বোচ্চ সত্তার ধ্যান করেন যিনি সর্বত্র বিরাজিত, মহান এবং সর্বজ্ঞ । একমাত্র তিনি তাদের কাজ সম্পর্কে অবহিত বিধায় সকল ইন্দ্রিয় অঙ্গ-প্রতঙ্গকে তাদের নিজ নিজ কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেন । নিশ্চয়ই , শ্রেষ্ঠ গৌরব সে মহান স্রষ্টার ।" [ঋগ বেদ-৫ঃ৮১]

" একাম ব্রহাম, দ্ভিতিয়া নাস্তে নেহ না নাসতে কিনচান "
"ঈশ্বর, কেবলমাত্র একজন, দ্বিতীয় কেউ নেই; কেউ নেই, কেউ নেই, মোটেই কেউ নেই ।"




অসুস্থ হলে মৃত্যুই পরিণতি

0 comments
০০ ইয়াসমিন পিউ, তিস্তা চর থেকে ফিরে

চরের অভাবী মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা অধিকার নয়, যেন বিলাসিতা। অপুষ্টি আর রোগে জীর্ণ-শীর্ণ মানুষগুলোর কাছে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যেন সৌভাগ্যের বিষয়। অল্প-স্বল্প সর্দি-জ্বর কিংবা পেটের পীড়ার জন্য এরা কখনো ডাক্তারের কাছে যান না। অসুখে একেবারে শয্যাগত হলেই কেবল ডাক্তার দেখানোর কথা ভাবেন। আর নারীদের প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুই যেন তাদের একমাত্র পরিণতি।
চরের মানুষগুলোর জন্য চিকিৎসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক তো দূরের কথা, একজন এমবিবিএস ডাক্তারও নেই। চর জয়রামওঝা থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে ১৩ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়, আর লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে চরবাসীকে ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার যেতে হয়। মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এম্বুলেন্স তো দূরের কথা, সেখানে কোন রিকশা-ভ্যান চলে না। যার কারণে চরে কোন মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুই যেন অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।

চরে কোন মানুষ অল্প অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাওয়ার কথা ভাবেন না। কারণ অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে আনা অত্যন্ত ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার। চরে রিকশা-ভ্যান না থাকায় রোগীকে একটি চৌকি বা বেঞ্চিতে শুইয়ে দিয়ে সেই চৌকির পাশে বাঁশ বেঁধে ঘাড়ে করে বেয়ে নদীর পাড়ে আনতে হয়। নদীর ঘাটে জরুরি বলে কোন কথা নেই, নৌকার নির্ধারিত সময়ই অসুস্থ রোগীকেও নদী পার করে আনতে হয়। আর এর জন্য টাকাও গুনতে হয় অনেক।

চরাঞ্চলে জš§নিরোধক সামগ্রী ব্যবহার নেই বলেই অপরিকল্পিতভাবে বাড়ছে চরের জনসংখ্যা। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশদূষণ, হচ্ছে স্বাস্থ্যহানী। স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা নেই। তারা খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ করে। বৃষ্টির পানিতে সেসব ধুইয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে পুকুরে। সেই পানিতেই চলছে চরবাসীর গৃহস্থালির কাজ। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাসের ফলে শরীরে বাসা বাঁধছে খোশপাঁচড়াসহ নানা ব্যাধি।

চল্লিশার চরের গেদু মিয়া (৫৫)। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রহর গুনছেন মৃত্যুর। জানতে চাইলাম, ডাক্তার দেখিয়েছেন? জবাবে গেদু মিয়া বলেন, বয়স শ্যাষ, মরার সময় হইছে, এখন আর কি ডাক্তার দেখামো! পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা গেদু মিয়ার ছেলে বলেন, এর আগে কৌবরাজের কাছে গেছিল, কৌবরাজ কইছে হাঁপানির টান বেশি, এই রুগীকে বাদুড়ের গোস্ত খাওয়াইতে হইবে। চর জয়রামওঝার বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়ার জন্ডিস ধরা পড়েছে মাসখানেক হলো। চরে ডাক্তার না থাকায় তিনি কবিরাজকে দেখিয়েছেন, তিনি কি যেন একটা গাছের ডালের মালা বানিয়ে তোফাজ্জল মিয়ার মাথার উপরে দিয়ে দিয়েছেন। সেই মালা ধীরে ধীরে বড় হয়ে মাথা থেকে গড়িয়ে শরীর বেয়ে পা দিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। তাদের ধারণা, এভাবেই জন্ডিস ভালো হয়ে যায়।

আরেকজন আশেক আলী জানান, তার মায়ের জন্ডিস হয়েছিল। কবিরাজ তাকেও ঐ মালা চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাতে জন্ডিস ভালো হয়নি। এরপর তার মায়ের পিঠে কাঁসার বাসন লাগিয়ে জন্ডিস ঝাড়া হয়েছিল, তারপরে জন্ডিস ভালো হয়েছে। এর মাসখানেক পর আশেক আলীর মা মারা গেছেন। আশেক আলীর চিকিৎসার বিস্তারিত শুনে বোঝার বাকী রইলো না, এসব কবিরাজি চিকিৎসায় জন্ডিস ভালো হয়নি; বরং সে অসুখেই হয়তো তার মা মারা গেছেন। অথচ অশিক্ষিত এই মানুষগুলো সে বিষয়ে কিছুই জানে না।

চরের নারী স্বাস্থ্যের অবস্থা আরো করুণ। কালিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চর শৈলমারীতে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসে পঞ্চাশোর্ধ্ব আমেনা বেগমের করুণ কান্না। জানা যায়, মাত্র দুইদিন আগেই আমেনা বেগমের কিশোরী কন্যা সন্তান জš§ দিতে গিয়ে মারা গেছে। আমেনা বেগমের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম কিভাবে মারা গেছে মেয়ে? আমেনা বলেন, ‘সানঝের (সন্ধ্যা) বেলা মেয়ের পেটের বিষ ওঠছে, বাচ্চা হইতে সময় নাগতেছিল বেশি, পোয়াতি মেয়ের অস্তির অবস্থা। একঘন্টা বাদে বাচ্চা হইলো; কিন্তু ফুল পড়ছিল না, দাই হাত দিয়া টানিয়া ফুল বাইর করলো আর মেয়ে হামার কইলজা গেল, কইলজা গেল করি ঝাপাতে ঝাপাতে চকির তলে জায়া জিউ (জীবন) ছাড়ি দিল। অর্থাৎ মারা গেল। এর ঘন্টাখানেকের মাথায় ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকটিও মারা যায়।’

