Monday, July 5, 2010

টাইটানিক

0 comments
ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল এবং বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে টাইটানিকের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ১৯১২ সালে জাহাজটি আশ্চর্যজনকভাবে ডুবে গেলেও আজ পর্যন্ত একে ঘিরে মানুষের আগ্রহ এতটুকু কমেনি।
টাইটানিক জাহাজের পূর্ণনাম RMS TITANIC (RMS-Royel Mail Ship)। এটি ছিল ব্রিটিশ শিপিং কোম্পানি হোয়াইট স্টার লাইনের মালিকানাধীন। এটি তৈরি করা হয় ইউনাইটেড কিংডম-এর বেলফাস্টের হারল্যান্ড ওলফ্ শিপইয়ার্ডে। জন পিয়ারপন্ট মরগান নামক একজন আমেরিকান ধনকুবের এবং ইন্টারন্যাশনাল মার্কেন্টাইল মেরিন কোং-এর অর্থায়নে ১৯০৯ সালের ৩১ মার্চ সর্বপ্রথম টাইটানিকের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তখনকার প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন (বর্তমান প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ৩১ মার্চ ১৯১২ সালে। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৮৮২ ফুট দুই ইঞ্চি (প্রায় ২৬৯.১ মিটার) এবং প্রস্থ ছিল প্রায় ৯২ ফিট (২৮ মিটার)। এ জাহাজটির ওজন ছিল প্রায় ৪৬ হাজার ৩২৮ লং টন। পানি থেকে জাহাজটির ডেকের উচ্চতা ছিল ৫৯ ফুট (১৮ মিটার)।

এ জাহাজটি একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৪৭ জন প্যাসেঞ্জার ও ক্রু বহন করতে পারত। ব্যয়বহুল এবং চাকচিক্যের দিক থেকে তখনকার সব জাহাজকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। টাইটানিকের ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য বিলাসবহুল ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একই সঙ্গে ৫৫০ জন খাবার খেতে পারত। এছাড়াও এর অভ্যন্তরে ছিল সুদৃশ্য সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম, স্কোয়াস খেলার কোট, ব্যয়বহুল তুর্কিস বাথ, ব্যয়বহুল ক্যাফে এবং ফার্স্ট ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাস উভয় যাত্রীদের জন্য আলাদা বিশাল লাইব্রেরি। তখনকার সব আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছিল এ জাহাজটিতে। এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও ছিল খুবই উন্নত ধরনের। এ জাহাজের ফার্স্ট ক্লাসের জন্য তিনটি এবং সেকেন্ড ক্লাসের জন্য একটিসহ মোট চারটি লিফটের ব্যবস্থা ছিল।

জাহাজের ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্যাকেজটিতে আটলান্টিক একবার অতিক্রম করতেই ব্যয় করতে হতো তখনকার প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ ডলার (যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৯৫ হাজার ৮৬০ ডলার বা বর্তমান বাংলাদেশি টাকায় ৬৭ লাখ টাকারও বেশি)।

টাইটানিক প্রায় ৬৪টি লাইফবোট বহন করতে সক্ষম ছিল, যা প্রায় ৪০০০ লোক বহন করতে পারত। কিন্তু টাইটানিক আইনগতভাবে যত লাইফবোট নেওয়া দরকার তার চেয়ে বেশি ২০টি লাইফবোট নিয়ে যাত্রা করেছিল যা টাইটানিকের মোট যাত্রীর ৩৩% বা মাত্র ১ হাজার ১৭৮ জন যাত্রী বহন করতে পারত।

টাইটানিকের ক্যাপ্টেন ছিলেন বিশ্বজুড়ে 'নিরাপদ ক্যাপ্টেন', 'মিলিয়নিয়ার ক্যাপ্টেন' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে খ্যাত এবং ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার এডওয়ার্ড জন স্মিথ। তার নেতৃত্বে টাইটানিক ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

