Sunday, March 31, 2013

অ্যাডাম পিক, শ্রীলঙ্কা

0 comments
লাখ লাখ বছর ধরে যে চূড়াটি মানুষের কাছে রহস্যময়তার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে তার নাম অ্যাডাম পিক্ বা আদম চূড়া। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাডা নামক প্রদেশে এই চূড়াটি অবস্থিত ।
খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম_ এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র এই চূড়াটি ।এই চূড়াতেই মানুষের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে সরাসরি পতিত হয়েছিলেন।সেই থেকে শুরু আজ অবধি শ্রীলংকার,‘অ্যাডাম পিক’ তথা ‘আদমচূড়া’ মানুষের কাছে এক বিস্ময়! গভীর রহস্যময়!

এই চূড়ায় একটি পায়ের ছাপ আছে।বৌদ্ধ দের ধারনা পায়ের ছাপ টি বুদ্ধের। বৌদ্ধদের কাছে এই চূড়াটি তাদের অস্তিত্তের প্রতীক। হিন্দুদের ধারনা ছাপ টি শিবের। আর মুসলিম এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী রা একে আদম (আঃ) এর পায়ের ছাপ বলে মনে করেন। আর সেই কারনেই এর নাম অ্যাডাম পিক।চূড়াটিতে যে পায়ের ছাপ আছে তার দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি।

লাখ লাখ বছর ধরে চলে আসা যে রহস্য ভেদ আজও মানুষ জানতে পারেনি তা হলো_ চূড়ার যে স্থানে আদম (আ.) এর পায়ের চিহ্ন সেই স্থানে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যের আলো, আর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মেঘের ঘনঘটা বা বৃষ্টি পড়ে না। এমন আরও অনেক রহস্য আছে এই চূড়াটিকে কেন্দ্র করে।সে রহস্যে মানুষ আজও বিস্মিত!
চূড়াটির চারদিকে সবুজের বিপুল সমারোহ, মাঝেমধ্যে পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা। পাহাড়ি চূড়ার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছো্ট নদী ও পাহাড়ি ঝরনা।
যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক পরিভ্রমণ করেছে চূড়াটিতে।
তবে এই চূড়াতে যাওয়া সহজ নয়। প্রথমে নৌকায়, এরপর উঁচু নিচু পাহাড় বেয়ে উঠা।
সেখান থেকে অনেক কষ্টের মাধ্যমে চূড়ায় উঠতে হয়। তবে এরই মধ্যে ঘটতে পারে নানা ধরনের বিপত্তি। সাপ, বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে অনেকের। অতি চমৎকার এই চূড়াটি বছরের পর বছর অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু হ্রাস পায়নি। এ কারণে চূড়াটি বিশ্বের মানুষের কাছে পবিত্র বলে পরিচিত।



More Image in Wiki Media

Tuesday, March 26, 2013

স্ক্রাবিং

2 comments
নিয়মিত ত্বকের যত্নের একটা অংশ হলো ঘষা-মাজা, অর্থাৎ স্ক্রাবিং। ত্বক পরিষ্কারের অন্যতম পদ্ধতি হলো স্ক্রাবিং করা। এর মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যায়। উজ্জ্বলতা বেড়ে যায় ত্বকের। তবে ত্বকের ধরন বুঝে স্ক্রাবিং করতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সপ্তাহে অন্তত এক দিন মুখসহ সারা শরীর স্ক্রাবিং করা উচিত। এতে একদিকে ত্বক পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে শরীর-মন ঝরঝরে থাকে। রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ভালো কোনো রূপচর্চা কেন্দ্রে গিয়েও স্ক্রাবিং করাতে পারেন। তখন ১৫ দিনে একবার করা যেতে পারে। কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান বলেন, তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রবণতা থাকে। তাই ব্রণ থাকলে স্ক্রাবিং করা যাবে না। এতে ব্রণের প্রকটতা বেড়ে যাবে। নাক-কপালে ব্রণ না থাকলে শুধু সেই অংশটুকু স্ক্রাবিং করলেই হবে। তাতেও কাজ হবে।
বাজারে ত্বকের ধরন অনুযায়ী নানা ধরনের স্ক্রাব পাওয়া যায়। কোনোটা শুধু মুখের জন্য, কোনোটা হাত-পা আবার কিছু আছে পুরো শরীর স্ক্রাবিংয়ের জন্য। তবে ভালো মানের স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের পর ত্বকে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
হাতের কাছে যেসব উপাদান পাওয়া যায় সেসব দিয়েও স্ক্রাবিং করা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন আলস্য দূর করে একটুখানি ইচ্ছা-আগ্রহ।
হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ঘরে বসে স্ক্রাব করার বিভিন্ন প্যাক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য
কাঁচা হলুদের পেস্টের সঙ্গে চালের গুঁড়া, দুধ, মধু ও জলপাই তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া বেসনের সঙ্গে গ্লিসারিন, গোলাপজল, জলপাই তেল মিশিয়েও প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ডিমের কুসুম (হলুদ অংশ), ১ টেবিল চামচ বেসন ও দুধের প্যাক বেশ কার্যকর।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
বেসন, শসার রস ও গাজরের রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকে নাকে ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডসের প্রবণতা দেখা যায়। এসব দূর করতে ডিমের সাদা অংশ নাকে ম্যাসাজ করে এর ওপর টিস্যু চেপে ২০ মিনিট রাখতে হবে। এরপর এক টানে তুলে ফেলতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য
সয়াবিন পাউডার, দুধের সর, কাঁচা হলুদ, গাজরের রস ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি শুষ্ক ত্বকের মৃত কোষ যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।

মিশ্র ত্বকের জন্য
মিশ্র ত্বকে শুধু টি-জোন অর্থাৎ নাক-কপালই তৈলাক্ত হয়। ডিমের সাদা অংশ, মধু, দুই-তিন ফোঁটা লেবুর রস, দুধের সর এবং ওটমিল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে হবে।

সংবেদনশীল ত্বকের জন্য
সয়াবিন গুঁড়া, দুধ ও মধু এই ধরনের ত্বকের জন্য ভালো।

এসব প্যাক পুরো শরীরেও ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, স্ক্রাব ব্যবহারের পর আলতোভাবে ত্বক মালিশ করতে হবে। ত্বক পরিষ্কারের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ব্যায়াম করুন বাড়িতেই

0 comments

সুইস বল প্রোন লেগ

শরীরের ভারসাম্য রেখে সুইস বলের ওপর এমনভাবে উপুড় হতে হবে, যেন দুই হাত এবং দুই পা মাটির স্পর্শে থাকে। এবার দুই পা মাটি থেকে তুলে সোজা করে শরীরের ভর দুই হাতের ওপর রাখতে হবে। এভাবে তিন সেকেন্ড থেকে শুরুর অবস্থায় ফিরতে হবে।



সিঙ্গল লেগ ডেডলিফটস

বাঁ হাতে ডামবেল নিয়ে বাঁ পায়ে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকতে হবে, যতক্ষণ না শরীর মেঝের সমান্তরালে আসে। শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে ডান পা পেছনের দিকে সোজা করে রাখতে হবে।

কার্ল টু প্রেস কম্বো

এক হাতে ডামবেল নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার ধীরে ধীরে ডামবেল ধরা হাত বাইসেপ কার্ল করে ওপরে ওঠাতে হবে, যেন ডামবেলটি কাঁধের কাছে আসে। এরপর হাত সোজা ওপরে ওঠাতে হবে। এই অনুশীলনের সময় তাড়াহুড়া করে ডামবেলের ওজন বাড়ানো যাবে না। বরং যতটা ওজন ওপরে ওঠানো যায় তার চেয়ে কম ওজন নিয়ে অনুশীলন করা ভালো।

ফুল রেঞ্জ স্কোয়াট

এই ব্যায়ামটি করার জন্য একটি চেয়ার বা চেয়ারে সমান উচ্চতার একটি বাক্স হলে ভালো হয়। দুই পায়ের ওপর শরীরের পুরো ভর রেখে চেয়ারে বসে আবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে হবে। যখনই ওঠা-বসা অনুশীলনটা একটু সহজ মনে হবে, তখন চেয়ার সরিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ কোনো কিছুর সহযোগিতা ছাড়াই অনুশীলন করতে হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

0 comments
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম খাত। শুধু প্রশান্ত মহাসাগরই নয়, এটা বিশ্বের গভীরতম সমুদ্রখাত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার ৫৫০ কি.মি এবং প্রস্থ প্রায় ৬৯ কি.মি। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১১ কি.মি। খাতটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত। মারিয়ানা খাত একটি বৃত্তচাপের আকারে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বিস্তৃত। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ গঠিত হয়েছে অধগমন নামক এক ভৌগোলিক প্রক্রিয়ায়। এ খাতে পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিক চাপের তুলনায় প্রায় ১০০০ গুণ বেশি। এ কারণেই এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির ঘনত্ব প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। সাধারণত সমুদ্রতলের গভীরে মৃত প্রাণীর কঙ্কাল, খোলস জমা পড়তে থাকে। আর এ কারণেই মারিয়ানার পানির রং খানিকটা হলদে। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের দক্ষিণ প্রান্তসীমায় গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কি.মি দক্ষিণ-পশ্চিমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গভীরতম বিন্দুটি অবস্থিত। ১৯৪৮ সালে এইচএমএস চ্যালেঞ্জার-২-এর নাবিকেরা এ বিন্দুটি আবিষ্কার করেন। এ জাহাজের নামানুসারেই এই বিন্দুটির নামকরণ করা হয় চ্যালেঞ্জার ডিপ। এ খাতটিতেই দেওয়া হয় ইতিহাসের সবচেয়ে গভীরতম ডুব। ১৯৬০ সালের জানুয়ারি মাসে সুইস মহাসাগর প্রকৌশলী জ্যাক পিকার ও নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ডোনাল্ড ওয়ালশ চ্যালেঞ্জার ডিপে অবতরণ করেন। জ্যাক এবং ডোনাল্ড ১০ হাজার ৯১৫ মিটার গভীরতায় যেতে সক্ষম হন। তবে এ ডিপের গভীরতা প্রায় ১১ হাজার ৩৩ মিটার। ২০১০ সালে মারিয়ানায় অনুসন্ধানী যন্ত্র পাঠিয়ে সাগর তলের পলি সংগ্রহ করা হয়। সেই পলি বিশ্লেষণ করে অক্সিজেনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চে বিপুলসংখ্যক অণুজীবের বিচরণ রয়েছে। এসব আদি ও এককোষী প্রাণী অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী অণুজীবের তুলনায় বিস্ময়করভাবে বেশি সক্রিয়। ব্যারোফিলিক জাতীয় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিভিন্ন খানিজসমৃদ্ধ গরম পানি। যে গরম পানি বের হয় চ্যালেঞ্জার ডিপের ছিদ্রপথ দিয়ে। এসব ব্যাকটেরিয়াকে আবার খায় অতি ক্ষুদ্র কিছু ছোট ছোট জীব। আবার এ ছোট ছোট জীবকে খায় মাছেরা। সম্প্রতি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ কিলোমিটার গভীরের এ গিরিখাতে গবেষণা চালান বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল। সেখানে তারা আনুবিক্ষণীক প্রানীদের উচ্চমাত্রার চলাফেরা লক্ষ্য করেছেন। তারা বলছেন, এই প্রানীরা প্রায় শুন্য ডিগ্রি তাপমাত্রা, মারাত্মক চাপ কিংবা সম্পূর্ণ অন্ধকারেও বেঁচে থাকতে পারে।