এমনি আমেনা বেগমের মতো চরের সন্তান হারা ও প্রসূতি মাতাদের আহাজারিতে চরের বাতাস ভারি হয়ে উঠে। কুসংস্কারসম্পন্ন এসব মানুষ মনে করে, পুরুষ ডাক্তারের কাছে প্রসবকালীন সময়ে নারীরা গেলে তাদের প্রসবকালীন দুর্ভোগ আরো বাড়ে। পরপুরুষের কাছে যাওয়ায় এটা ঈশ্বরের শাস্তি।

সরেজমিন চর অঞ্চলের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গঙ্গাচড়া, লালমনিরহাট চরের মানুষগুলোর অবস্থা একই রকম। চর কাশিরামে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুদের হাতে-পায়ে চুলকানী, ভিটামিনের অভাবে মুখে ঘা, কাশি এসব তাদের নিত্যদিনের অসুখ। বয়স্ক লোকের পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হাঁটুতে ব্যথা এসব লেগেই থাকে। নারীদের কোমরে ব্যথা, মাথা ঘোরা। অপুষ্ট মায়ের জš§ দেয়া অপুষ্টির শিকার শিশুগুলোর অবস্থা দেখলে তাদের দুরবস্থার প্রমাণ মেলে। ছোট্ট ছোট্ট ঘরে ধুলোবালি মাখা খড়ের বিছানায় গাদাগাদি করে বেড়ে উঠা। ডায়রিয়া, নিমোনিয়া, পেটভর্তি কৃমি নিয়ে মাথামোটা পেটফোলা শিশুগুলোর বড়বড় চোখের অসহায় চাহনী বলে দেয় ওরা খুব কষ্টে আছে।

চারদিক নদী দিয়ে ঘেরা চল্লিশার চরবাসীর অভিযোগ, তাদের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলেও সংসদ সদস্য তো দূরের কথা চেয়ারম্যানরাই তাদের কোনো খোঁজ-খবর রাখে না। চরে কোন পুলিশফাঁড়িও নেই। তাই বিচারের বিষয়ে তারা গ্রাম্য সালিশের ওপর নির্ভরশীল। এমনি অযতœ আর অবহেলায় রয়েছে গঙ্গাচড়া, লালমনিরহাট ও হাতিবান্ধা চর এলাকার মানুষগুলো।

Is Your Friend Invisible?

0 comments
Is your online or offline that you can check easily. On internet there are lots of Software. Most of them are free. But it is boring to set up then on PC. And some time feel unsecured.

And to remove this tension there are some website that help you to check that is your friend invisible or not. The links are given below_
http://www.invisible-scanner.com/
http://www.statusdetect.com/
http://www.webxitin.net/
http://www.vizgin.com/
http://www.ydetector.com/
http://www.yahoo-status.com/

For check that you should write your friends ID.


Is your online or offline that you can check easily. On internet there are lots of Software. Most of them are free. But it is boring to set up then on PC. And some time feel unsecured.

And to remove this tension there are some website that help you to check that is your friend invisible or not. The links are given below_

For check that you should write your friends ID.




আগ্নেয়গিরি

0 comments
ভলকানো মানে আগ্নেয়গিরি। পৃথিবীতে অনেক পাহাড় রয়েছে, যা থেকে উত্তপ্ত গলিত পাথর, ছাই আর গ্যাস বের হয়। সেই গলিত পাথর, ছাইগুলোর তাপমাত্রা এতই বেশি যে তা টকটকে আগুনের মতো হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ভূ-গর্ভে চাপা থাকার পর একসময় সেই আগুন বেরিয়ে আসে। আর এসব আগুনমুখো পাহাড়কেই বলে আগ্নেয়গিরি।

ভলকানোর নামকরণ নিয়ে মজার একটি কাহিনী রয়েছে। রোমান পৌরাণিক কাহিনীতে আগুনের দেবতার নাম ভালকান (Vulcan)। মূলত সেখান থেকেই ভলকানো নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। বাংলায় যা আগ্নেয়গিরি ইংরেজিতে তা ভলকানো (Volkano)। আগ্নেয়গিরি হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ জমা হওয়া গ্যাস, তাপ, চাপের বহিঃস্ফুরণ। পৃথিবীর ভিতরের দিকে যে গ্যাসগুলো জমা হয়, সেগুলো আবার অতিরিক্ত তাপ ও অতিরিক্ত চাপের ফলে পৃথিবীর ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। বিষয়টি অনেকটা রান্নার সময় প্রেসার কুকারের সিটি দেওয়ার মতো। ওই যে হঠাৎ করে জোরে আওয়াজ করে উঠে! এই সিটি বাজে প্রেসার কুকারের ভিতরে চাপ বাড়তে থাকার কারণে। আগ্নেয়গিরিতেও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। আর বের হওয়ার সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসে ভিতরে জমে থাকা গলিত লাভা (Lava)। মাটির নিচে জমতে থাকা গলিত পাথর, ছাই প্রভৃতিকে বলে ম্যাগমা (Magma)। সেই ম্যাগমাই যখন মাটির ভিতর থেকে বাইরে খোলা বাতাসে আসে, তখন তার নাম হয় লাভা। লাভার তাপমাত্রা থাকে ৭০০-১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সে কারণে এই তাপমাত্রায় পাথর গলে যাওয়া খুব একটা কঠিন কিছু নয়। আর এই গলিত পাথর বের হয়ে আসাকেই বলে লাভা উদগীরণ।

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫১০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আবিষ্কৃত হয়েছে। যার মধ্যে ৮০টি বা তার বেশি আবার সমুদ্রের নিচে। সংখ্যাটাকে অনেক বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে পৃথিবীতে প্রতি ১০ জনের একজন বাস করে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির আওতায়। যদিও এটি ভয়াবহ বিপজ্জনক, তারপরও মানুষ আগ্নেয়গিরির কাছেই থাকে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, গত ৫০০ বছরে কমপক্ষে ২ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করেছে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। অথচ তারপরও মানুষ থাকতে চায় আগ্নেয়গিরির কাছে, কারণ আগ্নেয়গিরির ঢালে থাকে উন্নত এবং উর্বর মাটি, যাতে ফসল ভালো হয়। আর অনেক পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টিই হয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। এই যেমন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের কথাই ধরা যাক। এটি পাঁচটি পর্বত নিয়ে গঠিত। আর এই পাঁচটি পর্বতের ২টিই আগ্নেয়গিরি!

