Monday, March 14, 2011

মুখের ভেতর ক্ষত সমস্যা

0 comments
অনেক সময় বাচ্চাদের মুখে- বিশেষ করে জিভের উপরিভাগে সাদাটে দুধের সরের মতো স্তর পড়ে। সাধারণত ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের কারনেই এগুলো হয়। মুখের ফাঙ্গাসজনিত এই সমস্যাকে বলে মোনিলিয়াসিস বা ক্যানডিডিয়াসিস।
এ বিষয়ে লিখেছেন_ডা. সজল আশফাক।

ওরাল থ্রাশ : মুখের মধ্যকার ঝিলি্ল এবং জিহ্বার উপরিভাগে সাদাটে আবরণের মতো দেখা যায় এই থ্রাশ। এটি চেঁছে পরিষ্কার করার পর লালাভ ঝিলি্ল দেখা যায়। এটি সাধারণত নবজাতক এবং শিশুদের বেশি দেখা যায়। দুধ খাওয়ার পর নবজাতক কিংবা ছোট্ট শিশুর মুখ পরিষ্কার না করলে এ ধরনের ছত্রাক সেখানে বেড়ে ওঠতে থাকে। বয়স্করা সাধারণত ক্যান্সার, ডায়াবেটিস; দীর্ঘ মেয়াদে বড় পরিসরের এন্টিবায়োটিক, ক্যান্সারের ওষুধ, স্টেরয়েড ও বিকিরণ চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ ছত্রাক মুখে বাসা বাঁধতে পারে। সাধারণত এন্টি ফাঙ্গাল মলম/ড্রপ ব্যবহারে এটি সেরে যায়। সেই সঙ্গে দুধ খাওয়ার পরপরই নবজাতকের মুখের ভেতরটা তর্জুনিতে নরম কাপড় পেঁচিয়ে তা দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

ক্রনিক হাইপার ট্রফিক ক্যানডিডিয়াসিস : এ সমস্যাকে ক্যানডিডাল লিউকোপ্লাকিয়া বলা হয়ে থাকে। এ ছত্রাক এতটাই ঝিলি্লতে প্রোথিত থাকে যে চেঁছে দূর করা যায় না। সাধারণত মুখের দুই কোণার পেছনে ভেতরের দিকে এটি দেখা দেয়। সাধারণত এন্টি ফাঙ্গাল মলমে এটি সারে না। অপারেশন করে কেটে ফেলে দিতে হয়।

অ্যাপথাস আলসার : খুবই পরিচিত একটি মুখের সমস্যা। 'অ্যাপথাস' কথার অর্থ হচ্ছে আলসার। পরিসংখ্যানে বলা হয়ে থাকে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। অ্যাপথাস আলসারে আক্রান্তদের ৩০-৪০ শতাংশের মধ্যে পরিবারের অন্য সদস্যদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ গহরের ঝিলি্লতে ক্ষত সৃষ্টিকারী রোগ হিসাবেই অ্যাপথাস আলসারকে সবাই চেনে। এ রোগে দেখা যায় মুখ গহ্বরের মধ্যে চিবুক, ঠোঁট, জিহবা, জিহবার নিচে, তালুর ঝিলি্লতে গোলাকৃতির ক্ষত বা আলসার এর সৃষ্টি হয়। সাধারণত অল্প এবং তীব্র এ ধরনের প্রকারভেদ রয়েছে অ্যাপথাস আলসারের মধ্যে। মুখের মধ্যকার এ আলসারের সংখ্যা এক থেকে একাধিক হতে পারে। মুখের যে কোনো স্থানে একই সঙ্গে দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই আলসার আকারে ২-১০ মিমি হয়ে থাকে। আলসারের মাঝখানে সাদাটে মরা ঝিলি্ল, চারপাশে থাকে লালাভ গোলাকার চক্র। কোনো ক্ষেত্রে এই আলসার বা ক্ষত বড় হয়ে ২-৪ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত এ আলসার ২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। সরাসরি অ্যাপথাস আলসারের কারণ আজও অজানা। তবে এটি অটোইমিউন রোগ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতার বিদ্রোহের কারণে সৃষ্ট সমস্যা, পুষ্টি স্বল্পতা (ভিটামিন বি-১২, ফলিক এসিড এবং আয়রন), ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন, খাবার অ্যালার্জি, হরমোনের তারতম্য, মানসিক চাপ ইত্যাদি এই আলসার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। এ কারণে পরীক্ষার আগে কিংবা কোনো বিশেষ মানসিক বিপর্যস্ততায় এ ধরনের আলসার হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ আলসারে মুখ গহ্বরে তীব্র ব্যথা হলেও জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, গলার দু'পাশের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো কিছু হয় না। যা সাধারণত ভাইরাসজনিত আলসার দেখা যায়। এ রোগ সাধারণত কোনো জটিলতায় রূপ নেয় না। তীব্র কষ্ট দিতে পারে। তবে চিকিৎসায় দ্রুত সেরে যায় কিন্তু এই সেরে যাওয়া পুনর্বার না হওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত করে না। এটি বারবার হয় এমন একটি রোগ।

বেচেট'স সিনড্রোম : এ রোগের প্রকাশ ঘটে আলসারের মাধ্যমে। তবে সচরাচর দেখা যায় না। শরীরের কয়েকটি অঞ্চলের আলসার নিয়ে সৃষ্ট এই সিনড্রোম। এ রোগে সাধারণত মুখ গহ্বরের আলসারের সঙ্গে যৌনাঙ্গের আলসার এবং চোখের মধ্যে এক ধরনের প্রদাহ থাকে। রোগের এই বিশেষত্বের জন্যই একে 'সিনড্রোম' বলে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে লোপ পাওয়ার জন্যই এ রোগের আবির্ভাব হয়। ফলে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক,

হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফোন: ০১৭১৬-৩০৬৬৩১

0 comments:

Post a Comment