Monday, July 1, 2013

গর্ভপাত ও গর্ভনিরোধ

0 comments
জরায়ু থেকে অপরিণত ভ্রুণ বেরিয়ে আসাকে গর্ভপাত/এবরশন বলা হয়। গর্ভপাত ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটানো যায়, আবার কখনও কোন আঘাত বা কারণ ছাড়াই জরায়ু থেকে ভ্রুণ বেরিয়ে আসতে পারে। এই গর্ভপাত গর্ভকালীন যে কোন জটিলতার কারণে স্বত:স্ফূর্তভাবেই সংঘটিত হতে পারে অথবা কৃত্রিমভাবেও করা যেতে পারে।


স্বত:স্ফূর্ত গর্ভপাত
কৃত্রিম উপায়ে গর্ভপাত
ঔষধ প্রয়োগে গর্ভপাত
শল্য/যন্ত্র প্রয়োগে গর্ভপাত
গর্ভপাত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
মাসিক নিয়মিতকরণ
গর্ভপাত প্রতিরোধ বিষয়ক বার্তা
অনিরাপদ গর্ভপাত প্রতিরোধ
সচরাচর জিজ্ঞাসা


স্বত: স্ফূর্ত গর্ভপাত


গর্ভধারণের ২২ সপ্তাহের মধ্যে কোন দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বা প্রাকৃতিক কারণে জরায়ু থেকে ভ্রুণের বের হয়ে আসাকে স্বত:স্ফূর্ত গর্ভপাত বলে।


কৃত্রিম উপায়ে গর্ভপাত


গর্ভ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন উপায়ে গর্ভপাত ঘটানো যেতে পারে। উপায় সমূহ প্রধানত: গর্ভধারণকাল বা ভ্রুণের বয়স বা আকারের উপর নির্ভর করে।


ঔষধ প্রয়োগ


ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমেও গর্ভপাত ঘটানো যায় । এটি গর্ভকালের প্রথম তিনমাসের মধ্যে কার্যকর।


শল্য/যন্ত্র প্রয়োগ


গর্ভকালের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে চোষণ যন্ত্রের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে গর্ভপাত মায়ের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।


গর্ভপাত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা


গর্ভপাতের জন্য মাসিক নিয়মিতকরণ পদ্ধতি কোথায় আছে এবং গর্ভের কতদিনের মধ্যে গর্ভপাত নিরাপদ, এ তথ্য জানা থাকলে এবং সেবা পাওয়া গেলে অনিরাপদ গর্ভপাত এড়ানো সম্ভব।

মাসিক নিয়মিতকরণ


মাসিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রয়েছে মাসিক নিয়মিতকরণ বা এম.আর. পদ্ধতি।


সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাসিক নিয়মিতকরণ কেবলমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক শেষ মাসিকের ১ম দিন থেকে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শেষ মাসিকের ১ম দিন থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা দিতে পারেন।


মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা কেন্দ্রসমূহ

জেলা হাসপাতাল
উপজেলা হাসপাতাল
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
বেসরকারী ক্লিনিক


গর্ভপাত প্রতিরোধ বিষয়ক বার্তা


গর্ভপাত মায়ের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে,এমনকি মৃত্যুও হতে পারে
পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে অপরিকল্পিত গর্ভধারণ রোধ করলে গর্ভপাতের প্রয়োজন হয় না
গর্ভপাত এড়াতে হলে গর্ভকালীন অবস্থায় সংসারের ভারী কাজ করা যাবে না


অনিরাপদ গর্ভপাত প্রতিরোধ


গর্ভপাতের জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার বা সেবা প্রদানকারীর কাছে যেতে হবে
গর্ভপাতের জন্য হাতুড়ে ডাক্তারের কোন ওষুধ বা শিকড় ব্যবহার করলে গর্ভবতী মহিলা মারা যেতে পারেন
গর্ভপাতের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে


সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন.১.গর্ভপাত কাকে বলে?

উত্তর. জরায়ু থেকে ভ্রুণ বেরিয়ে আসাকে গর্ভপাত বলা হয়। গর্ভপাত ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটানো যায়, আবার কখনও কোন আঘাত বা কারণ ছাড়াই জরায়ু থেকে ভ্রুণ বেরিয়ে আসতে পারে।



প্রশ্ন.২. স্বত:স্ফূর্ত গর্ভপাত কোনটি?

উত্তর. গর্ভধারণের ২২ সপ্তাহের মধ্যে কোন দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বা প্রাকৃতিক কারণে জরায়ু থেকে ভ্রুণের বের হয়ে আসাকে স্বত:স্ফূর্ত গর্ভপাত বলে।



প্রশ্ন.৩. ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভপাত কতদিনের মধ্যে করতে হয়?

উত্তর.ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভপাত গর্ভকালের প্রথম তিনমাসের মধ্যে কার্যকর।


প্রশ্ন.৪.শল্য/যন্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে কতদিনের মধ্যে গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে?

উত্তর.গর্ভকালের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে চোষণ যন্ত্রের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে গর্ভপাত মায়ের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।




গর্ভনিরোধ


স্বইচ্ছায় গর্ভাধান হতে না দেওয়াই হল গর্ভনিরোধ৷ যখন ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর মিলনের ফলে উত্পন্ন ভ্রূণবীজ(শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের উত্পাদন)গর্ভাশয়ের আবরণের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে ও বড় হতে শুরু করে৷ এই পদ্ধতির কথা মাথায় রেখে, গর্ভাধান রোধ করার প্রধানত পাঁচটি উপায় আছে:

গর্ভাধান রোধের সবচেয়ে সহজ উপায় হল যৌনসংসর্গ না করা, অর্থাত্ পুরুষাঙ্গ বা যৌনাঙ্গের সংসর্গ না ঘটানো৷ এরই আর একটু সংশোধিত উপায় হল মহিলাদের প্রজনন বৃত্তের দিনগুলিতে পুরুষাঙ্গ-যৌনাঙ্গের সংশ্রব না করা৷
আরেকটি সহজ উপায় হল ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর মিলন ঘটতে না দেওয়া৷ এর জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রতিরোধক পদ্ধতি(মহিলা ও পুরুষদের কন্ডোম, মধ্যচ্ছদা ও গর্ভাশয়ের আবরণ(সার্ভিকাল ক্যাপ)এবং ভ্যাসেকটমি(পুরুষদের নির্বীজকরণ)ও টিউবাল লাইগেশন(মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণ)
তৃতীয় উপায় হল মহিলাদের শরীরে ডিম্বাণু ও পুরুষদের শরীরে শুক্রাণু উত্পাদন বন্ধ করে দেওয়া৷ তার মধ্যে আছে হরমোন সংক্রান্ত পদ্ধতি, যেমন, মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট, ইঞ্জেকশন ও চামড়ার তলায় প্রয়োগ৷ পুরুষ ও মহিলাদের জন্য উদ্ভাবিত প্রজনন-প্রতিরোধী প্রতিষেধকও এই শ্রেণীতে পড়ে৷
আরেকটি উপায় হল ভ্রূণবীজকে গর্ভাশয়ে সংযোজিত না হতে দেওয়া৷ এর মধ্যে আছে জরায়ুর মধ্যে যন্ত্র প্রতিস্থাপন(আইইউডি)ও নন স্টেরোয়ডাল ট্যাবলেট৷

