Showing posts with label Day. Show all posts
Showing posts with label Day. Show all posts

Wednesday, April 30, 2025

পহেলা মে: শ্রমের মর্যাদার দিন

0 comments

 প্রতিবছর ১ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা পহেলা মে

এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয় — এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাস, সংগ্রাম আর সম্মানের প্রতীক।

International Labor Day

📜 ইতিহাসের পেছনে রক্ত ও প্রতিরোধ

১৮৮৬ সালের ১ মে, আমেরিকার শিকাগো শহরে হাজার হাজার শ্রমিক দাবি তুলেছিল —

“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা নিজস্ব সময়।”

এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রূপ নেয় হেইমার্কেট আন্দোলনে, যেখানে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হন।
তাদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সাল থেকে ১ মে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়।

International Labor Day Chicago

🌍 বিশ্বব্যাপী পালনের ধরন

No দেশ পালন
1 বাংলাদেশ সরকারি ছুটি, মিছিল, র‍্যালি, আলোচনা
2 ভারত রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান
3 চীন বিশাল সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম
4 যুক্তরাষ্ট্র ‘Labor Day’ পালিত হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবারে
5 ইউরোপ শ্রমিক সংগঠন ও সোশ্যাল প্রোগ্রাম

বাংলাদেশে শ্রমিক দিবস 🇧🇩

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা মে পালিত শুরু হয়।
বর্তমানে এটি একটি সরকারি ছুটি এবং শ্রমিক-মজুরদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার দিন।

International Labor Day
  • গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবদান বিশাল

  • নানা সমস্যা: বেতন বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, অস্থায়ী নিয়োগ

  • পহেলা মে এসব সমস্যা তুলে ধরার উপলক্ষ


আধুনিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিক দিবস 🔧

আগে শ্রমিক মানে কেবল কল-কারখানার মানুষ বোঝাতো। এখন এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে —

  • রাইডশেয়ার চালক

  • ডেলিভারি বয়

  • ফ্রিল্যান্সার

  • গৃহকর্মী

  • গিগ ইকোনমির কর্মী

তাদের অধিকারও আজ আলোচনার বিষয়।


শ্রমিকদের প্রধান দাবি 📢

  1. ন্যায্য মজুরি

  2. নিরাপদ কর্মপরিবেশ

  3. নিয়োগপত্র ও চাকরির নিশ্চয়তা

  4. শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতা

  5. মাতৃত্বকালীন ছুটি ও স্বাস্থ্যসেবা


এবারের থিম (২০২৫ 🌟)

"টেকসই উন্নয়নে শ্রমের সম্মান"
AI ও অটোমেশনের যুগে শ্রমিকদের প্রযুক্তি শেখার সুযোগ, সম্মানজনক কাজ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি বিষয়।


উপসংহার 🧭

পহেলা মে শুধু অতীতের স্মরণ নয় — এটি একটি আন্দোলন চলমান রাখার দিন
আজও বিশ্বজুড়ে কোটি শ্রমিক কাজ করছেন মজুরির আশায়, সম্মানের আশায়, মানবিক ব্যবস্থার আশায়।

আমরা যেন তাদের কণ্ঠস্বর হই, তাদের পাশে থাকি। কারণ—
কোনো কাজই ছোট নয়, শ্রমই সভ্যতার ভিত্তি।

International Labor Day


Sunday, October 22, 2023

শাশুড়ি দিবস

0 comments

আমাদের জীবনে শাশুড়ি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তিনি অভিভাবক, মায়ের মতো। এমন একজন মানুষকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের চতুর্থ রোববার 'শাশুড়ি দিবস' উদযাপন করা হয়। সেই হিসেবে আজ 'শাশুড়ি দিবস'।



বিয়ে মানে দুই পরিবারকে এক করা, যে কাজটি মোটেও সহজ নয়। অথচ এই কঠিন কাজটিই সহজে করেন শাশুড়িরা। আবার প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে শ্বশুর বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সাধারণত শাশুড়ি ঠিকই পাশে থাকেন। এমন একজন মানুষকে সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


তাই আজ শাশুড়িকে সম্মান জানাতে পারেন। যাদের বিয়ের কথা চলছে তারাও হবু শাশুড়িকে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। তাতে বিয়ের কথাটা হয়তো আরও পাকা হবে।


এজন্য আপনার শাশুড়িকে ফোন দিতে পারেন। আন্তরিকভাবে জানতে পারেন, তিনি কেমন আছেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি পছন্দের কোনো খাবার বা পছন্দের কিছু উপহার দিয়ে তাকে চমকে দিতে পারেন।


তিনি অসুস্থ থাকলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।


এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দিবস। শাশুড়ি দিবস কীভাবে চালু হয়েছিল বা কারা চালু করেছিলেন সেই ইতিহাস নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, নিশ্চয়ই শাশুড়িকে সম্মান জানাতেই দিবসটির প্রচলন হয়েছে।


Saturday, October 21, 2023

আপেল দিবস

0 comments

 প্রতি বছরের ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র আপেল দিবস পালন করে।

ন্যাশনাল টুডে বলছে, গবেষণায় দেখা গেছে—১০ থেতে ২০ বছর আগে প্রাচীন বন্য আপেল গাছের সন্ধান পাওয়া যায় মধ্য এশিয়াতে। তবে, শুরুর দিকে সেই আপেলগুলো স্বাদ কিছুটা টক ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১৭তম শতাব্দীর প্রথম দিকে আপেল ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ইতিহাসবিদ বিশ্বাস করেন, এই সময়েই রোমান জনগোষ্ঠী আপেলের আকার বড়, মিষ্টি ও বৃহৎ পরিসরে চাষাবাদ শুরু করে। আমরা এখন যে আপেল খাই, এই আপেলের বিকাশ তখনই হয়েছিল। তারপর আপেল যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে।

আপেল দিবস যুক্তরাষ্ট্রে পালন করা হলেও দিবসের শিকড় আসলে ইউরোপে। ১৯৯০ সালের ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড আপেলের বিভিন্ন প্রজাতির গুরুত্ব বোঝাতে দিবসটির প্রচলন করেছিল। বর্তমানে আপেলপ্রেমীরা এখনো বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত সাড়ে সাত হাজারের বেশি জাতের আপেলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে আপেল দিবস পালন করে।



আপেল দিবস উদযাপনের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, একটি সুস্বাদু আপেলের স্বাদ নিন। হতে পারে হলুদ, সবুজ, গোলাপি বা লাল রঙের আপেল।

Friday, October 16, 2020

বয়ফ্রেন্ড দিবস

0 comments

 প্রতি বছর তেসরা অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। 

দিবসটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে মজে উঠেন তাদের বান্ধবীরা। সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার মজার পোস্ট শেয়ার হয় এ দিবসকে ঘিরে। প্রেমিকদের শুভেচ্ছা জানান অনেক প্রেমিকা।

২০১৪ সালের ৩রা অক্টোবর প্রথমবারের মত বয়ফ্রেন্ড দিবস পালন করা হলেও, ২০১৬ সালে দিবসটি অনেকটা আলোচনায় আসে। সে বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এ দিবসটি নিয়ে ৪৬ হাজারের বেশি টুইট করা হয়।

Friday, July 15, 2016

বাস্তিল উৎসব

0 comments
ফ্রান্সের জাতীয় উৎসব যা বাস্তিল উৎসব হিসাবে পরিচিত। ফরাসীদের কাছে ‘ফেত্ নাসিওনাল্’ উৎসব নামেই বেশি পরিচিত। প্রতি বছর ১৪ই জুলাই এটি উদযাপন করা হয়।
স্থানীয়ভাবে এটি ল্য ক্যাতৌযে জুইয়ে (le quatorze juillet) অর্থাৎ ১৪ই জুলাই নামে পরিচিত। ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই  ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমেই ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লব ছিল তদানীন্তন ফ্রান্সের শত শত বছর ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত ‘থার্ড স্টেট’ বা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই বিপ্লবের আগে সমগ্র ফ্রান্সের ৯৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিল মাত্র ৫ ভাগ মানুষ। অথচ সেই ৫ ভাগ মানুষই কোনো আয়কর দিত না। যারা আয়কর দিত তারা তেমন কোনো সুযোগ ভোগ করতে পারত না। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করত তাদের বাস্তিল দুর্গে বন্দি করে নির্যাতন করা হতো।