১৪ এপ্রিল ১৯১২ তারিখ রাতে নিস্তব্ধ সমুদ্রের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রিরও কাছাকাছি নেমে যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও চাঁদ দেখা যাচ্ছিল না। সামনে আইসবার্গ (বিশাল ভাসমান বরফখণ্ড) আছে এ সংকেত পেয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন জাহাজের গতি সামান্য দক্ষিণ দিকে ফিরিয়ে দেন। সেদিনই দুপুর এবং বিকেলের দিকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন জাহাজ থেকে রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাইটানিকের সামনে বড় একটি আইসবার্গ আছে বলে সতর্ক করে দেয় টাইটানিককে। কিন্তু টাইটানিকের রেডিও অপারেটরদের অবহেলার কারণে এই তথ্য টাইটানিকের মূল যোগাযোগ কেন্দ্রে পেঁৗছায়নি। সেদিনই রাত ১১:৪০-এর সময় টাইটানিকের পথ পর্যবেক্ষণকারীরা সরাসরি টাইটানিকের সামনে সেই আইসবার্গটি দেখতে পায় কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। টাইটানিকের ফার্স্ট অফিসার মুর্ডক আকস্মিকভাবে বামে মোড় নেওয়ার অর্ডার দেন এবং জাহাজটিকে সম্পূর্ণ উল্টাদিকে চালনা করতে বা বন্ধ করে দিতে বলেন। তবুও টাইটানিককে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মোড় নিতেই ডানদিকের আইসবার্গের সঙ্গে প্রচণ্ড ঘষা খেয়ে চলতে থাকে টাইটানিক। ফলে টাইটানিকের প্রায় ৯০ মিটার অংশ জুড়ে চিড় দেখা দেয়।

জাহাজটি সর্বোচ্চ চারটি পানিপূর্ণ কম্পার্টমেন্ট নিয়ে ভেসে থাকতে পারত। কিন্তু ৫টি কম্পর্টমেন্ট পানিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এর ওজনের কারণে জাহাজটি আস্তে আস্তে ডুবতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্যাপ্টেন স্মিথ মূল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে আসেন এবং জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। ১৫ তারিখ মধ্যরাতের দিকে টাইটানিকের লাইফবোটগুলো নামানো শুরু হয়। টাইটানিক বিভিন্ন দিকে জরুরি বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিল। যেসব শিপ সাড়া দিয়েছিল তারমধ্যে অন্যতম হলো মাউন্ট ট্যাম্পল, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং টাইটানিকের সহোদর অলিম্পিক। টাইটানিকের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হতে দূরবর্তী একটি জাহজের আলো দেখা যাচ্ছিল যার পরিচয় এখনো রহস্যে ঘেরা।

রাত ০২:০৫-এর দিকে জাহাজের সম্পূর্ণ মাথাই পানির প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। ০২:১০-এর দিকে প্রপেলারকে দৃশ্যমান করে দিয়ে জাহাজের পেছনের দিক উপরে উঠতে থাকে। ০২:১৭-এর দিকে জাহাজের সামনের দিকের ডেক পর্যন্ত পানি উঠে যায়। ওই মুহূর্তেই শেষ দুটি লাইফবোট টাইটানিক ছেড়ে যায় বলে এত বিস্তারিত জানা গেছে। জাহাজের পেছনের দিক ধীরে ধীরে আরো উপরের দিকে উঠতে থাকে। এসময় জাহাজের বিদ্যুতিক সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায় এবং চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই ভারের কারণে টাইটানিকের পেছনের অংশ সামনের অংশ থেকে ভেঙে যায় এবং জাহাজের সম্মুখভাগ সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে চলে যায়। বায়ুজনিত কারণে এ অংশটি কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর রাত ০২:২০-এর দিকে ধীরে ধীরে জাহাজের বাকি অংশটিও সমুদ্রের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। টাইটানিক ত্যাগ করা লাইফবোটগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি লাইফবোট আবার উদ্ধার কাজে ফিরে এসেছিল। দুটি লাইফবোট ৮-৯ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে। ভোর ০৪:১০-এর দিকে কার্পেথিয়া জাহাজটি এসে পৌঁছয় এবং বেঁচে থাকাদের উদ্ধার করা শুরু করে। সকাল ০৮:৩০ মিনিটে জাহাজটি নিউইয়র্কের দিকে রওনা দেয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে খুব অল্পসংখ্যক মানুষই জীবিত ফিরে আসতে পেরেছে। টাইটানিক দুর্ঘটনায় অসংখ্য পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়েছিল। কেবলমাত্র সাউদাম্পটনের প্রায় ১০০০ পরিবার সরাসরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া এ জাহাজটি সাইড স্ক্যান সোনার পদ্ধতিতে ১৯৮৫ সালে পুনরায় আবিষ্কার করা হয়। এর আগে টাইটানিককে পুনরাবিষ্কারের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১২৪৬৭ ফুট বা ৩৮০০ মিটার নিচে নীরবে সমাহিত হয়ে আছে টাইটানিক, হয়ত থাকবেও চিরদিন। বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণার জন্য এখনো এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি আর বরফের প্রকোপে ডুবন্ত টাইটানিক আস্তে আস্তে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই টাইটানিক সাগরবক্ষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

টাইটানিক সারা বিশ্বে এতটাই পরিচিতি পেয়েছিল যে, এর উপর ভিত্তি করে অসংখ্য প্রতিবেদন চিত্র এবং ছায়াছবি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে জেমস ক্যামেননের 'টাইটানিক' ছবিটি রেকর্ড ২০০ মিলিয়নেরও অধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সারা বিশ্বে টাইটানিক প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ বিলিয়ন (১৮৩৫ মিলিয়ন) ডলার আয় করে এবং আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ১১টি অস্কারসহ আরো অন্যান্য ৭৬টি পুরস্কার জিতে নেয়। টাইটানিক ডোবার ৮৫ বছর পরও এর প্রতি মানুষের আগ্রহ একটুও কমেনি ববং বহুগুণে বেড়েছে।

অনেকেরই ধারণা ছিল টাইটানিক জাহাজে কোনো অভিশাপ ছিল। এ যুক্তি প্রমাণ করার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছিল টাইটানিকের নম্বর ৩৯০৯০৪। পানিতে এর প্রতিবিম্বের পাশ পরিবর্তন করলে হয় no pope। এছাড়াও টাইটানিককে ঘিরে আরো অনেক গল্পের প্রচলন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে অসংখ্য বিশেষজ্ঞ টাইটানিককে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু এরপরও টাইটানিক চিরকালই রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছে।
কোনো দিনও ডুববে না দাবি করেছিল টাইটানিক। কিন্তু ১৯১২ সালে প্রথম বিহারেই ১৫০০ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিলাসবহুল টাইটানিক। এরপর শুরু হয় ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান। প্রচারিত হতে থাকে নানা রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। শত বছর পার হয়ে গেলেও আজো মানুষ সঠিক কারণ জানে না! অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ এর পেছনে কোন না কোন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কোনো প্রকার সূত্র ছাড়াই বলছেন টাইটানিক ডোবার পেছনের মনগড়া কাহিনী। ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবরে টাইমস জানিয়েছে, এরকমই এক রহস্যময় কাহিনী।
টাইটানিক জাহাজে নাকি ছিল মিসরীয় এক রাজকুমরীর অভিশপ্ত মমি। বলা হয় মমির অভিশাপের কারণেই ভাসমান বরফদ্বীপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল টাইটানিক। গল্পটি বহু বছর ধরে প্রচারিত হলেও এর পালে বিশেষ হাওয়া লাগে অস্কার বিজয়ী টাইটানিক ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর। সত্যিই কী তাই? এরকমটি বলার অনেক কারণও অবশ্য রয়েছে। সেই রাজকুমারীর নাম ছিল আমেন-রা। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে মারা যান তিনি।

