Sunday, February 27, 2011

বিশ্বের প্রথম ইসলামিক শেয়ারবাজার সূচক

0 comments
১৬০২ সালে সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত আমস্টারডাম স্টক এঙ্চেঞ্জ বিশ্বের প্রথম শেয়ারবাজার হিসেবে স্বীকৃত হলেও বিশ্বে প্রথমবারের মতো ইসলামিক শেয়ারবাজার সূচক চালু হয় বাহরাইনে। ডাও জোন্স ইসলামিক মার্কেট ইনডেঙ্ (ডিজিম) নামের এ ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক সূচকটি চালু হয় ১৯৯৯ সালে। মূলত মুসলিম বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে টানতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিটি দ্বারা ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত এ সূচকের অধীন কম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমপর্যায়ে অ্যালকোহল, হোটেল, ক্যাসিনো, প্রচলিত ব্যাংকিং, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ঋণ ও সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ সূচকে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়।




Source: Kaler Kontho

Saturday, February 26, 2011

ছাতা আবিস্কারের ইতিহাস

0 comments
ঝরঝরে বৃষ্টি হলেই পথ চলতে ছাতার মতো উপকারী বন্ধুকে প্রয়োজন হয়। ছাতা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে। ঠিক কোথায় এবং কারা প্রথম ছাতা আবিষ্কার করেছিল এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বের প্রথম ছাতার দোকান 'জেমস স্মিত অ্যান্ড সন্স' চালু হয় ১৮৩০ সালে এবং এই দোকান লন্ডনের ৫৩ নিউ অক্সফোর্ড স্ট্রিটে আজও চালু আছে। ছাতা প্রথমে ব্যবহার হতো সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। তবে বৃষ্টি প্রতিরোধ করার জন্য প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে চাইনিজরা। ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরনো হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল অনেক বড় এবং ওজনও ছিল বেশি। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্সস্টিলের চিকন রড দিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার জন্য ছাতা তৈরি করেন। ইংল্যান্ডে বিশেষ করে লন্ডনে প্রচুর বৃষ্টি হতো। এ জন্য সেখানে ব্যাপকভাবে ছাতার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে লন্ডন ছাতার শহর হিসেবে পরিচিত। এক সময় বিশ্বের অনেক দেশ ব্রিটিশদের কলোনি ছিল। আর সেই কারণে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অনেক কম খরচে ছাতা তৈরি করতে পারত। সে সময় তারা সোনা, রুপা, চামড়া, বিভিন্ন প্রাণীর শিং, বেত ও হাতির দাঁত দ্বারা ছাতার হাতল তৈরি করত। ১৭১৫ সালে মারিয়াস নামে এক পারস্যের নাগরিক পকেট ছাতা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করেন। এরপর ঊনিশ শতকে ছাতাকে বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সহজে বহনযোগ্য করা হয়। ১৮৫২ সালে গেজ নামে একজন প্যারিস নাগরিক স্বয়ংক্রিয় সুইসের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯২০ সালে জার্মানির বার্লিন শহরের হ্যানস হাপট নামে এক ব্যক্তি ছাতা তৈরিতে অভিনব পরিবর্তন আনেন। তিনি ছোট সাইজের সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছাতা তৈরি করে। ১৯৩৬ সালে লর্ড ও লেডি নামে এই ছাতা জার্মান জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ১৯৫০ সালের দিকে জার্মানির নিরিপস কোম্পানির ছাতায় ডিজাইন ও আকার ভ্রমণকারীদের মধ্যে খুব সমাদৃত হয়েছিল। ১৯৬০ সালে পলিয়েস্টার কাপড়ের ছাতা পৃথিবীজুড়ে ব্যাপক হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। উপহার হিসেবেও ছাতা এ সময় খুবই সমাদৃত হয়। বিশ শতকের শেষের দিকে ছাতার আরেক ধরনের পরিবর্তন আসে। এক সময় ছাতার রং কালো থাকলেও এখন বাহারি রংয়ের ছাতা তৈরি হচ্ছে। অ্যালুমিনিয়াম, ফাইবার গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহৃত অনেক আকর্ষণীয় ডিজাইনের ছাতা এসেছে বাজারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধের আলাদা সুইচ চমক এসেছে। ছাতার কাপড়, রং, সাইজ ও ডিজাইনে এসেছে অনেক ধরনের পরিবর্তন। আঠারো শতকে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার হলেও বর্তমানে রোদ কিংবা বৃষ্টি সবসময়ই ছাতার ব্যবহার হচ্ছে।

* মো. জাহাঙ্গীর ডালিম

ক্রপ মিউজিয়াম, গোদাগাড়ী; রাজশাহী

0 comments
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে 'ক্রপ মিউজিয়াম' নামে এক শস্য জাদুঘর। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এলাকার কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে গড়ে তুলেছে এই মিউজিয়াম। এখানে এলাকার চাষ উপযোগী ২০টি ফসলের ৪০টি জাতের সমারোহ ঘটিয়ে কৃষকদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে এসব ফসল চাষাবাদে। এখানে যেসব ফসল রয়েছে সেগুলো হলো_ গম, ভুট্টা, ছোলা, মসুর, সরিষা, তিসি, আলু, মুলা, ঝাড়সীম, ধনিয়া, পিঁয়াজ, মটরশুটি, বেগুন, বাটি শাক, লাল শাক, পালং শাক, টমেটো, মেথি, কালোজিরা ও কাউন। ক্রপ মিউজিয়াম স্থাপনের কারণ বলতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের বরেন্দ্র কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে উঁচু বরেন্দ্র এলাকার মাটির প্রকৃতি ভিন্ন। উঁচু-নিচু এসব জমি এখনো শতভাগ সেচ সুবিধার আওতায় আসেনি। ফলে সেচ ছাড়া কিংবা অল্প সেচে যেসব ফসল ফলানো যায়, ক্রপ মিউজিয়ামে সেসব ফসলের প্রদর্শনী প্লট করেছি আমরা। তিনি আরও জানান, 'ক্রপ মিউজিয়ামে এসে কৃষকরা বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত দেখে পরবর্তী বছর নিজের জমিতে তা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা বিনিময়ের ভিত্তিতে তাদের সেই জাতের বীজ সরবরাহ করি। সেই বীজ আবার পরবর্তীতে অন্য কৃষকদের সরবরাহ করি। এর ফলে উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করতে কৃষকদের আর্থিক কোনো খরচ হচ্ছে না। বীজ সরবরাহের পাশাপাশি ফসল চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বৈজ্ঞানিক সহকারীরা।' ক্রপ মিউজিয়ামে বিভিন্ন জাতের ফসলের ফলন দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এলাকার কৃষক। খরা সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ফসলের ফলন দেখে তারা নিজেরাই জাত বাছাই করছে পরবর্তী বছর নিজেদের জমিতে এসব ফসল চাষাবাদের জন্য। কদমশহর গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও কাজেম উদ্দিন জানান, তারা আগে প্রচলিত বীজ ও চাষের পদ্ধতি প্রয়োগ করে যে জমিতে বিঘাপ্রতি মসুরের ফলন পেতেন দেড় থেকে ২ মণ, সেখানে উন্নত প্রযুক্তির বারি মসুর চাষ করে ফলন পাচ্ছেন ৩ থেকে ৪ মণ। একই গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম, লিটন আলী ও মনির হোসেন জানান, গম যেখানে আগে বিঘাপ্রতি হতো ৬ থেকে ৭ মণ, সেখানে উন্নত প্রযুক্তির বারি গমের ফলন হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ মণ। অথচ আগের এবং বর্তমান চাষ পদ্ধতিতে খরচ হচ্ছে একই।

* শ.ম সাজু, রাজশাহী

Friday, February 25, 2011

পর্যটন বিষয়ে পড়তে হলে

0 comments
সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটছে। তবে আমাদের এই সেক্টরে রয়েছে দক্ষ জনশক্তির অভাব। তরুণ প্রজন্মের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা ইচ্ছে করলেই এই সেক্টরে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন। এ পেশায় আসতে হলে টু্যরিজম অ্যান্ড হসপিলিটি ম্যানেজমেন্টের উপর মাস্টার ডিগ্রি অথবা কোনো শর্টকোর্স করতে পারেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন কোর্সের খোঁজখবর নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২০০৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধীনে টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বিবিএ, এমবিএ এবং সান্ধ্যকালীন এমবিএ করা যায়। যেকোনো বিষয়ে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি থাকলেই সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন করা যায়। বছরে দুইবার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই কোর্স করতে সময় লাগে দুই বছর। আর এতে খরচ লাগে প্রায় দুই লাখ টাকা। আর চার বছরের বিবিএ অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে প্রার্থীতে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ও ঘ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ডিপার্টমেন্ট অব টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফোন :৯৬৬১৯০০।

ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেটের অধীনে ১৯৯৪ সালে পরীক্ষামূলভাবে চালু করা হয় ডিপেস্নামা কোর্স। দুই বছর মেয়াদী কোর্স ছাড়াও হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ১৮ সপ্তাহে ৬টি বিষয়ের উপর ন্যাশনাল সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। এতে খরচ পড়ে ১৬-২৫ হাজার টাকা। আর একবছর মেয়াদী প্রফেশনাল শেফ কোর্সে খরচ পড়ে ৯০ হাজার টাকা এবং একবছর মেয়াদী ডিপেস্নামা ইন টু্যরিজম ম্যানেজমেন্টে খরচ পড়ে ৮০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ডিপেস্নামা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে খরচ পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এসব কোর্সে ভর্তিচ্ছুদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এজন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অবশ্যই এসএসসি পাশ হতে হবে। আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন : ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ৮৩-৮৮, মহাখালী, ঢাকা-১২১২। ফোন :৯৮৯৯২৮৯। ওয়েবসাইট :িি.িহযঃর.ড়ৎম

আইইউবিএটি

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-তে ব্যাচেলর অব আর্টস টু্যরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিষয়ে চার বছরের কোর্স চালু হয় ২০০০ সালে। ১২টি সেমিস্টারের এই কোর্সে খরচ পড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা। বিস্তারিত জানতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টু্যরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এক বছরের প্রফেশনাল ডিপেস্নামা কোর্স করানো হয়। ভর্তি ইচ্ছুদের এসএসসি ও এইচসি'তে জিপিএ ২.৫ এর বেশি পয়েন্ট থাকতে হবে। এখানে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই কোর্সে খরচ পড়ে ৩৫ হাজার টাকা। আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন : ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১০২ শুত্রুবাদ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭। ফোন :৯১৩৮২৩৪-৫।

-মুস্তাফিজ মামুন

বিডিআর বিদ্রোহ

0 comments
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ একটি সূর্যালোকিত সকাল। স্থান বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানা। সকাল ৯টার পর শুরু হলো সম্পূর্ণভাবে অকল্পনীয় এবং জাতির ইতিহাসের ভয়াবহতম একটি অধ্যায়ের। বিডিআরের বিদ্রোহী জওয়ানরা দখলে নিয়ে নেয় পুরো পিলখানা, নৃশংসভাবে হত্যা করে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আর বিদ্রোহের বিচার চলছে বিডিআরের নিজস্ব আইনে। ২১৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনীর ভেতরে ঘটে যাওয়া এমন নৃশংসতা গোটা জাতি তথা পুরো বিশ্বকে করেছে হতবাক।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ৮টায় বিডিআর সদরদপ্তরের ব্যাটালিয়ন মেসে উপস্থিত হয় বিদ্রোহীদের একটি দল। সেখান থেকে দুই ভাগে ভাগ হয়ে একটি দল কেন্দ্রীয় কোত ভেঙ্গে অস্ত্র বের করে। আরেকটি দল নিয়ে আসে গোলা-বারুদ। ৪৪ ব্যাটালিয়নের সামনের চৌরাস্তায় অস্ত্রে ম্যাগাজিন ভরে তারা রওনা হয় দরবার হলের দিকে। অবস্থান নেয় দরবার হলের পাশে।

নির্মম, বর্বর

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া দরবারে তখন বক্তব্য রাখছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিডিআর জওয়ানের উপস্থিতিতে সেই দরবারে অপারেশন ডালভাতসহ বিডিআর সদস্যদের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। হঠাৎ রান্নাঘরের পাশ দিয়ে অস্ত্র হাতে প্রবেশ করে সিপাহি মইন। মেজর জেনারেল শাকিলের দিকে অস্ত্র তাক করতেই পাশের কর্মকর্তারা তাকে নিরস্ত্র করতেই ‘জাগো' শ্লোগানের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে বিদ্রোহীরা। শুরু হয় বৃষ্টির মতো গোলাগুলি।

বিদ্রোহীদের সামাল দিতে বের হলে কর্নেল মুজিব, লে. কর্নেল এনায়েত আর মেজর মকবুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এদিকে, দরবার হলের ভেতরে অবস্থানরত সেনা কর্মকর্তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। প্রাণ বাঁচাতে এদিক-সেদিক পালিয়ে যাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের খুঁজে খুঁজে গুলি করা হয়। দুপুরের আগেই হত্যা করা হয় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় মোট ৭৪ জন সামরিক-বেসামরিক লোকের। অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয় সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানদের উপর।

সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পর লাশগুলো প্রথমে পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা করলেও পরে কয়েকটি লাশ নর্দমার ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হয়। দরবার হলের সামনে থেকে দুপুর ১টার দিকে বাকি লাশগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। দুটি গর্ত খুঁড়ে লাশগুলো মাটি চাপা দেয়া হয়।

দেশজুড়ে আতঙ্ক

পিলখানার ভেতরে সেদিন আসলে কী ঘটছে বাইরে থেকে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। পুরো পিলখানা জুড়ে চলছিলো গোলাগুলি। সকাল থেকেই স্থানীয় সাংসদ আর জনপ্রতিনিধিরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছিলেন। দুপুরের মধ্যে পিলখানার চারপাশে সশস্ত্র অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী।

দফায় দফায় বৈঠক

ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক করে অস্ত্রসমর্পণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তা করেনি। বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা থেকে পাশের একটি হোটেলে চলে দফায় দফায় বৈঠক।

উদ্ধার তৎপরতা

পরে রাত ১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দল প্রবেশ করে পিলখানার ভেতরে। বিডিআরের কিছু সদস্য অস্ত্রসমর্পণ করেন। ভোরের দিকে কয়েকটি পরিবারকে উদ্ধার করেন তারা। তখনো থেমে থেমে চলছিলো গোলাগুলি।

পরদিন সকাল থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় পিলখানায় আটকে পড়া মানুষদের। দুপুর বেলা বিদ্রোহীরা অস্ত্রসমর্পণ করতেই চারপাশে অবস্থানরত সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ে ভেতরে। সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেডসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা নাগাদ পিলখানা থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৭ সেনা কর্মকর্তার লাশ।

ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহ

পিলখানায় দরবার শুরুর পরপরই সেখানেই প্রথম বিদ্রোহ করে সিপাহী মইন। তাকে নিরস্ত্র করার পরপরই শুরু হয় সশস্ত্র বিদ্রোহ। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো পিলখানার ৪ বর্গ কিলোমিটার সংরক্ষিত এলাকায়। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে এবং টানা তিন দিন ধরে একের পর এক দেশের বিভিন্ন বিডিআর স্থাপনা থেকে বিদ্রোহের খবর আসতে থাকে। বিডিআরের মোট ৪৬টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ৪৩টিতেই জওয়ানরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে অস্বীকার করেন সেনা অফিসারদের কর্তৃত্ব।

তবে ঢাকার বাইরে এসব বিদ্রোহে কোনো রক্তপাত হয়নি। আর বিদ্রোহ করেননি কুমিল্লা, চট্টগ্রাম আর রাঙামাটির বরকল ও কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা।

ঢাকার বাইরে ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টার দিকে খুলনা ব্যাটালিয়নে প্রথম উত্তেজনা দেখা দেয়। এক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্রোহ করেন পুরো ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থকে ১০টার মধ্যে প্রায় একই সঙ্গে বিডিআরের ৪৬ ব্যাটালিয়নের ৩৮টি ব্যাটালিয়নেই বিদ্রোহ করেন বিডিআর সদস্যরা।

প্রথমে কক্সবাজারের টেকনাফে বিডিআর সদস্যরা দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তাদের আটকের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন। এরপর রাঙামাটির রাজনগর, ম্যারিশ্যা ও ছোট হরিণা ক্যাম্পে বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা পুরো ব্যাটালিয়নের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।

প্রায় একই সময়ে খাগড়াছড়ি সদর ও রামগড় ব্যাটালিয়নে বিদ্রোহ শুরু হয়। রামগড়ের বিডিআর জওয়ানরা দফায় দফায় গুলি ছুড়ে পুরো ক্যাম্প দখলে নেন। তবে এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সাতক্ষীরার নীলডুমুর ক্যাম্পেও বিদ্রোহের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের জওয়ানরা পিলখানার বিদ্রোহীদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করেন। চুয়াডাঙ্গার ক্যাম্প ও স্থাপনাগুলো দখলে নেন জওয়ানরা।

কুষ্টিয়াতেও জওয়ানরা গৃহবন্দি করে রাখে সেনা কর্মকর্তাদের। রাজশাহী ব্যাটালিয়নের জওয়ান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ব্যাটালিয়নের ২টি ক্যাম্পে বিডিআর সদস্যরা নিজেদের কমান্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

যশোরে বিদ্রোহ হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বান্দরবানের বিডিআর রিক্রুট ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বলিপাড়ায় জওয়ানরা রক্তপাত না ঘটালেও কমাণ্ডিং সেনা অফিসারদের আটক করে রাখেন।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল ও আখালিয়ায় ২৬ তারিখ উত্তেজনা থাকলেও বিদ্রোহ হয় ২৭ তারিখে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলেও বিদ্রোহ হয় একইদিন।

তবে চট্টগ্রামের হালিশহর, রাঙামাটির বরকল ও কাপ্তাই এবং কুমিল্লার ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিদ্রোহে অংশ নেননি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তীতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আইন সংশোধন করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সেইসঙ্গে তাদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও তিন বাহিনীর প্রধান তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে নিহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ দেশ টিভি খবর

আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

0 comments
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় তৈরি হয় এ অনন্য স্থাপত্যকীর্তি।

প্রথমে বন্দরের পরিচিতি চিহ্ন হিসেবে এটি তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। বাতিঘরের মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ বর্গফুট। উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। ৫০ মাইল দূর থেকেও এটি দেখা যেত। দ্বাদশ শতকে প্রবল ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে পড়ে।

হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীতে প্রযুক্তির ব্যবহার যখন খুব সীমিত ছিল, তখন বিশাল এবং কঠিন কোনো স্থাপনার কাজে হাত দেওয়াটা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। তারপরও তারা তা করেছেন। অনেক অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেছেন তারা, যা ভাবতে গেলে আজো অবাক হতে হয়। প্রাচীন যুগে মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল জলপথ। জলপথ দিয়েই ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কিন্তু এই জলপথে চলাচল করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। পদে পদে বিপদের সম্মুখীন হতে হতো। এখানে জলদস্যুর যেমন ভয় ছিল, তেমনি ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে অথৈ জলরাশির মাঝে নাবিকদের পথ হারিয়ে ফেলা ছিল একেবারেই সাধারণ ব্যাপার। এ নিয়ে প্রাচীন শাসকরাও সবসময় থাকতেন আতঙ্কগ্রস্ত। তবে এ সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় যে কোনো শাসকরা খোঁজেননি, তা কিন্তু নয়। গ্রিক সম্রাট টলেমি এ সমস্যার কথা জানতে পারলেন। তিনি ছিলেন মিসরের রানী ক্লিওপেট্রার বাবা। সমস্যার সমাধানে তিনি পথ খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে ২৭০ অব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়ায় নির্মিত হলো একটি বাতিঘর। এ বাতিঘরটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ ফুট। উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। মূল দেহের চারদিক দিয়ে পেঁচানো ছিল সিঁড়ি। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠা হতো। বাতিঘরটি তৈরির সময় ৪৫০ ফুট উঁচুতে যে বিশাল অগি্নকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাতিঘরটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ তাকে নিভতে দেখেনি। প্রায় ৫০ মাইল দূর থেকেও বিশাল অগি্নকুণ্ড মানুষের চোখে পড়ত। আলেকজান্দ্রিয়ার এ বাতিঘরটি বহুকাল ধরে সমুদ্রগামী হাজার নাবিককে পথ দেখিয়েছে। পথ দেখিয়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে সমুদ্র উপকূলে বাতিঘর তৈরির। কিন্তু পৃথিবীর কোনো সৃষ্টিই চির অমর নয়। যে কোনো কারণেই হোক সব সৃষ্টিই এক সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ধ্বংস হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার সেই বাতিঘরও। ১২০০ শতকে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের এই নিদর্শনও।

* মেহেদী হাসান বাবু

Tuesday, February 22, 2011

নার্সিং

0 comments
দেশে বাড়ছে শিক্ষিত বেকার। একজন বেকার সন্তান একটি পরিবারের জন্য বড় বোঝা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা। এ কর্মমুখী শিক্ষার অন্যতম হচ্ছে নার্সিং প্রশিক্ষণ। বর্তমান যুগে নার্সিং একটি আধুনিক মানের পেশা, যা ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য একটি সম্মানজনক। পাশাপাশি সেবামূলক পেশা হিসেবেও নার্সিংয়ের রয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি। নার্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে অতি সহজেই চাকরি পাওয়া যায়। বর্তমানে অন্যান্য পেশায় চাকরি পেতে যত অপেক্ষা করতে হয় এ পেশায় ততটা হয় না। আপনি যদি সদ্য এইচএসসি পাস করেন তাহলে বিএসসি নার্সিং-এ ভর্তি হতে পারেন। নার্সিং-এ প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পর্যন্ত কেউ বেকার নেই। আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হবে। এসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এবং মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় নার্সিং-এর দক্ষ জনবলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নার্সদের রয়েছে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ। বিএসসি নার্সিং পাস করার পর বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ আসছে। তারপর এমএসসি নার্সিং করতে পারলে সরাসরি লেকচারার সহকারী অধ্যাপক হিসাবে চাকরি পাওয়া যায়। নার্সিং-এ পিএইচডি ডিগ্রি করারও সুযোগ রয়েছে। বহির্বিশ্বে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নার্সিং-এ উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করছে। অন্যান্য বিশেষায়িত সাবজেক্টের ওপর ডিপ্লোমা করতে পারবেন এবং যে কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পরামর্শ দিতে পারবেন। দেশ সেবার সুযোগ হিসেবে এই মহান পেশায় যে কেউ নিয়োজিত হতে পারেন। গতানুগতিক চাকরির আশা বসে না থেকে এ পেশায় আত্মনিয়োগ করে খুব সহজেই উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়া যায়।

অমিতাভ রায়, পাঠানটুলা, সিলেট।

ছেলেদের বিউটি টিপস

0 comments
সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সৌন্দর্যের মূল কথা। ক্লিনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিংয়ের প্রয়োজন তো রয়েছেই, কিন্তু তার সঙ্গেও জরুরি শারীরিক সুস্থতা। কারণ সৌন্দর্য শুধু রূপচর্চার ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে রয়েছে সিজনাল চেঞ্জ, পলিউশন, মেন্টাল স্ট্রেস, দীর্ঘক্ষণ এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে থাকার মতো সমস্যা। তাই ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল কেয়ারের মধ্যে যথাযথ ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করুন। কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে আপনার ত্বক সুস্থ ও সুন্দর হয়ে উঠবে তা জেনে নিন।?

ব্যালেন্সড ডায়েট: ত্বকের সুস্থতার জন্য ন্যাচারাল ফুড জরুরি। ন্যাচারাল ফুড মানে সবজি, ফল, অঙ্কুরিত ছোলা, দই, সিরিয়াল ত্বকের পক্ষে উপকারী। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান জরুরি। এছাড়া ফল বা সবজির রসও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য উপকারী। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারে ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম যথাযথ পরিমাণে থাকলে ব্যয়বহুল ফেশিয়াল ট্রিটমেন্টের তেমন প্রয়োজন পড়ে না।

এক্সারসাইজ: এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যকলাপে সাহায্য করে। এর ফলে স্কিন ও স্ক্যাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হয়। মেন্টাল ট্রেস থেকে ত্বক ও চুলে নানারকম সমস্যা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত এক্সারসাইজ এ সমস্যার সমাধানে কাজ করে।

ঘুম ও রিল্যাক্সেশন: ডায়েট ও এক্সারসাইজের সঙ্গে জরুরি ঘুম ও রিল্যাক্সেশনের। ঘুমের সময় বডি সিস্টেম স্লো ডাউন হয়ে যায়। সেল রিনিউয়াল প্রসেস শুরু হয়।

নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নিন: কসমেটিক ব্যবহারের আগে নিজের স্কিন টাইপ বুঝে নেওয়া সবচেয়ে প্রয়োজন। সকালে ঘুম থেকে ওঠে মুখ ধোয়ার আগে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছুন। টিস্যু পরিষ্কার হলে বুঝবেন আপনার নর্মাল ও ড্রাই স্কিন। সমান্য তেলাভাব থাকলে নর্মাল ও অয়েলি স্কিন। কপাল, নাক, থুতনি মুখের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা টিস্যু ব্যবহার করুন। কম্বিনেশন স্কিন কি না বুঝতে সুবিধা হবে। অয়েল গ্লান্ডের ওপর আপনার ত্বক কি ধরনের তা অনেকটা নির্ভর করে। ত্বকে সেবাম অয়েলের এ ব্যালেন্স নানা কারণে ব্যাহত হতে পারে, যেমন বেশিক্ষণ রোদে থাকা, শুকনো আবহাওয়া, সাবান, ক্লোরিন যুক্ত পানির ব্যবহার, এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে বেশিক্ষণ থাকা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স। এর ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, অ্যাকনে বা র‌্যাশের মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই ক্লিনজার, টোনার, ময়শ্চারাইজার কেনার সময় নিজের স্কিন টাইপের সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাগুলোর কথাও মনে রাখা দরকার। যেমন বেশিক্ষণ রোদে ঘুরে কাজ করতে হলে আপনার প্রয়োজন সানস্ক্রিন, পলিউশনের জন্য দরকার ভালো ক্লেনজার।

ধুলো-ময়লা, পলিউশন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন: এয়ার পলিউশনের কারণে ত্বকের ওপর টঙ্কিন জাতীয় পদার্থ জমতে শুরু করে, ফলে স্কিন সাপোর্টিভ টিস্যু ড্যামেজড হয়। প্রে-ম্যাচিউর এজিংয়ের সমস্যা শুরু হয়। এর থেকে ত্বককে সুরক্ষার জন্য জরুরি নিয়মিত ক্লিনজিং। ক্লিনজিং ক্রিম বা ক্লিনজিং মিল্ক এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন। রোদ থেকে সুরক্ষারপাশাপাশি ধুলো-ময়লা থেকে ত্বককেও রক্ষা করবে। সপ্তাহে না পারলেও মাসে অন্তত এক বার ফেসিয়াল করুন।

-খুরশীদা রহমান চৈতী

ধূমকেতু

0 comments
প্রথমদিকে দার্শনিক আর বিজ্ঞানীরা ধূমকেতুকে নিছক গ্রহ কিংবা গ্রহ-সম্পর্কিত কোনো বিশেষ ঘটনা বলেই মানতেন।
কিন্তু বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটল প্রথমবারের মতো বলেন, ধূমকেতু মোটেও কোনো গ্রহ নয়। তাহলে কী? শুরু হয় এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা। আর বিভিন্ন গবেষণায় পুরোপুরি না হলেও ধূমকেতু সম্পর্কে বিস্তর ধারণা পাওয়া গেছে।
ধূমকেতু আসলে কী

ধূমকেতু (Comet) হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু। এরা নিজেদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। সূর্যের কাছাকাছি আসতে শুরু করলেই ধূমকেতুর বরফ, জমাটবাঁধা বিভিন্ন গ্যাস সূর্যের তাপ ও আলোর প্রভাবে বাষ্পীভূত হতে শুরু করে। ফলে এগুলো ধূমকেতুর নিউক্লিয়াস থেকে দূরে সরে যায়। ধূলিকণা, গ্যাস প্রভৃতির এ স্রোতকে বলা হয় 'কোমা'। আর এ কোমার ওপর সূর্যের বিকিরণ চাপ এবং সোলার উইন্ড বা সৌরবায়ুর চাপে লম্বা একটি লেজের মতো অংশ তৈরি হয়। এ অংশটিকে ধূমকেতুর লেজ বা 'টেল' বলা হয়। কিছু ধূমকেতু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই স্থানে ফিরে আসে। যেমন হ্যালীর ধূমকেতু।

বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন ধূমকেতুরা স্থির নয়, বরং গতিশীল। গবেষণা অনুসারে ধূমকেতু বিভিন্নরকম পাথর, ধুলোবালি, পানি ও কার্বন-ড্রাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন আর এমোনিয়ার মতো নানারকম গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। তাই ধূমকেতুকে 'ডার্টি স্নো বল' নামেও ডাকা হয়। এসবের বাইরেও ধূমকেতুতে নানারকম জৈব উপাদান থাকে। এর মধ্যে মিথানল, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, ফর্মালডিহাইড, ইথেন এবং ইথানল উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও জটিল অ্যামাইনো এসিড থাকার সম্ভাবনার কথাও বলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে বহু দূরে থাকার জন্যই ধূমকেতুদের খালি চোখে দেখা যায় না।

পৃথিবীতে প্রাণ এনেছে ধূমকেতু!

