Monday, April 5, 2010

শেখ মুজিব ৯৩ হাজার পাক সেনাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন

1 comments
আটক রাজাকার-দালালেরা তাদের আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে সবাই খালাস হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়া কোনো নির্বাহী আদেশে আটক রাজাকার-দালালদের মুক্তি দেননি। লিখেছেনঃ আশেক আহমেদ
গত ২৫ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১০ প্রদান অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে আওয়ামী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় ২২ হাজার যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছিল, ১১ হাজারেরও বেশি আটক ছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তাদের ছেড়ে দেন। যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশও তিনি বাতিল করেন।
শেখ হাসিনা ১১ হাজার রাজাকার দালালকে ছেড়ে দেয়ার জন্য জিয়ার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ৯৩ হাজার পাক সেনাকে কে ছেড়ে দিয়েছিল, সে কথা তিনি বলতে মনে হয় শরম পেয়েছেন। তার পিতা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশে আত্মসমর্পণকারী ৯৩ হাজার পাক সেনাকে ‘সসম্মানে’ বিনা শর্তে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে ছিলেন! তার মরহুম পিতার এই ঐতিহাসিক ‘অবদানটির’ কথা তিনি কখনও বলেন না। প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে পাক বাহিনীর সহায়তাকারী দালাল- রাজাকারদের বিরুদ্ধে তিনি এখন সোচ্চার হয়েছেন। জনগণের সঙ্গে এর চেয়ে বড় ধোঁকাবাজি আর কি হতে পারে!
মরহুম শেখ মুজিব নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, হানাদার পাক বাহিনীর সেনারা এদেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে। অথচ তিনি ৯৩ হাজার পাক সেনার মধ্যে মাত্র ১৯৫ জন পাক সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন। আরো দুভার্গ্যরে বিষয় যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শেখ মুজিব এই ১৯৫ জন পাক সেনারও বিচার করেননি। তাদেরকেও তিনি ছেড়ে দিয়েছেলেন। অথচ শেখ মুজিব লন্ডন হতে ভায়া দিল্লি দেশে ফেরার পর রেসকোর্স ময়দানে সমবেত লাখ লাখ মানুষের সামনে ঘোষণা করেছিলেন এই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পাক হানাদার বাহিনীর সেনাদের বিচার করা হবে। যে জনগণের সামনে তিনি ৯৩ হাজার পাক সেন্যর বিচার করার ওয়াদা করেছিলেন, ৯৩ হাজার পাক সেনাকে বেকসুর খালাস দেয়ার সময় তিনি সেই জনগণের কোনো মতামত নেয়ারও প্রয়োজন মনে করেননিÑ এমনকি এ বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি। ৩০ লাখ মানুষ হত্যাকারী, ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনকারী ৯৩ হাজার পাক সেনাকে তিনি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে বিনা বিচারে ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যদি একজন সত্যিকার রাজনীতিক হতেন এবং তিনি যদি সত্যি-সত্যিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতেন, তবে তিনি ৯৩ হাজার পাক সেনাকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়ার জন্য তার পিতা শেখ মুজিবের কঠোর সমালোচনা করতেন। কিন্তু তার পিতৃভক্তি এতো প্রবল যে প্রশংসা ছাড়া তার পিতার কোনো দোষত্রুটি তিনি খুঁজে পান না। শেখ মুজিব শুধু ৯৩ হাজার পাক সেনাকে মুক্তি দিয়েই ক্ষান্ত হননি। তিনি পাক বাহিনীর সহযোগী দালাল, রাজাকার, আল-বদরদের প্রতিও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী ৯৩ হাজার পাক সেনাকে ছেড়ে দেয়ার পর দালাল, রাজাকারদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর তাদের আটক রাখার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। তাই আটক রাজাকার-দালালেরা তাদের আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট  করে সবাই খালাস হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়া কোনো নির্বাহী আদেশে আটক রাজাকার-দালালদের মুক্তি দেননি।
প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী ৯৩ হাজার পাক সেনাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে, দালাল-রাজাকারদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে স্বাধীনতার ৩৯ বছর  পর পাক বাহিনীর সহযোগী দালাল-রাজাকারদের ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিচারের সম্মুখীন করার পেছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছেÑ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে আগে ৯৩ হাজার পাক সেনার বিচার করতে হবে। ইয়াহিয়া, টিক্কা, নিয়াজী, রাও ফরমান আলী, ভুট্টোর বিচার করতে হবে। এসব প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে নিজামী, মুজাহিদ, দেলওয়ার হোসেন সাঈদীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা আইন প্রতিমন্ত্রীর একটি মন্তব্য হতেই প্রকাশ পেয়েছে। ৩১ মার্চ আইন প্রতিমন্ত্রী  এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এদেশে থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চিরতরে উচ্ছেদ করা হবে। বলাই বাহুল্য, ইসলামপন্থী রাজনীতিই আওয়ামীদের নিকট সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হিসেবে পরিচিত হয়। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আসল গোমর ফাঁস হয়েছে। ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করাই আসল উদ্দেশ্য।
মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি। বরং পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের তারা পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে আর রাজাকার-দালালদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের আহবান জানিয়েছে। পরবর্তীতে জনগণও এটা মেনে নিয়েছে। এই মীমাংসিত বিষয়কে স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর ইস্যু বানানো যে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রমূলক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, জাতি যদি বিভক্তও হয় তবু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। কি ভয়ংকর কথা! আশরাফ সাহেবের কাছে প্রশ্ন-জাতি বিভক্ত হয়ে দুর্বল হলে কারা লাভবান হবে? তাই সরকারের নিকট অনুরোধ শেখ মুজিব কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত সজাতি রাজাকার-দালালদের বিচারের নামে জাতিকে বিভক্ত না করে যদি মুরোদ থাকে তবে তৎকালীন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। মূল অপরাধীদের (পাক সেনাদের) ছেড়ে দিয়ে তাদের দোসরদের (দালাল-রাজাকারদের) বিচার করার কোনো যুক্তি নেই। যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশের সাহায্য চাওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, সরকার পাক সেনা নয়, দালাল রাজাকারদের বিচার করার কথা ঘোষণা করেছে, দালাল রাজাকাররা ’৭১ সালে এদেশে অপরাধ সংঘটিত করেছিল বিদেশে নয়। তাহলে বিদেশীদের কাছে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া কি অর্থ হতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। দালাল-রাজাকারদের যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন হলে সেটা এদেশের জনগণের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা প্রয়োজন, বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার উদ্দেশ্য কি?
সরকার যে বিচার নিয়ে একটি রাজনৈতিক খেলা খেলছে ও জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা করছে তা দালাল-রাজাকারদের যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণের জন্য বিদেশী রাষ্ট্রের কাছে ধরনা দেয়া হতেই স্পষ্ট হয়েছে। আরো লক্ষণীয়, আইনমন্ত্রী বলেছেন, সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র কিছুসংখ্যক যুদ্ধাপরাধীর প্রতীকী বিচার করা হবে। এর থেকেই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। প্রশ্ন হলোÑ সকল অপরাধীর বিচার করা হবে না কেন? যারা অন্যায় করেছে তাদের সবারই তো বিচার করা প্রয়োজন। একই অপরাধ করে কেউ শাস্তি পাবে আর কেউ পার পেয়ে যাবে এটা কেমন আইনের শাসন? আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কেবলমাত্র কিছু রাজনৈতিক নেতার বিচার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে ৯৩ হাজার পাক সেনা, ৩ লাখ বিহারীসহ প্রতিটি রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের বিচার করতে হবে। এক যাত্রায় দুই ফল ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। 

