Thursday, November 10, 2016

ফোর্থ স্টেট

0 comments
‘ফোর্থ স্টেট’। বলা হয়, ‘সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ (অথবা চতূর্থ শক্তি) এই মিডিয়া। সমাজ বা রাজনীতির যে শক্তিটির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয় না, কিন্তু তা রয়েই যায় তাকেই এ চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মিডিয়া রাষ্ট্রের কাঠামোর অবধারিত কোনো অংশ নয়। সে কারণেই একে চতুর্থ শক্তি নাম দিয়ে তার অস্তিত্ব ও শক্তিকে স্বীকার করে নেওয়া হয়।  
এ শব্দটির ইতিহাস আরও পুরনো। ১৭৮৭ সালে গ্রেট ব্রিটেনের হাউস অব কমনসে সংসদীয় বিতর্কে এডমুন্ড ব্রুক প্রথমে শব্দটির ব্যবহার করেছিলেন। তৎকালীন ইউরোপীয় সমাজের তিনটি প্রধান স্তম্ভ ছিলো অভিজাত শ্রেণি (ফার্স্ট স্টেট), ধর্মযাজক শ্রেণি (সেকেন্ড স্টেট) ও সাধারণ মানুষ (থার্ড স্টেট)। টমাস কার্লাইল তার ‘বুক অন হিরোস অ্যান্ড হিরো ওরশিপ' বইয়ে লিখেছেন- ব্রুক সেদিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘এই সংসদে আজ তিনটি স্তম্ভের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কিন্তু ওই যে গ্যালারিতে বসে আছেন সাংবাদিকরা, তারা এই সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা কিন্তু এদের সকলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ’।   
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর মিডিয়ার জন্য এই ফোর্থ স্টেট তকমাটি কি প্রশ্নবিদ্ধ হয় নি?
হয়েছে। কারণ, মিডিয়াকে, মিডিয়ার ক্ষমতাকে, মিডিয়ার বক্তব্য, মিডিয়ার প্রচেষ্টাকে আর মিডিয়ার সকল অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণিত করে, পুরোপুরি ভুলুণ্ঠিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মিডিয়া কতো কথা বলেছে, ট্রাম্প অযোগ্য, নোংরা মানসিকতার, ট্যাক্স ফাঁকিবাজ, জালিয়াত, অর্থ-দুর্বৃত্ত, নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী, বিকৃত যৌনাচারী। এসবের কোনোটাই ম্যাজিক বুলেটের মতো, হাইপোডারমিক নিডলের মতো দর্শক-পাঠকের মস্তিষ্কে আঘাতও হানেনি, ঢুকেও পড়েনি। ফলে তারা ট্রাম্পকেই পছন্দ করেছেন।
এ নির্বাচনে মিডিয়া ফোর্থ স্টেট হিসেবেও বিবেচিত হয়নি। বরং ব্যবহৃত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে। কারণ, এডমুন্ড ব্রুক যে ফোর্থ স্টেটের কথা বলেছিলেন, তা ছিলো মিডিয়ার বিবেক- তার কলমের শক্তিকে বিবেচনা করে, মিডিয়ায় প্রকাশিত বা প্রচারিত বিজ্ঞাপনের বিবেচনায় নয়।
যুক্তরাষ্ট্র তথা গোটা বিশ্বের প্রায় সকল মিডিয়াই এ নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় দেখতে পায়নি। যে কয়েকটি মিডিয়া দেখতে পেয়েছে, তারাও তা দেখেছে একটি পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। উপরিতল থেকে তারা স্রেফ ভাষার ব্যবহার ও বানোয়াট পরিসংখ্যানে ট্রাম্পকে এগিয়ে রেখেছিলো। তাদের ছিলো না সত্যিকারের পরিস্থিতির ওপর কোনো নজরদারি, কিংবা গভীরের কোনো বিশ্লেষণ।
আর যারা ট্রাম্পকে পিছিয়ে রেখেছিলেন, তারাও ছিলেন পক্ষপাতদুষ্ট। ভেতরের খবর তাদের যে অজানা ছিলো কিংবা জানার চেষ্টাটুকুও ছিলো না, তা নিয়ে ০৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিবাগত মধ্যরাতের পর থেকে আর কেউই সন্দেহটুকুও করছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী মিডিয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের জয়ের সম্ভাবনা দেখেছিলো ৯৮.৫ শতাংশ। আর ট্রাম্পের মাত্র দেড় শতাংশ। অন্য প্রধান মিডিয়াগুলোর কোনোটিই (রিপাবলিকান সমর্থক মিডিয়াগুলো ছাড়া) হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশের নিচে দেখেনি।
কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে, তা এখন সবার জানা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াগুলো যেভাবে প্রেডিক্ট করেছে, সারা বিশ্বের মিডিয়াগুলো সেটাই অনুসরণ করে গেছে। কেউই গভীরে যায়নি। ফলে সার্বিকভাবে আজ মিডিয়ার যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এতো মিডিয়ার এতো এতো চোখ, কেউ কি দেখতে পায়নি, আমেরিকানরা ভেতরে ভেতরে কতোটা রক্ষণশীল, কতোটা নারী বিদ্বেষী, কতোটা তারা ইসলামোফোবিয়ায় ভুগছে?
মিডিয়াগুলো স্রেফ ট্রাম্পকে নিয়ে পড়েছিলো। তারা এ খবর রাখেনি যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৮ জন নাগরিক রয়েছেন যারা প্রত্যেকেই একেকজন ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোভাবাপন্ন।
এই মিডিয়াকে ফোর্থ স্টেট বললে এডমুন্ড ব্রুকের আত্মা কষ্ট পাবে। এই মিডিয়াকে ‘মিডিয়া গান’ বলা হলে ইউনিভার্সিটি অব টোয়েন্ট তা মানবে না।

সুতরাং, ম্যাজিক বুলেট, ফোর্থ স্টেট শব্দগুলো নিয়ে ভাবতে হবে!

ম্যাজিক বুলেট

0 comments
সাংবাদিকতায় ‘ম্যাজিক বুলেট’তত্ত্বটিতে বলা হয়, ‘মিডিয়ার এমন একটি ক্ষমতা রয়েছে যা সমাজে ম্যাজিক বুলেটের মতো কাজ করে। মিডিয়া যা বলবে, সমাজ, সমাজের মানুষ সেভাবেই কাজ করবে’।
এখানে দু’টি শব্দ- একটি 'ম্যাজিক', অন্যটি 'বুলেট'।  দু’টি শব্দই কিন্তু নিজ ক্ষমতা ও কার্যকারিতায় শক্তিশালী। যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় যেমন পাল্টে যায় কোনো কিছু, ঠিক তেমনটি ঘটলে আমরা বলি... ‘বাহ যাদুর মতো কাজ করেছে’। আর বুলেট যেমন ছুটে এসে দ্রুত আঘাত করে, তেমন কিছু ঘটলে আমরা বলি, ‘বাহ! বুলেটের মতো কাজ হয়েছে’।
আর এই ম্যাজিক বুলেট তত্ত্বের যারা আবিষ্কারক, তারা মিডিয়ার ক্ষমতাকে এমনভাবে দেখেছেন যে, তার প্রকাশে এ দু’টি শক্তিশালী শব্দকে একসঙ্গে ব্যবহার করছেন। তারা বলেছেন, ‘মিডিয়া’ নামের ‘বন্দুক’ থেকে যখন গুলি বের হয়, তখন তা সরাসরি দর্শক, পাঠক শ্রোতার 'মস্তিষ্কে' আঘাত করে।
এটিকে ‘হাইপোডারমিক নিডল’ মডেলও বলেছেন তারা। অর্থাৎ বলা হয়, ‘মিডিয়ার কোনো বার্তা তার দর্শকের মস্তিষ্কে সরাসরি ইনজেক্ট করে দেয়। তখন মিডিয়া যেভাবে চায়, পাঠক-দর্শক সেভাবেই আচরণ করে’।
কিন্তু মিডিয়ার সে ক্ষমতা আজ লোপ পেয়েছে। ১৯৩০-এর দশকে নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব টোয়েন্টের দেওয়া এ আচরণতত্ত্বটি মূলত প্রণীত হয় নাৎসি প্রোপাগান্ডায় হলিউডের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে, যা আজ আর চলে না। সুতরাং, মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিডিয়ার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ বললে ভুল হবে, বস্তুতপক্ষে ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। একটি কথা অন্তত বলাই চলে- এখানে মিডিয়ার ম্যাজিক বুলেট তত্ত্ব কাজ করেনি।

ইউটিউব এম.সি.এন

0 comments
“মাল্টি-চ্যানেল নেটওয়ার্ক” কি?
“মাল্টি-চ্যানেল নেটওয়ার্ক” শব্দটির সংক্ষিপ্ত রুপ হচ্ছে “এম.সি.এন” (MCN). একে সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক” বলা হয়ে থাকে।

“মাল্টি-চ্যানেল নেটওয়ার্ক” বা “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক” এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা কিনা ইউটিউব এর মত ভিডিও প্লাটফর্মের সাথে কাজ করে।

মুলত “মাল্টি-চ্যানেল নেটওয়ার্ক” বা “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক” গুলো সারা দুনিয়ার মাল্টিপল/একাধিক ইউটিউব চ্যানেলের সাথে অধিভুক্ত হয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর/ইউটিউব পাবলিশারদের নানাবিধ সহায়তা, পণ্য, ক্রস-প্রোমোশন, প্রোগ্রামিং, ফান্ডিং, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল রাইট ম্যানেজমেন্ট, মনিটাইজেশন/সেলস, অডিয়েঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এর সহায়তা প্রস্তাব ও চ্যানেলের ভিডিও তে উচ্চ সি.পি.এম. বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করিয়ে রাজস্বের শতকরা বিনিময় করে থাকে।

তথ্য সংগৃহীতঃ
https://en.wikipedia.org/wiki/Multi-channel_network

https://support.google.com/youtube/answer/2737059?hl=en

মোট কথা, “MCN” হচ্ছে “ইউটিউব স্বীকৃত” গুগল অ্যাডসেন্স এর মত একটা প্লাটফর্ম যেখানে ইউটিউব পাবলিশাররা গুগল অ্যাডসেন্স এর চেয়ে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, এবং ইউটিউব পাবলিশারদের ইনকাম গুগল অ্যাডসেন্স এর চেয়ে অনেকগুনে বৃদ্ধি পায়।
এমনকি “MCN” এর সকল আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যাবলী “ইউটিউব স্বীকৃত” কতগুলো প্রতিষ্ঠিত সার্ভিস প্রভাইডারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যারা প্রত্যেকটা “MCN” এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে ইউটিউব পাবলিশারদের সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকে।



☛ বাংলাদেশের ইউটিউব পাবলিশারদের জন্য “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক” (এম.সি.এন.)- এর সূত্রপাত ও ভুমিকাঃ
বাংলাদেশে এই সর্বপ্রথম ইউটিউব পাবলিশারদের জন্য “মাল্টি-চ্যানেল নেটওয়ার্ক” বা “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার নাম “CREATOR MCN”
আমরা সকলে জানি যে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে গুগল/ইউটিউব সার্চ ইঞ্জিনের কোন প্রাতিষ্ঠানিক পার্টনারশিপ নেই বিধায় “ইউটিউব পার্টনারশিপ নেটওয়ার্ক”( MCN) সার্ভিস নেই। যার কারণে আমাদের ইউটিউব পাবলিশারদের চ্যানেলসমূহের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও অ্যাডসেন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা এড়িয়ে চলতে ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য “CREATOR MCN”- যাত্রা শুরু হয়েছে।


☛ “CREATOR MCN”- এ পাবলিশারদের সুবিধাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নোত্তর মাধ্যমে উল্লেখ করা হলঃ

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এর সাথে নতুন ইউটিউব চ্যানেল সংযুক্ত করলে কি গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্রদানকৃত অ্যাড্রেস পিন ভেরিফিকেশনের দরকার হয় কিনা?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এর সাথে পাবলিশাররা তাদের চ্যানেল যুক্ত করলে কোন রকম গুগল থেকে প্রদানকৃত অ্যাড্রেস পিন ভেরিফিকেশন এর দরকার হয়না। অ্যাড্রেস পিন ভেরিফিকেশন ছাড়াই অর্জিত ব্যাল্যান্স উঠাতে পারবেন।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এর সাথে ইউটিউব চ্যানেল সংযুক্ত করলে আলাদাভাবে গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” ক্রিয়েট করার প্রয়োজন আছে কিনা?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এ আপনার চ্যানেল সংযুক্ত হয়ে গেলে “CREATOR MCN”-কর্তৃক একটি ড্যাশবোর্ড প্রদান করা হবে সেখানে গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর মত সকল রিপোর্ট দেখতে পারবেন ও জানতে পারবেন। সেজন্য আলাদা করে গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” ক্রিয়েট করার দরকার নাই।

❢প্রশ্নঃ চ্যানেল মনিটাইজেশন এর জন্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর সাথে পার্টনারশিপ করতে হয় কিনা?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- চ্যানেলটিকে অনুমোদন দিলে অটোমেটিকভাবে মনিটাইজেশন এর জন্য পার্টনারশিপ করে নিবে। সেজন্য আলাদাভাবে চ্যানেল মনিটাইজেশন এর জন্য গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর সাথে পার্টনারশিপ করা লাগবেনা।
এক-কথায়, কোন প্রকার গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট ” তৈরি করতে হবেনা।

❢প্রশ্নঃ যদি কোন চ্যানেল গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর সাথে সংযুক্ত থাকে এবং সেই চ্যানেলটি যদি “CREATOR MCN”- এর সাথে সংযুক্ত করতে চাই তাহলে কি সেটা সম্ভব কিনা?

