Tuesday, June 8, 2010

রাজাদের নাটোর

0 comments
০০লেখা: মুস্তাফিজ মামুন ০০
নারদ নদীর তীরে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। এর উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। নাটোর জেলার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো নিয়ে এবারের বেড়নো

রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ

নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দিতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোনো এক সময় পুঠিয়ার রাজার নিকট থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।

উত্তরা গণভবন

জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ কটি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নজরে আসে এবং এর সংস্কার করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ব্যবহার করে উত্তরা গণভবন হিসেবে । প্রায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে চারিদিকে লেক ও প্রাচীরবেষ্টিত এ রাজবাড়িটিতে ছোট-বড় বারোটি সুরম্য ভবন আছে। ভেতরে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। উত্তরা গণভবনের প্রবেশ পথে চারতলা বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির প্রবেশ দ্বার। আর এর চূড়ায় রয়েছে বিলেতের কোক অ্যান্ড টেলভি কোম্পানির শতবর্ষী প্রাচীন ঘণ্টা ঘড়ি।

চলনবিল

দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলের একটি অংশ পড়েছে নাটোরে। জেলার সিংড়া উপজেলায় রয়েছে চলনবিলের বড় একটি অংশ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের ওপর দিয়েই। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। সড়কের দু’পাশে এ সময় যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলরাশি। নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাত্রাপথেই চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।

চলনবিল জাদুঘর

জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে আছে চলনবিল জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন বিচিত্র এ জাদুঘর। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরুদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এ জাদুঘরে। শনিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।

হাইতি বিল

জেলাশহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা উপজেলায় আছে হাইতি বিল। প্রায় ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিলটি দেশের সবচেয়ে গভীর বিল। প্রায় বারো মিটার গভীর এ বিলে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলি থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন প্রভৃতি বাসে যাওয়া যায় নাটোর। এছাড়া রাজশাহীগামী যে কোনো বাসেই নাটোর আসা সম্ভব। ভাড়া ২৫০-৪০০টাকা।

এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বাথ ৩৮০ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৭৫ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। এছাড়া খুলনা থেকে রূপসা ও সিমান্ত এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া শোভন চেয়ার ১৪৫ টাকা, শোভন ১২০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

নাটোর শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের চকরামপুরে হোটেল ভিআইপি (০৭৭১-৬৬০৯৭, নন এসি কক্ষ ১০০-২০০ টাকা)। মাদ্রাসা রোডে হোটেল উত্তরা (০৭৭১-৬২৫১৯, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা), মাদ্রাসা মোড়ে হোটেল মিল্লাত (০৭৭১-৬১০৬৫, নন এসি কক্ষ ১৮০ টাকা), কানাইখালীতে হোটেল আরপি (০৭৭১-৬২৫৭৯, নন এসি কক্ষ ১৭০ টাকা)। কানাইখালীতে হোটেল রুখসানা (০৭৭১-৬২৪৩১, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা)। নাটোর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। ভালো কোনো হোটেলে থাকতে চাইলে রাজশাহী শহরে এসে থাকা যেতে পারে।

জরুরি প্রয়োজনে

জেলা সদর হাসপাতাল (০৭৭১-৬৬৯১২), সদর থানা (০৭৭১-৬৬৯১৭), ফায়ার সার্ভিস (০৭৭১-৬৬৯১১)।