বাস্তিল দুর্গ ছিল স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন ও জুলুমের প্রতীক। বন্দিদের রাখা হতো এই দুর্গে। একবার তার মধ্যে প্রবেশ করলে জীবত্কালে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকত না। কারাগারের ভেতরেই মেরে ফেলা হতো বহু বন্দিকে। অত্যাচারে জর্জরিত ফরাসি জনসাধারণ ওই তারিখে বাস্তিলের দুর্গ ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করে। তাদের স্লোগান ছিল-স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্ব। ফরাসি রাজা ষোড়শ লুই দেশবাসীর সুখ-দুঃখ দূরের কথা, নিজেদের প্রত্যাসন্ন বিপদেরও কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। চাটুকারদের প্ররোচনায় রাজা অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন প্রজাদের ওপর। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই নির্বাচিত প্রতিনিধি, রক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং বাস্তিল দুর্গের আশপাশের মানুষ বাস্তিল অভিমুখে রওনা হয়।

প্রতিনিধিরা রক্তক্ষয় এড়াতে বাস্তিল দুর্গের প্রধান দ্য লোনের কাছে আলোচনার প্রস্তাব দেন। লক্ষ্য ছিল বাস্তিলে অবস্থিত ৭ জন রাজবন্দিকে মুক্ত করা। কিন্তু দ্য লোন প্রস্তাবগুলো ফিরিয়ে দেয়। জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে, জনতার ঢেউ আছড়ে পড়ে বাস্তিল দুর্গে, বাস্তিলের রক্ষীরাও কামান দাগাতে শুরু করে। প্রায় দুইশ’ বিপ্লবী মানুষ হতাহত হয়। এরপর চারদিক থেকে উত্তেজিত ক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিল ধ্বংস করে। পতন হয় স্বৈরাচারী শাসকের, ইতিহাসের পাতায় লিখিত হয় শোষিত, নির্যাতিত মানুষের জয়ের নতুন এক উপাখ্যান-যার নাম ফরাসি বিপ্লব। এর পর থেকেই ফরাসীরা এই দিনটিকে জাতীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে। এটি হয়ে ওঠে ফরাসিদের মুক্তির মাইলফলক।১৭৯০ সালে প্রথম বাস্তিল দিবস উদযাপন করা হয়। সেই থেকে প্রতিবছর দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস২৪

Thursday, March 31, 2016

এপ্রিল ফুল

0 comments
নানান সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্য থেকে পালন করা হলেও এপ্রিল মাসের প্রথম দিন বা বছরের এ সময়টিকে বিশেষভাবে উদযাপনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। আধুনিক বিশ্বে ‘এপ্রিল ফুল’ পালন যেমন সব দেশে একইভাবে হয় না, তেমনি এই উত্সবের উত্স বা ইতিহাস নিয়েও গবেষক-লেখকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তবে প্রাচীন পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক ইউরোপে এমন একটি হাস্য-কৌতুকের উত্সব পালনের রীতি বরাবরই ছিল।
এপ্রিল ফুল কীভাবে শুরু হয়েছিল
কোনো একটি সংস্কৃতির একটি নির্দিষ্ট উত্সব বা একক রীতি থেকে আধুনিক ‘এপ্রিল ফুল’ শুরু হয়েছিল বলে মনে করেন না অনেক ইতিহাস গবেষকই। প্রাচীনকাল থেকেই সাম্রাজ্য ও ধর্ম বিস্তার এবং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আদান-প্রদান বেড়েছে, তেমনি নানান জাতিগোষ্ঠীর ওপর ভিন্ন সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। আবার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পালটা বা প্রতিরোধী সংস্কৃতিরও জন্ম দিয়েছে নানান সময়ের নানান জাতি-জনগোষ্ঠী। কালের বিবর্তনে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির ভিন্ন মাত্রার নানান উপাদানও একত্রে মিশে যেতে পারে। কালে কালে রূপ বদলাতে পারে আচার-অনুষ্ঠান উত্সবের। এপ্রিল ফুল উদযাপনের বিষয়টিও তেমনি নানাভাবে আবর্তিত-বিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে বলে মনে করা হয়।
হিলারিয়া ও বোকাদের ভোজ
প্রাচীন রোমে ‘হিলারিয়া উত্সব’ এবং ‘ফিস্ট অব ফুলস’ বা ‘বোকাদের ভোজ’ উত্সবের রীতিকে আধুনিক এপ্রিল ফুলের অন্যতম পূর্বসূরি বলে মনে করা হয়। রোমান ‘হিলারিয়া’ শব্দটি আধুনিক ইংরেজিতে ‘হিলারিয়াস’ শব্দের কাছাকাছি, যা খুবই হাস্যরসময় বা কৌতুকপূর্ণ অবস্থা বোঝায়। মার্চ মাসের ২৫ তারিখে পালিত হিলারিয়া উত্সবটি রোমানরা গ্রহণ করেছিল একটি গ্রিক উত্সবের রীতি থেকে। গ্রিস ও রোমের প্রাচীন ধর্মীয় ও সামাজিক আচারের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এ উত্সবটি।
‘বোকাদের ভোজ’ ইউরোপের মধ্যযুগের বহুল জনপ্রিয় একটি উত্সব। আদিতে ২৮ ডিসেম্বর পালিত এ উত্সবের রীতি এখনো স্প্যানিশ ভাষাভাষী অনেক দেশেই জনপ্রিয়। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, স্পেন, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে এটি তুমুল জনপ্রিয় ছিল। এ উত্সবে তরুণরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন সাজানো পোপ, বিশপ বা আর্চবিশপ নির্বাচন করত এবং তাকে প্রধান ব্যক্তি হিসেবে উত্সব পরিচালনার দায়িত্ব দিত। উত্সবটি শুরুতে নানা ধর্মীয় আচারের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলেও হাস্য-তামাশা কৌতুকে ভরা নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এতে সমাজের প্রথাগত নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ফুটিয়ে তোলা হতো বলেও মনে করেন অনেক তাত্ত্বিকেরা।

পারস্যের সিজদাহ বে-দার
পারস্য নববর্ষ নওরোজের ১৩তম দিনে হাস্যকৌতুক উদযাপনের রীতিই জানা ইতিহাসে এমন সবচেয়ে প্রাচীন উত্সবের দৃষ্টান্ত। ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ বা এখন থেকে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উত্সব পালিত হয়ে আসছে। ইরানি নববর্ষের ১৩তম দিন সাধারণত এপ্রিলের ১ বা ২ তারিখ পড়ে। এই দিনটিকে পারসিকরা বলতো ‘সিজদাহ বে-দার’, যার অর্থ অনেকটা ‘১৩তম দিনে বাড়ির বাইরে যাওয়া’। এই দিনে ইরানিরা পরিবার পরিজনসহ বেড়াতে বের হয় এবং শহর-নগরের বেশির ভাগ মানুষই আনন্দ উত্সবে মেতে থাকে। ইরাক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়াসহ মধ্য এশিয়ার অনেক দেশেই এখনো এই উত্সব পালিত হয়। প্রাচীন পারস্যে এই দিনে খরার মৌসুম শেষে কৃষিকাজ শুরুর দিন হিসেবে উদযাপিত হতো। ইরানি পণ্ডিতেরা মনে করেন, সিজদাহ বে-দার উত্সবের অন্তর্নিহিত তাত্পর্য হলো পারিবারিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা, সুখী জীবনযাপন করা এবং বন্ধুত্ব স্থাপন করা। খ্রিষ্টপূর্ব সময় থেকে এখনো ধারাবাহিকভাবে এই সংস্কৃতি টিকে থাকায় অনেকে মনে করেন পারস্যের এই ‘সিজদাহ বে-দার’ উত্সবই ‘এপ্রিল ফুল’ পালনের অন্যতম আদি উত্স।