Friday, April 2, 2010

গবেষণা : বাংলাদেশে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি চর্চা

0 comments
যে-ভূখণ্ডে আজকের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে ভূখণ্ডে বহু প্রাচীনকাল থেকেই মানববসতি গড়ে উঠেছিল। কালে কালে এখানে নানা সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানুষের আগমন ঘটেছিল। ফলে কালক্রমে গঠিত হতে পেরেছিল বর্ণাঢ্য ও রক্তসঙ্কর বাঙালি জাতিসত্তা।

বগুড়ার মহাস্থানগড় প্রাপ্ত আশোকের ব্রাহ্মীলিপির নিদর্শন এখানকার মানবগোষ্ঠীকে সুপ্রাচীন সভ্যতা-সংস্কৃতির অংশীদাররূপে প্রতিপন্ন করে। কারণ মানবসভ্যতায় লিপির ব্যবহারকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়রূপে গণ্য করা হয়। তৎপরবর্তী পাল ও সেন আমলের অনেক শিলা ও তাম্রলিপিও এদেশে আবিষ্কৃত হয়েছে। পাল আমলের তালপাতায় লিখিত পুথিও পাওয়া গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-গ্রন্থাগারে রক্ষিত ১০৪৯ সংখ্যক তালপাতার পুথিটির কথা উল্লেখ করা যায়। প্রাচীন বাংলালিপিতে লেখা এ পুথিটির লিপিকাল ৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ।