পঞ্চম উপায় হল, গর্ভাধানের পর ভ্রূণবীজকে নষ্ট করে দেওয়া৷ যেমন, আবিষ্ট গর্ভপাত ও গর্ভপাত করানোর বড়ি৷

অতএব, যেহেতু গর্ভাধান প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন গর্ভনিরোধক বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে, তাই প্রত্যেককে নিজস্ব সুবিধাজনক পদ্ধতি বেছে নিতে হবে, যাতে তার স্বাস্থ্য ও জীবনের ঝুঁকি না থাকে৷ মনে রাখতে হবে, এটি সারা জীবনের সিদ্ধান্ত নয়৷যথাযথ গর্ভনিরোধক বেছে নেবার সময় মনে রাখতে হবে:

কার্যকারিতা, অর্থাত্ গর্ভাধানের সম্ভাবনা কতটা?
গর্ভনিরোধক পদ্ধতি কি সুরক্ষিত, অথবা তার কি গুরুতর প্বার্শপ্রতিক্রিয়া আছে?
এতে কি কোনো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভাবনা আছে?
স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে কি এর কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? বুকের দুধে কি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি কোনো প্রতিক্রিয়া করে?
ভবিষ্যতে শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর কি এর কোনো প্রভাব পড়বে?
এর কি কোনো বিশেষ বাধানিষেধ আছে? যেমন, অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা জনন নালীর সংক্রমণ আছে, এমন মহিলা কি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন না?
এই পদ্ধতি কি ব্যবহারকারী নিজেই প্রয়োগ করতে পারবেন, অথবা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর নির্ভর করতে হবে?

প্রাকৃতিক উপায়(পুরুষাঙ্গের সঙ্গে যৌনাঙ্গের সংস্পর্শ এড়ানো, বিশেষত প্রজনন বৃত্তের দিনগুলিতে):

গর্ভাধান না করার সবচেয়ে সহজ ও সুরক্ষিত উপায় হল যৌনসঙ্গম একেবারেই না করা৷ পরবর্তী ভাল উপায় হল পুরুষাঙ্গের সঙ্গে যৌনাঙ্গের সংসর্গ না ঘটা৷ এটি ছাড়াও যৌনসুখ উপভোগ করা যায়৷ বহু যুগ ধরে মহিলারা জানেন যে মাসের মধ্যে কেবল বিষেষ কয়েকটি দিনেই গর্ভাধান করা সম্ভব৷ অতএব, তাঁরা জানতেন যে সেই কয়েকটি দিন যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চললেই গর্ভাধান প্রতিরোধ করা যাবে৷ আজও জন্মনিরোধক কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার না করে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির সাহায্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব৷

রিদম্(ক্যালেন্ডার)পদ্ধতি-- এই পদ্ধতি অনুযায়ী একজন মহিলার মাসিক ঋতুচক্র শুরুর ১০ দিন তাঁর প্রজননক্ষম উর্বরতা সবচেয়ে বেশি থাকে৷ অতএব, ঐ ১০ দিন যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চললে গর্ভাধানের ভয় থাকেনা৷ ঋতুস্রাব শুরু হবার আগে ও পরের ৭ দিন সুরক্ষিত বলে ধরা হয়৷ কিন্ত্ত এই পদ্ধতির উপর পুরোপুরি নির্ভর করা যায় না, কেননা অনিয়মিত ঋতুচক্রের কথা এতে ধরা নেই৷ রিদম্ পদ্ধতিতে ধরে নেওয়া হয় যে প্রত্যেক মহিলার ঋতুচক্রই ২৮ দিনের এবং মাসের মাঝামাঝি ডিম্বক্ষরণ শুরু হয়৷ কিন্ত্ত প্রত্যেক মহিলার ঋতুচক্রের সময়সীমা বিভিন্ন এবং ডিম্বক্ষরণও বিভিন্ন সময় শুরু হতে পারে৷ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার না করার চেয়ে এটি অপেক্ষাকৃত ভাল৷

গর্ভাশয়ের স্রাব / বিলিংস ওভিউলেশন(ডিম্বক্ষরণ)পদ্ধতি :

প্রায় সব মহিলারই মাসের বেশিরভাগ সময় যোনি থেকে কিছু পরিমাণ নিঃসরণ(স্রাব)হয়৷ এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর লক্ষণ৷ এই স্রাবের পরিমাণ, ঘনত্ব ও রঙ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়৷ কখনো এটি আঠালো ও সাদা হতে পারে, অন্যান্য সময় পিছল ও স্বচ্ছ হতে পারে৷ ঋতুচক্রের বিভিন্ন ধাপে এই স্রাবের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়৷ মাসিকের পর পরই এই স্রাব সাধারণত অল্প, অপেক্ষাকৃত শুকনো, মোটা স্তরের ও সাদাটে হয়৷ গর্ভাশয়ে ডিম্বাণু পুরো তৈরি হয়ে গেলে শরীরের হরমোন ইস্ট্রোজেন এই স্রাবকে স্বচ্ছ, চটচটে ও পিছল করে৷ ডিম্বক্ষরণের সময় ও পরবর্তী দিনে এই পিছল ও চটচটে ভাব সবচেয়ে বেশি থাকে৷ সেই কারণে এরকম স্রাব নির্গমনের দিনগুলোই কোনো মহিলার পক্ষে সবচেয়ে প্রজননক্ষম৷ আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করে স্রাবের তারতম্য অনুযায়ী মহিলারা উর্বর ও অনুর্বর দিনগুলির হিসাব করতে পারেন৷

