সময়ের আবর্তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত। চব্বিশের জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়, এটি দেড় দশকের জমাটবদ্ধ ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক মহাকাব্যিক বিস্ফোরণের সমার্থক। শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন রচিত হয়েছিল, দুই বছর পর তার অর্জন, ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়াটা কেবল স্বাভাবিকই নয়, বরং একটি জীবন্ত রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশের পূর্বশর্ত। এই দুই বছরে রাজপথের রক্ত ও বারুদ রূপান্তরিত হয়েছে সংসদীয় বিতর্কে, স্মৃতিরক্ষার লড়াইয়ে এবং শিল্পের স্বাধীনতায়। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—জুলাই কি সত্যিই তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে, নাকি ক্ষমতার চিরায়ত গোলকধাঁধায় পথ হারিয়েছে?
যেকোনো সফল গণ-অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াইটি হয় স্মৃতির দখল নিয়ে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে গোষ্ঠী বিপ্লবের স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র তাদের দিকেই হেলে পড়ে। জুলাইয়ের শহীদদের নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ বিশ্লেষণ করলে এই নির্মম সত্যটিই উন্মোচিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দাবি করছে, জুলাইয়ের আন্দোলনে তাদের চার শতাধিক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। দলটির মহাসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, দলটির নিজস্ব কোনো ডিজিটাল বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্কাইভে এই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ, সুবিন্যস্ত ও সম্মানজনক কোনো তালিকা বা পরিচিতি নেই। বিপরীতে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জুলাইয়ের শহীদদের নিয়ে নিজস্ব বয়ান তৈরি করছে।
সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখেইম তাঁর তত্ত্বে দেখিয়েছেন, যেকোনো সংগঠন যখন তার আত্মত্যাগীদের জনসমক্ষে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করে, তখন তা দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ‘পবিত্র সংহতি’ তৈরি করে। ফরাসি চিন্তাবিদ মিশেল ফুকো এবং জাক দেরিদার ‘আর্কাইভ’ সংক্রান্ত দর্শন এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ফুকোর মতে, যার হাতে নথির নিয়ন্ত্রণ থাকে, সমাজের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণও দিনশেষে তার হাতেই বর্তায়। দেরিদা দেখিয়েছেন, আর্কাইভ কেবল অতীতকে জমিয়ে রাখার স্থান নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের কেন্দ্র। জামায়াত-শিবির এই দার্শনিক সত্যটি অত্যন্ত নিপুণভাবে অনুধাবন করেছে। তাদের ওয়েবসাইটে জুলাইয়ের শহীদদের নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ, গ্রাফিক্স এবং ‘প্রেরণার বাতিঘর’ নামক সেগমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এমনকি ছাত্রদলের কর্মী শহীদ ওয়াসিম আকরাম, যিনি চট্টগ্রামের মুরাদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, তাঁকেও শিবিরের ওয়েবসাইটে সসম্মানে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি নিজস্ব কর্মীর আত্মত্যাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মৌখিক দাবির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করার দিন যে ফুরিয়ে এসেছে, সেটি অনুধাবন করতে না পারার কারণে জুলাইয়ের সামগ্রিক আখ্যান ধীরে ধীরে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কুক্ষিগত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মানুষের রক্ত আর আত্মত্যাগকে কেবল বক্তৃতার উপাদান না বানিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াটা যেকোনো রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব।
স্মৃতির এই টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও বিভ্রান্তি। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি যখন দাবি করেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে সুনির্দিষ্ট ‘ডিজাইন’ ছিল এবং স্নাইপারের গুলিতে মানুষ মারা গেছে, তখন তা গোটা আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁর এই মন্তব্য এমন একটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ ছাত্র-জনতা কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যার নেপথ্যে ছিল অন্য কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র। এ ধরনের বক্তব্য কেবল শহীদদের আত্মত্যাগের অবমূল্যায়নই নয়, বরং ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনকে একটি সাজানো নাটক হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টাকেও উসকে দেয়।
