Showing posts with label Religion. Show all posts
Showing posts with label Religion. Show all posts

Tuesday, June 10, 2025

ঈদের আগে কীভাবে রুহানিয়াত তৈরি করা যায়: আত্মশুদ্ধির ৭টি বাস্তব উপায়

0 comments

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর মিলনের সময়। তবে একজন মু’মিনের জন্য ঈদের আনন্দ কেবল বাহ্যিক নয় — এটি একটি রুহানিয়াত পূর্ণ অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত। ঈদের আগে যদি আমরা আত্মাকে প্রস্তুত করতে পারি, তাহলে এই আনন্দ হবে আরও গভীর, পূর্ণ ও বরকতময়।

A spiritual Muslim man

এখানে থাকছে ঈদের আগে রুহানিয়াত তৈরি করার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব পরামর্শ — যা ইসলামি শিক্ষার আলোকে প্রমাণিত।


১. প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করুন

নামাজ হলো আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। ঈদের আগের দিনগুলোতে নিয়মিতভাবে ও খুশু-খুযুর সহকারে নামাজ পড়া আমাদের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।


২. কোরআন তিলাওয়াত ও তাফসির অধ্যয়ন

প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত করুন। বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন, সূরা আর রহমান, সূরা মুলক এসব সূরা আত্মাকে প্রশান্ত করে তোলে।


৩. কৃত পাপের জন্য তওবা ও ক্ষমা চাওয়া

আল্লাহ বলেন, “তোমরা তোমার রবের কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো” (সূরা হুদ ১১:৩)।
রুহানিয়াত অর্জনের প্রথম ধাপই হলো— হৃদয়ের পবিত্রতা।


৪. আত্মসমালোচনা ও নিজের হিসাব নেওয়া

প্রতিদিন দিনের শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:

  • আমি আজ কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি কি?

  • আমার আমলনামায় আজ কী লেখা হলো?


৫. দোয়া ও ইস্তেগফার বেশি বেশি করা

  • “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা”

  • গভীরভাবে কান্নাকাটি করে দোয়া করুন। এটাই রুহানিয়াতের মূল চাবিকাঠি।


৬. দান-সদকা করা

ঈদের আগে দরিদ্রদের সাহায্য করুন। আল্লাহর রাস্তায় খরচ করলে অন্তর প্রশস্ত হয় এবং অহংকার দূর হয়।


৭. মা-বাবা ও আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক মজবুত করুন

ঈদের আগে যদি আপনি সম্পর্ক ঠিক করেন, কারো প্রতি রাগ ভেঙে ক্ষমা করেন — এটাই বড় ইবাদত।


উপসংহার

ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন আত্মা হয় শুদ্ধ, মন হয় প্রশান্ত, আর হৃদয় থাকে আল্লাহর প্রেমে পূর্ণ। ঈদের প্রস্তুতি শুধু কেনাকাটা আর পোশাক নয় — এর চেয়েও বেশি দরকার অন্তরের প্রস্তুতি। আসুন, এবার একটু আলাদা ঈদ উদযাপন করি — ভেতরের আলো জ্বালিয়ে।

Friday, June 6, 2025

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব: ইসলামিক বিধান ও হাদীসের আলোকে

0 comments

ইসলাম ধর্মে কুরবানীকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার বড় আকর্ষণ এই ইবাদতটি, যা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা কুরবানীর মাধ্যমে আমাদের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, “আমি নিশ্চয় তোমাকে কাওসার দান করেছি; অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানী দাও।”। আর কুরবানীকে ইসলামের অন্যতম শিয়া’র (লক্ষণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যেমন কথায় এসেছে, “জাকাত প্রদান, ঈদ এবং কুরবানী করা – এ জাতীয় মৌলিক নিদর্শনগুলোর মধ্য দিয়ে ইসলামের রূপ ও অবয়ব প্রকাশ পায়”। নবী করীম (সা.) মদীনায় হিজরতের পর থেকে ঈদুল আজহার প্রতিটি বছরে কুরবানী আদায় করে গেছেন এবং কখনও বাদ দেননি।

Qurbani

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কুরবানীর বিধান

কুরআনে কুরবানীর হুকুম সরাসরি নির্দেশিত হয়েছে। সূরা কাওসারে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি দাও”। এখান থেকে স্পষ্ট হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ ও কোরবানী করা সর্ম্পকে বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা হজ্বের ৩৪ নম্বর আয়াতে আছে, “প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমরা নছিক (কুরবানির নিয়ম) নির্ধারণ করেছি; যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে ওই পশুদের মাংস ভক্ষণ করে”।

হাদীস শরীফেও কুরবানীর গুরুত্ব ও বিধান বিস্তারিত এসেছে। ইবনে মাজাহ শরীফে আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, “যে যার কাছে সামর্থ্য আছে অথচ কুরবানী দেয় না, সে যেন আমাদের নামাযের স্থানে আসেও না।” এই সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে সামর্থ্য থাকলে কুরবানী না করা কঠোরভাবে নিষেধ। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের উম্মাহর জন্য এবং নিজ ও পরিবার-উম্মাহর জন্য দুটি বড়, মোটা, সাদা-কালো প্রজাতির খাসি কুরবানী করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য, সাহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদীসে নবী (সা.) আয়েশা (রা.)-এর কাছে জানান, “তোমরা অবশ্যই এক বছরের বয়সের ছাগল কুরবানী করবে; যদি তা তোমাদের জন্য কঠিন হয়, তাহলে ছয় মাসের (যৌবন ছাগল) কুরবানী করতে পার”। কুরবানীর জন্য অনুমোদিত পশুর মধ্যে শুধুমাত্র ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, গরু, মহিষ ও উট – এই ছয় ধরণের পশু আছে। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীকে কুরবানী হিসেবে জবাই করা হারাম। যেমন হাদীসে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এসব ছয় ধরনের পশু ব্যতীত অন্য কোনো পশু কুরবানী হিসেবে জবাই করেননি।

Qurban

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব – পাঁচটি শর্ত ব্যাখ্যা

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী কুরবানী ওয়াজিব হলে পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শর্তগুলো হলো:

  • মুসলিম হতে হবে – কুরবানী শুধুমাত্র মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, অমুসলিমের ওপর নয়।

  • বালিগ হতে হবে – অর্থাৎ পূর্ণবয়স্ক (জাঁককাঠামো ও যৌন চেতনাসম্পন্ন) হতে হবে। বাল্যকালে এই আমল ফরজ বা ওয়াজিব হিসেবে বিবেচিত নয়।

  • সুস্থ মস্তিষ্ক থাকতে হবে – পাগল বা মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তির ওপর কোনো শারীরিক ইবাদত ফরজ নয়।

  • নিযার (নিসাব) পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে – কুরবানীর দিন (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ) নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নিসাব সমপরিমাণ (হানাফীদের মতে একই নিসাব, যা প্রায় ৫৯৫ গ্রাম রুপী বা প্রায় ১১ ভরি সোনা) সম্পদ থাকা উচিত। নিসাবের নিচে মালিকের ওপর কুরবানী ওযিব হয় না।

  • মুকীম বা নিজ এলাকায় অবস্থানকারী হতে হবে – পবিত্র ঈদের দিন নিজের নিবাসস্থলে অবস্থান করতে হবে। Musafir (ভ্রমণরত) অবস্থায় কুরবানী ওয়াজিব নয়। যদি কেউ পবিত্র স্থানে এলে তবেই সে ওয়াজিব হয়ে ওঠে।

এই শর্তগুলো পূরণ করলে যে মুসলমান তার অদক্ষিণ, স্বাস্থ্যবান ও শাস্ত্রানুযায়ী পুঁজি রয়েছে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। উদাহরণস্বরূপ, শপথবাদী হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করে, সে অবশ্যই উম্মতের নামায থেকে নিজেকে দূরে রাখুক।

হাদীসের রেফারেন্সসহ দলিল

কুরবানীর বিধান ও ওয়াজিব হওয়ার বিভিন্ন শর্তের দালিল দিতে সহীহ হাদীস রয়েছেঃ

  • ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৩১২৩): আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, যে যার জন্য কুরবানী আদায় করতে সক্ষম সে যদি আদায় না করে, তবেই যেন আমাদের ঈদের নামাযের জায়গায় না আসে।

  • ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৩১২২): আয়েশা ও আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত, নবী (সা.) ইচ্ছা করলে দুইটি বড়, মোটা, দু’শিং বিশিষ্ট ভেড়া কুরবানী করতেন: একটি উম্মতের পক্ষ, আর একটি নিজ ও পরিবারের পক্ষ থেকে।

  • সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ১৯৬৩): বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, “তোমরা (বালিগ) ব্যক্তি লক্ষ্য করো, একবছরের পূর্ণবয়স্ক ছাগল বর্জন করিও না; যদি তোমাদের কঠিন হয়, তাহলে ছয় মাসের অর্ধবয়স্ক ছাগলও কুরবানী করতে পার”।

  • বুখারি-মুসলিম: হাদিস অনুযায়ী কুরবানী শুধুমাত্র পূর্বের বর্ণিত ছয় প্রকার পশু দিয়েই করা যায়।

  • সামুহিক খত্মুল হাদিস: (সম্ভাব্য) হাদিসে এসেছে, কুরবানীর মাস জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানির পশু জবেহ না হওয়া পর্যন্ত চুল-নখ কাটা নিষিদ্ধ।

এসব আদি-সূত্র দেখিয়ে মুসলিম উম্মাহ নিশ্চিত হয় যে কুরবানী আইন, সালাতের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল, এবং কুরবানীতে ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জিত হয়।

Eid-ul-Adha

শিশু, পাগল ও মুসাফিরদের বিধান

ইসলামী শরিয়তে বালক বা পাগল ব্যক্তির ওপর কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত আরোপ করা হয় না। তাই শিশু বা মানসিক অক্ষম ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে কুরবানী নেই। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি পূর্ণবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের হলেও ঈদুল আজহার সময় ভ্রমণরত (মুসাফির) অবস্থায় থাকলে তার ওপরও কুরবানী ফরজ নয়। তবে যারা বাসিন্দা হয়ে ফিরে এলে তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী সময়ে কুরবানী দিতে পারে।

অন্যদিকে, পূর্ণবয়স্ক বিশ্বাসী ব্যক্তি যদি পরিবারের একাধিক সদস্যের পক্ষ থেকে কুরবানী দিতে চান, তবে একটি পশু দিয়ে কয়েকজনের পক্ষ থেকেও আদায় করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, হাদিসে বর্ণিত হয়, হুদাইবিয়াতে জাবের (রা.) বলেন, “রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে আমরা ছিলাম; তখন উট ও গরু দুটি ক্রয় করে যেগুলো দিয়ে সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানী দিয়েছি।”। অর্থাৎ এক পশু দিয়ে ভাগাভাগি করে ৭ জন পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য কুরবানী দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

uḍḥiyah

নারীদের ক্ষেত্রে কুরবানীর হুকুম

ইসলামী ফিকহানুযায়ী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যদি উপরোক্ত পাঁচটি শর্ত পূরণ করে থাকে, তার ওপরও কুরবানী ওয়াজিব। সাহাবিদের দাবি করা হত, যে ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের (স্ত্রীরা ও সন্তানেরা) সঙ্গে সম্পদবান হলে, প্রত্যেকের জন্য আলাদা পশু কুরবানী করতে হবে না; একটি পশু সাতজন পর্যন্ত হয়ে যায়। আবার অনেক মুতাহাদ্দিথ মনে করেন নারীরও স্বনিয়ন্ত্রিত সম্পদ থাকলে কুরবানী করা চাওয়া উচিত। তাই মাযহাব হানাফীর মতে, বিবাহিত স্ত্রী যখন তার ব্যক্তিগত সম্পদ (যেমন গহনা বা নিজস্ব আয়) থেকে নিসাব পরিমাণ বৈধ অর্থে সামর্থ্য সৃষ্টি করতে পারে, তখন তাঁর পক্ষেও কুরবানী দেওয়া ওয়াজিব। তিনি নিজে জবাই না করতে পারলেও, অন্যের মাধ্যমে বা দরিদ্রদের অংশ ভাগ করে দিয়েই আদায় সম্পন্ন করতে পারেন।

কুরবানী না দিলে পরিণতি

আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে তার ফল ভালো হয় না। কুরবানী দিতে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ ত্যাগ করে, তাহলে গোনাহের আওতায় পড়বে। নবী (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই ব্যক্তিকে ঈদের নামাজের স্থানেও আসতে নিষেধ। এই উক্তি থেকে বোঝা যায় কুরবানী মুলক প্রযোজ্য আদর্শ মেনে না চলা মারাত্মক অপরাধ; তাই মুসলিম বুকে দায়বোধ থাকা উচিৎ।

সর্বোপরি, যদি কোনো বাসিন্দা অঞ্চলের মানুষ হঠাৎ সম্মিলিতভাবে কুরবানী পরিত্যাগ করে, তাহলে ইসলামের একতা ও সনাতনী দায়িত্ব বিকৃত হবে। শাস্ত্রীয় গ্রন্থে এমন পরিস্থিতিতে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে – যদি সম্ভাব্য লোকেরা একযোগে কুরবানী না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তক্ষেপ হতে পারে। এটি প্রাচীন যুগের উদাহরণ, তবে আমাদের জন্য মর্মবাণী যে, কুরবানীকে অতিরিক্ত বা তুচ্ছ হিসেবে দেখা যায় না। বরং যা ওয়াজিব, তা ত্যাগ করলে ইসলামী সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।

উপসংহার: আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার চর্চা

কুরবানী হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। পশু কোরবানী ঈমান আর তাকওয়া বৃদ্ধি করে, দাতব্য কাজ হিসেবে দরিদ্রদের জন্য খাদ্য ও সহায়তা জোগায়। এতে নবী ইব্রাহীম (আঃ)-এর আনুগত্যের আদর্শ অনুসরণ করি এবং নিজকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত রাখি। আল্লাহ তায়ালা সওয়াবের আশ্বাস দিয়েছেন – কুরবানী ছাড়াও কোনো গানাহ কটার নির্দেশনা নেই, বরং এটি মহান নেকি। তাই তরুণ-মুসলিম, সাধারণ ধর্মপ্রাণ বা শরীয়তজ্ঞ সবাই যেন কুরবানীকে ঈমানি অধিকার হিসেবেই গুরুত্ব দিয়ে পালন করে; তা কেবল একটি পশুর জবাই নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার সমাবেশ। আমাদের প্রত্যেকে আল্লাহর প্রাকৃষ্ট নির্দেশ মেনে কুরবানী দান করে নিজের হৃদয়ে তাকওয়া ও শোকরিয়া জন্ম দিই; কারণ কুরবানী আদায়ে না শুধু নিজের সুবৃত্তি, বরং সবার মাঝে ন্যায়-বিচার এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মাহ হিসেবে গৌরব প্রতিষ্ঠা পাই।

Islamic ritual sacrifice

সূত্র: সৌজন্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ইসলামিক গ্রন্থাবলী.

Title: Who Is Obligated to Offer Qurbani? Rules and Hadith-Based Guidelines in Islam
Tags: "Qurbani," "Obligated," "Rules," "Hadith"

কুরবানী কে কে দিতে পারবে? কার উপর ওয়াজিব

0 comments

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কুরবানী (উদ্বিয়াহ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে একজন মুসলমানের উপর ওয়াজিব হয়ে যায়। নিচে কুরবানী কারা দিতে পারবে এবং কার উপর এটি ওয়াজিব তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

Eid-ul-Adha

কুরবানী কে কে দিতে পারবে?

কুরবানী দিতে পারবে এমন ব্যক্তি হতে হবে:

  1. মুসলিম – কুরবানী শুধু মুসলমানদের জন্য।

  2. বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) – শিশুদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।

  3. আকিল (স্মরণশক্তিসম্পন্ন ও জ্ঞানসম্পন্ন) – পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।

  4. মুকীম (অবস্থানকারী) – মুসাফির (অস্থায়ী ভ্রমণরত) ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়, তবে ইচ্ছা করলে করতে পারে।

  5. সামর্থ্যবান – যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।


কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?

নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে কুরবানী ওয়াজিব হয়:

  1. যার মালিকানায় ঈদুল আযহার দিন সুবহে সাদিক থেকে কুরবানীর শেষ সময় পর্যন্ত (৩ দিন), নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।

  2. নিসাব পরিমাণ সম্পদ:

    • সোনা: ৭.৫ তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম)

    • রূপা: ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম)

    • অথবা এর সমমূল্যের টাকা বা সম্পদ (নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক মালামাল, জমি ইত্যাদি)

  3. এই সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে (যেমন বাসস্থান, পোশাক, খাদ্য, ব্যবহারের গাড়ি ইত্যাদি বাদ দিয়ে বাকি সম্পদ গণ্য হবে)।

  4. রোজা বা হজের মতো সময়সীমা নির্ধারিত – কুরবানীর সময় শুরু হয় ঈদের প্রথম দিন (১০ জিলহজ্ব) সুবহে সাদিক থেকে এবং শেষ হয় ১২ জিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত।


অতিরিক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • নারী ও পুরুষ উভয়ের উপরই কুরবানী ওয়াজিব, যদি তারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

  • প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে নিজ নিজ কুরবানী দিতে হবে, পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট নয় যদি পরিবারের সকল সদস্যই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

Saturday, May 17, 2025

মেডিটেশন ও ইসলামিক ধ্যান চর্চা — কী বলছে বিজ্ঞান? 🧘

0 comments

 মেডিটেশন বা ধ্যান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক প্রশান্তি, মনোযোগ বৃদ্ধি, এবং আত্ম-উন্নতির একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শুধু বৌদ্ধ বা হিন্দু প্রথাতেই সীমাবদ্ধ নয়—ইসলামেও রয়েছে ধ্যান ও আত্মজিজ্ঞাসার বিশেষ গুরুত্ব। আজকের বিজ্ঞানও স্বীকার করছে যে এই ধ্যানচর্চা শরীর ও মনের জন্য কতটা উপকারী।

Meditation-in-Islam

🧠 মেডিটেশন কী?

মেডিটেশন এমন এক মানসিক চর্চা যার মাধ্যমে মনকে প্রশমিত, একাগ্র, ও উপস্থিত মুহূর্তে স্থিত রাখা হয়। সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাস, শব্দ (মন্ত্র), বা নির্দিষ্ট চিন্তার উপর মনোযোগ স্থাপন করেই এটি চর্চা করা হয়।


🕌 ইসলামিক ধ্যান বা মুরাকাবা কী?

ইসলামিক ধ্যানকে বলা হয় “মুরাকাবা”—যার অর্থ হলো “সচেতনভাবে আল্লাহর উপর মনোযোগ স্থাপন করা”। এটি আত্মবিশ্লেষণ, তাওবা, ও নফস (আত্মা) সংযমের একটি মাধ্যম। সূফি সাধকেরা যুগ যুগ ধরে এই ধ্যান পদ্ধতির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করেছেন।


🔬 বিজ্ঞান কী বলছে?

গবেষণা বলছে, নিয়মিত মেডিটেশন করলে:

  • 🧘‍♂️ কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) হ্রাস পায়

  • 🧠 মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে

  • 💓 হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

  • 😌 উদ্বেগ ও বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে থাকে

  • 🧬 ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়

ইসলামিক ধ্যান, যেখানে কোরআনের আয়াত পাঠ, তসবিহ, কিংবা নিঃশব্দে আল্লাহর ধ্যান থাকে, তাও একই ধরনের মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে বলে মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।


🤲 ইসলামে ধ্যানচর্চার উপকারিতা

১. তাকওয়া (আল্লাহভীতি) বৃদ্ধি
২. মনোসংযোগ বৃদ্ধি ও ইবাদতে মনোযোগ
৩. নফসের নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধি
৪. রুহানিয়াত ও আত্মিক শান্তি
৫. সবর ও শোকর চর্চা সহজ হয়


📿 মিল ও পার্থক্য


বিষয় মেডিটেশন ইসলামিক মুরাকাবা
উদ্দেশ্য মানসিক প্রশান্তি, আত্ম-উন্নয়ন আল্লাহর নৈকট্য লাভ, তাকওয়া বৃদ্ধি
পদ্ধতি শ্বাস, শব্দ বা ভাবনার উপর মনোযোগ আয়াত, নামাজ, জিকির, তাওবা
উৎস বৌদ্ধ/হিন্দু/আধুনিক চিকিৎসা কোরআন, হাদীস, সুফি তরিক
ফলাফল মানসিক সুস্থতা, একাগ্রতা আত্মিক শান্তি, নৈতিক উন্নয়ন

📌 মুসলিমদের জন্য করণীয়

  • দিনে অন্তত একবার নিরিবিলি পরিবেশে ৫-১০ মিনিট তসবিহ ও জিকির করুন।

  • নামাজ নিজেই একধরনের ধ্যান — নিয়মিত মনোযোগসহকারে নামাজ পড়লে মনের প্রশান্তি আসে।

  • রাতে ঘুমানোর আগে আত্মসমালোচনা ও তওবা করুন — এটা গভীর মুরাকাবার একটি চর্চা।


🧘 উপসংহার

আধুনিক বিজ্ঞান যেটিকে মেডিটেশন বলে, ইসলাম অনেক আগেই ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির চর্চাকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ইসলামী ধ্যান যেমন মুরাকাবা, তসবিহ, ও তাদাব্বুর, এগুলো শুধুই রিচুয়াল নয়—এগুলো আমাদের মন, আত্মা, এবং দৈনন্দিন জীবনে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আজকের দিনে, মুসলমানদের উচিত বিজ্ঞান ও ধর্মের এই সেতুবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে আরো শান্তিপূর্ণ ও আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ জীবন যাপন করা।

Saturday, March 27, 2021

মতুয়া সম্প্রদায়

0 comments

মতুয়া হিন্দু ধর্মীয় একটি লোকসম্প্রদায়। যারা নিম্ন বর্ণ হিসেবে বিবেচিত নমঃশূদ্র গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে প্রায় ২১০ বছর আগে জন্ম হয় হরিচাঁদ ঠাকুরের, যিনি এই মতুয়া সম্প্রদায়ের সূচনা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের মাধ্যমে বিস্তৃতি লাভ করে মতুয়া মতবাদ। 

মতুয়া শব্দটির অর্থ মেতে থাকা বা মাতোয়ারা হওয়া। হরিনামে যে মেতে থাকে বা মাতোয়ারা হয়, সে-ই মতুয়া। মতান্তরে ধর্মে যার মত আছে সেই মতুয়া। অর্থাৎ ঈশ্বরে বিশ্বাস, গুরু-দেবতা-ব্রাহ্মণে ভক্তিশ্রদ্ধা, হরিনামে রুচি ও প্রেমে নিষ্ঠা আছে যার, সে-ই মতুয়া।

মতুয়া মতবাদে বিশ্বাসীরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী, তাঁরা বৈদিক ক্রিয়া-কর্মে আস্থাশীল নয়। তাদের বিশ্বাস ভক্তিতেই মুক্তি। তাদের সাধন-ভজনের মাধ্যম হচ্ছে নাম সংকীর্তন। মতুয়া সাধন পদ্ধতির মাধ্যমে ঈশ্বরলাভ ও সত্যদর্শন-ই মূল লক্ষ্য। 

মতুয়া ধর্মপ্রচারককে গোঁসাই নামে অভিহিত করা হয়। নারী-পুরুষ যে কেউ এই ধর্মের প্রচার করতে পারেন। মতুয়ারা প্রতি বুধবার একত্রে সমবেত হয়ে হরি স্মরণ করে, একে বলা হয় হরিসভা। সবাই নাম সংকীর্তন করে এবং ভাবের আবেশে কীর্তন করতে করতে অনেক সময় বাহ্যজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে। কীর্তনের সময় তাঁরা যে বাদ্যযন্ত্রগুলো ব্যবহার করে, তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, কাঁসর, জয়ডঙ্কা, শঙ্খ, শিঙ্গা প্রভৃতি।


 হরিচাঁদ ঠাকুরের পিতা যশোবন্ত ঠাকুর ও মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। যশোবন্ত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ছিলেন। হরিচাঁদ ঠাকুর অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তবে বংশানুক্রমিকভাবে বৈষ্ণবীয় যে পরিমণ্ডলে বড়ো হয়েছেন তাতে তিনি ক্রমান্বয়ে স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর পিতা ও পিতার সতীর্থদের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

প্রথম জীবনে হরিচাঁদ ঠাকুর মাঠে গরু চরাতেন। বয়সের সাথে সাথে তিনি কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেন। তবে অবতারপুরুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে তিনি সক্রিয় হন ভক্তদের মনরক্ষার কাজে। এ সময় সাফলিডাঙ্গা ছেড়ে ওড়াকান্দিতে বসবাস শুরু করেন।   অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি ভক্তদের রোগ থেকে মুক্ত করাসহ বিভিন্ন কল্যাণসাধন করতেন। ধীরে ধীরে হরিচাঁদ ঠাকুরের ভক্তসংখ্যা বাড়তে থাকে। হরিভক্তদের মতুয়া বলা হয়। মতুয়াদের ভক্তি ও হরিচাঁদ ঠাকুরের শক্তি এ দুয়ে মিলে ওড়াকান্দি ক্রমান্বয়ে দেশে দেশে পরিচিত হয়ে ওঠে।  