আগ্নেয়গিরিগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সক্রিয়, সুপ্ত এবং বিলুপ্ত। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাত করে এবং যেকোনো সময় করতে পারে। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হলো যে আগ্নেয়গিরি বেশ আগে অগ্ন্যুৎপাত করেছে আবার যেকোনো সময় করতে পারে। আর বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি হলো যেটা অনেক দিন আগে অগ্ন্যুৎপাত করেছে, আর করার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো মাওনা লোয়া (Mouna Loa)। হাওয়াই ভাষায় মাওনা লোয়া মানে হলো লম্বা পর্বত। এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপে। মাওনা লোয়া ৪ হাজার ১৭০ মিটার লম্বা। বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে, এটি মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বড়। অবশ্য তা সমুদ্রের নিচের এই পর্বতের গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত হিসাবে। যতদূর জানা গেছে, ১৮৭৩ সাল থেকে এই আগ্নেয়গিরিটি ৩৩ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে।

এত গেল পৃথিবীর হিসাব, আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি কোনটি? এটি হলো মাউন্ট অলিম্পাস। এটি বুধ গ্রহে অবস্থিত। এই আগ্নেয়গিরির আকৃতি বিস্ময়কর। জানা গেছে, মাউন্ট অলিম্পাস লম্বায় ২৭ কিলোমিটার আর প্রস্থে ৫২০ কিলোমিটার। পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিগুলো নিয়ে একটা মজার জিনিস আছে, তা হলো- অগি্নবলয় (Ring of Fire)। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিগুলোকেই বলে অগি্নবলয় (জরহম ড়ভ ঋরৎব)। কারণ হচ্ছে- প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে এই আগ্নেয়গিরিগুলো বৃত্তের মতোই ঘিরে আছে। এ কারণেই একে বলে অগ্নিবলয়।

সৃষ্টির আদি থেকেই পৃথিবীতে কম-বেশি আগ্নেয়গিরির আগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। পৃথিবীর বিবর্তনে আগ্নেয়গিরির অনেক ভূমিকা রয়েছে বলেও ধারণা করেন বিজ্ঞানীরা। এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮১৫ সালে ইন্দোনিশিয়ায়। ওখানকার তামবোরা পর্বতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে শুধু না খেয়েই মারা গিয়েছিল ৯২ হাজার লোক। ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহতম ঘটনা ধরা হয় এটিকে। মজার ব্যাপার হলো এরপরের ঘটনাটিও ঘটেছে ইন্দোনেশিয়াতেই। এটি অবশ্য ঘটে ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতাও পর্বতে। এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে জলোচ্ছ্বাস বা সুনামিরও সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সুনামিতেই মারা গিয়েছিল ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত 'পেলে' পর্বতে ১৯০২ সালে ঘটে যায় আরেকটি ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাত। সেই অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ের কারণে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। আর ইতালির ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্ন্যুৎপাতের লাভা প্রবাহ আর উত্তপ্ত কাদার প্রবাহে মারা গিয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ জনের মতো। এটা অবশ্য অনেকদিন আগের কথা, সেই ১৬৩১ সালের।

সাম্প্রতিককালেও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। অতি সম্প্রতি আইসল্যান্ড আগ্নেয়গিরির ছাইভস্মের প্রভাবে আতঙ্ক ও বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আইসল্যান্ডের এজাফালাজোকুল পর্বতের অগ্ন্যুৎপাতে ভয়ঙ্কর আলোড়ন তোলে। ২০১০ সালের ২০ মার্চ এর ঘটনা। হঠাৎ করেই সেই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাইভস্মের ইদগীরণ শুরু হয়। একটানা আগুন আর ছাইয়ের উদগীরণ চলে ২৩ মে পর্যন্ত। আর সেই আগুনে ছাইয়ের জন্য ছয় দিন ধরে ওই এলাকার ওপর দিয়ে সব উড়োজাহাজের চলাচলই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ৮০০ লোককে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

এরপর গত ২ জানুয়ারি, ২০১০ ফ্রান্সের পিটন দে লা ফোরনেইজ (Piton de la Fournaise) পর্বতে হয়ে গেল আরেকটা ছোটোখাটো অগ্ন্যুৎপাত। ১০ দিন স্থায়ী ছিল সেটা। আর অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও আগ্নেয়গিরিতে পর্যটকের সংখ্যা কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলছে। অবশ্য আগ্নেয়গিরির আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও এর জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া জাপানের ফুকুটোকু-ওকানোবা (Fukutoku-Okanoba) ও কিরিশিমা (Kirishima), কঙ্গোর নায়ামুরাগিরা (Nyamuragira) আর কোস্টারিকার তুরিএলবা (Turrialba) প্রভৃতি আগ্নেয়গিরিতেও সাম্প্রতিককালে ছোট বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। সব ঘটনাই এ বছরের অর্থাৎ ২০১০ সালের। এর মধ্যে ফুকুটোকু-ওকানোবা হচ্ছে সমুদ্রের নিচের একটি বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর। ছাই, কাদা, গলিত পাথরের এসব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উদগীরণ। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসের নিঃসরণও আছে। যেমন কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড আরো অনেক ধরনের গ্যাস। এসব গ্যাস যখন বায়ুমণ্ডলে জমা হতে থাকে, তখন এদের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের মেঘের পানি যুক্ত হয়ে তৈরি করে এসিড। এর কারণেই মূলত ক্ষতিকর এসিড বৃষ্টি হয়। এসিড বৃষ্টির ঝুঁকি ছাড়াও এইগ্যাসের রয়েছে নানা ক্ষতিকর প্রভাব। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এসব গ্যাস মারাত্মক প্রভাব। ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী এই গ্যাস আর আগ্নেয়গিরির ছাই। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির ছাই উড়োজাহাজ চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি করে। আবার আগ্নেয়গিরির সেই গলিত লাভার কথা ভাবলে তো গা শিউরে ওঠে। ঠিক বন্যার পানির মতো তেড়ে আসা ভয়াবহ তাপমাত্রার গলিত মাটি ও পাথরের স্রোত! তবে আশার কথা হলো এখন অগ্ন্যুৎপাতের খবর আগেই জানা যায়। কোনো আগ্নেয়গিরি হঠাৎ অস্থির হতে শুরু করলেই ওই এলাকার সবাইকে সচেতন করে দেওয়া হয়, যেন তারা সরে যায় খুব দ্রুত।

