Sunday, February 7, 2021

মঠ

0 comments

মঠ এমন একটি অবকাঠামো, যেখানে কোন এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা ধর্মীয় কারণে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে ওই ধর্মের বিভিন্ন উপদেশ প্রদান ও শিক্ষাদান করা হয়।

খরোষ্ঠী-ব্রাহ্মী শিলালিপিতে বাংলায় সর্বপ্রথম মঠ উল্লেখ দেখা যায়। এটি মূলত খ্রিস্টীয় দুই শতক। খ্রিস্টীয় ছয় শতক থেকে এর সংখ্যা বাড়তে থাকে।



বেশীরভাগ মঠই পোড়া মাটির অলঙ্করণে আবৃত। দেয়ালে খোদাই করা লতা-পাতা, ফুল ইত্যাদি। এতে প্রবেশের জন্য থাকে দুইটি দরজা। এই পুরাকীর্তগুলো এখন অনেকটাই অবহেলিত। মঠের উপরিভাগে বেড়ে ওঠা পরগাছা নষ্ট করছে বাইরের দেয়াল। 


মধ্যযুগে মঠের সঙ্গে আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলিও জড়িত ছিলো। মঠগুলির ব্যয় নির্বাহ হতো প্রধানত কৃষি উৎপাদন থেকে। সাত শতকের সিলেটের বৈষ্ণব মঠগুলিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণ ও অন্যান্য পেশাদার শেণীর লোকদের বসতি প্রতিষ্ঠা করে জনপূর্ণ করা হয় এবং অকর্ষিত ভূমি (অকর্ষ) চাষের অধীনে আনা হয়। পরবর্তীতে মঠ গুলি কৃষকদের সুদের বিনিময়ে ঋণ দিত । কৃষকরা এই ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে মঠ গুলি তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করতো । এজন্য মধ্যযুগের জনগণ একই দেব-দেবীর উপাসনা এবং একত্রে বসবাস করলেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে তারা দেশান্তরীয় মঠ এবং বঙ্গালদেশীয় মঠ এই উপ-দলীয় পার্থক্য বজায় রাখত। আবার, রাজ দরবারও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির পৃষ্ঠপোষকতার বিনিময়ে তাদের পার্থিব ক্ষমতা স্থিতিশীল করে তুলেছিল।


0 comments:

Post a Comment