ধর্মযোগী হরিচাঁদ ঠাকুর মতুয়াধর্মের মাধ্যমে অবহেলিতদের সঙ্ঘবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ শিক্ষা প্রসারে অগ্রাধিকার দেন। শুধু নিজ সম্প্রদায় নমঃশূদ্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং তেলি, মালি, কুম্ভকার, কাপালি, মাহিষ্য সব সম্প্রদায়ের জন্যই কাজ করে গেছেন। কোথাও স্কুল স্থাপিত হলে তার দ্বার ছিল সবার জন্য খোলা। উচ্চবর্ণ যখন সমাজ-অধিপতি ঠিক সে সময়ে গুরুচাঁদ ঠাকুর দলিত মানুষের শিক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে ওড়াকান্দিতে তিনি প্রথম স্কুল স্থাপন করেন।

গুরুচাঁদ ঠাকুর ছিলেন মূলত দলিত পিছিয়ে পড়া সমাজের পথিকৃৎ। তিনি এই পিছিয়ে পড়া সমাজকে শিক্ষার আলো জ্বেলে অগ্রগামী করেছিলেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তিনি শুধু গোপালগঞ্জ নয়, ভারতবর্ষেও বহু পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বেলেছেন। এসব দলিত মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছেন।

কিন্তু ২০০ বছর পরে এসে আমরা দেখছি গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। এখনো নিম্নবর্ণের জেলা হিসেবে কাশিয়ানীতে উন্নতির ছোঁয়া পড়েনি। তারা এখনো নৌকায় চড়ে স্কুলে যায় শিক্ষালাভের জন্য। নেই পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট, যানবাহন, পানীয় জলের সুব্যবস্থা। এমনকি অধিকাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। 

মতুয়া আন্দোলন মূলত ওড়াকান্দি কেন্দ্রিক হলেও ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময়ে মতুয়াদের একটা বড় অংশ ভারতে চলে যায় বলে জানান স্থানীয় মতুয়াদের অনেকে।

ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের শিষ্যদের বড় একটা অংশ নিয়ে ভারতে চলে যান এবং উত্তর চব্বিশ পরগণার ঠাকুরনগরে নিজেদের ধর্মীয় কেন্দ্র গড়ে তোলেন।

খ্রিস্টান ধর্মযাজক ডা. সি এস মিড গুরুচাঁদ সম্পর্কে লিখেছিলেন, সারা ভারতবর্ষের প্রাচীনপন্থী হিন্দুদের মধ্যে তার মতো একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং তেজস্বী মানুষ দেখেননি তিনি। ১৯৩৮ সালে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু গুরুচাঁদ ঠাকুরকে একজন মহামানব হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী গুরুচাঁদ ঠাকুরকে বলেছিলেন মহান গুরু। 

Sunday, September 27, 2020

স্বর্ণ হরফে কুরআন

0 comments

কুরআন মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ। ২০১৫ সালে এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। 


 এর পরের বছর স্বর্ণের অক্ষরে কুরআন লিখে ইতিহাস গড়েন আজারবাইজানের এক নারী শিল্পী। তার নাম তুনজালে মেমেদজাদে।

১৬৪ ফুটের স্বচ্ছ কালো সিল্কের ওপর স্বর্ণ এবং রুপা দিয়ে কোরআন লিখেছেন তিনি। এতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর। 

সিল্কের ওপর স্বর্ণের হরফে কুরআন এই প্রথম লেখা হল বলে জানান ৩৩ বছর বয়সী এই শিল্পী। স্বর্ণের হরফে লেখা এই কুরআনের দৈর্ঘ্য ১১.৪ ফুট। আর প্রস্থ ১৩ ফুট। প্রত্যেকটি হরফ নিজের হাতে লিখেছেন মেমেদজাদে। 

প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে ইসলামের শিল্পকলা। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স দিয়ানেট থেকে স্বর্ণের হরফে লেখা এই কুরআনের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

 

সূত্র: মাইমডার্নমেট

Thursday, August 15, 2019

বাংলাদেশে ইসলামের আগমন

0 comments
বাংলাদেশে ইসলামের সূচনার সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে ইতিহাসবিদরা বিভিন্ন মত ব্যক্ত করে থাকেন। অনেকের মতে ১২০৩/১২০৪ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশ দাপিয়ে বেড়ানো আফগানিস্তানের প্রতাপশালী মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজির শাসনকাল থেকে বাংলাদেশে ইসলামের সূচনা হয়। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন প্রত্মতাত্মিক নিদর্শন আমাদের নতুন করে ভাবাতে আরম্ভ করেছে। বহুসংখ্যক আলামতের ভিত্তিতে এ কথা প্রমাণিত হয়, সাহাবাদের সময় থেকেই আমাদের বাংলাদেশে ইসলামের আগমন শুরু হয়। আরবের দায়িরা দ্বীনের দাওয়াতের স্বার্থে ব্যবসার কাফেলা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ছড়িয়ে পড়েছেন। সেই সময় থেকেই বাংলাদেশে ইসলামের সূচনা হয়।

‘জাতীয় অধ্যাপক’ দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফের মতে, হজরত ওমর রা. এর শাসনামলে মামুন, মুহাইমেন রা. নামক সাহাবিদ্বয় বাংলাদেশে আগমন করেন। বিশিষ্ট সাহাবি আবু ওয়াক্কাস রা. ৩য় হি. (৬২৬ খ্রি.) ইসলাম প্রচারের জন্য চীন যাওয়ার পথে কিছুকাল রংপুর এলাকায় অবস্থান করে ইসলাম প্রচার করেন, বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিষয়টির পক্ষে জোড়ালো প্রমাণ উপস্থান করা যায়। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম রংপুরের ৪৮ কিমি দূরে লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের বড়বাড়িতে রামদাস মৌজার মসতার পাড় নামক স্থানে এক অভূতপূর্ব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা ৬৯ হিজরিতে (আনুমানিক ৬৯২ খ্রি.) নির্মিত একটি মসজিদ। এই মসতার পাড় স্থানটি বহুকাল ধরে ৭/৮টি উঁচু মাটির টিলা ও জঙ্গল দ্বারা আবৃত ছিল। যার স্থানীয় নাম ‘মজদের আড়া’। স্থানীয় ভাষায় ‘আড়া’ অর্থ জঙ্গলময় স্থান। এতোদিন কেউ হিংস্র জীবজন্তু, সাপ-বিচ্ছুর ভয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সাহস পেত না। ১৯৮৭ সালে জমির মালিক তা আবাদযোগ্য করার চিন্তা করে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে প্রাচীনকালের তৈরি ইট, যাতে আঁকা ছিল ফুল। আর মাটি ও ইট সরাতে সরাতে আশ্চর্যজনকভাবে পূর্ণ একটি মসজিদের ভিত খুঁজে পাওয়া গেল।

এর মধ্যে ৬' ৬'' ২'' সাইজের একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যার মধ্যে স্পষ্টাক্ষারে আরবিতে লেখা আছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ, হিজরি ৬৯ সাল। খননকাজে বিস্ময় বাড়তে থাকে। আরও খননের পর মসজিদের মেহরাব এবং মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ ও ইমাম সাহেব যে স্থানে খুৎবা পাঠ করতেন, তাও আবিষ্কৃত হয়। তখন থেকেই এলাকার লোকজন এ স্থানে টিন দিয়ে একটি সাধারণ ছোটোখাট মসজিদ তৈরি করে নামাজ পড়ে থাকেন। তারা মসজিদটির নাম দিয়েছেন ‘হারানো মসজিদ’। তাই এটা বলা যেতে পারে, আরব থেকে আগত মুসলমানÑ যারা ৬৯ হিজরিতে এ এলাকায় বসবাস করেছিলেন এবং নিজেদের ধর্মীয় প্রয়োজনে মসজিদও তৈরি করে ছিলেন। সেই থেকেই বাংলাদেশে ইসলামের প্রচারের কাজ আরম্ভ হয়।

এদিকে অষ্টম হিজরিতে ক্যান্টন থেকে চীনের রাজা তাইশাং হজরত আবু কাবশার রা. মারফত ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন। গুজরাটের রাজা ভোজের কাছে সাহাবায়ে কেরাম এসেছিলেন। ক্যারালার রাজা চেরুমল-পেরুমলও সাহাবাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, একথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। কাজেই সেদিক থেকে বিচার করলে ৬৯ হিজরিতে বাংলাদেশে ইসলামের প্রসার শুরু হওয়া বিচিত্র ঘটনা নয়।

এই নিদর্শন পাওয়ার পূর্বে ধারণা করা হতো, শুধুমাত্র বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলেই প্রাচীনকালে আরবদের আগমন ঘটেছিল এবং তা খুব বেশি অতীত হলে খ্রিস্টিয় অষ্টম বা নবম শতকে। কিন্তু লালমনিরহাটে আবিষ্কৃত ৬৯ হিজরির (আনুমানিক ৬৯২ খ্রি.) ‘হারানো মসজিদ’ তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ নিয়ে সে ধারণাকে নতুনভাবে বিশ্লেষণের দাবি জানাচ্ছে।