তলদেশীয়(বাসাল)শারীরিক উত্তাপ-- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরেই শরীরের যে তাপমাত্রা থাকে, তাকে বলে তলদেশীয় শারীরিক তাপমাত্রা৷ মাসের মাঝামাঝি সময়, ডিম্বক্ষরণ শুরু হবার ঠিক পরেই এই তাপমাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যায়(প্রায় ১-২ডিগ্রি ফা.)ও পরবর্তী মাসিকের সময় পর্যন্ত একইরকম থাকে৷ একজন মহিলা যদি প্রতিদিন সকালে এই নির্দিষ্ট সময়ে নিজের শরীরের তাপমাত্রা মাপেন, তবে তফাত্ বুঝতে পারবেন৷ গর্ভনিরোধের জন্য যদি কেবলমাত্র এই একটি পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হয়, তবে তাপমাত্রা বাড়া পর্যন্ত পুরো সময়টাই(১-১৬দিন)পুরুষাঙ্গের সঙ্গে যৌনাঙ্গের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে৷ ডিম্বক্ষরণ শুরু হলে, অন্য দুদিন প্রজননক্ষম বলে বিবেচিত হবে৷ অতএব, এতে যৌনসংসর্গের দিন তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷ তাছাড়াও, প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপার ঝামেলাও পদ্ধতিটিকে জটিল করে তোলে৷

বাধাদানের পদ্ধতি(যে পদ্ধতি শুক্রাণুর সঙ্গে ডিম্বাণুর মিলনে বাধা দেয়):

এই পদ্ধতিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মধ্যে বাইরে থেকে বাধা তৈরি করা হয়৷এই ধরণের নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি বর্তমানে উপলব্ধ:

পুরুষদের কন্ডোম-- এটি একটি লম্বা রবারের খাপ, যেটি যৌনসংসর্গের সময় পুরুষাঙ্গে পরে নিতে হয়৷ এটি যোনিতে শুক্রাণুর প্রবেশ প্রতিরোধ করে৷ পুরুষাঙ্গ ও যৌনাঙ্গের সংস্পর্শ হবার আগেই এটি উত্থিত পুরুষাঙ্গে পরে নিতে হয়, কেননা বীর্যস্খলনের অনেক আগেই পুরুষাঙ্গ থেকে কয়েক ফোঁটা তরল নিঃসৃত হয়, যাতে শুক্রাণু বা যৌনসংক্রমণের বীজাণু থাকতে পারে৷ বীর্যস্খলনের পর খুব সাবধানে যৌনাঙ্গ থেকে পুরুষাঙ্গকে বার করে আনতে হবে, যাতে যোনির আশেপাশে বীর্য ছলকে না পড়ে৷ তারপর কন্ডোমটি খুলে ফেলে দিতে হবে৷ একটি কন্ডোম একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়৷ পুরুষদের কন্ডোম গর্ভনিরোধের একটি সুরক্ষিত উপায়, পুরুষ বা মহিলার শরীরে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই৷ এটি এইডস ও অন্যান্য যৌনসংক্রমণ প্রতিরোধ করে৷ আর একটি সুবিধা হল, এটি দুদিকেই ব্যবহার করা যায়৷ গর্ভনিরোধক হিসাবে কন্ডোম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়৷

কেউ কেউ, বিশেষত পুরুষেরা, মনে করেন যে কন্ডোম যৌনসঙ্গমের স্বতঃস্ফূর্ততা ও আনন্দ কমিয়ে দেয়৷ তার ওপর, কিছু মানুষের রবারে অ্যালার্জি আছে৷ যদি কন্ডোম উন্নতমানের না হয়, বা অনেকদিন রাখা থাকে, বিশেষত কোনো গরম জায়গায়, তবে তা ছিঁড়ে বা ফুটো হয়ে যেতে পারে৷ যৌনসঙ্গমের সময় যথেষ্ট পিচ্ছিলতা না থাকলে, অথবা ভুলভাবে(যদি ঠিকভাবে পরা না হয়)ব্যবহৃত হলেও কন্ডোম ছিঁড়ে যেতে পারে৷ অত্যন্ত কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও জন্মনিয়ন্ত্রণে পুরুষদের দায়িত্ববোধের অভাবই হল কন্ডোম ব্যবহারে অনীহার কারণ, যদিও, যৌনসঙ্গমের সময় কন্ডোম ব্যবহার আনন্দদায়ক হতে পারে৷ কন্ডোম সুরক্ষিত এবং এইডস বা অন্যান্য যৌনসংক্রমণ প্রতিরোধ করে, এইসব বিবেচনা করে পুরুষদের কন্ডোম ব্যবহারে উত্সাহিত করার প্রচেষ্টায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷

মধ্যচ্ছদা-- এটি উনিশ শতকে আবিষ্কৃত হয়েছিল৷ মহিলাদের গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে এটি এক যুগান্তকারী আবিষ্কার৷ মধ্যচ্ছদা হল একটি গোল রবারের চাকতি, যার কিনারাগুলি শক্ত৷ জরায়ুকে ঢেকে রাখার জন্য ও বীর্য প্রবেশ রোধ করার জন্য এটি যোনির ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়৷ প্রথমবার মধ্যচ্ছদা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিত্সক/ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন, কেননা, যোনির উপরিভাগের মাপ অনুসারে ২-৪ ইঞ্চির মধ্যে বিভিন্ন মাপে এটি পাওয়া যায়৷ সঠিক মাপটি জেনে গেলে মহিলাটি নিজেই এটি পরতে বা খুলতে পারবেন৷ এটি যেকোনরকম যৌনসংসর্গের আগে পরে নিতে হয় এবং যৌনসঙ্গম শেষ হবার পর এর বীর্যনাশকের সাহায্যে যোনিতে অবশিষ্ট বীর্য নাশের জন্য এটি অন্তত ছ’ঘন্টা রেখে দেওয়া উচিত৷ তারপর এটি বার করে সাবান ও জল দিয়ে ধুয়ে, ভাল করে শুকিয়ে পরের বার ব্যবহারের জন্য রেখে দিতে হবে৷

মধ্যচ্ছদার সম্ভাব্য সমস্যাগুলি হল, এটি বেশি ভেতরে চলে গেলে গর্ভাশয় বা মূত্রনালীর থলিতে খিঁচুনি হতে পারে৷ কিছু মহিলার ক্ষেত্রে মূত্রনালীতে ব্যথা ও ক্রমাগত জ্বালা হতে পারে৷ যে সব মহিলা মূত্রনালী সংক্রমণ-প্রবণ ও যাদের জরায়ু স্থানচ্যুত, তাঁদের এটি ব্যবহার করা উচিত নয়৷ যাই হোক, এটির সুবিধা হল, এটি সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে৷ এটি ভারতবর্ষে খুব একটা সহজলভ্য নয়৷ মহিলাদের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরীক্ষার ভিত্তিতে এটি আমদানি ও বিতরণের ব্যবস্থা করেছে৷ একটি মধ্যচ্ছদার দাম প্রায় ৪০০ টাকা৷ যদিও আপাতভাবে এটি ব্যয়বহুল, তবু মনে রাখতে হবে, এটি বার বার ব্যবহার করা যায়, এবং যথাযথ ভাবে রাখলে প্রায় তিনবছর চলে৷