Monday, March 25, 2013

র‌্যাব

0 comments
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তারিখে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের একমাত্র এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশ করে।


বর্তমানে র‌্যাবের ১২টি ব্যাটালিয়ন ও গোয়েন্দা শাখা কাজ করছে। নতুন করে আরও ২টি ব্যাটালিয়ন গঠন প্রক্রিয়াধীন।


র‌্যাব মনোগ্রাম এর বিভিন্ন প্রতীকের তাৎপর্য

১। জাতীয় ফুল (শাপলা) র‌্যাবের মনোগ্রামের শীর্ষভাগে অবস্থিত জাতীয় ফুল শাপলা। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক।
২। মনোগ্রামের সবুজ রংয়ের জমিনে লাল সূর্য। অনন্ত সবুজের দেশ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সাথে মিল রেখে র‌্যাবের মনোগ্রামের সবুজ ও লাল রংয়ের জমিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এলিট ফোর্স র‌্যাব এর প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকার গৌরব সমুন্নত রাখার ‍বজ্র কঠিন প্রতিজ্ঞা।
৩। জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মনোগ্রামের কেন্দ্রে অবস্থিত স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য শহীদের আত্মত্যাগের প্রতীক। জাতীয় স্মৃতিসৌধ শহীদের লালিত স্বপ্নের সুখী বাংলাদেশ গড়ার অংগীকার র‌্যাব সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেয়।
৪। ধানের শীষ । র‌্যাবের মনোগ্রামের স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির দুইপার্শ্বের ধানের শীষ কৃষি প্রধান বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি এবং সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক।
৫। অগ্রগতির চাকা। র‌্যাবের মনোগ্রামের স্মৃতি উৎকীর্ণ স্মৃতিসৌধ এর নিচে অবস্থিত ধাতব চাকা সময়ের সাথে দ্রুত উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতীক । যে কোন মূল্যে সন্ত্রাস নির্মূল করে হৃদয়ের দেশ বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির চাকা অব্যাহত রাখতে র‌্যাব প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
৬। র‌্যাবের মূলমন্ত্র। মনোগ্রামের সর্বনিম্নে উৎকীর্ণ বাংলাদেশ আমার অহংকার র‌্যাবের মূলমন্ত্র। এ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য সন্ত্রাসমুক্ত সুখী এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য সর্বদা বজ্র কঠিন সংকল্পবদ্ধ।



সূত্র: র‌্যাব'র ওয়েব সাইট

বিশ্ব চড়ুই দিবস

0 comments
গত ২০ মার্চ অনেকটা নীরবেই পালিত হয়ে গেল বিশ্ব চড়ুই দিবস বা World Sparrow Day। সারা পৃথিবী জুড়ে সব সময় মানুষের পাশে এর সহ অবস্থান ছিল সব সময়। কিন্তু আশংঙ্খাজনকভাবে কয়েক দশক জুড়ে এর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তাই কিছু পাখি প্রেমিক এই দিনটি পালনে মোনযোগী হয়। কিন্তু লোকবল আর প্রচারণার সীমাবদ্ধতার কারণে তা তেমন সচেতন প্রভাব ফেলতে পারে নাই।

এক সময় ঘরের কোনে, উঠান, বারান্দায় এদের উপস্থিতি ছিল সরব। সারাক্ষন কিচির মিচির করে বাড়ী মাতিয়ে রাখতো। কিন্তু এই আধুনিক শহূরে এলাকায় এরকম বাড়ী কোথায় বলুন? যাও বা ঘরের ভেন্টিলেটারে বাসা বেধে থাকতো এখন তাও থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন এর পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে_
তার একটি বাধা হল মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ারগুলো। ওগুলো যেখান দিয়ে তরঙ্গ প্রবাহিত করে সেই জায়গাগুলোই চড়ুইদের উড়ার জন্য প্রকৃত উচ্চতা। ফলে তারা বেশীর ভাগ সময়ই সাবলীলায় উড়তে পারে না, পথ হারায়।
আবার ইদানিং জলাধারগুলো ভরাট করে চলে কল-কারখানা ও বাড়ী নির্মান। ফলে তেষ্টা মেটানোর জলটুকুও তারা পাচ্ছে না। ফসলের জমিও বিলিন হয়ে যাচ্ছে। পাচ্ছে না খাদ্য। এ রকম আরো নানা কারনে মানুষের চির প্রতিবেশী এই পাখিটি চলে যাচ্ছে দূরে। হয়ত কোনদিন হারিয়েও যাবে এরা।
তবে আমরা চাইলেই এদেরকে আমাদের মাঝে রেখে দিতে পারি। এজন্য বেশী কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিন বেঁচে যাওয়া কিছু ভাত বারান্দায় রেখে দিই আর একটা বাসনে কিছু পানি রেখে দিই যেন গোসল আর তৃষ্ণাটুকু মেটাতে পারে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এ প্রণীকুলকে আমাদের প্রয়োজনেই যে বাচিয়েঁ রাখতে হবে।

Tuesday, March 19, 2013

আয়না না গোপন ক্যামেরা

0 comments
শপিংমলের ড্রেসিং/ -ট্রায়াল রুমে সতর্ক থাকবেন সেখানে যে আয়না থাকে সেটা আসল নাও হতে পারে, এটিও গোপন ক্যামেরার মতই মারাত্মক !

প্রযুক্তির অপব্যবহারে আসল আয়নার মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে নকল আয়না, যাকে বলা হয় দ্বিমুখী আয়না । এই আয়নায় আপনি আপনার চেহারা দেখতে পারবেন, কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারবেন না যে অন্যপাশ হতে কেউ আপনাকে দেখছে! অথবা আয়নার অন্য পাশে লাগানো আছে অত্যাধুনিক কোন ক্যামেরা ।

আপনার আঙ্গুল আয়নার উপর রাখুন।যদি আপনার আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্ব আঙ্গুলের মাথার সাথে না লাগে (মাঝে যদি ফাঁকা থাকে) তাহলে আয়না আসল। আর যদি আঙ্গুলের মাথা প্রতিবিম্বের মাথার সাথে লেগে যায়, তার মানে আয়না নকল! এটা আসল আয়না না, একটা দ্বিমুখী আয়না ! যার অন্যপাশে থেকে আপনাকে দেখা যাবে, কিন্তু আপনি তাকে দেখতে পাবেন না। মানে অন্যপাশে থেকে কেউ আপনাকে দেখছে বা ভিডিও করছে! কারন আসল আয়নার সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার পিছনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুল ও প্রতিবিম্বের মাঝে ফাঁকা থাকবে আয়নার পুরুত্বের জন্য।আর নকল আয়নার (দ্বিমুখী) সিলভার প্রলেপ থাকে আয়নার সামনে, যার জন্য আপনার আঙ্গুলের ছাপ আপনার আঙ্গুলের প্রতিবিম্বের সাথে লেগে যাবে কারন মাঝে কোনো বাধা নেই।

Monday, March 18, 2013

আভা

0 comments

আভা হচ্ছে পৃথিবীতে এখনো টিকে থাকা যাযাবর শিকারি উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি, যারা তাদের জীবনধারণের জন্য জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল৷ আভা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্নপ্রায় উপজাতি গোষ্ঠী৷ খাদ্য সংগ্রহের তারা ঘুরে বেরায় জঙ্গল৷ বাদাম এবং বিশেষ ধরনের রসালো ফল বা জঙ্গলের কোথায় সবচেয়ে ভালো মধু পাওয়া যায় কিংবা কোন গাছটিতে কবে ফল ধরবে অথবা কোন প্রাণীটি শিকারের উপযোগী হয়েছে - তা আভাদের চেয়ে ভালো কেউ জানেনা৷ তারা প্রকৃতিক সম্পদ বিশেষ হ্রাস না করেই বেঁচে থাকে৷ কিন্তু ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আভাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ছে৷

আভারা যেসব জঙ্গলে থাকে সেগুলো অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী, খামার মালিক আর বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে৷ এই ছবিতে, যে জায়গায় গাছ কাটা হয়েছে, সেখান থেকে একটি আভা বসতির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার৷ আভারা আমাজনের যে জঙ্গলকে নিজেদের বাড়ি মনে করে, তা খুব দ্রুতই ধ্বংস হচ্ছে৷

নিজেদের ভূমি রক্ষার লড়াই শুধু আভারাই করছে না৷ ব্রাজিলের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মাটো গ্রোসো প্রদেশে অবস্থানরত এনাভেনে নায়ি গোষ্ঠী জুরুয়েনা নদীর তীর ধরে বসবাস করে৷ তারা মাছ ধরায় বিশেষ পারদর্শী এবং টিকে থাকতে তাদের বিশুদ্ধ পানি এবং মাছের পর্যাপ্ত মজুদ প্রয়োজন৷

স্বাস্থ্যকর বীট

0 comments
শুধুমাত্র মিষ্টি স্বাদ আর দেখতে আকর্ষণীয় বলেই বীট অনেকের প্রিয় একটি খাবার। আর যারা এটি খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে আরো সুসংবাদ।

আপনি জেনে অবাক হবেন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা আর ক্যান্সার প্রতিরোধে বীটের রয়েছে অনেক ভূমিকা।

অন্যান্য সবজির তুলনায় এতে রয়েছে ২০ ভাগ বেশি নাইট্রেট। অনেকেই ধারণা করে থাকেন অতিরিক্ত নাইট্রেট ক্যান্সারের প্রবণতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে বীটে থাকা নাইট্রেট রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

লন্ডনের কুইনস মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২৫০ মিলি বীটের জুস পান করলে তা আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে দীর্ঘ সময়।

অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিয়মিত বীটের জুস পান করে তবে তার হৃদরোগের ঝুঁকি ১০ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও যথেষ্ট কার্যকর এই বীট।

তবে আর দেরি না করে, নিজেদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় নিশ্চিন্তে যোগ করে নিন স্বাস্থ্যকর বীট।

নেয়া হয়েছে_পরিবর্তন ডট কম_থেকে

আর হবে না জ্বর

0 comments
ঋতু পরিবর্তনে হোক কিংবা সর্দি-কাশিতেই জ্বর হয়না এমন লোকের অভাব নেই। সময়ে সময়ে জ্বরে ভোগার কাহিনী সবার-ই আছে। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, জ্বরকে জয় করতে যাচ্ছে বিশ্ব। জ্বরের হাত থেকে মানুষকে রক্ষার নতুন একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের গবেষকরা।