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে, সে ব্যাপারে নানা মতবাদ রয়েছে। মোটামুটি মনে করা হয়, প্রাণের উদ্ভব ঘটেছে পানি থেকে। তবে সম্প্রতি লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ইন ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তারও আগে ধূমকেতু থেকেই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ঘটে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সৃষ্টির আদি অবস্থায় অসংখ্য ধূমকেতু মহাশূন্য থেকে নিরন্তর আছড়ে পড়ত পৃথিবী পৃষ্ঠে। ফলে প্রচণ্ড সংঘর্ষের কারণে কার্বন-নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ বিশাল চেইন সৃষ্টি হতো। তারপর ক্রমাগত প্রসারিত হতে হতে বিশাল চেইনটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ত। এসব ভাঙা অংশ আবার সৃষ্টি করত প্রোটিন তৈরিকারক অ্যামিনো অ্যাসিড গি্লসাইন। পৃথিবীর আদি আবহাওয়া ছিল মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও পানিতে পরিপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রাণ সৃষ্টিকারক প্রোটিন তৈরিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখা এসব পদার্থের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে আছড়েপড়া ধূমকেতুতে প্রাণকণা সৃষ্টিকারক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকতে পারে বলে তারা অনুমান করছেন। লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ইন ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানী গোল্ডম্যান বলেন, 'মহাকাশীয় কোনো বস্তু থেকে আদি প্রাণকণা সৃষ্টিকারক উপকরণ আসতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

পৃথিবীর সর্বপ্রথম অবস্থায়, ভূপৃষ্ঠে অনবরত উল্কাপাত হতো। ধূমকেতু আছড়ে পড়ত। মহাকাশীয় আরও অসংখ্য বস্তু আঘাত হানত পৃথিবীতে। পৃথিবীতে যেরকম আবহাওয়া বিরাজমান ছিল বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি, তাতে প্রাণসৃষ্টিকারী উপকরণ খুব একটা ছিল না। আর মহাকাশীয় বস্তু যে প্রাণসৃষ্টির পূর্বশর্ত হতে পারে, এমন অনেক পদার্থের কথাও আমরা জানি। সুতরাং ধূমকেতু থেকে আদিপ্রাণের সঞ্চার হতে পারে_ এ কথা ঠিক উড়িয়ে দেওয়া যাবে বলে মনে হয় না।' বিজ্ঞানীদের এ ধারণা সত্যি হলে অবশ্য পৃথিবী ছাড়াও যে গ্রহান্তরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এমন ধারণা অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ খুব কমই থাকবে। কারণ পৃথিবীর মতো অন্য যে কোনো গ্রহেও মহাকাশীয় বস্তু পতনের ফলে একই ব্যাপার ঘটতে পারে।

-রণক ইকরাম

লাউয়াছড়া, শ্রীমঙ্গল

0 comments
শ্রীমঙ্গল শহরের কাছেই জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া। দুই-একদিনের সময় হাতে নিয়ে সহজেই বেড়িয়ে আসা যায় জাতীয় এ উদ্যান থেকে। কড়চার এবারের বেড়ানো শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।

লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশেই রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রায় ১,২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে এ উদ্যানে রয়েছে_১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, বিশ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি। প্রধান সড়ক ফেলে কিছুদূর চলার পরে ঢাকা-সিলেট রেল লাইন। এর পরেই মূলত জঙ্গলের শুরু। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ হলো উলস্নুক, চশমা বানর, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর ইত্যাদি। উদ্যানে বেড়ানোর তিনটি ট্রেকিং পথ আছে। একটি তিন ঘণ্টার, একটি এক ঘণ্টার এবং অন্যটি আধ ঘণ্টার পথ। উদ্যানের ভেতরে একটি খাসিয়া পলস্নীও আছে।

আধ ঘণ্টার ট্রেকিং

এ পথটির শুরু রেললাইন পেরিয়ে হাতের বাঁ দিক থেকে। এ পথের শুরুতে উঁচু উঁচু গাছগুলোতে দেখা মিলতে পারে কুলু বানরের। নানা রকম গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে তৈরি করা এ হাঁটা পথটিতে চলতে চলতে জঙ্গলের নির্জনতায় শিহরিত হবেন যে কেউ। এ ছাড়া এ পথের বড় বড় গাছের ডালে দেখা মিলবে বুনো অর্কিড। যদিও এ সময়টা অর্কিডে ফুল ফোটার সময় নয়। নির্দেশিত পথে হাতের বাঁয়ে বাঁয়ে চলতে চলতে এই ট্রেইলটির শেষ হবে ঠিক শুরুর স্থানেই।

এক ঘণ্টার ট্রেকিং

এক ঘণ্টার ট্রেকিংয়ের শুরুতেই দেখবেন বিশাল গন্ধরুই গাছ। এ গাছের আরেক নাম কস্তুরী। এগাছ থেকে নাকি সুগন্ধি তৈরি হয়। এ ছাড়া এ পথে দেখবেন ঝাওয়া, জগডুমুর, মুলী বাঁশ, কাঠালি চাঁপা, লেহা প্রভৃতি গাছ। আরো আছে প্রায় শতবষর্ী চাপলিশ আর গামারি গাছ। এ ছাড়া এ পথে নানারকম ডুমুর গাছের ফল খেতে আসে উলস্নুক, বানর, হনুমান ছাড়াও এ বনের বাসিন্দা আরো অনেক বন্যপ্রাণী। ভাগ্য সহায় হলে সামনেও পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এ পথে দেখা মিলতে পারে মায়া হরিণ আর বন মোরগের।

রোমাঞ্চকর ট্রেকিং

তিন ঘণ্টার হাঁটা পথটিও বেশ রোমাঞ্চকর। এ পথের বাঁয়ে খাসিয়াদের বসত মাগুরছড়া পুঞ্জি। এ পুঞ্জির বাসিন্দারা মূলত পান চাষ করে থাকেন। ১৯৫০ সালের দিকে বনবিভাগ এ পুঞ্জি তৈরি করে। এ পথে দেখা মিলবে বিশাল বাঁশবাগান। এ বাগানে আছে কুলু বানর আর বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর। লজ্জাবতী বানর নিশাচর প্রাণী। এরা দিনের বেলায় বাঁশের ঝারে ঘুমিয়ে কাটায়। এ ছাড়া এ পথে দেখা মিলবে নানান প্রজাতির পাখির, আর পথের শেষের দিকে দেখা মিলতে পারে এ বনের অন্যতম আকর্ষণ উলস্নুক পরিবারের। এরা বনের সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোতে দলবদ্ধভাবে বাস করে।

কিছু তথ্য

জঙ্গল ভ্রমণে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। বেশি উজ্জ্বল রঙের পোশাক না পরে অনুজ্জল পোশাক পরতে হবে। ইনসেক্ট রিপল্যান্ট ব্যবহার করা উচিত। বনে হৈচৈ করলে বন্যপ্রাণীদের দেখা যাবে না। তাই সর্বোচ্চ নিরবতা পালন করতে হবে। বনের মধ্যে কোনোরকম ময়লা-অবর্জনা ফেলা যাবে না। ট্রেকিংয়ের সময় সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার পানি নিন। আইপ্যাকের প্রশিক্ষিত গাইড সঙ্গে নিয়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়া উচিত। নয়তো পথ হারানোর ভয় আছে।

খরচপাতি

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্ক ২০ টাকা, ছাত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ টাকা, বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৫ মার্কিন ডলার কিংবা সমমূল্যের টাকা। এ ছাড়া কার, জিপ ও মাইক্রোবাস পার্কিং ২৫ টাকা, সিনেমা ও নাটকের শুটিং প্রতিদিন ৬,০০০ টাকা, পিকনিক স্পট ব্যবহার জনপ্রতি ১০ টাকা।

শ্রীমঙ্গল কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও বেলপথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস শ্রীমঙ্গল যায়। ভাড়া ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫২৬ টাকা, এসি সিট ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩০০ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২০০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৩৪৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৩৫ টাকা, শোভন ১১০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯.০০ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৭০ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৫০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৬৫ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ রোডে টি রিজর্ট (০৮৬২৬-৭১২০৭, ০১৭১২৯১৬০০১)। শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ সড়কে আরেকটি ভালো আবাসন ব্যবস্থা হলো রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০২-৯৫৫৩৫৭০, ০১৯৩৮৩০৫৭০৭)। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য হোটেল হলো হবিগঞ্জ সড়কে টি টাউন রেস্ট হাউস (০৮৬২৬-৭১০৬৫), কলেজ রোডে হোটেল পস্নাজা (০৮৬২৬-৭১৫২৫) ইত্যাদি। এসব হোটেল- রিসোর্টে ৫০০-৩ হাজার টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে।

লেখা: মুস্তাফিজ মামুন
ছবি: সৌম্য
ভিডিও: রেজওয়ান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

0 comments
দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। নামকরণ হয় দু'টি পাতা একটি কুঁড়ি খ্যাত সিলেটের বিশিষ্ট ওলি হযরত শাহজালাল (র.)-এর নামানুসারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাসও অনেক দীর্ঘ। বৃহত্তর সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর জন্ম। শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে কুমারগাঁও এলাকায় মনোরম পরিবেশে ৩২০ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক ক্যাম্পাস। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি দিনের জন্যও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। আর সে কারণে সেশনজটমুক্ত হিসাবে পরিচিতি এখন দেশ থেকে বিদেশেও ছড়িয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণ করেছে প্রতিষ্ঠার সোনালি দুই দশক। আর একুশে পদার্পণের শুভক্ষণে জাতিকে আরো দক্ষ দেশগড়ার সৈনিক উপহার দেয়ার অঙ্গীকার নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশিস্নষ্ট সবাই।
দুই দশক পেরিয়ে শাবির নানা আয়োজন: নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১লা ফাল্গুনে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছিলো নানা রঙে। প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে শাবি এ আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৯টায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসে নেমেছিল প্রাণের মেলা। বসন্তের প্রথম দিনে এমন অনুষ্ঠানে ফুরফুরে ছিল শাবির হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সেই সাথে শাবিকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আর স্বপ্নের কথা শুনে বিমোহিত হল অনুষ্ঠানস্থলের সবাই।

ভিসি প্রফেসর ড. মো. সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেসা হক এমপি, হাফিজ আহমদ মজুমদার এমপি, মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী ও প্রফেসর এম তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ন.ম শফিকুল হক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক জাফরিন আহমেদ লিজা ও শিল্পি রাণী বসাকের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস এবং শাবির প্রতিষ্ঠাতা ভিসি প্রফেসর ড. সদরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অতিথিদের নিয়ে বের হয় শোভাযাত্রা। পুরো ক্যাম্পাসে র্যালিটি প্রদক্ষিণ করে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্যের হাতে পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। নানা রঙে সেজেছিল পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষামন্ত্রীসহ অন্য অতিথিদের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নেয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানের শিক্ষা আড্ডা পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সব বিশ্ববিদ্যালয়ই এ বিষয়ে একমত, তবে কোন কোনটি এখনও এ পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত না হওয়ায় তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন আর বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

এক শুভলগ্নে যাত্রা:১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৩ জন শিক্ষক এবং ২১০ জন শিক্ষাথর্ী নিয়ে শাবির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়েছিল শিক্ষা কার্যক্রম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাচ পাস করে বের হয়েই দেশের একমাত্র সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে দেশ-বিদেশে শিক্ষানুরাগীদের আস্থা অর্জন করে। বিদেশী শিক্ষার্থীরাও ছুটে আসে শাবি ক্যাম্পাসে। কিন্তু দুই-এক বছর না যেতেই নানাবিধ অনিয়ম, অন্তহীন সমস্যায় নষ্ট হতে থাকে এর সুনাম। সেসব গস্নানি মুছে আবারো ফিরে এসেছে সেই সোনালি অতীত। সেশনজটমুক্ত একটি ক্যাম্পাস উপহার দেয়ার ঘোষণা ছিল বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. সালেহ উদ্দিনের। তাঁর ঘোষণা এখন পুরোপুরিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থীরা গত বছরের ৬ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ বছর ১৮ জানুয়ারি ভর্তির সবরকম কার্যক্রম শেষ করে ২৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু করে। এবারো ছিল ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ভর্তি কার্যক্রম। যা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরও জন্য অনুকরণীয় হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নানা প্রযুক্তির আবিষ্কারের জন্য এম বিলিয়ন এ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ফিরে দেখা: ১৯৮৫ থেকে ২০১৫। শাবির জন্য গৃহীত হয়েছিল ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা। দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়িত হয়েছে পরিকল্পনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ। দীর্ঘ সময়ের পরও পরিকল্পনার অনেকটাই পূরণ হয়নি। আর সম্পূর্ণটা কবে পূরণ হবে সেটাও অজানা। ফলে কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। সবচেয়ে উলেস্নখযোগ্য_ আবাসন সংকট ও পরিবহন সংকট। সকল শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি হল। যা এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা ভোগ করতে পারে। বাকিরা অন্যত্র থেকে ক্লাস করছে।

আবাসন, পরিবহনের সমাধান চাই: অনেকটাই কেটে গেছে শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট। এখনও রয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও পরিবহন সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী সেমিস্টার পদ্ধতিতে আবাসিক সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৫ শতাংশ আবাসিক সুবিধা লাভ করে। ছাত্রদের জন্য ৬টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৩টি হলের প্রয়োজন, কিন্তু আছে মাত্র ২টি ছাত্র হল ও ১টি ছাত্রী হল। একটি মাত্র ছাত্রী হলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিকল্প হিসাবে শহরে দু'টি বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছে। এজন্য ছাত্রীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। তবে আশার আলো ইতিমধ্যেই একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হলের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্বদ্যিালয়ের পরিবহন সমস্যা পুরনো। বিআরটিসি থেকে ভাড়া করা বাসে চলছে পরিবহন সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনেই শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করবে এমনটিই প্রত্যাশা সবার।

নতুন দিনের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা: অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার বাস্তবায়নে একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করছেন উপাচার্যসহ এখানকার একদল নিবেদিত শিক্ষানুরাগী। সম্ভাবনাময় শাবিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ আইটি ভবনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরূপ দেয়া এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে। আধুনিক এবং উন্নত গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে এখানকার গবেষকরা। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাত্র দুবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষবার অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে। ৩য় সমাবর্তনের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, নানা রকম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাসহ ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাম্পাসসহ আবাসিক হলগুলোকে ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা_ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক সামনে। জাতি, দেশ পাবে একদল নিবেদিত দেশপ্রেমিক।