আগ্নেয়গিরি যে শুধু ক্ষতিই করে এমন নয়। অগ্ন্যুৎপাতের সময় যে ছাইটা বের হয় সেখানে কিন্তু অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ থাকে। যখন সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যায়, মাটির গুণগত মান অনেক বেড়ে যায়। সেই মাটিতে ফসল উৎপাদনও হয় অনেক ভালো। আগুন মুখো পাহাড় বা আগ্নেয়গিরি ভয়ঙ্কর হলেও সুন্দর। আর সে জন্যেই ঝুঁকি থাকা স্বত্বেও সবাই ছুটে আসে এই চিরন্তন ভয়ঙ্কর সুন্দরের কাছে।
 এক নজরে..
-স্মিথ সোনিয়ান ইনস্টিটিউটের ভলকানোজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বুক-এর তথ্যমতে, পৃথিবীতে জীবন্ত আগ্নেয়গিরির সংখ্যা ১৫১১টি।
-বিশ্বের ৯০ শতাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরির অবস্থান দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। এ অঞ্চলে রয়েছে ১১০০- এর অধিক সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। এত বেশি সংখ্যক আগ্নেয়গিরির অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলকে বলা হয় রিং অব ফায়ার বা অগি্নবলয়।

-ইতালির ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতই বিশ্বের সর্বপ্রথম আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। ৭৯ ঈসায়ীব্দে এ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

-উনিবিংশ শতকে বিশ্বে সবচেয়ে বিপর্যয়কর ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ইন্দোনেশিয়ায়। ১৮১৫ সালে জাভার তামেবারা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৯২ হাজার মানুষ নিহত হয়।

-সবচেয়ে উত্তপ্ত লাভা নির্গত হয় হাওয়াই দ্বীপের আগ্নেয়গিরি থেকে। লাভার উত্তাপ থাকে প্রায় ১১৭০ ডিগ্রি সেন্টিগেড।

-বিশ্বের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি 'মনোলোয়'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এটি অবস্থিত। প্রায় ৫১২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে মনোলোয়ার অবস্থান। আয়তন প্রায় ৪০ হাজার ঘনকিলোমিটার। মনোলোয়ায় সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। উল্লেখ্য, হাওয়াই "দ্বীপপুঞ্জ ২০টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল।---বিশ্বের উচ্চতম আগ্নেয়গিরি হলো 'ওহোস ডেল সালাডো'। এটি চিলি ও আর্জেন্টিনা সীমান্তে অবস্থিত।

-বিশ্বের সর্ববৃহৎ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ইন্দোনেশিয়ায় টোবা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭৫ বর্গ কিলোমিটার।

-জাপানে প্রায় ২০০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টিরও বেশি জীবন্ত।
রনক ইকরাম

মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয় কেন?

0 comments
লম্বা বা বেঁটে হওয়া নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর, যা আসে বাবা ও মায়ের ক্রোমোজোম থেকে। বংশগত কারণ ছাড়াও গ্রোথ হরমোনের প্রভাব লম্বা বা বেঁটে হওয়ার ওপর যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে। গ্রোথ হরমোন মস্তিষ্কে অবস্থিত পিট্যুইটারি গ্রন্থি থেকে বেরোয়। অস্থি তৈরি করতে ও লম্বা অস্থির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এই হরমোন। অস্থি তৈরির কাজ শেষ হওয়ার আগেই এই হরমোনের ক্ষরণ বেশি হলে তৈরি হয় দৈত্যাকার মানুষ। অস্থি তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর এই হরমোন বেশি বেরোলে সৃষ্টি হয় গরিলার মতো চওড়া হাড়যুক্ত মানুষের। এই বৈশিষ্ট্যকে বলে অ্যাক্রোমেগালি। গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণ খুব কম হলে তৈরি হয় বামনাকৃতি মানুষ। সাধারণত ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা লম্বায় খাটো হয়। স্ত্রী-প্রজনন হরমোন ইস্ট্রোজেন বয়ঃসন্ধির সময়ে গ্রোথ হরমোন ক্ষরণের হার কমিয়ে দেয়। তাই মেয়েরা কম লম্বা হয়। আর পুরুষ প্রজনন হরমোন অ্যান্ড্রোজেন লম্বা হতে সাহায্য করে নির্দিষ্ট কিছু সময় পর্যন্ত। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেরোনো থাইরক্সিন ও ট্রাই আয়োডো থাইরোনিন হরমোন দুটির ওপরেও মানুষের লম্বা ও বেঁটে হওয়া নির্ভর করে।

কালাবার

0 comments
নাইজেরিয়ার বড় বড় শহরে পাহাড় সমান বিষাক্ত আবর্জনার স্তূপ। আগুন জ্বালিয়ে পোড়ানো হয় বর্জ্য। চারদিকে বন্ধ ড্রেন। তবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঝকঝকে তকতকে বন্দরনগরী কালাবারের দৃশ্যটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাইজেরিয়ার মধ্যেই যেন অন্য এক দেশ। অন্যান্য শহরগুলো দেখে এ শহরে এলে রীতিমতো হতবাক হতে হবে। ধারণাই আসবে না যে, এটি নাইজেরিয়ার একটি শহর। ক্রস নদীর তীরবর্তী এ শহরের নাম কালাবার। এখানকার মুক্ত বায়ুতে ভেসে আসে নানা ধরনের খাবারের সুবাস, ভাজা মাছের লোভনীয় গন্ধ। রাস্তাঘাট, ফুটপাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কোথাও গর্ত বা খাদ নজরে পড়ে না। তাই কালাবারের বাসিন্দারা যথার্থই সগৌরবে নিজেদের শহরের নাম দিয়েছে মানুষের স্বর্গ। এই শহরের সংস্কৃতির মধ্যেই জড়িয়ে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। এক্ষেত্রে অর্থ নয়, মানুষের বোধশক্তিটাই আসল। এ শহরের রাস্তায় বা যেখানে-সেখানে কেউ ময়লা ফেলে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেন অনেকটা ঈশ্বরকে কাছে পাওয়ার মতো। তাই শুধু সরকার নয়, এ শহরের সব নাগরিকই এ ব্যাপারে খুবই সচেতন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাটা নির্ভর করে মানুষের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্কের ওপর। কালাবারের মানুষ এফিক সম্প্রদায়ভুক্ত। এই গোত্রের লোকজন পরিষ্কার থাকতে ভালোবাসে এবং এজন্য যেকোনো ধরনের কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। গর্বের সঙ্গে গাড়ির নেমপ্লেট দেখান তারা_ যেখানে লেখা রয়েছে মানুষের স্বর্গ। তবে এই উপাধিটা টিকিয়ে রাখতে এতটুকু বসে থাকে না এখানকার বাসিন্দারা।