চুল পড়া কমাতে

0 comments
চুল পড়ছে। কী যে করি! এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। আর গরমে চুল পড়ার হার তুলনামূলকভাবে একটু বাড়ে। তাই বলে তো বসে থাকলে চলবে না। চুল পড়া কমানোর সমাধান দিয়েছেন কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান। তিনি জানান, গ্রীষ্মকালে মাথার ত্বকের ধরন পরিবর্তন হয়। ত্বকের গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হয়। ফলে চুল তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে চুল পড়ে অনেক সময়। এ ছাড়া চুলের গোড়ার ঘাম না শুকালে, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে, চুলের ধরনের সঙ্গে মানানসই নয় এমন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে সাধারণত চুল পড়ে।
আর এসব থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন? ফারজানা আরমান মনে করেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস থাকলে আমাদের চুল পড়ার হার অনেকটা কমে আসবে। তবে প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়লে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুষ্টিযুক্ত পরিমিত খাবার খেলে তা চুলেও পুষ্টি জোগায়। খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ফল, সবজি থাকতে হবে। এসব খাবার খেলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। ফলে চুল পড়া কমে যায়। এ ছাড়া চুলের গোড়ায় তেল ও ময়লা জমার কারণেও চুল পড়ে। সে জন্য খুব ভালো হয় ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার না করে একটু পাতলা ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করলে। ঘন শ্যাম্পু হলে তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু দিয়ে মোটা চিরুনি বা ব্রাশ দিয়ে চুলের আগাগোড়া আঁচড়িয়ে ফেলুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন, যাতে চুলে কোনো শ্যাম্পু না থাকে। এভাবে প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা যেতে পারে। এবার ব্যবহার করুন কন্ডিশনার। কন্ডিশনার কখনোই চুলের গোড়ায় লাগাবেন না। সারা মাথার চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে দু-তিন মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

চুল পড়া কমাতে যা ব্যবহার করবেন
লিভ ইন কন্ডিশনার: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে লিভ ইন কন্ডিশনার। রং করা চুল কিংবা কোঁকড়া চুলের জন্য এ কন্ডিশনারটি ব্যবহার করা ভালো।
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার: শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল ঝরঝরে হয়ে গেছে। এ ছাড়া সাদা সিরকাও এভাবে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
হট অয়েল ট্রিটমেন্ট: তৈলাক্ত চুলসহ যেকোনো চুলের জন্য এটি উপকারী। তেল হালকা গরম করে তুলা বা হাত দিয়ে হালকা করে মাথার ত্বকে ঘষে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
টু-ইন শ্যাম্পু: যেসব শ্যাম্পুর গায়ে টু-ইন লেখা থাকে তা এ দেশের আবহাওয়ার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। একনাগাড়ে এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়।

চুলের প্যাক
 হেনা, সামান্য পরিমাণে টকদই ও ডিমের মিশ্রণ।
 ডিম, মাখন, সামান্য পরিমাণে পানি ও জাম্বুরার রস মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
 জলপাই তেল, ১০ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে এর মধ্যে দুটি ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিশিয়ে তা চুলে দিন। সম্ভব হলে চুলে গরম পানির ভাপ দিতে পারেন। এ জন্য তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিন। এরপর এর পানি ঝরিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
 পাকা কলা, এক চামচ টকদই ও এক চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ মোহাম্মদ খান বলেন, মানসিক চাপ, বড় অসুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মাথার ত্বকে চর্মরোগ, বংশগতির কারণেও চুল পড়ে। তবে চুল পড়া কমাতে প্রধানত চুলে পুষ্টি জোগাতে হবে। সে জন্য তেল-মসলাযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে। এ ছাড়া সময়মতো খাওয়া-ঘুমানো ও পানি পরিমাণমতো পান করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শ্যাম্পু করার সময় যেন নখের আঁচড় মাথার ত্বকে না লাগে।
আরেকটি বিষয় হলো, চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গজিয়ে যায়। সে কারণে এটি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খুশকি দূর না হলেও চুল পড়ে। খুশকি থাকলে সপ্তাহে দুই দিন খুশকি প্রতিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অন্যান্য দিন প্রোটিন, অ্যামাইনো প্রোটিন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জেল ও চুলের স্প্রে কম ব্যবহার করাই ভালো। এতে চুলের ক্ষতি কম হয়। আসল কথা হলো, চুলকে পরিষ্কার রাখতে হবে। তবেই দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে।