০০ মুহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দিন

Monday, February 21, 2011

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে লাল মাংস কম খেতে হবে

0 comments
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে সে দেশের নাগরিকদের লাল মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি সপ্তাহে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিদিন ৭০ গ্রাম এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি লাল কিংবা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া ঠিক হবে না। অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া কমাতে হবে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে তাঁরা এ কথা বলেন। গবেষণার ফল এ সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা।
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কী পরিমাণ লাল মাংস (শুকর, গরু, ভেড়া ও ছাগলের মাংস) খেলে ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছে। এর আগে এক দল বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তির সপ্তাহে ৭০ গ্রামের বেশি লাল মাংস খাওয়া উচিত হবে না। আর শিশুদের কোনোভাবেই লবণ মাখিয়ে পোড়ানো শূকরের মাংস, পাতলা চামড়ার ভেতর মসলাযুক্ত মাংসের কিমা ভরে প্রস্তুত করা খাদ্যসামগ্রী খাওয়ানো উচিত হবে না। গত বছর ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্যার লিয়াম ডোনাল্ডসন বলেন, সব ধরনের মাংস খাওয়া মাত্র ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিলে প্রতিবছর যুক্তরাজ্যের অন্তত ১৮ হাজার নাগরিক অকালমৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবে।
লাল মাংস কীভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, এ নিয়েও তর্কের শেষ নেই। বেশ কয়েকটি মতবাদ চালু আছে। একটি মতবাদ অনুযায়ী, লাল মাংসে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা পরিপাক প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট কোষের ডিএনএর ক্ষতি সাধন করে। ডিএনএর ক্ষতি সাধন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ। আরেক দল বিশেষজ্ঞের দাবি, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে এমন সব পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিজ্ঞানীদের দাবি, লাল মাংস হূদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। স্থূলতা অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

টেলিগ্রাফ অনলাইন

দেশে বসেই পিএইচডি

0 comments
অনেকেরই স্বপ্ন থাকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের। অনেকেই বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি করতে যান এবং বেশির ভাগ দেশেই করেন। স্বপ্ন যখন আকাশ পাড়ি দেওয়ার তখন প্রথমেই চলে আসে ভাগ্য, অর্থ, যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়াদি। তাই আর আকাশ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ ধরতে পারে না। তবে আকাশ পাড়ি না দিতে পারলেও দেশে বসে কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দেশের বিখ্যাত চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খবরাখবর নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন মুহম্মদ কবির
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র দুই বছরেই এমফিল এবং চার বছর সময়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম করা যায়। এমফিল ও পিএইচডি সম্পর্কিত তথ্য এবং এই দুটি প্রোগ্রামে ভর্তি সম্পর্কিত আবেদনপত্র রেজিস্ট্রার অফিসের এমফিল ও পিএইচডি শাখা থেকে গ্রহণ করা যায় সহজেই।

যোগ্যতা ও ফলাফল :এমফিল আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান, তিন বছর মেয়াদকালীন সম্মান ও এক বছর মেয়াদকালীন স্নাতকোত্তর অথবা দুই বছর মেয়াদি স্নাতক ও দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না, সতর্ক থাকতে হবে ফলাফলের বিষয়েও। সব পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে এবং আরো থাকতে হবে নূ্যনতম পঞ্চাশ ভাগ নাম্বার। বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে স্নাতক পরীক্ষা পর্যন্ত ফলাফল হতে হবে ৫ এর মধ্যে নূ্যনতম ৩.৫ এবং ৪ এর মধ্যে নূ্যনতম ৩। কেবলমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই না, যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে ৩০০০ টাকা বৃত্তিমূলক সহযোগিতা দেওয়া হয়।

পিএইচডি :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার জন্য আপনাকে হতে হবে এমফিল উত্তীর্ণ। শিক্ষাগত যোগ্যতাও থাকতে হবে এমফিল পড়ার যোগ্যতার অনুরূপ। এর সাথে বাড়তি থাকতে হবে কমপক্ষে স্নাতক পর্যন্ত পাঠদানের দুই বছরের অভিজ্ঞতা কিংবা দুই বছরের গবেষণা অথবা দুই বছর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিজ্ঞতা। পিএইচডি গবেষকদের প্রতিবছর বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে হয়। নূ্যনতম দুইটি সেমিনার রিপোর্ট ছাড়া পূর্ণাঙ্গ থিসিস জমা নেওয়া হয় না। প্রতিবছরই দুইবার আবেদনপত্র গ্রহণ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এমফিল করার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন সহজেই। তবে এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর চার বছরের স্নাতক সম্মান ও এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে এবং সকল শিক্ষা পর্যায়ে সর্বনিম্ন দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে। স্নাতকে থাকতে হবে শতকরা ৫৫ ভাগ এবং স্নাতকোত্তরে থাকতে হবে শতকরা ৫০ ভাগ নাম্বার।

পিএইচডি :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও পিএইচডি করার জন্য এমফিল বা সমমান যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে কারও যদি এমফিল ডিগ্রি না থাকে, সেক্ষেত্রে তাকে স্বীকৃত কোনো জার্নালে কমপক্ষে তিনটি গবেষণা প্রকাশ বা পাঁচ বছরের শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নতুবা কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিভাগেই পিএইচডি করার সুযোগ আছে।

ভর্তি হওয়া যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এ। এখানে দুই বছর মেয়াদি এমফিল এবং তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি করা যায়। এমফিল ফেলোশিপে শিক্ষার্থী পাবেন এক হাজার ৫০০ টাকা এবং পিএইচডি ফেলোশিপে পাবেন দুই হাজার টাকা প্রতিমাসে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

যেসব আগ্রহী শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীনে এমফিল করতে চান, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও হবে পূর্বের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। থাকতে হবে তিন বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। আর শিক্ষাজীবনের সব ফলাফলেই থাকতে হবে নূ্যনতম দ্বিতীয় বিভাগ। তবে স্নাতকে থাকতে হবে শতকরা ৫৫ ভাগ এবং স্নাতকোত্তরে শতকরা ৫০ ভাগ নাম্বার। জিপিএ পদ্ধতিতে থাকতে হবে নূ্যনতম ৩.২৫ এবং অন্যটিতে নূ্যনতম ৩ থাকতে হবে, তবে যদি কারও স্নাতক পর্যায়ে তিন বছর শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকে, তা হলে উলিস্নখিত নিয়মের যেকোনো একটি শিথিলযোগ্য হবে।

পিএইচডি :যারা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চান, তাদের অবশ্যই এমফিল বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে, অথবা থাকতে হবে, স্নাতক পর্যায়ের চার বছরের শিক্ষাদান অথবা স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা। ভর্তির সকল যোগ্যতা এমফিল-এর মতোই। এই প্রোগ্রামের আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করতে হলে আপনাকে হতে হবে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এ ক্ষেত্রে আগ্রহী শিক্ষার্থীর অবশ্যই সব ফলাফলে দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে এবং অবশ্যই ৫০ ভাগ নাম্বার পেতে হবে। জিপিএ নিয়মের আওতায় থাকতে হবে নূ্যনতম ৩। যেসব প্রার্থীর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে কিংবা কোনো স্বীকৃত জার্নালে কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সেক্ষেত্রে একটি শর্ত শিথিলযোগ্য। প্রার্থীর শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় শ্রেণী বা বিভাগ থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

পিইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি :এমফিল ডিগ্রি থাকতে হবে। এমফিল ডিগ্রি না থাকলে প্রার্থীকে ৪ বছরের স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং থিসিসসহ ৬০ ভাগ নাম্বার পেতে হবে। থিজিপিএ হলে তা ৩.৭৫ হতে হবে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়

উপরোক্ত চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কিছু সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোতে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।

শিশুর মুসলমানী কেন জরুরী

0 comments
খাৎনা বা মুসলমানী কি?:

পুরুষাঙ্গের সামনের বা মাথার দিকে যে অতিরিক্ত স্কীন পুরুষাঙ্গের সংবেদনশীল মাথাকে ঢেকে রাখে তা কর্তন করাকে বুঝায়।

খাৎনা বা মুসলমানী করার প্রয়োজনীয়তা: (ক) ধর্মীয় কারণে মুসলমান ও খ্রীষ্টানরা খৎনা করিয়ে থাকে।

(খ) ফাইমোসিস বা প্যারা ফাইমোসিস রোগ হলে খাৎনা বা মুসলমানী করাতে হয়।

ফাইমোসিস: ফাইমোসিস হলো পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া যদি এমনভাবে মুত্রনালীকে ঢেকে রাখে যে বাচ্চা বা রোগীর প্রশ্রাবের সময় মাথাটা ফুলে উঠে। এই ভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে প্রশ্রাবে ইনফেকশন ও কিডনি ফেইলিওর হতে পারে।

প্যারা ফাইমোসিস: পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া উল্টে টাইট হয়ে যায়, যার ফলে চামড়াটাকে আর সামনে ও পিছনের দিকে নাড়াচাড়া করা যায় না। এক্ষেত্রে মাথার দিকে ফুলে যায় এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই উভয় ক্ষেত্রেই জরুরী ভিত্তিতে খাৎনা করা প্রয়োজন। আরো নানাবিধ কারণে খাৎনা দরকার হয় যেমন-পুরুষাঙ্গের চামড়া অনেক সময় পেন্টের চেইনের সাথে আটকে গেলে। রোগী চাইলেও যে কোন ধর্মাবলম্বী লোকের খৎনা করা হয়।

খাৎনা বা মুসলমানী করালে কি উপকারীতা: পুরাষাঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে নাই বললেই চলে। তার প্রধান কারণ খাৎনা। পুরুষাঙ্গের মাথার বাড়তি চামড়ার নীচে সাদা এক ধরনের পদার্থ (স্মেগমা) জমে এবং এই স্মেগমাই পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।

কখন খাৎনা করা যাবে না: হাইপোষ- পেডিয়াসিস রোগ। এটা পুরুষাঙ্গের জন্মগত ত্রুটি। এখানে মনে হবে বাচ্চা জন্মগতভাবে খাৎনা হয়ে এসেছে। এই ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের বাড়তি চামড়া এই জন্মগত ক্রটি মেরামতের সময় প্রয়োজন হয়। তাই খাৎনা করানো নিষেধ।

খাৎনা করার পূর্বে রক্তপরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে কি?: অবশ্যই আছে। খাৎনার পর কিছু খাৎনার রোগীর বিস্নডিং বন্ধ হয় না এবং মরণাপন্ন অবস্থায় আমাদের কাছে হাজামরা পাঠায়। তাই খাৎনার পূর্বে বাচ্চার অবশ্যই রক্তক্ষরণজনীত সমস্যা (জন্মগত) আছে কি না তা দেখে নিতে হবে।

খাৎনা করার পর কি কি জটীলতা দেখা দিতে পারে:

০০ রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হওয়া

০০ হাজাম বা অনভিজ্ঞতার কারণে অতিরিক্ত বা কম চামড়া কেটে ফেলা

০০ পুরুষাঙ্গের সংবেদনশীল মাথা কেটে ফেলা। হাজমরা খাৎনা করে বস্নাইন্ডলি অর্থাৎ মাথার অগ্রভাগে চামড়া মাথা থেকে সঠিকমত না ছাড়িয়ে না দেখে কেটে ফেলতে গিয়ে এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।

ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর সমস্ত দেশে এই খাৎনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং খাৎনা কনসালটেন্ট সার্জন ছাড়া করা হয় না। কারণ খাৎনা করতে গিয়ে যে কোন দূর্ঘটনা বাচ্চার ভবিষ্যৎ জীবন জটীল করে তুলতে পারে।

০০ ডা: এম এ হাসেম ভূঁঞা, অধ্যাপক সার্জারী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

প্রোটিন কেন খাবেন

0 comments
আমাদের দৈনিক খাদ্য তালিকার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হলো প্রোটিন বা আমিষ। অনেকগুলো এমাইনো এসিডের সমন্বয়ে প্রোটিন গঠিত হয়। এতে আছে গড়ে ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন। সব বয়সের লোকেরই প্রোটিন প্রয়োজন হয় কোষের ক্ষয়পূরণের জন্য। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রোটিন প্রয়োজন। তবে এর মধ্যে শিশু, গর্ভবতী মাতা, স্তন্যদায়ী মাতা এবং বাড়ন্ত বয়সে অন্যান্যদের চাইতে প্রোটিন প্রয়োজন হয় বেশি। প্রোটিনের অভাবে শিশুদের কোয়ালিয়াকর ও ম্যারাসমাস নামক রোগ হয়ে থাকে।

সাধারণ হিসাবে প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য এক গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। কিন্তু যাদের প্রোটিন বেশি প্রয়োজন তাদের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। অপর্যাপ্ত প্রোটিন দেহকে দুর্বল ও বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। দেহের বৃদ্ধি, প্রজনন ও বিপাকক্রিয়া এই তিনের সমন্বয় করাই প্রোটিনের কাজ।

খাবারে প্রোটিনের অভাব হলে শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের বিপাক ঠিকমত হয়না। প্রোটিন ও দু ধরনের হয়ে থাকে। প্রাণীজ প্রোটিন ও উদ্ভিজ প্রোটিন। প্রাণীজ প্রোটিন হলো- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হলো- ডাল, বাদাম, সীমের বিচি, বরবটি, সয়াবিন, ছোলা, মটর শুটি ইত্যাদি। প্রাণীজ প্রোটিন হলো সম্পূর্ণ প্রোটিন। একে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন বলা হয়। কারণ এতে অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডগুলো সমমাত্রায় রয়েছে। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বাদ দিয়ে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন গ্রহণ করতে বলা হয়। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হলো অসম্পূর্ণ প্রোটিন। এটিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রোটিনও বলা হয়। এতে সবগুলো এমাইনো এসিড থাকে না। তবে এর মধ্যে সয়াবিন একমাত্র ব্যতিক্রম।

প্রোটিনজাত খাদ্যে নিহ্নিত এমাইনো এসিডের তার তম্যের জন্য খাদ্যমূল্য ভিন্নতর হয়ে থাকে। চাল ও গমে লাইসিন ও ট্রিপটোফডান এই দুইটি অপরিহার্য এমাইনো এসিডের ঘাটতি রয়েছে। ডালে ঘাটতি আছে মেথিওনিন ও ট্রিপটোফওয়ানের। কোষ ও ট্রিসু্যর জন্য প্রয়োজন নাইসিন এবং লিভারের কোষ সক্রিয় রাখার জন্য প্রয়োজন সেথিওনিন। লাইসিস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় ডিম, দুধ ও ডালে। এছাড়া ট্রিপটোফডান দুধে ও মেথিওনিন আছে ডিমে। সুতরাং একটি প্রোটিন জাতীয় খাবার অন্যটির সঙ্গে মিলিয়ে খেলে সেই প্রোটিন জৈবমূল্যের দিক থেকে বেশ উন্নতর হবে। যেমন- চাল ও ডালের মিশ্রণে খিচুড়ী এবং চাল ও দুধের মিশ্রনে পায়েস একটি উত্তম প্রোটিনযুক্ত খাবার।