জরায়ুগ্রীবার ঢাকা-- এটি একটি লম্বাটে রবারের টুপি, যা জরায়ুর ওপর আঁটসাট হয়ে বসে যায়৷ গর্ভচ্ছদার মতই এটি জরায়ুতে শুক্রাণুর প্রবেশ রোধ করে৷ এটি এমনভাবে নির্মিত যে এটি জরায়ুর মুখে প্রায় হাওয়া নিরোধক আবরণ তৈরি করে৷ শোষণ বা ওপরের চাপে এটি জরায়ুর আরও কাছে চেপে বসে৷ দুর্ভাগ্যক্রমে এই জিনিসটি(সার্ভিকাল ক্যাপ)আমাদের দেশে পাওয়া যায় না৷

মহিলাদের কন্ডোম-- মহিলাদের কন্ডোম একদিক বন্ধ, নরম, আল্গা, রবার জাতীয় উপাদানে তৈরি৷ এটি যোনিতে শুক্রাণুর নিঃসরণকে রোধ করে৷ এটি যৌনসঙ্গমের আগে যোনিতে প্রবেশ করানো হয়৷ এই জিনিসটির দুটি প্রান্তে দুটি নমনীয় পলিইউরোথেন রিং লাগানো থাকে, একটি জরায়ুর দিকের বন্ধ প্রান্তে ও অন্যটি যোনির বাইরে খোলা দিকে৷ যোনিকপাট ও পুরুষাঙ্গের মুখের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এটি পদ্ধতিটির সুরক্ষাকে আরও বেশি কার্যকরী করে৷ কোনরকম যৌনসংসর্গের আগেই মহিলা-কন্ডোম পরে নেওয়া উচিত৷ যৌনসঙ্গমের পর খুব সাবধানে এটি খোলা দরকার, যাতে মহিলাটি উঠে দাঁড়াবার আগে যোনিতে শুক্রাণু পড়ে না যায়৷ মহিলা-কন্ডোম হল মধ্যচ্ছদা ও কন্ডোমের সমন্বয়৷ এটি মধ্যচ্ছদার মতই যোনিতে প্রবেশ করানো হয়, সরাসরি জরায়ুকে ঢাকা হয় না৷ পুরুষ-কন্ডোমের মতই মহিলা-কন্ডোম একবার মাত্র ব্যবহার করা যায়৷মহিলা-কন্ডোম শুধু যোনির দেওয়ালই নয়, জরায়ুকেও ঢেকে রাখে৷ পুরুষ-কন্ডোমের মতই এটি যে শুধু জন্ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী তাই নয়, এটি এইচআইভি বা যৌন সংক্রমণও প্রতিরোধ করে৷

এটির আরও সুবিধা হল যে, যৌনসঙ্গমের আগেই এটি পরে নেওয়া যায়, কাজেই সঙ্গম ব্যাহত হয় না৷ এটি একই মাপে পাওয়া যায়, তাই এটি পরার জন্য ডাক্তারের কাছে যাবার প্রয়োজন পড়ে না৷ এর প্রধান অসুবিধা হল এর দাম৷ আরেকটি অসুবিধা হল, যৌনসঙ্গম চলাকালে এটি থেকে লজ্জাজনক শব্দ বার হয়, আর ওরাল সেক্সও(মুখের দ্বারা সঙ্গম)সুখদায়ক হয় না৷ যেহেতু এটিতে ভগাঙ্কুর(ক্লিটোরিস)ঢাকা পড়ে, তাই বহু মহিলারই যৌন আনন্দ কমে যায় ও অসুবিধা বোধ হয়৷ মহিলা-কন্ডোম ভারতবর্ষে তত সহজলভ্য নয়৷ এটি সাধারণত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি বেশি বিলি করে৷

শুক্রাণু নাশক--এগুলি হল কেমিক্যাল দ্রব্য, যা যোনিতে শুক্রাণু নিধনের জন্য প্রয়োগ করা হয়৷ এগুলি ফেনা, ট্যাবলেট(যেমন, টুডে), জেলি ও ক্রীম(যেমন, ডেলফেন)-এর আকারে পাওয়া যায়৷ যৌনসঙ্গমের ঠিক আগেই অ্যাপলিকেটর দিয়ে এটি যোনিতে প্রযোগ করা হয়৷ এগুলির একার প্রযোগ গর্ভনিরোধের জন্য যথেষ্ট নয়৷ সাধারণত কন্ডোম বা মধ্যচ্ছদার কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এগুলি ব্যবহার করা হয়৷ কেবলমাত্র শুক্রাণু নাশের জন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটির অসফলতার সবচেয়ে কম হার আশা করা যায় ৬%, যেখানে বিশেষ হার হল ২৬%৷ এগুলির সাধারণত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, যদিও কোনো কোনো মহিলার যোনিদেশে চুলকানি ও অ্যালার্জি হতে পারে৷

প্রচলিত পদ্ধতি

স্তন্যপান করানো-- শিশুর জন্মের পর সাধারণত ঋতুস্রাব ও ডিম্বক্ষরণ শুরু হতে কয়েক মাস দেরি লাগে৷ স্তন্যপান করানোর সময়কালে ঋতুস্রাব বন্ধ থাকাকে বলে ল্যাকটেশনাল অ্যামেনোরিয়া৷ একজন মহিলা যখন শিশুকে অন্য কোনরকম খাবার দেওয়া ছাড়াই পুরোপুরি স্তন্যপান করান, তখন এই অবস্থা চলে৷ এই সময়ে গর্ভাধানের সম্ভাবনা কম থাকে৷ যদিও মনে রাখতে হবে যে, প্রথম ঋতুস্রাবের আগেই ডিম্বক্ষরণ শুরু হয়ে যায়৷ তাই, মাসিক ঋতুস্রাব শুরুর আগেই গর্ভাধান হয়ে যেতে পারে৷

যৌনসঙ্গমে বিঘ্ন / প্রত্যাখ্যান--

এই পদ্ধতিতে বীর্যস্খলনের আগেই যোনি থেকে পুরুষাঙ্গ বার করে নেওয়া হয়, যাতে বীর্য যোনিতে জমা না হয়৷ এই পদ্ধতিটি খুব একটা কার্যকর নয়, কারণ, এই প্রত্যাখ্যান ও বীর্যস্খলনের সময় নাও মিলতে পারে এবং যোনি ও যোনিমুখের সংস্পর্শ এড়ানোও কঠিন হতে পারে৷ তাছাড়াও, পুরুষাঙ্গ উত্থিত হলেই অল্প পরিমাণ শুক্রাণু বেরিয়ে আসে, গর্ভাধানের পক্ষে যা যথেষ্ট৷

