Showing posts with label People. Show all posts
Showing posts with label People. Show all posts

Saturday, September 13, 2025

মাওরি জনগোষ্ঠী

0 comments

 'মাওরি' (Māori) হলো নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তারা নিউজিল্যান্ডে ইউরোপীয়দের আগমনের আগে থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছিল। তাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষা রয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।



মাওরি জনগোষ্ঠীর পরিচিতি:

  • উৎপত্তি: মাওরিরা পলিনেশীয় জাতিগোষ্ঠীর অংশ। ধারণা করা হয়, তারা প্রায় ১০০০ বছর আগে পূর্ব পলিনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপ থেকে সাগরপথে নিউজিল্যান্ডে এসে বসতি স্থাপন করেছিল। তারা তাদের নতুন ভূমিকে 'আওতেরোয়া' (Aotearoa) বা 'দীর্ঘ সাদা মেঘের দেশ' নাম দিয়েছিল।

  • সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: মাওরি সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রকৃতির সাথে গভীর সংযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দিক হলো:

    • কার্ভিং (Whakairo): কাঠ, পাথর এবং হাড়ের উপর জটিল নকশা খোদাই করা তাদের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প।

    • নৃত্য ও গান (Haka and Waiata): 'হাকা' হলো একটি শক্তিশালী দলীয় নৃত্য, যা যুদ্ধ বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়। 'ওয়াইয়াতা' হলো ঐতিহ্যবাহী গান।

    • ট্যাটু (Tā Moko): মুখে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ঐতিহ্যবাহী ট্যাটু বা 'টা মোকো' করা হয়, যা ব্যক্তির বংশ, ইতিহাস এবং সামাজিক অবস্থান প্রকাশ করে।

মাওরি ট্যাটু, যা Tā Moko (টা মোকো) নামে পরিচিত, তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি কেবল একটি ট্যাটু নয়, বরং এটি একজন ব্যক্তির পরিচয়, মর্যাদা, বংশ এবং ব্যক্তিগত ইতিহাসকে উপস্থাপন করে।

টা মোকোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে দেওয়া হলো:

১. Tā Moko এর অর্থ ও গুরুত্ব

টা মোকো একজন ব্যক্তির বংশ পরিচয় এবং সামাজিক মর্যাদা বহন করে। প্রতিটি রেখা এবং নকশার পেছনে একটি গল্প লুকিয়ে থাকে। এই ট্যাটুগুলো দেখে একজন মাওরি ব্যক্তি সহজেই জানতে পারেন, অপরজন কোন গোত্রের, তার পূর্বপুরুষ কারা এবং সমাজে তার অবস্থান কী। এটি এক ধরনের লিখিত নথি, যা শরীরের উপর খোদাই করা হয়।

২. চিরায়ত পদ্ধতি

ঐতিহ্যগতভাবে, টা মোকো করার জন্য আধুনিক সুই ব্যবহার করা হতো না। এর পরিবর্তে, উকিতাকি (Uhi) নামক বিশেষ ধরনের ছেনি ব্যবহার করা হতো, যা পাখির হাড় বা ধারালো পাথর দিয়ে তৈরি হতো। এই ছেনি দিয়ে চামড়া কেটে নকশা তৈরি করা হতো। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল এবং এর জন্য ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রয়োজন হতো। এটি একজন ব্যক্তির মানসিক শক্তিরও একটি পরীক্ষা ছিল।

৩. নকশার ভিন্নতা

টা মোকোর নকশাগুলো স্থানভেদে ভিন্ন হয়। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে, মুখের ট্যাটু সবচেয়ে সাধারণ। এটি তার মুখাবয়বের বাম ও ডান দিকে দুটি ভিন্ন গল্প বলে:

  • বাম দিক: মায়ের বংশের ইতিহাস।

  • ডান দিক: বাবার বংশের ইতিহাস।

মুখের ট্যাটু ছাড়াও, টা মোকো হাত, বাহু, উরু এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও করা হয়।

৪. আধুনিক টা মোকো

বর্তমানে, আধুনিক সরঞ্জামের (যেমন ট্যাটু গান) সাহায্যেও টা মোকো করা হয়, যা প্রক্রিয়াটিকে কম বেদনাদায়ক করে তোলে। তবে, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ও নকশার গুরুত্ব এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অনেক মাওরি শিল্পী এখন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেও টা মোকোর মূল অর্থ ও নকশার পবিত্রতা বজায় রাখেন। আধুনিক সময়ে, এটি কেবল পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, অনেক নারীও Moko Kauae (ঠোঁট ও চিবুকের ট্যাটু) এবং অন্যান্য নকশার মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করছেন।


টা মোকো হলো মাওরিদের Te Reo Māori (মাওরি ভাষা), whakapapa (বংশতালিকা) এবং mana (আধ্যাত্মিক ক্ষমতা)-র একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি তাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করে।

    • মিটিং হাউস (Marae): প্রতিটি সম্প্রদায়ের একটি মিটিং হাউস বা 'মারায়ে' থাকে, যা তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।

  • ভাষা: মাওরিদের নিজস্ব ভাষা আছে, যা 'তে রেও মাওরি' (Te Reo Māori) নামে পরিচিত। এটি নিউজিল্যান্ডের একটি সরকারি ভাষা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাষাটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

  • ঐতিহাসিক পটভূমি:

    • ইউরোপীয়দের আগমন: ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপীয়রা নিউজিল্যান্ডে আসতে শুরু করে। এর ফলে মাওরিদের ভূমি ও জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ে।

    • ওয়াইটাঙ্গি চুক্তি (Treaty of Waitangi): ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ ক্রাউন এবং মাওরি সর্দারদের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে মাওরিদের ভূমি ও সম্পদ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে এর শর্তগুলো প্রায়ই লঙ্ঘিত হয়, যার ফলে মাওরি এবং ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে, মাওরিরা নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৭%। নিউজিল্যান্ড সরকার এবং সমাজ মাওরি সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হয়েছে। মাওরি ঐতিহ্যকে শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, কিছু মাওরি সম্প্রদায় এখনও স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

Saturday, July 19, 2025

দ্রুজ জনগোষ্ঠী

0 comments

দ্রুজরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় উপজাতি। যা ১১ শতকে গড়ে উঠেছিল। এরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পাহাড়ী এলাকায় বাস করে।

Druze People

তারা আরবি ভাষী। যারা সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমিতে বসবাস করে। 

তাদের ধর্ম বিশ্বাস শিয়া ইসলামের একটি শাখা হলেও, এতে রয়েছে নিজস্ব পরিচয় ও বিশ্বাস। 

এতে ইসলাম ছাড়াও নানা দর্শনের সংমিশ্রণ রয়েছে; ধর্মবিশ্বাসে রয়েছে একেশ্বরবাদ, পুনর্জন্ম ও সত্যের অনুসন্ধানের ওপর জোর। মূলত দ্রুজদের ধর্ম বিধানে ইব্রাহিমীর ধর্মসমূহের পাশাপাশি নিওপ্লাতিনিক ও পিথাগোরীয় মতবাদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। দ্রুজদের সামাজিক রীতিনীতি মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের থেকে ভিন্ন। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের আচার-অনুষ্ঠান তারা গোপনে পালন করে। দ্রুজগণ নিজেদেরকে “আহলে তাওহীদ” (একেশ্ববাদী মানুষ বা একতাবদ্ধ মানুষ) বা “আল-মুয়াহিদুন” বলে পরিচয় দেয়।

দ্রুজদের ধর্মগ্রন্থের নাম "কিতাব আল-হিকমাহ" বা "রাসাইল হিকমাহ" ।

৫০-৫৫% দ্রুজ সিরিয়ায়, ৪০% লেবাননে, ৬-৭% ইসরাইলে এবং ১-২% জর্দানে বাস করে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুজ অনুসারীগণ উল্লেখযোগ্য হারে বাস করে। দ্রুজগণ আরবিতে কথা বলে ও প্রাচ্যীয় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সামাজিক রীতিনীতি অনুসরণ করেন। পৃথিবীতে দ্রুজ অনুসারীগণের সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। যার অর্ধেকই সিরিয়ায় বাস করে। তারা সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। সিরিয়ায় মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জর্ডান সীমান্তবর্তী সুইদা ও অধিকৃত গোলানের কুনেইত্রা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাস।  তাছাড়া রাজধানী দামেস্কের শহরতলি জারামানায় বাস করে দ্রুজরা।

ইসরায়েলের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল (উত্তরাঞ্চল) ও গোলান মালভূমিতে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার দ্রুজ বাস করে। ইসরায়েলে বাস করা দ্রুজরা বেশিরভাগই ইসরায়েল রাষ্ট্রের অনুগত বলেই মনে করা হয়। সেখানে দ্রুজদের অনেকে সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা ইসরায়েল-সমর্থক হিসেবে গণ্য হন।

লেবাননে দ্রুজরা চুফ, আলেই ও দক্ষিণের হাসবায়ার মতো পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হলেও দ্রুজরা যেসব দেশে থাকে, সেইসব দেশের রাজনীতিতে প্রায়ই বড় ধরনের ভূমিকা রেখে আসছে।

ইসরায়েলে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। তারা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের মতো নয়। বরং ইসরায়েলের অনেক আরব দ্রুজ দেশটির সামরিক বাহিনী ও পুলিশে কাজ করেন।

কেউ কেউ গাজা যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন এবং উচ্চ পদেও পৌঁছেছেন। ফলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে তাদের কণ্ঠ উপেক্ষা করা কঠিন।

ইসরায়েলে বাস করা বেশিরভাগ দ্রুজ নিজেদেরকে ইসরায়েলি নাগরিক বলেই পরিচয় দেয়। আবার অধিকৃত গোলান মালভূমিতে বাস করা ২০ হাজারের বেশি দ্রুজ এখনও নিজেদের সিরীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং সীমান্তের ওপারের আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ইসরায়েলি দ্রুজদের কাছ থেকে সিরীয় দ্রুজদের রক্ষা করার আহ্বানের মুখেই ইসরায়েলের নেতারা তাদেরকে রক্ষা করার কারণ দেখিয়ে এবছর বারবার সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছেন।

সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় বিক্ষোভে অংশ নিলেও সরকার তাদের সঙ্গে তেমন সংঘাতে জড়ায়নি।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল আসলে সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তকে একটি "নিরস্ত্রকরণ এলাকা" বানাতে চায়, যাতে ইসলামপন্থী যোদ্ধারা সেখানে শক্তিশালী না হতে পারে।