দৈনিক হেরাল্ড সানের এক রিপোর্টে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন ও মোনাশ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করেন। তারা পর্যবেক্ষণ করেন, ফ্লু ভাইরাস নিজের ভাইরাল প্রোটিনকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ বিস্তার ঘটিয়ে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে গ্রাস করে ফেলে।

গবেষকরা বলেন, এই শনাক্তকরণের মাধ্যমে ফ্লুর সর্বজনীন ভ্যাকসিন তৈরির একটি উপায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই ভাইরাল প্রোটিনকে প্রতিরোধ করার উপায় বের করতে পারলে ঋতুভিত্তিক ও মহামারী উভয় ধরনের ফ্লুই প্রতিরোধ করা যাবে। গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের অধ্যাপক পিটার দোহার্টি বলেন, এ ধরনের ভ্যাকসিন ফ্লুর ভাইরাল প্রোটিন ধ্বংস করে টি সেলের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে যে কোনো ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু প্রতিরোধের ভ্যাকসিনও তৈরি করা যাবে।

উৎসঃ পরিবর্তন ডট কম

Friday, March 15, 2013

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস

0 comments
১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। আন্তর্জাতিক ভোক্তা আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ভোক্তা আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার প্রয়াসে প্রতিবছর এ দিবসটি বিশ্বব্যপি উদ্যাপিত হয়ে আসছে।

১৯৬০ সালে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী হেগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব কনজিউমার্স ইউনিয়ন। যার বর্তমান নাম হচ্ছে কনজিউমারস ইন্টারন্যাশনাল।

১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি প্রথমবারের মতো ভোক্তা অধিকারকে সংজ্ঞায়িত করেন এবং ভোক্তা আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন।

বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও ভোক্তাদের অধিকার আন্দোলনের সোচ্চার কর্মী মালয়েশিয়ার আনোয়ার ফজল এ দিবস পালনের রূপকার হিসেবে পরিচিতি হয়েছেন। ১৫ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে তিনি ভোক্তা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতার উদ্দেশ্য বৈশ্বিকভাবে উদযাপনের আহ্বান জানান। দিনটির তাৎপর্য ভোক্তাসাধারণের কাছে তুলে ধরা এবং ভোক্তা আন্দোলনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সন থেকে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়।

আমাদের দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার এখনও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ভোক্তারা বাজারে প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত হন। দেশে সু-সংগঠিত ভোক্তা আন্দোলন গড়ে না উঠায় এই প্রতারণা-প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না।

Thursday, March 14, 2013

মূল্যায়িত বীমা চুক্তি

0 comments
হিজবুল বাহার নামক জাহাজটি পণ্য রপ্তানির কাজে নিয়োজিত। যাত্রাপথে জাহাজটি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ায় এর মালিক নাভানা সাধারণ বীমা লিমিটেডের সঙ্গে এক বছর মেয়াদি একটি বীমাচুক্তিতে আবদ্ধ হন। ইতিপূর্বে জাহাজটি যে বীমাচুক্তিগুলো সম্পাদন করেছিল তাতে যাত্রার সময় উল্লেখ করেছিল। কিন্তু এই চুক্তিতে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।

প্রশ্ন: ক. মূল্যায়িত বীমা পত্র কী?
প্রশ্ন: খ. পণ্য নিক্ষেপণ বলতে কী বোঝ?
প্রশ্ন: গ. হিজবুল বাহারের মালিক কোন ধরনের নৌবীমা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন? বর্ণনা করো।
প্রশ্ন: ঘ. নাভানা সাধারণ বীমা লিমিটেডের সঙ্গে হিজবুল বাহারের মালিক যে বীমাচুক্তি করেছে তার বৈধতা নিরূপণ করো।

উত্তর: ক. মূল্যায়িত বীমাপত্র: যে বীমাপত্রে বীমাকৃত বিষয়বস্তুর মূল্য উল্লেখ করা থাকে এবং দুর্ঘটনার কারণে উক্ত বিষয়বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুক্তি অনুযায়ী তার ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে, তাকে মূল্যায়িত বীমাপত্র বলে।

উত্তর: খ. পণ্য নিক্ষেপণ: পণ্য নিক্ষেপণ বলতে জাহাজের নিরাপত্তার জন্য জাহাজকে হালকা বা বিপদমুক্ত করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় পণ্য বা জাহাজের কোনো যন্ত্রাংশ ছুড়ে ফেলাকে বোঝায়। পণ্য নিক্ষেপণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি বীমাকারী ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকে।

উত্তর: গ. হিজবুল বাহারের মালিক জাহাজ বীমা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। সমুদ্রে চলাচলের সময় জাহাজ বিভিন্ন বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। এসব বিপদের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতির বিরুদ্ধে জাহাজের মালিক বীমাকারীর সঙ্গে যে বীমাপত্র গ্রহণ করা হয় তাকে জাহাজ বীমা বলে।
উদ্দীপকে হিজবুল বাহার নামক জাহাজটির মালিক জাহাজটি ঝুঁকিজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নাভানা সাধারণ বীমা লিমিটেডের সঙ্গে বীমা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এ ধরনের বীমাকে নৌবীমার আলোকে জাহাজ বীমা বলা যায়। সুতরাং হিজবুল বাহারের মালিক বাহার বীমাচুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন।

উত্তর: ঘ. নাভানা সাধারণ বীমা লিমিটেডের সঙ্গে হিজবুল বাহারের মালিক যে বীমা চুক্তি করেছে আমার মতে, বীমা চুক্তি হিসেবে এটি বৈধতা হারিয়েছে। কারণ, এতে নৌবীমার অন্যতম ব্যক্ত শর্ত যাত্রার সময় উল্লেখ না থাকা।
নৌবীমাচুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্ত শর্ত হচ্ছে সমুদ্র যাত্রার সময় বীমাপত্রে উল্লেখ করা। কোন দিন বা কোন সময়ে সংশ্লিষ্ট জাহাজটি পণ্যসামগ্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে তা চুক্তিপত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হয়। এ শর্তটি যদি বীমাপত্রে উল্লেখ না থাকে তাহলে নৌবীমাচুক্তি বাতিল বলে গণ্য হয়।
উদ্দীপকে এক বছর মেয়াদি জাহাজ বীমা চুক্তি যা হিজবুল বাহারের মালিক নাভানা সাধারণ বীমা লিমিটেডের সঙ্গে আবদ্ধ হয়, তাতে যাত্রার সময় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি একটি ব্যক্ত শর্ত, যা না থাকলে বীমাপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়।
সুতরাং হিজবুল বাহারের মালিকের সঙ্গে বীমাকারীর যে চুক্তি তাতে নৌবীমায় ব্যক্ত শর্তের অনুপস্থিতি থাকায় এটি বৈধতা হারিয়েছে বলে আমি মনে করি।


ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ

মাসুদা আক্তার |  প্রভাষক, শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা

হেপাটাইটিস 'ই' : সাধারণ জন্ডিস

1 comments
লিভার বা যকৃতের প্রদাহের লক্ষণ হিসেবে জন্ডিস হয়। বহু কারণে এ অবস্থা হতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাস অন্যতম। এতে আক্রান্ত হলে রোগী ওষুধ ছাড়াই ভালো হতে পারে। কিন্তু এটি যকৃতকে অকার্যকরও করতে পারে। লিখেছেন সাহাব উদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ, গুলশান, ঢাকার মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক ডা. মো. জুলহাস উদ্দিন

লিভারের বা যকৃতের নানা ধরনের রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে রোগটি হয়, তা জন্ডিস নামে পরিচিত। জন্ডিস আসলে কোনো রোগ নয়। এটা বিভিন্ন কারণে লিভারের প্রদাহের লক্ষণ মাত্র। বিভিন্ন কারণে লিভারের প্রদাহ হতে পারে। কিছু ভাইরাস আছে যেগুলো মানবদেহে ঢুকেই লিভারের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো হলো হেপাটাইটিস 'এ', হেপাটাইটিস 'বি', হেপাটাইটিস 'সি', হেপাটাইটিস 'ডি' ও হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাস। লিভার ক্যান্সার আর লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস 'বি', হেপাটাইটিস 'সি' ভাইরাস। কিন্তু হেপাটাইটিস 'ই' যে অনেক ক্ষতি করতে পারে, তা কেন যেন ভুলে যাই। বাংলাদেশে হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ Hepatitis E ভাইরাস। তবে এই ভাইরাসে স্বল্পমেয়াদি প্রদাহ হয়।

হেপাটাইটিস 'বি' হেপাটাইটিস 'সি' ভাইরাসের মতো হেপাটাইটিস 'ই' লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সার সৃষ্টি করে না। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি যথাযথ বিশ্রাম নিলে আপনাআপনি সেরে যায়। তাই বলে এ ভাইরাসকে অবহেলা করার কোনো উপায় নেই। কারণ লিভার ফেইলিওরের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাস। বিশেষ করে গর্ভবতী মা এবং আগে থেকে লিভার রোগে আক্রান্ত কারো যদি হেপাটাইটিস 'ই' হয় তাদের ক্ষেত্রে লিভার ফেইলিওরের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এমনকি আগে থেকে লিভার রোগ নেই এমন ব্যক্তির বেলায়ও লিভার ফেইলিওরের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাস।

যেভাবে ছড়ায়
হেপাটাইটিস 'ই' পানিবাহিত একটি ভাইরাস। রোগটি মূলত পায়খানার মাধ্যমে ছড়ায়। দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়লে মহামারি আকার ধারণ করে। ফুটপাতের জুস, শরবত বা ফলের রস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর ও ভাইরাসযুক্ত হয় বলে এগুলো পান করলে রোগটি সংক্রমিত হতে পারে। এ ছাড়া দূষিত খাবার পানি, আধা সিদ্ধ শাকসবজি ইত্যাদির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

যারা বেশি আক্রান্ত হয়
হেপাটাইটিস 'ই' যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে ১৫-৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ
সাধারণত 'ই' ভাইরাস শরীরে ঢোকার মোটামুটি এক মাস পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। রোগটি বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জন্ডিস, খাবারে অরুচি, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা বমিসহ অল্প জ্বর প্রভৃতি উপসর্গ থাকতে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম দিকে অল্প অল্প জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব হওয়া, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, জিহ্বার নিচের দিকে হলুদ হয়ে যাওয়া, মাটির রঙের মতো পায়খানা, গাঢ় প্রস্রাব ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

রোগ নির্ণয়
হেপাটাইটিস 'ই' নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্য রোগীর রক্তের সিরামে এ ভাইরাসের নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নিশ্চিত হতে হয়। এ ছাড়া সিরাম বিলিরুবিন ও লিভার ফাংশন টেস্ট করা হয় লিভারের অবস্থা দেখার জন্য।