যারা আমিষ ভোজী তাদের খুব একটা সমস্যা না হলেও দেখা যায় নিরামিষ ভোজীদের দেহে প্রোটিনের অভাব হয়। যদি তাদের আহারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল-দুধ, পনীর ছানা থাকে তাহলে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হয়। যে সমস্ত নিরামিষ ভোগীদের দুধ জাতীয় খাবার না খান তাদের দেহে ভিটামিন বি ১২ এর অভাব হয়, ফলে পার্নিসিয়াস এনিমিয়া হতে দেখা যায়। মাংস, দুধ, পনীর, কলিজা, ডিমের কুসুম ও মাছের মধ্যে এই ভিটামিন বিদ্যমান।

০০ আখতারুন নাহার, আলো প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা বারডেম।

শিশুকে একজিমা মুক্ত রাখবেন কিভাবে

0 comments
একজিমা বা এটোপিক ডার্মাটাইটিস শিশুদের একটি অতি সাধারন চর্মরোগ। যেসব শিশুদের এ ধরণের চর্মরোগ দেখা দেয় তাদের পিতা মাতারা বছরের পর বছর ধরে ডাক্তারের কাছে ছুটিছুটি করেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কোন সুফল পাননা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের চর্মরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভূল চিকিৎসার ঘটনাও কম নয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের যেকোন ধরণের চর্মরোগ হলে প্রথমে পিতা-মাতাগণ শরণাপন্ন হন শিশু বিশেষজ্ঞগণের কাছে। প্রাথমিক চিকিৎসাটা পায় শিশুরা সেখানে। কিন্তু শিশুদের চর্মরোগ চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে শিশু বিশেষজ্ঞগণ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করছেন অথবা অপ্রয়জনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভূল চিকিৎসার ঘটনাও ঘটছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই শিশুদের চর্মরোগের চিকিৎসা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞগণই করে থাকেন। পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজি বিভাগ নামে শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা অর্থের পিছনে ছুটতে গিয়ে প্রফেসর থেকে নবীন ডার্মালোজিস্ট সবাই সব ধরণের রোগী দেখি। তাই ডার্মাটোলজিতে সাব স্পেশালিটি গড়ে উঠছেনা। অথচ বিশ্বব্যাপী শিশু ডার্মাটোলজির ব্যাপক চাহিদা তৈরী হয়েছে। বাংলাদেশেও শিশু ডার্মাটোলজির ক্ষেত্রে পৃথক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রুপ গড়ে উঠতে পারে। এতে বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি স্পেশালিটি গড়ে উঠতে পারে।

শিশুদের একজিমার প্রধান উপসর্গ হলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে র্যাশ উঠে এবং চুলকায়। অনেক সময চুলকানোর স্থান লাল হয়ে যায় এবং কিছুটা খসখসে হয়ে যায়। এমনকি আক্রান্ত স্থান থেকে তরল জাতীয় ফ্লুইড নি:সরিত হতে পারে। শিশুদের এটোপিক ডার্মাটাইটিস ৫ বছর বয়সের মধ্যেই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা দেয়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ ধরণের একজিমা অত্যন্ত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আমি শিশুদের একজিমার চিকিৎসার চাইতে শিশুর পিতা-মাতাদের গাইড করে থাকি বেশী। এতে বাবা-মারা শিশুকে বারবার ডাক্তারের কাছে নেয়ার পরিবর্তে ঘরে বসেই যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন। তবে একজিমা প্রথমে প্রয়োজন যথাযথ ডায়াগনসিস। অনেক ক্ষেত্রে গরম র্যাশ, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিস এর সঙ্গে প্রায় একই রকম দেখা যায়। তাই ডায়াগণসিসে সমস্যা হয়। তবে একজন দক্ষ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চর্মরোগের ধরণ দেখে সঠিক ডায়াগনসিস করতে পারেন। সাধারণত একজিমা কপাল, মুখ, হাত, পা ও ত্বকের ভাজে প্রথমে দেখা দেয়। তবে শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে।

এটোপিক একজিমা চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে কতগুলো অতিসাধারণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হবে। যেমন: আক্রান্তের ধরন বুঝে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক, উপযুক্ত কোন সেটরয়েড ব্যবহার, চুলকানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন সেবন এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ভালো ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ঠিক করবেন কোন ধরণের ওষুধ শিশুর জন্য প্রয়োজন। এছাড়া নন ষ্টেরয়ডাল ক্রিমও দেয়া যায়।

মনে রাখতে হবে ক্ষারযুক্ত সাবান, গরমপানিতে গোসল, সিনথেটিক কাপড়, এলার্জিক ফুড, গরম আবাওয়া আক্রান্ত শিশুর রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

তাই শিশুদের একজিমা প্রতিরোধে পিতামাতার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী। শিশুর ত্বকে যে কোন ধরণের র্যাশ হলে প্রাথমিক অবস্থায় কোন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যে কোন ধরণের ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে এলার্জিক ফুড যেমন: বেগুন, চিংড়ি মাছ, ইলিশমাছ দেবেন না। বিরত রাখতে হবে উলেন বা সিনথেটিক কাপড় পরানো থেকে। রাতে যে কোন ধরণের এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় যদি ভালো না হয় তবে অবশ্যই কোন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

০০ ডা: মোড়ল নজরুল ইসলাম, চুলপড়া, চর্মরোগ ও এলার্জি এবং যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ, লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন, কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট, ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা

মাথা ব্যথার কারণ

0 comments
মাথা ধরা বা মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে দেখা গেছে যে, মাথার খুলির মধ্যের রক্তনালীগুলো (ধমনী বা শিরা) যদি বেশি প্রসারিত হয় অথবা মস্তিষ্কের আবরণী পর্দাগুলোর মধ্যে যে রক্তনালীগুলো আছে সেগুলোতে যদি কোনও কারণে টান লাগে অথবা কপাল, মুখমন্ডল, চোখ, ঘাড় ইত্যাদির মাংসপেশীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম হয় বা ঐসব জায়গায় কোনও প্রদাহ হয় তবে মাথা ধরে বা ব্যথা হয়। মাথা ধরা তাই কোন অসুখ নয়। এটা একটা লক্ষণ মাত্র। তাই মাথা ধরা সারানো অর্থাৎ বরাবরের জন্য মাথা ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যথা বেদনা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারে সাময়িকভাবে মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পেতে পারি, কিন্তু এতে মাথা ধরার মূল কারণগুলো দুর করা সম্ভব নয়। মাথা ধরা সারাবার জন্য যেসব ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলোকে অনেক সময়েই অন্য অনেক ক্ষতিকারক পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। তাই এসব ওষুধ বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাময়িক উপশমের জন্য প্যারাসিটামল বা এসপিরিন টেবলেট দু'একটা খাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।

ক্যান্সার সমস্যা

0 comments
বিশেষজ্ঞদের কারোকারো অভিমত, ১ লক্ষ লোকের মধ্যে ২৬০ জন লোক প্রতিবছর ক্যান্সারে মৃতু্যবরণ করেন এবং সম্প্রাতিক এই ধারা চলতে থাকলে তা ১১৫০ জন লোকে পৌছাতে পারে বিশ বছরের মধ্যে। ক্যান্সার এখনও দুরারোগ্য, এর নিরাময় আবিষ্কৃত না হলেও আগাম চিহ্নিত হলে এটি প্রতিরোধ যোগ্য।

এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো শিশুদেরকে প্রখর রোদের আলো থেকে দূরে রাখুন, রোদের আলো ভিটামিন ডি সংশেস্নষে কাজ করলেও দীর্ঘ সময় কড়া রোদে থাকলে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে অনেকের। বিশেষজ্ঞরা বলেন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খালি গায়ে ও খালি চোখে নিয়মিত বা প্রায়শ আধ ঘন্টার অধিক সময় থাকলে ক্যান্সার হবার আশংকা খুব বেশী। এ সময় ফুলপ্যান্ট শার্ট পরা, মাথাল পরা, সম্ভব হলে চোখে রোদ চশমা পরা উচিত।

সাম্প্রতিক খবরে প্রখাশ: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্যান্সার বাড়ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপনের ত্রুটি জনিত রোগও বাড়ছে। ক্যান্সার এদের মধ্যে অন্যতম। বস্তুত: বিশ্বে ৭১ লক্ষ নতুন ক্যান্সার রোগী এবং ৪৮ লক্ষ লোকের ক্যান্সারে মৃতু্য অধিকাংশ ঘটছে অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, রিপোর্টটি করেছেন আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। গবেষকরা বলেছেন এর মূলে রয়েছে সেসব দেশে জনগণ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার মত কারণ-যেমন ধূমপান, শুয়ে বসে জীবন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য-অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে এসব বদভ্যাসও হয়েছে অনেকের মধ্যে।

"গেস্নাবাল ক্যান্সার ফ্যাকট্স ও ফিগারস" নামে এ রিপোর্টে বেশি গুরুত্ব সহকারে এসেছে ফুসফুস, স্তন ও মলাশয় মলান্ত্রের ক্যান্সার।

২০০৮ সালের কথা যদি বলা হয়, যত ক্যান্সার সে বছর বিশ্বজুড়ে, এর এক তৃতীয়াংশ (আনুমানিক দিনে ৭৩০০ জনের মৃতু্য) এড়ানো যেত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চায়-যেমন ধূমপান, মদ্যপান, সংক্রমনের ধরন ও খাদ্যভ্যাস এসব ব্যাপারে। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের বর্তমান জ্ঞান ও তথ্য যদি দেশে দেশে প্রচার করা যায়, জনগণ যদি অবহিত হতে পারে তাহলে পরবর্তী দুই তিন দেশকে ক্যান্সার মৃতু্য আরও অনেক কমে যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, জনগণ, বেসরকারী সংস্থা, দাতাসংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ধনীদেশগুলোতে ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী পুরুষদের মধ্যে প্রধান ক্যান্সার ছিলো প্রোস্টেট, ফুসফুস ও মলাশয় মলান্ত্রের ক্যান্সার আর মহিলাদের মধ্যে ছিলো স্তন, মলাশয়মলান্দ্র ও ফুসফুসের ক্যান্সার।

এদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুরুষদের বড় ক্যান্সার ঝুকি দেখা গেছে ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃতের ক্যান্সার, আর মহিলাদের মধ্যে স্তন, সার্ভিক্স ও ফুসফুসের ক্যান্সার। বাংলাদেশে একটি পরিসংখ্যান অনুসারে ১০ লক্ষাধিক ক্যান্সার রোগী রয়েছে। তবে বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন এ সংখ্যা এখন ২১ লক্ষেরও বেশি। প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই লক্ষ রোগী ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে মৃতু্যবরণ করছে কমপক্ষে ২৬০ জন। তবে এ রোগ মোকাবেলার জন্য চিকিৎসার জন্য ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ দেশে অনেক কম, মাত্র ১১০ জন। বিশেষজ্ঞ একে সামাল দিতে হিমসিম খাবেন।

আমাদের দেশে ধূমপান এবং নানান ধরনের তামাক জর্দ্দা, গুল সেবন, ভেজালখাদ্য ও পানীয় বিভিন্ন রাসায়নিকের পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া, সংক্রমণ নানা কারণে ক্যান্সার ঘটছে। ফুসফুস, লিভার, জিহ্বা, গালবিল, মুখগহ্বরের ক্যান্সারই প্রধান। ইদানীং নারীদের জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারও বাড়ছে। ক্যান্সার সম্বন্ধে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি, ক্যান্সারের লক্ষণ আগেভাবে সনাক্ত করা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা, ধূমপান মদ্যপান বর্জন, বাইরের ভেজাল খাবার পরিহার, এসবও প্রয়োজন। সেসঙ্গে বাংলাদেশে ক্যান্সার ব্যবস্থাপনাও চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে হবে।

রয়টারের এক খবরে প্রকাশ, আমেরিকা, চীন ও ব্রিটেনের একতৃতীয়াংশ ক্যান্সার প্রতিবছর প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি জনগণ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস করেন, মদ্য পান কম করেন ও ব্যায়াম করেন।

আমিরাকান ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ (এআইসিআর) এবং ওয়াল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড (ডবিস্নউসিআরএফ) এর পরামর্শ: জীবন যাপনে সহজ সরল পরিবর্তন করে ব্রিটেন ও আমেরিকায় ৪০% স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, প্রতিরোধ করা যায় শত সহস্র মলান্দ্র, পাকস্থলী ও প্রেস্টেট ক্যান্সার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১১ সালেও যেসব ক্যান্সার স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রেখে, সুখাদ্য খেয়ে, শরীরচর্চা করে ও জীবনযাপনে অন্যান্য পরিবর্তন এনে ঠেকানো যেত, সেসব ক্যান্সারে মানুষ অনাবশ্যক মৃতু্যবরণ করছে।

বলা হচ্ছে: নিয়মিত ব্যায়াম ঠেকাতে পারে নানা রোগ যেমন- ক্যান্সার, হূদরোগ ও ডায়াবেটিস। আমরা তো জানি বিশ্বজুড়ে মৃতু্যর একটি বড় কারণ হলো ক্যান্সার। প্রতিবছর ১ কোটি ২৭ লক্ষ্য লোক আবিষ্কার করেন যে তাদের ক্যান্সার হয়েছে এবং ৭৬ লক্ষ লোক কোনও না কোন ক্যান্সারে মৃতু্য বরণ করেন, আমাদের জানা ২০০ ধরনের ক্যান্সার রয়েছে।

ক্যান্সর সম্বন্ধে গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে (আইএআরসি) এভাবে চললে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ক্যান্সারে মৃতু্যহবে ১ কোটি ৩২ লক্ষ লোকের, ২০০৮ সালে ক্যান্সারে মৃতু্যর দ্বিগুণ। বেশিরভাগ মৃতু্যকে দরিদ্র দেশগুলোতে। পৃথক এক বিকৃতিতে জেনেভা থেকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেন বিশ্বজুড়ে ২১-২৫% স্তন ও মলন্দ্রি ক্যান্সার, ২৭% ডায়াবেটিস ও ৩০% হূদরোগের প্রধান কারণ হলো শরীরচর্চা কমে যাওয়া। ডবিস্নউসিআরএফ এর ডিপুটি স্বাস্থ্য প্রধান র্যাচেল হামসন বলেন, এ বানী সহজ সরল-ধূমপান না করা, সুখাদ্য খাওয়া, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা হলো অনেক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় অথচ এই কথাটি পৌছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