১৮৯০ সালের শেষার্ধে এক ধনী ইংরেজ লুঙ্রের কাছে এক প্রত্নতাত্তি্বক খননকাজ দেখতে যান। তিনি সেখান থেকেই কেনেন কফিনশুদ্ধ রাজকুমারীর এই মমিটি। এরপর তিনি জাহাজে করে মমিটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন কিন্তু বন্দরে মমিটি গ্রহণ করার জন্য নিজে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। তিনি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবিকই তাকে আর কোনোদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গী ছিল তিনজন। মমির অভিশাপ তাদেরও রেহাই দেয়নি। একজন কিছুদিন পরই মারা যান, দুর্ঘটনায় একজনের হাত কাটা পড়ে আর অপরজন দেউলিয়া হয়ে যান। কফিনটি ইংল্যান্ডে পৌঁছলে একজন ব্যবসায়ী তা কিনে নেন। এর ফলে সেই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন মোটর দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তার বাড়িতে আগুন লাগে। মমিটিকে অভিশপ্ত মনে করে সেই ব্যক্তি এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করে দেন। মিউজিয়াম এটিকে সাদরে গ্রহণ করল। কিন্তু মিউজিয়ামের কর্মচারীরা রাতের বেলা কফিনের ভেতর থেকে তীব্র কান্নার শব্দ শুনতে পেত। সকালবেলা প্রদর্শনী কক্ষের জিনিসপত্রগুলো সব এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেল। এরই মধ্যে মারা গেল এক প্রহরী। এ কথা জানতে পেরে এক ফটোগ্রাফার কফিনের ছবি তুলে আনলেন। ছবি ডেভেলপ করার পর ছবিতে যে বীভৎস রূপ তিনি দেখলেন তাতে আত্দহত্যা করেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজলেন। ব্রিটিশ মিউজিয়ামও আর এসব সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু মমিটির কুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে, এ থেকে তারা খুব সহজে মুক্তি পায়নি। অবশেষে একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ সবকিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে কিনে নিলেন মমিটি আর টাইটানিকে চড়িয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা। তবে এই গল্পের আরেকটি ভার্সনে বলা হয়, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ টাইটানিকের এক নাবিককে ঘুষ দিয়ে মমিটি লাইফবোটে তোলেন এবং এটি আমেরিকা পৌঁছায়। এরপর মমিটি আবার হাতবদল হয়ে আরো কয়েকবার সমুদ্রবিহার করে অবশেষে সাগরতলে আশ্রয় নেয়।

এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা শিপিং রেকর্ডে খোঁজ করে টাইটানিকে কোনো মমি তোলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ নাকি এটি গোপনে বিদেশে পাচার করছিলেন। আবার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোনো যাত্রীও লাইফবোটে মমি ওঠানোর কথা উল্লেখ করেননি। তাছাড়া কোনো উদ্ধারকারীও মমির কথা তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেননি।

সম্ভবত এই গল্পের সূচনা হয় ডগলাস মুরে ও টি. ডবি্লউ. স্টিড নামক দুই ইংরেজের কাছ থেকে। তারা দাবি করেন যে, তাদের এক সহযোগী ইজিপ্ট থেকে একটি মমি কিনে তার বাসার বসার ঘরে এটি সাজিয়ে রেখেছিল। পরদিন সকালে দেখা গেল ঘরের ভঙ্গুর জিনিসপত্রগুলো ভেঙে চূরমার হয়ে গেছে। এবার ঘর পাল্টে দেওয়া হলো। কিন্তু পরের সকালে দেখা গেল একই কাণ্ড। দুজনই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমির কফিনটি দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুই কফিন, আসলে সেখানে কোনোদিনই কোনো মমি ছিল না। কফিনের ডালার গায়ের ভীতিকর ছবিটি দেখে তারা বুদ্ধি আঁটে। ভাঙচুর আর ভয়ঙ্কর ডালার গল্প দুটি জোড়া দিয়ে নতুন গল্পটি বিক্রি করে দিলেন পত্রিকার কাছে। পরে এই কাহিনীতে ঘটে টাইটানিকের অন্তর্ভুক্তি। এ খবর প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরো অনেক পত্রিকায়।

সম্ভবত এই গল্পে টাইটানিকের অংশটুকু ঢোকানোর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল ১৮৩৮ সালে মেনকরের কফিন হারিয়ে যাওয়া। প্রাচীন রাজত্বকালের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া এই কফিনটি আনা হচ্ছিল ইজিপ্ট থেকে ইংল্যান্ডে। দ্য বিট্রাইস নামের জাহাজটি কার্টাগিনার কাছে কোথাও ডুবে গেলে মমিটিও সাগরতলে নিমজ্জিত হয়।

তবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এসব কাহিনী সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। আর রাজকুমারী আমেন-রা'র কফিনটি এখনো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বহাল তবিয়তেই আছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক আসে শুধু এই অভিশপ্ত মমির কফিনটি দেখতে।

সত্যি ঘটনা যাই হোক না কেন টাইটানিক ডোবার রহস্য কিন্তু আজো রহস্যই রয়ে গেছে। এদিকে ১৯৯৭ সালের ব্যবসাসফল ছবি টাইটানিক আবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে তা সাধারণ ছবির মতো নয়, ত্রিমাত্রিক আকারে। ছবির পরিচালক জেমস ক্যামেরন জানান, ছবির ত্রিমাত্রিক সংস্করণ ২০১২ সালে মুক্তি পেতে পারে। ওই জাহাজডুবির শততম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা এ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বোঝাই যাচ্ছে, টাইটানিক নিয়ে আজো মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই।