চিকিৎসা
হেপাটাইটিস 'ই'-এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ওষুধ এখনো বাজারে নেই। কোনো কার্যকর ভ্যাকসিনও আবিষ্কৃত হয়নি। সম্প্রতি নেপালে হেপাটাইটিস 'ই' ভ্যাকসিনের একটি ট্রায়াল হয়েছে তাতে এ ভ্যাকসিন দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয় না বলেই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। এ রোগ হলে রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। আর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়, যেমন রোগীর বমি বা বমি ভাব হলে অ্যান্টি-ইমেটিক্স দেওয়া হয় এবং ক্ষুধামন্দার কারণে ভিটামিন আর পায়খানার সমস্যা হলে পায়খানা পরিষ্কারের জন্য ল্যাক্সেটিভজাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস রোগীর ক্ষেত্রে পায়খানা পরিষ্কার হলে রোগী ভালো থাকে। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে প্যারাসিটামলজাতীয় এবং কবিরাজি ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতি করে।

জটিলতা
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস 'ই' ভালো না হলে জীবন বিপন্ন হতে পারে। লিভারের কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচানো খুবই কষ্টকর। তাই রোগীকে রোগের শুরু থেকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে শুরুতেই তার চিকিৎসা করতে হবে।

প্রতিরোধ
হেপাটাইটিস 'ই' থেকে বাঁচতে হলে এ রোগ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেহেতু এটি একটি পানিবাহিত রোগ, তাই এ রোগ প্রতিরোধের জন্য সব সময় পানি ফুটিয়ে (বিশুদ্ধ পানি) পান ও ব্যবহার করতে হবে। এতে শুধু হেপাটাইটিস 'ই' নয়, বরং টাইফয়েড আর ডায়রিয়ার মতো আরো অনেক পানিবাহিত রোগ থেকেও বাঁচা যাবে। খাওয়ার পানি ৩০-৪০ মিনিট ফোটালে হেপাটাইটিস 'ই'-এর জীবাণু মারা যায়। খাবার আগে ও পায়খানা থেকে ফেরার পর হাত-মুখ সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা, ফুটপাতের খাবার না খাওয়া প্রভৃতি মেনে চলা দরকার।

Tuesday, March 12, 2013

সাধারণ জ্ঞান

0 comments
► ঢাকায় প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জলে - ৭ ডিসেম্বর ১৯০১ সালে আহসান মঞ্জিলে।

► এলিট বাহিনী র্যাব আনুষ্ঠানিক
যাত্রা শুরু করে - ২৬ মার্চ ২০০৪।
► বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের সর্বপ্রথম দেয়া নাম - রামগড় লোকাল
ব্যাটালিয়ন।

► বাংলাদেশের রাজনৈতিক
সমুদ্রসীমা - ১২ নটিক্যাল মাইল।

► দেশে প্রথম 'রেডিক্যাশ কার্ড' চালু
করে - জনতা ব্যাংক।

► বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর -
এ এন এম হামিদুল্লাহ।

► UNESCO সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষনা করেছে - ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭।
1 nautical mile = 1.852 Kilometer
                             1852 Meter
                             1.15078 Mile   
☞সিংহ বনের রাজা হলে কী হবে, বাঘ
সিংহের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ৷

☞ইন্টারনেটে যে পরিমাণ তথ্য আছে,
তা মানব সম্প্রদায়ের সব জ্ঞানের মাত্র ১০ শতাংশ।

☞'আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন
করতে পারি?'এ মেসেজ পেলে ৯৯ শতাংশ মানুষ অজানা আশঙ্কায় ভয় পেয়ে থাকে।
                 

নারী দিবস

0 comments
বিশ্বজুড়ে ৮ মার্চ পালন করা হয় নারী দিবস। বাজারের চাপে দিবসের ভিড়ে আজকের দিনটা অনেকটা আলাদা। কারণ মানুষ হিসেবে একজন নারী পরিপূর্ণ অধিকারের দাবিতে সুদীর্ঘকাল যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, তারই সম্মানস্বরূপ আজ পালিত হচ্ছে নারী দিবস। সারা বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়। অন্তত একটা দিন গোটা বিশ্ব আলাদা করে মনে করে নারীরাই এই জগতের শক্তির উত্‍স আর প্রেরণা। যদিও আলাদা করে বছরের একটা বিশেষ দিনে নারী দিবস পালন করা নিয়ে নানা কথা হয়। নিন্দুকরা নাক সিঁটকে বলেন, সবটাই বাড়াবাড়ি। কিন্তু যারা এ কথাটা বলেন তারা নিশ্চয় ইতিহাসের পাতাটা ভাল করে উল্টে দেখেননি। তাই বিশেষ করে তাঁদের জন্য আর সকলের জন্য থাকল নারী দিবসের ইতিহাস নিয়ে ছেঁড়া একটা পাতা।

এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ধারায় দেখা যায়, নারী কোনও অংশেই পুরুষের পিছনে ছিল না। ফ্রান্সের প্যারি কমিউন, ফরাসি বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলনসহ ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে পুরুষের পাশেই নারীকে দেখা যায়। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত দাবি নারী সমাজ অর্জন করতে পারেনি। কর্মক্ষেত্রে নারীর মজুরি পুরুষের চেয়ে কম। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের ২০০৯-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে পুরুষের চেয়ে নারী ১৬ ভাগ পারিশ্রমিক কম পায়। অপর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে নারীরা কাজ করছে শতকরা ৬৫ ভাগ।

বিপরীতে, তার আয় মাত্র শতকরা দশ ভাগ। পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংখ্যানুপাত প্রায় সমান। অথচ, দুনিয়ার মোট সম্পদের একশ` ভাগের মাত্র এক অংশের মালিক মেয়েরা। মেয়েদের গৃহস্থালী কাজের আর্থিক স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, তা অর্থনৈতিক মূল্যে অদৃশ্যই থাকে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা তো বটেই এমনকী উন্নত বিশ্বের চিত্রটাও অনেকটা একই। কখনও শ্লীলতাহানি, কখনও যৌন নির্যাতন, কখনও মেয়ে হিসাবে জন্মানোর জন্য চূড়ান্ত নিপীড়ন, আবার কখনও ধর্ষণ। মহিলারা সত্যি ভাল নেই। বিশ্ব, সমাজ, যুগ যত তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, ততোই এগিয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে মেয়েরা। কিন্তু কিছু মানুষের লোভ-লালসা, আর কিছু অদৃশ্য শক্তি মহিলাদের কেমনভাবে যেন পিছনে টেনে ধরে রেখেছে। সেই অদৃশ্য শক্তিকে অগ্রাহ্য করে কেউ কেউ অনেক উপরে উঠতে পারলেও, বেশিরভাগই সেই অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করছেন। ইতিহাসের পাতা কিন্তু বলছে মেয়েরা পারবে সেই অদৃশ্য শক্তিকে ভেঙে ফেলে অনেক অনেক এগিয়ে যেতে।

ইতিহাসের পাতায় নারী দিবসের উল্লেখ্যযোগ্য দিন--
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন

১৮৬০ সালের ৮ মার্চ নারী শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিজস্ব ইউনিয়ন গঠনে ব্যর্থ হয়

১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিন পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম-অধিকারের দাবিটি আরও জোরালো করেন

১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়

১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে ১৭টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন

১৯১১ সাল থেকে ৮ মার্চ দিনটিকে `নারীর সম-অধিকার দিবস` হিসেবে পালিত হয় ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী

১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা করা হয়। এই দিনে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অষ্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করেন

১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে

১৯৪৫ সালে সানফ্রান্সিসকোতে রাষ্ট্রসংঘ স্বাক্ষর করে `জেন্ডার ইকুয়ালিটি` চুক্তিতে নারী অধিকারের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় রেখে

১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যায়

১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ৮ মার্চ নারী দিবস পালনের জন্য উত্থাপিত বিল অনুমোদন পায়

১৯৮৪ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রসংঘ। ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়

২০০৯-এ বিশ্বের ২৯টি দেশে সরকারি ছুটি সহ প্রায় ৬০টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে

২০১০ সালে বিশ্বজুড়ে নারী দিবস পালন করা হয়। অভূতপূর্ব সাড়া মেলে

ইতিহাসকে স্বীকৃতি-- বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় ৮ মার্চ। এরমধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, রাশিয়া, তাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, জাম্বিয়া।

চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে শুধুমাত্র মেয়েরাই সরকারি ছুটি পায়।
Frauentag 1914 Heraus mit dem Frauenwahlrecht
সূত্র: উইকিপিডিয়া ২৪ ঘন্টা

জাতীয় পতাকা অবমাননার শাস্তি

0 comments
লাল-সবুজের আমাদের জাতীয় পতাকা মানেই শুধু এক টুকরা কাপড় নয়, এ পতাকা আমাদের রাষ্ট্রের পরিচয়, আমাদের জাতীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এ পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই করা চলবে না। যদি কেউ অবমাননা করে, তাহলে তাকে পেতে হবে শাস্তি। জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০)-এ জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

ব্যবহারের নিয়ম

সব সরকারি ভবন, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভবনে সব কর্মদিবসে পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেমন: ঈদে মিলাদুন্নবী, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস এবং সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্য যেকোনো দিবসে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ভবন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রাঙ্গণে ও কনস্যুলার কেন্দ্রগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া শহীদ দিবস ও জাতীয় শোক দিবসে বা সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্যান্য দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। অর্ধনমিতের নিয়ম হলো, অর্ধনমিত অবস্থায় উত্তোলনের প্রাক্কালে পতাকাটি পুরোপুরি উত্তোলন করে অর্ধনমিত অবস্থানে আনতে হবে এবং নামানোর প্রাক্কালে এটি শীর্ষে উত্তোলন করে নামাতে হবে।
ইচ্ছা করলেই যে কেউ গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মোটরগাড়ি, নৌযানে ও বিমানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের অধিকারী। তা ছাড়া আইনানুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, কেবিনেট মন্ত্রী, কেবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, চিপ হুইপ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিচারপতি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলার মিশনের প্রধান তাঁদের মোটরগাড়ি ও নৌযানে পতাকা উত্তোলনের অধিকারী। প্রতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ও উপমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে ভ্রমণকালে কিংবা বহির্বিশ্বে মোটরগাড়ি অথবা জলযানে পতাকা ব্যবহার করার অধিকারী হবেন। অন্য কোনো দেশের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হবে এবং সবশেষে নামানো হবে। দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা হলে ভিন্ন ভিন্ন দণ্ডে উত্তোলন করতে হবে এবং পতাকাগুলোর পরিমাপ প্রায় একই হবে।
বাংলাদেশের পতাকার ওপরে অন্য কোনো পতাকা বা রঙিন পতাকা ওড়ানো যাবে না। মিছিলে পতাকা বহনের বিধান হচ্ছে, পতাকা মিছিলের কেন্দ্রে অথবা মিছিলের অগ্রগমন পথের ডান দিকে বহন করতে হবে। জাতীয় পতাকার ওপর কোনো কিছু লেখা বা মুদ্রিত করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাতীয় পতাকাকে ট্রেডমার্ক, ডিজাইন বা প্যাটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা অপরাধ।
পতাকা এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন বা মজুত করা যাবে না, যাতে এটি সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে, মাটি লাগতে পারে বা নষ্ট হতে পারে। জাতীয় পতাকা কোনো অবস্থায়ই সমতল বা সমান্তরালভাবে বহন করা যাবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এবং যখন জাতীয় সংগীত বাজানো ও প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সবাইকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনোমতেই পতাকা উড্ডীয়মান অবস্থায় থাকবে না। পতাকার অবস্থা ব্যবহারযোগ্য না হলে তা মর্যাদাপূর্ণভাবে সমাধিস্থ করতে হবে।