Sunday, June 6, 2010

বেহুলা সুন্দরীর স্মৃতি

0 comments
কিংবদন্তি নায়িকা বেহুলা সুন্দরীর স্মৃতিবিজড়িত জিয়ন্ত কূপ ও চান্দেরবাজার হতে পারে একটি পিকনিক স্পট বা পর্যটন কেন্দ্র । ষোলশ' শতাব্দীর প্রাচীন এই লোককাহিনীর বিশ্বনন্দিত সতীসাবিত্রী নায়িকা বেহুলা সুন্দরী জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তৎকালীন নিচানীনগর বর্তমানে বিনসাড়া গ্রামে। বাছোবানিয়ার একমাত্র রূপসী কন্যা বেহুলা সুন্দরী। রূপে-গুণের অধিকারিণী বেহুলা সুন্দরী বাবা বাছোবানিয়ার সঙ্গে প্রায়ই বাজার করত। বেহুলা যে বাজারে যেত তার নাম চান্দেরবাজার। প্রায় ৩০০ বিঘা জমির উপর চান্দেরবাজার লাগোয়া তাড়াশের বস্তুল গ্রামে। অপরদিকে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের গোকুলের গ্রাম থেকে চাঁদ সদাগর তার ছেলে লক্ষ্মীন্দরকে সঙ্গে নিয়ে চান্দেরবাজারে আসত। হঠাৎ একদিন চান্দেরবাজারে বেহুলা সুন্দরীর সঙ্গে দেখা হয় লক্ষ্মীন্দরের।
প্রথম দেখাতেই দু'জনের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। যে বট গাছের নিচে বসে দু'জন গল্প করত সেই বট গাছটি এখনো বিশাল জায়গাজুড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চান্দেরবাজার বস্তুলে এখন স্কুল-কলেজ, ভূমি অফিস, হাটবাজার গড়ে উঠছে। তাড়াশ উপজেলার মধ্যে বস্তুলে খাসজমির পরিমাণ প্রায় ৭০০ বিঘা। একশ্রেণীর প্রভাবশালী খাসজমিগুলো দখল করে নিয়েছে। কেউ কেউ নিজের নামে ওইসব খাসজমির কাগজপত্র তৈরি করে নিয়েছে। অনেকেই এসব সম্পত্তির উপর অট্টালিকা তৈরি করে বসবাস করছে। বস্তুলের ৭০০ বিঘা খাসজমির মধ্যে কিছু আশ্রয়ন কেন্দ্র তৈরি করলেও অধিকাংশ জমি প্রভাবশালীদের দখলে। সরকারিভাবে এসব খাসজমি লিজ দিলেও সেখান থেকে প্রতি বছর সরকারের ঘরে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হবে। প্রতি বছর চান্দেরমেলায় হাজার হাজার মানুষ আসত এবং বট গাছের মাঝখানে শিবমন্দিরে মানত করে অনেকেই পূজা করত। ৫৬০টি বর দ্বারা বেহুলা ও লক্ষ্মীন্দরের বসে থাকার আসন ঘিরে রেখেছে। বট গাছের বরগুলো দেখতে অপরূপ সৌন্দর্যেঘেরা। দর্শনার্থীরা বট গাছের বরগুলো ঘুরে ঘুরে দেখে; কিন্তু বসার জায়গা না থাকায় আগত দর্শকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইতোমধ্যে প্রভাবশালীরা কিছু বর কেটে নিয়ে গেছে। সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে চান্দেরমেলার ঐতিহ্য। এখনো বহু দূর থেকে ওই বট গাছটি দেখা যায়। তাছাড়া বেহুলার স্মৃতিবিজড়িত নিচানীনগর বিনসাড়াতে জিয়ন্ত কূপ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে। জিয়ন্ত কূপের বৈশিষ্ট্য হলো_ একের ভিতর ৩টি কূপ বিদ্যমান। যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রতিদিন শত শত দর্শক জিয়ন্ত কূপ দেখার জন্য তাড়াশের বিনসাড়া গ্রামে আসে। এখানেও প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে ৩ দিনব্যাপী চান্দেরমেলা বসে। বহু দূর থেকে দর্শনার্থীরা জিয়ন্ত কূপে এসে দুধ-কলা মানত দিয়ে যায়। এলাকাবাসী তাড়াশের এ দুটি স্থানকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সরকারিভাবে প্রাচীন প্রত্নতাত্তি্বক সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাস এর ইতিহাস