পাবনা

0 comments
রাজশাহী বিভাগের অন্যতম একটি জেলা পাবনা। এ জেলার উত্তরে নাটোর ও সিরাজগঞ্জ, দক্ষিণে রাজবাড়ি ও কুষ্টিয়া, পূর্বে মানিকগঞ্জ ও সিরাগজঞ্জ এবং পশ্চিমে পদ্মা নদী, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলা অবস্থিত। পদ্মা, ইছামতি, গুমানী, হুরাসাগর এ জেলার প্রধান নদী। পাবনা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ নিয়ে কড়চার এবারের বেড়ানো।
জোড় বাংলা মন্দির:পাবনা শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে কালাচাঁদ পাড়ায় অবস্থিত ইট নিমির্ত প্রাচীন মন্দির। এর উপরের পাকা ছাদ দোচালা ঘরের মতো। পাশাপাশি সংযুক্ত দুটি দোচালা ঘরের মতো এ মন্দিরটি। মন্দিরটির সামনের দিকে তিনটি প্রবেশপথ আছে। মন্দিরটির সম্মুখভাগের বাইরে সুন্দর কারুকাজ করা। জানা মন্দিরটি বেশ উঁচু একটি ভিটির ওপর নির্মিত হয়েছিল। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে তার অনেকটা দেবে যায়। বর্তমানে এর ভিত্তি মাটি থেকে দুই ফুট উপরে আছে। মুর্শিদাবাদের নবাবের তহ্শিলদার ব্রজমোহন ক্রোরী কর্তৃক মন্দিরটি আঠারো শতকে নির্মিত।
পাবনা আদালত ভবন:শহরের কাচারিপাড়ায় অবস্থিত প্রাচীন আদালত ভবন। ১৮২২ সালে নির্মিত এ ভবনটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত মনোরম।
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ : ১৮৮৯ সালে পাবনা ইনস্টিটিউট নামে প্রতিষ্ঠিত জেলার প্রাচীনতম কলেজ। তৎকালীন ভারতের সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৯১১ সালে এর নামকরণ করা হয় এডওয়ার্ড কলেজ।
পাবনা মানসিক হাসপাতাল : জেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হেমায়েতপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম মানসিক হাসপাতাল। ১৯৫৭ সালে পাবনার তৎকালীন সিভিল সার্জন শহরের একটি পুরনো জমিদার বাড়িতে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৫৯ সালে এটি হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়।
পাকশী : জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান কার্যালয়। এখানে দেখা যাবে প্রাচীন রেল ইঞ্জিনসহ আরো অনেক কিছু। এছাড়া পাকশীতে আছে ব্রডগেজ রেল স্টেশন।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ : পাকশীতে অবস্থিত পদ্মা নদীর ওপর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু। ১৯১০ সালে শুরু করে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯১২ সালে। ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এ সেতুতে রেল চলে। পরে ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ লর্ড হার্ডিঞ্জ সেতুটির উদ্বোধন করেন। প্রায় ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্পাত নির্মিত এ ব্রিজটি তৈরিতে তৎকালীন প্রায় ৩ কোটি ৫১ লক্ষ ৩২ হাজার ১শত ৬৫ টাকা ব্যয় হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে সময় পাক বাহিনীর মর্টারের আঘাতে এর বারোতম স্প্যানটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
লালনশাহ সেতু : হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশাপাশি প্রায় তিনশ মিটার দূরত্বে পদ্মা নদীর ওপর অবস্থিত লালনশাহ সেতু। প্রায় ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৮.১ মিটার প্রশস্ত এ সেতুটি ২০০৪ সালে চালু হয়। এ অঞ্চলের বাউল সম্রাট ফকির লালনের নামে এর নামকরণ করা হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে শীতে এ সেতুর নিচে থাকে ধূ-ধূ বালচর। বর্ষায় প্রমত্তা পদ্মা। ফলে এ জায়গাটিতে এ দু সময়েই ভ্রমণে মিলবে ভিন্ন স্বাদ।
হন্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির : চাটমোহর সদর থেকে প্রায় উনিশ কিলোমিটার দূরে হন্ডিয়াল অবস্থিত জগন্নাথ মন্দির। উঁচু একটি বেদির ওপর ইট নির্মিত এ মন্দিরে একটি প্রবেশপথ আছে। প্রবেশপথের চারপাশ বেশ কারুকার্যমণ্ডিত। মন্দিরটি চারকোণাকোরে ক্রমশ সরু হয়ে উপরে উঠে গেছে। মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৯০ সালে জনৈক ভবানী প্রসাদ কর্তৃক মন্দিরটি সংস্কার করা হয়।
চলনবিল:চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল। চলনবিলের প্রধান দুটি অংশ যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কুরলিয়া ও দিক্ষি বিল চাটমোহরে অবস্থিত। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি পাবনা যাওয়া যায় সড়কপথে। প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার বাস চলাচল করে এ পথে। পাবনা এক্সপ্রেস, শ্যামলী পরিবহন, রাজা বাদশা পরিবহন, কিংস পরিবহন, বাদল গ্র্যান্ড চয়েজ, সরকার ট্রাভেলস । এসব পরিবহনের সাধারণ চেয়ার কোচ চলে এ পথে। ভাড়া ২৫০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ ও মধুমতি এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস, রূপসা এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস এবং সৈয়দপুর থেকে রূপসা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী এসে সেখান থেকেও পাবনা আসা যায়।