➤ উত্তরঃ এমন অবস্থায় কেউ চ্যানেল “CREATOR MCN”- এ সংযুক্ত করতে চাইলে সেটা সম্ভব হবে। আর যেদিন থেকে “CREATOR MCN”- উক্ত চ্যানেলটিকে অনুমোদন দিয়ে দিবে সেদিন থেকে গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট”- এর সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক থাকবেনা। সেদিন থেকে সকল আরনিং রিপোর্ট ও এনালাইসিস রিপোর্ট সেখানেই প্রদর্শিত হবে।

❢প্রশ্নঃ কেউ যদি নতুন চ্যানেল গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর সাথে পার্টনারশিপ না করে ডিরেক্ট “CREATOR MCN”- এ অ্যাপ্লাই করে তাহলে “CREATOR MCN”-এ সংযুক্ত হতে পারবে কিনা?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এর চ্যানেল অনুমোদন এর নিয়ম মোতাবেক চ্যানেলের মেয়াদ, ভিউ ও সাবস্ক্রাইবারের সংখা সঠিক থাকলে নতুন চ্যানেল সংযুক্ত করতে পারবেন।সেজন্য গুগল অ্যাডসেন্স “হোসটেড অ্যাকাউন্ট” এর সাথে পার্টনারশিপ থাকতে হবে এমন কোন বিধি-বিধান নাই।

❢প্রশ্নঃ যদি কোন চ্যানেল “CREATOR MCN”- এ সংযুক্ত থাকা অবস্থায় কোন কারণে গুগল/ইউটিউব চ্যানেলটি সাসপেন্ড করে তাহলে কি সেই অর্জিত মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা?

➤ উত্তরঃ আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, কোন কারণে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যদি কখনো সাসপেন্ড হয় তাহলে গুগল সেই অর্জিত মুনাফা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেয়না বা দিতে বাধ্য নয়। কিন্তু আপনার চ্যানেলটি যদি “CREATOR MCN”- এ থাকা অবস্থায় সাসপেন্ড হয় সেই কাঙ্খিত অর্জন করা মুনাফা “CREATOR MCN”- প্রদান করবে।
অর্থাৎ চ্যানেল সাসপেন্ড হয়ে গেলেও চ্যানেল সাসপেন্ড হওয়ার পূর্ববর্তী মুহূর্ত পর্যন্ত কষ্টের উপার্জিত ইনকাম “CREATOR MCN”- এর ড্যাশবোর্ড এর রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার প্রদানকৃত পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট-এ যথাসময়ে পেয়ে যাবেন।

❢প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে লিগালি চ্যানেল মনিটাইজ করতে না পারায় অন্যান্য দেশের নাম/লোকেশন দিয়ে চ্যানেল মনিটাইজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে “CREATOR MCN”- এর সিস্টেম কি?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এ চ্যানেল মনিটাইজ করার জন্য অন্য দেশের নাম/ লোকেশন ব্যবহার করতে হয়না, বরং গর্বের সাথে বাংলাদেশের লোকেশন দিয়ে চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন।

❢প্রশ্নঃ চ্যানেলের ভিডিওতে প্রদর্শিত সচারাচর ব্যবহৃত (৪) চার প্রকার অ্যাড ফরম্যাট ছাড়া কি অন্য কোন অ্যাড ফরম্যাট “CREATOR MCN”- প্রদান করবে কি?

➤ উত্তরঃ হ্যাঁ অবশ্যই। “CREATOR MCN”- এর অন্তর্ভুক্ত সকল চ্যানেলের সকল ভিডিও তে অ্যাডসেন্স এর (৪) চার প্রকার অ্যাড ফরম্যাট ছাড়াও অতিরিক্ত (২) দুই প্রকার, মোট (৬) প্রকার অ্যাড ফরম্যাট ভিউয়ারদের কাছে প্রদর্শন করা হবে। অতিরিক্ত (২) দুই প্রকার অ্যাড ফরম্যাট নাম হলঃ
**১. “নন-স্কিপ্যাবল ভিডিও অ্যাড” অর্থাৎ আপনার ভিউয়ার যদি আপনার ভিডিও টি দেখতে চায় অবশ্যই তাকে নন-স্কিপ্যাবল ভিডিও অ্যাডটি দেখার পরে আপনার ভিডিও টি দেখতে হবে। বিষয়টা হল সেই ভিডিও অ্যাডটি স্কিপ করার কোন অপশন সে পাবেনা।
**২. “লং নন-স্কিপ্যাবল ভিডিও অ্যাড” অর্থাৎ দীর্ঘ যেমনঃ ১ মিনিট/১ঃ৩০ সেকেন্ড/২ মিনিট সময়ের অ্যাড ফরম্যাট চ্যানেলের ভিডিও গুলোতে প্রদর্শিত হবে।
এমনকি এই অ্যাড ফরম্যাটটিতেও কোন প্রকার স্কিপ করার অপশন ভিউয়ার পাবেনা।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এর চ্যানেলগুলোতে শুধুই অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপনসমূহ দেখানো হবে কি?

➤ উত্তরঃ না, অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি “CREATOR MCN”- এর হাই সি.পি.এম. রেটের বিজ্ঞাপন দেখানো হবে।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এ কোন চ্যানেল সংযুক্ত করলে পাবলিশাররা কি ইউটিউব এর চেয়ে কম ইনকাম পাবে নাকি বেশী ইনকাম পাবে?

➤ উত্তরঃ যেহেতু “CREATOR MCN”- অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি হাই সি.পি.এম. রেটের বিজ্ঞাপন দেখানো হবে, সেক্ষেত্রে অ্যাডসেন্স ইনকামের চেয়ে কম আরনিং হওয়ার সভাবনা নাই। বরং “MCN”এর হাই সি.পি.এম. বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ২গুন/৩ গুন ইনকাম বেড়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এ পাবলিশাররা আরনিং বেশী পায় কেন?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এ অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটা চ্যানেলের পাবলিশারদের প্রোমোশন এর পাশাপাশি “CREATOR MCN”- টীম আলাদাভাবে চ্যানেলে ভিউ, সাবস্ক্রাইবার ও কমিউনিটি ইত্যাদি ডেভেলপমেন্ট করে থাকে যার ফলে পাবলিশারদের আরনিং অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”-এর সাথে ইউটিউব স্বীকৃত কোন কোন সার্ভিস প্রভাইডারগুলো সার্বক্ষণিক ওতপ্রোতভাবে কাজ করে।

➤ উত্তরঃ সার্ভিস প্রভাইডারগুলো হলঃ

✔ http://epoxy.tv
✔ http://www.audiomicro.com/royalty-free-music
✔ http://www.epidemicsound.com
✔ http://vidcon.com
✔ https://www.tubebuddy.com
✔ http://genatomic.com
✔ https://www.scalelab.com/brands
✔ https://www.spreadshirt.com
✔ Biggest Channel Development Conversation Community
✔ Video Claims Apps
✔ Study Forum and Blog
✔ Brands Create Energy through Conversation Study Centre


❢প্রশ্নঃ চ্যানেলের ভিডিও কেউ যদি চুরি করে তাহলে “CREATOR MCN”- কি ধরনের সাপোর্ট দিবে?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”- এর ড্যাশবোর্ড থেকে ভিডিও ক্লেইম সফটওয়ারের এর মাধ্যমে ইউটিউব সাপোর্ট টিমের কাছে ডিরেক্ট ক্লেইম নোটিশ পাঠাতে পারবেন। যা কিনা “CREATOR MCN”- এর ইউটিউব সার্টিফাইড সাপোর্ট টিম তৎক্ষণাৎ অ্যাকশন নিয়ে সেই চ্যানেলে স্ট্রাইক দেয়।

❢প্রশ্নঃ একজন পাবলিশারের ৫ টা চ্যানেল যদি “CREATOR MCN”- এ অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তাহলে কি আলাদা আলাদাভাবে অ্যাপ্লাই করতে হবে?

➤ উত্তরঃ প্রথম চ্যানেলটির অনুমোদন পেয়ে গেলে সেই চ্যানেলের “CREATOR MCN”- এর ড্যাশবোর্ড থেকে বাকি চ্যানেলগুলো অ্যাড করে নিতে পারবেন। তবে প্রত্যেকটা চ্যানেলের জন্য আলাদা আলাদাভাবে অ্যাপ্লাই করাই ভালো ।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এর অন্তর্ভুক্ত চ্যানেল-সমূহ কি সাসপেন্ড বা ব্যান্ড হতে পারে?

➤ উত্তরঃ আপনি যদি ইউটিউব এর রুলস অনুযায়ী আপনার চ্যানেল ডেভেলপ করেন তাহলে চ্যানেল সাসপেন্ড বা ব্যান্ড হওয়ার প্রশ্নই আসেনা, যেহেতু সাসপেন্ড বা স্ট্রাইক সম্পর্কিত বিষয়গুলো ইউটিউব/গুগল নিজেই তদারক করে তারপরেও যদি চ্যানেল ব্যান্ড হয়ে যায় “CREATOR MCN”- উক্ত চ্যানেল পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে যাবে। এমনকি সঠিক কারণ যাচাই করে চ্যানেল মালিককে জানানো হবে।অন্যদিকে, ইউটিউব রুলস ভঙ্গ করলে “CREATOR MCN”- এর সাথে সংযুক্ত থাকলেও চ্যানেল সাসপেন্ড বা ব্যান্ড হতে পারে।

❢প্রশ্নঃ চ্যানেলের কি রকম যোগ্যতা থাকলে “CREATOR MCN” এ চ্যানেল অন্তর্ভুক্ত করা যায়?

➤ উত্তরঃ অবশ্যই শেষ ৩০ দিনে ইউনিক চ্যানেলটির সর্বনিম্ন ১০ সাবস্ক্রাইবার ও ১,০০০ ভিউ থাকলে “CREATOR MCN”- তদারক সাপেক্ষে উক্ত চ্যানেলটি অনুমোদন দেয়।

❢প্রশ্নঃ কোন চ্যানেলে যদি কপিরাইট ভিডিও বা স্ট্রাইক থাকে সেই চ্যানেলটি “CREATOR MCN”- এ অ্যাপ্লাই করা যাবে কিনা বা “CREATOR MCN”- সেই চ্যানেলটি অনুমোদন দিবে কিনা?

➤ উত্তরঃ কোন চ্যানেলে যদি কোন কপিরাইট ভিডিও থাকে সেই চ্যানেলটি কখনই “CREATOR MCN”- এর সাথে যুক্ত হতে পারবেনা। এমনকি কোন স্ট্রাইক থাকলেও অ্যাপ্লাই করা ঠিক নয় বরং এমন কপিরাইট ও স্ট্রাইক যুক্ত চ্যানেল অ্যাপ্লাই করলে “CREATOR MCN”- অনুমোদন না দেয়ার পাশাপাশি সেই চ্যানেলের বিরুদ্ধে ইউটিউব সাপোর্ট টিমকে ক্লেইম জানায়। মোটকথা, ইউনিক কন্টেন্ট দিয়ে তৈরিকৃত চ্যানেলগুলোকে “CREATOR MCN”- অনুমোদন দিয়ে থাকে।

❢প্রশ্নঃ গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এর ক্ষেত্রে আইপি জনিত যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, “CREATOR MCN”-এ এই রকম কোন সমস্যা আছে কিনা। অর্থাৎ একটি কম্পিউটার থেকে একাধিকবার নিজ নামে বা ভিন্ন নামে অ্যাপ্লাই করতে পারবে কিনা?

