Wednesday, June 8, 2011

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

0 comments
গাছের ছায়ায় মৃদু হাওয়ায় ঘুরতে সবার ভালো লাগারই কথা। আর তা যদি হয় এই বৈশাখের তপ্ত গরমে, তা হলে তো কথাই নেই। চলুন, এই গরমে তাই ঘুরে আসা যাক গাজীপুরের ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক থেকে।


ঢাকা থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে জাতীয় এ উদ্যানের অবস্থান। জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহের দিকে কিছু দূর চলতে চলতে হাতের ডানে উদ্যানের বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ আছে। তবে যাবার পথে দেখে নিন মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে শহীদ হুরমত আলীসহ অন্যান্য শহীদদের স্মরণে ১৯৭১ সালেই নির্মিত হয় এ ভাস্কর্যটি। এর স্থপতি আব্দুর রাজ্জাক। ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় একশো ফুট। আর এর দুপাশে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা আছে।

বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ থাকলেও হাতের ডানের একটি সবারই নজর কাড়ে। টেরাকোটায় মোড়া বর্ণিল ফটকের দুই পাশে দুই দণ্ডায়মান হাতি—এটিই ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের প্রধান ফটক।

গাছে গাছে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে দু’দণ্ড বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে চড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক।

এ ছাড়া ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র। এগুলোর নামও বেশ মজার। আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন আরো কত বাহারি নামের বনভোজন কেন্দ্র । এখানকার কটেজগুলোও বাহারি নামের। বকুল, মালঞ্চ, মাধবি, চামেলী, বেলী, জুঁই ইত্যাদি। নামের মতো এগুলোর পরিবেশও ভিন্ন আমেজের। পিকনিক স্পট কিংবা রেস্ট হাউস ব্যবহার করতে হলে বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় থেকে আগাম বুকিং দিয়ে আসতে হবে।

কিছু তথ্য

একসময় ভাওয়াল উদ্যানে পাওয়া যেত ব্লাক প্যান্থার, চিতা বাঘ, ময়ূর, হাতি। এসব এখন ইতিহাস। ক্রমাগত বন উজাড়ের ফলে দিনে দিনে এর পরিধি কমে আসায় এ বন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে নানান বন্যপ্রাণী। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বনকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে। পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের আদলে ৫০২২ হেক্টর জমিতে ১৯৭৩ সালে এ উদ্যান সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হলো শাল। প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছপালা আছে এ বনে। এর মধ্যে ৪৩ প্রজাতির বিভিন্ন রকম গাছ, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির পাম, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৪ প্রজাতির লতা, ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। জীব বৈচিত্র্যেরও কমতি নেই এ বনে। প্রায় ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এ বনে। (তথ্য: উইকিপিডিয়া)

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে চড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনেই নামা যায়। এ ছাড়া ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। নিজস্ব বাহনে গেলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহের দিকে কিছু দূর চলতে হাতের ডানে পড়বে এর প্রধান প্রবেশপথ।

জেনে রাখুন

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৬ টাকা। প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রো বাস নিয়ে প্রবেশ করতে লাগবে ৩০ টাকা আর মিনি বাসের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। দু’ তিনজন এখানে বেড়াতে গেলে উদ্যানের বেশি ভেতরে না যাওয়াই ভালো। একাকী পেলে দুষ্কৃতিকারীরা আপনার যেকোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাড়তি কিছু

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বেড়িয়ে হাতে সময় থাকলে দেখে আসতে পারেন ভাওয়াল রাজবাড়ি। গাজীপুর সদরে অবস্থিত প্রাচীন এ রাজবাড়িটি। জমিদার লোক নারায়ণ রায় বাড়িটির নির্মাণ শুরু করলেও শেষ করেন রাজা কালী নারায়ণ রায়। প্রায় পনের একর জায়গাজুড়ে মূল ভবনটি বিস্তৃত। ভবনটির দক্ষিণ পাশে মূল প্রবেশপথ। মূল প্রবেশপথের পরেই রয়েছে প্রশস্ত একটি বারান্দা এবং এর পরে একটি হল ঘর। ভবনের ওপরের তলায় ওঠার জন্য ছিল শাল কাঠের তৈরি প্রশস্ত সিঁড়ি। ভবনের উত্তর প্রান্তে খোলা জায়গায় রয়েছে ‘নাটমণ্ডপ’। রাজবাড়ির সব অনুষ্ঠান হতো এ মঞ্চে। রাজবাড়ির মধ্যে পশ্চিমাংশের দ্বিতল ভবনের নাম ‘রাজবিলাস’। এ ভবনের নিচে রাজার বিশ্রামাগারের নাম ছিল ‘হাওয়ামহল’। দক্ষিণ দিকে খোলা খিলান যুক্ত উন্মুক্ত কক্ষের নাম ‘পদ্মনাভি’। ভবনের দোতলার মধ্যবর্তী একটি কক্ষ ছিল ‘রাণীমহল’ নামে পরিচিতি। সুরম্য এ ভবনটিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩৬০টি কক্ষ আছে। বর্তমানে এটি জেলাপরিষদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