বিচ্ছিন্নভাবে ৬৯ হিজরির আগেও বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ৬১৭ খ্রি. ১৪ রজব বৃহস্পতিবার প্রিয়নবী সা. আঙুলের ইশারায় চাঁদ দু’ভাগ হতে দেখে ‘রাজাভোজ’ মুসলমান হয়ে আবদুল্লাহ নাম ধারণ করেন এবং তিনিই ভারতীয় সর্বপ্রথম মুসলমান। এতে বোঝা যায় প্রিয়নবী সা. জীবদ্দশায় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার শুরু হয়। অন্যদিকে বিবি খাদিজার রা. বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রামে নোঙর ফেলেছিল এবং দক্ষিণ আরবের ‘সাবা’ জাতি ঢাকার অদূরে বসতি গড়লে তার নাম হয়ে যায় সাভার। ঠিক তখন থেকেই বাংলাদেশে আরবদের আগমন শুরু হয় এবং তাদের মাধ্যমেই ইসলামের সূচনা হয়। তবে তখন ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচার হয়নি। পরবর্তীতে ১২০৩-০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকেই ব্যাপকভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসার আরম্ভ হয়। 
তথ্যসূত্র: ,

ছবিসূত্র:

Saturday, August 25, 2018

রাখি বন্ধনের নেপথ্যের ইতিহাস

0 comments
সুভদ্রা কৃষ্ণের ছোট বোন, কৃষ্ণ সুভদ্রাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তবে আপন বোন না হয়েও দ্রৌপদী ছিলেন কৃষ্ণের অতীব স্নেহভাজন। একদিন সুভদ্রা কিছুটা অভিমান ভরে কৃষ্ণকে প্রশ্ন করলেন এর কারন। উত্তরে কৃষ্ণ বললেন যথা সময়ে এর কারন তুমি বুঝতে পারবে।

এর কিছুদিন পর শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে রক্ত পড়ছিল, তা দেখে সুভদ্রা রক্ত বন্ধের জন্য কাপড় খুঁজছিলেন, কিন্তু মন মত পাতলা সাধারন কাপড় পাচ্ছিলেন না, এর মাঝে দ্রৌপদী সেখানে আসলেন, দেখে বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাথে সাথে নিজের মুল্যবান রেশম শাড়ি ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাত বেধে দিলেন, কিছুক্ষন পর রক্তপাত বন্ধ হল। তখন শ্রীকৃষ্ণ বোন সুভদ্রা কে ডেকে বললেন- এখন বুঝতে পেরেছ কেন আমি দ্রৌপদীকে এত স্নেহ করি? সুভদ্রা বুঝতে পারল ভক্তি ও পবিত্র ভালবাসা, শ্রদ্ধা কি জিনিস! দাদা কৃষ্ণের চেয়ে মুল্যবান বস্ত্র নিজের কাছে বেশি প্রিয় এটা ভেবে সুভদ্রা দারুন লজ্জিত হলেন। কোন বোন তার ভাইয়ের কোনোরূপ কষ্ট, অমঙ্গল সহ্য করতে পারে না। ভাইয়ের কষ্ট দুরের জন্য সে সর্বত্তম চেষ্টা করে। অন্যদিকে ভাই ও তার বোন কে পৃথিবীতে সর্বাধিক স্নেহ করে, সারাজীবন তাকে রক্ষা করে থাকে, যেরকম শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রাজসভায় চরম কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেছিলেন। সকল ভাইবোনের উচিত এই পবিত্র দিনে মনে এরকম ভক্তিভাব ও ভালবাসা বজায় রাখা। কৃত্রিমতা, যান্ত্রিকতার এই বর্তমান যুগে ভাই বোনের মাঝে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার বড় অভাব। সনাতন ধর্মে বড় বোন/দিদিকে মাতৃস্থানীয় এবং বড় ভাইকে পিতৃস্থানীয় সম্মান ও ভালবাসা দেয়ার কথা বলা আছে।
গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ চিতোর আক্রমণ করলে বিধবা রানি কর্ণবতী অসহায় বোধ করেন এবং তিনি হুমায়ুনকে একটি রাখী পাঠিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। কর্ণবতীর রাখী প্রেরণে অভিভূত হয়ে হুমায়ুন চিতোর রক্ষা করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেন। এর পর থেকে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।


তথ্য নেট থেকে সংগৃহীত।।

Thursday, February 13, 2014

বাংলায় সুফিবাদের আগমন

0 comments
বাংলায় সুফিবাদের আবির্ভাবকাল সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত এদেশে সুফিবাদের সর্বাধিক প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়।আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে সুফিরা এসে বঙ্গদেশে সুফিবাদ প্রচার করেন। তাদের মৃত্যুর পর কিছু অতিভক্তগন কর্তৃক প্রচলিত হয়ে যায় যে তারা বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, লিখা হয় বিভিন্ন গাঁজাখুরি কিচ্ছা কাহিনি যা ইসলামের সাথে সরাসরি বিরোধ করে ও তারা নাকি আমাদের প্রিয় রাসুল (সাঃ) এবং সাহাবাদের (রাঃ) থেকেও বেশি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, এই সব কথা লিখা হয়েছে তাদের বই গুলোতে এবং তাতে স্পষ্ট শিরক ও কুফর লক্ষ্য করা যায়। সুফিদের চালচলন, মানবপ্রেমের ইত্যাদির কারণে এদেশের সাধারণ কিছু মানুষ সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠে । এভাবে ক্রমশ বঙ্গদেশে সুফিবাদ প্রসার লাভ করে। ১২০৪-৫ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী কর্তৃক বাংলাদেশ বিজিত হলে ইসলামের শরীআত ও মারিফত উভয় ধারার প্রচার ও প্রসার তীব্রতর হয়। শাসকশ্রেণীর সঙ্গে বহু পীর-দরবেশ এদেশে আগমন করে নিজস্ব তরীকায় ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। এরা নিজ রচিত সুফিবাদের আধ্যাত্মিক
তত্ত্ব চমৎকারভাবে তুলে ধরে সাধারণ কিছু মূর্খ মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেন, ফলে বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মতবাদ প্রসার লাভ করে। সুফিগণ নিজেদের রচিত বিভিন্ন তরীকা এবং মানুষের মাঝে প্রেম-ভ্রাতৃত্ব-সাম্যের মধুর বাণী প্রচার করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের কিছু সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ লোকমুখে কিংবদন্তি-পুরুষে পরিণত হয়েছেন। এদের অনেকের মাযার তৈরি হয়েছে, যেগুলোকে পবিত্র ও পুণ্য স্থান বিবেচনা করা হয় । এমন কি কেউ কেউ নিয়মিত যিয়ারত করে ও পার্থিব কামনা-বাসনায় মানত
করে, মাজারে টাকা পয়সা, ফুল, মোমবাতি, আগরবাতি ইত্যাদি দেয়াকে ছওয়াব মনে করে ! এই সুফিবাদ দ্বারা পরবর্তীতে বৈষ্ণবধর্ম, লৌকিক মরমিবাদ, বাউল ধর্মমত ও অন্যান্য ভক্তিবাদও কমবেশি প্রভাবিত হয়।

