Monday, November 23, 2020

‘বয়কট’ শব্দটি যেভাবে এল

0 comments

 সাত অক্ষরের ইংরেজি শব্দটির বাংলা পরিভাষা বর্জন করা; একঘরে করা; কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দেশের সঙ্গে সকল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। তবে আভিধানিক অর্থের চেয়ে বাংলাতেও স্রেফ ‘বয়কট’ শব্দেই জোরালো অর্থ প্রকাশ পায়। দুনিয়াজুড়ে শব্দটির ব্যবহার হরহামেশাই লক্ষ করা যায়। জনপ্রিয় এই শব্দ এল কী করে?

সর্বজন পরিচিত শব্দটি অভিধানভুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছেন এক ইংরেজ ভদ্রলোক, যাঁর নাম চার্লস কানিংহাম বয়কট (১৮৩২-১৮৯৭)। তাঁর কীর্তিকলাপের জন্য তাঁকে একঘরে করছিলেন আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির বর্গাচাষিসহ স্থানীয় লোকজন। বয়কটের এই একঘরে হওয়ার ঘটনা তখন প্রচারমাধ্যমেও আসে, যা কালক্রমে যুক্ত হয় অভিধানেও।

চার্লস কানিংহাম বয়কট
 ১৮৮০ সালের কথা সেটা। চার্লস কানিংহাম বয়কট ছিলেন তৃতীয় আর্ল আর্নে (সম্ভ্রান্ত ইংরেজ ভূমিমালিকদের পদবি) জন ক্রিকটনের (১৮০২-১৮৮৫) প্রতিনিধি। মায়ো কাউন্টির খাজনা আদায়ের দায়িত্ব ছিল তাঁর। সে বছর ফসলের ফলন কম হওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। সে আশঙ্কা আমলে নিয়ে জন ক্রিকটন ১০ শতাংশ খাজনা মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাষিরা দাবি তোলেন ২৫ শতাংশ মওকুফের। চাষিদের দাবি অগ্রাহ্য করেন লর্ড আর্নে।

এদিকে বয়কট আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে এক কাণ্ড ঘটান। তিনি ১১ জন বর্গাচাষিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। সরব হয়ে ওঠে স্থানীয় লোকজন। সরব হওয়ার পেছনে অবশ্য কারণও আছে। সে সময়টায় আয়ারল্যান্ডের ভূমি সংস্কারের পক্ষে লড়ে যাচ্ছিলেন আইরিশ রাজনীতিবিদ চার্লস স্টুয়ার্ট পার্নেল (১৮৪৬-১৮৯১)। তিনিই কোনো এক ভাষণে বলেছিলেন, কোনো জমি থেকে বর্গাচাষিকে উচ্ছেদ করা হলে, সে জমি যেন অন্য চাষিরা বর্গা না নেন। মালিকপক্ষ উচ্ছেদের হুমকি দিলে অহিংসভাবে তাঁকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আইরিশ রাজনীতিবিদ চার্লস স্টুয়ার্ট পার্নেল
বয়কটের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন সেই কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর গৃহকর্মী থেকে দিনমজুরেরা কাজ বর্জন করেন। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে থাকেন। এক সময় দেখা যায়, স্থানীয় ডাকঘরের পিয়নও চিঠি সরবরাহ বন্ধ করেছেন।

বয়কট চেষ্টা করেন অন্য এলাকা থেকে লোক এনে চাষবাসের কাজ করানোর। সে উদ্যোগও সফল হয়নি তাঁর। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন বয়কট। হালের ‘ভাইরাল’ হওয়ার মতো এই ঘটনা তখন ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়, ফলাও করে প্রচার করা হয় গণমাধ্যমে। বর্জন ও একঘরের সমার্থক হয়ে ওঠেন ‘বয়কট’, যা কালক্রমে যুক্ত হয় অভিধানেও। কিন্তু কে এই চার্লস কানিংহাম বয়কট?

বয়কট এক বিচিত্র চরিত্রের মানুষ। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের নরফোকের এক গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ব্ল্যাকহিথ এলাকার একটি বোর্ডিং স্কুলে। স্কুলজীবন থেকেই বয়কটের ফৌজি জীবনের প্রতি ছিল দুর্নিবার আকর্ষণ। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সেই আকর্ষণের টানে ১৮৪৮ সালে দক্ষিণ লন্ডনের উলউইচে অবস্থিত রয়্যাল মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। বছরখানেক পর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে মিলিটারি একাডেমি ছাড়তেও হয় তাঁকে। কিন্তু হাল ছাড়েন না বয়কট। পরিবারের সহায়তায় ১৮৪৯ সালে ৪৫০ পাউন্ডে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন পদ পেয়ে (ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে পদ কেনার সুযোগ ছিল) যান তিনি। পদাতিক বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যোগ দেন ৩৯তম ফুট রেজিমেন্টে। কিছুদিনের মধ্যে রেজিমেন্টের সঙ্গে বদলি হয়ে বয়কট চলে আসেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে। শুরু হয় আয়ারল্যান্ডের জীবন।