অবমাননার শাস্তি

জাতীয় পতাকা ব্যবহারের এসব বিধি ভঙ্গ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং কেউ ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তানজিম আল ইসলাম | লেখক: আইনজীবী

স্ত্রী কি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন

0 comments
কোনো স্ত্রী যদি যুক্তিসংগত কারণে স্বামীকে তালাক দিতে চান, সে ক্ষমতা প্রচলিত আইনে স্ত্রীর রয়েছে। মুসলিম আইনে স্ত্রীর তালাকের অধিকারকে তালাকে তৌফিজ বলা হয়। এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্ত্রী আদালতে না গিয়েই সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। মূলত তালাক প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করে বিয়ের সময় সম্পন্ন করা কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটি পূরণের মাধ্যমে। এ কলামে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেন। এ ক্ষমতা শর্তযুক্ত কিংবা শর্তহীন হতে পারে। এ কলামে লেখা থাকে, স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামী প্রদান করেছেন কি না এবং করে থাকলে কী কী শর্তে। তখন কাজি এর পাশে লিখবেন, হ্যাঁ দিয়েছেন। তা ছাড়া এ বিষয়ে একাধিক শর্ত লিখবেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি বিয়ের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীর তালাকের অধিকার উল্লেখ না থাকে, সে ক্ষেত্রে কি তালাক দিতে পারবেন না? সে ক্ষেত্রেও স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন। তবে তাঁকে পারিবারিক আদালতে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তালাকের জন্য প্রতিকার চাইতে হবে। আদালতের ডিক্রিমূলে তখন স্ত্রীর তালাক কার্যকর হবে।
আইন অনুযায়ী স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন, তা হলো—
 চার বছর স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
 স্বামী দুই বছর ভরণপোষণ দিতে অবহেলা করলে;
 স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করলে;
 স্বামী সাত বছর বা এর বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে;
 স্বামী যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
 স্বামী বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে;
 স্বামী দুই বছর অপ্রকৃতিস্থ, কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌনব্যাধিতে ভুগলে;
 নাবালিকা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে থাকলে সাবালিকা (১৮ বছর পূর্ণ) হওয়ার পর স্ত্রী যদি তা অস্বীকার করেন (তবে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে মামলা করা যায় না);
 স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করলে। যেমন: অভ্যাসগত কারণে স্ত্রীকে মারধর বা আচরণের নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে তাঁর জীবন দুর্বিষহ করে তুললে, অন্য নারীর সঙ্গে স্বামী মেলামেশা করলে, নৈতিকতাবিরোধী জীবনযাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলে, স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিলে বা সম্পত্তিতে বৈধ অধিকার প্রয়োগ থেকে তাঁকে নিবারণ করলে প্রভৃতি এবং
 মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যেকোনো কারণে স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের দাবি করতে পারেন।

জেনে রাখুন
বিয়ের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটি পূর্ণ করা হয়েছে কি না, তা মেয়ের অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় পাত্রপক্ষের প্ররোচনায় কাজিরা কলামটি পূরণ করতে অবহেলা করেন। যেভাবেই বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক ঘটুক না কেন, তালাকের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বামীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা মিউনিসিপ্যালিটির বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে নোটিশ লিখিতভাবে পাঠাতে হবে। তবে আদালতের মাধ্যমে কোনো বিবাহবিচ্ছেদের মামলার ডিক্রি হলে সেই ডিক্রির কপি চেয়ারম্যানকে প্রদান করলেই হবে। স্ত্রী তালাক দিলেও মোহরানার টাকা তাঁকে দিতে হবে এবং তালাক কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভরণপোষণ করতে হবে।

খোলা তালাক
মুসলিম আইনে স্ত্রীর ইচ্ছায় বিবাহবিচ্ছেদের আরেকটি ব্যবস্থা হচ্ছে খোলা তালাক। এ তালাক এমন একধরনের তালাক, যা স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে কার্যকর হয়। খোলা তালাক পারস্পরিক চুক্তি দ্বারা অথবা কাজি বা আদালতের নির্দেশে হতে পারে। এ তালাকের উল্লেখযোগ্য দিক হলো—
 স্ত্রী স্বামীকে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন;
 স্বামী ওই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে থাকেন;
 স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সময় স্বামী বিনিময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিদান নিয়ে থাকেন এবং স্ত্রী তা দিয়ে থাকেন বা দিতে সম্মত হন। তবে খোলা তালাকের ক্ষেত্রে অন্য কোনো চুক্তি না থাকলে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হবেন না; কিন্তু ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তাঁর গর্ভের সন্তানের জন্য স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

তানজিম আল ইসলাম | লেখক: আইনজীবী

জিনসের যত্নে

0 comments
নিত্য দিনের পোশাক হিসেবে জিনসের কদর সবার কাছেই। জেনে নিন জিনসের যত্নআত্তি। ফ্যাশন হাউস ব্যাঙের প্রতিষ্ঠাতা সায়েম হাসান বলেন, ‘এখন বাজারে যেসব জিনস পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগ স্টোন ওয়াশ করা। ফলে রং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে ওয়াশের তারতম্যের কারণে তা নষ্ট হতে পারে।’

‘অনেকেই জিনস পরিষ্কার করার জন্য এক-দেড় ঘণ্টা ডিটারজেন্ট-পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। এতে জিনসের রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কোনো কাপড়ই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়।’ বলেন ক্যালকাটা ড্রাই ক্লিনার্সের পান্থপথ শাখার ইনচার্জ ইমদাদুল হক। জিনস কাপড়ের যত্ন নিয়ে তিনি দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ।

 জিনস কেনার পর প্রথমবার ধোয়ার সময় কোনো ধরনের পরিষ্কারক অর্থাৎ সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। এতে জিনসের চকচকে ভাবটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রথমবার শুধু সাধারণ পানি দিয়ে ধুতে হবে।
 জিনসের তৈরি কোনো শার্ট বা প্যান্ট একটানা তিন-চার দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে কাপড়ে ময়লা বসে যায় এবং রং নষ্ট হয়ে যায়।
 অনেকেই কাপড় ধুয়ে, খুব করে চিপে তারপর শুকাতে দেন। এতে কাপড়ের রং নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধুয়ে দেওয়ার পর আলতোভাবে পানি ঝরিয়ে শুকাতে দিতে হবে।
 কাপড় ধোয়ার জন্য শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে কাপড়ের রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, রঙিন শ্যাম্পু হলে কাপড়ে শ্যাম্পুর রংও লেগে যেতে পারে।
 অনেকেই কাপড় দু-এক দিন ব্যবহার করে ঘরে ফেলে রাখেন। এতে কাপড়ে ময়লা বসে যায়। তাই ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলাই ভালো। নয়তো কাপড়ের রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
 জিনস ইস্ত্রি করে পরাই ভালো। এতে কাপড়ের চাকচিক্য ঠিক থাকে।

নেলপলিশ

0 comments
মেয়েদের অন্যতম প্রধান একটি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে নেলপলিশের আলাদা একটি কদর সব সময়ই ছিল। বিশেষ করে সাজপোশাকের সাথে মানানসই নেলপলিশ যেন সাজের আভিজাত্যকেই ফুটিয়ে তোলে। আর তাই শুধু এই উপমহাদেশ বা এশিয়াতেই নয়, বরং বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি এই প্রসাধন সামগ্রীটির ব্যবহার চোখে পড়ে। মজার বিষয় হলো, এই একবিংশ শতকে এসেও একইভাবে নিজের কদর ধরে রাখা নেলপলিশের জন্ম কিন্তু হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় হাজার তিনেক বছর আগে। অনেক নৃতাত্তিকের মতে ৪০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে মিশরে মেকআপ সামগ্রী ও সুগন্ধির চল থাকলেও নেলপলিশ বা কোনো ধরনের রঞ্জক দিয়ে নখ রাঙানোর চলটা এরও প্রায় হাজারখানেক বছর পরে এসেছিল। যদিও এ নিয়ে জোরালো কোনো প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে নেলপলিশের যে নিশ্চিত ব্যবহারের কথা নৃতাত্ত্বিকেরা বলে থাকেন সেটির উত্স ছিল চীন। চীনারা মূলত গাম এরাবিক, ডিমের সাদা অংশ, জিলাটিন ও মৌচাকের মোম ব্যবহার করে নখের জন্য বিশেষ প্রলেপ তৈরি করতো। আর সে সময় মিশরে নখের প্রলেপ বা নেলপলিশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি কদর ছিল মেহেদীর। নৃতাত্তিকেরা দেখেছেন, প্রাচীন সময়ে নেলপলিশের সাথে সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদার একটি নিবিড় যোগাযোগ ছিল এবং এটিকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। ৬০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে চীনের চৌ সাম্রাজ্যের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, এই আমলে সোনালি রুপালি রঙের নেলপলিশ ছিল রাজকীয়তার চিহ্ন। পরবর্তী সময়ে কালো এবং লাল রঙের নেলপলিশও রাজকীয় রঙ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ কারণে চৌ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা সাধারণ কোনো নারী অধিবাসীর এসব রঙের নেলপলিশ নখে দেওয়া নিষেধ ছিল। শুধু তাই নয় এ ধরনের নেলপলিশ কেউ নখে দিলে শাস্তি হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতো। মজার বিষয় হলো, নানা সময়ে নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক সময়ের যে নেলপলিশ মানুষের হাতে হাতে এসে পৌঁছেছে সেটি এতোটাই সূক্ষ্ম আর সুন্দর উপায়ে তৈরি হয় যে মেয়েদের নখের এই রঙের সাথে গাড়ির রঙের পার্থক্য কিন্তু আদতে খুব সামান্যই।

ভারত মহাসাগরের নিচে লুপ্ত মহাদেশ

0 comments
ভূবিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন এক লুপ্ত মহাদেশের কিছু টুকরো হয়তো শায়িত আছে ভারত মহাসাগরের তলায়।

তারা প্রমাণ পেয়েছেন, সাড়ে আট কোটি থেকে দুশো কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে এই ভূখন্ডের অস্তিত্ত্ব ছিল – কিন্তু তারপর তা আস্তে আস্তে খন্ড খন্ড হয়ে বিলীন হয়ে যায়, জন্ম নেয় আধুনিক পৃথিবীর চেহারা।

আসলে লক্ষ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগ একটাই অখন্ড সুপারকন্টিনেন্টের আকারে ছিল, যার নাম রডিনিয়া। আর আজকের ভারত আর মাদাগাস্কারের মাঝে এখন এক মহাসমুদ্রের ব্যবধান থাকলেও একদিন এদুটো জায়গা ছিল পাশাপাশিই!

নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই দুই ভূখন্ডের মাঝখানে যে মহাদেশ ছিল তারা তার অস্তিত্ত্বের প্রমাণ পেয়েছেন।

নরওয়েতে অসলো ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী ড: ট্রন্ড টর্সভিক বলছিলেন, সেই লুপ্ত মহাদেশেরই একটা অংশ হয়তো আজও টিঁকে আছে – আর সেটা হল আজকের সেশেলস দ্বীপ।

আসলে মরিশাসের সমুদ্রসৈকতে পাওয়া বালুকণা পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে দেখেছেন, তাতে এমন সব খনিজ আছে যেগুলোর বয়স যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়েও লক্ষ লক্ষ বছর বেশি!

তারা ধারণা করছেন, সমুদ্রের নিচে অগ্ন্যুৎপাতের কারণেই এই ছোট কণিকাগুলো ভূপৃষ্ঠে উঠে এসেছে – আর সেগুলো এসেছে এমন এক প্রাচীন ভূখন্ড থেকে, যা আজ ভারত মহাসাগরের নিচে প্রায় দশ কিলোমিটার গভীরে শায়িত।

বিজ্ঞানীরা এই ক্ষুদ্র মহাদেশের নাম দিয়েছেন মরিশিয়া, পৃথিবীর বুকে লক্ষ কোটি বছর যেটি টিঁকে ছিল – প্রাক-কাম্ব্রিয়ান যুগে যখন মাটিতে কোনও প্রাণের অস্তিত্ত্ব ছিল না, তখন থেকে যে যুগে ডায়নোসররা চরে বেড়াত তখন পর্যন্ত!

তবে আজ থেকে সাড়ে কোটি বছর আগে যখন ভারতীয় ভূখন্ড ধীরে ধীরে মাদাগাস্কার থেকে দূরে সরে যেতে থাকে, তখন ভেঙে যেতে থাকে এই ক্ষুদ্র মহাদেশও – আর তারপর একদিন তা বিলীন হয়ে যায় সমুদ্রগর্ভে।

তবে তার কতটুকু অবশেষ আজও টিঁকে আছে, তা জানতে দরকার সাইসিমিক সার্ভে আর সমুদ্রের গভীরে ব্যাপক ড্রিলিংয়ের অভিযান!

পরিবেশনা: শুভজ্যোতি ঘোষ

Monday, March 11, 2013

পারমাণবিক অস্ত্র

0 comments
জঙ্গলে বাস করা কাঁচা মাংস খাওয়া মানুষ আগুন আবিষ্কারের মাধ্যমে সভ্য হতে শেখে। পৃথিবীতে মানুষের পদচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই নিজের ছায়ার মতো তার সঙ্গে লেগে থেকেছে নানা ধরনের বিপদ-আপদ। বিভিন্ন সময়ে মানুষ সেই সব বিপদের মোকাবিলা করেছে নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে। পুরোপুরি সভ্য হয়ে ওঠার পর মানুষ নিজেদের সুরক্ষার অজুহাত দেখিয়ে, প্রতিপক্ষকে হত্যার উদ্দেশ্যে যত মারণাস্ত্র তৈরি করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহতম অস্ত্রটির নাম পারমাণবিক অস্ত্র। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বা জীব হত্যায় সক্ষম এ অস্ত্রটি বিজ্ঞানের অভিশাপের উৎকৃষ্টতম উদাহরণ এবং নিকৃষ্টতম আবিষ্কার। পারমাণবিক অস্ত্র মূলত এক ধরনের বিস্ফোরক যন্ত্র। নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রচণ্ড শক্তিই এ অস্ত্রের কল্পনাতীত ধ্বংসযজ্ঞের মূল সূত্র। দুটি পদ্ধতিতে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ঘটানো হয়ে থাকে। একটি হলো ফিসান এবং ফিউশনের সংমিশ্রণ। একটি এক হাজার ১০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক বোমা প্রচলিত এক বিলিয়ন কেজি ওজনের বোমার সমপরিমাণ বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। প্রচলিত অন্যান্য বোমার চেয়ে আকারে ছোট একটি পারমাণবিক বোমা একটি সম্পূর্ণ শহরকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীর ইতিহাসে মাত্র দুবার পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দুটি বোমাই ফেলা হয় জাপানে। এ বোমা দুটির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। যুক্তরাষ্ট্র 'লিটল বয়' ও 'ফ্যাট ম্যান' নামের এ বোমা দুটির বিস্ফোরণ ঘটায়। এ যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির পরে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার বন্ধে সতর্ক অবস্থান নেয় আন্তর্জাতিক মহল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ অস্ত্র আর ব্যবহৃত না হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়ার হাতে এ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। ইসরায়েলের কাছেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে ধারণা করা হলেও তারা দাবি করে তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই।

জগদ্দল মহাবিহার, নওগাঁ

0 comments
ভারত সীমান্ত লাগোয়া ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে জগদ্দল পদ্ম মহাবিহার আরো আট কিলোমিটার। নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসটার্মিনাল পৌঁছালাম সকাল সাড়ে ৮টায়। বাস ছাড়ল আধঘণ্টা পর। আমরা নামলাম ধামইরহাট-জয়পুরহাট সড়কের হরীতকীডাঙ্গার মোড়ে। দুই ঘণ্টা লাগল হরীতকীডাঙ্গার মোড়ে পৌঁছাতে। মোড়ের একটি চায়ের স্টলে বিস্কুট আর চা খেয়ে ভ্যানে চাপলাম। আরো চার কিলোমিটার যেতে হবে। গ্রামের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলেছে পথ। সামনে পড়ল বেণিদুয়ার মিশন। উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা মিশন ভবন। সামনে দুটি মোড় পেরোনোর পর গোলাকার লালচে প্রাচীন স্থাপনা নজরে এলো। বুঝতে বাকি রইল না এটাই জগদ্দল পদ্ম মহাবিহার।
ভাড়া মিটিয়ে ভ্যান থেকে নামলাম। বিহারটি শত শত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। একদল প্রত্নতাত্তি্বকের তত্ত্বাবধানে এখন খননকাজ চলছে।
দ্বাদশ শতকে সম্রাট রামপাল এটি নির্মাণ করান। মূলত জগদ্দল বিহার ছিল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৌদ্ধ ধর্মের গ্রন্থগুলো এখানে তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করা হতো। বিহারটির অবস্থান নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক ছিল। অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের এ বিহারটিই জগদ্দল বিহার।
বিশাল এলাকাজুড়ে বিহার। বিহারের পশ্চিম বাহু ধরে খননকাজ চলছে। মূল মন্দির, হলঘর ও চারটি বৌদ্ধভিক্ষু কক্ষের কিছু অংশ খননে বেরিয়ে এসেছে। পূর্বমুখী মন্দিরটি প্রায় বর্গাকার। তিন দিকে প্রশস্ত প্রদক্ষিণ পথ। ওই প্রদক্ষিণ পথ হলঘরের সঙ্গে মিশেছে। মন্দিরের প্রবেশপথ ১.১২ মিটার প্রশস্থ ছিল বলে বোঝা যায়। তিনটি ধাপ পেরিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করা যায়। প্রবেশপথে বিশালাকার কালো পাথরের চৌকাঠ (লিনটেল) ব্যবহৃত হয়েছিল। চৌকাঠগুলো মূর্তি ও অন্যান্য অলংকরণে শোভিত। গর্ভগৃহে একটি পাথরের নালাও আবিষ্কৃত হয়েছে। মন্দিরের দেয়ালের সঙ্গে লাগানো চারটি বেদি পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে ২০ ফুট উঁচু পাথরের স্তম্ভ। কালো পাথরের বৌদ্ধ মূর্তিও পাওয়া গেছে। চৌকাঠের এক সারিতে ৯টি বুদ্ধ ও অন্যান্য মূর্তিখচিত। এগুলোর মধ্যে বৈরোচন, অক্ষোভ, রত্নসম্ভবা ও আমোঘসিদ্ধি ধ্যানী বুদ্ধ শনাক্ত করা গেছে। চৌকাঠের মাঝখানে একটি বড় পদ্মাসন বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। বিহারের পশ্চিম বাহুর একটি ভিক্ষু কক্ষে পাওয়া গেছে ১৪টি ব্রোঞ্জমূর্তি। দীর্ঘদিন মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় এগুলো গায়ে গায়ে লেগে গেছে। মূর্তিগুলো তিন থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা। একত্রে এতগুলো ব্রোঞ্জমূর্তি এই প্রথম কোনো প্রত্নস্থান থেকে পাওয়া গেছে বলে জানালেন খননকাজের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুব উল আলম। জগদ্দল মহাবিহারের স্থাপত্য নকশা দেখে তাঁরা নিশ্চিত যে এটি লোটাস মানে পদ্মবিহার। দেশে পদ্মবিহারের সন্ধানও পাওয়া গেল এই প্রথম। বিহারের চার কোনায় পদ্ম ফুলের পাপড়ি নকশা করা হয়েছিল। সেগুলো মেঝে থেকে ২৪ থেকে ২৫ ফুট উঁচু ছিল। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এখানে একটি বিশাল জনপদ ছিল। জগদ্দলের পূর্বে ছিল নিকেশ্বর বা নিকাই শহর ও পশ্চিমে জগৎনগর। বিহারে মোক্ষাকর, দানশীল, শুভাকর ও বিভূতিচন্দ্র নামে চারজন বৌদ্ধ পণ্ডিত থাকতেন। জগদ্দল বিহারের প্রাচীন নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ২০ থেকে ৩০ একর জায়গাজুড়ে। ঘুরেফিরে দেখতে দেখতে কখন যে পশ্চিমে হেলে পড়েছে সূর্য টের পাইনি। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। কাছেপিঠে খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। অগত্যা ফিরতি পথ ধরলাম।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার কল্যাণপুর বা গাবতলী থেকে শ্যামলী, এসআর, টিআর, হানিফসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে নওগাঁ যাওয়া যায়। ভাড়া ৫০০-৭০০ টাকা (এসি), ৩৫০-৪৫০ টাকা (নন-এসি)। নওগাঁর বালুডাঙ্গা বাসটার্মিনাল থেকে হরীতকীডাঙ্গার মোড় পর্যন্ত বাসভাড়া ৫৫ টাকা। হরীতকীডাঙ্গার মোড় থেকে রিকশাভ্যান ভাড়া যাত্রী প্রতি ৫ টাকা।

ফরিদুল করিম

ব্যথা কমানোর সহজ ব্যায়াম

0 comments
হাড়, জয়েন্ট, লিগামেন্টের সমস্যা কিংবা একটানা অনেকক্ষণ বসে কাজ করার কারণে পিঠ ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথার হাত থেকে রক্ষা পেতে কয়েকটি সহজ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন ডিউড্রপ জিমের প্রশিক্ষক শিশির বিন্দু