53 comments
ইস্কাপন, হরতন, রুইতন, চিরতন নামগুলো কম- বেশি সবার কাছেই পরিচিত। আন্তর্জাতিকভাবে এগুলো ডায়মন্ডস, স্পেডস, হার্টস, ক্লাবস নামে পরিচিত। বলা হচ্ছে তাস খেলার কথা। খেলাচ্ছলে জীবনে কখনো তাস হাতে নেননি এমন মানুষ বিরল। কিন্তু তাসের ইতিহাস অনেকেরই অজানা। অনেকেই জানেন না ডায়মন্ডস, স্পেডস, হার্টস এবং ক্লাবস এর প্রতীক রহস্য। আজ থেকে প্রায় ছয়শত বছরেরও বেশি সময় আগে খেলার তাস আবিষ্কার হয়েছে।
তাসের চারটি প্রতীক পঞ্চদশ শতকের সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর পরিচয় বহন করে চলেছে। আবার তাসের ছবিগুলোতে উপস্থাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক নানা ব্যক্তিত্বের। প্রথম দিকে তাসের প্যাকেটে ৭৮টি তাস থাকত। কিন্তু এতগুলো তাস নিয়ে খেলা জটিল ও কষ্টকর হয়ে ওঠায় তাসের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। তবে হ্রাসকৃত সংখ্যার মধ্যে যে তাসটি এখনো সগৌরবে টিকে আছে সেটি হলো জোকার। খেলুড়েদের কাছে এই তাসটি সুপার ট্রাম্প কার্ড হিসেবে পরিচিত। প্রধান চারটি তাস কিসের প্রতীক বহন করে চলেছে এবার সেটা জানা যাক। ডায়মন্ডস হলো ধনী শ্রেণীর প্রতীক। স্পেডসের প্রতীক হলো সৈন্য। 'স্পেড' শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ 'স্পাডা' থেকে। যার অর্থ তরবারি। হার্টস পাদ্রিদের প্রতীক। আগে প্রতীকটির আকার ছিল পান পাতার মতো। পরে ওটা হার্ট বা হৃৎপিণ্ডের আকার পায়। ক্লাবস বলতে বোঝানো হতো গরিব
মানুষদের। ইংরেজি ক্লাবের বাংলা হলো মুগুর। গরিব শ্রেণীর মানুষের মুগুরই সম্বল এরকম একটা অর্থ বহন করে এই তাসটি। তাসের গায়ের ছবিগুলোরও রয়েছে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। কিং অব ডায়মন্ডস হলেন জুলিয়াস সিজার এবং তার স্ত্রী র‌্যাচেল। কিং অব স্পেডস হলো ডেভিড, গোলিয়াথের হত্যাকারী। এই তাসের রানী হলেন গ্রিক যুদ্ধ দেবী প্যালাস, যিনি দুই হাতে ধরে আছেন তরবারি ও ফুল। কিং অব হার্টস-এর ছবি আঁকা হয়েছে বিখ্যাত রাজা শার্লেমেন-এর অনুকরণে যিনি ৮০০ খ্রিস্টাব্দে জয় করেন অর্ধেক ইউরোপ। তার তাসের রানী হলেন বাইবেল উলি্লখিত নায়িকা জুডিথ। যিনি রাজার তরবারির এক আঘাতে এক আসিরিয়ান সেনাপতিকে হত্যা করেছিলেন।
কিং অব ক্লাবস। কিং অব ক্লাবস হলেন দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, যিনি ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বে পৃথিবীর প্রায় পুরোটা দখল করে নিয়েছিলেন। আগের তাসে পৃথিবীর মানচিত্রের গোলক থাকত, পরে তার আলখেল্লায় গোলকটি আঁকা হয়। কুইন অব ক্লাবস হলেন একমাত্র ইংরেজ মহিলা। যিনি আর কেউ নন রানী প্রথম এলিজাবেথ। তার গোলাম হলেন রাউন্ড টেবিলের বিখ্যাত নাইট, স্যার ল্যান্স লট।
আমিন রহমান নবাব