বাইবেলের কাহিনিতে
বাইবেলের দুটো কাহিনিতে এপ্রিল ফুলের উত্স আছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এর একটিতে বলা হয়, নুহ (আ.) যেদিন নৌকা থেকে একটা ঘুঘুকে কোথাও ডাঙা আছে কি না তা দেখতে পাঠিয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল পয়লা এপ্রিল। আর দ্বিতীয়টি হলো যিশুকে বিচারক পিলাত থেকে বিচারক হেরোডের আদালতে পাঠানোর দিনটিও ছিল পয়লা এপ্রিল। বিচারক পিলাত তাঁর কাছে পাঠানোর পর বিচারক হেরোড যিশুকে পুনরায় পিলাতের কাছে যেতে বলেন বিচারের জন্য। এভাবে যিশুকে বোকা বানানোর এই বিষয়টাকে এপ্রিল ফুলের উত্স হিসেবে মনে করেন কেউ কেউ। আর এই ‘পিলাতের কাছ থেকে হেরোডের কাছে পাঠানো’ বোকা বানানো বোঝাতে রীতিমতো প্রবাদবাক্য হিসেবে ব্যবহূত হয়।

চসারের ক্যান্টারবারি টেলসপ্রখ্যাত সাহিত্যিক জিওফ্রে চসারের ‘ক্যান্টারবারি টেলস’ প্রকাশিত হয় ১৩৯২ সালে। এতে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় রিচার্ডের সঙ্গে অ্যান অব বোহেমিয়ার বাগদানের বার্ষিকীর দিনটি বোঝাতে চসার একটি প্রতীকী বাক্য লেখেন, যেখানে দিনটিকে ‘মার্চের ৩২ তারিখ’ বা এপ্রিলের প্রথম দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই কাহিনিতে ওই দিন এক ধূর্ত শেয়ালের একটি মোরগকে বোকা বানানোর গল্প রয়েছে। এই বোকা বানানোর সঙ্গেই এপ্রিলের ১ তারিখ বা এপ্রিল ফুলের কাহিনী জড়িয়ে গেছে। (তবে আধুনিক গবেষকেরা বলছেন আসলে পাণ্ডুলিপির ভুলের কারণেই এটা এমন হয়েছে। আসলে বাক্যটি হবে ‘এপ্রিল শুরুর ৩২ দিন পর’ বা ২ মে।)
পরবর্তী সময় ফরাসি, ফ্লেমিশ এবং ব্রিটিশ কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় এপ্রিল ফুলের কথা উঠে আসে। মধ্যযুগের ইউরোপে বিভিন্ন দেশে এই উত্সব নানা স্থানে নানা রীতিতে পালিত হতো। ১৬৯৮ সালের ১ এপ্রিল বহু মানুষকে বোকা বানিয়ে টাওয়ার অব লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্রিটেনে এপ্রিল ফুলের একটা বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। টাওয়ার অব লন্ডনের এই ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। দুই বছর পর নতুন শতাব্দীর শুরুতে ১৭০০ সালের পয়লা এপ্রিল ইংল্যান্ডে মহাসমারোহে এপ্রিল ফুল উদযাপন শুরু হয় এবং তখন থেকেই দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে বলে মনে করেন অনেকে।

জুলিয়ান ও গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জি
‘এপ্রিল ফুল’ নামটি এবং এই দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আরেকটি তত্ত্ব হচ্ছে ইউরোপে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের প্রবর্তিত বর্ষপঞ্জি জুলিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিত। ১৬ শতকের প্রায় শেষভাগ পর্যন্ত ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই এই বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হতো। পোপ তৃতীয় গ্রেগোরি জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি সংস্কার করেন এবং নতুন নিয়মটি তাঁর নামেই প্রবর্তিত হয় গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে।
জুলিয়ান বর্ষপঞ্জিতে নববর্ষ ১ জানুয়ারি হলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত যার যার স্থানীয় রীতি অনুসারে ২ এপ্রিল নববর্ষ হিসেবে পালিত হতো। কালক্রমে বিভিন্ন দেশ জুলিয়ান বর্ষপঞ্জির নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জানুয়ারি নববর্ষ উদযাপন শুরু করে। তবে, ১৫৮২ সালে ফ্রান্স পুরোপুরি গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন শুরু করলে ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। কিন্তু নতুন রীতিতে এসেও অনেককেই পুরোনো অভ্যাসবশত নববর্ষের আগের দিন পয়লা এপ্রিলে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যেত। আর এ থেকেই ‘এপ্রিল ফুল’ বা ‘এপ্রিলের বোকা’ কথাটি চালু হয় এবং ‘বোকা হওয়া’ বা ‘বোকা বানানোর’ বিষয়টা নিয়ে কৌতুক শুরু হয়।
ফ্রান্স যেদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করতে শুরু করে, সেই দিনটিকেই অনেকে হালের এপ্রিল ফুলের ঐতিহাসিক শুরু বলে মনে করেন।

এপ্রিল ফুলের নানা আচার
যুক্তরাজ্যে এপ্রিলের প্রথম দিনে কৌতুক করে যাকে বোকা বানানো হয় তার উদ্দেশ্যে চিত্কার করে ‘এপ্রিল ফুল’ বা ‘এপ্রিলের বোকা’ কথাটি বলাই রীতি। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে এক লোক-গবেষক দেখিয়েছিলেন যে, আধুনিক সময়ে এসে ব্রিটেন এবং এক সময় ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল এমন অনেক দেশেই এপ্রিল ফুলের সংস্কৃতি একই রকম। সম্ভবত উপনিবেশিক শাসনের মধ্য দিয়েই এটা ছড়িয়েছিল।
এসব দেশে দুপুর ১২টা বা মধ্যাহ্নের আগেই ‘এপ্রিলের বোকা’ বানানোর রীতি প্রচলিত। মধ্যাহ্নের পর কেউ কাউকে নিয়ে কৌতুক করলে তারা নিজেরাই ‘এপ্রিলের বোকা’ হিসেবে গণ্য হয়। তবে, অস্ট্রেলিয়া এর ব্যতিক্রম, কেননা সেখানে দুপুরের পরও এই কৌতুক একইভাবে গ্রহণ করা হয়।
স্কটল্যান্ডে ঐতিহ্যগতভাবে দিনটিকে ‘হান্ট দ্য গাওক ডে’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। ‘গাওক’ বলতে বোঝায় বোকা কোকিল বা বোকা ব্যক্তি। স্কটিশ রীতিতে এ দিন ‘কোনো বিষয়ে সাহায্য চেয়ে’ কাউকে একটা মুখবন্ধ খাম বা পিন আঁটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে অন্য একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়। চিরকুটে যা লেখা থাকে তা অনেকটা এ রকম, ‘ময়না হাসছে, ময়না হাসে, কোকিলটাকে খোঁজো আরেক মাইল, অন্য কারও কাছে’। এই চিরকুট যিনি পাবেন তিনিও একই রকম আরেকটি চিরকুট দিয়ে পত্রবাহককে আরেকজনের কাছে পাঠিয়ে দেবেন, এভাবেই এই বোকা বানানোর খেলাটা চলতে থাকবে।
ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ড ও কানাডার ফরাসিভাষী এলাকায় ‘এপ্রিল ফুল’-এর ফরাসি সংস্করণ হলো ‘এপ্রিলের মাছ’। এদিন একটির কাগজের মাছ বানিয়ে তা এমনভাবে কারও পিঠে ঝুলিয়ে বা সেঁটে দেওয়া হয়, যাতে সে তা বুঝতে না পারে। আর এই কাগুজে মাছ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ব্যক্তিকে দেখে সবাই হাসে এবং তাকে ‘এপ্রিলের মাছ’ হিসেবে চিহ্নিত করে মজা পায়। বেলজিয়ামেও এই রীতি প্রচলিত।
ইতালিতেও এই দিনে কৌতুক করে হাস্যস্পদে পরিণত করা ব্যক্তিকে ‘এপ্রিলের মাছ’ বলা হয়ে থাকে। বেলজিয়াম এবং পার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চলে এ দিন শিশুরা অভিভাবক এবং শিক্ষকদের দরজার বাইরে আটকে রাখে এবং ওইদিন সন্ধ্যায় বা পরদিন উপহার নিয়ে আসার শর্তে দরজা খুলে দেয়।
পোল্যান্ডে এ দিনটিতে ব্যাপক হাস্যরসে মেতে থাকে মানুষজন। নানা রকমের কৌতুকের ফাঁদ পেতে রাখা হয় মানুষজনের জন্য। অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ গণমাধ্যমও এসবে অংশগ্রহণ করে। গুরুতর কাজকর্ম বা আনুষ্ঠানিক বিষয়াদি এড়িয়ে চলা হয় এইদিন। এই চর্চা এবং বিশ্বাস এতটাই জোরালো যে, ১৬৮৩ সালে তুর্কিবিরোধী জোটের সঙ্গে হাঙ্গেরির রাজা প্রথম লেওপোল্ড যে চুক্তি করেছিলেন তা পেছনের তারিখে অর্থাত্ ৩১ মার্চ হিসেবে স্বাক্ষর করা হয়।