درزي

دروز

דרוזים


Tuesday, November 28, 2023

ডায়নার সেই গোলাপি ব্লাউজ নিলামে

0 comments

 প্রায় ২৫ বছর আগে প্যারিসের রাস্তায় ক্যামেরাতাড়িত হয়ে অকাল মৃত্যু মেনে নিতে হয়েছিলো জনগণের রাজকুমারী হিসাবে খ্যাত প্রিন্সেস ডায়নাকে। তিনি শুধু সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয়ই ছিলেন, সেই সঙ্গে গোটা দুনিয়াতে নিজেকে পরিণত করেছিলেন ফ্যাশন আইকন হিসাবে।



তার হেয়ারস্টাইল থেকে শুরু করে পোশাক সব কিছুই অনুকরণ হতো হু হু করে। সেই জন্য প্রিন্সেস ডায়না যেখানেই যেতেন, থাকতেন লাইম লাইটে। এবার নিলামে উঠছে প্রিন্সেস অব ওয়েলস খ্যাত লেডি ডায়ানার গোলাপি ব্লাউজ। তাঁর ব্যবহৃত ওই ব্লাউজটি বিখ্যাত ব্যক্তিদের পোশাক নিলামের তালিকায় রাখা হয়েছে।

১৯৮১ সালে ডায়ানা তাঁর বিয়ের এক অনুষ্ঠানে ব্লাউজটি পরেছিলেন। তখন ওই ব্লাউজ পরা অবস্থায় ডায়ানার ছবি তুলেন রাজপরিবারের ফটোগ্রাফার লর্ড স্নোডন। গোলাপি ক্রেপ কাপড়ের ব্লাউজটি সামনের দিকে রফের মতো কলার এবং আলগা প্লিট বিশিষ্ট। ব্লাউজটির ডিজাইনার হলেন ডেভিড এবং এলিজাবেথ ইমানুয়েল।

ডায়ানার বিয়ের পোশাকও ডিজাইন করেছিলেন তারা। ব্লাউজটি ২০১৯ সালে ‘ডায়ানা: হার ফ্যাশন স্টোরি’ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেসে রাখা হয়। ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি বলছে, ডায়ানার ছবি দিয়ে ‘ভোগ’ সাময়িকীতে একটি প্রচ্ছদ করা হয়েছিলো, সেখানেও একই ব্লাউজ পরা ডায়নাকে ছিলেন।

হলিউড কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত জুলিয়ান এবং টার্নার ক্লাসিক মুভিজ (টিসিএম) আয়োজিত চারদিনের এই নিলামে ডায়ানার ব্যবহৃত সন্ধ্যাকালীন একটি পোশাকও বিক্রি হবে। রাজকীয় ওই পোশাকটির ফ্যাশন ডিজাইনার ছিলেন মরক্কোর বংশদ্ভূত জ্যাকস আজাগুরি।

এটি ১৯৮৫ সালের এপ্রিলে ইতালির ফ্লোরেন্সে ভ্রমণের সময় ডায়ানা পরেছিলেন। এটি হল একটি ব্যালেরিনা স্কার্ট। যার নিলাম মূল্য হতে পারে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ ডলার। ১৪ থেকে ১৭ ডিসেম্বর বেভারলি হিলসে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের ধারণা, তাদের ভিত্তিমূল্য থেকেই বেশি দামেই বিক্রি হবে পোশাকটি।


উৎসঃ একাত্তর টিভি

Monday, November 27, 2023

প্রিন্সেস ডায়নার পিক্সি হেয়ার কাটের পেছনের গল্প

0 comments

 প্রিন্সেস ডায়না গত হয়েছেন প্রায় দুই যুগ। কিন্তু এখনও সবার মনের অগোচরে রয়ে গেছেন তিনি। ডায়না আরও একটি কারণে এখনও বিখ্যাত তা হলো তার আইকনিক লুক। তার চুলের বিখ্যাত পিক্সি হেয়ার কাট এই যুগেও সমানতালে জনপ্রিয়।  প্রশ্ন থেকেই যায়, কী কারণে এবং কীভাবে এসেছে ডায়নার এই হেয়ার কাট।

ব্রিটিশ ভোগ-এর ইউটিউব সিরিজ ভোগ ভিশনারিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিন্সেস ডায়ানার হেয়ার স্টাইলিশ স্যাম ম্যাকনাইট জানান, ডায়ানার এই তুমুল জনপ্রিয় হেয়ার-কাটের জন্ম একটি তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত থেকে।

স্যাম ম্যাকনাইট জানান, ৯০ এর দশকে ব্রিটিশ ভোগের একটি ফটোশ্যুটে স্যাম ডায়ানাকে একটি বব কাট দিইয়েছিলেন। এরপর তাকে টায়রা পরানো হলো। এটি একটি পরীক্ষামূলক কাজ ছিলো। দেখতে চাওয়া হয়েছিলো ডায়নাকে এই লুকে মানায় কিনা। কারণ আশির দশকে লুকটি জনপ্রিয় ছিলো।


ফটোশুট শেষ হওয়ার পর, প্রিন্সেস ডায়ানা স্যামকে একটি কৌতূহলী প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি যদি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পান তবে আপনি আমার চুল দিয়ে কী করবেন?" সাহসের সাথে, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াতে স্যাম উত্তর দিয়েছিলেন, আমি আপনার চুল আরও ছোট করে ফেলতে চাই। স্যাম ৯০ এর দশকে মডেল এবং সেলিব্রিটিদের মধ্যে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রোজিনাস, তীক্ষ্ণতা, শৈলী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

ডায়ানা সাথেসাথে স্যামের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এরপর স্যাম নৈপুণ্যের সাথে কাচির সাহায্যে ডায়ানাকে তার ঐতিহাসিক হেয়ারকাটটি দিয়েছিলেন।

পিক্সি কাটটি প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য চুলের স্টাইল পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু ছিল। এটি স্বাধীনতা এবং আত্ম-নিশ্চিততার একটি বিবৃতিতে পরিণত হয়েছে। রাজকীয় বন্দী জীবনে, এটি তার ব্যক্তিত্ব জাহির করার ক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পিক্সি কাট ডায়ানার আধুনিক এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। তার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনকে চিহ্নিত করে, কারণ তিনি সে সময় অনেক মানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

এই সাহসী এবং মুক্ত সিদ্ধান্তটি ফ্যাশন এবং সৌন্দর্যের জগতেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্বের সমস্ত কোণ থেকে মহিলারা তার মার্জিত এবং পরিশীলিত চেহারা অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিল। পিক্সি কাট সাহস এবং ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে এসেছে। এটা শুধু একটি চুলের স্টাইল ছিল না, এটি একটি শক্তিশালী প্রতীক ছিল।


উৎসঃ একাত্তর টিভি

Friday, June 4, 2021

চুরি যাওয়া নেপোলিয়নের লিঙ্গ

0 comments
মৃতদেহ সংরক্ষণ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ মমি করার চল শুরু করেছিল মিশরীয়রা। তাদের আবিষ্কৃত মমি রহস্য এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যে ঘেরা। তবে বিখ্যাত ব্যক্তিদের অঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছিল কোন উদ্দেশ্যে, তা কি জানা গেছে আজো। 

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বা নাপোলেওঁ বোনাপার্ত ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের সময়কার একজন জেনারেল। সাধারণ একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও স্বপ্ন দেখেছেন ব্রিটিশ শাসন করার। সেনাবাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে ফ্রান্সের শাসক। শেষ জীবনে নির্বাসনে কাটিয়েছেন এই শাসক। ১৮২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নেপোলীয়ন ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। তিনি ৫ ই মে তে মৃত্যুবরণ করেন।

সম্রাটের মৃত্যুর পর এক ব্রিটিশ চিকিৎসক তার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেছিলেন। তখনই তিনি নেপোলিয়নের লিঙ্গ দেহ থেকে আলাদা করে নিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে ২৯০০ ডলারে আমেরিকার একজন ইউরোলজিস্ট সেটি কিনেছিলেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেটি তিনি বাক্সবন্দি করে নিজের বিছানার নীচে রাখতেন। ২০০৭-এ তাঁর মৃত্যু হয়। এবং ২০১৬ সালে ফের একবার নিলামে ওঠে নেপোলিয়নের লিঙ্গ। 

ডেইলি বাংলাদেশ

Monday, July 15, 2019

উইঘুর জাতি

0 comments
উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছর আগের। মূলত, এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্তান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চতুর্পাশ্বে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে।

সিআইএর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক অনুযায়ী চীনের মোট জনসংখ্যার ১ থেকে ২ শতাংশ মুসলিম। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে চীনের জিনজিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর লোক বসবাস করে। কাজাখস্তানে ২ লাখ ২৩ হাজার, উজবেকিস্তানে ৫৫ হাজার, কিরগিজস্তানে ৪৯ হাজার, তুরস্কে ১৯ হাজার, রাশিয়ায় ৪ হাজার, ইউক্রেনে ১ হাজারের মতো উইঘুর লোক বাস করে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেও প্রাচীন এ সম্প্রদায়ের লোকদের উইঘুর না বলে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। মূলত, ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানে এক সম্মেলনের পর উইঘুররা তাদের পুরোনো পরিচয় ফিরে পায়। ভাষাবিদ ও ইতিহাসবেত্তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে ‘উইঘুর’ শব্দটি ‘উয়্যুঘুর’ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ সংঘবদ্ধ।

১৯১১ সালে মাঙ্কু সাম্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনা শাসন চালু হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনচেতা বীর উইঘুররা এই বৈদেশিক শাসনের সামনে মাথা নোয়ায়নি। এ কারণে ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে তারা দুবার চীনাদের সঙ্গে সাহসিকতার চরম রূপ দেখিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু ভাগ্য তাদের অনুকূলে ছিল না। এ কারণে ১৯৪৯ সালে আবারও তারা চীনা কমিউনিস্টদের হাতে পরাজিত হয় আর জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গড়ে ওঠে। তখন সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির গভর্নর ছিলেন সাইফুদ্দিন আজিজি।