ভাওয়াল রাজবাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে মৃতপ্রায় চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। এটি ছিল ভাওয়াল রাজ পরিবারের সদস্যদের শবদাহের স্থান। প্রাচীন একটি মন্দির ছাড়াও এখানে একটি সমাধিসৌধ আছে।

লেখক: লেখা ও আলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন

রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশে বসবাস স্থানগুলি

0 comments
বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিতে ধন্য অনেক জায়গাই রয়েছে এ দেশে। এ দেশে জমিদারি পরিচালনার কাজে এসে যে জায়গাগুলোতে কবি বসবাস করেছেন দিনের পর দিন, রচনা করেছিলেন তার জীবনের মহা মূল্যবান সব সাহিত্যকর্ম। চলুন ঘুরে আসি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সেইসব জায়গা থেকে।


কুষ্টিয়া জেলা সদর থেকে প্রায় বারো কিলোমিটার দূরে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ি। শিলাইদহের আগে নাম ছিল খোরশেদপুর। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার গ্রামটি কিনে নেওয়ার আগে এখানে একটি নীলকুঠি ছিল। শেলী নামে একজন নীলকর এটি নির্মাণ করেন বলে জানা যায়। গড়াই এবং পদ্মা নদীর মিলিত প্রবাহের ফলে গভীর একটি ‘দহ’ বা ঘূর্ণিস্রোত থেকে গ্রামটির নাম হয় শেলীদহ। পরবর্তীতে তা রূপ নেয় শিলাইদহ-তে। ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইল সূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিকানা পান। জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে রবীন্দ্রনাথ সর্বপ্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের নভেম্বরে। কৈশোর ও যৌবনের বিভিন্ন সময় জমিদারি দেখাশোনা করতে কবি এখানে আসতেন এবং কুঠিবাড়িতেই থাকতেন। একসময় পদ্মার ভাঙন কুঠিবাড়িকে গ্রাস করার উপক্রম হলে বাড়িটি ভেঙে নতুন কুঠিবাড়ি নির্মাণ করা হয়। ১৮৯১-১৯০১ সালে অল্প বিরতিতে কবি নিয়মিত এখানে অবস্থান করেছেন। জানা যায়, এখানে বসেই কবি রচনা করেন তার অমর সৃষ্টি সোনারতরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতাসহ আরো অনেক উল্লেখযোগ্য রচনা। এখানে বসেই ১৯১২ সালে কবি তার নোবেল জয়ের হাতিয়ার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন।

প্রায় ১১ একর জায়গার উপরে সবুজ বৃক্ষের বাগানের ভেতরে রয়েছে দোতলা এ কুঠিবাড়ি। নিচতলা ও দোতলায় কেন্দ্রীয় হলঘরসহ এতে মোট ১৫টি কক্ষ আছে। দোতলা ভবনের উপরে পিরামিড আকৃতির ছাদ ভবনটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করেছে। তবে আগের রং পরিবর্তন করায় দৃষ্টিনন্দন এ কুঠিবাড়ির সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে বলেই মনে করেন অভিজ্ঞজনরা।

শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাদুঘর। সপ্তাহের রবি ও সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ জাদুঘর। রবি ও সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। কবির জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকীতে নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় শিলাইদহে।

টেগর লজ



কুষ্টিয়া শহরে কবিগুরুর আরেকটি স্মৃতিবাহী জায়গার নাম টেগর লজ। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ১৮৯০-এর শেষের দিকে কুষ্টিয়া রেল স্টেশনের কাছে এ বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ভুসিমাল ও পাটের ব্যবসার জন্য কবি নিজে এ বাড়িতে ‘টেগর অ্যান্ড কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতা থেকে ট্রেনে চড়ে কুষ্টিয়া এসে টেগর লজে বিশ্রাম নিয়ে তারপরে কবি যেতেন শিলাইদহে। কখনো কখনো এ যাত্রাপথে রাত্রিযাপনও করেতেন এ বাড়িতে। ১৮৯০ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত কবি এ বাড়িতে বিভিন্ন সময় অবস্থান করেছেন। দীর্ঘকাল বাড়িটি অযত্নে পড়ে থাকার পর ২০০৪ সালে বাড়িটি কিনে এর সংস্কার করে কুষ্টিয়া পৌরসভা।

যাতায়াত ও থাকা: ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে কুষ্টিয়া যাওয়া যায়। রেলপথে খুলনাগামী ট্রেনে ভেড়ামারা নেমে সেখান থেকে কুষ্টিয়া আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী কল্যাণপুর থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস বি পরিবহন, কেয়া পরিবহন, রেজিনা পরিবহন প্রভৃতি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ২৫০ টাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে খুলনাগামী সপ্তাহের সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭.১০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস, শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬.৩০ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভেড়ামারা যায়। ভাড়া এসি বার্থ ৭৩৬ টাকা, এসি সিট ৫০১ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪৩৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৩৪ টাকা, শোভন চেয়ার ১৭০ টাকা, শোভন ১৪০ টাকা। কুষ্টিয়া থেকে শিলাইদহ যাওয়া যাবে রিকশা, ইজি বাইক কিংবা টেম্পুযোগে।