➤ উত্তরঃ “CREATOR MCN”-এ এই ধরনের আইপি জনিত কোন সমস্যা নাই। আপনি চাইলে এক কম্পিউটার বা এক আইপি থেকে আপনার নামে কিংবা ভিন্ন নামে একাধিকবার অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।
উদাহরণস্বরূপঃ ধরুন, আপনার যদি ৬ টা চ্যানেল থাকে, আপনি এক কম্পিউটার থেকে আপনার নিজের নামেই ৬ বার অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।

❢প্রশ্নঃ সাধারণত বাংলাদেশী কন্টেন্ট নিয়ে চ্যানেল তৈরি করলে (সি.পি.সি.) অনেক কম হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে “CREATOR MCN” এ চ্যানেল অন্তর্ভুক্ত করলে (সি.পি.সি.) ও আরনিং বাড়বে কিনা?

➤ উত্তরঃ যেহেতু “CREATOR MCN”-এর অতিরিক্ত কিছু অ্যাড ফরম্যাট ও অ্যাড ফিচার পাবলিশারদের চ্যানেলের ভিডিওতে যুক্ত করা হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশী কন্টেন্ট দিয়ে চ্যানেল তৈরি হলেও (সি.পি.সি.) ও আরনিং অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।



☛ “CREATOR MCN”- এর পেমেন্ট পাওয়ার সিস্টেম গুলো নিম্নরূপঃ

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এ সর্বনিম্ন কত ডলার উত্তোলন করা যায়?

➤ উত্তরঃ ডলার উত্তোলন করার সর্বনিম্ন কোন পরিমাণ নেই। আপনি যদি ১ ডলার ইনকাম করেন তাহলে মাস শেষে ১ ডলার-ই উত্তোলন করতে পারবেন।

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এর পেমেন্ট মেথডগুলো কি কি?

➤ উত্তরঃ

☑. Check- চেক (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১০০ ডলার)

☑.Direct Deposit- ডিরেক্ট ডিপোজিট (শুধু অ্যামেরিকার জন্য) (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১০০ ডলার)

☑.Paypal- পেপাল (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১ ডলার)

☑.International Wire Transfer- ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইর ট্রান্সফার (শুধু নন-অ্যামেরিকার জন্য) (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১০০ ডলার)

☑.WebMoney- ওয়েবমানি (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১ ডলার)

☑. Yandex.Money- ইয়ানডেক্স.মানি (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১ ডলার)

☑. QIWI Wallet- কিউঈ অয়ালেট (উত্তোলন সর্বনিম্ন ১ ডলার)

❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN” –এ চ্যানেল সংযুক্ত করলে পেমেন্ট না পাওয়ার ভয় আছে কি?

➤ উত্তরঃ যেহেতু ইউটিউব “CREATOR MCN” এর সকল পাবলিশারদের পেমেন্ট নিজ হাতেই পাবলিশারদের অ্যাকাউন্ট সমূহে প্রদান করে সেক্ষেত্রে পাবলিশারদের পেমেন্ট না পাওয়ার কোন অনিশয়তা নাই। ঠিক যেমনটা গুগল তার ইউটিউব পাবলিশারদের নিজেই পেমেন্ট করে।


❢প্রশ্নঃ “CREATOR MCN”- এ পেমেন্ট সিস্টেম কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?

➤ উত্তরঃ আমরা সকলে জানি যে, ইউটিউব প্রত্যেক মাসের ১০ তারিখে কারেন্ট বালেন্স চূড়ান্ত করে, উদ্বাহনস্বরূপঃ অক্টোবরের ইনকামটা চূড়ান্ত হয় নভেম্বরের ১০ তারিখে।
ইউটিউব চুক্তি অনুযায়ী “CREATOR MCN”- এর পাবলিশারদের ইনকামটা চূড়ান্ত করে উক্ত মাসের ১৫ তারিখ। উদাহরণস্বরূপঃ নভেম্বরের ১৫ তারিখ চূড়ান্ত করে।
“CREATOR MCN”- পরবর্তী মাসের ১-৫ তারিখে ড্যাশবোর্ড এর রিপোর্ট অনুযায়ী পাবলিশারদের পেমেন্ট দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপঃ ডিসেম্বরের ১-৫ তারিখের মধ্যেই পেমেন্ট দেয়।
** অতএব,অক্টোবরের ইনকাম “CREATOR MCN”- এর ড্যাশবোর্ড এ যুক্ত হবে নভেম্বরের ১৫ তারিখ আর আপনার প্রদানকৃত পেমেন্ট মেথডে ডিসেম্বরের ১-৫ তারিখের মধ্যেই কাঙ্খিত ইনকাম পেয়ে যাবেন।


☛ “CREATOR MCN”- এর বিশেষ বিশেষ সুবিধাসমুহঃ

➊. “CREATOR MCN”- তার ইউটিউব পাবলিশারদের উচ্চ মাত্রার অর্জিত মুনাফা থেকে দৃঢ়তার সাথে শতকরা ৭০/৩০ ভাগ বিনিময় করে থাকে অর্থাৎ আপনি পাবেন টোটাল ইনকামের ৭০ ভাগ।

➋. “CREATOR MCN”- এ হাই সি.পি.এম. রেটের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো হয়।

➌. “CREATOR MCN”- এর সাপোর্ট টিম ২৪/৭ পার্টনার সাপোর্ট দিয়ে থাকে।

➍. গুগল অ্যাডসেন্স এর যথারীতি বিজ্ঞাপন ব্যতীত “CREATOR MCN”- এর হাই সি.পি.এম. রেটের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করার ফলে চ্যানেলের ইনকাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

➎. অর্জিত মুনাফা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার শর্ত নাই, মুনাফার পরিমাণ ১ ডলার বা ১০০০+ ডলার হোক না কেন যা ইনকাম করবেন শিডিউল অনুযায়ী তাই উল্লেখিত পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট সমূহে উত্তোলন করতে পারবেন।

➏. চ্যানেল ডেভেলপমেন্ট, ওডিয়েঞ্চ ডেভেলপমেন্ট ও চ্যানেলের সার্বিক উন্নতির জন্য ৬ টি ইন্টারন্যাশনাল অসাধারণ ওয়েবসাইট, আপস, কমিউনিটি প্লাটফর্ম প্রদান করে থাকে।

➐. “CREATOR MCN”- এর ভিতর থেকে যেকোনো ভিডিও এর সমস্যার জন্য আপীল ও ক্লেইম অনায়াসে করতে পারবেন।

➑. ইউটিউব সাপোর্ট টিমের কাছে ভিডিও ও চ্যানেল সম্পর্কিত সমস্যার আবেদন “CREATOR MCN”- এর ড্যাশবোর্ড এর ভিতর থেকে সম্পাদন করতে পারবেন।

➒. “CREATOR MCN”- এর পাবলিশাররা ১৫০,০০০+ ফ্রি ষ্টক ট্রাকস ও ৩০০,০০০+ সাউন্ড ইফেক্ট’স ব্যবহার করতে পারবেন।

➓. “CREATOR MCN”- পাবলিশারদের জন্য ৭ টা পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করার ব্যবস্থা চালু রেখেছে।

➊➊. অরিজিনাল ভিডিও এর কপির কন্টেন্ট আইডি ইউটিউব থেকে নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য ভিডিও মনিটাইজেশন করার ব্যবস্থা করে থাকে।

➊➋. শেষ ৩০ দিনে সর্বনিম্ন ১০ জন সাবস্ক্রাইবার ও ১,০০০ ভিউ থাকলে “CREATOR MCN”- এর সাথে সংযুক্ত করার বিধান আছে।

➊➌ . নো-লক কন্টাক্ট রীতি অনুযায়ী যেকোনো চ্যানেল যেকোনো সময় “CREATOR MCN”- থেকে চ্যানেল রিমুভ করে নিতে পারে।

➊➍. কমিউনিটি ফোরাম,চ্যানেল ভিউয়ার ও আরনিং এর জন্য বিভিন্ন টুলস এন্ড ম্যাটেরিয়ালস দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে “CREATOR MCN”- টিম কাজ করে থাকে।



☛ “CREATOR MCN”- এ চ্যানেল সংযুক্ত করার সাধারণ পদ্ধতিঃ

➀. প্রথমে Creator MCN ওয়েবে যাওয়ার পরে Join Now“ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

➁. “Apply Now With YouTube” ক্লিক করে আপনার চ্যানেলের ইমেইল টি দিয়ে লগ ইন করতে হবে যে চ্যানেলটি “CREATOR MCN”- এ জয়েন করাতে চান সেটি সিলেক্ট করে দিতে হবে।

➂. তারপর “Allow” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

➃. “First Name” ও “Last Name” এ আপনার নিজের নাম লিখতে হবে।

➄. তারপর টার্মস এন্ড কন্ডিশনের “I agree” সাথে চেক-মার্ক/টিক চিহ্ন দিয়ে “APPLY NOW” ক্লিক করতে হবে।

➅. “APPLY NOW” এ ক্লিক করার পরেই আপনার চ্যানেলের ইমেইলটির “Promotions” অপশনটিতে প্রথমবারে মত একটি সাধারণ মেইল আসবে। যা আপনারা চেক করে নিবেন।

➆. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে “CREATOR MCN” চ্যানেল অনুমোদন দেয়ার নির্দেশিকা অনুযায়ী অ্যাপ্লাইকৃত চ্যানেলটি তদারক করে দ্বিতীয়বার ইউটিউব একটি ইনভাইটেশন ইমেইল আপনার ইমেলের “Social” অপশনটিতে পাঠাবে।
ইনভাইটেশন ইমেইল-টির “Learn More” লিখাটিতে ক্লিক করতে হবে। এতে রি-ডিরেক্ট হয়ে ইউটিউব ড্যাশবোর্ডে চলে আসবে। তারপর সবগুলো টার্ম’স এন্ড কন্ডিশনে চেক মার্ক দিয়ে “Join Now” বাঁটনে ক্লিক করতে হবে।
অথবা কেউ যদি এই নিয়মটি না বুঝেন তাহলে দ্বিতীয়বার ইউটিউব ইনভাইটেশন ইমেইল পাঠানোর ঠিক ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টার পরে “CREATOR MCN Support” কর্তৃক তৃতীয়বারের মত একটি ইমেইল “Primary” অপশনে পাঠাবে। যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে স্টেপ বাই স্টেপ ইমেজ আকারে নির্দেশনা দিয়ে দিবে। সেই ইমেইলটির নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যানেলের ইউটিউব ড্যাশবোর্ড থেকেও একই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন।

➇. ইমেইলে আসা ধারাবাহিক নির্দেশনা অনুযায়ী ইউটিউব ড্যাশবোর্ড থেকে কনফার্ম করার পর “CREATOR MCN” অটোম্যাটিকভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তৃতীয়বারের মত একটি ইমেইল পাঠাবে। ইমেইলটি ওপেন করে চেক করে নিবেন।

➈. উক্ত ইমেইলটির “LOG INTO YOUR DASHBOARD” অপশনটিতে ক্লিক করার পর নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পাসওয়ার্ড দিবেন। (মূলত পাসওয়ার্ডটি হল “CREATOR MCN” এর ড্যাশবোর্ডে লগইন করার পাসওয়ার্ড)।

➉. আপনি পাসওয়ার্ডটি দিয়ে “CREATOR MCN” ওয়েবসাইটের লগইন অংশে ক্লিক করে আপনার চ্যানেলের ইমেইল দিয়ে ড্যাশবোর্ডে এ প্রবেশ করতে পারবেন।

➀➀. ড্যাশবোর্ড পাওয়ার সাথে সাথে চ্যানেলের সকল রিপোর্ট দেখতে পারবে কিন্তু ৭২ ঘণ্টা বা তার অধিক সময় পর চ্যানেলের আরনিং রিপোর্টগুলো প্রদর্শিত হবে।