যেসব পদ্ধতিতে প্রজনন-উর্বরতা প্রতিরোধ করা হয় :

ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস(আইইউডি)(জরায়ুর মধ্যে যন্ত্র স্থাপন)-- আইইউডি হল সাধারণত একটি ছোট্ট, স্থিতিস্থাপক প্লাস্টিকের যন্ত্র, যেটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়৷ বেশিরভাগ আইইউডিতে তামা অথবা কৃত্রিম প্রোজেস্টন থাকে৷ এটি জরায়ুর মধ্যে দিয়ে গর্ভাশয়ে প্রবেশ করানো হয়৷ এটি জায়গামত বসে গেলে, এর সুতোগুলি(সাধারণত ২টি)যোনির উপরিভাগ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেওয়া হয়৷ যোনিতে আঙুল ঢুকিয়ে সুতোগুলির স্পর্শ পেলে বোঝা যায় যে আইইউডি টি যথাস্থানে আছে৷আইইউডি কিভাবে কাজ করে সেটি এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি৷ আইইউডি(বিশেষ করে যেগুলিতে তামা থাকে)গর্ভাশয়ে প্রদাহ ও ক্রমাগত নিম্নমাত্রার সংক্রমণ তৈরি করে৷ এগুলি শুক্রাণুকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করে বা মহিলাদের যোনিদেশে এগুলির গতি নষ্ট করে, ফলে নিষিক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে৷ এমনও হতে পারে যে এটি ডিম্বনালীতে ডিম্বাণুর গতিবেগ বাড়িয়ে দেয়, ফলে শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হবার আগেই ডিম্বাণু গর্ভাশয়ে চলে যায়৷ যদিও বা কোনভাবে নিষিক্তকরণ হয়, গর্ভাশয়ে বাইরের জিনিস থাকায় ভ্রূণবীজ স্থাপনে বিঘ্ন ঘটে৷বর্তমানে ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি যে আইইউডি টি ব্যবহৃত হয়, সেটি হল কপার-টি৷ এই আইইউডিগুলি দুই থেকে তিন বছর পর পর বদলাতে হয়৷ আইইউডি প্রবেশ করানোর সময় গর্ভাবস্থা নেই এটি সুনিশ্চিত করতে মাসিক ঋতুস্রাবের সময় বা ঠিক পরে পরেই এটি জরায়ুতে প্রবেশ করাতে হয়৷ গর্ভনিরোধক হিসাবে এটি খুবই কার্যকরী৷ যদিও, এর কতকগুলি সাংঘাতিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে :

এটি প্রবেশ করানোর প্রথম তিন থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত সাংঘাতিক খিঁচুনি বা ব্যথা
খুব বেশি পরিমাণে মাসিক ঋতুস্রাব, অথবা দুটি মাসিকের মধ্যেকার সময়ে রক্তস্রাব, যা থেকে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে
দু একটি ক্ষেত্রে, জরায়ুর দেওয়ালে ফুটো হয়ে যেতে পারে৷ জরায়ুর ভেতরের আবরণ আইইউডিটিকে চারপাশ দিয়ে ঢেকে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে এটি বার করার সময় অত্যধিক যন্ত্রণা হতে পারে, কখনো কখনো তা ডি অ্যান্ড সি(প্রসারণ ও চাঁছা) প্রদ্ধতির সাহায্যে বার করতে হয়
এটি থেকে শ্রোণীর প্রদাহ সংক্রান্ত অসুখ দেখা দিতে পারে, যেটি জরায়ুর আবরণ, জরায়ুর দেওয়াল, ডিম্বনালী, গর্ভাশয়, জরায়ুর ঝিল্লি, জরায়ুর চওড়া অস্থিসন্ধি, বা শ্রোণীর গায়ে ঝিল্লির আবরণকে সংক্রামিত করতে পারে৷ দেখা গেছে যে, আইইউডি ব্যবহার করেন না, এমন মহিলাদের চেয়ে, এটি ব্যবহার করেন এমন মহিলাদের গনোরিয়া ও ক্ল্যামিডিয়া হবার সম্ভাবনা দুগুণ বেশি
আইইউডি ব্যবহার করেন এমন মহিলাদের(তামাযুক্ত আইইউডি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্বাবনা ৩%)স্থানভ্রষ্ট গর্ভাধানের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়৷ স্থানভ্রষ্ট গর্ভাধান(গর্ভাশয়ের বাইরে গর্ভাধান, সাধারণত ডিন্বনালীতে)একটি সাংঘাতিক সমস্যা, যা থেকে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, বন্ধাত্ব্য ও কখনো কখনো মৃত্যুও হতে পারে(যেখানে জরুরী ভিত্তিতে চিকিত্সার সুবিধা নেই)
আইইউডি নেবার আগে খুব ভাল করে বিবেচনা করতে হবে৷ যদি কারও একবারও গর্ভাধান না হয়ে থাকে, তবে তাঁর আইইউডি নেওয়া উচিত নয়৷ যাঁদের যোনির সংক্রমণের প্রবণতা আছে, আগে স্থানভ্রষ্ট গর্ভাধান হয়েছে, যাঁরা সাংঘাতিক ডিসমেনোরিয়ায়(যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব)ভোগেন, বা রক্তাল্পতা আছে, এমন মহিলাদেরও এটি নেওয়া উচিত নয়৷

বেশিরভাগ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রসব বা গর্ভপাতের পরপরই মহিলাদের আইইউডি নেবার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ কিন্ত্ত এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে৷

নন-স্টেরোয়ডাল পিল-সেন্ট্রিক্রোমান(স্টেরয়েড বিহীন সেন্ট্রিক্রোমান বড়ি):

এটি ভারতবর্ষের বাজারে সহেলী বা চয়েস 7 নামে পাওয়া যায়৷ এই স্টেরয়েডবিহীন বড়ি জরায়ুতে ডিম্বাণুর গতি বাড়িয়ে দেয়৷ নিষিক্তকরণ হয়ে যাবার পরবর্তী সময়েও এটি কার্যকরী হয়৷ সরকারের পক্ষ থেকে স্টেরয়েডবিহীন বড়িকে আদর্শ গর্ভনিরোধক হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে৷ যদিও, এটি হরমোনাল বড়ি না হলেও শরীরের ইস্ট্রোজেন- প্রোজেস্ট্রনের কাজকে প্রভাবিত ও পরিবর্তিত করে দিতে পারে৷ কিছু ক্ষেত্রে সেন্ট্রিকোমান গর্ভাশয়ে মাংসপিন্ড তৈরি হবার কারণও হতে পারে৷