কুষ্টিয়া শহরে থাকার জন্য হোটেল রিভারভিউ (০৭১- ৭১৬৬০, প্রতিদিনের কক্ষ ভাড়া ৩০০-১২০০ টাকা)। ফেয়ার রেস্ট হাউস (০৭১-৬১৪৭০, প্রতিদিনের কক্ষ ভাড়া ১৫০-৬০০ টাকা )। হোটেল গোল্ডস্টার (০৭১- ৬১৬৭৫, প্রতিদিনের কক্ষ ভাড়া ১২০-৮০০ টাকা)।




সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে আছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়ি। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক জমিদারি ছিল। কবির দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর নীলকরদের একটি কুঠি নিলামে কিনে নেন। ঊনত্রিশ বছর বয়সে ১৮৯০ সালে সর্বপ্রথম শাহজাদপুরে জমিদারি তত্ত্বাবধান করতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপরে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারির কাজে এখানে যাওয়া-আসা ও অবস্থান করেন কবি। এখানে অবস্থানকালে তিনি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। ঠাকুর পরিবারের জমিদারি ভাগাভাগির ফলে শাহজাদপুরের জমিদারি চলে যায় রবীন্দ্রনাথের অন্য শরীকদের কাছে। তাই ১৮৯৬ সালে তিনি শাহজাদপুর ছেড়ে চলে যান। জমিদারি খাজনা আদায়ের একটি পুরনো দ্বিতল ভবন এখনো আছে, বর্তমানে যা ব্যবহূত হচ্ছে জাদুঘর হিসেবে।

যাতায়াত: ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ আসা যায় সড়ক ও রেলপথে। ঢাকার মহাখালী থেকে সৌরভ পরিবহন, এস আই এন্টারপ্রাইজ, গাবতলী থেকে ইউনিক সার্ভিস যায় সিরাজগঞ্জ। ভাড়া ১৭০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে সদানন্দপুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জ শহর। ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো সদানন্দপুর স্টেশনে থামে। ভাড়া ১১০-১২৫ টাকা। জেলা শহর থেকে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। বাসে শাহজাদপুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ কাছারিবাড়ি।


নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে আত্রাই উপজেলার পতিসরে নাগর নদীর তীরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের জমিদারির কালিগ্রাম পরগনার সদর কাছারি ছিল এখানে। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৩০ সালে এ জমিদারি ক্রয় করেন। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং জমিদারি দেখাশোনার জন্য ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম পতিসরে আসেন।

পতিসরের দোতলা কুঠিবাড়ি অনেকটা শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ির অনুরূপ। বাড়ির সামনের প্রশস্ত খোলা মাঠ নাগর নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে অবস্থানকালে কবি নানান জনহিতকর কাজ করেন। ১৯০৫ সালে কবি পতিসরে কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কারের এক লক্ষ টাকাও তিনি এই ব্যাংককে দান করেন। ১৯১৩ সালে কবি পতিসরে প্রতিষ্ঠা করেন কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট। বিভিন্ন সময়ে এখানে অবস্থানকালে কবি রচনা করেন তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম। ১৯২১ সালে জমিদারি ভাগ হলে পতিসর রবীন্দ্রনাথের ভাগে পড়ে। কিন্তু নানান ব্যস্ততার কারণে পতিসরের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। শেষ বারের মতো তিনি পতিসরে আসেন ১৯৩৭ সালে। এ কুঠিবাড়িতে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে কবির অনেক স্মৃতিময় নিদর্শন।

যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি নওগাঁ যাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি ঢাকার গাবতলী থেকে ছাড়ে এ পথের বাসগুলো। শ্যামলি পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আর পরিবহন, কেয়া পরবিহন, বাবলু পরিবহন, টি আর পরিবহন ইত্যাদি পরিবহন সংস্থার নন এসি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ২২০-২৪০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, নীল সাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেসে সান্তাহার নেমে সেখান থেকে সহজেই নওগাঁ আসা যায়। নওগাঁ সদর থেকে পতিসর আসা যায় লোকাল বাসে। ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা।

লেখক: মুস্তাফিজ মামুন
আলোকচিত্র :শেখ কবিরুল হাসান

মাধবকুণ্ডের দুই জলপ্রপাত

0 comments
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দুটি জলপ্রপাত। দুটি ঝরনার একটি সারা বছর শুকনো থাকলেও বর্ষা মৌসুমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যটিতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায় এ সময়ে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া এ জলপ্রপাত সারা বছরই বহমান থাকে। তবে বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান ফটক ফেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হাঁটার পরে জলপ্রপাতে এসেই সড়কটি শেষ হয়েছে। পথের একপাশে মাধবকুণ্ড ইকো পার্ক, আরেকপাশে পাহাড়ের ঢালে ঢালে খাসিয়াদের পুঞ্জি আর চা বাগানের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে দশ মিনিটে পৌঁছা যায় মাধবকুণ্ডের নিচে। সবুজে ঘেরা বিশাল উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে ঝরনাধারা নিচে গড়িয়ে পড়ছে অনবরত। ঝরনার সে পানি ছড়াপথে বয়ে চলে দূর থেকে দূরান্তে। হিম শীতল ঝরনার জল প্রাণ জুড়ায় পর্যটকের।