চার্লস কানিংহাম বয়কটের খামারবাড়ি
চার্লস কানিংহাম বয়কটের খামারবাড়ি

 

১৮৫১ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন বয়কট। প্রায় ছয় মাস রোগে ভোগার পর বয়কট তাঁর সেনাবাহিনীর পদ বিক্রি করে দেন। সে বছরই বিয়ে করেন মেরি অ্যান দুনেকে। টিপেরারি কাউন্টিতে খামার ইজারা নিয়ে আয়ারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আয়ারল্যান্ডের উত্তরাধিকার সনদ পাওয়ার হওয়ার পর দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় মায়ো কাউন্টির একটি দ্বীপে চলে যান বয়কট।

মায়ো কাউন্টিতে তাঁর জীবনের ইতিহাস তো ‘বয়কট’ শব্দেই মিশে আছে!

 

লেখা: সজীব মিয়া

প্রথম আলোয় প্রকাশিত

সূত্র: হিস্ট্রি আয়ারল্যান্ড, দ্য ফ্যাক্ট সাইট ডটকম, উইকিপিডিয়া

Sunday, November 22, 2020

ফোন নম্বর মনে থাকে না কেন?

0 comments

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। বন্ধু, স্বজন, আত্মীয়দের ফোন নম্বর আমরা ফোনবুকে নয়, ‘মন বুক’–এ টুকে রাখতাম। অন্তত গোটা দশেক ফোন নম্বর মুখস্থ রাখাই স্বাভাবিক ছিল। ধীরে ধীরে যন্ত্রের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়েছে। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের অর্ধেকের বেশি মানুষ তাঁদের সন্তান বা কর্মস্থলের ফোন নম্বর বলতে পারেন না। অথচ ছেলেবেলায় মুখস্থ করা বাবা–মায়ের পুরোনো ফোন নম্বর তাঁদের ঠিকই মনে আছে। এমন নয় যে কেবল ফোনবুকে নম্বর সেভ করা থাকে বলেই আমরা নম্বর মনে রাখি না। যন্ত্রের প্রতি নির্ভরতা বাড়ার কারণে আমাদের মস্তিষ্কও নম্বর মনে রাখার কাজে অনভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এই সমস্যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া’। শুধু ফোন নম্বর নয়, প্রিয়জনের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা জরুরি মিটিংয়ের তারিখও এখন আর আমরা মনে রাখতে চাই না। এই প্রবণতার ভালো দিক বা মন্দ দিক, দুটোই উঠে এসেছে নানা গবেষণায়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের স্নায়ুবিজ্ঞানী স্যাম গিলবার্টের মতে, বাজারের ফর্দ কিংবা ফোন নম্বর মনে রাখা মানুষের মস্তিষ্কের কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অপ্রয়োজনীয় তথ্য মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেন, তাহলে মস্তিষ্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।’ দৈনন্দিন জীবনের যেসব তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার জন্য ফোন বা কম্পিউটার আছে, সেগুলো মনে রাখা জরুরি নয় বলেই মনে করেন স্যাম। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ন্যান্সি ড্যানিসের বক্তব্যও স্যামের মতোই। 

তিনি মনে করেন, যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীলতা যেভাবে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে বদলে দিয়েছে, তাতে দোষের কিছু নেই। নম্বর, তারিখ, পাসওয়ার্ড মনে রাখার চেয়ে মস্তিষ্ককে তুরীয় চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং), বিশ্লেষণ বা সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখাই শ্রেয় বলে মনে করেন ন্যান্সি ড্যানিস।

পাল্টা যুক্তিও এসেছে অনেকের কাছ থেকে। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের গবেষক মারিয়া উইম্বার দাবি করছেন, যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীলতার কারণে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরি হয় না। কোনো তথ্য বা ঘটনা বারবার স্মরণ করলে যেমন তা মনে থাকে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলোও মাথা থেকে চলে যায়। 

একটা সাধারণ তথ্যের জন্যও যদি আপনাকে বারবার ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হতে হয়, তখন আর মস্তিষ্ক সেটা ধারণ করে রাখতে চায় না, তা যত সামান্যই হোক না কেন। জাদুঘরে বেড়াতে যাওয়া দর্শনার্থীদের নিয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা অধিকাংশই জাদুঘর ঘুরে কী কী দেখেছেন, তা মনে রাখতে পারেননি। একইভাবে আরেক গবেষণায় জানা গেছে, জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ব্যবহার করে যে গাড়িচালকেরা পথ চলেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই রাস্তা মনে রাখতে পারেন না। মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরন খুব অদ্ভুত। জানিয়ে রাখি, স্মৃতি জাগিয়ে তোলার জন্য ঘ্রাণ ভীষণ কার্যকর। 

একটা চেনা ঘ্রাণ হুট করেই আপনাকে ছেলেবেলার বহু পুরোনো স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আবার দেখবেন, কখনো কখনো গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের সামান্য একটা সূত্র মনে রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা গলদঘর্ম হয়। কিন্তু একটা গান দু–তিনবার শুনলেই মুখস্থ হয়ে যায়। এ কারণেই অনেকে নিজের ফোন নম্বর মনে রাখতে পারেন না, অথচ বেলা বোসের ফোন নম্বর ভোলেন না কখনো! 