গর্ভপাত

গর্ভপাত হল গর্ভাবস্থার পূর্ণ সময়কালের আগেই জরায়ু থেকে ভ্রূণকে বার করে নষ্ট করে দেওয়া৷ স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত হল নিজে থেকে নষ্ট হয়ে ভ্রূণের মৃত্যু৷ আবিষ্ট(কৃত্রিম)গর্ভপাতকে গর্ভাধানের নিদানিক সমাপ্তিও বলা হয়(মেডিকাল টার্মিনেশন অফ প্রেগনেন্সি, এমটিপি)৷ কখনো কখনো গর্ভনিরোধক উপায় ব্যবহার করা সত্ত্বেও গর্ভাধান হতে পারে, অথবা ধর্ষণ, অবৈধ সম্পর্ক বা বলাত্কারের ফলেও অবাঞ্ছিত গর্ভাধান সম্ভব৷ এসব ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত মহিলাটিকেই গর্ভপাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ যুগ যুগ ধরে গর্ভপাতকে জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে৷ বাইরে থেকে মালিশ, প্রচন্ড শারীরিক পরিশ্রম, ধারালো জিনিস দিয়ে জরায়ু চাঁছা, গর্ভপাত করায় এমন শেকড়বাকড় বা তরল ওষুধের সাহায্যে অনেক সময় মহিলারা গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন৷ গর্ভপাত মানে জীবনহানি করা, এই ধারণা থাকায় বহু সমাজে গর্ভপাত করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে৷ যদিও এখনও অনেক দেশেই গর্ভপাত বেআইনি, কিন্ত্ত সারা পৃথিবীতে মহিলারা আইনি, সুরক্ষিত, সাধ্যের মধ্যে ও সহজলভ্য গর্ভপাত করানোর অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন৷ মেডিকাল টার্মিনেশন অফ প্রেগনেন্সি আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী, ভারতবর্ষে আবিষ্ট গর্ভপাতকে আইনসম্মত করা হয়েছে৷ গর্ভপাত করানোর সময় ভ্রুণ ও ফুলকে জরায়ুর মাধ্যমে বার করে দেওয়া হয়৷ গর্ভাবস্থার সময়সীমা অনুসারে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে৷

শোষণ: গর্ভাধানের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে এই পদ্ধতিটি কার্যকর হয়৷ এই পদ্ধতিতে স্থানিক বা সাধারণ অবেদন(অসাড়)করে জরায়ুর ভেতর দিয়ে একটি ক্যানুলা বা টিউব(যেটি একটি সাকশন পাম্পের সঙ্গে লাগানো থাকে)প্রবেশ করানো হয়৷ শোষণের সাহায্যে কয়েক মিনিটের মধ্যে ভ্রুণটি বার করে আনা হয়৷ এই পদ্ধতিতে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না৷

ডি অ্যান্ড সি(প্রসারণ ও চাঁছা): গর্ভাধানের ৮ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানোর জন্য এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়৷ এতে একটি ডায়লিউটিং(প্রসারণ)রড-এর সাহায্যে জরায়ুটি প্রসারিত করা হয় এবং তারপর একটি কিউরেট দিয়ে চেঁছে পরিষ্কার করা হয়৷ এক্ষেত্রে সাধারণ অবেদনের প্রয়োজন হয়৷

আবিষ্ট প্রসববেদনা: গর্ভাবস্থার দেরিতে, অর্থাত্ ১৬-২০ সপ্তাহের সময় গর্ভপাত করানোর ক্ষেত্রে স্যালাইন, ইউরিয়া বা প্রোস্টাগ্ল্যানডিন-এর মিশ্রণ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ভ্রুণের থলিতে প্রয়োগ করে সময়-পূর্ব প্রসব বেদনা সৃষ্টি করে ভ্রুণকে বার করে দেওয়া হয়৷ এটি সাধারণ অবেদনের সাহায্যে করা হয় এবং এক বা দুদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হয়৷

গর্ভপাতের বড়ি: মাইফিপ্রিস্টন ও মিজোপ্রোস্টাল, এই দুটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগে নিদানিক গর্ভপাত করানো সম্ভব এবং ভারতবর্ষে এর ব্যবহার এখন আইনসিদ্ধ৷ মাইফিপ্রিস্টন(RU-486 নামেও পরিচিত)গর্ভপাতের বড়ি, কিন্তু এর কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকায় এটি প্রয়োগের ২থেকে ৩দিন পর প্রোস্টাগ্ল্যানডিন(মিজোপ্রোস্টাল)দেওয়া হয়৷ RU-486 কেবলমাত্র গর্ভাবস্থার প্রথম ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হয়৷ এই পদ্ধতি একমাত্র চিকিত্সকের অধীনেই প্রয়োগ করা উচিত, কারণ, এই ওষুধ থেকে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত হতে পারে৷ এর যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি জানা যায়, সেগুলি হল সাংঘাতিক বমি ও বমিভাব, সাংঘাতিক রক্তক্ষরণ, যা থেকে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে৷ এই পদ্ধতিতে গর্ভপাত হতে প্রায় ১২ দিন লাগে এবং এই পুরো সময়টায় রক্তক্ষরণ হতে পারে৷ তাছাড়া, যেহেতু RU-486 গর্ভাবস্থার একদম প্রথমদিকে কার্যকরী হয়, অতএব, যদি কোন কারণে এই ওষুধ দেওয়া সত্ত্বেও গর্ভপাত না হয়, তবে গর্ভস্থ ভ্রুণের ওপর এর কি প্রভাব পড়বে, সে ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায় না৷

হরমোনাল পদ্ধতি

এই পদ্ধতিতে শরীরের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্ট্রনকে প্রভাবিত করে ডিম্বক্ষরণ বা শুক্রাণু উত্পাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ এটি জরায়ুর শ্লেষ্মার ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়(যা শুক্রাণুর জরায়ুতে প্রবেশ প্রতিরোধ করে)এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরায়ু ও ডিম্বনালীর মধ্যে এমন পরিবর্তন আনে, যা নিষিক্তকরণকে প্রতিরোধ করে৷ হরমোনাল পদ্ধতি শরীরের হরমোনগুলির সূক্ষ্ম সন্তুলন নষ্ট করে৷ এর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুধু জননীয় পদ্ধতিকেই নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজকেও প্রভাবিত করতে পারে৷ যদিও এগুলি অত্যন্ত কার্যকরী ও এগুলির প্রয়োগ সহজ বলে, সরকারী গর্ভনিরোধক প্রদানকারীরা এটিকে আদর্শ গর্ভনিরোধক বলে প্রচার করেন৷