পাল ও সেন আমলে এদেশে তালপাতা, গাছের বাকল প্রভৃতি লিখন উপকরণে যে অজস্র পুথি লেখা হয়েছিল, তা অনুমান করা যায়। কারণ এ অঞ্চলের শিক্ষার ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। আর শিক্ষিত মানুষ স্বাভাবিক কারণেই ‘ধর্মঅর্থকামমোক্ষ’ সাধনার জন্য প্রাচীন পুথি অনুলিখন করে ব্যবহার করত। সেন আমলের পরে এদেশে মুসলিম সাহিত্য সংস্কৃতিরও বিকাশ হয়। তাই আঠার শতক পর্যন্ত এদেশে যুগপৎ হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিমসভ্যতাসংস্কৃতি-ঐতিহ্যভিত্তিক সুবিপুল সাহিত্যসম্ভার রচিত হয়। এগুলোর প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল মূলত হস্তলিখিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপির মাধ্যমেই।

বেশ কয়েক শত বছর ধরে এদেশে হাজার হাজার পুথি এভাবে লেখা হয়েছিল ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার আগেই। ব্রিটিশ ভারতে উনিশ শতক থেকেই পুথিসংগ্রহের কাজ শুরু হয়। কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ, এশিয়াটিক সোসাইটি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রহে এভাবে বিপুলসংখ্যক নানাউপকরণে-লেখা পুথি জমানো সম্ভব নয়। আরও কিছু ব্যক্তিগত ও সাংস্থিক সংগ্রহে বেশকিছু পুথি সংগৃহীত হয়। এভাবে পুথি সংগ্রহের উদ্যোগ-আয়োজনের একটা অনুকূল পরিবেশ উপমহাদেশে গড়ে ওঠে। আমাদের এ অঞ্চলে দুই একজন ব্যক্তিই প্রথমে এ কাজে এগিয়ে আসেন। চট্টগ্রামের প্রয়াত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ এবিষয়ে অগ্রণী পুরুষ ছিলেন। তাঁর কাজের অসাধারণতা এখানে যে কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই তিনি হিন্দু-মুসলিম পুথির এক বিরাট সংগ্রহভাণ্ডার গড়ে তোলেন। তাঁর সুযোগ্য ‘শিষ্য’ নোয়াখালি-কুমিল্লার প্রয়াত অধ্যাপক আলী আহমদ বিপুলসংখ্যক মুসলিম পুথি সংগ্রহ করেন। পুথিকে এঁরা পুত্রের মত আদর করতেন। তাঁদের পুথিপ্রীতি কিংবদন্তীতুল্য।

আবদুল কমির সাহিত্যবিশারদ কোনো পুথিসংগ্রহপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেননি। জীবনসায়াহ্ণে তিনি তার মুসলিম পুথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করে যান। অধ্যাপক আলী আহমদকে, তাঁর পুথিসহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক নিয়ে আসেন ‘কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড’-এর (এখনকার বাংলা একাডেমীর সঙ্গে একীভূত) চাকরিস্থলে। তখন (১৯৬৪ সালে) কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক ছিলেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক। অধ্যাপক আলী আহমদ যতদিন উন্নয়ন বোর্ডের চাকরিতে ছিলেন, ততদিন সেসব পুথির যতœ তিনি যথাসাধ্য নিয়েছেন। পরে আলী আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে আসেন। আমৃত্যু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রহের পুথিগুলোর সেবায় নিয়োজিত থাকেন। টাঙ্গাইলের অধ্যাপক মুফাখ্খারুল ইসলামও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু দুষ্প্রাপ্য মুসলিম পুথি সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলো এখনও তার বাসায় আছে।