লেখা: মো. সাইফুল্লাহ

প্রকাশ: প্রথম আলো 

সূত্র: বিবিসি ও টুডে ডটকম

Friday, October 16, 2020

বয়ফ্রেন্ড দিবস

0 comments

 প্রতি বছর তেসরা অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। 

দিবসটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে মজে উঠেন তাদের বান্ধবীরা। সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার মজার পোস্ট শেয়ার হয় এ দিবসকে ঘিরে। প্রেমিকদের শুভেচ্ছা জানান অনেক প্রেমিকা।

২০১৪ সালের ৩রা অক্টোবর প্রথমবারের মত বয়ফ্রেন্ড দিবস পালন করা হলেও, ২০১৬ সালে দিবসটি অনেকটা আলোচনায় আসে। সে বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এ দিবসটি নিয়ে ৪৬ হাজারের বেশি টুইট করা হয়।

Sunday, September 27, 2020

স্বর্ণ হরফে কুরআন

0 comments

কুরআন মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ। ২০১৫ সালে এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। 


 এর পরের বছর স্বর্ণের অক্ষরে কুরআন লিখে ইতিহাস গড়েন আজারবাইজানের এক নারী শিল্পী। তার নাম তুনজালে মেমেদজাদে।

১৬৪ ফুটের স্বচ্ছ কালো সিল্কের ওপর স্বর্ণ এবং রুপা দিয়ে কোরআন লিখেছেন তিনি। এতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর। 

সিল্কের ওপর স্বর্ণের হরফে কুরআন এই প্রথম লেখা হল বলে জানান ৩৩ বছর বয়সী এই শিল্পী। স্বর্ণের হরফে লেখা এই কুরআনের দৈর্ঘ্য ১১.৪ ফুট। আর প্রস্থ ১৩ ফুট। প্রত্যেকটি হরফ নিজের হাতে লিখেছেন মেমেদজাদে। 

প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে ইসলামের শিল্পকলা। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স দিয়ানেট থেকে স্বর্ণের হরফে লেখা এই কুরআনের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

 

সূত্র: মাইমডার্নমেট

যশোরে সূর্যমুখী ফুল চাষ

1 comments

 মাঠ জোড়া হলুদ ফুল আর সবুজ পাতার অপরূপ যুগল বন্দী। বড় বড় ফুলগুলো চেয়ে আছে সূর্যের দিকে মুখ করে, তাই এর নাম সূর্যমুখী। 

এক বর্ষজীবী সূর্যমুখী ফুলের বীজে রয়েছে ৪০-৪৫শতাংশ লিনোলিক এসিড। যা উন্নতমানের ভোজ্যতেলের প্রধান উপকরণ। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে বনস্পতি তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। অলিভ ওয়েলের পরেই এর অবস্থান। তাছাড়া এতে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সূর্যমুখীর তেল হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী। আগে তেল উৎপাদনকারী এ ফুলের চাষ খুব একটা না হলেও বর্তমানে পরীক্ষামুলকভাবে শুরু হয়েছে। 


 

যশোর জেলায় চলতি মৌসুমে ১০ হেক্টর জমিতে এর চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। সূর্যমুখী ফুল চাষে স্বল্পখরচে লাভ বেশী। বীজ বপনের ৯০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা সম্ভব। 

প্রতিবিঘায় ১১ থেকে ১২ মণ সূর্যমূখী বীজ উৎপাদিত হয় যার বর্তমান বাজার দর প্রতিমণ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা । এছাড়া সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বীজ ছাড়ানোর পর ফুলের মাথাগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 

গাছের অন্যান্য অংশগুলি জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এলাকার অনেক কৃষক আগামীতে সূর্যমুখী ফুল চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

বাংলাদেশে আগে সূর্যমুখী বীজ থেকে তেল নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা ছিলো না কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে সূর্যমুখী বীজ থেকে তেল সংগ্রহের পদ্ধতি চলে আসায় আগামীতে আরো বেশী জমিতে এর আবাদ করা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান, কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান।


 