বিস্ময় জ্যোতিষ্ক কোয়াসার

0 comments
মহাকাশ, যেখানে এখনো এমন অনেক কিছুই আছে যা মানুষের কল্পনাশক্তির বাইরে। বর্তমান যুগটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আশা করা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় ভবিষ্যতে মহাকাশের আর কোনো কিছুই মানুষের অজানা থাকবে না। কোয়াসার দূর মহাকাশের এক বিচিত্র ও বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক বিশেষ যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। কোয়াসার শব্দটি এসেছে Quasi-star কিংবা Quasi steller object থেকে। যার নামের বুৎপত্তিগত অর্থ দাঁড়ায় কিছুটা তারার মতো আবার কিছুটা নয়। অর্থাৎ এরা হচ্ছে তারার মতো কিন্তু তারা নয়। আকাশের অসংখ্য তারার মধ্যেও বহুযুগ থেকেই সম্ভবত কোয়াসার পরিলক্ষিত হচ্ছিল।

কিন্তু অতি সম্প্রতি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানীরা একে পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৬৩ সালে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানীরা স্বতন্ত্রভাবে একটি কোয়াসার আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত এ কোয়াসারটির নাম দেয়া হযেছিল ৩ঈ৪৮। তবে এটি আবিষ্কার হওয়ার পরও বিজ্ঞানীরা এদের প্রকৃত পরিচয় এখনো বুঝতে পারেননি। মহাকাশের বহু দূর-দূরান্তের বিন্দু তারার মতো এদের দেখা যায়। কিন্তু যতই শক্তিশালী দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হোক এদের কৌণিক আকৃতি বৃদ্ধি পায় না। তাই এরা কত দূরে আছে তা অনুমান করাও অসাধ্য। ১৯৬৩ সালেই আবিষ্কৃত হয় আরেকটি কোয়াসার, যার নাম দেয়া হয় ৩ঈ২৭৩। এক একটি কোয়াসার এত উজ্জ্বল যে, বেশ কয়েক হাজার কোটি তারা একত্র করলেও এত উজ্জ্বল হবে না। অথচ এটি আকৃতিতে খুব বড় দেখায় না। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তাহলে কোয়াসারের এত আলো সৃষ্টির মূল রহস্য কি? তারা বা নক্ষত্র আপন অঙ্গের হাইড্রোজেন পুড়িয়ে যে কায়দায় অলোক সৃষ্টি করে কোয়াসারের মতো এত আলোকশক্তি সৃষ্টি করা সে পদ্ধতিতে অসম্ভব। কোয়াসার শুধুই যে অকল্পনীয় আলোর সৃষ্টি করে তা নয়, এরা বেতার তরঙ্গও সৃষ্টি করে।

অবশ্য আকাশের প্রতিটি তারাই কমবেশি বেতার তরঙ্গ সৃষ্টি করে, কিন্তু কোয়াসারের মতো এত তীব্র বেতার তরঙ্গ অন্য কোনো তারা তৈরি করতে পারে না। পৃথিবী থেকে আমাদের সবচেয়ে কাছের কোয়াসারটি হলো_ ৩ঈ২৭৩। এর থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ১৫০,০০,০০,০০০ বছর সময় লাগে। এ পর্যন্ত প্রায় হাজারখানেক কোয়াসার আবিষ্কৃত হয়েছে তবে এদের প্রকৃত রহস্যটি এখনো উদঘাটিত হয়নি। সবচেয়ে দূরের কোয়াসারটি থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগবে প্রায় এক হাজার কোটি বছর।