পরীকুণ্ড জলপ্রপাত

মাধবকুণ্ড ঝর্ণার কিছুটা আগে শিব মন্দিরের বিপরীত দিক থেকে পাথুরে ঝিরি পথটি শেষ হয়েছে পরীকুণ্ড জলপ্রপাতে। এ ঝর্ণাটির সৌন্দর্য মাধবকুণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি। সবুজে ঘেরা উঁচু পাহাড়ের গা বেয়ে এখানে নেমে আসে স্বচ্ছ জলধারা। এ ঝরনাটি প্রায় সারা বছরই শুকনো থাকে। শুধু প্রাণ ফিরে পায় বর্ষায়। পরীকুণ্ডে যাবার ঝিরি পথটি বেশ পিচ্ছিল। তাই সাবধানে চলতে হবে এ পথে।

মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক

পাহাড়ের ঢালে ঢালে নানান গাছগাছালিতে ঢাকা মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম নয়। মাধবকুণ্ড ঝরনায় যাবার পথে পাহাড় বেয়ে কয়েকটি সিঁড়িপথ উঠে গেছে ইকো পার্কে। ঝরনার ঠিক আগে পাহাড়েরর ওপরে আছে একটি উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এ টাওয়ারে উঠলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের বহু দূর দেখা যায়।

খরচপাতি

মাধবকুণ্ডের প্রবেশ মূল্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দশ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাঁচ টাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০-১০০ জনের জন্য একশত টাকা, ১০১-২০০ জনের জন্য দুইশত টাকা। বিদেশি পর্যটকের জন্য এক আমেরিকান ডলার বা সমমূল্যের টাকা। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি লাগবে পাঁচ টাকা। প্রাইভেট কার ও মাইক্রো বাসের পার্কিং মূল্য ৫০ টাকা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস যায় মৌলভী বাজার। ভাড়া নন এসি বাসে ২৫০ টাকা। টি আর ট্রাভেলসের এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ টাকা। ট্রেনে মৌলভীবাজার যেতে হলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫৮১ টাকা, এসি সিট ৩৯৭ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৩৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯.০০ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪১৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৪৭২ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮৫ টাকা, শোভন ১৭০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

মৌলভীবাজারে থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল আছে। শ্রীমঙ্গল রোডে হোটেল সোনাগাঁও (০৮৬১-৬৪৬০৭), শহরের কুসুমবাগে হোটেল শেরাটন প্লাজা (০৮৬১-৫২০২০), সাইফুর রহমান রোডে হোটেল হেলাল (০৮৬১-৫২৫৩৫)। এসব হোটেলে প্রতিদিনের রুম ভাড়া ২০০-১০০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

*-*লেখক: লেখা ও আলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন

বগুড়া

0 comments
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ বগুড়া। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুন্ড্রবর্ধনই হচ্ছে এখনকার বগুড়া জেলা। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের বিভিন্ন নিদর্শন এখনো বর্তমান আছে এ জেলার বিভিন্ন জায়গায়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২৭৯-১২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসনকর্তা সুলতান গিয়াস উদ্দীন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দীন বগরা খানের নামানুসারেই এখানকার নামকরণ হয়েছে বগড়া বা বগুড়া।

মহাস্থানগড়

বগুড়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলো মহাস্থানগড়। বগুড়া শহর থেকে প্রায় তের কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এ জায়গাটি। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এক দুর্গ নগরী এই মহাস্থানগড়। এককালে, মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল এখানে। এখন শুধু সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে। এখানে এখনো আছে ৫০০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪৫০০ ফুট প্রস্থের সেই প্রাচীন নগরীর দেয়াল। দেয়ালের ভেতরে রয়েছে জীয়ত্কুণ্ড, প্রাচীন মসজিদসহ নানান নির্দশন।

হযরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজার

মহাস্থান গড়ের ঠিক আগেই রয়েছে হযরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজার। এ অঞ্চলের জনগণকে রাজা পরশুরামের অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে আফগানিস্তানের অন্তর্গত বলখ প্রদেশ থেকে শাহ সুলতান বলখীর (র) এ এলাকায় আগমন করেন। ১২০৫-১২২০ খ্রিস্টাব্দে পরশুরামের সঙ্গে তার যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পরশুরাম পরাজিত এবং নিহত হন।

শীলা দেবীর ঘাট

মহাস্থানগড়ের পূর্ব দিকে করতোয়া নদীর তীরে রয়েছে শীলা দেবীর ঘাট। শীলা দেবী ছিলেন পরশুরামের ভগ্নি। যুদ্ধের সময় আত্মশুদ্ধির জন্য এখানেই তিনি আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

গোবিন্দ ভিটা

মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে করতোয়া নদীর বাঁকে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল এটি। এটি মূলত একটি প্রাচীন মন্দির। খ্রিস্টীয় ১২শ-১৩শ শতকে রচিত সংস্কৃতি গ্রন্থ ‘করতোয়া মহাত্মতে এ মন্দিরটির কথা উল্লেখ আছে।