জিনজিয়াং চীনের অন্যতম সর্ববৃহৎ একটি অঞ্চল। এর আয়তন ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার (বাংলাদেশের আয়তনের ১২ গুণ)। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এ এলাকা আয়তনে চীনের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। এর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে মুসলিম দেশ তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও কাজাখস্তান; আর দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে আফগানিস্তান ও জম্মু-কাশ্মীর। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের মতো। এর মধ্যে মুসলমান প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ। প্রায় ৫৮ শতাংশ মুসলিম।

মধ্যযুগে তাং সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানে ইসলাম ও আরবের প্রভাব বাড়তে থাকে। স্থানীয় উইঘুর জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। উইঘুর বললেই আজকে মুসলিম জনগোষ্ঠী বোঝানো হয়। অন্যদিকে, চীনা মুসলমানদের হুই বলা হয়। উইঘুরের বর্ণমালাও আরবি। সাংস্কৃতিক দিক থেকে এরা তুর্কি ও আরবি প্রভাবিত। উরুমকি বর্তমান জিনজিয়াংয়ের রাজধানী। কাশগড় অন্যতম বৃহৎ শহর। জিনজিয়াং একটি প্রধান ফসল উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও তেলসম্পদ মজুত রয়েছে।

১৮৮৪ সালে কিং রাজত্বের সময় জিনজিয়াং চীনের একটি প্রদেশ হয়। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চীনা কমিউনিস্ট সেনারা জিনজিয়াংয়ে অভিযান চালায়। এর সূত্র ধরে চীনের হান সামরিক গোষ্ঠী জিনজিয়াংয়ে অভিবাসী হয়েছে। ১৯৫৫ সালে জিনজিয়াং চীনের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। হান সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের বিরুদ্ধে এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণে বহু মানুষ নির্যাতিত হয়। বিপুল সংখ্যায় কাজাখ জনগোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী কাজাখস্তানে পালিয়ে যান। এরপর থেকে উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একসময় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত শতাব্দীর শেষে উইঘুর মুসলমানরা স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে।

ফ্রিডম ওয়াচের মতে, চীন হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ধর্মীয় নিপীড়ক দেশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় এসব নিপীড়নের গোঙানির শব্দ বিশ্ববাসী খুব একটা জানতে পারে না। কালেভদ্রে কিছু জানা যায়।

উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত নীতির ব্যাপারে চীন বলে যে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্যই তারা নানান পলিসি নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দাড়ি রাখা, রমজান মাসে রোজা রাখা কীভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা, তা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে পারে না। আসলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের মতে চরমপন্থা। আর এই চরমপন্থা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জেল-জরিমানা চলছে।

চীনের অর্থনীতির রমরমা অবস্থা এবং তাদের কাছ থেকে নানান সুবিধা পেয়ে অধিকাংশ মুসলিম দেশ এসবের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না। আসল কথাটি হলো বলতে চায় না। বুদ্ধিজীবীরাও কথা বলেন না। কারণ, এঁদের অনেকেই মার্ক্সীয় তত্ত্ব, মাও তত্ত্ব ভর করে আছেন। আর মুসলিমদের ব্যাপারে বরাবরই মুসলিম সুশীল সমাজ বা আমরা একরকম অন্ধ। এসব মানুষের কান্না তাদের কানে যায় না। উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তারা (সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী) কথা বলতে পারে না, কারণ তারা ‘বোবা’।

Sunday, March 27, 2016

দানি সম্প্রদায়ের বর্বরতা

0 comments
কখনও শুনেছেন স্বামী মারা গেলেই স্ত্রীর আঙুল কেটে দেওয়া হয় শোক পালনের জন্য? শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এ রকমই এক প্রথা প্রচলিত আছে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ার দানি সম্প্রদায়ের মধ্যে। কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে।
একজন দানি বিধবা
প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, যখনই পরিবারের কর্তা মারা যান, শোক পালনের জন্য স্ত্রীর দু’হাতের বেশ কয়েকটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়। ধারণা, এতে নাকি মৃতের আত্মার শান্তি হয়! আঙুল কাটার আগে নারীর হাত কষে বেঁধে দেওয়া হয় যাতে হাতে রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার পর কুড়ুল দিয়ে আঙুল কেটে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে এই প্রথা সহ্য করতে হয় সেখানকার নারীদের।
দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ঠুর এই প্রথা চলে আসছে দানি সম্প্রদায়ের মধ্যে। ওই দ্বীপে গেলেই আঙুলহীন নারীদের দেখা মিলবে। তবে সম্প্রতি সে দেশের সরকার এই প্রথার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

Saturday, September 6, 2014

হ্যাকার ও হ্যাকিঙ

0 comments
শুরুতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং কম্পিউটার নিরাপত্তা বিষয়ে অতি দক্ষদের বলা হতো হ্যাকার। এরা কম্পিউটার নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা বের করে সে অনুযায়ী অনিষ্ট সাধন করত। কিন্তু এর কিছুদিন পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কম্পিউটিংয়ে দক্ষ কিছু লোক বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমে আঘাত হানায় বদলে যায় হ্যাকারদের সংজ্ঞা। বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে যারা এর ক্ষতি করত তাদের বলা হতে থাকে হ্যাকার।

হ্যাকারদের কৌশল

বিভিন্ন সিনেমাতে প্রায়ই দেখা যায় হ্যাকাররা দূরবর্তী একটি স্খানে বসে কোনো ব্যাংকের বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড চুরি করে সিস্টেমটি নিজেদের ইচ্ছামতো চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল ও টুল ব্যবহার করে তারা পাসওয়ার্ড চুরি করে। পাসওয়ার্ড ক্র্যাকিংয়ের দ্রুততম কৌশল হচ্ছে ডিকশনারি অ্যাটাক। এই কৌশলে ডিকশনারির সব শব্দ একটি টেক্সট ফাইলে লোড করা হয়। তারপর এই ফাইলটি পাসওয়ার্ড ক্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন যেমন L0phtCrack-এ লোড করে ইউজার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে চালনা করা হয়। আরেকটি কৌশল হচ্ছে হাইব্রিড অ্যাটাক। ডিকশনারি শব্দের সাথে নম্বর বা সিম্বল যোগ করে ডিকশনারি অ্যাটাকের মতোই কাজ করে এটি। অনেকে পাসওয়ার্ডের শেষে নম্বর যোগ করে যেমন cat1, cat2 ইত্যাদি। তাদের পাসওয়ার্ড চুরি করার জন্যই এই কৌশল। এই দুই কৌশলে যখন কাজ হয় না, তখন হ্যাকাররা ব্যবহার করে ব্রুটফোর্স পদ্ধতি। পাসওয়ার্ডটি যত জটিল হবে এই কৌশলে সময়ও তত বেশি লাগবে। হ্যাকাররা সাধারণত ক্লায়েন্ট ও সার্ভিস এজেন্সির মাঝামাঝি একটি স্খানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ইন্টারনেট থেকে ডেটা সংগ্রহ করে। নেটওয়ার্ক থেকে ডেটা সংগ্রহ করার জন্য বিভিন্ন নেটওয়ার্ক মনিটরিং টুল যেমন স্নাইফার প্রো বা ইথারপ্যাক ব্যবহার করে। প্রক্সি সার্ভারে অনেক সময় ব্যবহারকারীর তথ্য থাকে। হ্যাকাররা প্রক্সি সার্ভার একসেস করে হ্যাকিং করে। আরো যেসব কৌশল তারা অবলম্বন করে তার মধ্যে রয়েছে উইনগেট ও শেল অ্যাকাউন্টের ব্যবহার। উইনগেট একধরনের প্রক্সি যার মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। এই কৌশলে হ্যাকারের আইপি ঠিকানা চিহ্নিত করা যায় না। শেল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দূরবর্তী কম্পিউটার একসেস করা যায় এবং যেকোনো কমান্ড দেয়া যায়। এ ছাড়া ব্যাকডোর, ট্রোজান, রুটকিট, এক্সপ্লয়েন্ট, বাফার ওভারফ্লো, এসকিউএল ইনজেকশান ইত্যাদি কৌশলেও হ্যাকাররা হ্যাকিং করে।

হ্যাকারদের ধরন

কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে হ্যাকারদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়। হোয়াইট হ্যাট, ব্ল্যাক হ্যাট ও গ্রে হ্যাট। হোয়াইট হ্যাটওয়ালারা ক্ষতিকর নয়। সাধারণত সিকিউরিটি প্রফেশনালরা এই দলভুক্ত। এদের হ্যাকিং ও হ্যাকারদের টুল সম্বìেধ প্রখর জ্ঞান থাকে এবং তা কাজে লাগিয়ে তারা সিস্টেমের দুর্বলতা বের করে প্রতিরোধ ব্যবস্খা গড়ে তোলে। ব্ল্যাক হ্যাটদের প্রায়ই সিনেমাতে দেখা যায়। এদের প্রোগ্রামিং স্কিল খুব ভালো কিন্তু তারা সেটা ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে। এরা সাধারণত ডেটাবেজ সিস্টেম, রিমোট মেশিনের নিরাপত্তা ভেঙে দেয়া, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি করা, অবৈধ অনলাইন ট্রানজেকশান ইত্যাদি অপকর্ম করে থাকে। হোয়াইট ও ব্ল্যাক এই দুই দলের মাঝখানে রয়েছে গ্রে হ্যাটরা। এরা হচ্ছে সুবিধাবাদী। অবস্খা বুঝে এরা হোয়াইট বা ব্ল্যাক হ্যাটের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। হ্যাকারদের যেমন ধরন রয়েছে তেমনি এদের আক্রমণেরও ধরন রয়েছে। অ্যাকটিভ অ্যাটাক সাধারণত সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে এটিকে নষ্ট করার জন্য হয়ে থাকে। অপরদিকে প্যাসিভ অ্যাটাক হয়ে থাকে সিস্টেম থেকে ডেটা সংগ্রহের জন্য।