তবে দলের এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি অত্যন্ত পরিপক্ব রাজনীতিকের মতো জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান চেয়েছেন। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলন নতুন রাষ্ট্র গঠনের যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তা পারস্পরিক আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘ ষোলো বছরের তোষামোদির সংস্কৃতি যে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, সে বিষয়েও তিনি সচেতন। তবে তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে রাজপথের আন্দোলন এখন কাঠামোগত সংস্কারের টেবিলে এসে পৌঁছেছে।
রাজনৈতিক এই পালাবদলের পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনাকে ঘিরে শিল্পের স্বাধীনতা, বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্টুন নিয়ে সমাজে এক গভীর মেরুকরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথিতযশা কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের আঁকা কার্টুনগুলো এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একটি কার্টুনে মোটা পেটে ‘জুলাই’ লেখা অবয়বকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, এটি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং তার শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলামকে লক্ষ্য করে আঁকা। সমালোচকদের দাবি, জুলাইয়ের মতো পবিত্র ও সর্বজনীন একটি অভ্যুত্থানকে এভাবে ব্যঙ্গ করা শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল।
কিন্তু রাজনৈতিক কার্টুনের অন্তর্নিহিত ব্যাকরণ ও দর্শনের গভীরে প্রবেশ করলে ভিন্ন একটি সত্য উন্মোচিত হয়। সাধারণত কার্টুন আঁকা হয় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, যাকে পরিভাষায় ‘পাঞ্চিং আপ’ বলা হয়। ২০২৬ সালের বাস্তবতায় এনসিপি বা এর নেতারা কোনো দুর্বল গোষ্ঠী বা ‘পাঞ্চিং ডাউন’-এর কাতারে পড়েন না। তাঁরা রাষ্ট্রের ক্ষমতার অন্যতম অংশীজন এবং জাতীয় সংসদের সদস্য। কার্টুনটিতে মূলত একটি গভীর রাজনৈতিক স্খলনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে যেমন দীর্ঘকাল ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নিজেদের দুর্নীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তেমনি চব্বিশের জুলাইকেও কি কেউ রাজনৈতিক অনৈতিকতার বর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে? এনসিপি যখন ক্ষমতার সমীকরণে এমন কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়, যাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তখন স্বভাবতই সেই রাজনৈতিক স্খলন সমালোচনার দাবি রাখে। শহীদদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়, কিন্তু জীবিত অংশীজনরা যদি সেই আত্মত্যাগের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছাতে শুরু করেন, তবে কার্টুনিস্টের তুলি তা ক্ষমা করবে না—এটাই শিল্পের শাশ্বত ধর্ম।
অবশ্য শিল্পের এই ‘অনাক্রম্যতা’ বা ইনডেমনিটি নিয়েও দার্শনিক বিতর্ক রয়েছে। কান্টের নান্দনিক স্বায়ত্তশাসন বা ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ মতবাদ দিয়ে রাজনৈতিক স্যাটায়ারকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। মেহেদী হকের আরেকটি কার্টুনে ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ইরেজার দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীকে মুছে ফেলার ইঙ্গিত রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, চব্বিশের জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সব মত, পথ, শ্রেণি ও লিঙ্গের মানুষের এক অভূতপূর্ব বহুত্ববাদী আন্দোলন। এই আন্দোলনে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ তরুণরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। কার্টুনটিতে যদি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য বা অন্য গোষ্ঠীর মুছে যাওয়ার আখ্যান তৈরি হয়, সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে একে ‘প্রতীকী স্থানচ্যুতি’ বা বায়াস-কনফর্মিক ব্যঙ্গচিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ রয়েছে। বিপ্লব-পরবর্তী সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণির যে চিরচেনা বিভ্রান্তি, দোলাচল এবং দ্রুত স্থিতিশীলতায় ফেরার আকুতি, এই বিতর্কিত কার্টুনগুলো তারই প্রতিচ্ছবি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে সুরক্ষার গ্যারান্টি দেয়, তেমনি তার একটি সামাজিক দায়বদ্ধতাও থাকে। তাই জুলাইয়ের কার্টুন নিয়ে চলমান এই বিতর্ক আমাদের সমাজে শিল্পের নীতিশাস্ত্র নিয়ে এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরের জন্ম দিয়েছে।
এতসব বিতর্ক, স্মৃতি চুরির রাজনীতি এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার পরও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো: জুলাই কি সত্যিই ব্যর্থ হয়েছে? অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হতাশাবাদীদের যুক্তির অসারতা প্রমাণিত হয়। যেকোনো গণ-অভ্যুত্থানের লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে গেলে তার প্রারম্ভিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হয়। শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনকাল ছিল গুম, খুন, লুটপাট, ডিহিউম্যানাইজেশন এবং চরম ভয়ের রাজত্ব। ‘মায়ের ডাক’-এর অনুষ্ঠানে গুম হওয়া সন্তানের পিতাদের আহাজারি, ভোট নামক প্রহসনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং ব্যাংক লুটের মহোৎসব—এগুলো কোনো রূপকথা ছিল না, ছিল বাংলাদেশের প্রতিদিনকার রূঢ় বাস্তবতা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় এবং অমোচনীয় সাফল্য হলো সেই দমবন্ধ করা ভয়ের সংস্কৃতির অবসান। আজ বাংলাদেশে আয়নাঘরের ত্রাস নেই, ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় গুমের শিকার হওয়ার ভয় নেই। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। সংসদ এখন আর একদলীয় স্তাবকতার রঙ্গমঞ্চ নয়, বরং সরকারি ও বিরোধী দলের গঠনমূলক বিতর্কের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক পরিসরে গুমবিরোধী কনভেনশনে স্বাক্ষর এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ মানবাধিকারের প্রশ্নে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল।
অবশ্যই জুলাইয়ের সব প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। পতিত স্বৈরাচার যে বিভাজন, ট্যাগিং এবং মালিকানার রাজনীতি শিখিয়ে গিয়েছিল, তা সমাজ থেকে রাতারাতি বিদায় নেয়নি। শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমনের মতো বিষয়গুলোতে এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে হয়রানিমূলক মামলার উদয় হওয়া প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গভীরে এখনো অনেক পচন অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু তাই বলে জুলাইয়ের অর্জনকে ব্যর্থ বলার কোনো সুযোগ নেই। ভাষা আন্দোলন বা মহান মুক্তিযুদ্ধও রাতারাতি তাদের সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু সেগুলো জাতির পথরেখা পালটে দিয়েছিল। ঠিক তেমনি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে এমন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে, যেখান থেকে আর পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
পরিশেষে বলা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ বাংলাদেশ এক জটিল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্মৃতির রাজনীতি নিয়ে দলগুলোর প্রতিযোগিতা, শিল্পীর তুলিতে ফুটে ওঠা সমকালীন রাজনীতির ব্যঙ্গ এবং কাঠামোগত সংস্কারের শ্লথগতি—সবকিছু মিলিয়েই এই রূপান্তরের আখ্যান রচিত হচ্ছে। ভুল-ভ্রান্তি, আক্ষেপ এবং অসম্পূর্ণতার পরও জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, কোনো স্বৈরাচারই অপরাজেয় নয় এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির কাছে যেকোনো অজেয় দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য। এখন সময় এসেছে জুলাইয়ের বহুত্ববাদী চেতনাকে ধারণ করে বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটানোর এবং একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার। তবেই চব্বিশের জুলাই ইতিহাসে কেবল একটি স্ফুলিঙ্গ নয়, বরং একটি চিরস্থায়ী আলোকবর্তিকা হিসেবে বেঁচে থাকবে।
- ফজলে রেজওয়ান করিম











0 comments:
Post a Comment