এখানে সর্বপ্রথম ১৯২৮-২৯ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে প্রত্নতাত্তিক খননের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুগের নানান নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

ভাসুবিহার

বগুড়া শহর থেকে প্রায় আঠারো কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এ প্রত্নস্থলটির আরেক নাম নরপতির ধাপ। খননের ফলে এখানে দুটি মধ্যম আকৃতির সংঘারাম ও একটি মন্দিরসহ আরও অনেক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। অপেক্ষাকৃত ছোট সংঘারামটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪৯ মিটার এবং পূর্বে-পশ্চিমে ৪৬ মিটার। এর চার বাহুতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ২৬টি কক্ষ এবং কক্ষগুলোর সামনে চারপাশে ঘোরানো বারান্দা এবং পূর্ব বাহুর কেন্দ্র স্থলে প্রবেশপথ রয়েছে। বড়টিতে ৩০টি ভিক্ষু কক্ষ এবং দক্ষিণ বাহুর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খননের ফলে এখান থেকে প্রায় ৮০০টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে।

গোকুল মেধ

বগুড়া শহর থেকে দশ কিলোমিটার উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে গোকুল গ্রামে অবস্থিত এ প্রত্নস্থলটি অনেকেই জানেন বেহুলার বাসরঘর নামে। ঐতিহাসিকগণের মতে এটি আনুমানিক সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত। ইট নির্মিত এ স্তুপটি পূর্ব পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এবং তিনকোণ বিশিষ্ট। খননের ফলে এ স্থাপনাটিতে ১৭২টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে।

মহাস্থানগড় জাদুঘর

মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে গোবিন্দ ভিটার ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত মহাস্থান জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৬৭ সালে। এ অঞ্চলে প্রাপ্ত নানান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষিত আছে এ জাদুঘরটিতে। এ জাদুঘরের গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি হলো বেলা ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে ত্রিশ মিনিট মধ্যাহ্ন বিরতি। আর শীতকালীন সময়সূচি হলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা। দুপুর ১টা থেকে ত্রিশ মিনিট মধ্যাহ্ন বিরতি। মহাস্থান জাদুঘর সপ্তাহের রোববার পূর্ণ দিবস, সোমবার অর্ধ দিবস এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সার্ভিস হলো গ্রীন লাইন, টি আর ট্রাভেলস এবং এস আর পরিবহনের এসি বাস। ভাড়া ২৫০-৩৫০ টাকা। আর এ পথে সাধারণ মানের নন-এসি বাস চলে শ্যামলী, হানিফ, এস আর, কেয়া, টি আর, বি আর টিসি, শাহ সুলতান ইত্যাদি পরিবহনের। ভাড়া জনপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা। ঢাকা থেকে বগুড়ার বাস সাধারণত ছাড়ে গাবতলী, কলেজ গেট থেকে। আর বগুড়া থেকে ঢাকার বাস ছাড়ে শহরের সাতমাথা এবং ঠনঠনিয়া থেকে। বগুড়া শহর থেকে অটো রিকশা কিংবা টেম্পুতে চড়ে আসেত পারেন মহাস্থান।

কোথায় থাকবেন

বগুড়া শহরে থাকার জন্য আছে বেশ কয়েকটি ভালো মানের হোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শহরের ছিলিমপুরে হোটেল নাজ গার্ডেন, ফোন :৬২৪৬৮, ৬৩২৭২। বনানীতে পর্যটন মোটেল, ফোন :৬৭০২৪-২৭। চার মাথার মোড়ে হোটেল সেফ ওয়ে, ফোন :৬২৬৯০, ৬৬০৮৭। বনানী ফুলদিঘীতে হোটেল সিস্তা, ফোন :৬৬৯৬৫, ৬৬৩১০। এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ৯০০০ টাকা ভাড়া মানের বিভিন্ন রকম কক্ষ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল

0 comments
এপ্রিল থেকে সাধারণত চা বাগানগুলোতে শুরু হয়ে যায় কুঁড়ি সংগ্রহের মৌসুম। দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগানের এলাকা শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকরা এখন তাই ব্যস্ত দুটি কুঁড়ি একটি পাতা সংগ্রহে। এমনিতেই চা বাগানের সৌন্দর্য নজর কাড়া, এসময়ে সে সৌন্দর্যে যোগ হয় বাড়তি উপাদান। এই সময়ে তাই ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল থেকে।

ভাস্কর্য ‘চা কন্যা’

ঢাকা থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথে দৃষ্টি নন্দন ভাস্কর্য ‘চা কন্যা’। সিমেন্টে তৈরি সফেদ এ ভাষ্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চা শ্রমিক এক তরুণীর কুঁড়ি সংগ্রহের দৃশ্য। সাতগাঁও চা বাগানের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন তৈরি করেছে সুন্দর এ ভাস্কর্যটি। এর সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে সাতগাঁও চা বাগান। ঢু মারতে পারেন সেখানেও।