‘হোক্স’ এবং ‘প্রাঙ্কস’

এপ্রিল ফুল উদযাপনের সঙ্গে বহুলভাবে উচ্চারিত ও জড়িত দুটি শব্দ ‘হোক্স’ এবং ‘প্রাঙ্কস’। কাউকে বোকা বানানোর জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোনো ঘটনা বা কিছু সাজিয়ে রাখাকে হোক্স বলা হয়। এটা বাস্তবে কৌতুক করা। বিষয়টি এমন হতে হবে যে, এটা দ্বারা সত্যি সত্যি কাউকে প্রতারণা করা হবে না, হাস্যরসের জন্যই সাজানো হবে ঘটনাটি। ‘প্রাঙ্কস’ বিষয়টিও তাই। যারা এই বাস্তব কৌতুক করেন তাঁদেরকে ‘প্রাঙ্কস্টার’ বলা হয়। গত শতাব্দীতে পশ্চিমা দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় অনেক সংবাদ মাধ্যমও এপ্রিল ফুল উপলক্ষে ‘সাজানো সংবাদ’ ছাপায় ও সম্প্রচার করে।
১৯৫৭ সালের ১ এপ্রিল বিবিসি তাদের ‘প্যানোরমা’ নামের এক অনুষ্ঠানে সম্প্রচার করে যে—‘এবার সুইজারল্যান্ডের চাষিরা সেমাই (স্প্যাগেত্তি) চাষে বাম্পার ফলন পেয়েছেন।’ সংবাদের সঙ্গে ছবিও দেখানো হয় যে, কয়েকজন মিলে সেমাই গাছ থেকে সেমাই পাড়ছেন। তবে, পরদিন বিবিসিকে পালটা বোকা বানিয়ে তাদের কাছে বিপুল সংখ্যক অনুরোধ আসতে থাকে ‘সেমাই গাছ’ কেনার জন্য। ফলে পরদিন বিবিসি ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় যে, ওই তথ্যচিত্রটি একটা ‘প্রাঙ্ক’ ছিল।

 

Thursday, February 13, 2014

বিশ্ব বেতার দিবস

0 comments

বিশ্ব বেতার দিবস পরিচিতি :


জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর ৩ নভেম্বর, ২০১১ তারিখের সাধারণ সভায় বিশ্ব বেতার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্পেনের 'একাডেমিয়া এসপানোলা ডি লা রেডিও' বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার সংস্থা ও তাদের ইউনিয়নের সমর্থনে এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের ১৮৭তম সেশনে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বেতার দিবস পালনের প্রস্তাব করলে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। ১৪ জানুয়ারি ২০১৩ জাতিসংঘের সাধারণ সভা আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিশ্ব বেতার দিবস' পালনের ইউনেস্কোর সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করে। মূলত ১৯৪৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ বেতার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্ব বেতার দিবস ২০১৪ এর স্লোগান 'বেতার সবার জন্য, সব সময়ে, সবখানে'।

বেতারের ইতিহাস :

বাংলাদেশ বেতার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উত্তরাধিকার, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও অতি প্রাচীন গণমাধ্যম। ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর যাত্রা। বৃটিশ শাসনামলে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম হিসেবে এ দেশের গণমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। একটি ৫ কি. ও. ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে পুরাতন ঢাকা শহরের নাজিমুদ্দিন সড়কের একটি ভাড়াবাড়ি থেকে তৎকালীন অল ইন্ডিয়া রেডিও এর ঢাকা কেন্দ্র নামে এই ভূখণ্ডে বেতার সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সে সময়ে শুধুমাত্র ঢাকার আশপাশের এলাকার শ্রোতারা অর্থাৎ দেশের শতকরা ৮ ভাগ জনগণ এই বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শুনতে পেত।

বেতার সম্পর্কে পরিচিতি :


বাংলাদেশ বেতার তার পথ পরিক্রমায় ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে, গড়ে উঠেছে তার নিজস্ব স্থাপনা, বেড়েছে আয়তন ও কার্যক্রম, বেড়েছে সম্প্রচার সময়। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ বেতার দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ৪৯টি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং ৮টি বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২৭৮ ঘণ্টা সম্প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের শতভাগ এলাকা এখন বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সমিটারের আওতাধীন। কাজেই সম্প্রচার পরিধি এবং সম্প্রচার সময় উভয় দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বেতার দেশের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতারের এফ এম কাভারেজ ৬৪% এবং মিডিয়াম ওয়েভ কাভারেজ ১০০%।

বাংলাদেশে বেসরকারী এফ এম রেডিও :


বিশ্ব এখন ইনফরমেশন সুপার হাইওয়েতে অবস্থান করছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে দেশের সার্বিক কল্যাণ ও সুষম উন্নয়ন করতে হলে সরকারি সম্প্রচার গণমাধ্যমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রচারমাধ্যমকেও সহমত প্রচারের সুযোগ দিতে হবে। আর এ জন্যই সরকার বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক এফ এম রেডিও সম্প্রচারের অনুমতি প্রদান করেছে। বর্তমানে দেশে ১১টি বেসরকারি এফ এম রেডিও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়াও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি এফ এম রেডিও স্টেশনের সংখ্যা ২৫টি।

বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও :


বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালে কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে, যা ছিলো ১৯৯৮ সাল থেকে নাগরিক সমাজের একটি প্রত্যাশা। নাগরিক সমাজের প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮ উপলক্ষে প্রকাশিত নির্বাচনী মেনিফেস্টো- "দিন বদলের সনদ" এর ১৯.১ অনুচ্ছেদে কমিউনিটি রেডিওকে অন্তর্ভুক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রমবারের মত বাংলাদেশে মোট ১৪টি কমিউনিটি রেডিও পরিচালনায় অনুমোদন প্রদান করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি রেডিওগুলোর মূল প্রভাব হলো দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের কথা সরাসরিভাবে বলার সুযোগ করে দিতে পারে। অর্থাৎ হাতের কাছে একটি গণমাধ্যম থাকায় সম্প্রদায়ের মানুষের কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে কণ্ঠহীনদের কথা বলার ও শোনার সুযোগ। এই নয়া গণমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তথ্য এবং যোগাযোগের অধিকার এনে দিয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গণমানুষের কথা বলার এবং তথ্য ও জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা করার ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনপ্রতিনিধি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের সাথে জনসাধারণের সংলাপ আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে দেশে বর্তমানে ১৪টি কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া আরও ১৬টি কমিউনিটি রেডিও বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

বিশ্ব বেতার দিবসের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব :


এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বেতার মাধ্যমের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষকে বেতারমাধ্যমে তথ্য প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমের মধ্যে আন্তঃসংযোগ জোরদার করা। এ ছাড়া বেতারমাধ্যমকে সর্বাধিক ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নানা রকম অনুষ্ঠান আয়োজন, বেতার অনুষ্ঠান বিনিময়, অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের কর্মসূচি নেওয়া। বেতারের রয়েছে পৃথিবীর দুর্গমতম স্থানে পৌঁছানোর শক্তি। বিশ্বের শতকরা ৯৫ ভাগ এলাকা বেতার সম্প্রচারের আওতাধীন। এ গণমাধ্যম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এবং বিদ্যুতের সংকট একে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। নিরক্ষর, প্রতিবন্ধী, নারী, যুবা কিংবা গরিব মানুষের জন্য বেতারের দ্বার অবারিত। এর মাধ্যমে নাগরিকের মধ্যে সংলাপ, বির্তক এবং শিক্ষার বিস্তার ঘটানো সম্ভব। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ সম্পাদন করা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বেতারের ভূমিকা অনন্য। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নতুন প্রযুক্তি বেতারকে আরো সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। তবে এতকিছুর পরও বিশ্বের এক বিলিয়নের ওপর মানুষ বেতার সম্প্রচারের আওতায় আসতে পারেনি। এ সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের চ্যালেঞ্জটি বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপনের সামনে রয়েছে।

Saturday, February 1, 2014

বই মেলা

0 comments
আজকের বৃহত্তর বই মেলার শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন রকম। ছোট যে বীজ বপন হয়েছিল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে তা এখন মহিরুহ হয়ে উঠেছে। ক্রমেই বেড়ে চলছে এই প্রাণের রাজত্ব। বইমেলা যা অমর একুশে গ্রন্থমেলা নামেও পরিচিত। বইমেলা'র জন্মদাতা হিসেবে উঠে আসে কয়েককটি নাম। যার মধ্যে রয়েছেন চিত্তরঞ্জন সাহা ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সরদার জয়েনউদ্দীন।

যেভাবে শুরু :


বইমেলার কথা প্রথম ভাবতে শুরু করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সরদার জয়েনউদ্দীন। ১৯৬৫ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি (তৎকালীন পাবলিক লাইব্রেরি) প্রাঙ্গণে শিশু বইমেলার আয়োজন করেন। এ থেকেই শুরু হয় বইমেলার প্রথম যাত্রা।

তবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বইমেলার বীজ বপনকারী হিসেবে শোনা যায় মুক্তধারা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জণ সাহাকে। একাই শুরু করেছিলেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে একটি চট বিছিয়ে কিছু বই নিয়ে বসেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা।

সময়টা ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র ৫৪ দিন আগে। ঢাকার রাস্তাঘাট, বাজার, হসপিটালে যুদ্ধের দগদগে স্মৃতি তখনও স্পষ্টভাবে লেগে আছে। সবার মনে বিধ্বস্ত সব স্মৃতি। সেই সময়টিতে চিত্তরঞ্জণ দেখেন অন্য রং। আঁকেন অন্য জীবনের ছবি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়টাতে চিত্তরঞ্জন এই উর্বর মাটিতে বুনে দিলেন বইমেলার বীজ।

তিনি ওই দিন বাংলা একাডেমি কর্মকর্তাদের কাছে অনুমতি নিয়ে বটতলায় বই নিয়ে বসেছিলেন। টেবিল চেয়ারের আয়োজন ছিল না বলে চট কিনে তাতে বই সাজিয়েছিলেন। ওই দিনই হলো আমাদের বই মেলার উদ্বোধন।

৭১ সালে যুদ্ধের সময় কলকাতায় তখন বাংলাদেশের বহু শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক আশ্রয় নিয়েছেন। কলকাতায় গিয়ে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর সেই সব লেখকদের লেখা বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন। মুক্তধারা প্রকাশনীর জন্ম হয়।

ওই ৩২টি বই ছিল বাংলাদেশের জন্মের সময়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অভিব্যক্তি। আর কলকাতায় প্রকাশিত ও সেখান থেকে বয়ে আনা ওই বইগুলো ছিল ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির বই মেলায় বিক্রির জন্য আনা প্রথম বই। কলকাতায় যে প্রকাশনা সংস্থা থেকে বইগুলো প্রকাশিত হয়েছিল তার নাম 'মুক্তধারা'। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই চিত্তরঞ্জন তার প্রকাশনা সংস্থার এমন নাম বেছে নিয়েছিলেন।

১৯৭২ সালে শুরু করে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত প্রায় একাই একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলা চালিয়ে যান চিত্তরঞ্জন। ১৯৭৬ সালে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সাথে যোগ দেন আরো কয়েকজন। শুরু হয় মেলার বিস্তারের যাত্রা।

এর দু’বছর পর ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী মেলার সাথে বাংলা একাডেমিকে সরাসরি সংযুক্ত করেন। জাতীয় গ্রন্থ উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় এ মেলাটি আয়োজিত হয়। ১৯৭৯ সালে মেলার সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। এ সংস্থাটিও সংগঠিত করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা।

১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা সাহেব যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, তখন তিনি বাংলা একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন সম্পন্ন করেন। কিন্তু স্বৈরাচারি এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক তুলে দিলে দুজন ছাত্র নিহত হয়। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর সেই বছর আর বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়।

এরপর থেকে বিরতিহীন ভাবে চলতে থাকে বই মেলা। এ যাত্রা সময়ের সাথে সাথে আরো গতিময় হয়ে ওঠে। এখন মেলাকে ঘিরেই প্রকাশনা শিল্প শক্ত অবস্থানে দাড়াচ্ছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম।

মেলা শুধু নিজের প্রসারই নয় পাঠক প্রসারও ঘটাচ্ছে। প্রতিবছরই যেসব অসংখ্য পাঠককে দোলা দিয়ে বইয়ের ভালোবাসায় আটকে রাখে। আরো বেশি বই বান্ধব পাঠক তৈরি হচ্ছে বইমেলায়। লেখকরাও নতুন করে স্বপ্ন বুনেন। পাঠক-লেখক- প্রকাশকদের বুকে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বইমেলা।

Tuesday, November 26, 2013

শহীদ ডা. মিলন দিবস

0 comments
২৭ নভেম্বর শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে সামরিক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের নির্মম বুলেট কেড়ে নেয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক ডা. মিলনের জীবন। মিলনের আত্মদানের মধ্যদিয়ে সেদিনের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। অবশেষে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। শোকাবহ এই ঘটনার স্মরনে ১৯৯১ থেকে প্রতিবছর রাজনৈতিক ও চিকিৎসক সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ডা. মিলন দিবস পালন করে।
দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ আন্দোলন চলছিল। ২৭শে নবেম্বর ১৯৯১ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে রিকশাযোগে পিজি হাসপাতালে (র্বতমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যাচ্ছিলেন ডা. মিলন। এসময় একই রিকশায় তার সহযাত্রী ছিলেন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি এলাকা অতিক্রমকালে সন্ত্রাসীরা তার ওপর গুলি চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যু হয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে দাফন করা হয়।

Monday, November 25, 2013

আন্তর্জাতিক বিশ্ব নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

0 comments
২৫ নভেম্বর ২০১৩ ৷ ক্যালেন্ডারের আর পাঁচটা দিনের থেকে এই তারিখটা একটু আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ এই দিনটাকে পালন করা হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক বিশ্ব নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে৷ প্রত্যেকবছর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নারী নির্যাতন প্রতিরোধক শাখা এদিন থেকে টানা ১০ দিন ব্যাপী নির্যাতন প্রতিরোধক নানা রকমের কর্মসূচি পালন করে ৷ দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে নানান পদ্ধতিতে জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই শাখা ৷

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলন দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘ দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস উদ্যাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে এই দিবস ও পক্ষ পালন করছে।

রাতের অন্ধকার ,বা দিনের আলো, মেয়েরা নিরাপদ নয়৷ পুরুষের লালসা ও নির্যাতনের শিকার বস্তুতে পরিণত হয়েছেন তারা ৷ প্রত্যেক ঘরে প্রত্যেক দিনে তাই কারোর পরিনতি হচ্ছে নির্ভয়ার মতন, তো কারোর জ্যোতি উদয়ের মতন৷ প্রত্যেকদিনই প্রায় বধূহত্যা বা কন্যা সন্তান হত্যার ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়৷ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে প্রশ্ন একটাই থাকে এটাকি শুধুমাত্র একটা তারিখ একটা দিবসেই আটকে থাকবে? নাকি চোখ খুলবে সমাজের? যেখানে দাঁড়িয়ে প্রকৃত অর্থে সমস্ত নারীরা মুক্ত হবে নির্যাতনের হাত থেকে৷