Thursday, September 24, 2020

কুমার ও মৃৎশিল্প

0 comments

মৃৎশিল্প মানুষের প্রাচীনতম আবিষ্কার। খৃষ্টপূর্ব ২৯ হাজার থেকে ২৫ হাজার অব্দের নব্যপ্রস্তর যুগে এর সূচনা। এ পেশার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে কুমার বা কুম্ভকার বলা হয়। আমাদের দেশে গ্রামীণ জনপদে কুমারদের কারখানা একটি দর্শনীয় বিষয়। একই ছাদের নিচে দেখা যায় চুলা, গুদামঘর ও বসবাসের ঘর, দরজার সামনের খোলা জায়গাটুকু ব্যবহূত হয় কাদামাটি তৈরির স্থান হিসেবে। কুমাররা তৈজসপত্র তৈরিতে বেলে ও কালো এঁটেল এ দু ধরনের মাটি ব্যবহার করে থাকে। 


বেলে মাটির সঙ্গে এঁটেল মাটির অনুপাত ১:২ করে মেশালে শক্ত ও উন্নতমানের মৃৎপাত্র তৈরি করা যায়। কাদামাটি দিয়ে তৈরি মৃৎশিল্পকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: মাটির পাত্র, পাথুরে পাত্র ও পোর্সেলিন। এসব তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধরনের কাদামাটির প্রয়োজন। মাটি সংগ্রহের পর হাত ও পায়ের সাহায্যে বা কাঠ অথবা পাথরের পিটনা দিয়ে থেতলে পাত্র তৈরির উপযুক্ত করে তোলা হয়। কাক্ষিত রূপ দেয়ার পর রোদে শুকানো হয়। পরে পাঞ্জা বা চুলাতে ভাটার আগুনে উচ্চ তাপমাত্রায় (৬০০ - ১৬০০°সে) পোড়ানো হয়। 

 লাল রঙের তৈজসপত্র তৈরিতে ভাওয়ালের লালমাটি ব্যবহার করা হয়। সাদা কিংবা কালো রঙের তৈজসপত্র তৈরিতে একই ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়। কালো পাত্র তৈরির ক্ষেত্রে চুলাকে কিছু সময় ঢেকে রাখা হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় চুলার আগুনে খৈল পোড়ানো হয়। চাকচিক্যময় করতে রং লাগানো হয়। লাল সিসা থেকে লাল রং, আর্সেনিক থেকে হলুদ, দস্তা থেকে সবুজ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের মিশ্রণে কালো রং তৈরি করা হয়। মাটির তৈজসপত্র ছাড়াও অনেক কুমার ইট, টাইলস, মূর্তি, পুতুল ও খেলনা প্রভৃতি তৈরি করে। 

বাংলাদেশে মৃৎশিল্প ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে চলছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এই শিল্পের প্রসার। অনেকে এ পেশায় থাকলেও মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা না থাকায় অভাব-অনটনে সংসার চালাতে পারছেন না তারা। শৈল্পিক নৈপুণ্য ও সৃজনশীল এ শিল্পের বর্তমানে ঠাঁই হয়েছে বিভিন্ন জাদুঘর ও চারু প্রদর্শনীতে। সময়ের আবর্তনে অন্যান্য বস্ত্ত, যেমন প্লাস্টিক বা ধাতুনির্মিত পণ্যের উদ্ভব ও ব্যবহার মৃৎশিল্পের ব্যাপক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 

গোপালগঞ্জের পদ্ম বিল

0 comments

 ভোরের সূর্যের সোনালী আভার সাথে প্রকৃতি যেন তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলে। অন্যসময়টা কচুরীপানায় ভরা থাকলেও বর্ষায় যেন সেই রূপটাই পাল্টে যায়। 



 সবুজের মাঝে গোলাপী রঙের বিছানা। চোখের দৃষ্টি যতদূর যাবে ততদূরেই দেখা মিলবে গোলাপি আর সাদা পদ্মের। 

 

বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে পদ্মের সমাহার। বর্ষায় তাই এ বিলের নাম পাল্টে হয় পদ্মবিল। 

প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের সবটুকু ঢেলে দিয়েছে এখানে। যতদূর চোখ যায় কেবলই পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। 

 


বিলের বিভিন্ন স্থানে পদ্মের এমন সমাহার যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। 

পদ্ম পাতার ওপর টলমল করছে পানি। নয়নাভিরাম এই দৃশ্য দেখতে দূর থেকে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা ছুটে আসছেন দুরদুরান্ত থেকে। 

 



আর ৬৪টি পাপড়ি মেলে তাদের স্বাগত জানায় জলজ ফুলের রানী পদ্ম।


 অপরূপ এ দৃশ্যে হাতছানি উপভোগ করতে হলে যেতে হবে গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিলবেষ্টিত বলাকইড় গ্রামে।


 ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় পদ্মফুল। আর যে কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে সবার কাছে।