নগর উন্নয়ন দফতর মুখপাত্র এলিগেন্স এডিন এই প্রসঙ্গে বলেন, শহরের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বটা আমাদের। আমরা নিজ হাতে আবর্জনা পরিষ্কার করি, রাস্তাঘাট ঝড়ু দেই, গাছপালার পরিচর্যা করি। আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘাস কেটে ছোট করি।

শহরটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে প্রায় ৯০ হাজার ইউরোর মতো খরচ হয় প্রতি মাসে। তবে অন্যান্য বড় শহরের মতো কালাবারেও বর্জ্য ফেলার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। এলিগেন্স বলেন, শহরের কেন্দ্র থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আবর্জনা ফেলার একটি ভাগার রয়েছে আমাদের। নিত্যদিনের আবর্জনা জমিয়ে ফেলা হয় সেখানে। তবে সরকার সম্প্রতি বর্জ্য ফেলার জন্য আধুনিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে।

আগে কালাবার কিন্তু এতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল না। এটোপ ওবোট জানান, ১৯৯৯ সালে নতুন সরকার আসার পর থেকেই কালাবারের চেহারাটা বদলেছে। তার আগে শহরটা আজকের মতো পরিষ্কার ছিল না। ১৯৯৯ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর চালু হয় বহুদলীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থা। নতুন সরকার দুর্নীতি দমন থেকে শুরু করে নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়। কালাবার শহরেও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে আইন কানুন তৈরি হয়। এলিগেন্স এডিন বলেন, আমাদের রয়েছে কঠোর পরিবেশ আইন। কেউ যদি ইচ্ছা করে রাস্তায় ময়লা ফেলে, তা হলে তার কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের আবর্জনা আইনটা বলা যায় খুবই পরিবেশবান্ধব। তা সত্ত্বেও কালাবারকে পুলিশের নগরী বলা যায় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে এখানকার বাসিন্দারাই পরস্পরকে সচেতন করে দেয়। কেউ যদি রাস্তায় আবর্জনা নিক্ষেপ করে তাহলে তাকে ভদ্রভাবে তা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। ফলে এই শহরটা শুধু যে দেখতেই পরিষ্কার তা নয়, এখানকার লোকজনের অসুখ-বিসুখও হয় কম। নাইজেরিয়ার অন্যান্য শহরে যেখানে মাঝে মাঝেই কলেরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সেখানে বেশ কয়েক বছর ধরে কালাবারের মানুষ এ রোগটির কবল থেকে মুক্ত।

আনোয়ার হোসেন

ফিনিশীয় জাতি

1 comments
প্রাচীন পৃথিবীর গোষ্ঠী বা জাতিগুলোর মধ্যে ফিনিশীয় জাতি বলে এক গোষ্ঠীর কথা প্রায়ই শোনা যায়। যদিও তারা সংখ্যায় বেশি ছিল না। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে ভূমধ্যসাগরের তীরে 'তির' নামে একটি সমৃদ্ধ নগরী গড়ে তুলেছিল তারা। ফিনিশীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্যে পারদর্শী ছিল। এছাড়াও তারা দক্ষ নাবিক ও ভালো জাহাজ নির্মাতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছিল। ফিনিশীয়রাই প্রথম সওদাগরি শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যে জিনিসপত্রের বিনিময়ে তারা স্থানীয় জিনিসপত্র কিনত। ফিনিশীয়দের বাণিজ্যের প্রধান উপকরণ ছিল দাস কেনাবেচা। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কৃষি, পশুপালন ও হস্তশিল্প বিকশিত হয়ে ওঠায় তারা বাণিজ্যিক লেনদেনও শুরু করে।

বর্তমান পৃথিবীর জন্য ফিনিশীয়দের বেশকিছু অবদান রয়েছে, যা আজো আমাদের অবাক করে। ফিনিশীয়রাই প্রথম বর্ণমালা আবিষ্কার করেছিল। তাদের ভাষায় বর্ণমালা ছিল মোট ২২টি। যে বর্ণমালা থেকে পরবর্তীতে ইংরেজি বর্ণমালা তৈরি হয়েছে। এর আগে ছবি এঁকে মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করত। অবশ্য ফিনিশীয়রা যেসব অক্ষর বা বর্ণ ব্যবহার করত আমরা এখন তা ব্যবহার করি না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের কিছু কিছু অক্ষর আজ তিন হাজার বছর পরও প্রায় ইংরেজি অক্ষরের মতো। ফিনিশীয়রা ঈশ্বরে বিশ্বাস করত না। তারা সূর্যের দেবতাকে বিশ্বাস করত। ফে-ফি-ফো-ফোম নামক এক মূর্তি ছিল। আর এ মূর্তির উদ্দেশ্যে ফিনিশীয়রা জীবন্ত শিশু বলি দিত। ফিনিশীয়রা ছিল হিসাবি ও ব্যবসায়ী জাতি। তারা শুধু অর্থ ও সম্পদ নিয়েই ভাবত। তারা সুন্দর সুন্দর কাপড়, মাটির পাত্র, সোনা, রুপা ও হাতির দাঁতের জিনিসপত্র বানাতে জানত। তারা এগুলো তৈরি করে কাছে ও দূরের দেশে বিক্রি করত। তির ও মিডন ফিনিশীয়ার দুটি প্রধান শহর ছিল। আর এ শহর দুটো খুব জমজমাট ও কর্মব্যস্ত শহর ছিল। ফিনিশীয়রা জাহাজে করে ভূমধ্যসাগরের সর্বত্র বিচরণ করত। এমনকি সাগর ছেড়ে মহাসাগরেও চলে আসত তারা। সমুদ্রপথে তারা কোনো ভয় করত না। আর তাই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তারা সেরা নাবিক ও সেরা বণিক হয়ে উঠেছিল? ফিনিশীয়রা যেখানেই জাহাজ ভিড়াত সেখানেই নতুন নতুন শহর গড়ে তুলত। সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে বাণিজ্য করত। স্থানীয় অধিবাসীরা ছিল সরল ও বোকা। তাদের কাছ থেকে সামান্য কাচের মালা বা এক টুকরা রঙিন কাপড়ের পরিবর্তে ফিনিশীয়রা পেত মূল্যবান সোনা, রুপা ও অন্যান্য জিনিস। আফ্রিকার উপকূলে ফিনিশীয়দের প্রতিষ্ঠিত শহরের মধ্যে একটি শহরের নাম কার্থেজ। পুরনো ইতিহাসের পাতায় বার বার এ শহরের লোকদের কথা আসবে। ফিনিশীয়রা বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেই জাতি হিসেবে তারা বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু তারা সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বহুদূর।
প্রীতম সাহা সুদীপ