হ্যাকিংয়ের শুরু

শুরুটা ১৯৬০ সালে, বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারে একদল কিশোরের হাতে। টাইম শেয়ারিং কম্পিউটার তৈরি করার জন্য এমআইটি একটি গবেষণা প্রকল্প চালু করে। হ্যাকার সংস্কৃতির উৎপত্তি সেখানেই। কম্পিউটিংয়ের কাজ দ্রুত করার জন্য গবেষণাগারে কিছু ছাত্র শর্টকাট পদ্ধতি বের করে। এদের তখন হ্যাকার বলা হয় পজিটিভ অর্থে। এরপর ১৯৭০ সালে শুরু প্রকৃত হ্যাকিং। কোনো টেলিফোনে সংযোগ পেতে সাধারণত টেলিফোন সিস্টেমে একটি টোন দেয়া হয়। শিশুদের একটি খেলনা বাঁশি যা কিনা ২৬০০ হার্টজের শব্দ তৈরি করতে পারে, সেটা দিয়ে জন ড্রেপার টেলিফোন সিস্টেম হ্যাক করে বিনামূল্যে প্রচুর টেলিফোন করেন। এভাবে বিনামূল্যে কল করার জন্য জন ব্লু বক্স তৈরি করেন। ক্যাপ্টেন ক্রান্চ উপাধি পাওয়া আধুনিক হ্যাকিংয়ের জনক জন ড্রেপার গ্রেফতার হন ১৯৭০ সালে। ১৯৮৩ সালে ছয়জন টিনএজারের দল ‘৪১৪’ আমেরিকার উইসকনসিনের þেöান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টার, সিকিউরিটি প্যাসিফিক ব্যাংক এবং লস আলমোস ল্যাবরেটরির কম্পিউটার সিস্টেম নষ্ট করে দেয়। ফলাফল এফবিআই’র হাতে গ্রেফতার। ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রকাশ হয় হ্যাকারদের ম্যাগাজিন ‘২৬০০’। ১৯৮৬ সালে আমেরিকায় হ্যাকিংয়ের বিরুদ্ধে আইন হয়। এ আইনে অবৈধভাবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নষ্ট করে দেয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৮৭ সালে হার্বাট জিন নামের ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল ছাত্রকে ১৯৮৬ সালের হ্যাকিং আইনে গ্রেফতার করা হয় এটিঅ্যান্ডটি ল্যাবের তথ্য চুরির অভিযোগে। একই আইনে ১৯৮৮ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটির ছাত্র রবার্ট মরিসকে ৬ হাজার কম্পিউটার সিস্টেম নষ্ট করার অভিযোগে শাস্তি দেয়া হয়। ১৯৮৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ক্লিফোর্ড স্টলের সহযোগিতায় গ্রেফতার হয় পশ্চিম জার্মানির পাঁচ জন সাইবার স্পাই যারা আমেরিকার সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারের তথ্য ও সফটওয়্যার তৎকালীন সোভিয়েত কেজিবি’র কাছে বিক্রি করছিল। একই বছর গ্রেফতার হয় লিজিয়ন অব ডোন নামে চার সদস্যের হ্যাকারের একটি দল। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এরা যুক্তরাষ্ট্রের ইমারজেন্সি টেলিফোন নেটওয়ার্ক ৯১১ বìধ করার অপচেষ্টা চালায়। বেল কর্তৃপক্ষ আরো অভিযোগ করে এই দলটি ৯১১-এর পাসওয়ার্ড, কানেকশান অ্যাড্রেস হ্যাক করেছে। আইন অনুযায়ী এদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত হয় অপারেশন সানডেভিল যার উদ্দেশ্য ছিল হ্যাকারদের ধরা। এ অপারেশনে ১৪ শহর থেকে ক্রোক হয় হ্যাকিংয়ের মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলেস একটি রেডিও স্টেশন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যেখানে বলা হয় ১০২তম ফোনকারীকে তারা গাড়ি পুরস্কার দেবে। ফেভিন পলসেন রেডিও স্টেশনের টেলিফোন সিস্টেমে হ্যাক করে এমন ব্যবস্খা করেন যাতে তার ফোন ছাড়া অন্য কারো ফোন যেন রিসিভ না হয়। ফলাফল তিনি ঠিকই গাড়ি জিতে নেন। কিন্তু প্রতারণার দায়ে খাটতে হয় ৫১ মাসের জেল। ১৯৯৫ সালে গ্রেফতার হন সিরিয়াল কম্পিউটার ক্রিমিনাল কেভিন মিটনিক। ২০ হাজার ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরির দায়ে চার বছরের জেল হয় তার। একই বছর রাশিয়ান হ্যাকার ভöাদিমির লেভিন নিউইয়র্কের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে তার অ্যাকাউন্টে ১০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেন। ২০০০ সালের ড্যানিয়াল অব সার্ভিস অ্যাটাক করে হ্যাকাররা। ইয়াহু!, আমাজন, ই-বে, সিএনএন’র ওয়েবসাইটকে ওভারলোড করে ফেলে তারা।

গ্রেট হ্যাকারস

কেভিন মিটনিককে বলা হয় হ্যাকারদের গুরু। গ্লেন কেজ উপাধি পাওয়া এই হ্যাকার গুরু ১৯৯৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হন। অভিযোগ, ২০ হাজার ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি এবং মটোরোলা, নকিয়া, সান মাইক্রোসিস্টেম, ফুজিৎসু ও নোভেলের সিস্টেম হ্যাক করে তাদের সফটওয়্যার চুরি করা। ২০০০ সালে কেভিন মুক্তি পান, তবে শর্ত ২০০৩ সালের আগে তিনি কোনো কম্পিউটার, সেল ফোন এবং ইন্টারনেটযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। ২০০১ সালে এই হ্যাকার গুরু এলিয়াস মুভিতে অভিনয় করেন কিন্তু প্রযোজক তাকে একটি ডামি কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেন। মিটনিকের ব্যতিক্রমী এবং শক্তিশালী হ্যাকিং কৌশলের জন্য হ্যাকার জেনারেশনের আদর্শ হয়ে আছেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিকিউরিটি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। হ্যাকিং জগতে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি করেন রাশিয়ান গণিতবিদ ভöাদিমির লেভিন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে বসে তিনি নিউইয়র্কের সিটি ব্যাংক থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ইংল্যান্ডের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন এবং তিন বছর জেল খাটেন। হ্যাকিং দুনিয়ার অন্যতম বস হচ্ছেন স্কটল্যান্ডের গ্যারি ম্যাককিনন। ধরা হয়, একটি মিলিটারি সিস্টেমে হ্যাক করে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হ্যাকিংটি তিনিই করেছেন। ২০০০ ও ২০০১ সালে তিনি নাসা ও পেন্টাগনের ইনফরমেশন সিস্টেমে অ্যাটাক করেন। বর্তমানে তার ইন্টারনেটযুক্ত কোনো কম্পিউটার ব্যবহার নিষেধ। নিউইয়র্কভিত্তিক সাইবার গ্যাং মাস্টার অব ডিসেপশান ছিল অন্যতম সেরা হ্যাকার গ্রুপ। ৯০-এর দশকে এ দলটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টেলিফোন নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার সিস্টেম এবং কমিউনিকেশন সিস্টেম অবৈধভাবে একসেস করে। দলটি অপর একটি হ্যাকিং গ্রুপ লিজিয়ন অব ডোমের সাথে সাইবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ফাইবার অপটিক খ্যাত ১৯ বছর বয়সী মার্ক এবেন ছিলেন এই দলের প্রধান। মাফিয়া বয় ছদ্মনামে কানাডার ১৬ বছর বয়সী ছাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বাঘা বাঘা ওয়েবসাইটে অ্যাটাক করে বিস্ময় সৃষ্টি করেন। ২০০০ সালে তার এই অপকর্মে ক্ষতি হয় আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। এ-তো গেল ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের কথা। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সুতুমু শিমুমোরা। ১৯৯৪ সালে সানডিয়েগো সুপার কম্পিউটার সেন্টারে রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার সময় একজন হ্যাকার তার কম্পিউটার থেকে গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করেন। সেই হ্যাকারটি কেভিন মিটনিক। এরপর ১৯৯৫ সালে ট্রেস ডায়ালিং কৌশল এবং টেলিফোন লুপ সিগন্যাল ব্যবহার করে মিটনিকের অবস্খান চিহ্নিত করে এফবিআই’র হাতে ধরিয়ে শিমুমোরা প্রতিশোধ নেন।

হ্যাংকিং থেকে বাঁচতে সতর্কতা

হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে ফায়ারওয়াল অত্যন্ত কার্যকরী। কম্পিউটার ইন্টারনেটে সংযুক্ত অবস্খায় ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার কম্পিউটার থেকে বাইরে বা বাইরে থেকে কম্পিউটারে কোনো আনঅথোরাইজড একসেস প্রতিরোধ করে। অনেকে কম্পিউটারেও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকেন। পাসওয়ার্ড শব্দ, নম্বর ও সিম্বলের সংমিশ্রণে তৈরি করা উচিত এবং ১-২ মাস অন্তর তা বদলানো উচিত। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার এবং নিয়মিত এটি আপডেট করা উচিত। অপারেটিং সিস্টেমের নিয়মিত আপগ্রেড করলে হ্যাংকিংয়ের আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। বিভিন্ন সফটওয়্যারের প্যাঁচ বা নতুন সংস্করণগুলো ব্যবহার করলে এদের মাধ্যমে আক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। কোনো সিস্টেম ইনস্টল করার সময় অপ্রয়োজনীয় অপশন ডিজএবল করে রাখা ভালো। ই-মেইলের মাধ্যমে হ্যাকিং আশঙ্কা অনেক বেশি। ইমেইল ফিল্টারিং সার্ভিস ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। অ্যাডওয়্যার, স্প্যাম ও স্পাইওয়্যার নিয়মিত দূর না করলে হ্যাংকিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কাজের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার পাওয়া যায়। অ্যাডওয়্যার থেকে বাঁচার জন্য অ্যাডওয়্যার৬ ডাইনলোড করা যাবে http://www.lavasoftusa.com থেকে। স্প্যামঅ্যারেস্ট নামে সফটওয়্যারটির ট্রায়াল ভার্সন ডাউনলোড করা যাবে http://new.spamarrest.com সাইটটি থেকে। স্পাইওয়্যার দূর করার জন্য স্পাইবট সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করা যাবে http://security kolla.de থেকে। কোনো অনলাইন অ্যাকউন্ট থেকে বের হয়ে আসার সময় খেয়াল রাখতে হবে ঠিকমতো লগ বা সাইন আউট হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে অসতর্কতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। হ্যাকারদের ভয়ে ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আজকাল সবাই চিন্তিত। যত নতুন সিস্টেম আসছে হ্যাকাররা তার দুর্বলতা বের করে