চা বাগান

‘চা কন্যা’ দেখে কিছু দূর চলতে চলতেই শ্রীমঙ্গল শহর। শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছা সড়ক ধরে সামনে চলতে চলতে দু’পাশে দেখা মিলবে ফিনলে’র চা বাগান। চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে গেলে ফিনলে’র চা বাগান ছাড়াও আছে বিটিআরআই’র নিজস্ব বাগান। এ ছাড়া ভানুগাছা সড়কের টি রিসোর্ট ফেলে সামনে দু’একটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলে রয়েছে জেরিন টি এস্টেট। লাউয়াছড়ার আগে হাতের ডানে জঙ্গল ঘেরা সড়কটি চলে গেছে নূরজাহান টি এস্টেটে। এ পথে দেখা মিলবে আরো বেশ কিছু বাগানের।

মাধবপুর লেক

কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাহাড় ঘেরা চা বাগানের মধ্যে বিশাল এক জলাধার ‘মাধবপুর লেক’। তবে এ পথে যাবার সহজ পথ হলো নূরজাহান টি এস্টেটের পথ ধরে। তাহলে পুরো পথটিই চলা যাবে চা বাগানের ভেতর দিয়ে। চা বাগানের ভেতরে চলতে চলতে পাওয়া যাবে মাধবপুর লেক। এ জন্য অবশ্য শ্রীমঙ্গলের কোনো গাড়ি চালকের সহায়তা নিলে ভালো।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ

মাধবপুর লেক থেকে বেরিয়ে মূল সড়কটি হাতের বাঁয়ে চলে গেছে ধলাই সীমান্তের দিকে। এখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সীমান্ত ফাঁড়ির পাশেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। এ পথের দু’ধারেই সমতল চা বাগান। এখান থেকেও চা বাগান দেখতে দেখতে ফিরতে পারেন ভিন্ন একটি পথে। ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে হাতের বাঁয়ে বেশ পুরনো চা বাগানের বাংলোটির পাশ থেকে সড়কটি ধরে চললে চা বাগানের পথে পথে আসা যায় শ্রীমঙ্গল শহরে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট

দেশের একমাত্র চা গবেষণা ইনস্টিটিউটটি (বিটিআরআই) শ্রীমঙ্গল শহরের পাশেই। বিশাল চা বাগানের মাঝে বিটিআরআই-এর ক্যাম্পাসটি সবারই ভালো লাগবে। এখানে আছে চা পরীক্ষার ল্যাবরেটরি, বিটিআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজাতির চা গাছ, ভেষজ উদ্ভিদের বাগান, পুরনো চা গাছ। তবে এসব দেখতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য

চা বাগান আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ। তাই ভ্রমণের সময় অবশ্যই বাগানের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা কর্তব্য। কোনো রকম বর্জ্য বাগানে না ফেলে সঙ্গে নিয়ে আসুন। যেকোনো বাগানে প্রবেশের আগে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন। শ্রীমঙ্গলের সব জায়গায় ভ্রমণের জন্য স্থানীয় কোনো চালকের সহায়তা নিন। আর চা বাগানের ভেতরের সড়কে চলার জন্য ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ি হলে ভালো। সে ক্ষেত্রে শ্রীমঙ্গল থেকে জিপ ভাড়া করে নিতে পারেন। সারা দিনের জন্য সেখানে একটি জিপের ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ টাকা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া নন-এসি বাসে ২৫০ টাকা। টি আর ট্রাভেলসের এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ টাকা। ঢাকা থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫২৬ টাকা, এসি সিট ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩২৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২০০ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৪৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৩৫ টাকা, শোভন ১১০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯.০০ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৭০ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৫০ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৬৫ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ রোডে টি রিসোর্ট (০৮৬২৬-৭১২০৭, ০১৭১২৯১৬০০১)। এ ছাড়া আরো একটি ভালো মানের থাকার জায়গা হলো রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০১৯৩৮-৩০৫৭০৬-৭, ০২-৯৫৫৩৫৭০)। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য হোটেল হলো হবিগঞ্জ সড়কে টি টাউন রেস্ট হাউস (০৮৬২৬-৭১০৬৫), কলেজ রোডে হোটেল প্লাজা (০৮৬২৬-৭১৫২৫)।

রাজশাহী

0 comments
পদ্মার তীরে অবস্থিত প্রায় ৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিভাগীয় শহর রাজশাহী। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ শহরের উত্থান। আগে এ জেলার সদর দপ্তর ছিল নাটোরে। ১৮২৫ সালে সেটি নাটোর থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়। রেশম উত্পাদন কেন্দ্র এবং পদ্মা নদীর তীরবর্তী শহর হওয়ায় ইংরেজ বণিকদের সহজেই নজর কাড়ে রাজশাহী। পর্যায়ক্রমে ওলন্দাজ, ফরাসি, ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এ শহরে। ওলন্দাজ রেশম কারখানার ভবনটি ছিল বড়কুঠি নামে পরিচিত। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় ইউরোপীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদর দফতর বসেছিল বড়কুঠিতে। উনিশ শতকের শেষ দিকে বড়কুঠি ব্রিটিশদের নিকট থেকে মেদিনীপুর জমিদার কিনে নেয়। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের পর একে বেসামরিক সরবরাহ বিভাগের গুদামঘর করা হয়। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বড় কুঠি হয় ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবন ও কার্যালয়। শহরের প্রধান প্রধান কেন্দ্রগুলো হলো সাহেববাজার, রানীবাজার, রেশম পট্টি, ঘোড়ামারা, হাতেমখানা, দরগাপাড়া, কুমারপাড়া, বোয়ালিয়া ইত্যাদি। ১৮৭৬ সালে রাজশাহী পৌরসভা ও ১৯৯১ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় রাজশাহী শহর।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