ক্যাট স্ট্রেচ
* চেয়ারে সহজভাবে বসুন। হাঁটু ও পায়ের পাতা দুটো জুড়বেন না। হাত দুটো সামনে হাঁটুর ওপর রেখে জোরে নিঃশ্বাস নিন। তারপর কোমরটা বেন্ড করে দুহাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি দুটো ধরুন। নিঃশ্বাস ছেড়ে দিন। আস্তে আস্তে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
বি. দ্র : মাথাটা নিচের দিকে রাখবেন।

ব্রিজ
* হাঁটু ভাঁজ করে শুয়ে পড়ুন। পায়ের পাতা দুটো জুড়বেন না। হাত দুটো দুই পাশে সোজাভাবে রেখে তার ওপর ভর দিয়ে হিপ লেয়ার ব্যাক, মিডল ব্যাক ও কাঁধ মাটি থেকে তুলে ধরুন। চার পর্যন্ত গুনুন। তারপর ধীরে ধীরে রিল্যাঙ্ড হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
বি. দ্র : হিপের কাছে বডি বেন্ড করবেন না।

সার্কেল অব দ্য হিপ
কোমরের মেদ ঝরানোর সঙ্গে সঙ্গে হিপ ও লেয়ার ব্যাকের স্টিফনেসও কমায়।
* পা দুটো ফাঁক, হাঁটু দুটো অল্প বেন্ড করে দাঁড়ান। হাত দুটো হিপের ওপর রেখে প্রথমে ক্লকওয়াইজ, তারপর অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ কোমরটা ঘোরান কয়েকবার।

বি. দ্র : কোমর ঘোরানোর সময় খুব বড় সার্কেল করে ঘোরাবেন না। হিপ যেন সামনের দিকে বেশি এগিয়ে না যায়, বডি সোজা রাখবেন। শিথিল ভাব যেন না আসে।

লক্ষ রাখুন
* ক্রনিক ব্যাকপেইনের সমস্যায় ভুগলে বিশেষজ্ঞ ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করুন।
* ভারী জিনিস তোলার সময় হাঁটু ভাঁজ করে জিনিসটা শরীরের কাছে ধরবেন। তোলার সময় পা সোজা রাখবেন।
* পুরো শরীর ঘোরাবেন। শুধু কোমর নয়।
* দাঁড়ানোর সময় পেট ও হিপ সামনের দিকে বেশি ঝোঁকাবেন না। এতে পিঠের ওপর চাপ পড়ে।
* পিঠ ও কাঁধ সোজা রেখে চেয়ারে বসুন। একই অবস্থায় ৪০ মিনিটের বেশি বসবেন না। মাঝেমধ্যে হাঁটুন।
* চেয়ারে ভালো ব্যাক কুশন দিন। হিপ যেন কুশন পায়।

কোর মাসল আকর্ষণীয় করতে

0 comments
আকর্ষণীয় শরীর গঠনের জন্য শক্তিশালী কোর মাসল (কোমরের নিচের কিছু অংশ এবং ওপরের অনেকটা অংশ) প্রয়োজন। এই অংশটা শরীরের ওপরের ও নিচের অংশের সংযোগস্থল। যেকোনো খেলাধুলার জন্য এ অংশের গুরুত্ব অপরিসীম। বেশ কিছু ব্যায়ামে শরীরের এই অংশকে শক্তিশালী করা যায়। সেই ব্যায়ামগুলো নিয়ে এই আয়োজন।

সাইড প্লাংক স্টার

* শরীর সোজা রেখে সাইড প্লাংক করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এ সময় কোমর যেন মেঝে স্পর্শ না করে।
* শরীরের কোর অংশ শক্ত অবস্থায় রেখে হাত ও পা ওপরের দিকে ওঠাতে হবে। এভাবে যতটা সময় পারা যায় ততক্ষণ থাকতে হবে।

অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড

* হাত সোজা অবস্থায় রেখে একটা কেটলবেল নিতে হবে। কেটলবেল ধরা হাতটি শরীরের পেছনের দিকে এবং অন্য হাত সামনের দিকে থাকতে হবে।
* পিঠ সোজা রেখে কেটলবেল শরীরের চারদিকে হাত বদল করে ঘোরাতে হবে।
* নিজেকে স্থির রাখতে কোমর ব্যবহার করতে হবে।

টোজ টু বার

* দুই হাতে দুই বার ধরে ঝুলে পড়তে হবে। এবার দুই পা একত্র করে ধীরে ধীরে ওপরে ওঠাতে হবে।
* পা হাত পর্যন্ত ওঠাতে শরীরের কোর অংশও ব্যবহার করতে হবে। এ সময় কোমরকে একটু সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে পা একত্রে উঁচু করতে হবে।
* নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে পা আবার নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

গন্ধমুক্ত পা

0 comments

কেন গন্ধ হয়


পায়ের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ ঘাম। সিনথেটিক মোজা আর বদ্ধ জুতা ব্যবহার করলে পায়ে দুর্গন্ধ বেশি হয়। এ ধরনের জুতায় ঘাম বেশি হয়। ফলে মোজা খোলামাত্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে পা ঠিকমতো পরিষ্কার না করলেও গন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া জুতা পরিষ্কার না করে একই জুতা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে গন্ধ হতে পারে। শারীরিক সমস্যার কারণেও পায়ে গন্ধ হতে পারে।

বাড়িতেই পরিচর্যা জুতা

বাড়িতে বসে একটু পরিচর্যার মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। জুতার অবস্থা আগেভাগে দেখে নিন। জুতায় গন্ধ থাকলে পায়ের পরিচর্যায় মুক্তি মিলবে না। জুতা যদি স্যাঁতসেঁতে থাকে, তাহলে এর মধ্যে কিছু বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। আলো-বাতাস আছে এ রকম জায়গায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রেখে শুকিয়ে নিন। তার পরও যদি পা ঘামে, তা হলে চেষ্টা করুন পরিষ্কার রাখতে। ওয়াশেবল জুতা ধোয়ার সময় সুগন্ধি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। বেশি আঁটসাঁট জুতা ব্যবহার করবেন না।

পা

নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখুন। শুধু পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেললেই হবে না। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে পা পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে কুসুম গরম পানিতে ফিটকিরি মিশিয়ে প্রতিদিন পাঁচ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমে যাবে। নিয়মিত পায়ের মৃতকোষ (ডেড সেল) পরিষ্কার করুন। অবশ্যই বাড়িতে বা বিউটি স্যালনে গিয়ে মাসে একবার পেডিকিউর করান। জুতা পরার সময় ফুট ডিওডরাউজার ব্যবহার করুন। ডিওডরাউজার অবশ্যই পাউডারবেসড হতে হবে। এতে পা কম ঘামবে এবং দুর্গন্ধও কম হবে। পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

টিপস

* খোলা স্যান্ডেল পড়ুন
* নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখুন
* দিনের কিছু সময় খালি পায়ে হাঁটুন
* একই জুতা প্রতিদিন পরবেন না
* সঠিক সাইজের জুতা পরুন
* বেশি ঘাম হলে মোজা পরিবর্তন করুন।

গরমে বাড়ি ঠাণ্ডা রাখবেন কী করে

0 comments
এই গরমে ঘরের ভেতর ছোটখাটো পরিবর্তন এনে বাড়িটা ঠাণ্ডা রাখতে পারেন। উপায় বাতলে দিচ্ছেন স্থপতি জাবেদ ওয়াদুদ
* নিউট্রালের সঙ্গে প্যাস্টেল শেড গরমে আদর্শ। অ্যাকোয়া, সফট হলুদ আর সবুজ রঙের মিশ্রণ ঘরে স্নিগ্ধ আবহাওয়া তৈরি করে। গরম কম বোধ হয়।

* জানালায় ব্লাইন্ড এবং পর্দা দুয়ের অপশন রাখুন।

* ব্লাইন্ডের সঙ্গে পর্দার কাপড়ের জন্য ফ্লোরাল প্রিন্ট পছন্দ করুন। ব্লাইন্ডের ফাঁক দিয়ে আসা আলো পর্দার ফ্লোরাল প্রিন্টের ওপর পড়ে স্নিগ্ধতা দেবে।

* ঘরের অন্যান্য আপহোলস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে পর্দার ফ্লোরাল প্রিন্ট বাছুন। যেমন_বসার ঘরে সোফার কভার সাদা হলে কুশন কভার বাছুন হালকা হলুদ বা সবুজ। আর এই তিন রঙের যেকোনো একটি রাখুন পর্দার কাপড়ে।

* সোফা এবং কুশন কভার যেন পাল্টানো যায়। গরমে ঘাম বা ধুলাবালির কারণে বারবার বদলানো প্রয়োজন।

* ফ্ল্যাটের মাথার ওপর ছাদ হলে ফলস সিলিং বা অরিজিনাল ফলস সিলিংয়ের মাঝখানে থার্মোকলের লেয়ার দেওয়া হয়েছে। থার্মোকল হিট ইনসুলেটর। যত মোটা থার্মোকল ব্যবহার করা হবে, ঘর তত ঠাণ্ডা থাকবে।

* দেয়ালে উডেন প্যানেল বা ব্রিক টাইলসের প্যানেল হিট কমায়। সব থেকে সহজ হলো এসব দেয়ালে উডেন কাবার্ড ফিট করে দেওয়া।

* বাড়ির বাইরের দেয়ালে লতানো গাছ লাগিয়ে নিন। রোদ ঢাকতে সাহায্য করবে। টবে সবুজ গাছ শুধু স্নিগ্ধ আরামই নয়, এয়ারকন্ডিশনার এফিশিয়েন্সি বাড়ায়। ঘরে প্রচুর ইনডোর প্লান্টস রাখুন। হিট অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করবে।

* বাড়ির ভেতর ও বাইরে হালকা রং ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ গাঢ় রং হিট অ্যাবজর্ব করে। সাধারণ বালব বেশি হিট জেনারেট করে, তাই কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প ব্যবহার করুন। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় এবং স্নিগ্ধতাও বাড়ায়।

* ডাইরেক্ট লাইটিংয়ের বদলে কোভ লাইটিং বা হিডেন লাইটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট সারা ঘরে মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

* দরজা-জানালায় ডাবল গ্লেজড কাচ লাগাতে পারেন। এই কাচের বিশেষত্ব হলো ৬-১২ মিলিমিটার গ্যাপে দুটো কাচের শিট লাগানো থাকে, যা গরম ও শব্দ দুটোই রুখতে সাহায্য করে।

