Showing posts with label Climate. Show all posts
Showing posts with label Climate. Show all posts

Wednesday, June 11, 2025

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষার চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে? বিজ্ঞান ও বাস্তবতা

0 comments

 “বর্ষা” — বাংলাদেশের মানুষের জন্য কেবল একটি ঋতু নয়, বরং আবেগ, সংস্কৃতি ও জীবিকার অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা যে বর্ষাকে দেখছি, তা কি আগের মতোই রয়ে গেছে? নাকি বিশ্ব উষ্ণায়ন আমাদের প্রিয় বর্ষার চেহারাকেই পাল্টে দিচ্ছে?

চলুন, দেখি বিজ্ঞান কী বলে এবং বাস্তবতা কী দেখাচ্ছে।

monsoon rain

☀️ বিশ্ব উষ্ণায়ন কীভাবে আবহাওয়ার ধরন পাল্টাচ্ছে?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং অর্থাৎ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়:

  • বায়ুমণ্ডলে পানির বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে।

  • বৃষ্টিপাতের ধরন হয়ে যাচ্ছে অনিয়মিত।

  • কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো খরা দেখা দিচ্ছে।

এগুলো প্রমাণিত বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবর্তন — যা সরাসরি বর্ষাকেও প্রভাবিত করছে।


🌩️ বাংলাদেশে বর্ষার কী কী পরিবর্তন চোখে পড়ছে?

১. বর্ষার সময়জ্ঞান পাল্টে যাচ্ছে

আগে যেখানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর ছিল বর্ষার মাস, এখন তা কখনো মে-তেই শুরু হয়, আবার অক্টোবরেও টানছে।

২. টানা বৃষ্টির বদলে ঝড়ের মতো হঠাৎ বৃষ্টি

“Flash Flood” বা আকস্মিক বন্যা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩. শহরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জ্যাম ও জনদুর্ভোগ।

৪. কৃষির উপর বিপর্যয়কর প্রভাব

  • আমন ধানের মৌসুমে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি

  • মৎস্য খামার ও পুকুরের ক্ষয়ক্ষতি


📊 বিজ্ঞান কী বলছে?

  • BMD (বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর) বলছে: গত ৩০ বছরে বর্ষায় বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু সেই বৃষ্টি হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে ভারী আকারে।

  • IPCC রিপোর্ট অনুসারে: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষাকাল আরও অস্থির হবে।


🧠 আমাদের করণীয় কী?

  • জলাধার সংরক্ষণ ও খাল-বিল পুনরুদ্ধার

  • বর্ষা ভিত্তিক পূর্বাভাস ও কৃষি পরিকল্পনা

  • শহরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা

  • গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা


📌 উপসংহার

বিশ্ব উষ্ণায়নের এই প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্ষার পরিবর্তিত রূপ আমাদের সংস্কৃতি, খাদ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার ওপর ফেলছে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ। সময় এখনই — সচেতন হওয়ার, প্রস্তুতি নেওয়ার।

Rainy-Season-in-Bangladesh


Wednesday, May 7, 2025

২০২৫ সালের জলবায়ু সংকট: দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব

0 comments

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়—এটি বাস্তব এবং এখনই ঘটছে। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে এর প্রভাব ২০২৫ সালে এসে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল অবকাঠামো—সব মিলিয়ে জলবায়ু সংকটের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

South Asia under climate crisis

🌊 সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও উপকূলীয় বিপর্যয়

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায়। বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ২০২৫ সালে অতিমাত্রায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

  • বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, ভোলা এবং পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন।

  • কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পড়ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

  • লক্ষ লক্ষ মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।


☀️ তীব্র গরম ও খরা

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ভারতের দিল্লি ও লাহোরে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে।

  • পাকিস্তান ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা দেখা দিয়েছে।

  • চাষযোগ্য জমি ফেটে যাচ্ছে, পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