"আপনাকে এসব খাবার খেতে হবে, এ পরিমাণ ব্যায়াম করতে হবে" কথাগুলো বলা সহজ কিন্তু এসব পরিবর্তন ঘটানো কঠিন-একে ঘটাতে প্রত্যেকের ভূমিকা চাই, ব্যক্তি, সরকার, জনগণ, আন্তর্জাতিক সংস্থা সবার।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-পূর্ণ বয়স্করা সপ্তাহে অন্তত: ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করা উচিত। সপ্তাহে পাঁচদিন ৩০ মিনিট হাটলে বা প্রতিদিন সাইকেল চড়ে কর্মস্থলে গেলে তা হতে পারে।

ধূমপান ও তামাক সেবনের বিরুদ্ধে আইনও এর প্রয়োগ ও সিগারেট ও তামাকের মূল্য বৃদ্ধি। তামাক প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃতু্য ঘটায়, তামাক জনিত ফুসফুসের ক্যান্সার পৃথিবী জুড়ে বড় সমস্যা। শতসহস্র মানুষ নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের ধূমপানের ধোয়া, সেবন করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে।

ক্যান্সারের জন্য জাদু ওষুধ নেই তবে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষার উপায় তো আছে। আগে ভাগে চিহ্নিত করা ও জীবনযাপনে সহজ পরিবর্তন নানা। ভেজাল খাদ্য, তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনও প্রয়োগ।

০০ অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী, পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা

ভালোবেসে বিয়ের পর বুঝলেন মানুষটি বর্বর

0 comments
আঠারো বছর বয়সী গৃহবধূটি হাসপাতালের বিছানায় শোয়ে কাতরাচ্ছিলেন। তাঁর বাঁ হাতে রডের ছেঁকার ক্ষত। শরীরে মারধরের চিহ্ন। মুখমণ্ডল ফোলা। গতকাল রোববার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে স্বামী পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন মৃধার নির্যাতনের কাহিনীর বর্ণনা করছিলেন তিনি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ তানিয়া আক্তার বলেন, ‘ওকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু জানতাম না ও (স্বামী) এমন বর্বর। আমি এর বিচার চাই।’
তানিয়ার পরিবার জানায়, বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের হাসান মীরের মেয়ে তানিয়ার সঙ্গে আমতলী পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলর ফরহাদের গত বছরের ১০ অক্টোবর বিয়ে হয়। মাস ঘুরতে না ঘুরতেই যৌতুকের জন্য মেয়েটির ওপর শুরু হয় নির্যাতন। তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন ফরহাদ। তানিয়ার পরিবার গত পৌর নির্বাচনের সময় নগদ এক লাখ টাকা দেয় তাঁকে। কিন্তু এর পরও নির্যাতন চলতে থাকে। গত রোববার তানিয়াকে প্রচণ্ড মারধরের পর ছেঁকা দেওয়া হয়। সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। রাতে তাঁকে দ্বিতীয় দফা মারধর করে ঘরের বাইরে বের করে দেন ফরহাদ। সারা রাত অচেতন হয়ে পড়ে থাকার পর সকালে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে তাঁর বাবা গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সতীন্দ্রনাথ গাইন বলেন, ‘তানিয়ার শরীরে ক্ষত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। গত বুধবার থেকে আমরা চিকিৎসা করছি।’
তানিয়ার বাবা হাসান মীর বলেন, ‘ফরহাদ ও তাঁর লোকজন আমাকে শাসাচ্ছে, এমনকি খুনের হুমকি দিয়েছে। আমতলীতে ওরা (ফরহাদ) ভীষণ প্রভাবশালী। তাই মামলা করারও সাহস পাইনি।’
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর ফরহাদ বলেন, ‘আমি ওকে (তানিয়া) কোনো মারধর করিনি। সেদিন সে এমনিই অচেতন হয়েছিল। আমি বাড়ির বাইরে থাকা অবস্থায় তানিয়ার বাবা গিয়ে তাকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করান। আমতলীতে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমি জীবনে কোনো অন্যায় করিনি। মেয়র সাহেব মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। দেখি কী হয়।’
আমতলী পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মাসুদা কাদের বলেন, সামাজিক অবস্থানে থাকা একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে স্ত্রীকে নির্যাতন করতে পারেন, ভাবাই যায় না। এটা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ নয়। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন। পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, ‘মেয়েটিকে মারধরের কথা আমি শুনেছি। এ নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বসার চিন্তা করছি।’
সূত্রঃ প্রথম আলো

স্কুলছাত্রী হত্যার পর খালে নিক্ষেপ

0 comments
সেগুনবাগিচার স্কুল ছাত্রী আয়েশা চৌধুরী টুম্পাকে (১৬) তার বড় ভাই প্রকৌশলী আল কাওসার মাসুদ বাবলার মত একই কায়দায় জীবন দিতে হলো। দুই ভাই-বোনকে একই কায়দায় ঘাতকরা হত্যা করেছে। গত সোমবার রাতে টুম্পা নিখোঁজ হয়। বুধবার সকালে শাহবাগ থানার পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল রসুলবাগ ডিএনডি বাঁধের ব্রিজের নিচে খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় টুম্পার লাশ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ঐ দিন ঢাকা মেডি-ক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। গত বছর ৩১ মে টুম্পার বড় ভাই বাবলার লাশ নরসিংদী রায়পুরা উপ-জেলার মেঘনার তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। ২৬ মে বাবলা নিখোঁজ হয়। বাবলাকেও নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। টুম্পাকে পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে খালে ফেলে দেয়া হয়। অভিভাবকগণ জানান, বাবলার খুনি আর টুম্পার খুনি এবং হত্যাকাণ্ডের মোটিভ একই। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জুবায়েদুর রহমান টুম্পার লাশের ময়না তদন্ত করেন। এ সময় চিকিৎসক তার মাথায় আঘাতের আলামত পেয়েছেন। তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর ঘাতকরা মাথায় আঘাত করে। এতে টুম্পা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে খুনিরা তাকে পানিতে ফেলে দেয়। পানিতে ডুবেই সে মারা যায়। ময়না তদন্তকালে চিকিৎসক এই ধরনের আলামতই পেয়েছেন। ময়না তদন্ত শেষে টুম্পার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে বড় ভাই বাবলার কবরের পাশে দাফন করা হয়। এদিকে টুম্পা হত্যাকাণ্ডে দুই তরুণকে শাহবাগ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বাবলা হত্যাকাণ্ডে গতকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার কিংবা পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। টুম্পা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে তার সাবেক প্রেমিক নূরুল হক ওরফে নূরু এবং বর্তমান প্রেমিক সাইদুর রহমান আকাশ।
যেভাবে টুম্পা নিখোঁজ হয়:

গত সোমবার অর্থাৎ বিশ্ব ভালবাসা দিবসে টুম্পার মা তাকে লেখাপড়া নিয়ে বকাবকি করেন। এই নিয়ে অভিমান করে টুম্পা ঐ দিন সন্ধ্যায় সেগুন বাগিচার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মায়ের মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নিয়ে যায়। তার প্রেমিক আকাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়ি স্টাফ কোয়ার্টারে থাকে। আকাশের পিতা শফিকুর রহমান উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী। আকাশ কলেজ ছাত্র। প্রেমিককে ফোন করে উভয়ে টিএসসিতে গিয়ে মিলিত হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত এই এলাকায় টুম্পা ও আকাশ গল্পের পাশাপাশি চটপটি খেয়ে সময় কাটায়। গ্রেফতারকৃত আকাশ পুলিশকে জানায়, রাত ৯টার পর টুম্পাকে একশত টাকা দিয়ে ৪০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে সেগুনবাগিচার বাসার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া আকাশ কিছুই বলতে পারে না। টুম্পার পিতা ব্যবসায়ী আমানত উলস্নাহ ঐদিন রাত ১টা পর্যন্ত কন্যা বাসায় ফিরে না আসায় শাহবাগ থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। ঐ রাতে কন্যার সন্ধানে আমানতউলস্নাহ ছুটে যান টুম্পার প্রাক্তন প্রেমিক সেগুনবাগিচা ২৬/এ তোপখানা রোডের নূরুল হক নূরুর বাসায়। ঐ সময় নূরু টুম্পার পিতাকে জানায় যে, তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিববাড়িতে বসবাসকারী আকাশকে এখন ভালবাসে। টুম্পা আকাশের কাছে গিয়েছে বলে নূরু জানায়। সে সূত্র অনুযায়ী ঐ রাতে পুলিশের সহায়তায় শিববাড়ি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে আকাশকে আটক করা হয়। পুলিশ টুম্পার ব্যবহূত মোবাইলের কললিস্ট যাচাই করে দেখে যে, রাত ১টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন সেটটি সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকার টাওয়ার ব্যবহার করেছে। টুম্পা শিমরাইল এলাকায় অবস্থান করছে বলে পুলিশ টুম্পার পিতাকে জানায়। তিনি রাতে টুম্পার ছবিসহ ঐ এলাকায় আত্মীয়-স্বজন পাঠিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অবশেষে বুধবার সকালে ব্রিজের নিচে খালে এক কিশোরীর লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী টুম্পার পিতাকে জানান। তার পিতা শাহবাগ পুলিশ নিয়ে সেখানে যান এবং কন্যার লাশ সনাক্ত করেন। ধারণা করা হচ্ছে সোমবার রাতে সেগুন বাগিচার বাসায় ফেরার পথে টুম্পা অপহূত হয়। তাকে পাশবিক নির্যাতন শেষে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেগুন বাগিচার বখাটে তরুণ গ্রেফতারকৃত নূরু এবং পলাতক হূদয় ও গ্রেফতারকৃত ৭ থেকে ৮ জন জড়িত বলে তার পিতার সন্দেহ। তাদের নাম ঠিকানাও তিনি পেয়েছেন বলে জানান। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শাহবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর টুম্পার ঘটনায় মামলাটির ধারা পরিবর্তন হবে বলে শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান।

যে কারণে টুম্পাকে হত্যা করা হয়:

গতকাল বৃহস্পতিবার টুম্পাদের সেগুনবাগিচার বাসায় গিয়ে তার পিতা-মাতা ও অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করা হয়। তারা জানান, টুম্পা সেগুনবাগিচা বেগম রহিমা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর কমার্স বিভাগের ছাত্রী ছিল। স্কুলে যাতায়াতের সময় বখাটে তরুণ নূরুর সঙ্গে পরিচয়। এরপর উভয়ের মধ্যে প্রেম। বিষয়টি জেনে টুম্পার বড় ভাই ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার বাবলা নূরুকে দুই দফা মারধর করে। পরে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এই ঘটনার পর গত ২৬ মে বাবলা নিখোঁজ হয় এবং ৩১ মে তার লাশ মেঘনা নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। বাবলা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত কিংবা জড়িতরা গ্রেফতার হয়নি। নূরুকে মারধর করার ঘটনায় বাবলাকে জীবন দিতে হয়েছে। একই কারণে খুনিরা টুম্পাকেও হত্যা করে নির্মমভাবে। বাবলার খুনি ও টুম্পার খুনি একই বলে তাদের অভিভাবকরা দাবি করেন। গ্রেফতারকৃত আকাশকে গতকাল শাহবাগ থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

রহস্যময় তরুণীর মোবাইলের কল লিস্ট থেকে ক্লু উদঘাটন

36 comments
রাজধানীর দারুস সালাম থানার পুলিশ তরুণ ব্যবসায়ী কামরুল হাসান (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু এক রহস্যময় তরুণীর মোবাইল ফোনের কললিস্টের মাধ্যমে উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে রহস্যময় তরুণীসহ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মাজেদুল হক ও জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে জড়িয়ে একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সাক্ষী হিসাবে তিনজন জবানবন্দি দেয় একই আদালতে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত বটিসহ সকল আলামত পুলিশ জব্দ করেছে। সাবিনা আকতার নামের এই রহস্যময় তরুণী একটি বেসরকারি ল' কলেজের ছাত্রী। তার সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ী কামরুল হাসান ও প্রধান আসামি মাজেদুল হকের গভীর সম্পর্ক ছিল। সাবিনা দুইজনের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিময়ে দুইজনের কাছ থেকেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। এটা তার মূল ব্যবসা। গত শুক্রবার দারুস সালাম থানার ওসি আব্দুল মালেক, অপারেশন অফিসার এসআই মোঃ আবু সালাম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাম্মেল হক তরুণ ব্যবসায়ী কামরুল হাসান হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানান। তাদের ভাষায়, প্রথম দিকে মামলাটি ছিল ক্লু বিহীন। পরে অবশ্য কামরুল হাসানের আত্মীয়-স্বজনই সাবিনা ও হত্যাকাণ্ডের মোটিভসহ অন্যান্য বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন।

যেভাবে ব্যবসায়ী হাসানকে খুন করা হয়: পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাজেদুল হকের দারুস সালাম থানাধীন পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ার ১৫৯/১৬/সি ভবনের নিচতলা এক কক্ষ বিশিষ্ট ভাড়া বাসায় ব্যবসায়ী কামরুল হাসানকে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর আসার জন্য সংবাদ দেয়া হয়। কামরুল হাসানের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদুল হক। তারা এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা করতো। দুইজনের মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক। এক বাসায় সাবিনাসহ একাধিক বান্ধবীকে নিয়ে দুই বন্ধু মনোরঞ্জন করতো। ৫ লক্ষাধিক টাকা পাওনা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। ঐ রাতে টাকা প্রদানের পাশাপাশি বন্ধু কামরুলের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা ছিল। ঐ দিন সন্ধ্যার পর কামরুল পার্টনার মাজেদুল হকের উক্ত বাসায় যায়। ঐ রাতে মাজেদুল হক, গুলশানের সজিব ও কামরুল মিলে তাস খেলে। সঙ্গে মদ সেবন করে তারা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এক পর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে মাজেদুল পার্টনারের সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়। বটি দিয়ে সজিব কামরুলকে আঘাত করতে থাকে। ঐ সময় বাঁচার জন্য কামরুল বান্ধবী সাবিনাকে দুই দফা তার মোবাইল ফোন থেকে মেসেজ পাঠায়। কিন্তু সাবিনা তাকে রক্ষায় কোন ধরনের সহযোগিতা করেনি। এরপর মাজেদুলও কামরুলের দেহে আঘাত করে। মাজেদুল ও সজিব কামরুলের মৃতু্য নিশ্চিত জেনে আঘাত বন্ধ করে।