হিন্দু বিবাহ আইন প্রসঙ্গে

0 comments
বাংলাদেশ হিন্দু বিবাহ বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ড দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে। কোনোরকম দালিলিক প্রমাণ ছাড়া এ যাবৎ ভালোই চলছিল। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক জটিলতার যুগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তা নিরসনে দম্পতিদের ভোগান্তি হচ্ছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণ বাধ্যতামূলক করে হিন্দু আইনের সংস্কার করা উচিত। তাহলে বিবাহের প্রমাণপত্রটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই দালিলিক প্রমাণ হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে অনেক ছেলেমেয়ে বিদেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে স্বামী বা স্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৌখিক হিন্দু বিবাহ প্রমাণ অসাধ্য হয়ে পড়ে। এজন্য বিবাহের এফিডেভিট দাখিল অত্যাবশ্যক। যৌতুক নিরোধ আইন, নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রতিকার পাওয়ার জন্য বিয়ের প্রমাণপত্র প্রয়োজন পড়ে। স্বামী পরিত্যক্ত রমণী ভরণ-পোষণ আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হলে বিবাহ প্রমাণের জন্য নিবন্ধনপত্র প্রয়োজন। তাছাড়া স্বামী বা স্ত্রী সরকারি কর্মচারী হলে সরকারি পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রেও বিবাহের নিবন্ধনপত্র প্রয়োজন। তাহলে অনেক জটিলতার অবসান হবে। নাবালক সন্তানের অভিভাবক নির্ণয়, পিতৃত্ব নির্ধারণ, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক প্রমাণ ইত্যাদি আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধনপত্র প্রমাণ হিসেবে খুবই সহায়ক। সাবেক কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থার যুগে মৌখিক হিন্দু বিবাহ কোনো সমস্যা ছিল না। বর্তমানে সমাজ পরিবর্তন ও দ্রুত বিকাশের যুগে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রি সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে ইউনিয়ন বা গ্রামে পঞ্চায়েত এলাকাভিত্তিক একজন করে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়েছে। নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে তারা বিবাহ নিবন্ধন করেন। বিবাহ নিবন্ধনপত্রটি একটি আইনি দালিলিক প্রমাণ হিসেবে সর্বত্র গ্রহণযোগ্য। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ও ডিভোর্স ব্যবস্থা ভারতে কার্যকর হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে অবৈতনিক ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ হাজার হিন্দু শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হবে। হিন্দু ধর্মীয় সমাজব্যবস্থা হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রি আইন পাস হলে যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
কালীপদ ভট্টাচার্য,সভাপতি, সংস্কৃত কলেজ,
নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

Saturday, July 3, 2010

THE HISTORY OF THE INDIAN FLAG

0 comments
The flag that was first hoisted on August 7, 1906,
at the Parsee Bagan Square in Calcutta.

Called the 'Saptarishi Flag', this was hoisted in Stuttgart
at the International Socialist Congress held on August 22, 1907.


Associated with the names of Dr. Annie Besant and
Lokmanya Tilak, this flag was hoisted at
the Congress session in Calcutta during the
'Home Rule Movement'.