Tuesday, October 23, 2012

কুমারী পূজার তত্ত্ব

0 comments
শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন: কুমারী পূজা করে কেন? সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ।
দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবী প্রতিমা চিন্তা করে পূজা করা হয়। এটা মাতৃভাবের প্রতিই শ্রদ্ধা নিবেদন। চণ্ডীতে বলা হয়েছে— যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ সকলের মধ্যে মায়ের রূপ ধরে যে দেবী বিরাজিতা, তাঁকে পুনঃপুন নমস্কার করি।
কুমারী কাকে বলে? ১ বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত অজাতপুষ্পবালাকে কুমারী বলে। মাতৃভাব বিকাশের জন্য রামকৃষ্ণ মঠ বিশেষভাবে এ পূজা করে থাকে। দুর্গাপূজার সময় বা জগদ্ধাত্রী পূজার সময় এ পূজা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। ঠিক ঠিকভাবে পূজা হলে মন বিশুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপালাভ হয়।
বয়স অনুসারে কুমারীর নানা শাস্ত্রীয় নাম হয়ে থাকে। যেমন— কালিকা, সুভগা, উমা, মালিনী ইত্যাদি। শান্ত, পবিত্র, সর্তশীলা এসব দৈবী সম্পদের অধিকারিণী কুমারীই জগজ্জননীর প্রতিমারূপে গ্রহণে বিধান আছে।
ব্রহ্ম ও শক্তি অভিন্ন। যাঁকে ঈশ্বর, হরি, গড প্রভৃতি বলা হয়, তাঁকেই মাতৃভাবে সাধনার সময় বলা হয় জগজ্জননী। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবজাতির ক্ষেত্রে মায়ের নীরব অবদানের ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব।  নারী শক্তিরূপিণী। তাঁর সঠিক মূল্যায়নের অভাবে আমাদের অবক্ষয় নেমে আসে। আবার তাঁর উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজ হয় কল্যাণমুখী। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন— ‘মেয়েদের পূজা করেই সব জাত বড় হয়েছে। যে দেশে, যে জাতে মেয়েদের পূজা নেই, সে দেশ, সে জাত কখনও বড় হতে পারেনি, কস্মিন্কালেও পারবে না। ... মনু বলেছেন, ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তএ দেবতা:। যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যতে সর্বাস্তত্রাফলা: ক্রিয়া:।’ অর্থাত্, যেখানে নারীগণ পূজিতা হন, সেখানে দেবতারা প্রজসন্ন। যেখানে নারীগণ সম্মানিতা হন না, সেখানে সকল কাজই নিষ্ফল। (মনুসংহিতা, ৩.৫৬) যেখানে স্ত্রীলোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে সংসারের, সে দেশের কখনও উন্নতির আশা নেই।’
মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা। কুমারীতে সমগ্র মাতৃজাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি—পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তি, সকল কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বিরাজিতা। তাই কুমারী পূজা। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন—কুমারী পূজা করে কেন? হাগে মুতে এক মেয়েকে পূজা করা কেন? না ভগবতীর এক একটি রূপ বলে।
কুমারী প্রতীকে আমাদের মাতৃরূপে অবস্থিত। সর্বব্যাপী ঈশ্বরেরই মাতৃভাবে আরাধনা। যে জাতির মধ্যে শুদ্ধা, শিক্ষিতা, করুণাময়ী মায়ের সংখ্যা বেশি সে মাতৃজাতির সন্তানেরা সমাজের আদর্শ সন্তান। নিজ নিজ শক্তির বিকাশের জন্য সমগ্র নারী জাতির প্রতি প্রয়োজন নিজের মায়ের শ্রদ্ধা। তাই কুমারী পূজার মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। যিনি সকল প্রাণীতে মাতৃরূপে আছেন, তাকে প্রণাম। কুমারী পূজার প্রণামে আছে তিনি পরমভাগ্যসন্দায়িনীম এবং ভুবনবাক কুমারীং ভজে। অর্থাত্, কুমারী প্রতীকে জগজ্জননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়।
এ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরূপা, বিদ্যাস্বরূপা। তিনি এক হাতে অভয় এবং অন্য হাতে বর প্রদান করেন। অন্য ধ্যান আছে— ভদ্রবিদ্যাপ্রকাশিনীম। তিনি সকল শুভ বিদ্যার প্রকাশিকা।
তাই মাতৃজাতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমরা আমাদের সমাজ ও জীবনকে মহত্ করে তুলতে পারি।

লেখক: স্বামী অমেয়ানন্দ; অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা

Tuesday, August 7, 2012

চাকমাদের বিজু উৎসব

0 comments
ভোরের আলো ফোটার আগেই চাকমা নারী-পুরুষরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ফুল তোলার কাজে। নিজের বাগান, পাড়া-প্রতিবেশীর বাগান যেখান থেকেই হোক, তারা ফুল জোগাড় করবেই। এই দিন অন্যের বাগানের ফুল চুরিও অপরাধ নয়। এই ফুল দিয়ে তাদের দেবতাকে পূজা দেওয়া হয়। আর এসবই করা হয় চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বিজুর দিনে। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের প্রথম দিনকে বলা হয় ফুল বিজু এবং শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি বা মূল বিজু। ফুল বিজুর দিন সকালবেলা চাকমারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজায়, বুড়ো-বুড়িদের গোসল করায়, নতুন কাপড় দেয়। রাতে বসে পরের দিনের পাঁচন তরকারি রান্নার জন্য সবজি কাটতে বসে। এই হলো অনেক রকমের সবজি একসঙ্গে মিশেলে রান্নার পদ, যা কমপক্ষে পাঁচটি এবং বেশি হলে ৩২ রকম সবজির মিশেলে রান্না করা হয়। মূল বিজুর দিন চাকমা তরুণ-তরুণীরা খুব ভোরে উঠে কলাপাতায় করে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দেয়। তারপর সবাই বিশেষ করে ছোটরা নতুন জামাকাপড় পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। পরের দিন নতুন বছর বা 'গোর্য্যাপোর্য্যা' যার গড়িয়ে পড়ার দিন। নতুন বছরের এই দিনে সবাই মন্দিরে যায়, খাবার দান করে, ভালো কাজ করে, বৃদ্ধদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়।

নবান্ন উৎসব

0 comments
একসময় বাংলার বেশির ভাগ মানুষই ছিল কৃষক। কৃষিপ্রধান সমাজে এই কৃষকরা ফসল উৎপাদনের নানা সময়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। এই অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রধান উৎসব হলো নবান্ন উৎসব। 'নবান্ন' শব্দের অর্থ 'নতুন অন্ন'। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকে। কৃষকের ধানের গোলাগুলো আমন ধানে ভরে ওঠে। এই আমন ধান থেকে যে চাল হয়, তা দিয়ে প্রথম রান্না উপলক্ষে এই নবান্ন উৎসবের আয়োজন। সাধারণত পহেলা অগ্রহায়ণে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে কোথাও কোথাও মাঘ মাসেও নবান্ন উদ্যাপনের প্রথা রয়েছে। অমুসলিম রীতিতে নবান্ন অনুষ্ঠানে নতুন অন্ন পিতৃপুরুষ, দেবতা, কাক ইত্যাদি প্রাণীকে উৎসর্গ করে। নতুন চালের তৈরি খাদ্যসামগ্রী কাককে নিবেদন করা একটি বিশেষ লৌকিক প্রথা। তারা বিশ্বাস করে কাকের মাধ্যমে ওই খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। এই বিষয়টিকে বলে 'কাকবলী'। অতীতে পৌষসংক্রান্তির দিনও গৃহদেবতাকে নবান্ন নিবেদন করার প্রথা ছিল। নবান্ন উৎসব হিন্দুদেরও একটি প্রাচীন প্রথা। হিন্দুশাস্ত্রে নবান্নের উল্লেখ ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করা রয়েছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, নতুন ধান উৎপাদনের সময় পিতৃপুরুষ অন্ন প্রার্থনা করে থাকে। এই কারণে হিন্দুরা পার্বণ বিধি অনুযায়ী নবান্নে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে থাকে। হিন্দু শাস্ত্রমতে নবান্ন শ্রাদ্ধ না করে নতুন অন্নগ্রহণ করলে পাপের ভাগী হতে হয়।

কঠিন চীবর দান

0 comments
এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সুতাকাটা, কাপড় বোনা, কাপড় সেলাই, ধোয়া ও শুকানো এই যাবতীয় কাজগুলো শেষ করে ভিক্ষুদের দান করতে হয়। আরো কিছু নিয়ম-কানুন আছে, যা দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্যই পালন করা বেশ কঠিন। তাই এই অনুষ্ঠানটির নাম কঠিন চীবর দান। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অনুষ্ঠান। চীবর শব্দটির অর্থ হলো ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র। বৌদ্ধদের ধর্ম বিশ্বাস মতে, চীবর দান হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দান। শতবর্ষের দান কিংবা পৃথিবীর সব দান একত্র করলে যে ফল, তা একখানি চীবর দানের ১৬ ভাগের ১ ভাগও নয়। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে বছরে মাত্র একবার চীবর দান অনুষ্ঠান করা হয়। এ দিন ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা এবং ব্যাপক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষুদের চীবর দান করেন। গাছের গুঁড়ি, শিকড়, ছাল, শুকনো পাতা, ফুল ও ফল এই ছয়টি বিশেষ রঙে চীবরের রং নির্ধারিত। এই পোশাক বোনায় ব্যবহার করা হয় বেইন বা কাপড় বোনার বাঁশে তৈরি ফ্রেম। এ রকম বেইনে একসঙ্গে চারজন কাপড় বুনে থাকে। পূর্বে ভিক্ষুরা ময়লা কাপড় পরিধান করত। এতে তাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটার আশঙ্কা থাকত। ভিক্ষুদের নীরোগ, সুস্থ দেহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চীবর পরিধানের নিয়ম প্রবর্তন করা হয়। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পোশাক ভিক্ষুদের দেওয়া হয়।