সেন্ট হেলেনা

0 comments
দক্ষিণ আটলান্টিকের মাঝামাঝি এই দ্বীপের অবস্থান। অ্যাঙ্গোলা থেকে এক হাজার ২০০ মাইল এবং ব্রাজিল থেকে এক হাজার ৮০০ মাইল দূরের এই দ্বীপকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম স্থান বলে বিবেচনা করা হয়। ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর নেপোলিয়নকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। ১৮২১ সালে এই দ্বীপেই মৃত্যুবরণ করেন নেপোলিয়ন। এই দ্বীপে অন্তরীণ থাকাকালে তিনি বই পড়া, বাগান করা আর নিজের স্মৃতি রোমন্থন করে সময় কাটাতেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫১ বছর।




পাটমোস

0 comments
এজিয়ান সাগরের মাঝখানে ১৩ বর্গমাইলের একটি পাহাড়ি দ্বীপ পাটমোস। ৯৫ খ্রিস্টাব্দে সেন্ট জনকে এই দ্বীপে নির্বাসন দেয় রোমানরা। গসপেল বা নতুন বাইবেল আর নতুন টেস্টামেন্ট বলে পরিচিত রিভিলেশনস বই রচনা করেন তিনি এই দ্বীপে বসে। প্রায় ১০০ বছর পর সেন্ট জনের স্মরণে এক সন্ন্যাসী এখানে প্রতিষ্ঠা করেন এক আশ্রম, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এ দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।




রবিনসন ক্রুসো দ্বীপ

0 comments
১৭০৪ সালে এক অস্ত্রবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ঝগড়া করার পর আলেকজান্ডার সেলকার্ককে প্রশান্ত মহাসাগরের ইসলা মিয়াস তিয়ারা নামের এক দ্বীপে ফেলে রেখে জাহাজের বাকি সবাই চলে যায়। প্রায় পাঁচ বছর সেই দ্বীপে একমাত্র মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করেন সেলকার্ক। চিলির বালপারাইসো থেকে ৪৮ মাইল দূরের এই দ্বীপে তিনি শিকার আর ফলমূল খেয়ে বেঁচে ছিলেন। পরে ১৭০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়া এক জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হয়, সেলকার্কের এই দুঃসাহসিক পাঁচ বছর নিয়েই ডেনিয়েল ডিফো রবিনসন ক্রুসো নামে উপন্যাস লিখেন। পরে চিলির সরকার ১৯৬৬ সালে এই দ্বীপের নামকরণ করে রবিনসন ক্রুসো দ্বীপ।

Wednesday, September 22, 2010

ইউরোপিয়ান কমিউনিটি (EC)

0 comments
দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর একটি শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইউরোপ গড়ার লক্ষ্যে ১২টি সার্বভৌম রাষ্ট্র যেমন-বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জার্মানি, গ্রীস, স্পেন, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ইউরোপিয়ান কমিউনিটি (EC) গঠিত হয়। ইউরোপিয়ান কমিউনিটির জন্ম ১৯৫০ সালের ৯ই মে। তখন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট শুমান (Robert Schuman) বিখ্যাত শুমান পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। মূলত ইউরোপীয় কমিউনিটির আওতায় রয়েছে ৩টি আলাদা কমিউনিটি; ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত কমিউনিটি (১৯৫১-প্যারিস চুক্তি), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিউনিটি এবং ইউরোপীয় পারমাণবিক শক্তি কমিউনিটি (১৯৫৭, রোম চুক্তি)। কমিশনটির সদর দফতর ব্রাসেলসে অবস্থিত। এর ১৭ জন কমিশনারের মধ্যে প্রতিটি বড় সদস্যরাষ্ট্রের ২ জন করে এবং অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের ১ জন করে কমিশনার রয়েছে। ইসির সিদ্ধান্তসমূহ প্রস্তাবনা এবং কার্যকর করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে এবং ইসির মৌলিক নীতিমালা সমুন্নত রাখা এর কাজ। সে ক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পষ্ট প্রয়োগ হচ্ছে, ইসি আইন লক্সিঘত হলে কমিশন কর্তৃক বিচারালয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। লুক্সেমবার্গভিত্তিক নিরীক্ষক দফতর ইসির বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ে তদারক করে। পরিষদ ও কমিশনকে সহায়তা করে একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিটি এবং একটি আঞ্চলিক কমিটি পরামর্শকরূপে কাজ করে। কমিশন তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের সঙ্গে ইসির চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে এবং সেইসঙ্গে এসব দেশে আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা কর্মসূচির ব্যবস্থা করার জন্য 'ইউরোপীয় কমিউনিটিসমূহের কমিশনের প্রতিনিধি দফতর নামে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করেছে। বর্তমানে ১০০ এরও বেশি ধরনের মিশন রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুসারে এ সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৯১ সালের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান কমিউনিটি জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। এই প্রথমবারের মতো ইসি নিজস্ব অধিকারবলে একটি জাতিসংঘ সংস্থার সদস্যপদ লাভ করল।
**রনক ইকরাম**

ভৌতিক অগ্নিকাণ্ড

33 comments
আগুনের উৎসের কাছে না গিয়েও মানুষের দেহে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়া পৃথিবীর এক অন্যতম বড় রহস্য। এ ধরনের ঘটনার শিকার যারা হয়েছেন, তাদের মধ্যে কিছু লোক আহত হয়ে কোনোভাবে বেঁচে গেছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ রহস্যময় আগুন তাদের দেহকে পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই করে ফেলেছে। আবার কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে, মানুষের দেহে আগুন লেগেছে ঠিকই কিন্তু তা খুব কাছের কোনো বস্তুকে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ঘটনার নাম দিয়েছেন 'কেইসেস অব স্পনটেরিয়াস হিউম্যান কর্মবার্সন'। সংক্ষেপে বলা হয় এসএইচকে। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সারা বিশ্বে এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। তার কয়েকটি এরকম।

এক.

