Tuesday, September 14, 2010

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

1 comments
দিনাজপুর শহর হতে ১০ কি.মি. উত্তরে এবং দিনাজপুর-রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন পশ্চিমে সুরম্য অট্টালিকা ও বহু প্রজাতির সবুজ বৃক্ষ ঘেরা এ ক্যাম্পাস। দিনাজপুর সদরের বাঁশের হাট এলাকায় প্রায় ১০০ একর এলাকা জুড়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় বেষ্টিত। ১১ সেপ্টেম্বর কৃষি ও তথ্য প্রযুক্তির সান্নিধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি দশম বর্ষে পা রেখেছে।

উত্তর বঙ্গের কৃষিকে এগিয়ে নিতে ১৭৭৯ সালে একই জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয় একটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এ.টি.আই)। যার মাধ্যমে ৩ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে এ.টি.আই থেকে কৃষি কলেজে উন্নীত করা হয়। এ সময় এটির নামকরণ হয় তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তি দিনাজপুরের কৃতি সন্তান হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামে। তখন এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কৃষিতে ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রী প্রদান করা হতো এ কলেজ থেকে। ১৯৯৬ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতঃপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরু হয় উত্তর বঙ্গের কৃষি ও কৃষিবিষয়ক উন্নত বিজ্ঞানের জয়যাত্রা।

২০০০ সালে শুধুমাত্র কৃষি অনুষদে বি.এস.সি এজি (অনার্স) প্রোগ্রামে ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। পরবর্তীতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেজ স্টাডিস (বি.বি.এ), বি.এস.সি ফিশারিজ (অনার্স), এগ্রো-ইন্ডাসট্রিয়াল এন্ড ফুড প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ভেটেরিনারি এন্ড এ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদ খোলা হয়। এছাড়াও এম.এস ও এম.বি.এ প্রোগ্রাম এখানে চালু আছে। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য রয়েছে পিএইচডি প্রোগ্রাম। এই ৭টি অনুষদ থেকে সব মিলে ১০টি বিষয়ের উপর ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বিকাশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করা হয় আন্তঃসেমিস্টার, আন্তঃহল টুর্নামেন্ট, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য মেধাবিকাশের কর্মকাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গড়ে উঠেছে অর্ঘ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সেঁজুতি নাট্য চক্র, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, দি ডিইলি স্টার রিডারস ক্লাবসহ অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য রয়েছে ৩টি একাডেমিক ভবন। রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, ১টি ছাত্রী হল, ৪ টি আবাসিক হল। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে রয়েছে একটি ক্যাফেটেরিয়া। এছাড়াও ওই ভবনে রয়েছে ছাত্র সংসদ ভবন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কামরা। মেধাকে আরো বিকাশের জন্য গবেষণালব্ধ থিসিস, রিপোর্ট, জার্নালের পাশাপাশি রয়েছে ২৫ হাজার বই। শারীরিক কসরতের জন্য রয়েছে আধুনিক জিমনেসিয়াম ও খেলার মাঠ। স্বাস্থ্য রক্ষায় এ্যাম্বুলেন্সসহ রয়েছে একটি আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য রয়েছে দুটি অডিটোরিয়াম। দু®প্রাপ্য গাছ-গাছালির আকর্ষণীয় সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং বিভিন্ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গবেষণার জন্য জামর্প্লাজম সেন্টার। এছাড়াও একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ করতে রয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্লাব, ভিআইপি গেষ্ট ্হাউজ, ২টি মসজিদ, ১৩৬টি আবাসিক ইউনিট/ভবন, ১টি শহীদ মিনার, ১টি শিশুপার্ক, পোষ্ট অফিস, রূপালী ব্যাংক শাখা, শ্রমিক ব্যারাক, স্কুল, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা, নিজস্ব বৈদ্যুতিক লাইন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (আই.আর.টি.), যাতায়াতের সুবিধার্থে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জীপ, পিকআপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য রয়েছে ১৬২ জন শিক্ষক, ৮২ জন কর্মকর্তা এবং ৩৪৬ জন কর্মচারী।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। প্রতি সেমিস্টার সমাপ্ত হয় ২১ সপ্তাহে। যেখানে ইংরেজি মাধ্যমে ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপর শিক্ষা সফর। মেধাবীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদক ও বৃত্তির ব্যবস্থা। প্রতিটি সেমিস্টারে ক্লাসে অংশগ্রহণ, কুইজ টেস্ট, মিড সেমিস্টার পরীক্ষা এবং ফাইনাল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ করা হয়। সেমিস্টার সম্পন্ন করার বিষয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় আইন-কানুন। যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই সকল নিয়ম সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আফজাল হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল প্রকার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। গ্রাজুয়েট তৈরী করার পাশাপাশি এ পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাপান, কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বারক চুক্তি। এছাড়াও আর. ডি. আর. এস, দিনাজপুরের ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত সাফল্য ও গবেষণালব্ধ কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালনায় প্রকাশিত হয় জার্নাল অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি নামের একটি ষাš§াসিক গবেষণা জার্নাল।

1 comments:

Post a Comment