Sunday, March 10, 2013

কালাজ্বর

0 comments
বিশ্বে ৮৮টি দেশের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ কালাজ্বরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ মানুষ এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। পৃথিবীতে যে সাতটি দেশ কালাজ্বরের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তার অন্যতম বাংলাদেশ। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ কয়েকটি জেলার বহু মানুষ কালাজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
কালাজ্বর ছড়ায় বেলে মাছির মাধ্যমে। লিস্মেনিয়া ডনোভানি নামের প্যারাসাইট দিয়ে এটি হয়। কালাজ্বর একটি জীবন সংহারী রোগ, যাতে শরীরে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, লিভার-স্প্লিন বড় হওয়া, মারাত্মক রক্তশূন্যতা, রক্তপাত, সেপটিসেমিয়া ইত্যাদি হয়। এ রোগের সঠিক চিকিৎসা না করালে জীবন সংকটে পড়তে পারে। কালাজ্বরের চিকিৎসাকালীন বা এর পরে রোগীর ত্বকে কখনো কখনো এক ধরনের জটিলতা দেখা দেয়, যাকে পোস্ট কালাজ্বর ডার্মাল লিস্মেনিয়াসিস বা পিকেডিএল (PKDL) বলে। পিকেডিএলে রোগী কালাজ্বর থেকে সুস্থ হলেও ত্বকে লিস্মেনিয়া ডনোভানি জীবাণু লক্ষণহীনভাবে বসতি করে থাকে। কালাজ্বরের চিকিৎসার কয়েক মাস বা বছর পরে রোগীর ত্বকে এক ধরনের ছোপ ছোপ সাদা-কালো দাগ দেখা দেয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছোট গুটির মতো দেখা দিতে পারে, যাতে কোনো ব্যথা বা চুলকানি থাকে না। কখনো কখনো কালাজ্বরের চিকিৎসাকালীনই পিকেডিএল দেখা দিতে পারে। পিকেডিএল হলে যদিও রোগীর মারাত্মক শারীরিক অসুবিধা হয় না, তবে যেসব ক্ষেত্রে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মকভাবে ঘাটতি থাকে_যেমন এইডস রোগী, সেসব ক্ষেত্রে রোগীর আবার কালাজ্বর দেখা দিতে পারে।
পিকেডিএল রোগীর ত্বকে অসংখ্য জীবাণুর বসতি থাকায় বেলে মাছির কামড়ে জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়ায়। আমাদের দেশে কালাজ্বর ও পিকেডিএল রোগীই লিস্মেনিয়া জীবাণুর উৎস। তাই কালাজ্বর প্রতিরোধে কালাজ্বর ও পিকেডিএল রোগীর চিকিৎসা এবং বেলে মাছি নিয়ন্ত্রণই প্রধান উপায়। কালাজ্বর বা পিকেডিএল নিশ্চিত হলে ইনজেকশন সোডিয়াম স্টিবোগ্লুকনেট অথবা মিল্টেফোসিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। আমাদের দেশে সরকারিভাবে বিনা মূল্যে কালাজ্বরের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই সম্ভাব্য পিকেডিএল রোগীকে অবহেলা না করে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।  সূত্র: কালের কন্ঠ

পেটের গঠন ঠিক রাখতে ব্যায়াম

0 comments
A great exercise for the abdominal muscles


 মেদভূড়ি কমাতে শরীর চর্চা
শরীরচর্চা বিষয়ে সব পোস্ট

সনেট

0 comments
কবিতার একটি বিশেষ ধরনের নাম সনেট। নির্দিষ্ট ছন্দ ও রীতিসহ একটি কবিতাকে সনেট হয়ে উঠতে গেলে এতে অবশ্যই ১৪টি চরণ থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি চরণে অক্ষর সংখ্যাও হয় ১৪। সনেটের উৎপত্তি হয় ইতালিতে। বলা হয়ে থাকে সিসিলিয়ান কবি জিয়াকমো দা লেন্টিনির হাতেই সনেটের জন্ম। ইতালিয়ান সনেটো থেকে ইংরেজি সনেট শব্দটি এসেছে। সনেটো অর্থ ক্ষুদ্র গান। বাংলায় সনেটকে চতুর্দশপদী কবিতা বলা হয়ে থাকে। যাঁরা সনেট লিখে থাকেন ইংরেজিতে তাঁদের সনেটার বলা হয়ে থাকে। সনেটারদের মধ্যে যাঁকে সেরা বলা হয় তিনি হলেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। শেক্সপিয়ার ১৫৪টি সনেট রচনা করেছেন। তাঁর লেখা সনেটগুলোকে শেক্সপিয়ারীয় সনেট বলা হয়। সব ইংরেজ কবিই যে সনেট রচনার ক্ষেত্রে একই নিয়ম মেনে চলেছেন তা নয়। বরং বিভিন্ন সময়ে এর রীতি বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইংরেজি কবিদের লেখা সনেটে পার্থক্য সুস্পষ্ট। লেন্টিনি সনেট আবিষ্কার করলেও গিউটনে ডি' অরেজো সনেটের পুনর্জন্ম দেন। তিনি প্রায় ২৫০ সনেট লেখেন। প্রথম দিকে বহু ইতালীয় কবিই সনেট লেখেন। তবে তাঁদের মধ্যে ফ্রান্সেসকো পেট্রেকার লেখা সনেটগুলোই সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি ১১ ছন্দমাত্রা ব্যবহার করে তাঁর সনেটগুলো ফুটিয়ে তোলেন। তিনিই সনেটের ১৪ লাইনকে অকটেভ ও সেসটেভ দুই ভাগে ভাগ করেন। এ ছাড়া জন মিল্টন, এডমন্ড স্পেনসারও সনেটের ইতিহাসে বিশেষ কৃতিত্বের দাবিদার। মিল্টনই পেট্রেকীয় সনেটকে বৈশিষ্ট্যমূলক অবয়ব থেকে মুক্ত করেন। বংলা ভাষায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাত ধরেই সনেটের যাত্রা শুরু। পেট্রিকীয় পদ্ধতিতে লেখা মধুসূদনের সনেটগুলোর সঙ্গে মিল্টনের লেখা সনেটের বেশ মিল পাওয়া যায়। মধুসূদনের মৃত্যুর পর বাংলার সনেট যাত্রা প্রায় থেমেই গিয়েছিল। পরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে আবার জেগে ওঠে বাংলা ভাষার সনেটচর্চা। রবীন্দ্রনাথ বহুদিন ১৩ লাইন ব্যবহার করে সনেটচর্চা করেছেন, যা সনেটের গঠনশৈলীর বিচারে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

গ্রন্থনা : নাঈম ফেরদৌস রিতম

Saturday, March 9, 2013

কোলাবোরেটিভ জার্নালিজম, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

0 comments
পাঁচ বছর আগেও এমনটা কেউ ভাবেনি। এখন সামাজিক গণমাধ্যম সাংবাদিকতার ধরন বদলে দিয়েছে। পশ্চিমারা একে বলছে কোলাবোরেটিভ জার্নালিজম বা সহযোগিতার সাংবাদিকতা। প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা... বিষয়টা এমন নয়। প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে একে আলিঙ্গন করেছে। ফেসবুক আসে ২০০৪- এ,আর টুইটার ২০০৬-এ। প্রথম কটা বছর ছিলো শুধুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আজ যার ইন্টারনেটে যাওয়ার সুযোগ আছে তিনি এই দুইয়ের একটিতে থাকতে চাইছেন। তাই বড় বড় তো বটেই,এমনকি খুব সাধারণ মানের সংবাদ মাধ্যমও চায় এই সামাজিক মাধ্যমে নিজে থাকতে,বা তাকে ব্যবহার করতে।
সাংবাদিকরাও এখন এই সামাজিক মাধ্যমের বহুল ব্যবহারকারী। শুরুটা ছিল এমন যে নিজের কোনো ভাবনা এই মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া আর তার প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা। আর এখন তা হয়ে উঠেছে সহযোগিতা সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত।
সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠছে তথ্য অনুসন্ধানের বড় ক্ষেত্র। আমাদের এখানে বিষয়টি যদিও কোনো মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের কাজে বেশি ব্যবহার হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় কিন্তু তা একটু অন্যরকম। অনেক বড় বড় পত্রিকা একে কাজে লাগাচ্ছে তথ্য অনুসন্ধানে বা কোনো খবরের পক্ষে অভিমত তৈরিতে।
ফেসবুক বা টুইটারের বন্ধুরা হয়ে উঠছে কনটেন্ট কিউরেটর , সূচি বা বিষয়বস্তু বিচারক ও বিশ্লেষক। অনেক ফেসবুক বা টুইটারের বন্ধু পালন করছে সম্পাদকের ভূমিকা। ফেসবুক বা টুইটার শেয়ারিং তো সাদামাটা ব্যাপার এখন। পশ্চিমা দুনিয়ায় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, মন্তব্য আহবান করা কিংবা নিজের ওয়েব ভারসনের কোনো খবরের লিংক সামাজিক মাধ্যমের সাইটগুলোতে আপলোড খুবই স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের এখানেও তার বিস্তার ঘটছে ব্যাপকহারে।
হয়তো সম্পাদকীয় বিচার-বিশ্লেষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু ফেসবুক আর টুইটারের প্রতিক্রিয়া যেকোনো তথ্যের নতুন দিক উন্মোচন করে তাতে সন্দেহ নেই। পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বা সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের জন্য হয়তো নতুন ধরনের সম্পাদকীয় নীতিমালা ভাবতে হবে।
সংবাদ প্রচার আর ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার খুব সাধারণ ব্যাপার এখন। প্রশ্ন হলো আসছে দিনগুলোতে কি হতে পারে? যেহেতু সাংবাদিকতা এখন অনেক বেশি সহযোগিতার মাধ্যমে হচ্ছে তাহলে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ধরনটা কেমন হতে পারে?
অনুসন্ধানী প্রতিবদেকরা তাদের রিপোর্ট সমৃদ্ধ করতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। যে বিষয়ে অনুসন্ধান করছে সে বিষয়ে সে তার বন্ধুদের সাহায্য চাইতে পারে। সামাজিক সাইটে এমন অনেক বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে খুব কমই দেখা হওযার সুযোগ আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ মানেই এই ভার্চুয়াল জগতে দেখা-সাক্ষাত। তাই সেসব বন্ধুর অনেকেই হয়ে উঠতে পারে অনেক সংবাদের সূত্র।
এসব মানুষের অনেকেরই বিশ্লেষণী ক্ষমতা অনেক সমৃদ্ধ। অনেকের কাছেই আছে অনেক চমকপ্রদ তথ্য। আর নানা মততো আছেই যা রিপোর্টারের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে আরো পরিপূর্ণ করে। ফেসবুকে বা টুইটারে ছোট্ট এক মন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বড় ক্লু। এ এক নতুন ধরনের সাংবাদিকতা যা সত্য তুলে ধরতে অবদান রাখছে। পত্রিকা বা টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণে যে অংশগ্রহণ ক্রমেই হয়ে উঠছে সংলাপের মঞ্চ।
তবে ভাবনাও আছে। এখানে যারা স্ট্যাটাস দেন বা টুইট করেন তাদের সব তথ্য কিন্তু সত্য নাও হতে পারে। সব ব্যাখ্যা সততার সঙ্গে নাও হতে পারে। নিজের জ্ঞান আর বিবেক ব্যবহার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাংবাদিককে।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা: বার্তা পরিচালক,একাত্তর টেলিভিশন ইমেইল: ishtiaquereza@gmail.com