গ্রন্থনা : তৈমুর ফারুক তুষার

Monday, July 23, 2012

হজরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার

0 comments
তাঁর নামেই শাহরাস্তি উপজেলার নাম। তিনি ছিলেন সিলেটের হজরত শাহ্জালাল (রহ.)-এর একজন ঘনিষ্ঠ সহচর। চাঁদপুর-লাকসাম রেললাইন এবং চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের এক কিলোমিটার দক্ষিণে মেহারের শ্রীপুর গ্রামে হজরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার। সুলতান শামস্উদ্দিন শাহর শাসনামলে অর্থাৎ ১৩৫১ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে ধর্মপ্রচারের জন্য আসেন হজরত রাস্তি শাহ (রহ.)। বড় একটি দিঘির পাশে টিলার ওপর মাজারটি। পশ্চিম পাশের আরেকটি দিঘির অন্য পাড়ে রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান মেহার কালীবাড়ি। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা বা বিলাস পরিবহনের বাসে দোয়াভাঙা গেট যাওয়া যায়। ভাড়া ২০০ টাকা। গেট থেকে মাজার পর্যন্ত রিকশাভাড়া ১০ টাকা।

Thursday, July 5, 2012

শব-ই-বরাত বরকতময় রাত

0 comments
শবেবরাত এক বরকতময় রাত, যা আল্লাহর নৈকট্য-সানি্নধ্য লাভের এক বিরাট উপায়। আল্লাহতায়ালা এ রাতকে লাইলাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত বলে ঘোষণা করেছেন। মুফাসসিরিনে কেরামের অধিকাংশই এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ পাক বলেন, 'আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে নিশ্চয় আমি সতর্ককারী এ রাতে আমার আদেশক্রমে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ৩-৪)।
এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ আয়াতে বরকতের রাত্রি বলে শবেবরাত অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে বোঝানো হয়েছে। এ রাতে সারা বছরের বিষয়াবলি স্থির (চূড়ান্ত) করা হয়। অর্থাৎ জন্মগ্রহণকারী ও মৃত্যুবরণকারীদের সময় ও রিজিকের ফয়সালা করা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় শাবানের মধ্যবর্তী রাতে আল্লাহতায়ালা সব বিষয় ফয়সালা করেন এবং সেগুলো শবেকদরে অধিকারীদের কাছে সম্পন্ন করে থাকেন। (তাফসিরে খাজেন খণ্ড-৬ পৃ. নং-১৮৮)। শবেবরাতের ফজিলত ও মর্যাদা অপরিসীম। এ রাতে গুনাহগুলো থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং পাপের অশুভ পরিণাম থেকে রেহাই পাওয়া যায়। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, 'যখন শাবানের ১৫ রাত আসে তখন তোমরা ওই রাতে জাগ্রত থেকে মহান আল্লাহপাকের ইবাদত-বন্দেগি করবে ও দিনের বেলায় রোজা রাখবে। কেননা শবেবরাতের রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানে তাশরিফ আনেন। আর বান্দাদের ডেকে ডেকে বলতে থাকেন ক্ষমা, প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। রিজিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি রিজিক দিয়ে দেব। রোগাক্রান্ত কেউ আছ কি? রোগ মুক্তির প্রার্থনা করলে, আমি শেফা দান করব। এ ধরনের যে কোনো কর্মের হাজত থাকলে আমার কাছে দোয়া কর আমি তোমাদের হাজত পূর্ণ করে দেব। (তিরমিজি শরিফ)।

শবেবরাত রাতে ভারসাম্যপূর্ণ আমলের কথা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা নির্ভরযোগ্য রিওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিত। হজরত মু'আম বিনে জাবাল (সা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন_ আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

--মো. কামরুজ্জামান সোহাগ

Monday, June 18, 2012

শবে মিরাজ

0 comments
শবে মিরাজ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনের অন্যতম তাত্পর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই বিশ্বনবী মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। আল্লাহর সঙ্গে দেখা করে মহানবী (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশসহ বিভিন্ন ইসলামি বিধি-বিধান পৃথিবীতে নিয়ে আসেন।

‘মিরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতেই আল্লাহ-প্রদত্ত বাহনে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করে আল্লাহ-রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। এই সফরে সপ্তম আসমান পর্যন্ত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন জিবরাইল (আ.)। সপ্তম আসমানের পর রাসুল (সা.) ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে রেখে আল্লাহ প্রদত্ত আরও একটি বাহনে চড়ে আল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। আল্লাহর সঙ্গে মহানবীর অনেক কথা-বার্তা হয়।
মিরাজে গমনের পথে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে অনেক পূর্ববর্তী নবী-রাসুলের সাক্ষাত্ হয়েছিল। বায়তুল মোকাদ্দেসে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেছিলেন অন্যসব নবী-রাসুল।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে হজরত আবু বকর (রা.)-কে এই ঘটনা সম্পর্কে বলেছিলেন।

Friday, May 4, 2012

ওজিল ও আমলা

1 comments
আজ আপনাদের দুজন চমৎকার মুসলিম খেলোয়াড়ের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব।
উপরের ছবিতে যাকে দেখছেন, তিনি স্পেনের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব রিয়েল মাদ্রিদ ও জার্মানির হয়ে খেলা মুসলিম খেলোয়াড় ওজিল। ওজিল জন্মগত ভাবে একজন তুর্কি মুসলিম। আভিজাত্যর মধ্যে থেকেও ওজিল ভুলেননি সৃষ্টিকর্তা আল্লাকে।এখনও প্রতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে ওজিল নফল নামায আর কোরআন শরীফ পড়ে মাঠে নামেন, খেলা শুরু হবার আগে মাঠেই মোনাজাত করেন।

নিচের ছবিতে যাকে দেখছেন, তিনি দক্ষিন আফ্রিকার সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হাশিম আমলা, সাথে রয়েছেন দক্ষিন আফ্রিকার আরেক ব্যাটসম্যান জ্যাক ক্যালিসের। ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মানার চেষ্টা করেন আমলা। মুসলমানদের ইঙ্গিত করে উনাকে "সন্ত্রাসী" আখ্যা দেওয়ায় তিনি এক টিভি কমেন্টেটর এর বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ ও আনেন। তিনি রোজার রাখার জন্য ও এক সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন একবার। আইপিলে লাভের অংশ থেকে টাকা দেওয়ার কিছু নিয়ম নীতি মুসলিম বিধানের সাথে সাংঘর্শিক হওয়াতে তিনি আইপিএল এর মতো বিপুল টাকার এই আসর থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। এখন ছবিতে ভালো করে লক্ষ্য করুন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যালিসের জার্সিতে ক্যাসল নামক একটি বিয়ার কোম্পানির লোগো থাকলেও আমলার জার্সিতে তা অনুপস্থিত। কারন ইসলামে মদ জাতীয় যেকোন পানিয়র বিক্রি, তৈরি এমনকি তার প্রচার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। আর তাই আমলা দক্ষিন আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড ও দক্ষিন আফ্রিকা ব্রিউয়ার্স এর অনুমতি নিয়ে ক্যাসল এর লোগো তার জার্সিতে লাগান না।অবশ্য এ জন্য তাকে প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে জরিমানা গুনতে হয়।

[পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে,তাদের দেখার সুযোগ করে দিন ]

Sunday, February 19, 2012

৩২ ফুট লম্বা কঙ্কাল

0 comments
সৌদি আরবে ৩২ ফুট লম্বা কঙ্কাল পাওয়া গেল।যেটি কুরআনে বর্ণিত আদ জাতির অস্তিত্বের প্রমান.......
সৌদি আরবে রব-উল-খালিতে প্রপ্ত ১0মিটার বা ৩১.৮০ ফুট লম্বা কঙ্কালটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আদ জাতির কোনো ব্যক্তির বলে মনে করছে সে দেশের আলেম সমাজ।২০০৪ সালে বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি "আরামকো" গ্যাস অনুসন্ধানের সময় কঙ্কালটি ওই এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমানগুলো খোজ পায়।
জায়গাটি আবিস্কারের পরপরই সেখানে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও সম্প্রতি সৌদি সামরিক বাহিনী বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে।সৌদি আরবের আলেমদের মতে ওই প্রান্তরে পাওয়া নমুনাগুলো আদ আতির ধ্বংসাবশেষ।
পবিত্র কুরআনে এবং অন্যান সূত্রে বলা হয়েছে আদ জাতির লোকেরা ছিল খুবই লম্বা বিশাল ও অত্যান্ত শক্তিশালী ।
তারা এক হাতে বড় বড় বৃক্ষ উপড়ে ফেলতে পারত।
আধুনিক ইতিহাসে যেখানে দীঘতম মানুষটির দৈঘ্য পাওয়া যাচ্ছে ৯ ফুট(২.৭৪ মিটার)।সেখানে প্রায় ৩২ ফুট লম্বা মানুষের কঙ্কাল পাওয়া নাশ্চিত ভাবে পবিত্র কুরআনের সত্যতার প্রমাধবাহী।
পবিত্র কুরআনের সূরা শু'আরায় এই হুদ জাতিকে নিয়ে অনেক আয়াত নাযিল হয়েছে আল্লাহ কুরআনে বলেন
"আল্লাহ এত বিশাল আকৃতির মানুষ আর কখনো পাঠাননি ".....