মাটির নিচে বসতি

0 comments
আদি মানব গুহায় বসবাস করত। প্রকৃতি আর হিংস্র জানোয়ারের হাত থেকে বাঁচতে মাটির নিচে তারা গুহা বানাত। প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতার এই যুগেও মাটির নিচে বসবাস অবাস্তব শোনালেও বিষয়টি শতভাগ সত্য। অস্ট্রেলিয়ার একটি অঞ্চলের অধিবাসী এখনো মাটির নিচে বসবাস করে।
জায়গাটার নাম ক্যুবার পেডি। এটি হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র মাটির তলার নগরী। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত নগরী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৮০০ কি. মি. দূরে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে ক্যুবার পেডি অবস্থিত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ক্যুবার পেডি এক সময় শতভাগ জনমানবশূন্য ছিল। এখনো এটি মানুষের বসবাস উপযোগী নয়। কারণ, গ্রীষ্মে এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। আবার শীতকালে তাপমাত্রা নেমে আসে শূন্য ডিগ্রিরও নিচে। এমন অবস্থায় মানুষের পক্ষে মানিয়ে নেয়া সত্যি কঠিন। আর সেই সঙ্গে ধূলি ঝড়, পানির কষ্ট ইত্যাদি তো রয়েছেই। তাই ক্যুবার পেডিতে মানুষ বসবাস করবে এটি কল্পনারও অতীত ছিল।

কল্পনাতীত এই বিষয়টিই একসময় বাস্তব হয়ে ওঠে। সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্যুবার পেডিতে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক একটি শহর। যে শহরটি মাটির ওপরে নয় নিচে অবস্থিত। আধুনিক নগরীর সুবিধা সংবলিত ক্যুবার পেডিতে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, গির্জা, বিনোদন কেন্দ্র, ক্লাব, ব্যাংক, আর্ট গ্যালারি, মার্কেট কমপ্লেঙ্। পৃথিবীর যেকোনো আধুনিক শহরের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো সবই আছে সেখানে।

তবে এখানকার এই জাঁকজমক একদিনে গড়ে উঠেনি। এর পেছনে রয়েছে মজার এক গল্প। এই ক্যুবার পেডির পাথুরে জমির সঙ্গে মিশে ছিল বিশেষ এক ধরনের রত্ন। এই রত্নের নাম- 'ওপাল'। এই জায়গাটার বিশেষত্ব প্রথম আবিষ্কার করেন উইল হাচিসন নামের চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। ঘটনাটা ছিল ১৯১১ সালের। এই মজার আবিষ্কারের আগে এখানকার বাসিন্দা বলতে ছিল মরুভূমির সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড়, টিকটিকি আর এমু পাখি। কিন্তু ওপালের অস্তিত্ব আবিষ্কার বদলে দিতে শুরু করল ক্যুবার পেডিকে।

ওপাল আবিষ্কারের পর বহু রত্নলোভী পাড়ি জমাল এখানে। রত্নের সন্ধানে শুরু হলো খোঁড়াখুঁড়ি। আস্তে আস্তে ক্যুবার পেডির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়তে লাগলে। ক্যুবার পেডি নামকরণের পেছনেও রয়েছে ছোট্ট একটি ইতিহাস। এখানকার আদিবাসীরা মাইনারদের খোঁড়াখুঁড়ি দেখে তাদের ভাষায় জায়গার নাম দিয়েছিল কুপা সিটি। যার অর্থ মাটিতে সাদা মানুষের গর্ত। কালের বিবর্তনে সেটাই বদলে গিয়ে ক্যুবার পেডি হয়ে যায়। সব মরুভূমিতেই দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম আর রাতে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা থাকে। মাটির নিচে কিছুটা গেলেই অন্যরকম হয়ে যায় সবকিছু। পৃথিবী নিজেই যেন একটা প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশনার। তাই মাটির নিচে গড়পড়তা সহনশীল একটা তাপমাত্রা পাওয়া যায় সারা বছরই। অন্য দিকে খেঁিড়াখুঁড়ির জন্য মাইনারদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটাতে হয় মাটির নিচে। তাই, সেখানে থাকার ঘরটাও বানিয়ে নিলে মন্দ কি! মাটির নিচে থাকলে ধূলিঝড় থেকেও বাঁচা যাবে। শুরু হলো মাটির নিচে বসতি বানানো।