  • গ্রামীণ জনগণ খাদ্য ও পানির সংকটে পড়ে শহরমুখী হচ্ছে।


🌧️ অতিবৃষ্টি ও বন্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি প্রধান প্রভাব হচ্ছে অপ্রত্যাশিত অতিবৃষ্টি।

  • বাংলাদেশে মে-জুলাই মাসে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০% বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

  • সিলেট, রংপুর, কক্সবাজারসহ অনেক জেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে।

  • ভারত ও নেপালেও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত।


🌾 কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে

জলবায়ুর কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষিজ উৎপাদন কমে গেছে।

  • ধান, গম, পাট ও চা উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

  • কৃষকরা ফসল রক্ষা করতে না পেরে ঋণের ভারে জর্জরিত।

  • খাদ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে, যা গরিব মানুষের জন্য বড় সংকট।


🌍 স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রোগের বিস্তার

উচ্চ তাপমাত্রা ও জলাবদ্ধতা বিভিন্ন রোগের বিস্তার বাড়িয়েছে।

  • ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরা এবং চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

  • গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং শিশুদের অপুষ্টি বেড়েছে।

  • স্বাস্থ্যব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় ঝুঁকি আরও তীব্র।


🤝 কী করা যেতে পারে?

১. আঞ্চলিক সহযোগিতা: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়।
২. সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তর: কয়লা ও তেলের ব্যবহার কমিয়ে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ নির্ভরতা বাড়ানো।
৩. জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো: বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, জলাধার নির্মাণ।
4. জনসচেতনতা: স্কুল, কলেজ, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জলবায়ুবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার।
5. আন্তর্জাতিক সহায়তা: উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা।


🔚 উপসংহার

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু সংকট একটি বাস্তব ও ভয়াবহ সত্য। এটি শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, সমাজ ও নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তাই এখনই সময়—ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রস্তুত হওয়ার।

Climate-Change-weather


Sunday, September 5, 2010

ডুবে যাচ্ছে মালদ্বীপ

0 comments
বিশ্ব উষ্ণায়নের চরম শিকার হতে যাচ্ছে মালদ্বীপ। প্রতিনিয়ত বরফ গলে যাওয়ায় বাড়ছে পানির উচ্চতা। ফলে আশংকা দেখা দিয়েছে দেশটির ডুবে যাওয়ার।
সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নাতিদীর্ঘ ও সবুজ দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। ভারত মহাসাগরের মূল ভারতীয় উপদ্বীপের অন্তর্গত মালবার উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। প্রায় ছোটবড় ১২০০টি দ্বীপখণ্ড নিয়ে গড়ে ওঠা এই মালদ্বীপের অস্তিত্বই এখন সংকটের মুখে। এর মূল কারণ গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে ক্রমশ বাড়তে থাকা মহাসাগরীয় ও উকূলীয় জলস্তর। ভবিষ্যতে মালদ্বীপের স্থান যে অর্থে জলের তলদেশে হতে পারে সেটা বিশ্বের পরিবেশবিজ্ঞানীদের বোঝানোর জন্য সমুদ্রের তলায় একটি অভিনব বৈঠকও সেরে ফেলেছেন মালদ্বীপের রাষ্টপ্রধান মোহাম্মদ নাশিদ ও তার অন্যান্য মন্ত্রীরা। ডুবুরির পোশাক পরে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক পরিবেশ শীর্ষ বৈঠকেও রাষ্ট্রপতি নাশিদ, উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণগুলোকে বন্ধ করে তারা মালদ্বীপের মতো ক্ষুদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে। বিশ্বের শক্তিধর ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর দেওয়া পরিবেশকে বাঁচানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মালদ্বীপের মতো বহু দেশকে আবার অবলুপ্তির দিকে ঠেলে দেবে। ৭০ দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারেনি জলজ জীববৈচিত্র্য এবং ব্যতিক্রমী বাস্তুতন্ত্রের ধারক মালদ্বীপ। ষোড়শ শতকের পর্তুগিজ শাসন এবং ১৮৮৭ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার জোয়াল বইতে হয়েছে মালদ্বীপের রাজধানী শহর মালে, মুলাকু, মালিন্দে, কোখুমদুতু, হাদুধুনামাম্বি, আরি, গোইধু, রাসদু, ফাস্কিপোন্ত, খিলাদুনমাম্বি, আতোল, মাম্মাকুনুধু, নিলানঠু প্রভৃতি দ্বীপে বসবাসকারী পেশায় মূলত মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবী অধিবাসীদের গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের আগে রাজনৈতিক সমস্যায়ও জর্জরিত ছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। পূর্বতন রাষ্ট্রপতি মামুন আবদুল গাইয়ুমকে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী অপারেশন 'র‌্যাসট্যাক' নামক সেনা অভিযান চালিয়ে মালদ্বীপে সেই একনায়কীয় স্বৈরশাসনের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়।