সর্বপ্রথম এ ধরনের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬৭৩ সালে। প্যারিসের এক মহিলা প্রথম শিকার হন। একদিন বিকালে তিনি সাধারণ খড়ের বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন। হঠাৎ রাতে কোনো কারণ ছাড়াই তার শরীরে আগুন জ্বলে ওঠে। সকালে প্রতিবেশীরা শুধু তার মাথা এবং আঙ্গুলগুলো খুঁজে পায়। এগুলো ছাড়া তার পুরো শরীরই পুড়ে যায়।

দুই.

১৭৮৮ সাল। ইংল্যান্ডের ঘটনা। এক ভদ্রলোক তার ঘরে প্রবেশ করেই বিস্মিত হয়ে গেলেন। তিনি দেখতে পেলেন, গৃহপরিচারিকা ঘর পরিষ্কার করছে এবং তার পেছনেই একটি অগি্নশিখা নেচে বেড়াচ্ছে। মেয়েটিকে সতর্ক করার জন্য তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলেন। সতর্ক করার আগ পর্যন্ত মেয়েটি আগুন সম্পর্কে কিছুই জানত না। ভদ্রলোক নেভানোর চষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে মেয়েটি এ আগুনে পুড়ে মারা যায়।

তিন.

ইংল্যান্ডের সাউদার্মটনের ছোট একটি গ্রাম বাটল কস্ হেথ। সেই গ্রামে জনকিলি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন বসবাস করছিলেন। ১৯০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়ি থেকে তীক্ষ্ন চিৎকার শুনতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীরা এসে ঘরের মাঝখানে আগুন দেখতে পায়। অন্যদিকে, জনকিলির মৃত দেহ পড়ে আছে। তার পুরো শরীর পুড়ে গেছে। আর স্ত্রীর ভাগ্যেও ঘটেছে একই পরিণতি। ইজিচেয়ারে বসে আছে এক বিশাল কয়লা।

চার.

নরফক আইল্যান্ডে গ্রীষ্ম অবকাশ কাটানোর জন্য জাহাজের কেবিন ভাড়া করেন মেরি পারপেন্টার। স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে কেবিনে বসে গল্প করার সময় তার দেহে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। কয়েক মিনিটে পুড়ে যান তিনি। অথচ অন্য কেউ সামান্যও আহত হয়নি। এমনকি কেবিনেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
**রনক ইকরাম**

টেলিপ্যাথি

0 comments
আপনি আপনার নতুন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছেন। হুট করেই বন্ধুটি এমন কিছু কথা বলে বসলো যা কখনো আপনি তাকে জানাননি। কথাগুলো কিন্তু মিথ্যে নয়। এই কথাগুলো আপনার মনের ভেতর ছিল। কিন্তু আপনার বন্ধু সে কথা জানলো কী করে? মনের কথা জানা বা অনুমান করার এই অদ্ভুত ক্ষমতাকেই টেলিপ্যাথি বলে। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট। নিজেদের অদ্ভুত ক্ষমতাবলে বুঝে নিতে পারে পাশের মানুষটির মানসিক অবস্থা। বলে দিতে পারে তার না বলা কথা। আবার কেউ কেউ নিজের চিন্তা-ভাবনা মুহূর্তেই ঢুকিয়ে দিতে পারে অন্যের মনে। তারা দেখতে পারে মানুষের আত্মাও! এরকম বিষয় নিয়েই আলোচনা করে প্যারা সাইকোলজি।

এটি সাইকোলজির একটি মজার শাখা। এখানে মানুষের অদ্ভুত সব ক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এমনই এক অদ্ভুত ক্ষমতা হলো টেলিপ্যাথি। টেলিপ্যাথি বলতে আসলে মানুষের অস্বাভাবিক বা অতি ইন্দ্রীয় যোগাযোগকে বুঝানো হয়। বলা চলে টেলিপ্যাথি হচ্ছে মানুষের মনের কথা বুঝতে পারা। এরকম বিষয়গুলো আলোচিত হয় প্যারা সাইকোলজিতে। জার্মান সাইকোলোজিস্ট ম্যাক্স দেসোর (১৮৬৭-১৯৪৭) সর্বপ্রথম সাইকোলজির এই শাখাটিকে সংজ্ঞায়িত করেন। আর ফ্রেডরিক ডবি্লউএস মেয়ার ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো টেলিপ্যাথির সংজ্ঞায়ন করেন।

প্যারা সাইকোলজিতে অলৌকিক সব ঘটনা নিয়ে পর্যালোচনা করা হলেও এর সবই পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত। মানুষের মনের কোন ভুল বা ভ্রান্ত ধারণাগুলো কখনোই প্যারা সাইকোলজির বিষয়ভুক্ত হয় না। প্যারা সাইকোলজিস্টরা কিছু বিষয় নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ করে থাকেন, যার মধ্যে পড়ে টেলিপ্যাথি, প্রি-রিকগনিশন, টেলিকিনসিস বা সাইকোকিনসিস, সাইকোমেট্রি, মৃত্যুস্পর্শ, বাইলোকেশন প্রভৃতি।

আসলেই কি এমন কিছু মানুষ আছে যারা প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট, যারা সত্যিই অন্যের আত্মা দেখতে পারে; বলতে পারে অন্যের মনের কথা। কিংবা নিমিষেই বদলে দিতে পারে অন্যের চিন্তা? সত্যিই কী টেলিপ্যাথির কোন অস্তিত্ব আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা কঠিন নয়। কেননা খুব কাঠখোট্টা বিজ্ঞানীও টেলিপ্যাথিকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন না। কিন্তু প্যারাসাইকোলজির অন্যগুলো এতোটা গুরুত্ব পায় না যতোটা পায় টেলিপ্যাথি। কারণ একটাই। ভালো মতো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আমরা আমাদের জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এরকম কিছু না কিছু ঘটনার প্রমাণ রয়েছে। যেমন ধরুন আপনি কোনো এক বন্ধুর কথা! গভীরভাবে চিন্তা করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার বন্ধুটি আপনার বাসায় এসে হাজির। এসব বিষয়কে সাধারণত আমরা কাকতালীয় ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাই। তবে সবই কাকতালীয় নয়। কারণ এটি আসলে আমাদের মস্তিষ্কের এক অতীন্দ্রিয় সংবেদনশীলতা, যেটি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু আমরা চাইলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারি না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অন্যদের মনোজগতে ভ্রমণ করতে পারে এমন লোকদের নিয়ে কিছু পরীক্ষা চালিয়েছিল তিন দ্য গ্রেট সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা এবং ব্রিটেন। মজার ব্যাপার হলো তার চমকপ্রদ ফলাফলও পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় টেলিপ্যাথি মিলিটারি ইন্টিলিজেন্সে একটি বিশেষ আসন করে নিয়েছিল এবং এর ধারকদের বলা হতো 'সাই এজেন্ট'। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা টেলিপ্যাথিকে রিমোট সেন্সিং বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে যাই হোক, এই এজেন্টরা তাদের মনটাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং বস্তু সম্পর্কে তথ্য দিতেন।