লাশ গুমের চেষ্টা: ভোর রাতে মাজেদুল হক ও সজিব মেঝেতে জমা কামরুলের রক্ত পরিষ্কার করে ফেলে। বাসভবনের সিকিউরিটি গার্ড মকবুল হোসেনকে মাজেদুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানায়। কিভাবে লাশ গুম কিংবা অন্যত্র ফেলে দেয়া যায় সে বিষয়েও পরামর্শ করে তারা। গার্ড মকবুলকে এ বাবদ মাজেদুল তিন হাজার টাকাও দেয়। এছাড়া পাটের চট কেনার জন্য দেয় আরো একশত টাকা। এই টাকা দিয়ে মকবুল স্থানীয় বাজার থেকে দুইটি পাটের চট ক্রয় করে নিয়ে আসে। বড় বালতির মধ্যে কামরুলের লাশটি হাত-পা বাকা করে ঢুকিয়ে পাটের চট ও কম্বল দিয়ে বস্তাবন্দি করে গার্ড মকবুল। বিকাল ৪টায় মাজেদুল ও সজিবের পূর্ব পরিচিত সিএনজি ট্যাক্সি চালক মাসুদকে সংবাদ দেয়। মাসুদ ট্যাক্সি নিয়ে পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ার মাজেদুলের বাসায় আসে। ঐ সময় তারা একটি বস্তা ট্যাক্সি ক্যাবে উঠায়। চালক মাসুদ বস্তায় কি জানতে চাইলে জবাবে মাজেদুল ও সজিব বলে, বস্তায় বিদেশী মদ রয়েছে এবং তা গাবতলী বাস টার্মিনালে নেয়া হবে। সেখানে অন্য লোক অপেক্ষা করছে। চালক বস্তাসহ মাজেদুল ও সজিবকে নিয়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে যায়। সেখানে বস্তাটি নামিয়ে দেয়া হয়। সচিব ট্যাক্সি চালকের সঙ্গে চলে যায়। তবে চালককে বস্তার জন্য তিন হাজার টাকা ভাড়া দেয়। বস্তাটি মাজেদুল একটি রিকশায় তুলে দেয়। রিকশা চালক সুমন আলীকে একটু দাঁড়ানোর কথা বলে মাজেদুল কেটে পড়ে। রিকশা চালক বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষায় থাকার পর বস্তার মালিক আর আসেনি। বিষয়টি স্থানীয় কয়েক ব্যক্তিকে জানালে তারা বস্তাটি যাচাই করে সন্দেহ হয় যে, এটার ভিতরে মৃত দেহ রয়েছে। সংবাদ পেয়ে দারুস সালাম থানার ওসি ও অপারেশন অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে একটি ক্ষত বিক্ষত মৃত দেহ দেখতে পান। লাশের সঙ্গে থাকা মানিব্যাগের ভিতর থেকে দুইটি মামলার নম্বর উদ্ধার করেন পুলিশ কর্মকর্তাগণ। এই মামলা দুইটি নথিপত্র যাচাই করে ব্যবসায়ী কামরুলের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার মদ্দেরবাগ ঠিকানা উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে আত্মীয়-স্বজন কামরুলের লাশ শনাক্ত করেন।

রহস্য উদঘাটন: কামরুলের ব্যবহূত মোবাইল ফোন নম্বরের কললিস্ট দারুস সালাম থানার পুলিশ বের করেন। এর আগে গাবতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসান বাদি হয়ে দারুস সালাম থানায় কামরুল হত্যা মামলা দায়ের করেন। মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ আলম এই হত্যা মামলা মনিটর করেন। দারুস সালাম থানার ওসির তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। কামরুলের মোবাইল ফোনে ঘটনার রাতে দুই মেসেজের সূত্র ধরে সাবিনাকে পুলিশ খুঁজে বের করে। রহস্যময় তরুণী সাবিনা প্রথমে কামরুলের সঙ্গে পরিচয় থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যায়। ফোনের কললিস্ট অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গুলশান থেকে সজিবকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাবিনাকে এবং পরে মাজেদুলকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সাবিনা পুলিশের জেরার মুখে কামরুল ও মাজেদুলের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের বিষয় এবং উভয় পার্টনারের বিস্তারিত তথ্য জানায়। ঘটনার রাতে কামরুল তাকে দুই দফা মেসেজ পাঠানোর কথা পুলিশের কাছেও স্বীকার করে। সাবিনার কাছ থেকে মাজেদুলের দেয়া ৪ লাখ টাকার একটি চেকও পুলিশ জব্দ করে। পরে মাজেদুল, সজিব ও সাবিনাকে রিমান্ডে নিয়ে দারুস সালাম পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদুল ও সজিব হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয়ে বর্ণনা দেয়। মোটিভ সম্পর্কে তারা পুলিশকে জানিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ মাজেদুলের বাসায় গিয়ে গার্ড মকবুলকে আটক করে। মকবুল ও মাজেদুল এবং সজিব কামরুলকে হত্যা এবং লাশ গুম করার চেষ্টার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ঐ বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত বটি ও রক্তমাখা কামরুলের প্যান্ট, শার্ট উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে সজিব আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সাক্ষী হিসাবে বাড়ির গার্ড মকবুল, রিকশাচালক সুমন আলী ও ট্যাক্সি চালক মাসুদ আদালতে জবানবন্দি দেয়।
সজিব ও সাবিনাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। মাজেদুলকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দারুস সালাম থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে। আজ রবিবার দ্বিতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর হতে পারে বলে পুলিশ জানায়।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

প্রেমিকের বাসায় আত্মহত্যা কলেজ ছাত্রী অর্পার

0 comments
রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা ও আরেক স্কুলছাত্রী খুন হয়েছে। সবুজবাগে বুধবার রাতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্পনা আক্তার অর্পা (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ তার প্রেমিকের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের প্রেমিক রুবেলকে গ্রেফতার করেছে সবুজবাগ থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ অর্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে সেগুন বাগিচায় আয়শা চৌধুরী টুম্পা (১৬) নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী খুন হয়েছে। বুধবার দুপুুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে টুম্পার কথিত প্রেমিক সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সবুজবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত রুবেলের মায়ের বরাত দিয়ে জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও এলাকার এক নম্বর রোডের প্রেমিক রুবেলের বাসার যায় অর্পা। এসময় রুবেলের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে অর্পা পাশের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘক্ষণ কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে অর্পনাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে রুবেল ও তার মা নার্গিস বেগম অর্পাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত ৯টায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে পুলিশ রুবেল ও তার মাকে আটক করে সবুজবাগ থানায় নিয়ে যায়। অর্পার বড় ভাই এনাম আহমেদ জানান, অর্পার সঙ্গে রুবেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত কয়েকদিন আগে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় রুবেল মোবাইল ফোনে অর্পাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। নিহত অর্পা কমলাপুর স্কুল এন্ড কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। পিতার নাম সাবি্বর হোসেন। তার বাসা ৪২, দক্ষিণ বাসাবো।
অন্যদিকে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে আয়শা চৌধুরী টুম্পা নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার রসুলবাগের ডিএমডি বেড়িবাঁধের পাশের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। নিহত টুম্পা ঢাকার রহিমা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মুক্তার হোসেন জানায়, গত সোমবার বিকেলে নিহত টুম্পাকে প্রেমিক সাইদুর রহমান ৬/৪ সেগুনবাগিচার বাসা থেকে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ঘুরতে নিয়ে যায়। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে টিএসিতে খাওয়া-দাওয়া করে। সঙ্গে সাইদুরের ৫ জন বন্ধুও ছিল। রাতে টুম্পা বাসায় না ফেরায় তার বাবা আমানতউল্লাহ শাহবাগ থানায় অভিযোগ করে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ টুম্পার প্রেমিক সাইদুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুর জানায়, ভালোবাসা দিবসে সাইদুর সন্ধ্যার সময় তাকে টিএসসি থেকে বাসায় ফেরার জন্য রিকশায় তুলে দেয়। এরপর আর তার খোঁজখবর জানে না। বুধবার দুপুরে খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে টুম্পার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল মাঠ থেকে নুরু নামের আরও এক বখাটেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, নুরুসহ এলাকার বখাটেরা দীর্ঘদিন ধরে টুম্পাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এর প্রতিবাদ করায় গত ৬ মাস আগে টুম্পার বড় ভাই কাওসার চৌধুরীকে বখাটেরা মারধর করে। তার কয়েকদিন পর তার লাশ নরসিংদীতে পাওয়া যায়। নিহতের পিতা আমানতউল্লাহর অভিযোগ সাইদুর ও তার সহযোগীরা টুম্পাকে অপহরণ করে হত্যা করেছে।

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যুবকের আত্মহত্যা

0 comments
প্রেমিকার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন রিপন (১৮) নামের এক যুবক। রবিবার রাতে মারা যান তিনি। পুলিশ ও হাসপাতাল সংশিস্নষ্টরা জানান, প্রেমিকার উদ্দেশ্যে বিশ্ব ভালবাসা দিবসের উপহার হিসেবে আত্মাহুতি দিয়েছেন তিনি। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান সইতে না পেরে নিজের শরীরে নিজেই আগুন দিয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর মারা যান তিনি।

পুলিশ জানায়, দরিদ্র রিপনের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণীর কল্যাণ সমিতির এক নেতার পঞ্চদশী কন্যার সঙ্গে তার ভাব বিনিময় হয়। পরে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

শরীয়তপুরে তরুনীর আত্মহত্যার পর পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফন

0 comments
প্রেমিকের মায়ের মানসিক নির্যাতনে অভিমান করে রুবিনা আক্তার (১৫) আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফন করায় দাফনের ৩ দিন পর আজ রবিবার ময়না তদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর

হাসপতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক রাসেলের মা নাছিমা বেগম (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পালং থানা পুলিশ। রুবিনার ভাই মনির হোসেন সরদার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

নিহত রুবিনার মা ছকেনা বেগম ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের পশ্চিম চরসন্ধি গ্রামের প্রতিবেশী ফরিদ সরদারের ছেলে রাসেল সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃত হাফিজ সরদারের মেয়ে রুবিনা আক্তারের (১৫) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাসেল মাদারীপুরের শিবচর বাহাদুরপুর হাজী শরীয়তুল্লাহ দরবার শরীফে গেলে রুবিনা আক্তার রাসেলের চাচতো বোন হাবিবার কাছে রাসেলের মোবাইল নাম্বার চাইলে সে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। হাবিবা বিষয়টি রাসেলের মায়ের কাছে জানালে রাসেলের মা রুবিনা আক্তারকে বকাবকি করে। অপমান সইতে না পেরে রুবিনা গত শুক্রবার (১৮ ফেব্র“য়ারি) সকালে নিজ ঘড়ে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ময়না তদন্তের ভয়ে পরিবারের লোকজন ডায়রিয়া হয়ে মারা গেছে প্রচার করে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রুবিনাকে দাফন করেফেলে। রুবিনার ভাই মনির হোসেন সরদার বাদী হয়ে পরদিন শনিবার পালং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে প্রতিবেশী রাসেল সরদার, রাসেলের চাচা নিজাম সরদার, রাসেলের মা নাছিমা বেগম ও রাসেলের বাবা ফরিদ সরদারকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর ঘটনা তদন্তের জন্য আজ রবিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবি আবদুল্লাহর নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল সালামের উপস্থিতিতে আজ রবিবার বিকেলে লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলন শেষে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক রাসেলের মা নাসিমা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী মনির হোসেন সরদার বলেন, রাসেল আমার বোনকে সবসময় উত্ত্যক্ত করতো। রাসেলের পরিবারের মানসিক নির্যাতনে আমার বোনের জীবন দিতে হলো। আমি এর বিচার চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পালং থানার এসআই বুলবুল বলেন, প্রেমিক রুবিনাকে নির্যাতন করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করায় এবং প্রশাসনকে না জানিয়ে লাশ দাফন করায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করেছি।

পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে রুবিনার লাশ দাফন করা হয়েছে। পরে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে আমরা লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরীর জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন তালুকদার বলেন, প্রথমে শুনেছি রুবিনা ডায়রিয়া হয়ে মারা গেছে। পরে শুনেছি গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সূত্রঃ ইউ.কে.বিডি

সংসদ সদস্যের মেয়ে অপহরণ

0 comments
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্কুলছাত্রী টুম্পাকে অপহরণের পর হত্যার ৫ দিনের মধ্যে বখাটে হৃদয় এবার অপহরণ করেছে এক সংসদ সদস্যের মেয়েকে। গত শনিবার রাতে বখাটে হৃদয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের স্কুল পড়ুয়া জোবাইদা আক্তার তুশাকে (১৬) অপহরণ করে। এ ব্যাপারে তুশার পিতা বাদী হয়ে গতকাল সকালে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।
শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ৬/৪, সেগুনবাগিচার হাসিনূর কটেজের সামনে থেকে হৃদয় তার সহযোগীদের নিয়ে তুশাকে অপহরণ করে। ওই সময় অপহরণকারীরা জোর করে তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনায় সংসদ সদস্য নিজে বাদী হয়ে হৃদয় (২৪), মনির (৩০), জাকির (৫৫) ও হৃদয়ের মাকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেন ভবনের নিরাপত্তা কর্মীর বরাত দিয়ে জানায়, তুশা রাত ৯টার দিকে ফোনে কথা বলতে বলতে মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তুশা রাজধানীর খিলগাঁও হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তার পিতা আফজাল হোসেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই বাসা থেকে আয়শা চৌধুরী টুম্পা নামের এক কিশোরী তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় টুম্পার কথিত প্রেমিক সাইদুর ও এলাকার বখাটে নুরুল হক পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। টুম্পা হত্যা মামলায় এই হৃদয় জড়িত রয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অপহরণের মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার তদন্ত ও অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

সংবাদ:-নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শাহজাহান-মমতাজমহলের দাম্পত্য জীবন

47 comments
মোগল সম্রাট শাহজাহান সম্রাজ্ঞী মমতাজমহলের প্রতি নিখাদ অনুরাগ পোষণ করতেন। শাহজাহান ও মমতাজমহল পরস্পরের প্রতি নিবিড় ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেও তাদের বিবাহিত জীবন ছিল ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ। সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে রাজপুত্র শাহজাহান বিদ্রোহ করেছিলেন। ফলে তাকে নানা দুর্গম স্থানে ছুটতে হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে লড়তে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে পালাতে হয়েছে। আর সবক্ষেত্রেই মমতাজমহল তাকে ছায়ার মতো সঙ্গ দিয়েছেন, তাকে উদ্দীপ্ত রেখেছেন। নীরবে সব যাতনা সহ্য করেছেন। তবুও ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে একদিনের জন্য স্বামীকে ছেড়ে অন্য কোথায়ও থাকেননি। একসময় সবকিছুরই অবসান ঘটে। জাহাঙ্গীরের ইন্তেকালের পর শাহজাহান হন ভারতবর্ষের সম্রাট। কিন্তু রাজকীয় সুখ মমতাজমহলের ভাগ্যে ছিল না। শাহজাহানের সিংহাসনে আরোহণের মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রিয়তমার ইন্তেকালে শাহজাহান শোকে ভেঙে পড়েন। তিনি এতো শোকাভিভূত হয়েছিলেন যে, রাতারাতি তার (এ সময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৮ বছর) সব চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল। দু'বছর পর্যন্ত তিনি ভালো খাবার, পোশাক, সংগীত থেকে দূরে থেকেছেন, সব ধরনের আনন্দ বিলাসিতা বর্জন করেছিলেন। তাজমহল নির্মাণের কাজে হাত দেওয়ার পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকেন। বলা হয়ে থাকে, তাজমহলের নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল দুঃখের সময়। তাই তাজ হলো বেদনার এক স্মারক।

মমতাজমহল ইন্তেকাল করেন ১৬৩১ সালে। তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ সালে। আর শেষ হয়েছিল ১৬৪৮ সালের দিকে। ১৬৩২ সালের দিকেই মূল কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য অংশ তৈরি হয়ে যায় ১৬৪৩ সালের দিকে। তবে ১৬৪৮ সাল পর্যন্ত ডেকোরেশন চলতে থাকে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে শাহজাহান মাইল খানেক দূরে অবস্থিত শীষমহলের কাঁচঘেরা কক্ষে বসে সর্বক্ষণ তাকিয়ে থাকতেন তাজমহলের দিকে। শাহজাহান ১৬৫৮ সালে অন্তরীণ হন এবং ১৬৬৬ সালে ইন্তেকাল করেন।

গ্রন্থনা : তাহ্মীদুল ইসলাম

Sunday, February 20, 2011

হঠাৎ হার্ট এট্যাক হলে কি করবেন?