জলবায়ুর পরির্বতনের ওপর সমীক্ষা করার জন্য গঠিত আন্তঃরাষ্ট্র পর্ষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে উষ্ণায়নের দরুন মেরুপ্রদেশ দু'টির বরফের স্তর এবং হিমবাহ গলতে শুরু করলে একবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সমুদ্রতলের উচ্চতা আরো দুই মিটারের মতো বেড়ে যাবে। অন্যদিকে মালদ্বীপের অন্তর্গত অধিকাংশ দ্বীপেরই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা মাত্র দেড় মিটারের মতো। মালদ্বীপে এখন অনেক ছোটবড় কলকারখানা গজিয়ে উঠেছে। মোটর গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এর ফলে এই দ্বীপটির পরিবেশ উত্তপ্ত ও দূষিত হয়ে উঠছে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সালফার-ডাই-অক্সাইয়ের মতো ক্ষতিকর, গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাধিক্যের জন্য। ভৌগোলিকভাবে মালদ্বীপের অবস্থান ভারতের লাক্ষ্যাদ্বীপের দক্ষিণাংশে, মিনিকর দ্বীপপুঞ্জ ও শ্যাপোস উপদ্বীপ বা আর্কিপে সাগরে মধ্যবর্তী অঞ্চল। শ্রীলঙ্কা থেকে ৭০০ কি.মি দূরে অবস্থিত মালদ্বীপ। মালদ্বীপের বেশিরভাগ ভূখণ্ডই নির্মিত হয়েছে সামুদ্রিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব, পসিপদের দেহাবশেষ সদা প্রবাল (Coral) দিয়ে। এই প্রবাল প্রাচিরেই মালদ্বীপের বেশিরভাগ অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। নিরক্ষরেখা, এই দ্বীপরাষ্ট্রের প্রায় মাঝামাঝি অংশ দিয়ে যাওয়ার জন্য মালদ্বীপের জলবায়ু অনেকটাই ক্রান্তীয়ধর্মী। জুন-জুলাই মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আসা বৃষ্টিপাতে ছাড়া মালদ্বীপে সারা বছর জলবায়ুর প্রকৃতির সে রকম কোনো পরিবর্তন হয় না।

মালদ্বীপের পরিবেশ দূষণের কেন্দ্রবিন্দু নিঃসন্দেহে প্রায় আড়াই বর্গ কি.মি এলাকাজুড়ে রাজধানী শহর মালে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাস করেন এই শহরটিতে। টোকিও, লন্ডন, কলকাতা, ওয়াশিংটনের মতো অভিজাত মহানগরীর মতোই মালেতেও জনবিস্ফোরণ আর মোটরযানের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিবেশের ভারসাম্য প্রায় বিদায় নেওয়ার মুখে। মালেতে প্রতিটি পরিবারের কাছেই এখন একাধিক মোটরগাড়ি, ৮০ হাজার বিদেশি কর্মী এবং প্রায় ৩৫ হাজার বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর চাপে মালের জনবিস্ফোরণ আরো ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। মালদ্বীপের অন্তর্গত সবচেয়ে বড় দ্বীপটির আয়তন ৮ বর্গ কি.মির বেশি নয়। সুতরাং এ ধরনের দ্বীপে জনবসতির ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে মালদ্বীপের পর্দাবরণ ও বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়তে বাধ্য। মালদ্বীপের পরিবেশ দূষণের পিছনে আরো একটি কারণ ধনী বিদেশি পর্যটকদের বাড়াবাড়ি। সাধারণ পর্যটকের পক্ষে মালদ্বীপের যে কোনো দ্বীপে আধা ঘণ্টার জন্য ১৭৫ মার্কিন ডলার খরচ করে বিমান সফর করা সম্ভব নয়। বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য, ট্যুরিস্ট প্লেনের গ্যাসোরিন জ্বালানির ধোঁয়া এবং তাদের ভ্রমণসুখের জন্য সবুজ অরণ্যছেদন করে বানানো অসংখ্য বিলাসবহুল পর্যটন আবাস, নিদারুণ ক্ষতি করছে মালদ্বীপের।
মেহেদী হাসান বাবু