Wednesday, November 20, 2013

সশস্ত্র বাহিনী দিবস

0 comments
২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হচ্ছে।
আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে সম্মিলিতভাবে ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে ২৫ মার্চ সেনা, ১০ ডিসেম্বর নৌ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর বিমান বাহিনী আলাদাভাবে দিবসগুলো পালন করত। পরে ২১ নভেম্বরের তাৎপর্য সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-ভারতের সেনাদের নিয়ে গড়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর তিরানব্বই হাজার সেনা রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ও পাক-ভারত যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের পেছনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সক্রিয়। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর অবদানকে সাধারণ জনতার আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করে দেখা হয় এ দিবসটিতে। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবলীলার জবাবে অস্ত্র তুলে নেয় বিপ্লবী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, পুলিশ, আনসার ও অন্য সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে এগিয়ে আসেন পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি নাবিক ও নৌ-অফিসার, সেনা ও বিমান কর্মকর্তারা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় সর্বস্তরের মুক্তিপাগল হাজার হাজার যুবক। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ধারণ করে সশস্ত্র সংগ্রামের রূপ। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে পাকিস্তানি শাসকদের স্বপ্ন নস্যাৎ ও তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন দেখা দেয় একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র বাহিনীর। মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে (পরবর্তী সময়ে জেনারেল) মুক্তিবাহিনীর প্রধান নিয়োগ করে। তাঁর ওপর মুক্তিবাহিনী পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকরা দ্রুত নিজেদের সুসংগঠিত করে পাল্টা আক্রমণ করে। সারা দেশকে বিভক্ত করা হয় ১১টি সেক্টরে, যার নেতৃত্ব দেওয়া হয় একেকজন সুশিক্ষিত পেশাদার সেনা কর্মকর্তাকে। আট মাস পর একাত্তর সালের ২১ নভেম্বর চূড়ান্তভাবে সম্মিলিত আক্রমণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। সেদিন স্থল, নৌ ও আকাশপথে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে চালানো হয় ত্রিমুখী আক্রমণ। উন্মুক্ত হয় বিজয়ের পথ। এই আক্রমণ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফলতা লাভ করে জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে। তারা বাধ্য হয় পশ্চাদপসরণে। সুশিক্ষিত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে সূচিত হয় মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের ইতিহাস। তারপর মিত্রবাহিনীর সহযোগে ঘোষিত হয় সার্বিক যুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে চূড়ান্ত বিজয়। প্রকৃতপক্ষে এ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের সম্মিলিত আক্রমণ।

বিশ্ব শৌচাগার দিবস

0 comments
১৯ নভেম্বর বিশ্ব শৌচাগার দিবস। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর টয়লেট নিশ্চিত করার ব্যপারের ব্যর্থতা মোটেও সুখকর ব্যাপার নয়। এটার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন মানুষের জীবন-মৃত্যু। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯ নভেম্বরকে বিশ্ব টয়লেট দিবস ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বে ২.৫ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন থেকে বঞ্চিত এবং এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ খোলা পায়খানা ব্যবহার করে। ফলে তারা প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে অসচেতনতার কারণে অসংখ্যা মানুষ এসব রোগে ভুগে মারা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা না থাকায় এসব মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা হিসেবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে আমাদের উচিত সবার জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্ত বাধাকে দূর করা। নিম্নমানের স্যানিটেশনের কারণে প্রতিবছর ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে আট লাখের বেশি শিশু মারা যায়। যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম।
বান বলেন, টয়লেট ও স্যানিটেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা ও একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষের স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হব। এটাই বিশ্ব টয়লেট দিবসের উদ্দেশ্য। ২০০১ সালে ১৯ নভেম্বরকে বিশ্ব শৌচাগার দিবস ঘোষণা করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা।

Monday, November 11, 2013

১১ নভেম্বর ঐতিহাসিক বেতিয়ারা শহীদ দিবস

0 comments
১১ নভেম্বর সোমবার ঐতিহাসিক বেতিয়ারা শহীদ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেতিয়ারায় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য মো. সিরাজুম মুনীর জাহাঙ্গীর, বশিরুল ইসলাম মাস্টার, নিজাম উদ্দিন আজাদ, শহীদুল্লাহ সাউদ, আওলাদ হোসেন, দুদু মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, আবদুল কাদের ও মোহাম্মদ শফিউল্লাহসহ নয়জন তরুণ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালী জাতির ইতিহাসে একটি ঐতিহ্যবাহী গৌরবোজ্জ্বল দিন। সেদিন দেশপ্রেম ও সাহসের রক্তিম আল্পনায় আত্মদানের এক অমর অধ্যায় রচিত হয়েছিল কুমিল্লার বেতিয়ারায়।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে আসা ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ৭৮জনের একটি বীর গেরিলা যোদ্ধার দল আগরতলা হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

ওই দলটির ট্রেনিংক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন, তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার ও বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য মঞ্জুরুল আহসান খান। ১০নভেম্বর রাতে দুই নং সেক্টরের অধীনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বেতিয়ারা নামক স্থানে এসে জমায়েত হয়েছিলেন।

সেদিন যুদ্ধ চলাকালে সোর্স’র ভুল সিগন্যাল থাকায় শত্রুদের পাতা চতুর ফাঁদে পড়ে ৭৮জনের মধ্যে ৯জন শহীদ হয়েছিলেন, বাকি ৬৯জন সাহসী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে প্রাণে বেঁচেছিলেন। সেই থেকে বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের এই ইতিহাসকে সমুজ্জ্বল করে রাখতে প্রতি বছর ১১নভেম্বর ‘বেতিয়ারা শহীদ দিবস হিসাবে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

১১ নভেম্বরের শহীদ গেরিলারা বেতিয়ারার ধান খেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার সাত দিন পর স্থানীয় লোকজন ধান ক্ষেত থেকে শহীদদের গলিত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি গর্ত খুড়ে মাটি চাঁপা দিয়ে রেখেছিলেন। ২৮ নভেম্বর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসাবে স্বীকৃত চৌদ্দগ্রামের এ জগন্নাথদীঘি অঞ্চল শত্রুমুক্ত হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হোসেন জিবুর উদ্যোগে ডাঃ সবুর চৌধুরী, মাষ্টার মুজিবুর রহমান, মাষ্টার আলী আকবর, মো. ফরাজী, আব্দুল মালেক, মতি মিয়া ও আতা খানের সার্বিক সহযোগীতায়, চাঁদা তুলে এবং ইসলামী শরিয়ামতে মাওলানা আবেদ আলী সাহেবের মাধ্যমে নামাজে জানাযা শেষে পুনরায় মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে দ্বিতীয়বার দাফন করা হয়। শহীদদের গণকবরের ওপর স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে পাশেই নির্মাণ করা হয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।

১৯৭২ সালে ওই গণকবরের পাশে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘বেতিয়ারা’ শহীদ দিবস পালন করেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমরেড মনিসিংহ। যার ধারাবাহিকতায় ‘বেতিয়ারা শহীদ দিবস পালন আজও অব্যাত রয়েছে ।

তবে বেতিয়ারার শহীদদের গণকবরের পাশে যে বেদীটি নির্মান করা হয়েছিল তা রক্ষার বিষয়টি ‘ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক সংস্কারের মূখে অনিশ্চয়তার বেড়া জালে আটকে আছে। সরকারের উদ্যোগে জমি অধিগ্রহন পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে বেতিয়ারার শহীদদের স্মরনে স্মৃতিসৌধ নির্মানে উদ্যোগ নেয়া এখন সকলের দাবী।

কিন্তু শহীদদের জন্য নিষ্কন্টক পরিবেশে স্মৃতিসৌধ নির্মান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