In the year 1921, a young man from Andhra presented
this flag to Gandhiji for approval. It was only after
Gandhiji's suggestion that the white strip and
the charkha were added.
This flag was suggested during the All India Congress
Committee session in 1931. However, the Committee's
suggestion was not approved.
 On August 6, 1931, the Indian National Congress
formally adopted this flag, which was first hoisted
on August 31.

Our National Flag, which was born on July 22, 1947,
with Nehruji's words, "Now I present to you not only the Resolution,
but the Flag itself". This flag was first hoisted at the Council House
on August 15, 1947.

The man who designed Tiranga versatile genius Lt. Shri Pingali Venkayya.

 Lt .Shri Pingali Venkayya
India's flag is a tricolor standard, with bands of saffron, white, and dark green. The   saffron represents courage, sacrifice, patriotism, and renunciation. It is also the color of the Hindu people. The green stands for faith, fertility and the land; it is the color of the Islam religion. The white is in the center, symbolizing the hope for unity and peace. In the center of the white band is a blue wheel with 24 spokes. This is the Ashoka Chakra (or "Wheel of Law"). The Chakra represents the continuing progress of the nation and the importance of justice in life. It also appears on the Sarnath Lion Capital of Ashoka " .

Friday, July 2, 2010

ফেসবুক ব্যবহারকারী

0 comments
বাংলাদেশে ফেসবুকএর ব্যবহারকারী প্রায় ৯ লাখ। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৪২ হাজার ৯২০ জন। আর নারী ২ লাখ ২২ হাজার ৮৮০ জন।

জব্বারের বলী খেলা

0 comments
এদেশের অসংখ্য নদীবিধৌত জনপদের কূলে কূলে গড়ে ওঠা সংস্কৃতির মাঝে পুষ্টি পেয়েছে কত না ইতিহাস। ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে লড়তে দেশের তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জব্বার প্রচলন করেন বলী খেলার। শুধু দেশজ ঐতিহ্যই নয়, বলী খেলা আজ ঠাঁই নিয়েছে ইতিহাসের সোনালি পাতায়। ২০১০ সনে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে বাংলা লিংকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হল ১০১তম বলী খেলা।