➀➁. ড্যাশবোর্ড পেয়ে গেলে অবশ্যই সেটিংস্‌ অপশন থেকে “পেমেন্টস” ক্লিক করে আপনার ৭ টি মেথডের সুবিধাজনক মেথডটি টাকা উত্তোলনের জন্য সিলেক্ট করে আপনার যাবতীয় ইনফরমেশনগুলো পূরণ করে দিবেন।মনে রাখবেন,যাবতীয় ইনফরমেশন সঠিক ও নির্ভুলভাবে প্রদান করে বেশ কয়েকবার চেক করে নিয়ে “সেভ” করে দিবেন।

তাহলে আর দেরি না করে এখনই আপনার চ্যানেলটি “CREATOR MCN”- এর সাথে সংযুক্ত করে আপনার অ্যাডসেন্স ইনকাম কয়েক গুনে বাড়িয়ে নিন।

❃❃ মনে রাখবেন, উপরোক্ত সকল কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার পরে অবশ্যই অবশ্যই ইউটিউব চ্যানেলের ভিতর থেকে প্রত্যেকটা ভিডিও আবার নতুন করে মনিটাইজ করতে হবে। ভিডিও এর “মনিটাইজ”- অপশনে ক্লিক করে “Usage Policy” অংশের “Monitize in all country” সিলেক্ট করে “Non-skippable video ads” and “Long non-skippable video ads” ফরম্যাট গুলো চেক মার্ক করে “Save Changes” বাঁটনে ক্লিক করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলে নতুন করে ইউটিউব ড্যাশবোর্ডে আরনিং প্রদর্শিত হবে। ❃❃

Thursday, October 27, 2016

স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-দুই

0 comments

{ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছি। ক্রিয়েটিভ রাইটিং কোর্স এ আসলে লেখালেখির সবকিছু সম্পর্কেই ধারনা দেয়া হয়। সেটা হতে পারে ছোটগল্প, বা উপন্যাস কিবা নিছক ফিচার কিবা স্ক্রীপ্ট রাইটিং। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি লেখালেখির গুন আসলে ট্রেনিং এর মাধ্যমে পাওয়া যায় না। কিন্তু তবুও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর কোন কোর্স এ অংশ নিলে যেটা হয় তা হলে লেখালেখিটা এসাইনমেন্ট হিসেবে করতে হয় এবং তাতে করে অনেক উপকার হয়। আর যে লেখাগুলোতে কিছুটা কাঠামোগত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন যেমন স্ক্রীপ্ট রাইটিং, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ট্রেনিং কোর্স বা গাইড আর্টিকেল কিছুটা কাজে লাগে। 

আমাদের দেশে তো এখন মনে হয় ছোটগল্প বা উপন্যাস লেখার চেয়ে নাটক লেখার দিকে লিখিয়েদের ঝোক বেশী থাকার কথা। কেননা সেইটার বাজারই ভাল। 


ফরম্যাট এবং হেডিং:

যেকোন একটা স্ক্রীপ্ট, ধরা যাক একটি টেলিফিল্মের স্ক্রীপ্ট যখন আমরা লিখব তখন আসলে আমাদের উদ্দেশ্য কি থাকবে? অবশ্যই যাকে তা পড়তে দেব যাতে তার পছন্দ হয় সেদিকেই আমাদের নজর থাকবে। সেই জন্যে স্ক্রীপ্টটি যাতে সত্যিকার স্ক্রীপ্টের বেসিক ফরম্যাটে যায় সেই ব্যাপারে আমাদের নজর দিতে হবে প্রথমে। তা না হলে স্ক্রীপ্ট পড়তে পাঠক উতসাহ হারাবে, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জন্ম নেবে এবং স্ক্রীপ্টটি আস্তাকুড়ে চলে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে যদিও বা তার্ মান খুব ভাল হউক। আবার আপনি যদি ফরমায়েসী স্ক্রীপ্ট রাইটারও বা হোন, মানে, আপনি যদি কোন একজন ডিরেক্টররের জন্য স্কীপ্ট লিখেন যিনি কিনা আপনি যাই লিখুন না কেন তাই নিয়ে ফিল্ম বানাবেন, তবুও ডিরেক্টররের নূন্যতম চাহিদা পুরনের জন্যেও আপনার স্ক্রীপ্টটিকে হতে হবে নিয়ম অনুযায়ী। 
অন্যান্য যেকোন লেখার মতই স্ক্রীপ্টকে হতে হবে টাইপড। হাতের লেখা নয়। হাতের লেখা পড়া একটা ঝামেলা ও ঝক্কি। 
এ ফোর সাইজের পৃষ্ঠায় বাম পাশে নুণ্যতম এক ইঞ্চি মার্জিন রেখে স্ক্রীপ্ট টাইপ করতে হবে। সম্পাদনার স্বার্থে কাগজের দুই পাশেই মার্জিন রাখলে আরও ভাল। টাইপ করার সময় নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টের ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে ১২ পয়েন্টের ফন্ট ব্যবহার। এটিই স্ট্যান্ডার্ড। এটি খুব ছোটও নয় খুব বড়ও নয় তাই সহজে পড়া যায়। 
এবং একই ফন্ট ব্যবহার করলে দৃশ্য সম্পর্কেও ধারনা করা যায়। প্রতিটা পেইজে ঠিক কত সময় দৃশ্যায়ন সময়। তাতে করে পেইজ গুনে দৈর্ঘ্য সম্পর্কে একটা অনুমেয় ধারনা করা যায়। 

স্ক্রীপ্ট ফরম্যাট কি? 

স্ক্রীপ্ট এর ফরম্যাট আহামরি কিছু নয়। স্ক্রীপ্ট ডায়লগ নির্ভর, কে কোন ডায়লগ বলছে সেটি নির্দিষ্ট করে দিতে হয়, চাহিদা অনুযায়ী দৃশ্যটি কোথায় কিভাবে হচ্ছে সেটি সংক্ষেপে বলে দিতে হয়, যদি নির্দিষ্ট কোন সাউন্ডের ব্যবহার করতে হয় তা বলে দিতে হয়, নির্দিষ্ট কোন ক্যামেরা এঙ্গেল যদি চান তাহলে তা বলে দিতে হয়। 
একটি দৃশ্যের প্রথমেই যা বলে দিতে হয় তা হচ্ছে দৃশ্যটি কোথায়, কথন কিভাবে ঘটছে। যাকে বলা যায় হেডিং। 
তারমানে হচ্ছে দৃশ্যটি ঠিক কোন জায়গায় হচ্ছে ইনডোরে নাকি আউটডোরে, কোন বাসায় নাকি মার্কেটে নাকি পার্কে। কখন হচ্ছে দিনে নাকি রাতে, পাত্রপাত্রী কি অবস্থায় আছে। তার পর চরিত্রগুলোর ডায়লগ বলে দেয়া যায়। একটি উদাহরন দেখুন টাইটানিক মুভি থেকে 

23 INT. ROSE'S STATEROOM / KELDYSH - DAY 

Lizzy is unpacking Rose's things in the small utilitarian room. Rose is 
placing a number of FRAMED PHOTOS on the bureau, arranging them carefully 
next to the fishbowl. Brock and Bodine are in the doorway. 
LOVETT 
Is your stateroom alright? 
ROSE 
Yes. Very nice. Have you met my granddaughter, Lizzy? She takes care of me. 
LIZZY 
Yes. We met just a few minutes ago, grandma. Remember, up on deck? 
ROSE 
Oh, yes. 

Brock glances at Bodine... oh oh. Bodine rolls his eyes. Rose finishes 
arranging her photographs. We get a general glimpse of them: the usual 
snapshots... children and grandchildren, her late husband. 

ROSE 
There, that's nice. I have to have my pictures when I travel. And Freddy of 
course. 
(to the Pomeranian) 
Isn't that right, sweetie. 
LOVETT 
Would you like anything? 
ROSE 
I should like to see my drawing. 
CUT TO: 

উপরের স্ক্রীপ্টের অংশটি দেখে সহজেই বোঝায় যাচ্ছে কিভাবে হেডিং দিতে হবে। 
INT. ROSE'S STATEROOM / KELDYSH - DAY 
প্রথমেই আছে দৃশ্য নাম্বার ২৩। তারপর ইন্টেরিয়র, মানে ইনডোর, ছাদের নিচের দৃশ্য। রোজের স্টাটাররুম, সময় হচ্ছে দিন। 
এই হেডিং দেখেই ডিরেক্টর কিভাবে দৃশ্য চিত্রায়ন করবেন তার স্পষ্ঠ ধারনা পেয়ে যাচ্ছেন। 
তো বাইরে আউটডোরে কোন দৃশ্য হলেই তা এক্সটেরিয়র। 

এখন ধরা যাক দৃশ্যটি হচ্ছে রাস্তায় কোন গাড়ির ভেতরে তখন কি হবে? 
সেই ক্ষেত্রে দৃশ্যটি হবে ইন্টেরিয়র। 
আবার ক্যমেরার পয়েন্ট অভ ভিউ নির্ভর করে দৃশ্যের হেডিং আরও একটু জটিল হতে পারে। ধরা যাক বাড়ির ভেতরে পাত্রপাত্রী কথা বলার দৃশ্য বাড়ির বাইরের ক্যামেরা থেকে ধরা হবে সেক্ষেত্রে এটি ইন্টেরিয়র/এক্সটেরিয়র দুইটাই। দুইটাই উল্লেখ করতে হবে। 

সময় দেখিয়ে দেবার ক্ষেত্রে দিন বা রাতই সাধারনত উল্লেখ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন পড়লে আরও ডিটেইল দেয়া যায়, যেমন ভোর, বিকেল, সন্ধা ইত্যাদি। 


ক্যামেরা ডিরেকশন :

স্ক্রীপ্টে প্রয়োজন পড়লে কিছু টেকনিকাল ডিরেকশন দিতে হয়। যদিও এর ব্যবহার খুবই সীমিত। কেননা সবসময় মনে রাখতে হবে যে আপনি একজন স্ক্রীপ্ট রাইটার, ডিরেক্টর নন। তবুও কিছু ক্ষেত্রে স্ক্রীপ্টেও কিছু নির্দেশনা দেবার প্রয়োজন পড়ে। 
সাধারনত যেসব টেকনিকাল ডিরেকশন স্ক্রীপ্টে আসে সেগুলো হচ্ছে- 

ভি.ও বা ভয়েসওভার: সৃত্রধর বা এই জাতীয়। পর্দায় কিছু দেখানো হচ্ছে আর একটি কন্ঠ এর বর্ননা দিচ্ছে এমন। 

ও.এস বা অফস্ক্রীন: একটি দৃশ্যে একজনের কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু দৃশ্যের অন্য চরিত্ররা তার কথা শুনছে। 

পি.ও.ভি. বা পয়েন্ট অফ ভিউ : ক্যামেরা একটি চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখছে। ধরা যাক একটি দৃশ্যে দুই জন কথা বলছে আরেকজন লুকিয়ে তা দেখছে, এটি তার চোখ দিয়ে দেখানো, এরকম হলে সেটি পিওবি দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। 

এম.ও.এস বা উইথআউট সাউন্ড : দৃশ্যে চরিত্রগুলো কথা বলছে, তাদের ঠোট নড়ছে কিন্তু দর্শক কিছু শুনতে পাবে না। 


নানা রকম ক্যামেরা শট :

স্ক্রীপ্টে ক্যামরা এঙ্গেল বিষয়ে বলে দেয়াটা খুব ভাল চোখে দেখা হয় না। বলে দেয়া উচিত ও না। এটি ডিরেক্টরের বিষয়। তবু এটি জেনে রাখা ভাল। কেননা স্ক্রীপ্টরাইটারের সেক্ষেত্রে কল্পনা করতে সহজ হয়। কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্র অবশ্য ক্যামেরা শট স্ক্রীপ্টে বলে দেয়া যায়। তবে খুবই সীমিত সেক্ষেত্রে। 

কিছু কিছু ক্যামেরা শট হল - 

লঙ শট ( এল এস) : ক্যামেরা দুর থেকে ধরা হয়। 

মিডিয়াম শট ( মিডশট বা এমএস) : সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত শট। দৃশ্যে দুই তিনজন কথা বলছে এটি নির্দিষ্ট দুরত্ব থেকে ধরা হচ্ছে যাতে সবাইকে দেখা যাবে। 

ক্লোজশট (সিএস) : কাছ থেকে নেয়া। 

ক্লোজআপ শট ( সি/ইউ) : চরিত্রের মুখ কাছ থেকে ধরা। 

এছাড়াও আছে টাইট সি/ইউ বা চরিত্রের কান নাক গলা বা চোখ ধরা। 
টু শট মানে দুইটা চরিত্রের এমএস, থ্রি শট মানে তিনটা চরিত্রের এমএস। 