Saturday, November 2, 2013

জেলহত্যা দিবস

0 comments
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান নামে খ্যাত জেলখানায় ঢুকে একদল সন্ত্রাসী সেদিন বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা ৪ মহান পুরুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ইতিহাস কলঙ্কিত এমন বিরল ঘটনা পৃথিবীর আর কোন দেশে ঘটেনি।
মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে ১৯৭৫ সালের এদিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর রাতে রিসালদার মোসলেমের নেতৃত্বে ঘাতকরা জেল খানায় প্রবেশ করে। কারারক্ষীরা প্রথমে তাদেরকে অস্ত্র নিয়ে জেলখানায় ঢুকতে বাধা দিলে মোশতাক তখন তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রিজন)কে ফোনে বলেন, ওদের কাজে বাধা না দিয়ে ওরা যা করতে চায় তা করতে দিন।

ঘাতকরা জেলখানায় ঢুকেই চার নেতাকে টার্গেট করে ব্রাশফায়ার করতে থাকে। তাদের একটানা ব্রাশফায়ারে একমাত্র তাজউদ্দিন ছাড়া বাকি তিন জন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এসময় তাজউদ্দিন পানি পানি বলে চিৎকার করতে থাকেন। ঘাতকরা তাজউদ্দিনের গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে ফিরে এসে পানির পরিবর্তে তাকে ব্যানট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। যা আজও জাতিকে ব্যাথিত করে।

ঐদিন মোশতাকের আরেকটি ঘাতক দল কুর্মিটোলা কারাগারে হত্যাকান্ড চালাতে গিয়েছিল। কিন্তু কারারক্ষীদের বাধার মুখে তারা ভিতরে ঢুকতে পারেনি। মোশতাক তার পরাজয় নিশ্চিত জেনে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। পরে খালেদ মোশাররফের সাথে চুক্তি অনুসারে ঘাতক চক্র ওইদিন রাতে দেশ থেকে পালিয়ে যায়।

জাতীয় চার নেতাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তখনই লালবাগ থানায় একটি মামলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এ হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জেল হত্যা মামলার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করে। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচার কাজ চলার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদন্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়।

Tuesday, September 3, 2013

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

0 comments
৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস“। মূলত সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করা, বিশ্বব্যাপী সকল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন দানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।
১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক জাতিসংঘ ১৯৯৩ সাল থেকে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মূলত বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সাল থেকে ‘৩ মে’ পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহকে অনুষ্ঠিত ‘ডিকারেশন অন প্রমোটিং ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া’ শীর্ষক সেমিনারের উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে এ দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল্য লক্ষ্য ছিল, বিশ্বব্যাপী স্বাধীন, অবাধ ও বহুমাত্রিক শক্তিশালী গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রগতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা।

Monday, August 19, 2013

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস

0 comments
১৯ আগষ্ট ‘বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস’। ১৮৩৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট দিনটিকে ‘বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ফটোগ্রাফির অগ্রযাত্রায় যে সকল মানুষ নিরলস কাজ করে গেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বে ১৭০ টিরও বেশী দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
মূলত আলোকচিত্র (ফটো বা ফটোগ্রাফ) বলতে কোন আলোকসংবেদী তলের উপর আলো ফেলার মাধ্যমে নির্মীত ছবিকে বোঝায়। আলোকসংবেদী তলটি ফটোগ্রাফিক ফিল্ম হতে পারে, আবার সিসিডি বা সিমস চিপের মত কোন ইলেকট্রনিক ছবি নির্মাণকারীও হতে পারে। সাধারণত ক্যামেরা দিয়ে আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়। ক্যামেরার লেন্স এক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আলোকচিত্র গ্রহণ করার শিল্প বা কাজকে আলোকচিত্রগ্রহণ বা ফটোগ্রাফি বলে। একে আলোকচিত্র শিল্প-ও বলা যায়। গত দশ বছরে বাংলাদেশে আলোকচিত্রের ধরণটাই অনেকখানি বদলে গেছে। এখন অনেক শিক্ষিত আলোকচিত্রী এদেশের বিভিন্ন মূলধারার বাংলা এবং ইংরেজি পত্রিকায় কাজ করছে। আলোকচিত্রের গুণগত মানও বেড়েছে অনেক। বিশেষ করে পত্রিকাগুলোতে বেতনভাতা এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধাও বেড়েছে আলোকচিত্রীদের। অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা অংশগ্রহণ করছে এবং বিজয়ী হয়ে ফিরে আসছে। কেউ যখন আলোকচিত্রকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন, তখন তার উচিত তার আচরণ এবং ব্যবহারে আরো বেশি পেশাদার হওয়া। এক্ষেত্রে একজন আলোকচিত্রী আলোকচিত্র ধারণ করে উপার্জন করছেন এমন বিষয়কে কেবলমাত্র পেশাদারিত্ব বলা হচ্ছে তা নয়,বরং তিনি তার কাজটি করতে কি ধরণের দক্ষতা দেখাচ্ছেন সেটাও পেশাদারিত্বের মধ্যেই পড়ে।
সময়ের আবর্তে হারিয়ে যায় অনেককিছু। বাস্তবতার পর্দায় ঢেকে যায় পুরনো স্মৃতি। তারপরও জীবনের স্বর্নালী মুহুর্তকে ধরে রাখতে কার না মন চায়। যখন ক্যামেরা আবিষ্কার হয়নি, এমনি কি কাগজও,তখনও মানুষ মাটি,পাথর বা কাঠে খোদাই করে বিভিন্নভাবে চিত্র অংকন করে প্রত্যাশিত ব্যক্তি বা বস্তু, প্রকৃতরি দৃশ্য স্মৃতি ধরে রাখতো। বিজ্ঞানের অবদানে আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় পর্যায়ক্রমে মানুষের হাতে অত্যাধিক ক্যামেরা। সাটার টিপে দিলেই ক্লিক ক্লিক ফ্রেমে বন্দী হয় অসংখ্য ছবি। শখের শিল্পীদের হাতে আলোকচিত্র জগতে এসেছে নান বৈচিত্র। সৃজনশীল মানুষের দূলর্ভ আলোকচিত্র হৃদয় কাড়ে। তাইতো নিজের শিল্পকে মানুষের মাঝে তুলে ধরতে চান অনেকে। সৃজনশীলতা বিকাশের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে সংগঠিত করে বিচ্ছিন্ন আলোকচিত্রকরদের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেশাদের ও শখের আলোকচিত্রকরদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।
শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ: সিনিয়র সাংবাদিক

Friday, August 16, 2013

আন্তর্জাতিক বাঁ হাতি দিবস

0 comments
ছোটবেলা থেকেই আমরা বেশিরভাগই ডান হাতে সব কাজ করে অভ্যস্থ। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন যেন সবাই থমকে যায়, যখন কাউকে বাঁ হাতে কোনো কাজ করতে দেখে, বিশেষ করে লেখালেখি। এরকমও হয় বাঁ হাতে লিখার ব্যপারটাকে অনেকেই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেন না। পরিবারের ছোট শিশুটি যদি বাঁ হাতে লিখে তবে তাকে জোর করে ডান হাতে লিখতে বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার-ধরের ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যেহেতু ডান হাতি, তাই জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই বাঁ হাতিদেরকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

এসব সমস্যা ও বাঁ হাতিদের বিশেষত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৩ আগস্ট উদযাপিত হয়ে আসছে “আন্তর্জাতিক বাঁ হাতি দিবস “ ।

পুরো বিশ্বের যেখানে ৭ থেকে ১০ % মানুষ বাঁ হাতি, সেখানে আজো তারা নানা রকম বৈষম্যের শিকার। অনেক সময় দেখা যায় স্কুলে কিছু সিংগল চেয়ার থাকে যা হয়তো শুধু ডান হাতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তৈরি। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে যে বাঁ হাতি একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা হতে পারে তা ভাবাও হয় না। এমনকি গাড়ি ড্রাইভ করার সময়-ও অনেক দেশে তাদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয়।

বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই বাঁ হাতি। আমেরিকার ৬ জন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাঁ হাতি- জেমস এ গারফিল্ড , হার্বার্ট হুবার, হ্যারি এস ট্রুম্যান ,জেরাল্ড ফোর্ড ,রোনাল্ড রিগ্যান ,জর্জ বুশ সিনিয়র ,বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা।