মুহাম্মাদ শাহিদ শিলন রেহমান

Monday, February 17, 2014

জাবোয়া

0 comments
মাছের বাজারে গিয়ে দর-কষাকষি ছাড়া কেউ মাছ কিনেছেন, এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু মাছের বাজারে যৌনতার বিনিময়ে মাছ কেনা ও তা নিয়ে দর-কষাকষির কথা শোনেননি নিশ্চয়ই! হ্যাঁ, বহু বছর ধরে পশ্চিম কেনিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমনটিই ঘটে আসছে। এখানে জেলে কিংবা মাছ বিক্রেতার কাছে যৌনতার বিনিময়ে মাছ ‘কিনে’ নিয়ে যান এ অঞ্চলের নারীরা।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পশ্চিম কেনিয়ার ভিক্টোরিয়া হ্রদে সারা রাত মাছ ধরে সকালে তীরে জেলেদের নৌকা এসে দাঁড়াতেই অনেকটা ভিড় জমে যায়। কেউ নিজে খাওয়ার জন্য আর কেউবা জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য দরদাম শুরু করে দেন। দরদামকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। তবে এই নারীরা অর্থের বিনিময়ে মাছ কেনেন না। নারীরা মাছের বিনিময়ে জেলেদের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হন। আর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিনিময় ব্যবস্থা ‘সেক্স ফর ফিশ’ নামে পরিচিত। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘জাবোয়া’।
লুসি অধিয়াম্বো নামের ৩৫ বছর বয়সী ক্রেতা বলেন, ‘এখানে নারীদের হাত-পা বাঁধা। মাছ কেনার জন্য আমি জেলেদের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতে বাধ্য, কারণ আমার আর অন্য কোনো উপায় নেই। সাধারণত আমি সপ্তাহে দু-একজন জেলের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করি। আমি জানি যে এতে আমার রোগ হতে পারে, কিন্তু আমার তো আর কোনো উপায় নেই। এই কেনা মাছ বিক্রি করেই আমার সন্তানদের আবার স্কুলে পাঠাতে হয়। জাবোয়া (যৌনতা) একটি খারাপ অভ্যাস।’

ফেলিক্স অচিয়েং নামের ২৬ বছর বয়সী এক জেলে বলেন, তিনি বিবাহিত। তার পরও প্রতি সপ্তাহে তিনি মাছের বিনিময়ে তিনজন নারীর সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবাও এই জাবোয়া করতেন। এটা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। নারী ক্রেতারা মাছের অর্ধেক দাম শিলংয়ে (স্থানীয় অর্থ) পরিশোধ করে। আর বাকি অর্ধেক যৌনতা দিয়ে শোধ করে।’
এই কাজের জন্য লজ্জিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফেলিক্স বলেন, ‘হ্যাঁ, এ কাজে আমি লজ্জিত। এটা খুবই খারাপ একটা ব্যাপার। তবে এখানে মাছ কিনতে আসা অনেক নারীই এ কাজে প্ররোচনা দেয়।’

Saturday, December 14, 2013

ম্যান্ডেলার তিন স্ত্রীর কথা

0 comments
নেলসন ম্যান্ডেলা। বহু বিশেষণে বিশেষিত সদ্যই অন্য ভুবনে পাড়ি জমানো এই মানুষটির পরিচয় নতুন করে দেয়ার কিছু নেই। ম্যান্ডেলার রাজনীতিবিদ আর সাম্যবাদীর পরিচয়ের আড়ালে অনেকটাই হারিয়ে গেছে তার পারিবারিক জীবন। মানুষ ভুলেই গেছে সাদা-কালো আন্দোলন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ম্যান্ডেলাকে মানসিক সমর্থন যুগিয়ে যাওয়া তার তিন স্ত্রীর কথা। যদিও ম্যান্ডেলা নিজে সবসময়ই স্মরণ করেছেন জীবনে তাদের অবদান। তাদের কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্ধুত্বের হাত। 'মাদিবা'র স্ত্রীদের নিয়েই এই লেখা।
ছাত্রজীবনে তার জন্য পারিবারিকভাবে আয়োজিত এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে পালিয়ে যাওয়া ম্যান্ডেলা যে পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় আরো তিনবার বিয়ে করবেন সেটা হয়তো ভাবতে পারেননি কেউই। ১৯১৮ সালে মেভেজোতে জন্ম নেয়া বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই পুরোধা ব্যক্তি ১৯৪৪ সালে বিয়ে করেন তার মতোই গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণী এভলিন ওয়েসকে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যান্ডেলার সহকর্মী ওয়াল্টার সিসুলুর মাধ্যমে এভলিনের সাথে পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাকে বিয়ে করেন ম্যান্ডেলা। সংসার জীবনের শুরুটা দারুণ মধুময় হলেও অল্পদিনের ব্যবধানেই ম্যান্ডেলা ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার হাতেই সদ্য গঠিত এএনসি'র তরুণ দল নিয়ে। এর কয়েক বছর পরই বিদ্রোহের অভিযোগে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করতে হয় ম্যান্ডেলাকে।

জামিনে বেরিয়ে এসে এভলিনকে আর দেখা হয়নি ম্যান্ডেলার। তার অনুপস্থিতিতে তিন সন্তানকে রেখে এভলিন ততদিনে চলে গেছেন তার নিজ গ্রামে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষটাও রচিত হলো সেখানেই। দ্বিতীয় দফায় জেলে এসে অভিযোগের শুনানি চলাকালে ম্যান্ডেলার সাথে পরিচয় হয় উইনির। ১৯৫৮ সালের জুনে বিয়ে করেন তারা। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে ম্যান্ডেলা তার জীবনের সেরা সময়টা কাটান উইনির সাথেই। যদিও দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবনের বেশিরভাগটাই এই অবিসংবাদিত নেতাকে কাটাতে হয় কারাগারের সেই বিখ্যাত ৪৬৬৬৪ নম্বর রুমে। তবে দু'জনের মানসিক নৈকট্যে এই জেল জীবনে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যান্ডেলার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শীঘ্রই কারাভ্যন্তরে যেতে হয় উইনিকেও। প্রথম দফায় জেল থেকে বেরিয়ে আসার কয়েক বছর পর থেকে বিদ্রোহের অভিযোগে নিয়মিতই জেলে যেতে বাধ্য হন উইনি। তবে কালো মানুষের মুক্তির জন্য উইনির এই কারাবরণকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখতেন ম্যান্ডেলা। গর্বের সাথেই তিনি উচ্চারণ করেন, 'মনে হয় বুঝে শুনে আমি একটা ঝামেলাকেই বিয়ে করেছি।'
১৯৯০ সালে জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও উইনি ম্যান্ডেলার বাহুলগ্না ছিলেন। যদিও ততদিনে বয়সে অনেক ছোট একজনের সাথে মন দেয়া-নেয়া চলছে তার। তবে তাই বলে দু'জনের সম্পর্ক সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ১৯৯২ সালে দুজনের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও অপহরণের দায়ে যখন উইনির ছয় বছরের জেল হয়, তখনও তার পাশে ছিলেন ম্যান্ডেলা। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ম্যান্ডেলার পাশে ছিলেন তার তৃতীয় স্ত্রী গ্রাসা ম্যাচেল।
মোজাম্বিকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সামোরা ম্যাচেলের সহযোদ্ধা এবং পরবর্তীতে তার সরকারের মন্ত্রী গ্রাসার কাছে অবশ্য প্রেসিডেন্টের স্ত্রী পরিচয়টা নতুন ছিল না। ১৯৮৬ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় সামোরা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার স্ত্রী ছিলেন গ্রাসা। তখন জেলে বসেই গ্রাসাকে সমবেদনা পত্র পাঠান ম্যান্ডেলা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় গ্রাসার সাথে তার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয় এবং প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে দুজনকে প্রথমে একসাথে দেখা যায়। দুজনের সম্পর্কের বিষয়ে কোন লুকোছাপা না করে ম্যান্ডেলা সাংবাদিকদের জানান, 'জীবনের এই শেষ পর্যায়ে এসেও মনে হচ্ছে আমি এখনো ফুলের মতোই ফুটছি। তার (গ্রাসা) সমর্থন এবং ভালবাসাই আমাকে এমনটা ভাবাচ্ছে।' এরপর ১৯৯৮'র ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলার আশিতম জন্মদিনে 'জীবনে আর কখনো কোন প্রেসিডেন্টকে বিয়ে করবেন না' এই শপথ ভেঙ্গে ম্যান্ডেলাকে বিয়ে করেন গ্রাসা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ম্যান্ডেলার সাথেই ছিলেন গ্রাসা।

আবিদ শাহরিয়র

Saturday, November 2, 2013

বস্ত্রহীন বিয়ে

1 comments
“শুভ বিবাহ” শব্দটা শুনলেই যেনো সবার মনটা আনচান করে উঠে। বর-কণে, উৎসব-আনন্দ সহ অনেক কিছুই মিশে রয়েছে বিবাহ শব্দটির মধ্যে। বিয়ে একটি মানবিক বিষয়। মানুষ যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে উঠে তখন সে তার জৈবিক চাহিদা মেটানো ও পারিবারিক কাঠামো তৈরি করার জন্য ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী বিয়ে করে থাকে। মানুষের জন্ম লগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি বিশ্বে বিয়ে প্রথা প্রচলিত আছে এবং থাকবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বিয়েকে ঘিরে উৎসব আমেজও বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। বিয়েতে সাধারণত বিয়ের দিন বর ও কণে উভয়ই ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয়ভাবে ঝলমলে পোশাক পরিধান করে থাকে।
বর্তমান আধুনিক সমাজে প্রত্যেকটা বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে ঠিক তেমনি বিয়ের উৎসবেও এসেছে অনেক পরিবর্তন ও নতুনত্ব। আধুনিক এই বিশ্বে মানুষ সব কিছুতেই একটু ব্যতিক্রম খোজার চেষ্টা করে। ফলে পৃথিবী আধুনিক হচ্ছে নাকি অসভ্য হচ্ছে সেটাও একটি মূল্যবান প্রশ্ন।

আপনারা হয়তো ভাবছেন বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার সভ্য-অসভ্যের কথা আসছে কেন? আসছে এই কারণে যে, বিয়েতে ব্যতিক্রম আনার জন্য মানুষ সভ্যতার চূড়ান্ত সীমা লংঘন করে ফেলছে।

আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, একটি বিয়ে অনুষ্ঠান চলছে আর সেখানে বর কণে পুরো উলঙ্গ হয়ে বসে আছে। হয়তো এমন অবস্থা কল্পনাও করতে পারছেন না। কিন্তু এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে জ্যামাইকাতে। আর এই ঘটনাটি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ব ব্যাপী।