বাংলাদেশে গোষ্ঠীগত উদ্যোগে বেশ কিছু পুথি সংগৃহীত হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহ ও বাংলা একাডেমীর সংগ্রহই প্রধান। ঢাকার জাতীয় জাদুঘর ও কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিীতে কিছু পুথি রয়েছে। ঢাকার বাইরে পূর্বোক্ত রাজশাহীর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংগ্রহে পুথি রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকশ পুথি সংগৃহীত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে। কুমিল্লার রামমালা রিসার্চ লাইব্রেরিতে সুপ্রচুর প্রাচীন পান্ডুলিপির সংগ্রহ ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি জেলা ও উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরিতে পুথির সংগ্রহ আছে বলে আমরা জানি। এগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি, যশোর পাবলিক লাইব্রেরী প্রভৃতির নামোল্লেখ করা যায়। একদা জানা-অজানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ উদ্যোগী হয়ে এদেশের পুরোনো পুথি সংগ্রহ করেছিলেন। এখন আর এ ধরনের উদ্যোগের কথা শোনা যায় না।

ইতোপূর্বে আমরা দেশের পুথি সংগ্রহকার্যের একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছি। দেশের ছোট-খাট পুথি সংগ্রহ ভান্ডারগুলো তাদের সীমিত আর্থিক সামর্থ্যরে কারণে এখন আর পুথি সংরক্ষণ কাজে অর্থ ব্যয় করতে পারে না। ফলে পুথিগুলো তাদের জাতশত্রু পোকামাকড়, ধুলোবালি ও উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ার করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে ইতোমধ্যেই অংশত কিংবা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে।

পুথির সংগ্রহসংখ্যার বিপুলতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমী পুথিশালার কথা এদেশে গুরুত্বলাভ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার ত্রিশেক এবং বাংলা একাডেমীতে হাজার কয়েক পুথি রয়েছে।

[লেখক: ড. মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া
পি-এইচ.ডি (ঢাকা);
ডি.লিট. (রবীন্দ্রভারতী);
প্রফেসর, বাংলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]
উৎস: ইত্তেফাক