Tuesday, September 29, 2009

ভূমিকম্পে করণীয়

30 comments


ভূমিকম্প-প্রতিরোধী বাড়ি

যাঁরা এখনো বাড়ি তৈরি করেননি, পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা চাইলেই ভূমিকম্প-প্রতিরোধী বাড়ি বানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে:
* প্রথমেই মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। ওই জায়গায় মাটি দেবে যাওয়ার প্রবণতা আছে কি না দেখে নিন। খাল-বিল-পুকুর-ডোবা ভরাট করে বাড়ি বানাতে চাইলে মাটি ভালোভাবে দুরমুস করে নিন।
* বাড়ি এমনভাবে তৈরি করুন, যাতে রোমান সংখ্যায় VII (৭) মাত্রার ইনটেনসিটি (তীব্রতা) সহনশীল হয়।
* দক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে নকশা তৈরি ও তদারক করাতে হবে।
* ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ আইন অনুযায়ী ভূমিকম্পের ধাক্কায় সহনশীল হবে এমন রড ব্যবহার করতে হবে।
* ভবনের উচ্চতা ও ভার বহনের হিসাব অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন।
* সিমেন্ট, রড, বালু ভালো মানের ও পরীক্ষিত হতে হবে।
* ভিত্তিপ্রস্তরে গ্রেট বিম কলামের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় কোড অনুযায়ী রড দিতে হবে।
* কলামের রডে বাঁধনগুলোর শেষ মাথা ১৩৫ ডিগ্রি হতে হবে এবং বাঁধনগুলোর দূরত্ব অন্য জায়গার চেয়ে অর্ধেক হবে। অর্থাত্ ফাঁকা কম হবে।
* বিম ও কলামের সংযোগস্থলে জোড়া লাগানো যাবে না। নতুন-পুরোনো সংযোগগুলো কলামের মাঝামাঝি যেন হয় এমনভাবে রড কাটতে হবে। সংযোগগুলো ঝালাই করা যেতে পারে।
* বহুতল ভবনে কংক্রিটের তৈরি কোরওয়াল (লিফটের দেয়াল) প্রয়োজনমতো থাকা উচিত।
* কার পার্কিং বিম ও কলাম বরাবর বাইরের দেয়াল প্রয়োজনমতো থাকা উচিত।
* মাটির ঘর হলে শক্তভাবে নির্মাণ করুন।
* আপনার বাড়িটি পাশের বাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে নির্মাণ করুন।
* বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাসলাইন নিরাপদ ও সতর্কভাবে স্থাপন করুন, যাতে তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করা যায়।
* ঘরে একাধিক দরজা রাখুন, যাতে বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়া যায়।

পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে
বাড়ির মালিকদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। একটু সচেতন হলেই আপনার বাড়িটি এখনো ভূমিকম্পরোধী করা সম্ভব। এর জন্য বাড়তি কিছু অর্থ ব্যয় করতে হবে।
* পুরোনো ঘরের খুঁটি মেরামত করুন।
* সে জন্য বাড়ির কলামগুলো শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনমতো কলামের আকৃতি বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত টানা রড বা তারের জালি (ফেরোসিমেন্ট পদ্ধতি) কলামকে চিপিং করে ফেরোসিমেন্ট ব্যবহার করা যায়।
* প্রয়োজনে নতুন করে মাটি পরীক্ষা করতে হবে।
* প্রতিটি ঘরের কোনায় খাড়াভাবে অতিরিক্ত কংক্রিটের কলাম ইস্পাতের রডসহ নির্মাণ করা যায়। টানা পদ্ধতি না থাকলে নতুন করে দেওয়া যায়।
* দেয়াল মজবুত করার জন্য দরজা-জানালার দুই দিকে খাড়া রড গাঁথতে হবে। ইটের দেয়ালের মাঝখানে অতিরিক্ত রড দিয়ে দিতে হবে।
* কাঁচা বাড়িঘর, বাঁশের ঘর হলে বাঁশের বেড়ার দুপাশে মাটি বা চুন-সুরকির প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে, তা সাশ্রয়ীও বটে।
* খাট ও টেবিল শক্তভাবে তৈরি কি না পরীক্ষা করুন। ভূমিকম্পের সময় এসবের নিচে আশ্রয় নেওয়া যায়।
* বাড়ির বীমা করা না থাকলে করিয়ে রাখুন।


ভূমিকম্পের সময় করণীয়
* ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির সঙ্গে সঙ্গে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।
* ঘরে হেলমেট থাকলে মাথায় পরে নিন, অন্যদেরও পরতে বলুন।
* ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সম্ভব হলে আশপাশের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলুন।
* দ্রুত বৈদ্যুতিক ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দিন।
* কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
* যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকা ঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন।
* আধাপাকা বা টিন দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হতে না পারলে শক্ত খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নিন।
* ভূমিকম্প রাতে হলে কিংবা দ্রুত বের হতে না পারলে সজাগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নিন ঘরের কোণে, কলামের গোড়ায় অথবা শক্ত খাট বা টেবিলের নিচে।
* গাড়িতে থাকলে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকুন। কখনো সেতুর ওপর গাড়ি থামাবেন না।
* এ সময় লিফট ব্যবহার করবেন না।
* যদি বহুতল বাড়ির ওপরের দিকে কোনো তলায় আটকা পড়েন, বেরিয়ে আসার কোনো পথই না থাকে, তবে সাহস হারাবেন না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ভেবে দেখুন, উদ্ধারকারী পর্যন্ত আপনার চিত্কার পৌঁছাবে কি না।
* বিম, দেয়াল, কংক্রিটের ছাদ ইত্যাদির মধ্যে আপনার শরীরের কোনো অংশ চাপা পড়লে, বের হওয়ার সুযোগ যদি না-ই থাকে, তবে বেশি নড়াচড়া করবেন না। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
* ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে সাহস হারাবেন না। যেকোনো উত্তেজনা ও ভয় আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


সতর্কতা ও সচেতনতা
* ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিন।
* এর ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে।
* ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি থাকতে হবে।
* এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তুলতে হবে।
* ভূমিকম্পে আহতদের জন্য জরুরি চিকিত্সাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।
* বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার এবং গণমাধ্যমের সাহায্যে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
* বাড়ি বানানোর প্রকৌশলী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাড়ির মালিক ও মেরামতের সঙ্গে জড়িত লোকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
* ভূমিকম্প প্রকৌশল কোর্স চালু করা দরকার।
* স্কুল, হাসপাতাল ও দমকলের মতো অত্যাবশ্যকীয় প্রতিষ্ঠানের গঠন সুচারুভাবে করা উচিত।
* গৃহীত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে।
* বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুযায়ী তৈরি করলে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।
* বাড়ি বানানোর সময় অবশ্যই তীব্রতা-সহনশীল করে তৈরি করতে হবে। আমরা না বুঝে ম্যাগনেচুড বা মাত্রা-সহনশীল তৈরি করে থাকি, যা ঠিক নয়। তীব্রতা-সহনশীল পদ্ধতি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা নির্দেশ করে। ভূমিকম্প হয়ে যাওয়ার পরপরই এটি মাপা হয়। ভূমিকম্পের ব্যাপকতা বোঝাতে ভয়াবহ, প্রচণ্ড, মাঝারি, মৃদু ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করা হয়।