ওরাল(মুখে খাওয়ার)গর্ভনিরোধক: বিভিন্ন ওরাল গর্ভনিরোধকগুলির মধ্যে আছে--

সমন্বিত ওরাল গর্ভনিরোধক: এই ধরণের গর্ভনিরোধক বড়িতে বিভিন্ন অনুপাতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্ট্রন- এই দুটি হরমোন থাকে৷ এগুলি ঋতুচক্রের শুরুতে ডিম্বাশয়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে ডিম্বাণুর বৃদ্ধিতে বাধা দেয়৷ এখনকার কম মাত্রার কম্বিনেশন পিল(যেমন মালা-ডি)বেশি মাত্রার কম্বিনেশন পিল(যেমন ওভ্রাল)-এর থেকে বেশি নিরাপদ৷ যদিও এই ওষুধ সব মহিলার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়৷

কেবলমাত্র-প্রোজেস্ট্রন পিল: কম্বিনেশন পিল ডিম্বক্ষরণ বন্ধ করে, প্রোজেস্ট্রন পিল জরায়ুর শ্লেষ্মা বৃদ্ধি করে, শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর গতি কমিয়ে এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণকে বাড়তে না দিয়ে গর্ভনিরোধ করে৷ এই বড়ির বহু সুবিধা আছে, যেমন, বেশি কার্যকারিতা, ব্যবহারে সহজ এবং এটি যৌনসঙ্গমের সময় কোনরকম বাধা সৃষ্টি করে না৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, এর অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে৷

ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রদেয় গর্ভনিরোধক: ডেপো প্রোভেরা ও নেট এন হল ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, এমন কেবলমাত্র-প্রোজেস্ট্রন গর্ভনিরোধক৷ ডেপো প্রোভেরার গর্ভনিরোধক কার্যকারিতা ও নেট এনের কার্যকারিতা থাকে যথাক্রমে ৩ মাস ও ২ মাস৷ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে গর্ভনিরোধ একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি৷ যদিও এর সঙ্গে কিছু অল্পমেয়াদী প্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসমস্যা জড়িত৷ যেহেতু এটি খুব বেশি মাত্রায় দেওয়া হয়, তাই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পিলের চেয়ে অনেক গুরুতর৷ অনেক সময় কোনো মহিলা ইচ্ছা করলেও দু-তিন মাসের আগে এর প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত হতে পারেন না৷ বর্তমানে জাতীয় পরিবার কল্যাণ যোজনায় এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ ১৯৯৪ সালে এগুলি বেসরকারী চিকিত্সক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির দ্বারা সামাজিক বাজারীকরণের জন্য নথিভুক্ত হয়েছে৷

ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে কেবলমাত্র-প্রোজেস্টন ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্যসমস্যা:

মাসিক ঋতুচক্রের গন্ডগোল-- বহুদিন ধরে অল্প অল্প রক্তস্রাব অথবা অত্যধিক রক্তস্রাব অথবা রক্তস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া
রক্তবাহী ধমনীগুলি মোটা হয়ে যাওয়া ও হৃদবাহ সংক্রান্ত অসুখ
শরীরের অপ্রত্যাশিত জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া, ফলে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ইত্যাদির ক্ষতি
হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, ফলে সহজেই হাড় ভেঙে যাবার সম্ভাবনা ও হাড়ভাঙার ঘটনা বেড়ে যাওয়া
শারীরিক ওজনের তারতম্য
অন্যান্য বিপাকীয় পরিবর্তন, যেমন, রক্তে শর্করার মাত্রা, অবসাদজনিত ক্লান্তি, যৌনসংসর্গের ইচ্ছা কমে যাওয়া
প্রজনন-উর্বরতা ফিরে আসা নিশ্চিত নয়(সময়ের ব্যবধান রাখার ক্ষেত্রে এটি এই পদ্ধতির একটি গুরুতর সীমাবদ্ধতা)
ক্যানসারের ঝুঁকি- যার কোন সমাধান নেই
ভ্রুণের ওপর ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া(দৈবাত্ গর্ভাধানের ক্ষেত্রে)

জরুরী গর্ভনিরোধক বড়ি অথবা মর্নিং-আফটার পিল :

অসুরক্ষিত যৌনসঙ্গমের পরে, মুখে খাওয়ার জরুরী গর্ভনিরোধক গর্ভাধান প্রতিরোধ করতে পারে৷ একে পরবর্তী-সকাল বা যৌনসঙ্গম-পরবর্তী গর্ভনিরোধক বলা হয়৷ যেক্ষেত্রে কোন মহিলা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনসঙ্গমে বাধ্য হন(ধর্ষণ), কন্ডোম ছিঁড়ে যায় বা অপরিকল্পিত যৌনসঙ্গম হয়, সেক্ষেত্রে এই ধরণের গর্ভনিরোধকের বিশেষ গুরুত্ব আছে৷ অসুরক্ষিত যৌনসঙ্গমের ৭২ঘন্টার(৩দিন) মধ্যে এই গর্ভনিরোধক খেতে হবে, তার পরে খেলে এটি কার্যকরী হবে না৷ এর চারটি নির্ধারিত মাত্রা বা কম-মাত্রা আছে৷ জরুরী গর্ভনিরোধক হিসাবে মালা-ডি বা মালা-এন খাওয়া যেতে পারে৷ পরিবার পরিকল্পনা যোজনায় লেভনোরজেস্ট্রাল আছে, এমন ওষুধ চালু করা হয়েছে, এর দুটি বড়ি অসুরক্ষিত যৌনসঙ্গমের চারদিনের মধ্যে খেতে হয়৷এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ও পরবর্তী মাসিক ঋতুস্রাবের গন্ডগোল৷ এটি কিভাবে কাজ করে সে সম্বন্ধে খুব পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না৷ মনে করা হয়, এটি ডিম্বক্ষরণ রোধ করে এবং শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণু নিষিক্ত হবার পরও গর্ভাধান রোধ করতে পারে৷ যদিও এটি শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকরী হয়, এমন বলা যায় না৷ মাসিক ঋতুচক্রের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে একবার অসুরক্ষিত যৌনসঙ্গমের ক্ষেত্রে গর্ভাধানের সম্ভাবনা ৮% ও জরুরী গর্ভনিরোধক খাওয়ার পর তা কমে দাঁড়ায় ২%৷এটি মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যে, কোনো কারণে জরুরী গর্ভনিরোধক কাজ না করলে, ভ্রুণের শরীরে জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না৷ তাই, জরুরী গর্ভনিরোধক খাওয়ার সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে এবং আইনি ও সুরক্ষিত গর্ভপাত পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা সুনিশ্চিত করতে হবে৷