Thursday, March 11, 2010

সংগীত থেরাপি

0 comments
লিখেছেনঃ কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান
কথা হচ্ছিল পেশাদার আর্ট থেরাপিস্ট রেচেলের সঙ্গে। ব্রিটেনের একটি ক্যানসার হাসপাতালে কাজ করেন তিনি। ক্যানসার রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে পেইন্টিং সেশন করেন রেচেল। চিকিত্সার অংশ হিসেবে রোগীরা ছবি আঁকে। ছবি আঁকার অভিজ্ঞতা রোগীর জীবনীশক্তি বাড়ায়, রোগযন্ত্রণা সহনীয় পর্যায়ে রাখে। কখনো বা রোগীদের জন্য মাল্টিমিডিয়ায় বিশ্বসেরা পেইন্টিংয়ের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রেচেল বলছিলেন, একজন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীও আর্ট থেরাপির মাধ্যমে একটি নান্দনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
রেচেলের কথা শুনতে শুনতে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। রোগীর ন্যূনতম ওষুধ জোগাড় করতে যেখানে আমাদের হাসপাতালগুলোর নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে মৃত্যুকে নান্দনিক করার ভাবনা বিলাসিতা বলেই মনে হবে নিঃসন্দেহে। তবে পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নত বহু দেশেই এখন চিকিৎসায় সংগীত, চিত্রকলাসহ অন্য শিল্পকলার ব্যবহার হচ্ছে। ব্যাপারটি যে খুব ব্যয়সাপেক্ষ তা নয়, প্রশ্ন চিকিত্সা পরিমণ্ডলে এর গ্রহণযোগ্যতার। ইউরোপ এবং আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপশাখা হিসেবে আর্ট এবং মিউজিক থেরাপিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। পাশের দেশ ভারতেও মিউজিক থেরাপির ওপর উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।
বিশেষভাবে সংগীত চিকিত্সার কথা উল্লেখ রয়েছে পৃথিবীর প্রাচীন নানা শাস্ত্রে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে সংগীত চিকিত্সার কথা বলা হয়েছে। হিপোক্রিটাস তার গ্রন্থে একাধিকবার সংগীতের নিরাময় গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। দশম শতাব্দীতে সংগীত চিকিত্সা নিয়ে পুরো একটি বই লিখে ফেলেন প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ আল ফারাবি। সংগীত চিকিত্সার কথা বলেছেন ইবনে সিনাও। সম্প্রতি আমার সিরিয়ার ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সেখানকার আলেপ্পো শহরে চতুর্দশ শতকে তৈরি শুধু মানসিক রোগ চিকিত্সার একটি হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম। দেখেছি, সে হাসপাতালে পৃথক সংগীতকক্ষ রয়েছে, যেখানে চিকিত্সার অংশ হিসেবে নিয়মিত রোগীদের জন্য সংগীত পরিবেশন করা হতো। জেনেছি, আরব বিশ্বে চিকিত্সায় সংগীতের ব্যবহারের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। নানা ঢোল-বাদ্যের আবহে চিকিত্সার ব্যাপারটি আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, ভারতের আদিবাসীদের মধ্যে বহুকাল ধরেই প্রচলিত। ইউরোপে মিউজিক থেরাপি নিয়ে মেডিসিনা মিউজিকা নামে প্রথম একটি বই লেখেন রবার্ট ব্রাউন, ১৭২৯ সালে। আধুনিক চিকিত্সায় সংগীতের ব্যবহার শুরু বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রমা-আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার মাধ্যমে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ১৯৪৪ সালে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মিউজিক থেরাপির ওপর ডিগ্রি দিতে শুরু করে।
শরীর এবং মনের ওপর সংগীতের প্রভাব নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে পরবর্তী পর্যায়ে। দেখা গেছে, সংগীত মানুষের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি, মাংসপেশির স্থিতিস্থাপকতা, হরমোন নিঃসরণ, ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভের শিশু সংগীতে সাড়া দেয়। সারা পৃথিবীর ঘুমপাড়ানি গানের সুরে একটি মিল রয়েছে। এই সুরের সঙ্গে মানুষের হৃদপিণ্ডের গতির একটি সম্পর্ক আছে। এই সুর মায়ের পরিচিত হৃদস্পন্দনের মতো শিশুকে নিরাপত্তা দেয়। ইউরোপের অনেক হাসপাতালের প্রি-অপারেটিভ রুমে, লেবার রুমে সংগীত বাজে রোগীর মানসিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ব্যথা উপশমের লক্ষ্যে। মনে পড়ে, ব্রিটেনের এক হাসপাতালে ইসিজির টেবিলে যতক্ষণ শুয়ে ছিলাম, পাশে ততক্ষণ বাজছিল বাখের সংগীত। হাসপাতালের পরিবেশে সব সময় যে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তার আবহ থাকে, সংগীত তাকে প্রশমিত করে রেখেছিল। সাম্প্রতিক কালে হূদরোগ, বিশেষ করে স্ট্রোকের রোগীর পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নানা দেশে ব্যাপকভাবে সংগীতের ব্যবহার হচ্ছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রোকের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের যে ক্ষতি হয়, তাতে রোগীর প্যারালাইসিসসহ অন্যান্য জটিলতা নিরাময়ে বিভিন্ন রিহ্যাবিলিটেটিভ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংগীতকে যুক্ত করলে নিরাময়ের গতি বহুমাত্রায় বেড়ে যায়। আজকাল করপোরেট জগতের স্ট্রেস উপশমের জন্যও ব্যবহার হচ্ছে মিউজিক থেরাপি।
পাশাপাশি মানসিক এবং আবেগজাত স্বাস্থ্য রক্ষায় চিত্রকলার ব্যবহারেরও রেওয়াজ রয়েছে নানা দেশে। শুরুতেই আর্ট থেরাপিস্ট রেচেলের কথা বলছিলাম। মানসিক রোগের ডায়াগনস্টিক এবং থেরাপিউটিক উভয় উদ্দেশ্যেই চিত্রকলার ব্যবহার হচ্ছে দীর্ঘকাল। রোগীকে ছবি দেখিয়ে কিংবা ছবি আঁকতে দিয়ে বিশেষ কিছু মানসিক রোগের মাত্রা নির্ধারণ করা যায়। আবার ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে রোগীর চিন্তার ক্ষমতা, বিচারবোধ, আত্মবিশ্বাস বাড়ে; যা তার রোগ নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। এ ছাড়াও সাধারণভাবে মানসিক চাপ বা আবেগগত বিপর্যয়ে থাকা কোনো মানুষকে রং এবং রেখার জগতে নিয়ে তার সংকট প্রশমিত করা যায়। দেখা গেছে, অনেক অব্যক্ত অনুভূতি, আবেগ, ভাবনা কথায় নয়, বরং রং ও রেখার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে দিয়ে মনকে নির্ভার করা যেতে পারে। এমনকি নাটকও এখন ঢুকে পড়েছে চিকিৎসার জগতে। ‘সাইকো ড্রামা’ ধারণায় নাটকের মাধ্যমে মানসিক সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়ে থাকে। অপরাধ শুদ্ধির প্রক্রিয়া হিসেবে আমেরিকার অনেক কারাগারেই নাটকের ব্যবহার হচ্ছে। ব্রিটেনের যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছি, সেখানকার মেডিকেল ফ্যাকাল্টির শ্রেণীকক্ষে নাটকের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ছাত্রদের ডাক্তারি কেসগুলো পড়াতে দেখেছি।
আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন নানা জ্ঞানকাণ্ড পরস্পরের দেয়াল ভেঙে একে অন্যের সঙ্গে মিশে নিজেদের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলছে। মন্দ কী যদি রক্ত, অ্যান্টিসেপটিক, স্যালাইন টিউবের ভীতিকর আবহে সুরেরও প্রবেশাধিকার থাকে।