এইতো গেল নানা রকমের শট। মনে রাখতে হবে, কিভাবে শট নেয়া হবে তা দেখিয়ে দেয়া আপনার কাজ না। স্ক্রীপ্ট রাইটারের দায়িত্ব কাহিনী সাজানো চরিত্র নির্মান, ডায়লগ তৈরি। ক্যামেরার কাজ ডিরেক্টরের। 
তাই সেসব ক্ষেত্রে একান্তই ক্যামেরার কাজ বলে দেয়া দরকার। যেমন আপনি বলতে চান দুর থেকে দেখা যাচ্ছে অমুক আসছে। তাহলে লঙ শট উল্লেক না করে একদম সরাসরি বলতে পারেন দুর থেকে দেখা যাচ্ছে। তাতে ডিরেক্টরের সাথে ইগোর দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম


রন্টি চৌধুরী

স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-এক

0 comments

ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছি। ক্রিয়েটিভ রাইটিং কোর্স এ আসলে লেখালেখির সবকিছু সম্পর্কেই ধারনা দেয়া হয়। সেটা হতে পারে ছোটগল্প, বা উপন্যাস কিবা নিছক ফিচার কিবা স্ক্রীপ্ট রাইটিং। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি লেখালেখির গুন আসলে ট্রেনিং এর মাধ্যমে পাওয়া যায় না। কিন্তু তবুও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর কোন কোর্স এ অংশ নিলে যেটা হয় তা হলে লেখালেখিটা এসাইনমেন্ট হিসেবে করতে হয় এবং তাতে করে অনেক উপকার হয়। আর যে লেখাগুলোতে কিছুটা কাঠামোগত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন যেমন স্ক্রীপ্ট রাইটিং, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ট্রেনিং কোর্স বা গাইড আর্টিকেল কিছুটা কাজে লাগে। 
আমাদের দেশে তো এখন মনে হয় ছোটগল্প বা উপন্যাস লেখার চেয়ে নাটক লেখার দিকে লিখিয়েদের ঝোক বেশী থাকার কথা। কেননা সেইটার বাজারই ভাল। 
যাহোক, আমার পড়াশোনা বিষয়ের মাঝে ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিশেষ করে স্ক্রীন রাইটিং (স্ক্রীপ্ট রাইটিং) টা বেশ গুরুত্বপুর্ন। আমারও ওইটার উপরে বিশেষ আগ্রহ, তাই নিয়মিত সিলেবাসের বাইরে আলাদা করে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এ নজর দিয়েছি। ব্লগে চেষ্টা করব সেই সম্পর্কে কিছু লিখতে, গুছিয়ে যদি লিখতে পারি তাতে আমার নিজেরও সুবিধে, একসাথে পুরো ব্যাপারটা চোখের সামনে পাওয়া যাবে। 

(আমি নিজে কোন জাতের লেখক নই, শুধু যা পড়েছি বা শিখেছি তা কপি পেষ্ট করব। দয়াকরে ভূল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি নিয়ে দেখবেন আশা করি।)

তো, নিচে যে লেখাটি শুরু হচ্ছে সেটি প্রধানত স্ক্রীপ্ট রাইটিং নিয়ে, কিন্তু তাতে গল্প বা উপন্যাসের ব্যাপারেও ধারনা পাবার কথা। লেখাটি প্রধানত ইউকে বা ইউএসএ'র টেলিভিশন বা ফিল্ম স্ক্রীপ্টিং এর উপরে বেইজড করে তৈরি তাই উদাহরন ও সেই প্রেক্ষাপটেই হবে, তবে আমাদের দেশের টেলিভিশন বা ফিল্মের সাথে খুব বেশী তফাত থাকার কথা না। 

শুরু করা যাক তাহলে। 

কোন স্ক্রীনপ্লে লেখার আগে যা প্রথমেই মনে রাখা উচিত :

ডিরেক্টর, প্রডিউসার বা প্রডাকশন হাউজের কাছে স্ক্রীপ্ট দেবার আগে কয়েকটা কথা ভেবে নেয়া দরকার। নামী প্রডাকশন হাউজ সাধারন নামী স্ক্রীপ্ট রাইটারদের স্ক্রীপ্ট নিয়েই কাজ করেন, তারা নতুনদের নিয়ে কোন ঝুকিতে সচরাচর যেতে চান না। তাই নতুনদের সুযোগ পেতে হলে অনেক বেশী ভাল হতে হয়। কেননা পান থেকে চুল খসা ধরনের দুর্বলতা পেলেই বেশীরভাগ স্ক্রীপ্ট ডাস্টবিনে চলে যায়। কথাগুলো খারাপ শোনালেও সত্য হলিউডে বিভিন্ন ডিরেক্টর, প্রডাকশন হাউজে বা ইউকের টেলিভিশন বা ইউএসএ'র টেলিপ্লে'র জন্য জমা দেয়া নতুনদের স্ক্রীপ্টের মাধে ৯০ ভাগই অখ্যাদ্য হিসেবে গন্য করা হয় না পড়েই। শতকরা মোটে টেনেটুনে ১০ ভাগ স্ক্রীপ্ট শেষপর্যন্ত পড়া হয়, তাদের থেকে ২ ভাগের লেখককে কথা বলার জন্য ডাকা হয়, তার থেকে ১ ভাগকে নিয়ে ফিল্ম বানানো হয়। স্ক্রীপ্ট লেখার সময় আমাদের লক্ষ্য থাকা উচিত সেই ২ শতাংশের মধ্যে পড়া। আর সে জন্যে যেটা নিশ্চিত করা দরকার যাতে আমাদের স্ক্রীপ্ট যথেষ্ট আঠসাঠ হয়। ঝুলে পড়া স্ক্রীপ্ট বা ছোট্ট কাহিনী অতি বিশাল করে বলা গল্প তেমন কারও নজর কারে না। আপনার স্ক্রীপ্টের সামারী পড়ে কাহিনী সম্পর্কে ধারনা নিয়ে যদি দেখা যায় আপনার স্ক্রীপ্ট ১২ ফন্টে ১৪০ পৃষ্ঠারও বেশী তাহলে সে স্ক্রীপ্টের স্থান হবে বিন, এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই স্ক্রীপ্ট লেখার সময় জানা থাকতে হবে কি লিখছি। নিয়ন্ত্রন থাকতে হবে। কাহিনী বিস্তারে স্যাকরিফাইস করা যাবে না আকার বাড়ানোর স্বার্থে। 
দ্যা নাইটমেয়ার বিফোর ক্রিসমাস , দ্যা সিক্রেট গার্ডেন , সিটি অফ এম্বার সহ বিখ্যাত কিছু মুভির স্ক্রীনপ্লে রাইটার ক্যারোলিন থমসন স্ক্রীপ্টকে সনেট কবিতার সাথে তুলনা করেন। তার মতে স্ক্রীপ্টেরও সনেটের মত নির্দিষ্ট সীমারেখা আর কাঠামো আছে যার বাইরে গেলে তা অসফল হবার সম্ভাবনাই বেশী। 

সেজন্যে এই জিনিসটা মাথায় রেখে স্ক্রীপ্ট লেখার কাজ শুরু করা উচিত। 
স্ক্রীপ্ট লেখা আর গল্প উপন্যাস লেখার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে, এই ব্যাপারটাও এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই। গল্প বা উপন্যাস লেখায় লেখক হন স্বাধীন, তিনি তার কল্পনার রঙ দিয়ে সবকিছু রাঙিয়ে দিতে পারেন। স্ক্রীনপ্লে'র ক্ষেত্রে সেটি একটি কমপ্লিট টিমওয়ার্ক। আপনাকে স্ক্রীপ্টের নমনীয়তার ব্যাপারে মাথায় রাখতে হবে। ডিরেক্টরের সাথে কথা বলে স্ক্রীপ্টে চাহিদা মত পরিবর্তনও আনতে হতে পারে তা মাথায় রাখতে বেহবে এবং স্ক্রীপ্ট লেখার সময় সে সুযোগ রাখতে হবে। যদিও স্ক্রীপ্ট লেখকের কিন্তু সেটা দিয়ে যা তৈরি হবে তা কিন্তু ডিরেক্টরের। তাই আসলে এটি একটি টিমওয়ার্ক। এই ব্যাপারটা লেখকদের জন্য বিরক্তিকর এবং অস্বস্তিকর। কিন্তু এটি এড়ানোর উপায় নেই। 

সঠিক দৃশ্য ও আকার একটা বড় ব্যাপার:

একটা নাটক বা ফিল্মে আসলে ঠিক কত সময়ের হয়? এক ঘন্টা বা দুই বা বড়জোর তিনঘন্টা? কিন্তু সেখানে যে কাহিনীটা দেখানো হয় সেটি কি সবসময় দুই ঘন্টার হয়? 
একটা ফিল্মে আপনি কাহিনী বলতে পারেন সাতদিন বা সাতমাসের, কিন্তু তা আপনাকে বলতে হবে দুই ঘন্টায়। সাতমাসের কাহিনী দুই ঘন্টায় দেখিয়ে ফেলা সহজ কাজ নয় নিশ্চই? এটা যে শুধু স্ক্রীপ্ট লেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাই নয় গল্প বা উপন্যাসের ক্ষেত্রেও। সবখানেই নির্বাচন করতে হয় যে কোন বিষয়টা বলা হবে, কি বলা হবে না, কিভাবে দৃশ্য সাজানো হবে। দৃশ্য সাজানোর মধ্যে কুশলতা দেখাত হবে। সফলতার সাথে দৃশ্য সাজাতে পারলে পারফেক্ট আকারের স্ক্রীপ্ট পাওয়া যায়। 

কিন্তু কিভাবে নির্বাচন করবেন আপনি কিভাবে একটি দৃশ্য সাজাবেন? 
ধরা যাক, আকবর নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার দোকানে দুপুরে বলল ক্ষুধার্ত এবং সে এখন সিঙ্গারা আর চা খেতে যাবে। এই দৃশ্যটি আসলে কেমন হতে পারে স্ক্রীপ্ট এ? 
১. দোকানের ভেতর, আকবর তার কর্মচারীকে বলল সে ক্ষুধার্ত তাই সিঙ্গারা, চা থেকে বাইরে যাচ্ছে। 
২. দোকানের ভেতর, আকবর চেয়ার থেকে উঠে দাড়াল এবং যাবার উপক্রম হল। 
৩. দোকানের বাইরে, আকবর দোকান ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে রাস্তা ক্রস করছে। 
৪. রেস্টুরেন্টের সামনে, আকবর রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে সিঙ্গারার তাক এর দিকে তাকাল 
৫. রেষ্টুরেন্ট এর ভেতর, আকবর একটি টেবিলের সামনে চেয়ারে বসল। 
৬. রেস্টুরেন্ট, আকবর ওয়েটারকে ডেকে সিঙ্গারা আর চা অর্ডার দিল। 
৭. রেস্টুরেন্ট, আকবর টেবিলের সামনে বসা, ওয়েটার সিঙ্গারা আর চা এনে রাখল। 
৮. রেস্টুরেন্ট, আকবর সামনে রাখা সিঙ্গারা মুখে দিল, তার মুখে পরিতৃপ্তির ছায়া 
৯. রেস্টুরেন্ট, আকবর খেতে খেতে পত্রিকা পড়ছে 
১০. রেস্টুরেন্ট, আকবর খেয়ে কাউন্টারে বিল পরিশোধ করছে। 

এখন আমাদের ভাবতে হবে আমরা দৃশ্যটিকে কিভাবে দেখাব। উপরের দশরকম থেকে একরকম হতে পারে, আবার এরচেয়েও ভাল করে ভিন্নরকম হতে পারে। আবার দৃশ্যটি রাখব কিনা, এটা ওত জরুরী কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে। 


লেখা শুরু করা কিন্তু অনেক কঠিন :