২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে জ্যামাইকার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েএক নগ্ন বিয়ের উৎসব। যে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে পড়ানো হয় ৯ জোড়া বর কনেকে। যে অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই রুচিহীন ও সমালোচনা মুখর। এ দিন বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কণের পায়ে দামি জুতা, হাতে রিস্টব্যান্ড এবং গলায় টাই আর নেকলেস থাকলেও তাদের শরীরে ছিল না কোনও পোশাক।

শরীরে কোনও পোশাক না থাকলেও যথারীতি কনেদের অনেকের মাথায়ই ছিল ঘোমটা বা অবগুণ্ঠন! আবার দু-একজন কণে মুকুট বা হ্যাটও পরেছিলেন। উলঙ্গ বর-কনেরা যাতে সহজেই সবার চোখে পড়ে সেজন্য তাদের দেহে বাড়তি সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে তাদের শরীরে ব্যবহার করা হয়েছিল উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার পেইন্ট! আর কনেদের হাতে লাগানো হয়েছিল লাল, সাদা আর হলুদ রংয়ের বাহারি ফুল।

নয়টি নগ্ন জুটির আলোচিত-সমালোচিত এ গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জামাইকার নেগ্রিল সমুদ্র সৈকতে উন্মুক্ত আকাশের নিচে। এমন নির্লজ্জ ও উদ্ভট নগ্ন বিয়ের আয়োজন করেছিল ‘দ্য হেডোনিজম টু রিসোর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে বহন করেছে এই নয় জুটির নগ্ন হয়ে বিয়ে করার যাবতীয় খরচও।

নগ্ন বিয়ের এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করার জন্য ‘কেন তোমরা নগ্নতার মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চাও?’ এ প্রশ্নটিসহ আরও কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তরদাতার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় ১০০ জুটিকে।

পরে এদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় ভাগ্যবান সেরা ১০ জুটিকে। যাদের প্রদান করা হয় নগ্ন বিয়ের বিশেষ সুযোগ। আনন্দের বিষয় এই যে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য মোট ১০টি জুটি নির্বাচন করা হলেও পরে একটি জুটির শুভবুদ্ধির উদয় হলে তারা এই অনুষ্ঠান থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে অনুষ্ঠানটি নয়টি জুটিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

নগ্ন বিয়েতে অংশ গ্রহণ করে এই নয় জুটি নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভেবেছে। অবশ্য বিশ্বের বিবেকবান মানুষরা ভেবেছে তারাই সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। এই বিয়েকে ঘিরে জ্যামাইকা সহ সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবেকবান মানুষেরা আশা করেন আধুনিকতা বা ব্যতিক্রমতার নামে ভবিষ্যতে কেউ যেনো আর কোনও দিন এই ধরনের নির্লজ্জ কাজে অংশ গ্রহণ বা আয়োজন না করে।

Dhaka Times 24

Wednesday, August 7, 2013

স্বার্থপর মানুষদের বেঁচে থাকতে অপরের সহযোগিতা দরকার

0 comments
সম্প্রতি nature.com এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে স্বার্থপর বা সেলফিশ মানুষদের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে অন্য মানুষের সাহায্য বেশী প্রয়োজন। আরও দেখা গেছে, স্বার্থপর মানুষদের থেকে সহযোগিতার মানসিকতাপূর্ণ মানুষরা জীবনে সাফল্য পান বেশী।

স্বার্থপর মানুষ এবং সহযোগিতার মানসিকতাপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে কারা জীবনে সফল হন সে বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার গেমের সাহায্য নেন। গবেষকরা সূক্ষ্মভাবে ঐ সব প্লেয়ারদের উপর নজর রাখেন যারা “zero determinant” কৌশলে খেলেন অর্থাৎ এরাই সেলফিশ বা স্বার্থপর হিসেবে চিহ্নিত। যদিও এ সেলফিশ কৌশল তাদের প্রাথমিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যায়, তবে শেষে কিন্তু অন্য কারোর সাহায্যের তাদের প্রয়োজন হয়।

গবেষকরা “প্রিজনারস ডাইলেমা” নামে এক গেমস এ দেখেন দু’জন বন্দী কারাগার থেকে মুক্ত হতে চায়। এক্ষেত্রে তারা একে অপরকে সাহায্য না করলে কেউই মুক্ত হতে পারবে না, অথবা একে অপরকে বিষয়টি না জানালে তারা তাদের মুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানতে পারবে না। অতএব যৌথ প্রচেষ্টা সব ক্ষেত্রেই লাগবেই।

গবেষক দলের একজন সদস্য আদামী বলেন, ” আমরা গবেষণায় দেখেছি আপনি যদি স্বার্থপর হন তবে বিবর্তন আপনাকে শাস্তি দিবেই। একজন স্বার্থপর মানুষ প্রাথমিকভাবে হয়ত সুবিধা পায়, তবে তিনি কখনই এককভাবে সাফল্য পাবেন না – তাকে কারো না কারো সাহায্য এবং যৌথ প্রচেষ্টায় সামনে এগোতে হবেই।”

যৌথ প্রচেষ্টা মানুষ এবং সকল প্রজাতির জন্য বেঁচে থাকতে বা টিকে থাকতে বিশেষ প্রয়োজনীয়। যদি কেউ ভাবে যে তিনি সেলফিশ বা স্বার্থপর ভাবে টিকে থাকবেন, তবে এটা তার জন্য অনেক কঠিন একটি কাজ হবে – এক্ষেত্রে তিনি বিফল হতে পারেন।

সূত্রঃ দি টেকজার্নাল

Monday, March 18, 2013

আভা

0 comments

আভা হচ্ছে পৃথিবীতে এখনো টিকে থাকা যাযাবর শিকারি উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি, যারা তাদের জীবনধারণের জন্য জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল৷ আভা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্নপ্রায় উপজাতি গোষ্ঠী৷ খাদ্য সংগ্রহের তারা ঘুরে বেরায় জঙ্গল৷ বাদাম এবং বিশেষ ধরনের রসালো ফল বা জঙ্গলের কোথায় সবচেয়ে ভালো মধু পাওয়া যায় কিংবা কোন গাছটিতে কবে ফল ধরবে অথবা কোন প্রাণীটি শিকারের উপযোগী হয়েছে - তা আভাদের চেয়ে ভালো কেউ জানেনা৷ তারা প্রকৃতিক সম্পদ বিশেষ হ্রাস না করেই বেঁচে থাকে৷ কিন্তু ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আভাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ছে৷

আভারা যেসব জঙ্গলে থাকে সেগুলো অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী, খামার মালিক আর বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে৷ এই ছবিতে, যে জায়গায় গাছ কাটা হয়েছে, সেখান থেকে একটি আভা বসতির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার৷ আভারা আমাজনের যে জঙ্গলকে নিজেদের বাড়ি মনে করে, তা খুব দ্রুতই ধ্বংস হচ্ছে৷

নিজেদের ভূমি রক্ষার লড়াই শুধু আভারাই করছে না৷ ব্রাজিলের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মাটো গ্রোসো প্রদেশে অবস্থানরত এনাভেনে নায়ি গোষ্ঠী জুরুয়েনা নদীর তীর ধরে বসবাস করে৷ তারা মাছ ধরায় বিশেষ পারদর্শী এবং টিকে থাকতে তাদের বিশুদ্ধ পানি এবং মাছের পর্যাপ্ত মজুদ প্রয়োজন৷

Wednesday, December 19, 2012

নেফারতিতি

0 comments
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় বিখ্যাত রানীদের মধ্যে নেফারটিটি ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন ফারা আখেনাটেন-এর স্ত্রী। মিসরীয়দের ধর্মীয় আচরণে আখেনাটেন যে পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন, তাতে নেফারতিতিরও সহযোগিতা ছিল। মিসরীয় সভ্যতার প্রধান দেবতা হিসেবে আমরা সূর্যকে জানলেও আগে মিসরে বহু দেবতা পূজা করার প্রচলন ছিল। আখেনাটেনও নেফারতিতির উদ্যোগেই মিসরীয়রা সূর্যকে একমাত্র দেবতা হিসেবে পূজা করতে শুরু করে। অর্থাৎ মিসরে বহু দেবতার বদলে এক ঈশ্বরের পূজা প্রচলিত হয়। তবে নেফারটিটি অন্য দেবতাদেরও শ্রদ্ধা করতেন। প্রাচীন মিসরীয় পুঁতিপত্রে নেফারতিতিকে খুশি, আনন্দ বা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বার্লিনের নিউইস জাদুঘরে রাখা তার মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন ভাস্কর থুটমোস। এই মূর্তিটি থেকে সে যুগের মিসরের শিল্পকলা সম্বন্ধে অনেক তথ্য জানা যায়।

Saturday, September 29, 2012

মহাবীর রুস্তম

0 comments
মহাকবি ফেরদৌসীর বিখ্যাত কাহিনীকাব্য 'শাহনামা'র সবচেয়ে আলোচিত কাহিনী 'সোহরাব-রুস্তম'। রুস্তম ইরানের লোককাহিনীর সবচেয়ে আলোচিত এক চরিত্র। জন্মগতভাবেই রুস্তম অনেক ব্যতিক্রমী গুণসম্পন্ন। লোককথায় তিনি চিরকালের কিংবদন্তির মহাবীররূপে উপস্থাপিত হয়েছেন। আর তাকে অমরত্ব দান করেছে দশম শতাব্দীর বিখ্যাত মহাকবি ফেরদৌসীর 'শাহনামা'। ইসলাম-পরবর্তী সময়ে লোককাহিনী ও ইতিহাসে পাওয়া যায় তার বর্ণনা।