Saturday, February 27, 2010

হাইতি

0 comments
নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী হাইতি
রাজধানী: পোর্ট অব প্রিন্স
রাষ্ট্রভাষা: ফরাসি, হাইতিয়ান
রাষ্ট্রপতি: রেনে প্রেভাল
এলাকা: ২৭ হাজার ৭৫১ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যা: ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩৬ (২০০৯)
টেলিফোন কোড: + ৫০৯
গত ১২ জানুয়ারি হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়।

Friday, February 26, 2010

How to insert your signature in Yahoo Email

0 comments
First, your signature animation must be uploaded to online web space / Or copy paste the image if you have received in email ( Make sure its hosted on website and hotlinks are not disabled )


Obtain your animated signature file and upload to your selected webspace.

You will then need to know the URL (online address) of the image.
which will look something like: http://www.mumbaihangout.org/m ysig.gif
where mumbaihangout.org is your selected image host.
and mysig.gif is the signature file we sent you that you should have uploaded.
If you view this address in your browser, you should see your animated signature.

SEE YOUR CHOSEN HOSTING PROVIDERS FAQ's FOR FULL DETAILS
Sign into your Yahoo mail account.
On the left of the screen select 'Mail Options' :

Then select 'General preferences' :

Click on "color and graphics" option, or that it is selected as shown:

And

Back in the 'Mail Options' screen select 'Signature'.
Now follow these steps (make sure you know the online address where your signature image is stored)
Select 'Color and Graphics' and make sure both
'Add signature to all outgoing messages' & 'View HTML Source' are checked as shown below
1. Within the window enter the following:



using the URL where you uploaded your sig file as shown in figure above
                                                                                                            OR
Just COPY PASTE THE IMAGE ( THE SIGNATURE YOU LIKE ). BY Removing the click on

"View HTML Source" with this option you will able to Paste as IMAGE

2. Leave the rest blank and
Thats all you need to do for the setup.


2. SENDING YOUR SIGNATURE
Click on [Compose].
Compose your mail in the usual way
Make sure you click on " USE MY SIGNATURE" if you want to send your signature.

You will not see your animated signature on screen but have faith, click on send, and the recipient will be able to view it (you can always check the [Sent] mail folder to be sure)......that's it!

Monday, February 22, 2010

আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন?