Friday, November 4, 2011

ইসলামিক নিয়মে পশু জবাইয়ে পশুর যন্ত্রণা ?

0 comments
আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নি…ষ্ঠুর?
আসুন দেখা যাক, বিজ্ঞান কি বলে :

western world এ পশু জবাইয়ের প্রচলিত নিয়ম(CPB Method):

Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়……ধারনা করা হয় এতে পশু unconcious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না ……

গবেষণা :
জার্মানির Hanover University এর প্রফেসর Wilhelm Schulze এবং তার সহযোগী Dr. Hazim এর নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয় …গবেষনার বিষয়বস্তু ছিল : ১.western world এ প্রচলিত নিয়মে(CPB Method) এবং ২.ইসলামিক নিয়মে পশু জবাইয়ে পশুর যন্ত্রণা এবং চেতনাকে চিহ্নিত করা……

Experimental Setup:
brain এর surface কে touch করে পশুর মাথার খুলির বিভিন্ন জায়গায় surgically কিছু electrode ঢুকিয়ে দেয়া হয় …… পশুকে এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়……তারপর পশুগুলোকে জবাই করা হয়……কিছু পশুকে ইসলামিক নিয়মে আর কিছু পশুকে western world এর নিয়মে…… জবাই করার সময় electroencephalograph (EEG) এবং electrocardiogram (ECG) করে পশুগুলোর brain এবং heart এর condition দেখা হয়……

Result:

ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. জবাইয়ের প্রথম ৩ সেকেন্ড EEG graph এ কোন change দেখা যায় না ……তারমানে পশু কোন উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করে না …
২. পরের ৩ সেকেন্ডের EEG record এ দেখা যায় , পশু গভীর ঘুম এ নিমগ্ন থাকার মত অচেতন অবস্থায় থাকে…… হঠাৎ প্রচুর পরিমানে রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যাবার কারনে brain এর vital center গুলোতে রক্তসরবরাহ হয়না………ফলে এই অচেতন অবস্থার সৃষ্টি হয়……
৩. উপরিউল্লিখিত ৬ সেকেন্ড এর পর EEG graph এ zero level দেখায় …… তারমানে পশু কোন ব্যথাই অনুভব করেনা ……
৪. যদিও brain থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না , তবুও heart স্পন্দিত হচ্ছিল এবং তীব্র খিঁচুনি হচ্ছিল (spinal cord এর একটা reflex action) । এভাবে শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছিল এবং এর ফলে ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত হচ্ছিল ।

western world এ প্রচলিত পদ্ধতিতে(CPB Method) জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. মাথায় প্রচন্ড আঘাত করার পরের মুহূর্তে পশুটিকে দৃশ্যত অচেতন মনে হচ্ছিল
২. কিন্তু EEG এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছিল পশুটি খুব কষ্ট পাচ্ছে ।
৩. ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর তুলনায় CBP দিয়ে আঘাত করা পশুটির heart স্পন্দন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । যার ফলে পশুটির শরীর থেকে সব রক্ত বের হতে পারে নি । এবং ফলশ্রুতিতে, পশুটির মাংস ভোক্তার জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছিল ।

western world এর পদ্ধতি(CPB Method) এবং MAD COW রোগঃ

Texas A & M University এবং Canada এর Food Inspection Agency একটা পদ্ধতি(Pneumatic Stunning) আবিষ্কার করেছে যেটাতে একটা metal bolt পশুর brain এ fire করা হয় এবং এর ফলে brain এর টিস্যু পশুর সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে । brain tissue এবং spinal cord হল Mad Cow আক্রান্ত গরুর সবচেয়ে সংক্রামক অংশ ।
এছাড়াও brain এবং heart এ electric shock এর মাধ্যমে পশুকে অচেতন করেও কিছু কিছু জায়গায় পশু জবাই করা হয় যেটা মাংসের quality এর উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে ।

ভারতীয় পদ্ধতিঃ

ভারতে পশুর মাথা এক কোপে আলাদা করে ফেলা হয় । এতে করে ঐচ্ছিক পেশীগুলো হঠাৎ করে সঙ্কুচিত হয়ে পরে যা অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ তরল বের করে দেয় এবং heart হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শরীর থেকে রক্ত বের হতে পারে না , যা বের হওয়া স্বাস্থ্যকর মাংসের জন্য দরকার ।

এছাড়া ইসলামে spinal cord না কেটে শ্বাসনালী , এবং jugular vein দুটো কাটার
ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে । এর ফলে রক্ত দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে । spinal cord কাটলে cardiac arrest এর সম্ভাবনা থাকে যার ফলে রক্ত শরীরে আটকে যাবে যা রোগজীবানু এর উৎস ।

এখানে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর একটি হাদীস মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছিঃ “আল্লাহ সবাইকে দয়া করার হুকুম দেন । তাই যখন জবাই কর তখন দয়া কর । জবাই করার পূর্বে ছুরিতে ধার দিয়ে নাও যাতে পশুর কষ্ট কম হয়” । তিনি পশুর সামনে ছুরিতে শান দিতে বা এক পশুর সামনে আরেক পশুকে জবাই করতেও নিষেধ করেছেন । এই জিনিস্টা কুরবানীর সময় আমারা ভুলে যাই ।

সবশেষে , আমরা কি এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে পশু জবাই করার ইসলামিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত এবং পশু এবং পশুর মালিক উভয়ের জন্যই উপকারী?

সংগ্রহে: আলোকবর্ষ

Saturday, March 12, 2011

Download Quran

1 comments







Photobucket



"And We have indeed made the Qur'an easy to understand and remember, then is there any that will remember (or receive admonition)? " (Qur'an, 54:17)

(2:242) Allah thus makes clear to you His communications [verses] that you may understand.

*From the above-mentioned verse of Qur’an it is clear that Allah told us to read the Quran with meaning.


Quran is a guide to humanity which also includes you, dear . Since none of us want to be misguided, it is paramount not only to read or recite Quran, but to understand and implement it in our lives as well.


Prophet Muhammad (peace be upon him) gave us a simple formula to be the best: "The best amongst you is the one who learns the Qur'an and teaches it." (Al-Bukhari) So go ahead, learn and teach the Qur'an, and make yourself among the best of Muslims Insha Allah.




Al-Qur'an Should It Be Read With Understanding



Dr. Zakir Naik explains why it is compulsory for mankind to read the Qur'an with understanding


Al-Qur'an Should It Be Read With Understanding - Part 1.flv Watch!
Al-Qur'an Should It Be Read With Understanding - Part 2.flv Watch!
Al-Qur'an Should It Be Read With Understanding - Part 3.flv Watch!
Live Question and Answer about this topic.flv Watch!


:: SELECT YOUR LANGUAGE ::



► Quran in the English Language [with Recitation]
►Quran in the English Language
► Holy Quran in Indonesian Language
► Holy Quran in French Language
► Holy Quran in German - Deutsch Language
►Holy Quran in Russian Language
►Quran In Chinese Language
► Holy Quran in Spanish
► Holy Quran in Greek
► Holy Quran in Bengali Language
► Holy Quran in Urdu
►Holy Quran in Persian Language
► Holy Quran in Albanian
► Holy Quran in Somali
► Holy Quran in Korean Language
► Holy Quran in Turkish
► Holy Quran in Thai
► Holy Quran in Vietnamese
► Holy Quran in Hausa
► Holy Quran in Chichewa
► Holy Quran in Filipino ( Iranon )
► Holy Quran in Kazakh
► Holy Quran in Brahui
► Holy Quran in Kashmiri Language
► Holy Quran in Macedonian
► Holy Quran in Malayalam
► Holy Quran in Burmese (Vol. 1)
► Holy Quran in Nko
► Holy Quran in Portuguese Language
► Holy Quran in Sindhi
► Holy Quran in Albanian
► Holy Quran in Tamil
► Holy Quran in Tamazight
► Holy Quran in Uyghur
► Holy Quran in Yoruba


Brought to you by www.iloveAllaah.com