ভূমিকম্প যেভাবে মাপা হয়
ভূমিকম্পের মাত্রা দুভাবে নির্ধারণ করা হয়।
১. ম্যাগনেচুড (মাত্রা)
২. ইনটেনসিটি (তীব্রতা)
ম্যাগনেচুড (মাত্রা): সাধারণ রিখটার স্কেলেই ম্যাগনেচুড (মাত্রা) মাপা হয়। স্কেলের এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। রিখটার স্কেলে মাত্রা পাঁচের বেশি হওয়া মানে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা।
রিখটার স্কেলে প্রতি ১ মাত্রা বৃদ্ধি মানে ভূকম্পনের শক্তি প্রায় ৩২ গুণ বেড়ে যাওয়া। এটি ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান নিয়ামক। ভূমিকম্পের বিভিন্ন স্তরের পরিবর্তনের কারণে শক্তির যে নিঃসরণ ঘটে, এর সঙ্গে এটি সরাসরি জড়িত।
ইনটেনসিটি (তীব্রতা): সাধারণত সংশোধিত মার্কেলিং স্কেলে এটি মাপা হয়। মানুষের অনুভূতি, গৌণ কাঠামো ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের ওপর এটি নির্ভরশীল। এর এককগুলো প্রকাশ করা হয় রোমান সংখ্যায়, অর্থাত্ I থেকে XII পর্যন্ত। ইনটেনসিটি বেশি হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। একটি নির্দিষ্ট ভূমিকম্পের জন্য জায়গাভেদে এর পরিমাত্রা ভিন্ন হয়।


লিখেছেন তৌহিদা শিরোপা। প্রকাশিত হয়েছে "দৈনিক প্রথম আলো" পত্রিকায়।

Saturday, September 26, 2009

বিভিন্ন ঘুর্নিঝড়ের নাম

0 comments
ঘুর্নিঝড়নার্গিস’ এর নামকরন করেছে পাকিস্তান। ফুলের নামে এর নাম। এরপর যে ঘুর্নিঝড়টি আসবে তারনাম অভয় (এবিএ)। এরপর আসবে- খায়মুক, নিশা, বিজলী, আইলা, ফিয়ান, ওয়ার্দ, লায়লা, বন্দু, ফেট, গিরি, জাল, কেইলা, থানে, মার্জান, নিলম, মাহাসেন, ফাইলিন, হেলেন, লহর, মাদী, নানাউক, হুদহুদ, নিলুফার, প্রিয়া, কোমেন, চপলা, মেঘ, ভালি, কায়ন্ত, নাদা, ভরদাহ, সামা, মোরা, অক্ষি, সাগর, বাজু, দায়ে, লুবান, তিতলি, দাস, ফেথাই, ফণী, বায়ু, হিকা, কায়ের, মহা, বুলবুল, সোবা, আমপান। আবহাওয়া অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে।



আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সুজিত কুমার দে শর্মা জানান, ২০০৬ সালের ৩০শে জানুয়ারী থেকে ৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বাংলাদেশের সার্ক আবহাওয়া গবেষনা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) এবং ৮ দেশের সমণ্বয়ে গঠিত ‘Economic and social commission for Asia and Pacific’(ESCAP) এ Panel on tropical cyclone শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইএসসিএপি (ইসকেপ) প্যানেলভুক্ত বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ও থাইল্যান্ড-এ ৮টি দেশের প্রস্তাবিত নামের ভিত্তিতে সরব সম্মতিক্রমে ৬৪টি ঘুর্নিঝড়ের নাম গৃহিত হয়। নামগুলো শুধু বঙ্গোপসাগরেআরব সাগরে সৃষ্ট ঘুর্নিঝড়গুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশের দেয়া নাম - নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি, ফণী, অনিল, অগ্নি।