যারা জীবনে কিছু হলেও লেখালেখি করেছেন তারা নিশ্চই জানেন একটা লেখা শুরু করা কতটা কঠিন। আপনার মাথায় হয়ত পুরোটা কাহিনী এসে বসে আছে, অথচ প্রথম লাইনটা কলমের আগায় আসছেই না। এবং এতে করে দেখা যায়, সময় যায়, দিন মাস যায় ওটা আর লেখাই হয় না। 
আসলে লিখতে শুরু না করে লিখব, লিখব চিন্তা করে বা বলে বলে সময় কাটানো অনেক সহজ। লিখার উদ্দ্যেশ নিয়ে লেখার খাতা বা ল্যাপটপ সামনে নিয়েও লিখা না শুরু করার হাজারটা কারন আছে, যেমন এক কাপ চা খেয়ে লিখি, ব্লগে একটু ঢু মেরে দেখি কি চলছে তারপর মন ফ্রেস করে লিখব, ফেইসবুকে একটু দেখি কোন নোটিফিকেশন আসল কিনা, ভাল একটু মুভি ডাউনলোড করা আছে ওটার কিছুটা অংশ দেখে নেই অন্তত, খেলার খবরটা অন্তত দেখে নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কোনটাই খারাপ কিছু না, কিন্তু তাতে করে অন্তত লেখাটা হবে না। তাই এই কথাটা মনে রাখতে হবে 
WRITE/ Or Be Written Off
এটা ছাড়া উপায় নেই। ঠাটবাটে চলার জন্যে মাসলম্যান হতে গেলে যেমন প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা হলেও ব্যায়াম করতে হয়, কটা বুকডন দিতে হয়, পুশব্যাক, পুশআপ করতে হয়, লেখালেখির ব্যাপারটাকেও তেমনি ভাবতে হবে। শরীরকে সুন্দর শেপে নিয়ে আসার জন্যে যেমন দরকার নিয়মিত ব্যায়াম, দশপনের দিন পর পর একবার নয়, তেমনি লেখাকে সাবলীল করতেও দরকার নিয়মিত লেখা, তা সে যত ছাইপাশই হোক। 

প্রতিদিন অন্তত পাচশ শব্দও লিখতে চেষ্টা করতে হবে। সেগুলো হতে পারে অখাদ্য কুখাদ্য। লিখলেই যে সব নোবেল প্রাইজ উইনিং বা অস্কার উইনিং লেখা আসবে সে চিন্তা বাদ দিতে হবে। লিখতে হবে অবিরত। কোন কাহিনী মাথায় না থাকলে যা খুশি লিখা যেতে পারে, পাশের বাসার মেয়েটা সম্পর্কে, শহরের নতুন শপিং মলটা নিয়ে কিবা মাথার উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানটা নিয়েও। রাবিশ লিখতে লিখতে একসময় লেখার হাত ভাল হয়ে যাবে। তৈরি হবে নিজস্ব সতন্ত্রতা। এসময়ে পড়তেও হবে অনেকের লেখা। লিখার সময় হয়ত তাদের ছাপ আসবে, কিন্তু তাতে কোন চিন্তা নেই, লিখতে লিখতে একসময় নিজস্বতা আসবেই।  

মোটকথা প্রতিদিন নিয়ম করে লিখতে হবে। এবং সেটা যেমন মানেরই হোক। কথা হচ্ছে 
Don't Get it Right - Get it Written


স্ক্রীপ্ট লিখার সময় দৃশ্যকে তুলে আনতে হবে। তাই একজন লেখকে সবসময় সাধারন মানুষের চেয়ে অন্যরকম ভাবে দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করতে হবে। যখন চলাফেরা করবেন তখন আশপাশ দেখবেন সেগুলোকে চিত্রায়ন করলে কিভাবে করা হবে, কিভাবে বর্ননা করা হবে, স্ক্রীপ্ট কিভাবে লিখা হবে। তাই চিন্তা করুন সবসময় একটি ভিডিও ক্যামেরার মত। যখন কাহিনী বা দৃশ্য নিয়ে ভাববেন তখন ক্যামেরা মত চিন্তা করবেন এবং সেটাকে কাগজে তুলে আনবেন। এবং সেটা এমন ভাবে আনতে হবে যাতে কেউ পড়লে যন্ত্রনা না হয়ে সহজে ওই দৃশ্যগুলো রিডারের চোখে ভাসে। মনে রাখতে হবে আপনার স্ক্রীপ্টে ফিল্ম বা নাটক তৈরি হয়ে দর্শক দেখার আগেই কিন্তু এটি পরিচালক বা প্রযোজক পড়বেন, তাই স্ক্রীপ্টরিডার, সে যেই হোক আপনার স্ক্রীপ্ট তার মনে ইমেইজ তৈরি করতে পারছে কিনা সেটা জরুরী। সেটা যত সহজ হবে, স্ক্রীপ্টকে ফিল্মিং করাও ততই সহজ হবে। 



রন্টি চৌধুরী

শর্ট ফিল্মের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখবেন কিভাবে

0 comments
আমি যখন লিখি তখন মনে করি আমি কারও সাথে কথা বলছি বা কারও প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিআমার লেখায় অনেক সময়ই দুষ্টুমির রেশ থাকে যেটা একটা সিরিয়াস লেখায় থাকা উচিত নয়কিন্তু আমার লেখায় ঠিক তেমনটি উঠে আসে, যেমনটি আমি বাস্তবে

আমি নিজে কোন ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটার নইআমার নিজের লেখা স্ক্রিপ্ট আমার পছন্দ হয়নানিয়ম কানুন জানলেও লিখার সময় মনে থাকেনাদেশে অনেক স্ক্রিপ্ট রাইটার আছে যারা বেশ ভালো স্ক্রিপ্ট লিখেকিন্তু তাদের কাছ থেকে আমরা যখন কোন টিপস বা লেখা পাইনা, তখন আমাদের হাতে সম্বল থাকে শুধুই গুগলআমরা অনলাইনে দেখি যে হাজার হাজার লিঙ্কে হাজার পোস্টসবাই সবাইকে হেল্প করছেকিন্তু আমাদের দেশের বোকচো* ফিল্মমেকার রা নিজেদের ভাত মরে যাওয়ার ভয়ে দু'তিনটে লাইন লিখে আমাদের মত উঠতি ফিল্মমেকার দের কোন সাহায্য করেনাকিছু আবাল আবার বলে যে তথাকথিত ছবির হাট বা আজীজ সুপার মার্কেটে গিয়ে আড্ডা মারতেঅইখানে গিয়ে আড্ডা না মারলে নাকি ফিল্মমেকার হওয়া যাবেনাওরে পাপীষ্ট, সিনেমা বানাইতে হইলে কি আমারে গঞ্জিকা সেবন করতে হবে নাকি রে!! গাঞ্জা খাইলেই যদি বড় কিছু হওয়া যাইতো তাইলে গাঞ্জা খাওয়া বৈধ হইয়া যাইতো কবেইবারাক ওবামাও টেলিভেশনে বক্তৃতা দেয়ার সময় কাগজের ভিতর ঠেসে ঠেসে পুরিয়া ভরতোযত্তসব!!!

যাইহোক, এখন রাগের সময় নাপড়ালেখার সময়কাউরে যখন তেমন ভাবে পাইলাম না তখন মনে হইলো আমি একটু ঘাটাঘাটি করে কাট-কপি-পেস্ট করে সোজা বাংলায় কিছু লিখে দেইনিজেরো নাম হইলো, দশেরো উপকারে আসলোআমরা এই পর্বে আলোচনা করবো স্ক্রিপ্ট রাইটিং কি, স্ক্রিপ্ট লিখতে গেলে কি কি লাগে এবং একটা ভালো স্ক্রিপ্ট এ কি কি থাকা প্রয়োজন


=> প্রথমেই হালকা ভাবে জেনে নেই স্ক্রিপ্ট জিনিসটা কিআর স্ক্রিপ্ট রাইটিং কিভাবে একটি ভালো সিনেমা নির্মানে সাহায্য করে থাকে

সিনেমায় স্ক্রিপ্ট হলো একটি খাঁচাএমন একটি খাঁচা যেটায় বলার চেয়ে দেখানর ব্যাপারটা বেশী থাকবেএমন একটি খাঁচা যেখানে সবই থাকবে কিন্তু শর্ট-হ্যান্ড এর মত করেএমন একটি খাঁচা যেটা আপনার পুরো সিনেমাকে একজনের চোখের সামনে দৃশ্যের পর দৃশ্য দেখতে সাহায্য করবে

মনে রাখবেন, আপনার স্ক্রিপ্ট হলো আপনার সিনেমার ৫০%, স্ক্রিপ্ট অসাধারন তো আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে গেলোএমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আপনাকে আপনার সিনেমাটোগ্রাফার বা এডিটর কে বলতেও হবো না কি করা লাগবেআপনি যদি শুধুই স্ক্রিপ্ট রাইটার হোন, তাহলে আপনার ডিরেক্টর আপনার স্ক্রিপ্ট পরেই ধরে ফেলতে পারবে আপনার গল্পএবং অবশ্যই একটি ভালো স্ক্রিপ্ট কে কখনোই মনে হবেনা overwrittenবেশী বেশী সব কিছুই খারাপআপনার স্ক্রিপ্ট এ প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ডায়ালগ বা বর্ননা থাকলেও খারাপ

অনেকে স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে শুধু মাত্র গল্প লিখে বসে থাকেনএটা হয় কারন তারা হয় কখনো স্ক্রিপ্ট লিখেননি বা তারা স্ক্রিপ্ট লিখার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননিধরুন, আপনাকে একটা বাড়ি বানাতে দেয়া হলোআপনি মাথার মধ্যে বাড়ির ডিজাইন করে স্পটে থেকে সবাইকে বলে দিচ্ছে কি করতে হবেকেউ কোথাও কোন মিস্টেক করলে আপনাকে দৌড়ে যেতে হচ্ছেবা, কেউ তার টাস্ক শেষ করে কি করবে বুঝতে পারছেনাবা, কোথাও কোন ছোটখাটো প্রব্লেম হলো, সেখানেও আপনাকে দৌড়ে যেতে হচ্ছেআলটিমেটলি, আপনার বাড়ি হয়তো সম্পন্ন হবেআপনার অমানুষিক পরিশ্রমে বাড়ির কাজটাও হয়তো ভালো হবেকিন্তু আপনি কয়টা বাড়ি বানাতে পারবেন এভাবে? আর কয়টা বাড়িই বা ভালো হবে?

অথচ, আপনার হাতে যদি বাড়ির একটা ব্লু প্রিন্ট থাকতো যেটা আপনি এক মাস কষ্ট করে বাসায় বসে বসে বানিয়েছেন, তাহলে আপনার অনেক কষ্ট কমে যেতোআপনার ইঞ্জিনিয়ার বা শ্রমিকরা নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করে দিতোতারা জানতো তাদের টাস্ক কিছোটখাটো সমস্যায় পড়লে তারা নিজেরাই সেগুলোর সমধান করতোচিন্তা করে দেখুন, মাইক্রসফট এর যাবতীয় সকল সমস্যার সমাধান যদি বিল গেটস কে দিতে হতো তাহলে কি হতো?

স্ক্রিপ্ট হলো আপনার সিনেমার ব্লু প্রিন্টআপনার ব্লু প্রিন্ট যত ভালো হবে, আপনার সিনেমাও তত ভালো হবেএটা সেমি-গ্যারান্টেড - কারন একটা সিনেমায় স্ক্রিপ্ট ই সব নয়, অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে


=>স্ক্রিপ্ট লিখতে গেলে কি কি লাগে?

স্ক্রিপ্ট লিখতে গেলে আসলে প্রথমেই লাগে একটা ভালো গল্পতবে, সব সময় যে ভালো গল্প হতেই হবে এমন কোন কথা নেইঅনেক সিনেমার মুল গল্প টা অত আহামরি না হলেও শুধুমাত্র অভিনয় বা গল্পকারের বলার ঢঙ্গের কারনে অসাধারন হয়ে গিয়েছেকিন্তু, আপনার গল্প ছাড়াও যেটা লাগবে সেটা হলো দিস্তা দিস্তা কাগজ আর চালু কলম

দিস্তা দিস্তা কাগজ হয়তো আপনার খরচ হবেনা যদি আপনি পিসি তে লিখে থাকেনপিসিতে অবশ্য আপনি ফাইনাল স্ক্রিপ্ট টা লিখতেই পারেন, কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, প্রাথমিক অবস্থায় খাতা-কলম এই ডিজিটাল যুগেও আপনার ব্রেইন স্টর্মিং এ সাহায্য করে থাকে প্রবল ভাবে যেটা পিসির সামনে বসে সম্ভব নয়ফাইন্যালি যেটা লাগে সেটা হলো 'চিন্তা'


=> একটা ভালো স্ক্রিপ্ট এ কি কি থাকা প্রয়োজন?