0 comments
শুধু আঙুল নয়, পায়ের গোড়ালি, হাঁটু, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আমরা শব্দ করে ফোটাই। সাধারণত ধারণা করা হয়, আঙুল মোচড়ানোর সময় হাড়ে হাড়ে ঘষা লেগে বুঝি শব্দ হয়। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়। সেখানে হাড়ের মধ্যে ঘষা লাগে না। অস্থির সংযোগস্থলগুলো একগুচ্ছ সুতার মতো তন্তুর (লিগামেন্ট) বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। এই সন্ধি-বন্ধনী দুই পাশের হাড় ধরে রাখে। তন্তুগুলো রাবারের মতো কিছুটা স্থিতিস্থাপক। যখন কোনো কারণে হাত-পায়ের জোড়ায় অস্বস্তি লাগে, তখন আমরা ওই জোড়ায় চাপ বা হাড়ে মোচড় দিয়ে স্বস্তিলাভের চেষ্টা করি। চাপে সংযোগস্থলের হাড় দুই পাশে সামান্য সরে যায়। এতে হঠাত্ সেখানে কিছুটা ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়। তখন আশপাশের পেশি ও তন্তুকলায় সঞ্চিত তরল দ্রুত ওই শূন্যস্থানের দিকে ছুটে যায়। বিভিন্ন দিক থেকে ছুটে আসা তরল সৃষ্ট খালি জায়গায় এসে মিলিত হওয়ার সময় সামান্য শব্দ হয়, যেন একটি ক্ষুদ্র বিস্ফোরণের মতো ব্যাপার। এটাই আঙুল বা ঘাড় ফোটানো নামে পরিচিত। অবশ্য ছুটে আসা তরল ধীরে ধীরে চারপাশে আবার মিশে যায় এবং দুই পাশের হাড় আবার আগের মতো সন্ধি-বন্ধনীতে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয়। এ জন্য কিছুটা সময় লাগে। এ কারণেই একবার আঙুল ফোটানোর পর পরই আবার আঙুল ফোটালে কোনো শব্দ হয় না। সাধারণত আঙুল ফোটালে কোনো ক্ষতি হয় না। শুধু পাশের লোকজনের কানে লাগে। আঙুল বা ঘাড়ের অস্থি ফোটানোর কারণে অস্থি ক্ষয়জনিত আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয় না। তবে আঙুল ফোটানো একটি খারাপ অভ্যাস। অতিরিক্ত চাপ পড়লে হাড়ের ক্ষতি হতে পারে। ঘাড় ফোটানোর ব্যাপারেও সাবধান থাকা উচিত। কারণ, বেশি চাপ পড়লে ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Friday, February 12, 2010