মহাবীর রুস্তম ও আরেক বীর সোহরাব। কিন্তু জন্মের পর থেকে সোহরাব জানেন না তার পিতার পরিচয়। রুস্তম যে তারই জন্মদাতা এ কথা মা তাহমিনাও তাকে কখনো বলেননি। একদিন ঘটনাক্রমে সোহরাব যখন জানতে পারলেন তিনি মহাবীর রুস্তমের পুত্র, তখন পিতাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ইরানের বাদশাহ কায়কাউসের গভীর যড়যন্ত্রে পিতা-পুত্রের দেখা হয় না বরং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য পিতা-পুত্রকে যুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়। দুজনে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। এক সময় স্তিমিত হয়ে এলো সোহরাবের ক্ষমতা। মহাবীর রুস্তম চড়ে বসলেন সোহরাবের বুকে। বুকের মাঝখানে চালিয়ে দিলেন ধারালো খঞ্জর। মৃত্যুর মুখোমুখি রক্তাক্ত সোহরাব। কিন্তু এমন সময় রুস্তম দেখলেন, সোহরাবের বাহুতে বাঁধা বাজুবন্দ তার খুব চেনা। সন্তান হওয়ার সংবাদে তিনি স্ত্রীর কাছে এ বাজুবন্দই পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তাকে কন্যা সন্তান হওয়ার সংবাদ দিয়েছিল। তাহলে এই বাজুবন্দ সোহরাবের হাতে কেন? দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন রুস্তম। এরপর উদ্ঘাটিত হয় আসল সত্য। মহাবীর রুস্তম যাকে খঞ্জরবিদ্ধ করেছেন, সেই সোহরাব আর কেউ নয়, তারই সন্তান। বিশ্বজুড়ে মানুষের মুখে মুখে বছরের পর বছর ধরে এ গল্পটির চর্চা হয়ে আসছে। এই কাহিনী এতই জনপ্রিয় যে, লোকজন একে সত্য হিসেবেই ধরে নিয়েছে। যেন ইতিহাসের কোনো অবিচ্ছেদ্য অংশ। সত্যিকার অর্থে এটি হচ্ছে দশম শতাব্দীতে রচিত মহাকবি ফেরদৌসীর বিখ্যাত কাহিনীকাব্য 'শাহনামা'র সবচেয়ে আলোচিত কাহিনী 'সোহরাব-রুস্তম'। রুস্তম ইরানের লোককাহিনীর সবচেয়ে আলোচিত এক চরিত্র। তার বাবার নাম জাল এবং মায়ের নাম রদুবা। জন্মগতভাবেই রুস্তম অনেক ব্যতিক্রমী গুণসম্পন্ন। তার সেই গুণগুলোই তাকে আলাদা ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান দিয়েছে লোককথায়। লোককথায় তিনি চিরকালের কিংবদন্তির মহাবীররূপে উপস্থাপিত হয়েছেন। ইসলাম-পরবর্তী সময়ে লোককাহিনী ও ইতিহাসেও পাওয়া যায় তার র্বণনা। ফেরদৌসীর শাহনামায় বিচিত্র সব ঘটনা ঘটিয়ে ব্যতিক্রমী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রুস্তম। কৈশরে সে তার রাজা মেনুচির সাদা হাতিকে হত্যা করেছিল শুধু গজা দিয়ে। নারিমানের ছেলে সাম তার দাদা। আর তার কাছ থেকেই রুস্তম উত্তরাধিকার সূত্রে বীরত্বের অধিকারী। পারস্যের লোককাহিনী মতে, মহাবীর রুস্তম বিয়ে করেন রাজকন্যা রদুবাকে। এক সময় রদুবার গর্ভে সন্তান আসে। খুশিতে আত্দহারা হয়ে যান রুস্তম। কিন্তু রদুবা যখন প্রসব বেদনায় কাতর, তখন যুদ্ধে যেতে হয় রুস্তমকে। রাজ তত্ত্বাবধানে থাকে রদুবা। রুস্তম যাওয়ার সময় বলে যায় সন্তান হওয়ার খবর যেন তাকে জানানো হয়। কিন্তু রদুবা কন্যা সন্তান হওয়ার মিথ্যা সংবাদ দেয়। কারণ পুত্র সন্তান হওয়ার সংবাদ দিলে রুস্তম তাকে নিয়ে যাবে, যুদ্ধবিদ্যা শেখাবে এবং হয়তো সে যুদ্ধক্ষেত্রেই মারা যাবে। এমন আশঙ্কা করেই রদুবা লুকিয়েছিল পুত্র সন্তানের খবর। এমন ঘটনার কারণেই ঘটে গেছে সোহরাব-রুস্তমের সেই ট্র্যাজেডি। রুস্তম তার নায়কোচিত অভিযান চালিয়ে কোহেকাফের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন। রুস্তমের আরও একটি বিখ্যাত কৃতিত্ব হচ্ছে পারস্যের অপদেবতা 'অকভান'-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। অকভান দেখতে কিছুটা বন্য গাধার মতো, যে দ্রুত ভোল পাল্টে মানুষের সর্বস্ব লুট করত। এ অপদেবতার অত্যাচারে রাজ্যের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। চিন্তিত হয়ে পড়েন রাজা। শেষে এর প্রতিকারের ভার মহাবীর রুস্তমকে দেওয়া হয়। রুস্তম তাকে হত্যা করে প্রজাদের বিপদমুক্ত করেন। এ ছাড়া রুস্তম ড্রাগনের সঙ্গেও যুদ্ধ করেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। এসব গল্প লোককাহিনী হলেও মানুষের কাছে এর আবেদন চিরন্তন।

উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tuesday, September 25, 2012

পঞ্চায়েত প্রথা

0 comments

পঞ্চায়েত বহু বছর ধরে প্রচলিত একটি সমাজ পরিচালনা প্রথা। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রথার মাধ্যমে সমাজ পরিচালিত হতো। পঞ্চায়েত প্রথায় সাধারণত পাঁচ বা তাঁর চেয়ে অধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি পর্ষদ গঠন করা হয়ে থাকে। পঞ্চায়েতের এই পর্ষদই সমাজের নানা সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। পঞ্চায়েত পর্ষদের সদস্যরা সাধারণত গ্রামের জনগণ বা পঞ্চায়েত রাজাদের দ্বারা নির্বাচিত। পঞ্চায়েতগুলোতে সব শ্রেণী ও বর্ণের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল। পঞ্চায়েত গ্রামের নানা বিবাদ ও সমস্যাদির সমাধান ছাড়াও ভূমি বণ্টন এবং সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায় করতে সহযোগিতা করত। একসময়ে এই পঞ্চায়েত খুবই শক্তিশালী ভূমিকা রাখা একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সমাজে নানা অনুশাসন, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রবর্তন ও সেগুলোর সংরক্ষণে পঞ্চায়েত ব্যাপক প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ধীরে ধীরে সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা আর মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত হওয়া পঞ্চায়েত তার নানা ভূমিকার কারণে বিতর্কিত হতে থাকে। সমাজের ধনিক শ্রেণীর মানুষ গরিব, অশিক্ষিতদের নানা নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে পঞ্চায়েতকে ব্যবহার করতে শুরু করে। নানা কুসংস্কার আর পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণা আঁকড়ে থাকার ফলে বহু মানুষ পঞ্চায়েতের নির্যাতনের শিকার হয়। আধুনিক যুগের সঙ্গে পঞ্চায়েতগুলো তাল মিলিয়ে চলতে না পারার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পঞ্চায়েতের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পায়। শত শত বছর ধরে চলে আসা প্রথাটির প্রতি মানুষ বিমুখ হয়ে পড়ে। ১৯১৯ সালে 'বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট' পাসের পর বাংলায় পঞ্চায়েত প্রথার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে।

Wednesday, August 15, 2012

এসেরীয় সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার

0 comments
উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুধু ওল্ড টেস্টামেন্ট, কোরআন ও গ্রিক ঐতিহাসিকদের কিছু লেখনীতে এসেরীয়দের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া এদের সম্পর্কে আর কিছু জানা যায়নি। ঊনবিংশ শতকে ক্লডিয়াস রিচ, পল বোথা ও অস্টিন লেয়ন্ডের উত্তর মেসোপটেমিয়ায় ব্যাপক খননের ফলে এ সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানী লিনেভা ও ব্যাবিলনে নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। পল এমিলি বোথা নামে এক ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ ১৮৪২ সালে প্রাচীন লিনেভা শহরের ধ্বংসস্তূপ আবিষ্কার করেন।
১৯২৭ সালে মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদদের আবিষ্কারের ফলে এসেরীয়দের কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। ১৯৩৩ সালে লিনেভে খনন কাজের ফলে রাজা সেনাচেরিবের (৭০৫-৬৮১ খ্রি. পূর্ব ৮৮৪-৮৫৯) প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি স্তম্ভের শিলালিপিতে রাজার সামরিক অভিযান এবং স্থাপত্যকীর্তির উল্লেখ রয়েছে। এসব খনন কাজের ফলে নগরের দোকান, মন্দির, সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এ ছাড়া কিছু সরকারি ঘোষণা ও শিল্পকলাও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন রাজার আমলে খোদাই ও শিলালিপি থেকে রাজ্য শাসন, বিজয়াভিযানের বর্ণনা পাওয়া যায়। দ্বিতীয় সারগনের আমলে (৭২৩২-৭০৫ খ্রি.পূর্ব) ৪৩০টি পঙ্ক্তি সংবলিত একটি খোদাই লিপির সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে সারগনের বিজয়াভিযানের মনোজ্ঞ বর্ণনা রয়েছে। তবে রাজা আসুর বানিপালের লাইব্রেরিতে প্রাপ্ত রাজকীয় চিঠিপত্র, বাণিজ্যিক দলিল, সাহিত্য, রাজকীয় ইতিহাসসহ বহু মূল্যবান মৃৎফলক আবিষ্কৃত হয়। ইরাকের খারাসাবাদে রাজা দ্বিতীয় সারগনের দরবারে প্রাপ্ত ছোট ছোট ফলকে ২৪০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে ৭৪৬ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত সব এসেরীয় রাজাদের তালিকা রয়েছে। এ থেকে এসেরীয় রাজাদের ধারাবাহিক নাম পাওয়া যায়। এসরীয়দের উত্থান, রাজ্যাভিযান, নির্দয়তা, পতন সম্পর্কে ওল্ড টেস্টামেন্টে বিস্তারিত জানা যায়।