সহজ ভাষায় বলতে গেলে নিচের পয়েন্ট গুলো থাকা প্রয়োজন

ক) স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট - যেনো আপনার লেখা যে কেউ পড়ে বুঝতে পারে

খ) ক্যাচি ডায়ালগ - ভালো একটা স্ক্রিপ্টে ডায়ালগ খুব ইম্পরট্যান্ট একটা বিষয়ডায়ালগ ভালো না হলে স্ক্রিপ্ট মার খেয়ে যায়এই জন্য চালাক স্ক্রিপ্ট রাইটার রা ডায়ালগ কম রাখার চেষ্টা করে কারন মোশন পিকচার দেখানোর মাধ্যম, বলার নয়

গ) দুর্দান্ত শুরু - শুরুটা যেনো দুর্দান্ত হয়শুরু যদি খুব পানসে হয় তাহলে ধরে নিবেন আপনার সিনেমা অনেকেই স্কিপ করে চলে যাবেআর যদি এই দুর্দান্ত টা পুর সিনেমা জুরে ধরে রাখতে পারেন তাহলে আপনাকে আর পায় কে!

ঘ) অসাধারন ফিনিশিং - শেষ ভালো যার সব ভালো তার (পুরোনো প্রবাদ)-- ফিনিশিং যদি সাদামাটা হয় তাহলে আপনার সিনেমা কেউ মনেও রাখবেনাঅসাধারণ ফিনিশিং কয়েকভাবে দেয়া যায় - অবিশ্বাস্য কোন টুইস্ট, যেটা দেখে মানুষ এর ধারনাই পালটে যাবেঅথবা, ইমোশন্যাল অ্যাটাক যেটা দেখে দর্শকের মনে হবে 'আহারে', অথবা কোন গুরুত্বপুর্ন মেসেজ

ঙ) গ্রেট ক্যারেক্টার - কিছু গ্রেট ক্যারেক্টারের জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুনএকজন গ্রেট নায়ক বা নায়িকা আমাদের সিনেমার সাথে যেমন মানুষিক ভাবে জড়িয়ে ফেলে, তেমনি আমাদের কে প্যাশনেট করে তোলেআবার একজন গ্রেট ভিলেইন কে দেখে আমাদের মনে হয় লাফ দিয়ে উঠে স্ক্রিন এর ভেতর দিয়েই হারামজাদার গলা চেপে ধরি

চ) ইমোশন ইমোশন ইমোশন - এর উপরে কিছু নাইপারলে দর্শকদের কাঁদানঅথবা, পারলে তাদের হাসানপারলে রাগান্বিত, পারলে তাদের মন ভালো করে দিন - এসব কাজই মেলা কষ্টের

ছ) অল্প ভাষায় বর্ননা - অনেকেই স্ক্রিপ্ট লিখতে বসে মেলা বর্ননা দেনমনে রাখবেন, যত বেশী বর্নন তত বেশী ঝামেলাআর আপনাকে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে সব কিছু বলে দিতে হবেনাগল্পটা ধরতে পারলে ডিরেক্টর নিজেই বর্ননা বর্নিয়ে নিবেআর আপনি নিজেও যদি আপনার স্ক্রিপ্টে ডিরেকশন দেন তাহলে আপনার বর্ননা করার জন্য শুটিং স্ক্রিপ্ট তো রইলোই

আসুন খুব দ্রুত ফরম্যাট নিয়ে কিছু কথা বলে নেইফরম্যাট হলো এমন একটা জিনিস যেটা স্ট্যান্ডার্ড রাখলে সবার বুঝতে সুবিধা হবেকিন্তু তার মানে এই না যে আপনাকে সব নিয়ম কানুন মানতেই হবেকিন্তু কিছু নিয়ম মানাটা জরুরীকোনটা কেনো জরুরী সেটা সিরিজের শেষেই বুঝতে পারবেন

আমি সহজ সাবলীল ভাষায় ফরমেশন টা বর্ননা করার পাশাপাশি কিছু স্ক্রিপ্ট এর স্ক্রিনশট দিয়ে বুঝিয়ে দিবোকিন্তু, মনে রাখা জরুরী যে আমি কোন বই লেখক ও নই আর বই থেকে কপি পেস্ট ও করতেছিনাতাই হয়তো কিছু কিছু ব্যাপার মিস হয়ে যাবেআমার পোস্ট কে কুরআ'ন বা বাইবেল না ধরে নেট খুজে খুজে আরও একটু পড়াশুনা করা উচিত হবে আপনাদের

যাইহোক, স্ক্রিপ্ট আসলে দুই রকম হয় সাধারনতএক, সাবমিশন স্ক্রিপ্ট- যেটা বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃতদুই, শুটিং স্ক্রিপ্ট - যেটা শুটিং এর জন্য প্রস্তুতকৃতএই দুটোর পার্থক্য হলো - সাবমিশন স্ক্রিপ্ট লিখা হয় কোন স্টুডিও তে সাবমিশন ও পরবর্তীতে বিক্রীর ধান্দায়অথবা, আপনি হয়তো কোন ডিরেক্টর কে দিলেন যেন সে ওই স্ক্রিপ্ট টাকে শুট করেআর শুটিং স্ক্রিপ্ট হলো শুটিং যে স্ক্রিপ্ট এর উপর বেইজড করে করা হয়সেটা অনেক সময় শুধু ডিরেক্টর এর কাছেই থাকেশুটিং সাবমিশন স্ক্রিপ্ট থেকে শুটিং স্ক্রিপ্ট এ যাওয়ার পথে সাধারনত স্ক্রিপ্ট টাকে আরো কয়েকবার লিখা হয়আমরা এখন কিভাবে সাবমিশন স্ক্রিপ্ট লিখা উচিত সে ব্যাপারেই ধারনা নিবো

তার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নেই কিছু স্ক্রিপ্ট এর উপরফরেস্ট গাম্প সিনেমাটার শেষ দৃশ্যের কথা মনে আছে? সে যে ফরেস্ট গাম্প তার ছেলে জুনিয়র কে স্কুল বাসে তুলে দেয় যেভাবে তার মা তাকে বাসে তুলে দিত?
অথবা টাইটানিক ছবির কথা মনে আছে যখন রোজ কে একটা কাঠের তক্তার উপর উঠিয়ে জ্যাক তক্তাটা ধরে পানিতে ভাসতেছিলো?

ফরেস্ট গাম্প সিনেমার শেষ দৃশ্য - ৩টা স্ক্রিনশট








টাইটানিক এর চারটা স্ক্রিনশট









এটা আমার লেখা একটি আর্ট ফিল্ম এর কিছু অংশবিশেষ - বানানো হয়নি এখনো










স্ক্রিপ্ট গুলো দেখে কি কোন কিছু মাথায় ঢুকেছে? যাদের কিছু আইডিয়া আছে তারা নিশ্চয়ই বুঝেছেনকিন্তু যারা আগে কখনো স্ক্রিপ্ট দেখেননি তারা নিশ্চয়ই মাথা চুল্কাচ্ছেনকোন সমস্যা নেই, আমিও একসময় এইভাবে মাথা চুলকাতামএখনো মাঝে মাঝে চুলকাই

একটা স্ক্রিপ্ট এর কয়েকটা পার্ট আছেএই পার্ট গুলো ধরতে পারলে আপনার কাছে স্ক্রিপ্ট বুঝা কোন ব্যাপার না



এবার আসুন একটা স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলি


গল্পাংশবিশেষঃ একজন সেলসম্যান তারিকের দরজায় নক করবেতারিক দরজা খোলার পর তাদের মধ্যে কথা হবেতারিক কিনতে রাজী না হওয়ায় সেলসম্যান বিদায় নিবে

১) পৃষ্ঠার সাইজ ও স্ক্রিপ্ট এর দৈর্ঘ্যঃ সাধারন A4 কাগজে স্ক্রিপ্ট লিখা হয়আর প্রথম পেজ বাদে বাকী সব পেজের উপরে ডান কোনায় পেজ নাম্বার দেয়া থাকেপেজের উপরে আর নীচে আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি পর্যন্ত জায়গা খালি থাকে, বাম পাশে থাকে ১.২ ইঞ্চি থেকে ১.৬ ইঞ্চি এবং ডান পাশে থাকে আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চিইংলিশে লিখলে কুরিয়ার ফন্ট ১২ সাইজে রেখে ব্যাবহার করবেন
আপনি যদি পিসি তে লিখেন তাহলে এটা মেনে চলার চেষ্টা করবেনআর হাতে লিখলে কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করবেন


বায়ে - ১.২ থেকে ১.৬ ইঞ্চি
ডানে - ০.৫ থেকে ১.০ ইঞ্ছি পর্যন্ত
উপরে ও নীচে -০.৫ থেকে ১.০ ইঞ্ছি পর্যন্ত


স্ক্রিপ্ট এর দৈর্ঘ্য সিনেমার দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে থাকেসাধারনত হলিউড এর সিনেমার স্ক্রিপ্ট এ পৃষ্ঠা থাকে ৯৫ থেকে ১২৫ পৃষ্ঠাআপনার স্ক্রিপ্ট এর কোন বর্ননা হয়তো পড়তে ১০ সেকেন্ড লাগবে কিন্তু শুট করার পর দেখবেন সেটা ৪৫ সেকেন্ড হয়ে গিয়েছেতাই, সাধারনত এক পৃষ্ঠা স্ক্রিপ্ট এর শুটিং টাইম ধরা হয়ে থাকে ১ মিনিট

২) একশন বা বর্ননাঃ বর্ননা আপনার স্ক্রিপ্ট এর নির্দিষ্ট সিকোয়েন্সের সেটিংস ও ক্যারেক্টার এর ব্যাপারে ধারনা দিয়ে থাকেসবসময় এটা বাম থেকে ডানে যায়আর সবসময় ই এটা বর্তমান সময়ে সময়ে (প্রেজেন্ট টেন্স) এ হয়ে থাকেবর্ননায় কখনো এঙ্গেল বা শটের ধরন লিখবেন নাওটা ডিরেক্টর এর কাজ


ফেড ইনঃ

ইন্টঃ তারিকের দরজার সামনে - সকাল

হাতে ব্যাগ নিয়ে একজন সেলসম্যান এসে দরজায় নক করেদরজা না খোলায় সেলস্ম্যান দ্বিতীয়বার দরজায় নক করলে তারিক খালিগায়ে দরজা খুলে বের হয়ে আসে


- উপরে দেখুন, বর্ননাটুকু আমাদের ধারন দিচ্ছে যে আমরা তারিকের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছিসেলস্ম্যান দরজায় দু'বার নক করেছে আর তারপর তারিক বের হয়ে আসলে দেখা যায় তারিকের গায়ে জামা নেইসেলস্ম্যানের হাতে ব্যাগএখন শুটিং স্ক্রিপ্ট এ গিয়ে দেখা যাবে ডিরেক্ট্র হয়তো এভাবে লিখেছে -

ফেড ইনঃ

ইন্টঃ তারিকের দরজার সামেন (মোতালিবের বাসা) - সকাল (৭টায়)

[মিড শট] বাম হাতে ব্যাগ নিয়ে এসে সেলস্ম্যান (তন্ময়) ডান হাতে দরজার কড়া নাড়বে - দুবার
[ক্লোজ] সেলসম্যানের মুখ
[টোপ শট] সেলসম্যান এক পা এগিয়ে এসে আবার কড়া নাড়বে - তারিক (আন্দালিব) বের হয়ে আসবে - সেলস্ম্যান পিছিয়ে যাবে
[ক্লোজ] সেলস্ম্যান বিব্রত মুখে পিছিয়ে যাবে



৩)ক্যারেক্টারের নামঃ কোন একট ডায়ালগ দেয়ার সময় ক্যারেক্টার এর নাম দিতে হয়ক্যারেক্টার এর নাম হতে পারে আসল নাম বা মোটা মাথা, ভোদাই পোলা বা পুলিশ ১ অথবা জাদুকর টাইপের কিছুক্যারেক্টার এর নাম হবে ডায়ালগ এর ঠিক উপরে বাম থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চি ডানে চাপায়া


ফেড ইনঃ

ইন্টঃ তারিকের দরজার সামনে - সকাল

হাতে ব্যাগ নিয়ে একজন সেলসম্যান এসে দরজায় নক করেদরজা না খোলায় সেলস্ম্যান দ্বিতীয়বার দরজায় নক করলে তারিক খালিগায়ে দরজা খুলে বের হয়ে আসে


তারিক

কি চাই?