অলিভার টুইস্ট

0 comments
সত্যিকারের দুর্ভাগ্য নিয়েই যেন জন্মেছিল অলিভার। জন্মের পরপরই সে তার মা’কে হারায়। হারিয়ে ফেলে তার সত্যিকারের পরিচয়। কেননা, যে হাসপাতালে তার অসুস্থ মা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, সেখানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পথ থেকে কুড়িয়ে। কেউ তাকে চিনত না, জানত না। তাই তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেল তার শিশু পুত্রের নাম ও বংশ পরিচয়। এরপর শিশু অলিভার স্থান পেল এক এতিমখানায়। সেখানে একদল দামাল ছেলের সাথে অযত্নে, অবহেলায় বেড়ে উঠতে থাকে।
অলিভারের বয়স যখন নয় বছর পূর্ণ হলো তখন তাকে নিয়ে আসা হলো এতিমখানার প্রধান কেন্দ্রে। কেন্দ্রের অন্যতম কর্মকর্তা মিঃ বাম্বল অলিভারের নাম রাখলেন- অলিভার টুইস্ট। এতিমখানায় পেট পুরে খেতে দেয়া হতো না, আধপেটা খেয়ে সে একেবারে কঙ্কালসার হয়ে গেল। একদিন আরেকটু খেতে চাইবার কারণে অলিভারকে মিঃ সোয়ারবেরী নামে এক কফিন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেয়া হলো। মিসেস সোয়ারবেরী কিশোর অলিভারকে দেখে খুশি হতে পারলেন না। তাদের বাড়িতে তাকে কাজের ছেলে হিসেবে থাকতে হতো। সবার খাওয়া হলে যা বাঁচতো তাই তাকে খেতে হতো। শুতে হতো টেবিলের নিচে, আর পান থেকে চুন খোয়া গেলেই শুনতে হতো কটুকথা। মারধোর করা হতো। কয়েকদিনের মধ্যে অলিভারের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো, একদিন ভোরবেলা সেখান থেকে পালিয়ে পায়ে হেঁটে লন্ডন যাত্রা করলো।
দীর্ঘ সাতদিন পায়ে হেঁটে একদিন সকালে ক্লান্ত, অবসন্ন ও ক্ষুধার্ত অলিভার লন্ডন শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছলো। সেখানে সে একটি দুষ্টু তরুণের পাল্লায় পড়ে। এই তরুণের নাম ডকিন্স। সে তাকে পকেটমার ও চোরদের আড্ডায় নিয়ে যায়। এখানে অলিভারের সাথে পরিচয় ঘটে দুষ্টুচক্রের সর্দার ফ্যাগিনের সাথে। প্রথমে অলিভার বুঝতে পারেনি যে সে অপরাধী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। সে বসে বসে লক্ষ্য করতো ফ্যাগিন বেশির ভাগ সময় তার শিষ্যদের পকেটমারের কৌশল শিখিয়ে থাকে।
একদিন ‘ডজার’ ও চার্লিবেটস্ নামে দুই চোরের সাথে অলিভারকে বাইরে পাঠানো হলো। তারা যখন একটি বইরের দোকানের সামনে এক বৃদ্ধ ক্রেতার পকেট মারছিল তখন আতঙ্কে পালাতে গিয়ে নির্দোষ অলিভার ধরা পড়ে প্রহৃত হল এবং থানায় গেল। অলিভার নির্দোষ জেনে বৃদ্ধ ভদ্রলোক মিঃ ব্রাউন অলিভারকে নিজের বাড়ি নিয়ে গেলেন পোষ্য-পুত্র রূপে পালনের উদ্দেশ্যে। দিনগুলো ভালই কাটছিল। কিন্তু এখানে দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়লো না। একদিন কয়েকটি বই এবং ৫ পাউন্ডের একটি নোট হাতে নিয়ে অলিভারকে বইয়ের দোকানে পাঠানো হল। পথিমধ্যে ন্যান্সি নামের এক দুষ্টু মেয়ে ও বিল সাইক্স তাকে জোর করে ফ্যাগিনের কাছে নিয়ে গেল এবং সেখানে আটকে রাখলো। কিছুতেই সে অলিভারকে মুক্তি দিতে রাজী হলো না।
এক রাতে বিল সাইক্স অলিভারকে নিয়ে টেমস্ নদীর তীরে এক বাড়ির সামনে গেল। চুরি করার উদ্দেশ্যে শীর্ণকায় অলিভারকে রান্নাঘরের ছোট জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিল। চুরির কোন ইচ্ছেই তার ছিল না। মনস্থির করেছিল বাড়ির মালিককে চোরদের উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবে। কিন্তু তার আগেই বাড়ির কাজের লোক তার উপস্থিতি টের পেয়ে অলিভারকে গুলি করে সাংঘাতিক জখম করে। বিল সাইক্স তাড়াতাড়ি করে অচেতন অলিভারকে জানালার বাইরে টেনে দৌড়ে পালাতে লাগলো। পেছনে মানুষের নাগালের বাইরে যেতে অর্ধমৃত অলিভারকে একটা মাঠে ফেলে পালিয়ে গেল।
পরদিন অলিভার জ্ঞান ফিরে পেল। গত রাতে যে বাড়িতে গিয়েছিল সেখানে নিজেকে টেনে নিয়ে গেল। গৃহকর্ত্রী ও তার পালিত কন্যা রোজ তার সরলতায় মুগ্ধ হলো। তাকে তারা পুলিশে দিল না। বুঝলো সে ইচ্ছে করে চোরের দলে যায়নি। অলিভার তার অতীত জীবনের কথা সব খুলে বললো। তার দিনগুলো এখানে ভালই কাটছিল কিন্তু একদিন জানালার বাইরে বিল সাইক্স ও তার এক অসৎ মঙ্কস জানালার বাইরে থেকে তাকিয়ে রইলো। অলিভার চিৎকার করে উঠলো। চিৎকার শুনে তারা পালিয়ে গেল। সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে অলিভারকে রক্ষা করতে লন্ডনে পাঠানো হলো। বিল সাইক্সের সঙ্গিনী ন্যান্সির হৃদয়ে অলিভারের প্রতি এক মমতা কাজ করতো। লুকিয়ে সে মঙ্কস্ ও ফ্যাগিনের কথা শুনে ব্রাউনলোকে সব জানায়। মিঃ ব্রাউনলো ও মি. লোসবোর্ন জানতে পারে মঙ্কস নামের ব্যক্তিটি আসলে তার বৈমাত্রেয় ভাই। সে সব সম্পতি গ্রাস করতে চায়। তাদের পিতার উইলে ছিল অলিভার যদি কোন দুর্নামের কাজ করে তবে সে কোন কিছুই পাবে না। অলিভারকে পৈত্রিক সম্পতি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে চুরির কাজে লিপ্ত করার জন্য ক্যাগিনকে নিয়োজিত করেছিল মঙ্কস্। ফ্যাগিন এই কাজে ন্যান্সি এবং বিল সাইক্সের ওপর ন্যস্ত করে, কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।