শাম্মী শিল্পী তুলতুল

Tuesday, August 14, 2012

কেন কিছু গান মনে গেঁথে যায়

0 comments
হঠাৎ হঠাৎ কিছু গান আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। ঘুরেফিরে সেই গানটিই মাথার মধ্যে বারবার বাজতে থাকে। এমন অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই আছে। কিন্তু কেন এমন হয়, তা অনেকের কাছেই এক রহস্য। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, কেন এমন হয়? কেন কিছু গান আমাদের মনে গেঁথে যায়? এখনো এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা পরিচালিত না হলেও উত্তর হিসেবে প্রাথমিক কিছু অনুমান দাঁড় করিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ ব্যাপারটিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করছেন তাঁরা। কারও কারও মতে, মানুষের প্রজাতি হিসেবে বিবর্তনের সঙ্গে এর রয়েছে গভীর সম্পর্ক।
লন্ডনের গোল্ডস্মিথ কলেজের অধ্যাপক ভিকি উইলিয়ামস দুই বছর আগে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। তিনি দেখেছেন, বিজ্ঞানীরা বিগত সময়ে একে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছেন—‘মনে গেঁথে যাওয়া লক্ষণ’, ‘আঠালো সংগীত’, ‘সৃজনশীল অস্থিরতা’ প্রভৃতি। তবে কিছু গান মাথায় ঘুরতে থাকার বিষয়কে খুব সাধারণভাবে ‘কানপোকা’ বলে অভিহিত করেন অনেকে। এটা আক্ষরিক অর্থে কানের কোনো পোকা নয়। যে গানগুলো বেশির ভাগ মানুষের মনে গেঁথে যায়, সেগুলো বিবেচনা করা হয় ‘কানপোকা’ হিসেবে। সংগীত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়ামস এ ধরনের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ‘কানপোকা’ গানের তালিকা করেছিলেন, এগুলোর ধরন বোঝার জন্য। কিন্তু তাতে খুব বেশি কাজ হয়নি।
একই গানের কথা একাধিক ব্যক্তি খুব কমই বলেছে। এ থেকে বোঝা যায়, একেকজনের ক্ষেত্রে একেকটা গান ‘কানপোকা’ হিসেবে কাজ করে। তবে কোন পদ্ধতিতে কিছু গান মানুষের মনে গেঁথে যায়, তার কিছুটা অনুমান দাঁড় করিয়েছেন উইলিয়ামস। তিনি কিছু সাধারণ প্রভাবক শনাক্ত করেছেন।
প্রথমত, উইলিয়ামসের মতে, প্রথম শোনা কোনো একটি গান একজন মানুষের মাথায় গেঁথে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, একই গান অনেকবার শোনা হলে সেটিও ‘কানপোকা’র ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘদিন শোনা হয়নি, এমন কোনো গানও আচমকা মাথায় ঘুরতে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের অনুমান, হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে গানটি মাথায় চলে আসে। উইলিয়ামস বলেছেন, ‘একদিন অফিসে একটা পুরোনো জুতার বাক্সের দিকে আমার নজর পড়ে। জুতার দোকানটির নাম ছিল “ফেইথ’। আর “ফেইথ” শব্দটি দেখেই আমার মাথায় চলে এসেছিল জর্জ মাইকেলের “ফেইথ” শিরোনামের গানটি। তারপর দীর্ঘক্ষণ গানটি আমার মাথায় ছিল।’ সদ্য-প্রকাশিত অনেক গানও কানপোকার ভূমিকা নিতে পারে।
কেন এমন হয়—এ প্রশ্নের উত্তরের সন্ধান দিতে উইলিয়ামস বলেছেন, হয়তো এই মনে গেঁথে যাওয়া গানগুলো মানুষের ‘অজ্ঞাত স্মৃতি’র একটা অংশ। স্মৃতির এ অংশের কারণে হঠাত্ করে আমাদের কোনো বিশেষ খাবার খেতে ইচ্ছে হয় বা বহুদিন না-দেখা কোনো বন্ধুর কথা মনে পড়ে। এ ছাড়া সংগীত মানুষের খুবই ব্যক্তিগত ও আবেগগত বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত। এটি মানুষের মস্তিষ্কে বেশ কিছু পথে সংকেতবদ্ধ হয়ে থাকে, যার কারণে প্রাসঙ্গিক অনেক স্মৃতির সঙ্গে গানগুলোও জড়িয়ে থাকে।
অন্য গবেষকদের মতে, এ ঘটনার সঙ্গে বিবর্তনের সম্পর্ক আছে। আধুনিক মানুষের আবির্ভাব হয়েছিল প্রায় দুই লাখ বছর আগে। কিন্তু লিখিত ভাষা আবিষ্কৃত হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার বছর হলো। এর আগে দীর্ঘসময় মানুষকে সবকিছু মুখস্থ রাখতে হতো। এই মনে রাখার কাজটা সহজ করার জন্য তারা গান, ছড়া ও সুর ব্যবহার করত। মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল লেভিটিন বলেছেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে আমাদের অনেক তথ্য স্মরণ রাখতে হয়েছে—কোন খাদ্য বিষাক্ত, কোনটা বিষাক্ত নয়; কীভাবে প্রাথমিক চিকিত্সার মাধ্যমে ক্ষত সারাতে হয় প্রভৃতি অনেক ধরনের তথ্য।’ শুধু আদিম যুগে নয়, আজকের দিনেও পৃথিবীতে অনেক সংস্কৃতিতে এই শ্রুতিনির্ভর মৌখিক চর্চার চল বিদ্যমান। মানুষের ইতিহাসের অনেকটা সময় ধরে এই ছড়া-গান-ছন্দের মাধ্যমে তথ্য মনে রাখার অভ্যাসের কারণে গানগুলো মাথায় গেঁথে যাওয়ার ব্যাপারটি ঘটে বলে মনে করেন বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা। 

রান্নার প্রচলন হয়েছে পাঁচ লাখ বছর আগেই

30 comments
প্রায় এক মিলিয়ন বছর আগের মানুষের জীবনযাপন আমাদের মতো ছিল না। অর্থাৎ সেই সময়ে মানুষ সভ্যতাও লাভ করেনি। বোধশক্তি বলে কিছুই ছিল না। ফলে ঘরবাড়ি, সংসারের মতো বৈশ্বয়িক কোনো বিষয়ের প্রতিও তাদের কোনো খেয়াল ছিল না। তারা জীবনযাপন করত প্রকৃতি থেকে পাওয়া মাছ-মাংস, ফলমূল এবং শাকসবজি খেয়ে। তখনও আগুন আবিষ্কৃত হয়নি। আর এ কারণে মানুষ যা-ই খেত, তার সবকিছুই ছিল কাঁচা এবং অস্বাস্থ্যকর।
তবে আগুন আবিষ্কারের পরই তারা খাবার-দাবারে মূলত বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করে। যে কোনো ধরনের খাবার খাওয়ার আগে তারা তা আগুনে ঝলসে নিত। খেত তারপর। এতে কিছুটা হলেও আলাদা একটা স্বাদ পাওয়া যেত। প্রাচীনকালের শিকারি মানুষরা শিকার করতে গিয়ে একসঙ্গে বেশ কয়েকদিনের খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে আসত। কিন্তু সেসব খাবার সবসময় ভালো রাখা সম্ভব হতো না। তাই তারা খাবারগুলো নষ্টের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেগুলো আচ্ছামতো ঝলসে নিয়ে শুকনো স্থানে রাখত, যাতে পরে ব্যবহার করা যায়। এ থেকেই অনুমান করা হয়, প্রাচীনকালেই সম্ভব হয়েছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে রান্নাবান্না এবং তা ভালো রাখার জন্য শুষ্ক স্থান ব্যবহারের প্রথা। কিন্তু প্রাগৈতিহাসিকদের গবেষণা থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে মানুষ রান্না করা খাবার খাওয়া শুরু করে আজ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ বছর আগেই। তবে প্রাগৈতিহাসিকদের গবেষণার ভিত খুব জোরালো হলেও এ কথাও সত্য, প্রকৃতপক্ষে মানুষ তখনও আগুন তৈরির পদ্ধতিই শেখেনি! মেঘে মেঘে ঘর্ষণে কিংবা শুকনো কাঠে কাঠে কোথাও ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলে তারা ভয়ে দূরে সরে যেত।
অবশ্য কৌতূহলী হয়ে এ রহস্যও তারা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। ক্রমে শিখে ফেলে আগুনের ব্যবহার। তখন কোথাও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে অর্থাৎ কোথাও আগুনের দেখা পেলেই কাঠ বা অন্য কোনো শুকনো বস্তুতে সেখান থেকে আগুন সংগ্রহ করে অন্যত্র জ্বালিয়ে রাখার ব্যবস্থা করত।
এভাবে তারা চেষ্টা করত দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে এবং সেই আগুন তারা রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য গৃহস্থালি কাজকর্মে ব্যবহার করত।


ঋতা আলম

Monday, August 13, 2012

টোকাই

0 comments
টোকাই বলতে এখন আমরা হতদরিদ্র পথশিশুদের বুঝে থাকি। ছিন্নবস্ত্র পরিহিত অর্ধনগ্ন টোকাইরা শহর এলাকায় বাস করে। বিখ্যাত কার্টুনিস্ট রফিকুন্নবীর (রনবী) কার্টুন চরিত্র টোকাই থেকে পথশিশুদের এই টোকাই পরিচিতি গড়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালে 'সাপ্তাহিক বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম টোকাই চরিত্রটি আত্মপ্রকাশ করে। রনবী এ রকম একটি কার্টুন চরিত্র তৈরির প্রথম চিন্তা করেন ষাটের দশকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কার্টুনিস্ট সুলজের 'চার্লি ব্রাউন' চরিত্রটি দেখে অনুপ্রাণিত হন। ফুটপাতের ধারে, আবর্জনার স্তূপের পাশে বা পড়ে থাকা বড় পাইপের ভেতরে রনবী লুঙ্গি পরিহিত টোকাই চরিত্রটি আঁকেন। এই টোকাইদের মাধ্যমে তিনি সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরেন। এই চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে পরবর্তী সময়ে অতিদরিদ্র, বস্তি, ফুটপাত, রেলস্টেশন প্রভৃতি স্থানে বসবাসকারী শিশুদের টোকাই হিসেবে ডাকা শুরু হয়। এই টোকাইরা বৈষম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে সৃষ্টি হয়। অতিদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ভাত-কাপড়ের সংস্থান করতে না পেরে শিশুকালেই এই টোকাইদের জীবিকা নির্বাহের জন্য নামিয়ে দেয়। টোকাইরা আবর্জনা থেকে খাবার কুড়িয়ে, রাস্তা থেকে ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বস্তা হাতে টোকাইরা একাকী বা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন জিনিস কুড়িয়ে থাকে। বেশির ভাগ টোকাইরই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে না। টোকাইরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা বা ফুটপাতে রাত যাপন করে থাকে।