এভাবেই গড়ে উঠেছে ক্যুবার পেডি। শুধু থাকার জায়গা নয়, তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি সমস্যার সমাধান। পানির ব্যাপারে ক্যুবার পেডির জনগণ ভীষণ সচেতন। মরুভূমিতে পানির অভাবের কারণে তারা গোসল ও ধোয়ামোছার ব্যবহৃত পানি রিসাইকেলের মাধ্যেমে সদ্ব্যবহার করে অন্যান্য কাজে। তবে এসব অসুবিধা সত্ত্বেও আজকের ক্যুবার পেডি এতটাই জমজমাট যে, অস্ট্রেলিয়ার অনেক ট্যুরিস্টই এক ঝলক দেখে যান জাগয়াটিকে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের তো কথাই নেই। বেশ কয়েকজন ক্যুবার পেডিবাসী অন্যত্র বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও কিছুকাল বাইরে কাটিয়ে আবার ফিরে এসেছে ক্যুবার পেডিতে। অদ্ভুত সুন্দর এই পাতাল নগরী যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট

1 comments
সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটটি গুলিস্তানে অবস্থিত। স্বাধীনতার পরে এখানে টিনশেড মার্কেট ছিল। পরবর্তীতে মেয়র হানিফের সময় সুন্দর বন স্কয়ার সুপার মার্কেটটি নাম দিয়ে ডিসিসি মার্কেটটি তৈরি করে। চতুর্থ তলা এই মার্কেটের বেজমেন্টে টিভি ক্যামেরা ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম তলায় ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী পাইকারি ও খুচরা দামে পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মোবাইল সামগ্রী এবং চতুর্থ তলায় গার্মেন্টস সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। এই মার্কেটে বাংলাদেশের সকল অঞ্চল থেকে ক্রেতাগণ আসে।
০০ এইচ করিম ০০
সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটটি ডিসিসি নির্মাণ করলে তারা কোনো প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে না বলে জানা যায়। এখানে নিজস্ব লোকবল দিয়ে সিকিউরিটির ব্যবস্থাসহ সব কাজ-কর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেরাই তাদের অর্থ ব্যয়ে করছে। মোট কথা সিটি করপোরেশন কোনো প্রকার সহযোগিতা করছে না। বরং তারা প্রতি বছর যে বিপুল রাজস্ব হচ্ছে। তা ঠিকমতো আদায় করে নিচ্ছে, অথচ মার্কেটের উন্নয়নের দিকে ডিসিসি’র কোনো খেয়াল নেই। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্মিত সুন্দর বন স্কয়ার মার্কেটটি পূর্বে দোকানপ্রতি ৬ টাকা স্কয়ার ফিট আদায় করত। এখন ডিসিসি ১০ টাকা স্কয়ার ফিট আদায় করছে। বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিচ্ছে এই মার্কেট থেকে অথচ ডিসিসি কর্তৃক কোনো সিকিউরিটির ব্যবস্থা নেই। ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে সিকিউরিটির ব্যবস্থা করেছে। এই মার্কেটটি ১৬ তলা পর্যন্ত ফাউন্ডেশন দেয়া আছে। অথচ এখন পর্যন্ত চতুর্থ তলা পর্যন্ত শেষ করেই আর কোনো কাজ করছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের চারিদিকে কে বা কারা হকার বসিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে এটা ব্যবসায়ীদের জানা নেই। তবে ডিসিসিকে বললে তারা হকার উঠানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানায়, মার্কেটটিতে এত বছর পার হলেও আজও কোনো দেয়ালে রং করানো হয়নি। এটা করা ডিসিসি’র মূল দায়িত্ব ছিল। এই মার্কেটে প্রায় এক হাজার দোকান রয়েছে। অথচ বছরে সিটি করপোরেশন বছরে মার্কেটটি থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেও কোনো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না।
সুন্দর বন স্কয়ার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুস সামাদ বলেন, আমাদের মার্কেটে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসে। এখানে বেচাবিক্রি মোটামুটি সন্তোষজনক এবং তুলনামূলক ভালো।