রাজশাহী ভ্রমণের শুরুতেই দেখে নিন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। তাতে এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে একটা ধারণা মিলবে। রাজশাহী সদর হাসপাতালের সামনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন সংগ্রহশালা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। নাটোরের দিঘাপাতিয়ার জমিদার শরত্ কুমার রায়, আইনজীবী অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রামাপ্রসাদ চন্দ্র প্রমুখ ব্যক্তির প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৬ সালে মূল জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্কালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল। ১৯৬৪ সালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের দায়িত্ব বর্তায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। আটটি গ্যালারিতে প্রায় দেড় হাজার প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি, দুই হাজারেরও বেশি প্রাচীন মুদ্রা, প্রায় এক হাজার পোড়ামাটির ফলক ছাড়াও হাজারো নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে এ জাদুঘরে। এপ্রিল থেকে অক্টোবরে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত, নভেম্বর থেকে মার্চে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থকে এটি। শুক্রবার খোলা থাকে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছুটির দিনে এটি বন্ধ থাকে।

শাহ মখদুমের (র.) সমাধি

রাজশাহী সরকারি কলেজের কাছে দরগা পাড়ায় রয়েছে এ অঞ্চলের দরবেশ পুরুষ শাহ মখদুমের (র.) সমাধি। ১২৮৭ সালে তিনি বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশে এ অঞ্চলে আসেন। ১৩১৩ সালে চিরকুমার এ দরবেশ মৃত্যুবরণ করেন। আলীকুলী বেগ ১৬৩৫ সালে তার সমাধির উপরে এক গম্বুজবিশিষ্ট সৌধ নির্মাণ করেন। প্রতিবছর আরবি মাসের ২৭ রজব এখানে উরস অনুষ্ঠিত হয়। আর ১০ মহররম এখান থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল।

টি বাঁধ

রাজশাহী শহরের পাশে পদ্মার তীরে ইংরেজি টি আকৃতির বাঁধ এখন শহরের অন্যতম বেড়ানোর জায়গা। পদ্মার শীতল বাতাসের পরশ নিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে জড়ো হন। এখান থেকে নৌকা ভাড়া করে পদ্মার চরেও ঘুরে আসা যায়।

বিসিক শিল্প এলাকা

শহরের বিসিক শিল্প এলাকায় আছে সিল্ক ফ্যাক্টরি। বিভিন্ন সিল্ক কারখানার শোরুমও আছে এখানে। তুলনামূলক কম দামে এখান থেকে সিল্কের কাপড় কেনা যায়।

স্মৃতি অম্লান

মহান মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিসৌধটি রাজশাহীর কেন্দ্রস্থলে শহীদ ক্যাপ্টেন বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সড়কের দ্বীনেভদ্রা এলাকায়। ১৯৯১ সালের ২৬ মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। স্মৃতি অম্লান-এর নির্মাণ ও স্থাপিত্যিক ডিজাইনে নির্দেশনা দেন স্থপতি রাজিউদ্দিন আহমদ। এই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক। সৌধে মোট তিনটি স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভের গায়ে ২৪টি করে ধাপ, ধাপগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত আন্দোলনের ক্রমবিবর্তন ও স্বাধীনতার ফসল। মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের নির্দেশ করা হয়েছে স্তম্ভের গায়ের ৩০টি ছিদ্রের মাধ্যমে। প্রতিটি স্তম্ভে রয়েছে ১০টি করে ছিদ্র। বেদিমূলে রাখা আছে নীল শুভ্র পাথরের আচ্ছাদন, যা দুই লাখ নির্যাতিত নারীর বেদনাময় আর্তির কথা ইঙ্গিত করে। সৌধের চূড়ায় রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্রের লালগোলক যা স্বাধীনতা যুদ্ধের উদীয়মান লাল সূর্যের প্রতীক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

রাজশাহী শহরের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছায়াঘেরা ক্যাম্পাসে বেড়াতে ভালো লাগবে সবার।

শাবাশ বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের এই স্মারক ভাস্কর্যটিও রাজশাহীতে অবস্থিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার সবুজ চত্বরে মুক্তাঙ্গনের উত্তরপাশে এটি অবস্থিত। রাকসু এবং দেশের ছাত্রজনতার অর্থ সাহায্যে শিল্পী নিতুন কুন্ড এই ভাস্কর্যটি বিনা পারিশ্রমিকে নির্মাণ করেন। ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এটি উদ্বোধন করেন। এই স্মৃতিস্তম্ভে আছে দুজন মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি। একজন অসম সাহসের প্রতীক, অন্য মুক্তিযোদ্ধার হাত বিজয়ের উল্লাসে মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে পতাকার লাল সূর্যের মাঝে।