স্থায়ী পদ্ধতি

পুরুষ ও মহিলাদের শুক্রাণু / ডিম্বাণু বাহক নালী আটকে দেওয়া বা কেটে দেওয়া হল গর্ভনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি৷ আধুনিক চিকিত্সা-প্রযুক্তির সাহায্যে এই নালী আবার জোড়া যায়, কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব বা সফল হয় না, সে কারণে বাস্তবসম্মতভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহারের পর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কঠিন৷ বন্ধ্যাত্বকরণ একটি অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি৷ যাঁরা পরিবারের বাঞ্ছিত সন্তান সংখ্যা পেয়ে গেছেন ও তাঁদের আর সন্তান চাই না এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি যথাযথ৷

ভ্যাসেকটমি / পুরুষদের বন্ধ্যাত্বকরণ :ভ্যাসেকটমি হল অস্ত্রোপচারের সাহায্যে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বকরণ প্রক্রিয়া৷ এটির সাহায্যে শুক্রনালীকে আটকে দেওয়া হয়, যাতে শুক্রাণু পুরুষাঙ্গে পৌঁছতে না পারে৷ কিন্ত্ত তার জন্য বীর্যস্খলন বা যৌনসঙ্গমে কোনওভাবেই প্রভাব পড়ে না৷ যথেষ্ট ও সংবেদনশীল পরামর্শ ‘পুরুষত্ব’ ও স্বাভাবিক যৌনসঙ্গমের সক্ষমতা সম্পর্কে সন্দেহ দূর করতে সাহায্য করে৷‘বিনা-ছুরি’র এই অস্ত্রোপচারে দুটি ছোট ছিদ্র করে শুক্রনালীকে বাইরে এনে, কেটে, দুটি মুখ বেঁধে বা ক্লিপ করে দেওয়া হয়৷ এটির জন্য স্থানিক অবেদনই যথেষ্ট৷

ভ্যাসেকটমি একটি সহজ ও ছোট অপারেশন, কিন্তু অপারেশনের পর অন্তত ৪৮ ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন ও এক সপ্তাহ কোনো ভারী জিনিস তোলা উচিত নয়৷ যতক্ষণ না শরীরের সমস্ত অস্বস্তি ও অসুবিধাগুলি দূর হচ্ছে, ততক্ষণ যৌনসঙ্গম করা উচিত নয়, পুরোপুরি ঠিক হতে এমনিতেই এক সপ্তাহ লাগবে৷ অস্ত্রোপচারের পর দু তিন মাস পর্যন্ত কোনো একটি পরিবর্ত জন্মনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত, কেন না শুক্রথলিতে শুক্রাণু অন্তত তিনমাস বেঁচে থাকতে পারে৷ যদি অস্ত্রোপচারের পর খুব বেশি জ্বর, অত্যধিক বা ক্রমাগত রক্তক্ষরণ, ফোলা বা ব্যথা হয়, তবে অবিলম্বে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত৷

পুরুষদের বন্ধ্যাত্বকরণ অনেক বেশি সহজ ও সুরক্ষিত, কেননা তাঁদের জননাঙ্গ থাকে বাইরে, মহিলাদের মত ভেতরে নয়৷ সেজন্য ভ্যাসেকটমির ক্ষেত্রে শরীরের ভেতর কোন জটিলতার সম্ভাবনা থাকে না৷ সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ভ্যাসেকটমি হয়েছে, এমন পুরুষদের প্রস্টেটের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি, এছাড়া এই পদ্ধতিতে অন্য কোন দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার ঝুঁকি জড়িয়ে নেই৷

২. টিউবেকটমি / মহিলা বন্ধ্যত্বকরণ :

এই পদ্ধতিতে পেটে ছোট ছিদ্র করে মহিলাদের ডিম্বনালী কেটে, বেঁধে, বা ক্লিপ করে দেওয়া হয়৷ এটি স্থানীয় অবেদনের সাহায্যেই করা হয়৷ এটিতে ডিম্বনালী বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে ডিম্বাণু শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না৷ যথযথভাবে করলে, মহিলা-বন্ধ্যাত্বকরণ একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি, যদিও জটিলতা দেখা দিতে পারে ও দেখা দেয়৷ এর মধ্যে আছে সংক্রমণ, আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও জরায়ু এবং / অথবা অন্ত্রে ছিদ্র হয়ে যাওয়া৷ এছাড়াও, এতে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, বেদনাদায়ক মাসিক স্রাব হতে পারে এবং, আবার ডি অ্যান্ড সি, এমনকি হিস্টেরেক্টমি(জরায়ুকর্তন)করতে হতে পারে৷ এরকম ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিত্সকের সঙ্গে যোগোযোগ করতে হবে৷ বন্ধ্যাত্বকরণের আগে ও পরে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন৷ এই অপারেশনের ২-৩ দিন পরেই স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যায়, তবে এক সপ্তাহ ভারি জিনিস তোলা উচিত নয়৷ এক সপ্তাহ পরে যৌনসঙ্গম শুরু করা যেতে পারে৷


নারী কেন গর্ভপাত ঘটায় !



নারীদের গর্ভপাতের মুল কারণ কেবল অপরিকল্পিত ও অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ নয় বরং এর পেছনে রয়েছে র্আথ-সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ।



সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ফ্যামিলি প্লানিং পার্সপেক্টিব বিশ্বের ২৭ দেশের ৩২টি গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাপী নারীদের গর্ভপাতের কতগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকারি উপাত্ত, জাতীয় জরিপ, কমিনিউটি ও হাসপাতাল ভিত্তিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।



পর্যালোচনায় দেখা যায়, নারীরা সন্তান জন্মদানে অনিচ্ছা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে গর্ভপাত ঘটায়। বিশ্বব্যাপী এসব গর্ভপাতের কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আর্থ-সামাজিক উদ্ভেগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবচ্ছেদ, পরিবারের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব, বিদ্যমান সন্তানকে ভালোভাবে শিক্ষিত করা, দারিদ্রতা, বেকার, অধিক সন্তানের ভরণপোষণে অক্ষমতা, স্বামী বা সঙ্গীর সঙ্গে দাম্পত্য সমস্যা, নারীর বয়সগত সমস্যা, নারীর মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং অবৈধ সর্ম্পক।



উন্নত গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও গর্ভপাত রোধ করা সম্ভব হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভনিরোধক পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ রোধ করা সত্যিই দু:সাধ্য। কেননা নারীরা অনেক সময় গর্ভধারণ করছে কিনা তা চিহ্নিত করতে পারেনা কিংবা তাদের জীবনের সকল পরিস্থিতিতে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়না।

0 comments:

Post a Comment