সময়টা ১৯৪০ সাল, এরকমই এক ক্ষমতাধর টেলিপ্যাথ উলফ ম্যাসিং জোসেফ স্ট্যালিনের সুনজরে পড়লেন। উলফ ম্যাসিং এর মজার কিছু ঘটনা ছিল। যেগুলোতে তার অতি ইন্দ্রীয় ক্ষমতার অহরহ প্রমাণ ছিল।

এই প্রমাণগুলোকেই মূলত টেলিপ্যাথির প্রতি সরকারি আকর্ষণের সূত্রপাত ধরা হয়। পশ্চিমা বিশ্বও টেলিপ্যাথি নিয়ে নাড়াচাড়ায় পিছিয়ে ছিল না। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এসজি সোয়াল (১৮৮৯-১৯৭৯) নামের ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের এক গণিতের প্রফেসর ১ লাখ মানুষের মধ্য থেকে ১৬০ জনকে নিয়ে টেলিপ্যাথি টেস্ট করেন। একইভাবে প্যারাসাইকোলজিস্ট বাসিল সাকলেটন এবং রিটা এলিয়ট কিছু ফলাফল পেতে সক্ষম হন যেটাকে কোনোভাবেই কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে কেন একজন অন্যের মনোজগতে বিচরণ কিংবা চেতনাকে আচ্ছন্ন করতে পারছে, সে রহস্য আজো অজানা। অধিকাংশ বিজ্ঞানীর ধারণা প্রত্যেক মানুষেরই একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। আর এই ক্ষমতাটা কাজে লাগানোর জন্য সুতীক্ষ্ন মনোসংযোগ প্রয়োজন। টেলিপ্যাথি পরীক্ষার একটা সহজ প্যাটার্ন আছে। এ ক্ষেত্রে সাবজেক্ট এবং পরীক্ষক মুখোমুখি বসেন আর পরীক্ষকের সামনে থাকে একটা মনিটর যেখানে একটার পর একটা ছবি অথবা চিহ্ন উৎপন্ন হতে থাকে। পরীক্ষকের সামনে যে ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে টেলিপ্যাথকে (সাবজেক্ট) সেটা বলতে বা এঁকে দেখাতে হয়। টেলিপ্যাথ পরীক্ষকের মস্তিষ্কের ইমেজটা পড়তে পারে এবং তার ওপর ভিত্তি করেই ছবি আঁকে। বছরের পর বছর এই পদ্ধতিতে আশ্চর্যজনক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।

ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী রুপার্ট শেল্ডরেক এই মরফোজেনাটিক ফিল্ডের সূত্র আবিষ্কার করেন। এই সূত্রানুযায়ী প্রকৃতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে, যা পরবর্তী প্রয়োজনানুসারে অন্যদের কাছে পৌঁছে যায়। তার বিখ্যাত উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, ব্রিটিশ বংশীয় চিকাডি নামক পাখির দুধ চুরির কৌশল। তার ভাষ্য অনুযায়ী কিছু পাখি যখন দুধের বোতলের অ্যালুমিনিয়ামের ঢাকনা খুলে দুধ চুরি করা শিখেছিল সেই কৌশলটি বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ঐ প্রজাতির পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু তাই নয়, খুব দ্রুত ইউরোপ মহাদেশীয় অন্যান্য পাখিও একই কৌশলে দুধ চুরি করা শুরু করে দেয়। এটা সম্ভব হয়েছিল মরফোজেনেটিক ফিল্ডের বদৌলতে, কারণ টেলিপ্যাথি বাঁধনহীন, এটা মানুষ এবং পশু উভয়ের সঙ্গেই সমানভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

শেল্ডরেক এই ব্যাপারটি প্রমাণ করার জন্য বেছে নিয়েছিল একটা পোষা তোতা পাখি এবং এর মালিককে। তোতা পাখিটির ভাণ্ডারে ছিল ৫০০ শব্দ এবং এই শব্দগুলোর সমন্বয়ে পাখিটি যে কোনো বাক্য বলতে পারত। এই পাখিটাকে একটা মনিটরের সামনে রাখা হলো যেখানে তার মালিক এ্যামিকে দেখা যাচ্ছিল। পাখিটির মালিক ছিল একই বিল্ডিংয়ের আরেক ফ্লোরে (পাখিটির থেকে দুই ফ্লোর নিচে)। এ্যামির সামনে ছিল কিছু খাম, যার মধ্যে ছিল কিছু ছবি এবং সিম্বল। এ্যামি খাম খুলে ছবিগুলো দেখা শুরু করল। আশ্চর্যজনকভাবে তোতা পাখিটি তার মালিকের ভিডিও ইমেজ দেখে ইংরেজিতে সেই ছবিগুলোর বর্ণনা দিতে শুরু করল, যেন সে তার মালিকের মনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ফেলেছে। পশু-মানুষের মধ্যে এমন নিরবচ্ছিন্ন এবং চমকপ্রদ টেলিপ্যাথিক দৃষ্টান্ত আজ পর্যন্ত আর দেখা যায়নি।

এটা ছাড়াও বিবিসি মানুষ এবং পশুর ওপর পরীক্ষার কিছু নমুনা নিয়ে ডকুমেন্টারি করেছে। অসংখ্যবার টেলিপ্যাথির এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং একই ফলাফল পাওয়া গেছে। কাজেই এটি কাকতালীয় কোনো ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই মানুষের মতো পশু-পাখিদের মধ্যেও দারুনভাবে কাজ করে টেলিপ্যাথি।

সত্যিকার অর্থে টেলিপ্যাথি ঠিক কিভাবে কাজ করে সেটি এখনো ধোঁয়াশা। হয়তো একদিন সে রহস্যের দ্বার উন্মোচিত হবে। এরপরও প্রশ্ন থেকেই যাবে এই অদ্ভুত ক্ষমতার মূল রহস্যটা আসলে কোথায়। কেন এই ক্ষমতাটা বিদ্যমান। আর যদিও বিদ্যমান, কেনই বা অল্প ক'জনই এটার প্রয়োগ করতে পারে!
**রনক ইকরাম**