বানেশ্বর বাজার

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে বানেশ্বরে। ঢাকা থেকে সড়কপথে যাবার সময় রাজশাহীর আগেই পড়ে বিশাল এ বাজার। এ বাজারে আমের দামও তুলনামূলক কম। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে মহাসড়কের দুইপাশে নানান জাতের আমের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। নিজস্ব বাহনে ভ্রমণে গেলে ফেরার পথে এ বাজার থেকে কিনে নিতে পারেন পছন্দসই আম।

বাঘা মসজিদ

রাজশাহী থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে বাঘায় অবস্থিত ইট নির্মিত প্রাচীন মসজিদ। প্রায় ২৩.১৬ মি দৈর্ঘ্য এবং ১২.৮০ মিটার প্রস্থের এ মসজিদটির ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ছাদ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পরবর্তীতে গম্বুজসহ ছাদটি পুনর্নিমাণ করে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে প্রচুর পোড়ামাটির ফলক। মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে একটু উঁচুতে নির্মিত একটি বিশেষ নামাজ কক্ষ আছে। ধারণা করা হয়, কক্ষটি শুধু সুলতানের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত গভর্নরের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। বর্তমানে করাচিতে সংরক্ষিত মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের ওপরের শিলালিপি অনুযায়ী সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি ১৫২৩ সালে নির্মাণ করেন। মসজিদের পূর্ব পাশে আছে বিশাল আকৃতির একটি দিঘি। বাঘা মসজিদের আশপাশের এলাকাজুড়ে রয়েছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন আমের বাগান। ঘুরে দেখতে পারেন এগুলোও। রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন থেকে ত্রিশ মিনিট পর পর বাঘার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৪০-৪৫ টাকা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে রাজশাহী যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে গ্রীন লাইনের (০১৭৩০০৬০০০৪) তাপনিয়ন্ত্রিত বাস যায় রাজশাহী। ভাড়া ৫০০ টাকা। ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহন (০২-৯১৪১০৪৭), হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০২-৯১৩৫০১৮), ন্যাশনাল পরিবহন ইত্যাদি পরিবহনের সাধারণ বাস যায় রাজশাহী। ভাড়া ২৮০-৩০০ টাকা। ঢাকার কমলাপুর থেকে রোববার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস এবং ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৬৮০ টাকা, এসি সিট ৪৬৬ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪০৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৩৪৪ টাকা, শোভন চেয়ার ১৬৫ টাকা, শোভন ১৪০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

রাজশাহী শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল আছে। এ শহরে ১০০-৪০০০ টাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যাবে। রাজশাহী চিড়িয়াখানার সামনে পর্যটন মোটেল (০৭২১-৭৭৫২৩৭, ০৭২১-৭৭০২৪৭), সাহেব বাজারে হোটেল মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৭১১০০, ০১৭১১৩০২৩২২), বিন্দুরমোড় রেল গেইটে হোটেল ডালাস ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৭৩৮৩৯, ০১৭১১৮০২৩৮৭), গণকপাড়ায় হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৬১৮৮, ৭৭১৮০৮), মালোপাড়ায় হোটেল সুকর্ণা ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৭১৮১৭, ০১৭১৩৭২৪২৮৪), সাহেব বাজারে হামিদিয়া গ্রান্ড হোটেল (০৭২১-৭৭২৯৩০, ০১৭১৩৭০১০৫০), শিরোইলে হকস্ ইন (০৭২১-৮১০৭২১, ০১৭১৫৬০৫১৫৭), লক্ষ্মীপুর মোড়ে হোটেল গ্যালাক্সি (৮১২৭৪০, ০১৭৩৫৬৯২০২৯), সাহেব বাজারে হোটেল নিউ টাউন ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৭৪৯৬১, ০১৭১৩৭০৪৩১৪)।

চুলের জন্য

0 comments
++ চুলের যত্নে প্রতিদিন চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন। যাতে ডেডসেল বেশি না জমে।

++ প্রয়োজন মনে করলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন। মনে রাখবেন, শ্যাম্পুটি যেন মাইল্ড হয়। প্রয়োজনে বেবি শ্যাম্পু হতে পারে।

++ মাথা ম্যাসেজ করার সময় নখ যেন তালু স্পর্শ না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

++ মাঝে মাঝে শ্যাম্পুর সঙ্গে দুটো ভিটামিন ‘ই’ ক্যাম্পসুল মিশিয়ে নিন।

++ চুল চিকন হলে শ্যাম্পু করার কিছুক্ষণ আগে কন্ডিশনার লাগান।

++ শ্যাম্পুর সঙ্গে একটা ডিম মিশিয়ে নিন। ডিমের প্রোটিনে চুলের ভলিউম বাড়বে।

++ লেবু কিংবা কিউয়ি-সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ফ্রুট এসিড চুলের তেল ও ময়লা পরিষ্কার করে, চুল নেতিয়ে থাকে না।

++ প্রতিদিন চুল আঁচড়ালে এবং ঠান্ডা ও গরম পানিতে মাথা ধুয়ে ফেললে মাথার তালুর রক্ত চলাচল বাড়ে।

***ইত্তেফাক