Thursday, July 1, 2010

কানাডা

0 comments
পহেলা জুলাই কানাডার জন্মদিন। এক সময় বলা হতো, বৃটিশ রাজত্বের সূর্যাস্ত নেই, বৃটিশের পূর্ব-পশ্চিম একাকার। সেই সূত্রে বৃটিশদের ঔপনিবেশিকতা ছিল কানাডাতেও। নিরীহ কানাডিয়ানদের প্রথমে ফ্রান্স পরে বৃটেন শাসন করেছে দীর্ঘ সময়। কানাডার ইতিহাসে অনেক রক্তাক্ত যুদ্ধ আছে, যুদ্ধের স্মৃতি আছে। আমাদের মহান বিজয় দিবসের মতো ১৮৬৭ সালের ১ জুলাই বৃটিশ কলোনী থেকে মুক্তি অর্জন করে। কানাডা মুক্ত হলেও বৃটেনের সাথে ভিন্ন বন্ধন রয়েছে। অর্থাৎ এখনো প্রথাগত বিধি মোতাবেক এ রাষ্ট্রের প্রধান হচ্ছেন- বৃটেনের রাণী এলিজাবেথ। তাঁর অনুকূলে প্রতিনিধিত্ব করেন নির্বাচিত গর্ভনর জেনারেল। যদিও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাণীর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। দক্ষিণ মহাসাগর, আটলান্টিকা এবং প্যাসিফিক এই তিন মহাসমুদ্রে পরিবেষ্টিত কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। অর্থাৎ ৯৯,৭৬, ১৮৬ বর্গকিলোমিটার। যার রাষ্ট্রীয় নাম- ডমিনিয়ন অব কানাডা। কানাডায় ১০টি প্রোভিন্স বা প্রদেশ এবং ৩টি টেরিটোরিস রয়েছে। আর জনসংখ্যা মাত্র ৩.৩ কোটি। এক সময় কাশ্মিরকে ভূস্বর্গ বলা হতো, এখন বলা হয় ভ্যাঙ্কুভারকে। শুধু তাই নয়, কানাডা শরণার্থী এবং ইমিগ্রেন্টদের জন্যও স্বর্গরাজ্য। বর্তমানে অভিবাসীর সংখ্যা প্রতি ৫ জন ক্যানাডিয়ানদের মধ্যে ১ জন। কানাডার সরকারি ভাষা ইংরেজি এবং ফ্যান্স হলেও এখানে শতাধিক ভাষায় কথা বলে ক্যানাডিয়ানরা। কারণ কানাডা মাল্টি কালচারাল অর্থাৎ বহুজাতির সংস্কৃতির দেশ। প্রত্যেকেই ভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ফলে ক্যানাডিয়ানরা জাতিগত বৈচিত্র্যতায় বর্ণিল। বর্তমান কানাডার সবচেয়ে ছোট প্রদেশ প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডকে বলা হয় গার্ডেন অফ কানাডা। এই মনোরম দ্বীপে বৃটিশরা বিদায় নেয়ার সময় বৈঠক করে কানাডাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এসময় অন্টারিও, কুইবেক, নভা স্কোশিয়া এবং নিউ ব্রাক্সউকি এই চারটি প্রদেশ যোগদান করে কিন্তু সেই সময় প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড যোগ দেয়নি। দিয়েছে অনেক পরে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রদেশ কানাডার সাথে যুক্ত হয়। ১৮৬৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির নাম কী হবে, কী হতে পারে, কী হলে সুন্দর হবে- এ নিয়ে আলোচনা, চিন্তা-ভাবনা চলে। কিংডম অব কানাডা, কানাডিয়া, কলাম্বিয়া, ক্যাবোটিয়া, উরমালিয়া, ব্রিটানিয়া, নিউ বৃটেন, লাউরেন্টিয়া, ইউনিয়ন অব দ্য ম্যারিটাইমস প্রভৃতি প্রস্তাবের পর চূড়ান্ত হয়- ডমিনিয়ন অব কানাডা। ১৩৪ বছর আগে কানাডা স্বাধীন হলেও এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন হয় এবং হচ্ছে। যেমন : ক ।। ১৯৬৪ সালে জাতীয় পতাকার নকশা করে তা অনুমোদন করা হয় ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। খ ।। ১৯৮০ সালের ১ জুলাই ‘ও কানাডা’ঃ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেয়া হয়। অথচ গানটির রচনাকাল ১৮৮০ সালে। গ ।। ১৯৮২ সালে ‘ডমিনিয়ন ডে’ নাম পরিবর্তন করে ১ জুলাই ‘কানাডা ডে’ ঘোষণা করা হয়। কানাডার দুই ‘স্ট্যানলি’র কাছে কৃতজ্ঞ। একজন ক্যালগরির সৈনিক, যিনি মাপেল খচিত জাতীয় পতাকার নকশা তৈরি করেন। আরেকজন মন্ট্রিয়লের রবার্ট ‘স্ট্যানলি’, যিনি জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা, যার সুর করেন ক্যালিক্স লাভালী। মূল গানটি ফরাসি ভাষায় হলে পরে তা ১৯২৭ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় : O Canada!/ Our home and native land./ True patriot love in all thy sons command./ With glowing hearts we see thee rise,/ The True North strong and free!/ And stand on guard, O Canada,/ We stand on guard for thee./ O Canada, Glorious and free./ O Canada, we stand on guard for thee./ O Canada, we stand on guard for thee. 
কানাডা ডে উপলক্ষে জমজমাট হয়ে উঠে পুরো কানাডা। নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে উঠে সারা দেশ। নানান কর্মসূচিতে মুখরিত হয় ক্যান ডিয়ানেরা। তীব্র শীতের শেষে জেগে উঠা অপূর্ব প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। রাজধানী অটোয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রভিন্সের প্রতিটি শহরেই রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হচ্ছে- কানাডার উৎসব। আদিবাসী থেকে শুরু করে অভিবাসীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংস্কৃতির মাধ্যমে বরণ করছে কানাডা ডে’ কে। একদিকে সামার। অন্যদিকে স্কুল-কলেজ ছুটি। সেই সাথে সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে কানাডিয়ানরা বহুমাত্রিকভাবে গৌরবের সাথে কানাডা ডে পালন করে এবং লক্ষাধিক প্রবাসী বাঙালিরাও দিনকে আনন্দময়ভাবে উদ্যাপন করে আসছে।