৪) [b]ডায়ালগঃ [/b]মারাত্মক একটা জিনিসতবে আশার কথা হলো - এখন আর ডায়ালগ কে কাব্যিক করে বানাতে হয়নাডায়ালগ হতে পারে মর্মস্পর্শী, হতে পারে সরাসরি আঘাত করে বলা, হতে পারে কাটখোট্টাডায়ালগের কোন নিজস্ব দৈর্ঘ্য নেইআপনার ক্যারক্টার আর সিকোয়েন্সের উপর নির্ভর করবে আপনার ডায়ালগের দৈর্ঘ্য কেমন হবেডায়ালগ লিখার সময় মাথায় রাখবেন - আমরা সাধারনত কিভাবে কথা বলিসেটার কাগজিক রুপ কত সুন্দর করে বলা যায়যদি গল্প ডিমান্ড করে তাহলে অবশ্যই লোকাল ভাষা ব্যাবহার করা যায়কিন্তু সিনেমা একটি শিল্প, আর একটি শিল্পের নিজস্ব ভাষা রয়েছেক্রমাগত লোকাল ও বাজে ল্যাঙ্গুয়াজের ব্যাবহারে সেটা প্রায় ধ্বংসের মুখেই পড়বেকয়টা অসাধারন সিনেমার নাম জানেন যেখানে লোকাল ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে? আর কয়টা অসাধারন সিনেমার নাম জানে যেখানে শুদ্ধ ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে?

আন্তর্জাতিকভাবে চিন্তা করুনথিঙ্ক ইন্টারন্যাশনালিআপনার সিনেমায় সেভাবে চিন্তা করে ভাষার ব্যাবহার করুন

যাইহোক, পৃষ্ঠায় ডায়ালগ লেখার নিয়ম হলো - বাম পাশে আড়াই ইঞ্চি ফাকা আর ডান পাশে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি ফাঁকা যায়গা রাখবেন


ফেড ইনঃ

ইন্টঃ তারিকের দরজার সামনে - সকাল

হাতে ব্যাগ নিয়ে একজন সেলসম্যান এসে দরজায় নক করেদরজা না খোলায় সেলস্ম্যান দ্বিতীয়বার দরজায় নক করলে তারিক খালিগায়ে দরজা খুলে বের হয়ে আসে


তারিক

কি চাই?


সেলসম্যান

স্লামালিকুমআমার নাম মোতালিবআমি সিনেমা পিপলস থেকে এসেছিআপনার সাথে কি কিছুক্ষন কথা বলা যাবে?

তারিক

কথা বলতে চাইলে বলতে পারেন কিন্তু কিছু বিক্রি করতে চাইলে হাতে হাড়িকেন ধরিয়ে দিবো



৫) প্যারেইনথেটিক্যাল বা ডায়ালগের সময়কার এক্সপ্রেশনঃ ডায়ালগ দেয়ার সময় হয়তো আপনার ক্যারেক্টার একটি এক্সপ্রেশন দিলেনসেটা লিখার নিয়ম হলো ক্যারেক্টারের নাম আর ডায়ালগের মাঝে লিখাসাধারনতঃ ফার্স্ট ব্র্যাকেট () ব্যাবহার করা হয় প্যারেইনথেটিক্যাল এর দুইপাশে
প্যারেইনথেটিক্যাল এর বাম পাশে ৩ ইঞ্চি জায়গা ফাকা রাখতে হয়তার মানে ক্যারেক্টার এর এক্সপ্রেশন এক্সাটলি ক্যারেক্টারের নামের নীচে আসেনাযদি এক্সপ্রেশন বড় করে লেখা লাগে তাহলে হয়ত আসেযেমন-

তারেক
(রুক্ষ স্বরে)

- এটায় তারেকের ঠিক নিচে যদিও এক্সপ্রেশন দেখা যাচ্ছে, কারন পুরোটাই লেফট মার্জিনে আছে, আসলে এক্সপ্রেশন টা ক্যারেক্টার এর ঠিক নিচে একটু বায়ে থাকবে

তারেক
(রুক্ষ স্বরে হাত নেড়ে)
- এই জায়গায় আবার এক্সপ্রেশন বড় করে লেখায় সেটা ডায়ালগ এর নীচে প্রায় মাঝামাঝি থাকবে


একটা স্ক্রিনশট দিলে বুঝতে পারতেনতবে আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটাতবে মনে রাখবেন - এটা হতে হবে শর্ট এবং নির্দিষ্টআর না দিয়ে পার পাওয়া গেলে দিবেন না


৬) এক্সটেনশনঃ নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে এটা কোন কিছুর বর্ধিত কিছু একটাহ্যাঁ, এক্সটেনশন ব্যাবহার করা হয় ক্যারেক্টারের নামের ঠিক ডান পাশে ফার্স্ট ব্র্যাকেটের মধ্যেএটা দিয়ে বুঝানো হয় কিভাবে ক্যারেক্টারের ভয়েস দর্শক এর কাছে পৌছুবে? যদি আমরা ক্যারক্টার কে দেখি স্ক্রীনে আর তার গলাও শুনি, তাহলে তো কিছু লেখার দরকার নেইকিন্তু যদি এমন কারো গলা শুনি যে কিনা স্ক্রীনে নেই, তখন?

এখানে একটি এক্সটেনশন দেখুন




এক্সটেনশন সাধারনত দুই রকমঃ ভয়েস ওভার এবং অফ স্ক্রীনঅনেকেই দুটো ব্যাপার গুলিয়ে ফেলেন

ভয়েস অভার (V.O.): যখন ক্যারেক্টার ওই সিকোয়েন্সে থাকেন না বা থাকেন কিন্তু কোন কিছুর বর্ননা দিচ্ছেন যেটা সিকোয়েন্সে দেখাচ্ছে নাযেমন ধরুন, গুডফেলাস সিনেমায় নায়ক ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্রমাগত বলে যেতে ওর জীবনের ঘটনাঅথবা কিক-অ্যাস মুভিতে নায়ক ব্যাকগ্রাউন্ডে যা বলে - এসব হলো ভয়েস ওভারঅথবা, মুভির শুরুতেই মোটা একটা গলা কিছু কথা বলে গেলো, সে কিন্তু ওই মুভি তে অভিনয় করে নাইএটাও ভয়েস ওভার

অফ স্ক্রীন (O.S.): অফ স্ক্রীন হলো যখন কেউ সিকোয়েন্সে আছেন কিন্তু স্ক্রীনে নেইযেমন ধরুন আগের লিঙ্কটায়মা ও বাবা দুজনেই সিকোয়েন্সে আছেন, কিন্তু স্ক্রীনে ওই মুহুর্তে দুজনের কেউ নেই



৭) ট্রাঞ্জিশনঃ আমি নিজে ট্রাঞ্জিশন স্ক্রিপ্টে ব্যাবহার করার পক্ষপাতি নই কারন ডিরেক্টর এর হাতে যাওয়ার পর স্ক্রিপ্ট নিয়ে যে ধোলাই চলে আর তারপর এডিটিং এর সময় এসব ট্রাঞ্জিশন সাধারনত পরিবর্তন হয়ে যায়তারপরেও এটা একট স্ট্যান্ডার্ড রুল তাই সবাই ব্যাবহার করে থাকেতবে বলা হয়ে থাকে, যদি খুব বেশী প্রয়োজন না পরে তাহলে ট্রাঞ্জিশন না দিতে স্ক্রিপ্টেট্র্যাঞ্জিশন গুলো আসলে আপনাদের চেনা

ফেড টূ, ফেড আউট, কাট টু, ডিসলভ টু, কুইক কাটএগুলা দিতে হয় স্ক্রিপ্ট এর বাম থেকে সারে ৬ ইঞ্চি ফাকা রেখেমানে প্রায় ডান পাশে আর কি


[b]এখানে দেখেন কাট টু [/b]





৮) শটঃ একজন স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে আপনার শট এর ব্যাপারে ধারনা থাকা উচিতঅনেক ধরনের শট আছে, কিন্তু আপনার অত বেশী শট না জানলেও দিব্যি চলে যাবেতবে আগেও যেমন বলেছি, এখনো বলছি - শট জিনিসটা ডিরেক্টরের বাপের সম্পত্তিআপনার লেখা শট ডিরেক্টর পছন্দ নাও হতে পারেআপনি যদি স্ক্রিপ্ট বিক্রির চিন্তা করেন তাহলে পরামর্শ হলো আগেই শট না লিখে, বিক্রির পর আপনি ডিরেক্টর এর সাথে নেগশিয়েশন করুন

যাইহোক, যদি একান্তই লিখতে চান তাহলে নেট ঘেটে সিনেমাটোগ্রাফী শট নিয়ে পড়াশুনা করুন

৯) কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা উচিতআমি পয়েন্ট বাই পয়েন্ট লিখে দিচ্ছি

- কখনো কোন ট্রঞ্জিশন দিয়ে পেইজ শুরু করবেন না
- যদি কোন বর্ননা বা ডায়ালগে মাঝে অন্য পৃষ্ঠায় যেতে হয় তাহলে নীচে লিখুন - 'কন্টিনিউ' বা 'চলছে'
- খেয়াল রাখবেন যেনো ক্যারেক্টার এর নাম পেইজের শেষ লাইন না হয়ক্যারেক্টার এর নাম লিখে অন্তত এক লাইন ডায়ালগ ও লিখুন
- প্যারেনথেটিক্যাল দিয়েও পেইজ শেষ যেনো না হয়অন্ততঃ এক লাইন ডায়ালগ দিয়ে বাকিটুকু না হয় অন্য পেইজে লিখুন
- ডুয়েল সাইডেড বা একি সাথে দুই জন কথা বলছে ( যেরকম ঝগড়ায় হয় আর কি) - এমন শটের ডায়ালগ লিখার সময় পাশাপাশি লিখুন।। এখানে একটা উদাহরন দিচ্ছি



যেসব কাজ গুলো অবশ্যই করবেনঃ


- বানান ভুল যেনো না হয়বানান ভুল চোখে পড়লে আপনাদের ও কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়
- কাউরে দিয়া স্ক্রিপ্ট পড়ানজোড়ে জোড়ে পরাইতে পারলে আরো ভালোনা পারলে, তাকে বলুন এমনি পড়তেতখনো কিছু ভুল বের হয়ে আসতে পারে
- অভিজ্ঞ কাউকে যদি পা তাহলে খুব ভালোস্ক্রিপ্ট এর ভুল ত্রুটি ধরায়া দিতে পারবে
- লেখা কম্পিউটারে কম্পোজ করুন
- যেসব রুলস গুলা বললাম সেগুলা মানার চেষ্টা করুন, যদি না আপনার কাছে এই রুল না মানার পিছনে কোন শক্ত কারন থাকেমনে রাখবেন, এই রুলস আমি বানাই নাই


যেসব কাজ গুলো অবশ্যই করবেন নাঃ

-টাইটেলে পেইজে আবার হেভী একটা ফন্ট দিয়া নাম ধাম লেইখেন নাযত সাধারন রাখবেন তত ভালো
- টাইটেল পেইজে কোন কোটেশন ব্যাবহার কইরেন নাআপনি ছাড়া আর কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামাবেনা
- স্ক্রিপ্ট এর কোথাও তারিখ দিয়েন না
- স্ক্রিপ্ট এর মাঝে শুধু শুধু খালি কাগজ দিবেন না
- ক্যারেক্টারের বর্নানা বা কোন পুর্ব-গল্প লিখবেন না স্ক্রিপ্ট এযদি আপনার স্ক্রিপ্ট স্বয়ং কোন গল্প না বলে তাহলে আপনার স্ক্রিপ্ট লিখা হয়নি
- রঙ্গীন কাগজ বা রঙ্গীন কালো কোনটাই ব্যাবহার করবেন না






অনেক কথাই তো বললামএবার বলুনতো স্ক্রিপ্ট লিখা কি সোজা নাকী কঠিন? এবার বলনতো বিদেশের সাথে দেশের ফিল্ম এর এতো পার্থক্য কোথায়? একেবারে বটম লাইনে পার্থক্য দিয়া শুরু হয়বলবেন না দেশের স্টোরি বাজেএই বাজে স্টোরি কে মারাত্তক করে দিতে পারে বেশ কিছু ব্যাপার - তার মধ্যে একটা হলো স্ক্রিপ্ট

মাহদী হাসান [শামীম]
ফ্রীল্যান্স ফিল্মমেকার