0 comments
সারাদিনের কর্মব্যস্ত কাজের শেষে বিকেলে যখন আপনি বাসায় ফিরছেন তখন হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন সাথে খুব ঘাম এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা । সেই তীব্র ব্যথা ক্রমাগত মুখের চোয়াল হয়ে আপনার বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ছে। আপনি খুব অস্থির অনুভব করছেন। যারা হার্ট এট্যাকের রোগী তাদের নিকট এই অভিজ্ঞতা খুব সাধারণ। হার্ট এট্যাক হলে হাসপাতালের নেবার পূর্ব পর্যন্ত যদি কিছু টিপস মেনে চলা যায় তাহলে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। তাই হার্ট এট্যাকের রোগীদের জন্য এবং যাদের হার্ট এট্যাকের মত এরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে তাদের জন্য কিছু করনীয় বিষয় উল্লেখ করছি।
হার্ট এট্যাক হলে ভয় পাবেননা। আমাদের হার্ট যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্তসঞ্ছালন করে তখনই হার্ট এট্যাক হয়। হার্ট এট্যাকের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি খুব দ্রুত জোরে এবং ঘন ঘন কাশি দিবেন যেন কাশির সাথে কফও বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেবার পূর্বে দীর্ঘশ্বাস নিন। এভাবে ঘন ঘন কাশি এবং দীর্ঘশ্বাস প্রতি দুই মিনিট পর পর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হার্ট কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্তসঞ্চালন করবে।
হার্ট এট্যাকের প্রত্যেক রোগীর জন্য এই টিপস জেনে নেওয়া আবশ্যক। কারণ হাসপাতালে নেবার পূর্বে এই টিপস অনেকখানি সাহায্য করবে রোগীকে। কারণ দীর্ঘশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বেশি হয়। আর ঘন ঘন এবং জোরে কাশি দেবার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয় এতে করে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ভাবে রক্তসঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়।
কেবল ত্রিশ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য হার্ট এট্যাকের ঝুঁকি নয়, বরং আজকাল জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হওয়াতে যেকারও হার্ট এট্যাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই সবারই এব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

লিখেছেন : মহাকাশ 

Saturday, February 19, 2011

পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ

0 comments
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ। দেশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ। যে সম্পদগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও হতে পারে অর্থনৈতিকভাবে একটি সমৃদ্ধিশালী উন্নয়নশীল দেশ। পাথরকুচি গাছের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত, যে গাছটির পাতা থেকে গাছ হয়। আরও অবিশ্বাস্য ঘটনা হলো গাছটির পাতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কামরুল আলম খান। তিনি কয়েক বছর আগে এ পাতা থেকে বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন। তবে সমপ্রতি প্রথমবারের মতো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার অবহেলিত একটি গ্রামের ৫৭টি পরিবারে পাথরকুচি পাতা থেকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। পুরো দেশে যেখানে বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং চলছে_ সেই দুঃসময়ে এই শুভ সংবাদ। বর্তমানে আলম অটোলাইট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তির সামগ্রীগুলো বাজারজাত করছে। পাথরকুচি পাতাকে ব্লান্ডার মেশিনে জুস বানিয়ে কাচের বা প্লাস্টিকের পাত্রে ঢেলে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এই বিদ্যুৎ দিয়ে এনার্জি বাল্ব, ফ্যান, টেলিভিশন ও পিকেএল রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করা যায়। সাধারণ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেখানে গ্রাহককে প্রতি ইউনিটে খরচ গুনতে হয় ৬ থেকে ১০ টাকা, সেখানে পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ মাত্র ১ টাকায় ব্যবহার করা যায়। খুব কম টাকায় এ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া যায়। মাত্র এক একর জমিতে উৎপাদিত পাথরকুচি পাতা থেকে বছরে ৬০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যাতে খরচ হবে মাত্র ১২ কোটি টাকা। নতুন এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।


-মাহবুবুর রশিদ

ধাতব গ্লাস বেশি গরম হয় কেন

0 comments
লোহার শিকের এক প্রান্ত উনুনের মধ্যে ঢোকালে হাতে ধরে থাকা অন্য প্রান্তটা যে খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে ওঠে তা টের পেতে দেরি হয় না। কিন্তু একটা কাচের দণ্ডের এক প্রান্ত হাতে ধরে অন্য প্রান্তকে আগুনে রেখে তাপ দিয়ে লাল করলেও হাতে বিশেষ গরম লাগে না, কেন এমন হয়?

এর কারণ, তাপকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সব জিনিসের সমান হয় না। কিছু জিনিস আছে যা গরম হলে সেই তাপকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্বচ্ছন্দে নিয়ে যেতে পারে, এদের বলে তাপ সুপরিবাহী। আর যেসব পদার্থ তাপ সহজে পরিবহন করতে পারে না তাদের বলা হয় তাপ অপরিবাহী, যেমন_ কাচ। অপরিবাহী কাচের গ্লাসে ঢেলে নেওয়া গরম দুধ কাচের ভেতর দিয়ে আমাদের হাতে খুব কম তাপ পাঠাতে পারে। তাই হাতে তেমন গরম লাগে না। কিন্তু কাঁসার ধাতব গ্লাস গরম দুধের তাপকে খুব সহজেই পরিবহন করে আমাদের হাতে পাঠিয়ে দেয়। তাই গ্লাস হাতে ধরে রাখা রীতিমতো কষ্টকর।

রকমারি ডেস্ক

মৎস্যকন্যা কাহিনী

0 comments
সাইরেন বা মহাসমুদ্রের মৎস্যকন্যার কথা আমরা জানি। যে তার মধুর কণ্ঠে নাবিকদের গান শুনিয়ে বিমোহিত করে জলের অতল তলে ডেকে নিয়ে যায়। যে নাবিক গান শুনে বিমোহিত হয়ে তার আকর্ষণে ছুটে যায়, সে আর কখনো ফিরে আসে না। পৃথিবীর অন্য দেশের মতো আমাদের দেশের রূপকথায়ও মৎস্যকন্যার গল্প বেশ প্রচলিত। তবে অর্ধেক মাছ আর অর্ধেক মানবী আকৃতির মৎস্যকুমারীর নাম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম।
স্কটিশ, আইসল্যান্ডিক এবং আইরিশ লোককাহিনীর মৎস্যকন্যার নাম সেলকাই। সেলকাইয়ের গল্পটিও কিছুটা ব্যতিক্রমী। কিন্তু গল্পের কাহিনীবিন্যাস প্রায় মৎস্যকন্যার মতোই। প্রচলিত এ লোককথা নিয়ে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র। 'দ্য সিক্রেট অব রোয়ান ইনিশ'[ (ঞযব ঝবপৎবঃ ড়ভ জড়ধহ ওহরংয) তেমনই একটি চলচ্চিত্র, যার গল্প এ রকম_ সেলকাই নামে এক মেয়ে একদিন তার চামড়া খুলে রেখে সূর্যস্নান করছিল। এক জেলে সেটি চুরি করে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং লুকিয়ে রাখে। ফলে মেয়ে সেলকাই ওই জেলের বাড়িতে চলে আসে এবং জেলের বউ হয়ে যায়। প্রায় এক বছর পর তার ছেলেমেয়েরা লুকিয়ে রাখা চামড়াটি খুঁজে পায় এবং মাকে জিজ্ঞাসা করে, এটি কী? জেলের বউ হয়ে থাকা সেলকাই তার চামড়া ফিরে পেয়ে খুশি হয় এবং আগের রূপে সে সমুদ্রে ফিরে যায়। কিন্তু সেলকাইয়ের লোককাহিনী একটু অন্যরকম। লোককাহিনীর বর্ণনা অনুযায়ী সেলকাইরা আসলে বিভিন্ন ধরনের মারম্যান অথবা সামুদ্রিক আত্মা, যারা জন্মের পর সমুদ্রে চলে যায়। এরা নিজের চামড়া বদল করে মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে। সাধারণভাবে সেলকাইয়ের গল্প রোমান্টিক ট্র্যাজেডিধর্মী। লোকবিশ্বাস আছে যে, সেলকাইরা মানুষের বেশে মানুষের সঙ্গে প্রেম করে আবার বিয়েও করে। পুরুষ সেলকাই মানুষের আকৃতিতে খুব সুদর্শন হয়। তারা মেয়েদের আকর্ষণ করার প্রচণ্ড শক্তি অর্জন করে। তবে তারা সেসব মানুষকে খোঁজে, যারা সংসারজীবনে অসুখী। অসুখী নারীরা সবসময় সেলকাই স্বামীর অপেক্ষা করে। যদি কোনো নারী পুরুষ সেলকাইয়ের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাহলে তাকে সমুদ্রের তীরে গিয়ে সাত ফোঁটা চোখের জল সমুদ্রে ফেলতে হয়। মেয়ে সেলকাই খুব সুন্দরী আর ভালো স্ত্রী হয়। ওদের সত্যিকার বাড়ি সমুদ্রে। যেসব সেলকাই ডাঙায় এসে মানুষের সঙ্গে সংসার করে, তারা মাঝেমধ্যে এক দৃষ্টিতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোনো স্ত্রী সেলকাই যদি কখনো মানুষের সংসার ছেড়ে সমুদ্রে চলে যায়, তবে সে আর কখনো তার স্বামীকে দেখতে আসে না। আর দেখা হলেও এড়িয়ে চলে। কিন্তু সে তার সন্তানদের প্রায়ই দেখতে আসে এবং হাত নেড়ে নেড়ে তাদের সঙ্গে খেলা করে। এমন অনেক গল্প প্রচলিত আছে আইরিশ, আইসল্যান্ডিক এবং স্কটিশ পুরাণে।

-আমিন রহমান নবাব

হলওয়েল

0 comments
সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করলে কোম্পানির গভর্নর ড্রেক, সৈন্যাধ্যক্ষ মিনসিন সবাই নৌকায় চড়ে পালিয়ে গেল। তখন অন্যতম কাউন্সিলর ডা. হলওয়েল হলেন গভর্নর ও সৈন্যাধ্যক্ষ। কিন্তু সিরাজের আক্রমণের মুখে টিকতে পারলেন না। হলওয়েলকে বন্দী করে নবাব নিয়ে গেলেন মুর্শিদাবাদ।


হলওয়েল বারবারই মিথ্যা কথা বলতে এবং অতিরঞ্জনে ওস্তাদ। ১৭৫২ সালে জমিদারি সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিলের সময় হলওয়েল লিখেছিলেন কলকাতায় চার লাখ লোকের বাস। আসলে তখন লোকসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখ। বেশি করে বলা হলওয়েলের মজ্জাগত।

একুশ বছর বয়সে হলওয়েল লন্ডনের গাইস হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি শিখে বেরিয়ে কোম্পানির চাকরি নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন। পাটনা ও ঢাকার কুঠিতে চাকরি করে ১৭৩২ সালে এলেন কলকাতায় সার্জন হয়ে। তখন মাইনে মাত্র ৫০ টাকা। হলওয়েল অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের লোভে ডাক্তারি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে ঢুকলেন। ১৭৫২-তে হলেন কলকাতার জমিদার। উচ্চাকাক্সক্ষী এবং নিরঙ্কুশ মিথ্যাবাদী হলওয়েল সুযোগ বুঝে ফোর্টের গভর্নরও হয়ে গেলেন যুদ্ধের সময়।

অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীটি সিরাজ চরিত্রকে কলঙ্কিত করার জন্য হলওয়েল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে রচনা করেছিলেন। গল্পটা হলো দুর্গ জয় করে নবাব আদেশ দিলেন লম্বায় ১৮ ফুট, চওড়ায় ১৫ ফুট একঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দী করে রাখতে হবে। সে ঘর আবার চারদিকে বন্ধ। সকালে দেখা গেল ঘরের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে ১২৩ জন মারা গেছে। ওই কাহিনী সম্পূর্ণ মনগড়া। কেননা তখন দুর্গে ১৪৬ জন ইংরেজ ছিলই না। আর ওই আয়তনের ক্ষুদ্র ঘরে কোনো রকমে ঠেসে ঠুসেও স্বাস্থ্যবান ১৪৬ জন মানুষকে ঢোকানো সম্ভব নয়। আয়তনের আর অংকের হিসাব করতে ভুলে গিয়েছিলেন মিথ্যাবাদী হলওয়েল।

অথচ নিজের কীর্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য হলওয়েল যখন ক্লাইভের পরে গভর্নর হলেন তখন নির্লজ্জের মতো কলকাতায় ব্ল্যাক হোল মনুমেন্ট করে দিলেন। পরে ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর হয়ে সে মনুমেন্ট সরিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন বড়লাট হয়ে আবার হলওয়েল মনুমেন্ট করেছিলেন। মিথ্যাকে চালু রাখতে ইংরেজের কোনো লজ্জা বা দ্বিধা নেই। ১৯৩৯ সালে নেতাজী সুভাষ বোসের নেতৃত্বে সেই মনুমেন্টটি ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে চূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফর এ আন্দোলনের চাক্ষুস সাক্ষী।

গ্রন্থনা : তাহ্মীদুল ইসলাম