এইচ জি ওয়েলস, রিচার্ড কণ্ডনের মত অনেক নাম করা সাহিত্যিক, বিশ্ব-মাতানো ব্যান্ড দল বিটলস এর ম্যাক কার্টনি, ফুটবলের বরপুত্র পেলে, অভিনেত্রী এঞ্জেলিনা জোলি বা অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেটার এলান বোর্ডার, গ্যারি সোবার্স সহ আরো অনেকেই আছেন যারা বাঁ হাতি।

এতো গেল আমাদের যুগের কথা। ইতিহাস থেকে ঘুরে আসি চলুন। পরাক্রমশালী দুই সম্রাট আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ও জুলিয়াস সিজার- দু’জনেই ছিলেন বাঁ হাতি। ব্রিটেনের রাণী ভিক্টোরিয়া, সম্রাট ২য় ও ৭ম জর্জ এবং “মোনালিসা “ ছবির জন্য পুরো বিশ্বে পরিচিত লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ছিলেন বাঁ হাতি।

এই বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে ও বাঁ হাতিদের ব্যপারে মানুষের ভুল ধারণা তু্লে করতে ১৯৯০ সালে গঠিত হয়েছে বিশ্বব্যপী বাঁ হাতিদের একটি সমন্বিত ক্লাব। যে কেউ অনলাইনে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে এর সদস্য হতে পারবেন।
লিখেছেন: জুলকারনাইন মেহেদী

Wednesday, June 5, 2013

বিশ্ব শিশু দিবস

0 comments
অক্টোবরের প্রথম সোমবার হিসেবে বিশ্ব শিশু দিবসও পালিত হয়
শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে পথশিশুদের মধ্যে শতকরা ৫৩ ভাগ ছেলে ও ৪৭ ভাগ মেয়ে শিশু। প্রায় ৪৯ ভাগ শিশু রাস্তার পাশে বাস করতে বাধ্য হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৩১ ভাগ কোন লেখাপড়া জানে না। ৩৭ ভাগ লিখতে ও পড়তে পারে। এদের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ শিশুর প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণীতে পড়ার সুযোগ হয়েছে। এই হলো চিত্র।বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শিশু নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সার্বক্ষণিক শিশুশ্রমে নিয়োগ করা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ১৮ বছরের নিচে প্রত্যেককে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ বছরের নিচে কাউকে কোনও সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োগ না করার বিধান করা হয়েছে। এখানে শিশু অবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে,দেশের ৩৫ লাখ শিশু শ্রমিকের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১৩ লাখ শিশু, যা মোট শিশু শ্রমিকের ৪১ শতাংশ।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শিশু শ্রমিকরা প্রায় ৩৪৭ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে ৪৭ ধরনের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৩ ধরনের কাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পথশিশুদের ৬৯ শতাংশই কোনও না কোনও শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এই ঢাকা শহরে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে শিশু-শ্রমিক নেই! চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের বাবা-মা তাদেরকে এ ধরনের কাজে ঠেলে দিতে বাধ্য হয়।বাংলাদেশর আইনে রয়েছে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তবে সচেতন মহলের অভিযোগ রয়েছে, শিশুশ্রম বিরোধী আইনগুলো এখনও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। দিনটিকে ঘিরে প্রতিবারই আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে আজও আমাদের দেশের শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। প্রতিদিন হাজারো শিশু অর্ধাহারে, অনাহারে রাতে ঘুমাতে যায়।জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দিকে থাকলেও দেশের মোট শিশুর বড় একটি অংশ শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত।

প্রবীণ দিবস

0 comments
১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তথ্যমতে, সারাবিশ্বে বর্তমানে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের ৬০ কোটি প্রবীণ রয়েছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের সংখ্যা ২০০ কোটিতে পৌঁছবে বলে ধারনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা।সংস্থাটি জানিয়েছে উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে উন্নত দেশেই প্রবীণদের সংখ্যা বেশি রয়েছে এবং আরো বাড়বে। বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, যানবাহনে অগ্রাধিকার এবং সামাজিকভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান বাংলাদেশের প্রবীণরা। একই সঙ্গে তাদের সমাজে যথাযথ সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে বাজেটের ১৫ ভাগের ১ ভাগ প্রবীণদের জন্যে বরাদ্দের কথা থাকলেও তার ১ ভাগও বরাদ্দ দেয়া হয় না বলে প্রবীণ সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। আর ঢাকাসহ সারাদেশের রাস্ত‍াঘাটে প্রবীণদের রিকশাচালানোসহ নানা পরিশ্রমের কাজে দেখা যায়। অনেক প্রবীণ সন্তানদের কাছে আশ্রয় না পেয়ে ওল্ড হোমে থাকছেন। বাংলাদেশে এখনো তাদের জন্য শেষ বয়সে ভালোভাবে কাটানোর মতো কোন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হযনি।  

Sunday, May 12, 2013

মা দিবস

0 comments
মা। ত্রি-ভুবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ। মায়ের মমতা, ত্যাগ ও মর্যাদা স্মরণ করার দিন। মা—যিনি কোনো শর্ত ছাড়াই সন্তানদের ভালোবাসেন এবং সন্তানদের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘মা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিশ্বের অন্য দেশের মতো নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

১৯১১ সাল থেকে এই দিনটি পালন হয়ে আসছে‘মা দিবস হিসেবে। সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকাজুড়ে পালিত হয় প্রথম‘মা দিবস’। সে সময় আমেরিকায় মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো। এর পর আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসটি সর্বজনীন করে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামের এক আমেরিকান। মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। এরপর ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা দিবস’পালন করেন।

১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রয়ী স্বীকৃতি দেন। এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোবাবারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটা করে ‘মা দিবস’ পালিত হয়। গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখানো থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা এমনকি প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত প্রতি পদে পদে সন্তানকে সাহস, উৎসাহ ও ভরসা দেন মা। মায়ের ঋণ শোধ করা যাবে না কখনোই। মাকে ভালোবাসা জানাতে বছরের সবকটা দিনও যথেষ্ট নয়। তবুও এই একটি দিন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের মমতা, ত্যাগ ও মর্যাদার কথা।
এ দিবসকে উপলক্ষ করে দোকানীরা তাদের পসরা সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ছেলেমেয়েদের মনের কথাই বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যের গায়ে তুলে ধরে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিসে প্রথম ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয়। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ও ক্রোনাসের সহধর্মিনী ‘রিয়া’র উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পালিত হতো।

রোমানরা পালন করতেন ১৫ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি। ১৬০০ শতাব্দী থেকে যুক্তরাজ্যেও ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে এ দিনটি উদযাপন শুরু হয়। ইস্টার সানডের ঠিক ৩ সপ্তাহ আগের রোববারে এটি পালন করেন তারা।

নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববারে, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ ২১ মার্চ এ দিনটি উদযাপিত হয়।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে ‘মা দিবস’র বর্ণাঢ্য উদযাপন মূলত আমেরিকানরা শুরু করেন। ১৮৭০ সালে সমাজসেবী জুলিয়া ওয়ার্ড হো আমেরিকার নারীদেরকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে প্রচুর লেখালেখি করেন।

এ সময় অ্যান জার্ভিস দিনটির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু সফলকাম হতে পারেননি তিনি। তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের কাজে হাত দেয়। তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন একটি বিশেষ দিন ঠিক করে ‘মা দিবস’টি উদযাপন করার জন্য। সেই লক্ষ্যেই ১৯০৮ সালের ১০ মে তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে, যেখানে তার মা অ্যান জার্ভিস রোববারে পড়াতেন সেখানে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করেন।

এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্তার হতে থাকে এবং এক সময় আমেরিকার ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘মা দিবস’ পালন শুরু হয়।

১৯১২ সালে সর্বপ্রথম এ দিনকে স্বীকৃতি দিয়ে আমেরিকার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৪ সালে দেশব্যাপী এ দিনটিকে সরকারি ছুটি ও জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেন।