Sunday, May 8, 2022

হিজড়া কীভাবে হয়

0 comments

 জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে এই প্রশ্নটি প্রতিবছরই ছাত্রদের কাছ থেকে পাই যখন ক্লাসে মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের পদ্ধতি পড়াতে যাই। একটু বেশী সময় নিয়ে সিলেবাসের বাইরের এই বিষয়টি আলোচনা করি ক্লাসে। মাঠে ঘাটে অপবিজ্ঞানের থেকে বাঁচার জন্য ওদের কাছে তুলে দিতে চাই বিজ্ঞানের অমোঘ অস্ত্র। 

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য X ক্রোমোজোম ও Y ক্রোমোজোমের বিন্যাসের ব্যাখ্যা সুপরিচিত। যদিও কেবল Y ক্রোমোজোম নয় , Y ক্রোমোজোমে থাকা sry জিন মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে। এই দুটি ক্রোমোজোমের বিন্যাসের হেরফের হলে নানারকম সিনড্রোম দেখা যায়। 

পুরুষদেহের প্রতিটি দেহকোশে 44টি দেহক্রোমোজোমের সঙ্গে একটি X ও একটি Y ক্রোমোজোম থাকে। স্ত্রী দেহের প্রতিটি দেহকোশে 44টি দেহক্রোমোজোমের সঙ্গে দুইটি X ক্রোমোজোম থাকে। মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে পুরুষের জননমাতৃকোশ(44+XY) থেকে দুইরকম শুক্রাণু (22+X ও 22+Y) তৈরী হয়। 

মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে স্ত্রী দেহে জননমাতৃকোশ(44+XX) থেকে একরকমই ডিম্বাণু (22+X) তৈরী হয়। 22+Y শুক্রাণু ডিম্বাণুকে(সর্বদা 22+X) নিষিক্ত করলে তা থেকে তৈরী হয় পুত্র[ (22+X)+(22+Y)]=44+XY. 22+X শুক্রাণুর দ্বারা ডিম্বাণু (সর্বদা 22+X) নিষিক্ত হলে তৈরী হয় কন্যা [(22+x)+(22+X)= 44+XX]। 

কোষবিভাজনের ত্রুটির জন্য যদি একটি 22+XY শুক্রাণু তৈরী হয় আর তা 22+X ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে তা থেকে উৎপন্ন শিশুর ক্রোমোজোম সংখ্য হবে (22+XY)+(22+X)=44+XXY এই অবস্থায় ঘটে কালাইনেফেল্টার সিন্ড্রোম। আবার ডিম্বাণু ঊৎপাদনের সময় কোশবিভাজনের ত্রুটির জন্য 22+XX ডিম্বাণু তৈরী হলে আর তা 22+Y শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত হলেও (22+XX)+(22+Y)=44+XXY অবস্থা অর্থাৎ ক্লাইনেফেল্টার সিন্ড্রোম হতে পারে। ক্লাইনেফেল্টার শিশুর বয়ঃসন্ধিকালীন অবস্থায় পুরুষের মতো জননতন্ত্র থাকলেও স্তন গঠিত হয়। এদের উচ্চতা যথেষ্ট হয়। শুক্রাণু উৎপন্ন হয় না। সাধারণত বুদ্ধির বিকাশ কিছু কম হয়। যৌনসত্বাও ভিন্ন হয়। আমাদের পরিচিত নারী বা পুরুষের ধারণার সঙ্গে না মেলায় এদের সঙ্গে ঘটে সামাজিক ও পারিবারিক অন্যায়। বিজ্ঞান এদের হিজড়া শব্দে অভিহিত করে নি। তাহলে হিজড়া কারা?

ছেলেটি আমার স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী হিসেবে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৃত্যানুষ্ঠান করে। স্কুলের হীরক জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে স্কুলের মঞ্চে যখন ওর পারফরম্যান্স চলছে তখন স্টাফরুমের সামনে করিডরে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে আমার দু' তিনজন সহকর্মী ওকে নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাঁদের হাসিতে ঝরে পড়ছিল চটুল রস। একজন বললেন, 'ছক্কা'। ছক্কা কী? লুডো খেলার বাইরে অনেকের মুখে শুনেছি শব্দটি। ছক্কা, হিজড়ে, হোমো, মায় ঋতুপর্ণ বলে কেউ কেউ। একজন 'ছেলে' সমাজনির্মিত ধারণা অনুযায়ী নারীসুলভ হলেই কি সে হিজড়া ? এসব শব্দ ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু জানেন না। 

জানতে শুরু করলে দেখতেন এ বিপুল জগৎ কত বৈচিত্র্যময়। এর কত কম আমরা জানি। কেবল মানুষের যৌনপরিচয়েরই সীমাহীন প্রকার। sex আর gender কি এক ?

না। sex হল জন্মগত লিঙ্গ পরিচয়। এটা biological. কিন্তু gender হল psychosocial বা মনোসামাজিক। একজন শিশু জন্মগ্রহণ করলো পুরুষ জননতন্ত্র নিয়ে। কিন্তু তার মনের ছন্দ মিলছে না সমাজনির্মিত পুরুষের ধারণার সঙ্গে। পুরুষ শরীরের ভিতরে গুমরে মরছে এক নারী। আবার স্ত্রী জননতন্ত্র নিয়ে জন্মালেও পুরুষমন নিয়ে নিজের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন কত মানুষ। একজন মানুষ male বা female যে sex নিয়ে জন্মগ্রহণ করুন, তিনি নিজে নিজেকে যে যৌনসত্বায় ফেলছেন সেটা হল gender. অপারেশন, ইলেকট্রিক শক, 'বিয়ে দিয়ে দাও' করে মানসিক সত্বা gender বদলানো যায় না। কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্র এনেছে শরীর বদলানোর কৌশল। 

মনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে তুলতে sex change করতে চান যিনি তিনি transgender. সার্জারি, হরমোন থেরাপি, কাউন্সেলিং সহ আরো অনেক পথ অতিক্রম করে sex change করার পরে তাঁকে বলা হবে trans sexual. নারী মনের সঙ্গে ছন্দ মেলাতে জন্মগত পুরুষ জননতন্ত্রকে পরিবর্তন করে স্ত্রী জননতন্ত্র নির্মাণ করালে তিনি transwoman. পুরুষ মনের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করতে জন্মগত স্ত্রী জননতন্ত্রকে সরিয়ে পুরুষ জননতন্ত্র নির্মাণ করালে তাঁকে বলা হয় transman. পুরুষ, নারী, রূপান্তরকামী ছাড়াও থাকে intersex. কী এই intersex? 

মাতৃগর্ভে থাকা মানব ভ্রূণের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ জননগ্রন্হির বিকাশ শুরু হয়। আট সপ্তাহের আগে পর্যন্ত জননগ্রন্হিকে বলা হয় bipotential gonda. তখোনো সেটি শুক্রাশয় বা ডিম্বাশয় - কোনোটাই নয়। এর পরে Y ক্রোমোজোমে থাকা sry জিনের খেলা শুরু হয়। প্রধানত sry জিনের প্রভাবে এবং অন্যান্য আরও কিছু জিনের সক্রিয়তার ফলে bipotential gonad ক্রমশ শুক্রাশয়ে পরিণত হতে থাকে। অন্যান্য জননাঙ্গ যেমন ভাস ডিফারেন্স, প্রস্টেট গ্ল্যান্ড, পেনিস ইত্যাদিরও গঠন শুরু হয়। ফলে ভ্রূণটি ভবিষ্যত জৈবিক পুরুষ হয়ে ওঠার পথে যাত্রা করে। যদি ভ্রূণে Y ক্রোমোজোম না থাকে কিম্বা Y ক্রোমোজোম থাকলেও sry জিন না থাকে/সক্রিয় না থাকে female pathway gene গুলির প্রভাবে bipotential gonadটি ডিম্বাশয়ে পরিণত হতে থাকে এবং জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান নালী ইত্যাদি আনুষঙ্গিক যৌনাঙ্গের গঠন ক্রমে শুরু হয়। ফলে ভ্রূণটি ভবিষ্যত জৈবিক নারী হয়ে ওঠার পথে যাত্রা শুরু করে। এই সমস্ত জিনের ক্রিয়াশীলতার তারতম্যে তৈরী হতে পারে intersexuality. U.S. National Library of Medicine এর মতে Intersexuality বা আন্তর্লিঙ্গতা বা Variation in Sex Characteristics(VSC) হল এমন অবস্থা যেখানে বাহ্যত স্ত্রী যৌনাঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণভাবে পুরুষ যৌনাঙ্গ গঠিত হয়। প্রায় প্রতি 5500 শিশুর মধ্যে এক জন intersex হয়। কীভাবে চেনা যাবে এদের ? ইন্টারসেক্সের গঠনে আছে যথেষ্ট বৈচিত্র্য। 


 

সকলের একরকম লক্ষণ থাকে না। কারুর পুরুষের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পেনিস(যার দ্বারা ইন্টারকোর্স সম্ভব না) , কারুর ক্লাইটোরিস(ছবিতে দেওয়া) যথেষ্ট বড়, কারুর শুক্রথলিতে শুক্রাশয় অনুপস্থিত, কারুর স্ত্রী লেবিয়া মেজরা(ছবিতে দেওয়া) বন্ধ হয়ে শুক্রথলির মতো দেখতে লাগে, কারুর মূত্রজননছিদ্র পেনিসের অগ্রভাগে না হয়ে পেনিসের গোড়ায়, কারুর যোনিছিদ্র বন্ধ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাহ্যিক গঠন দেখে জন্ম থেকেই বোঝা যায়। কারুর ক্ষেত্রে বোঝা যায় বয়ঃসন্ধির সময়। কারুর ক্ষেত্রে তাও বোঝা যায় না। সালট্রাসোনাগ্রাফি , ওপেন সার্জারি করতে গেলে হয়তো জানা গেলো নারী শরীরের ভিতরে রয়েছে পুরুষ যৌনাঙ্গ কিম্বা উল্টোটা। একজন ট্রান্সজেন্ডার হলেই হিজড়ে হবেন তা যেমন নয় একজন intersex হলেই হিজড়ে হবেন তাও নয়। 2014 সালে ভারতের মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত হিজড়াদের 3rd gender এর মান্যতা দিয়েছেন। কোনো ফর্মে sex এর জায়গায় male/female/third gender লেখার মধ্যে আছে এক ভ্রান্তি। কারণ sex আর gender এক নয়। হিজড়ে ভারতীয় উপমহাদেশের এক প্রান্তিক কিন্তু বিভিন্নতাযুক্ত লিঙ্গগোষ্ঠী যারা নির্দিষ্ট পেশাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পন্ন।  

লেখাঃ অরূপ রতন দে; শিক্ষক

মানুষের জৈবিক লিঙ্গ নির্ধারণ ও তৃতীয় লিঙ্গ

0 comments

যেকোন জীব হল একগুচ্ছ "জিন" বা DNA কোডের এর বহিঃপ্রকাশ।
জিন হচ্ছে একগুচ্ছ রাসায়নিক কোড, তাই জীবের প্রতিটি শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্যেের পেছনে সবসময়ই কোন না কোন জৈব রাসায়নিক প্রেক্ষাপট থাকবেই।
আমরা অনেকেই জানি মানুষের শরীর গঠনের সংকেত বা কোড ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকে, এর মধ্যে ২২ জোড়া হল দেহক্রোমোজোম ও একজোড়া যৌনক্রোমোজোম যা মানুষের যৌনতা নির্ধারণ করে থাকে।
 
এক্স ওয়াই (XY) লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম হচ্ছে লিঙ্গ নির্ধারণের একপ্রকার ব্যবস্থা যা মানুষ সহ অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীতে, কিছু পতঙ্গ যেমন ড্রসোফিলা এবং কিছু উদ্ভিদ যেমন গিঙ্কগো তে পাওয়া যায়।
 
নারীদের একই রকম দুটি সেক্স ক্রোমোজোম (XX) থাকে, পুরুষে ভিন্ন রকম দুটি সেক্স ক্রোমোজোম (XY) থাকে।
 
তৃতীয় লিঙ্গ ও ইন্টারসেক্স শব্দটি পুরুষ ও মহিলার জৈবিক, শারীরিক ও মানসিক যৌন বৈশিষ্ট্যের একাধিক সংমিশ্রণকে বর্ণনা করে।
 

ইন্টারসেক্সের জীববিজ্ঞান হল:-
১) কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারসেক্স বা আন্তঃলিঙ্গের বৈশিষ্ট্যগুলি অস্বাভাবিক মাত্রার যৌন হরমোনের কারণে ঘটে, যা অতিরিক্ত যৌন ক্রোমোজোম চলে আসার ফলাফল।
২) অনেক ক্ষেত্রে দেহক্রোমোজোম বা অটোজোমের মিউটেশনের কারণে।
১) অতিরিক্ত যৌন ক্রোমোজোম ।
 
স্বাভাবিক XX এবং XY ক্রোমোজোম জোড়ার বিপরীতে ক্রোমোজোম বিন্যাস বা ক্যারিওটাইপ যেমন XXY, XYY, XXXY, XXYYY ইত্যাদি ও মোজাইক যৌন ক্রোমোজোম ।
 
♦️ শুক্রাণু তৈরির সময় ভুলের কারণে একাধিক যৌনক্রোমোজোম যুক্ত শুক্রাণু, অর্থাাৎ একটি শুক্রাণুতে একাধিক X বা Y ক্রোমোজোম চলে আসাা।
 
♦️ মানুষের মধ্যে ইন্টারসেক্সের একটি সম্ভাব্য প্যাথোফিজিওলজিকাল ব্যাখ্যা হল একটি ডিম্বাণু তৈরির সময় কোন কারণে প্রোটো ডিম্বাণুর ২টি যৌনক্রোমোজোম আলাদা হতে পারেনা ফলে একটি ডিম্বাণুতে ২টি X ক্রোমোজোম থেকে যায়।
 
♦️ ২টি ভিন্ন প্রকারের শুক্রাণু দ্বারা (যার একটি X ক্রোমোজোম বহন করে এবং অন্যটি একটি Y ক্রোমোজোম বহন করে) দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পরে কোন কারনে ভ্রুণ দুটি একত্রিত হয়ে যায়, যার ফলে একজন মানুষের দুই বৈশিষ্ট্য যুক্ত যৌনাঙ্গ এবং জেনেটিক লিঙ্গ হয়।
 
♦️ ইন্টারসেক্স হওয়ার আরেকটি সাধারণ কারণ হল শুক্রাণু তৈরির সময় Y ক্রোমোজোম থেকে X ক্রোমোজোমে টেস্টিস-নির্ধারক ফ্যাক্টর (SRY) যুক্ত হয়ে যাওয়া, ফলে একজন মানুষের মধ্যে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় উভয়ই বিকশিত হয়ে যায়।
 
২) দেহক্রোমোজোম বা অটোজোমের মিউটেশনের কারণে হয়:-
♦️ 5α-রিডাক্টেজ এনজাইমের ঘাটতি (5-ARD নামেও পরিচিত) - 5-আলফা রিডাক্টেস টাইপ 2 জিনের মিউটেশনের কারণে একটি অটোসোমাল রিসেসিভ অবস্থা। এটি শুধুমাত্র Y ক্রোমোজোমযুক্ত ব্যক্তিদেরকে প্রভাবিত করে, অর্থাৎ জেনেটিক পুরুষদের। এই অবস্থার পুরুষরা উর্বর, সন্তানের পিতা হওয়ার ক্ষমতা থাকে, তবে অস্পষ্ট নারী যৌনাঙ্গের উপস্থিতির কারণে নারী হিসাবে বেড়ে উঠতে পারে।
 
♦️ 17β-হাইড্রোক্সিস্টেরয়েড ডিহাইড্রোজেনেজ এনজাইমের ঘাটতি - এমন একটি অবস্থা যা যথাক্রমে পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেন এবং ইস্ট্রোজেন সংশ্লেষণ পর্যাপ্ত মাত্রায় হয়না।
 
♦️ এন্ড্রোজেন অসংবেদনশীলতা সিন্ড্রোম - এমন একটি অবস্থা যা একজন জেনেটিক পুরুষকে প্রভাবিত করে। এদের শরীরে এন্ড্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন তৈরি হয় কিন্তু তাদের শরীর এটি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে চিনতে পারে না। হালকা এন্ড্রোজেন সংবেদনশীলতা সিন্ড্রোম সাধারণত কোন সমস্যা সৃষ্টি করে না এবং এরা পুরুষ হিসাবেই চিহ্নিত হয়। আংশিক এন্ড্রোজেন সংবেদনশীলতা সিন্ড্রোম যুক্ত একজন জেনেটিক পুরুষের অসম্পূর্ণভাবে বিকশিত যোনি, স্তন এবং ক্লিটোরিস বিকশিত হয়।
 
♦️ অ্যাফালিয়া (Aphallia) - একটি বিরল অবস্থা যেখানে একটি XY পুরুষ লিঙ্গ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত 100টির মত ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।
 
♦️ অ্যারোমাটেজের ঘাটতি - একটি ব্যাধি যার ফলে মহিলাদের মধ্যে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন তৈরি হয় এবং ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি হয়, এর ফলে মহিলাদের ক্লিটোরিস অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়। P450 oxidoreductase জিনের মিউটেশনের কারণেও অ্যারোমাটেজের ঘাটতি হতে পারে।
 
♦️ অ্যারোমাটেজ অতিরিক্ত সিন্ড্রোম (পারিবারিক হাইপারেস্ট্রোজেনিজম নামেও পরিচিত) - এমন একটি অবস্থা যা অত্যধিক ইস্ট্রোজেন উৎপাদনের কারণ হয়ে থাকে, যার ফলে পুরুষদের মধ্যে সিউডোহার্মাফ্রোডিটিজম (অর্থাৎ, জন্মের সময় পুরুষের যৌনাঙ্গ এবং বয়ঃসন্ধিতে নারীর গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য) এবং মহিলাদের মধ্যে হাইপারফেমিনাইজেশন হয়।
 
♦️ ক্লিটোরোমেগালি - একটি ভগাঙ্কুর যা গড়ের চেয়ে বড় বলে মনে করা হয়। যদিও ক্লিটোরমেগালি একটি ইন্টারসেক্স অবস্থার একটি উপসর্গ হতে পারে, এটি ভগাঙ্কুর আকারের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসাবেও বিবেচিত হতে পারে। Clitoromegaly কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে না। যৌনাঙ্গের চেহারা স্বাভাবিক করার জন্য ভগাঙ্কুরের অস্ত্রোপচার হ্রাস বা সম্পূর্ণ অপসারণ করা যেতে পারে। যদিও অনেক দেশে মহিলাদের যৌনাঙ্গের অঙ্গচ্ছেদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ক্লিটোরোমেগালির ক্ষেত্রে ক্লিটোরিস কমানো বা অপসারণ করা সাধারণত ছাড় দেওয়া হয়, যদিও এটি একটি অথেরাপিউটিক এবং যৌন ক্ষতিকর অস্ত্রোপচার। ক্লিটোরোমেগালি মহিলাদের থেকে পুরুষের লিঙ্গ পরিবর্তন বা বডি বিল্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে টেস্টোস্টেরন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার করার কারণেও হতে পারে।
 
♦️ 17α-hydroxylase/17,20-lyase ঘাটতি - এমন একটি অবস্থা যেখানে জন্মগত অ্যাড্রিনাল হাইপারপ্লাসিয়া এবং বিচ্ছিন্ন 17,20-lyase অভাবে পুরুষদের মধ্যে সিউডোহার্মাফ্রোডিটিজম (আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণ অবিকশিত যৌনাঙ্গ), বয়ঃসন্ধিকালে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যগুলির বিকাশ হয়না ফলে যৌবনে কিছুটা শিশুসদৃশ চেহারা হয়।
 
♦️ সম্পূর্ণ এন্ড্রোজেন অসংবেদনশীলতা সিন্ড্রোম - এটি সবচেয়ে গুরুতর রূপ, সম্পূর্ণ এন্ড্রোজেনের সংবেদনশীলতাযুক্ত পুরুষরা নারী হিসাবে চিহ্নিত হয়, একজন জেনেটিক পুরুষের যোনি, ক্লিটোরিস এবং স্তন থাকে যা দুধ ক্ষরণ করতে সক্ষম। তবে তাদের ডিম্বাশয় বা জরায়ু থাকবে না। যেহেতু তাদের ডিম্বাশয় বা পর্যাপ্তভাবে বিকশিত অণ্ডকোষ নেই, তাই সম্পূর্ণ অ্যান্ড্রোজেন সংবেদনশীলতা সিন্ড্রোমযুক্ত ব্যক্তিরা বন্ধ্যা হয়।
 
♦️জন্মগত অ্যাড্রিনাল হাইপারপ্লাসিয়া - মহিলাদের এমন একটি অবস্থা যা অত্যধিক এন্ড্রোজেন উত্পাদন ঘটায়, যার ফলে যোনি এজেনেসিস ঘটে (যোনির অনুপস্থিতি) এবং একটি কার্যকরী লিঙ্গ তৈরী হতে পারে যা সহবাসে সক্ষম। এই অবস্থার মহিলারা সাধারণত উর্বর হয় এবং গর্ভবতী হওয়ার এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা থাকে।
 
এছাড়াও আরও অনেক মিউটেশন আছে যেগুলি কম পাওয়া যায়।
 
তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত।

Monday, October 11, 2021

পটেটো চিপস যেভাবে এলো

0 comments

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ছোট শহর সারাটোগা। জর্জ ক্রাম এই শহরেরই একটি রিসোর্টে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। ১৮৫৩ সালের এক দুপুরে কথা, সেই রিসোর্টের কোনো একজন অতিথি খাওয়ার সময় ক্রামের বানানো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ফেরত দিয়ে বসেন। তাঁর অভিযোগ, আলু অতিশয় পাতলা করে ভাজা হয়েছে! এমন অভিযোগ শুনে ক্রামও কম গেলেন না। 

লোকটিকে রাগানোর জন্য আরও পাতলা করে শিকে ভরলেন আলু, তারপর মচমচে করে ভাজলেন। ক্রামের সেই কাণ্ড থেকেই তৈরি হয় সে সময়ের সারাটোগা চিপস, যা আজকের পটেটো বা আলুর চিপস নামেই পরিচিত। 

দিনে দিনে ক্রামের তৈরি চিপস বেশ জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। এরপর আলু ভাজার এই নতুন সংস্করণ নিয়ে ১৮৬০ সালে ক্রাম নিজেই রেস্টুরেন্ট খুলে বসেন। তবে প্রথমবারের মতো মুদি দোকানে চিপস বিক্রি শুরু হয় ১৮৯৫ সালে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডের শহরের বাসিন্দা উইলিয়াম ট্যাপেনডন নিজের দোকানে পটেটো চিপস বিক্রি শুরু করেন। বিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকটা ছিল পটেটো চিপসের বাণিজ্যিকীকরণের সময়। এ সময় চিপস তৈরির অনেক প্রতিষ্ঠান চালু হয়। ১৯১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম চিপস তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরই অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি হয়ে সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই পৌঁছে যায় জর্জ ক্রামের আলুর চিপস। শুরু থেকে আজ অবধি চিপসের স্বাদ ও উৎপাদনে গতি বাড়ানোর জন্য যুক্ত হচ্ছে নতুন সব প্রযুক্তি।


 

সূত্র: আইডিয়া ফাইন্ডার | প্রথম আলো

Tuesday, July 6, 2021

ফোন চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়

0 comments

 স্মার্টফোন একবার শূন্য থেকে পূর্ণ চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা বের করা। আর সে জন্য, আপনার স্মার্টফোন এবং যে চার্জার দিয়ে চার্জ করেন, সে সম্পর্কে গোটা কয়েক তথ্য দরকার। যেমন স্মার্টফোনের ব্যাটারিটি কত মিলিঅ্যাম্পিয়ারের, চার্জারটি কত ওয়াটের এবং ওই চার্জার দিয়ে শূন্য থেকে শতভাগ চার্জ হতে কতক্ষণ সময় লাগছে।

স্মার্টফোনের মোড়কে কিংবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যাটারির মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার (এমএএইচ) সম্পর্কে তথ্য পাবেন। আর চার্জারের গায়ে সচরাচর ওয়াট সম্পর্কে তথ্য লেখা থাকে। এবার স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ কোনোভাবে শূন্য করে ফেলুন। ভিডিও দেখুন, ইন্টারনেট ব্রাউজ করুন, গেম খেলুন। চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে এবার চার্জিং কেব্‌ল যুক্ত করুন। দেখুন শতভাগ চার্জ পূর্ণ হতে ঠিক কত সময় লাগে।



এবার খাতা-কলমে একটু হিসাব কষলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। মনে করুন, ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির একটি স্মার্টফোন ৫ ওয়াট চার্জার দিয়ে শতভাগ চার্জ করতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এবার ওয়াট আর ঘণ্টা গুণ করুন। আমাদের উদাহরণে সেটি হবে ১৫ ওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব হয় কিলোওয়াট ঘণ্টায়। আর এক কিলোওয়াটে ১০০০ ওয়াট। অর্থাৎ ১৫ ওয়াট মানে ০.০১৫ কিলোওয়াট।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকরী বিদ্যুতের মূল্যহার দেওয়া আছে। আমরা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক গ্রাহকের মূল্যহার বিবেচনায় নিচ্ছি। এই শ্রেণির গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিলের খরচ ৫ টাকা ৭২ পয়সা। তাহলে ০.০১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের খরচ হবে ০.০৮৫৮ টাকা।

অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির একটি স্মার্টফোন ৫ ওয়াট চার্জার দিয়ে চার্জ করতে যদি ৩ ঘণ্টা লাগে, তবে মোট বিদ্যুৎ খরচ হবে ৯ পয়সার মতো। আপনি যদি প্রতিদিন একবার করে বছরে ৩৬৫ বার চার্জ করেন, তবে মোট খরচ হবে ৩২ টাকার কম। এর সঙ্গে অবশ্য বিদ্যুতের অপচয় থাকতে পারে, বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে। আবার সব সময় যে শতভাগ চার্জ হলেই আমরা চার্জারের সঙ্গে স্মার্টফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি, তা-ও তো নয়। তবু সব মিলিয়ে খরচটা নগণ্যই বলতে হয়।

4000 mah = 4Ah , Battery 3.7V 

so, 4 X 3.7= 14.8 wh


1 ইউনিট এর বিল ধরেছেন ৫.৭২ টাকা
1 ইউনিট = 1000 w/h
1000 w/h এর বিল ৫.৭২ টাকা
14.8 wh এর বিল (৫.৭২ X ১৪.৮)/১০০০ = ০.০৮৪৬ টাকা


Saturday, June 26, 2021

মেন্সট্রুয়াল কাপ

0 comments

 আগে মেয়েরা ঋতু চলাকালে কাপড় ব্যবহার করত। এরপর এল স্যানিটারি ন্যাপকিন, তারপর ট্যাম্পন। তবে এগুলো একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক নয়। বর্তমানে এই প্রোডাক্টটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও অনেকেই মেন্সট্রুয়াল কাপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। আবার অনেকে এর সম্পর্কে জেনেও ব্যবহার করতে ভয় পান, দ্বিধায় ভোগেন। 

 


মেন্সট্রুয়াল কাপ কী?

এটি মূলত ফানেলের মতো আকৃতির মেডিকেল গ্রেড সিলিকনের কাপ। এটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো রক্ত শুষে না নিয়ে কাপে জমা রাখে। ভাঁজ করে যোনিপথ দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সেটা ভেতরে গিয়ে প্রসারিত হয়ে জরায়ু মুখে আটকে যায়। ইকো ফ্রেন্ডলি হওয়ায় অন্যান্য সব পদ্ধতি থেকে এটি বেশি স্বাস্থ্যকর। ফ্লোর ওপর ভিত্তি করে এটি ১২ ঘণ্টা পর্যন্তও ব্যবহার করা যায়। তবে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরপর বের করে পরিষ্কার করা শ্রেয়।



 

যেভাবে ব্যবহার করবেন মেন্সট্রুয়াল কাপ

* প্রথমেই আপনার হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। কাপের খোলা অংশটি ওপরে রেখে নিচের অংশ শক্ত করে ধরে যোনিপথে ঢোকাতে হবে।

* কাপটি সি শেপে ফোল্ড করে ভাঁজ করে নিতে পারেন। নানা ধরনের শেপে ভাজ করা যায় যেমন—সি ফোল্ড, পাঞ্চ ডাউন, সেভেন ফোল্ড, ট্রায়াঙ্গেল, ডায়মন্ড শেপ ইত্যাদি। ভেতরে ঢোকানোর পর কাপটি ছাতার মতো খুলে যাবে। তারপর সেটিকে ঘুরিয়ে মুখ আটকে দিতে হবে, যাতে রক্ত বাইরে বেরিয়ে না আসে। এভাবে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লিকেজের টেনশন ছাড়া এবং চেঞ্জ করা ছাড়া ব্যবহার করা যাবে। ৮ ঘণ্টা পরে টান দিয়ে খুলে রক্ত পরিষ্কার করে নিতে হবে। এ ছাড়া ইউটিউবে নানা ধরনের ভিডিও পেয়ে যাবেন।

* গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। আপনার বয়স, ফ্লোর পরিমাণ, কাপের ধারণক্ষমতা ছাড়াও সন্তান ধারণ করেছেন কি না এর ওপরও নির্ভর করে আপনার কাপের সাইজ। সন্তান জন্মের পর ভ্যাজাইনার পেশি শিথিল হয়ে যায়। তখন বড় সাইজের কাপ ব্যবহার করতে হয়। আবার কিশোরী বয়সে সেই মাপটা ছোট হয়। তা ছাড়া আপনার যদি ফাইব্রোয়েডস বা জরায়ুতে ইনফেকশন থাকে, তাহলে এটি না ব্যবহার করাই শ্রেয়।

* প্রতিবার পিরিয়ড শেষে কাপটি গরম পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর মুছে শুকনো জায়গায় রাখুন। পরে এটিকে পরিষ্কার হাতে ধরুন। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একটি কাপ ৮-১০ বছর ব্যবহারের উপযোগী হবে।

 

মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা


পশ্চিমা দেশের নারীদের কাছে বর্তমানে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার সব থেকে নিরাপদ ও আরামদায়ক। একবার কিনে অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। মাসিকের যন্ত্রণা থেকে অনেকখানি মুক্তি দেয়।
তুলনামূলকভাবে কম ঝামেলাহীন ও পরিবেশের ক্ষতি হয় না।

এমা কক্সের মেন্সট্রুয়াল কাপের কোম্পানি কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেননা নিম্নবিত্ত বা হোমলেস নারীরা এই কাপ নিয়ে বেশ কিছু ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনজনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল। কারণ, এই কাপ ব্যবহারে প্রয়োজন সঠিক স্যানিটেশন। বেশির ভাগ সময়ই ভালো জিনিসের মন্দ দিকগুলো আমরা গোপন রাখি কিংবা বলতে চাই না। তবে ভালো জিনিস বলেই যে তার খারাপ দিক থাকবে না, এমনটা নয়। মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারেও আপনার বেশ কিছু অসুবিধা হতে পারে।

এই কাপ ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। কাপ ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে খুলে তা পরিষ্কার করতে হয়; যা ঘরের বাইরে থাকলে করা খুবই কষ্টসাধ্য। সব সময় ব্যবহারের পর ফুটন্ত পানিতে ফুটিয়ে তুলে রাখতে হবে। পরিষ্কার হাতে এই কাপ ধরতে হয়। তাই হুটহাট চাইলেই কাপ খুলে পরিষ্কার করা যায় না। হাত ভালো করে ধুয়ে কাপ ধরতে হয়।

মেন্সট্রুয়াল কাপ সম্পর্কিত কিছু কুসংস্কার

অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে যে মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহারে হাইমেন পর্দা ছিঁড়ে যায়, ফলে ভার্জিনিটি নষ্ট হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ, কাপটি যোনিপথের সামনের দিকেই থাকে, হাইমেন পর্দার কাছেও যায় না। তাই ছেঁড়ার প্রশ্নই ওঠে না। অনেকে ভাবেন যে ব্যথা পাবেন, এটিও ঠিক নয়।

এটিকে একটু ব্যয়বহুল মনে হলেও হিসাব মেলালে দেখা যাবে এটি একটি লাইফ টাইম ইনভেস্টমেন্ট। কারণ, একটি কাপ সঠিকভাবে ব্যবহারে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী; যা আপনার মাসে মাসে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার টাকার তুলনায় খুবই নগণ্য।  

 

 সংগৃহীত: প্রথম আলো

Tuesday, June 15, 2021

বায়তুল মোকাররম মসজিদ নির্মাণের ইতিকথা

0 comments

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদের নাম ‘বায়তুল মোকাররম’। এটি ঢাকায় অবস্থিত। এর বর্তমান ধারন ক্ষমতা ৪০,০০০। কিন্তু যখন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল তখন এর ধারন ক্ষমতা ছিল ৩০,০০০। বায়তুল মোকাররম মসজিটি পৃথিবীর ১০ম বৃহত্তম মসজিদ হিসেব বিখ্যাত। বায়তুল মোকাররম মসজিদ নির্মাণের পিছনে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা আছে যা আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা। এখানে কিছু তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হলো মাত্র:

 
কথিত আছে যে, পঞ্চাশ/ষাট দশকে তৎকালীন ঢাকার এক শ্রেনীর অভিজাত নাগরিকদের বসবাস ছিল পুরানা পল্টন, সেগুন বাগিচা এলাকায়। ঐ সময় দ্রুত ঢাকা শহরের বিস্তার ঘটছিল, বিশেষ করে শহরের উত্তরাংশে। তখনকার ঢাকার মূল নক্সা অনুসারে সদর ঘাট থেকে সোজা উত্তর দিকে যে নবাবপুর রোডটি গুলিস্থান এলাকা হয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এর দিকে চলে গেছে , সেটি ডানে বামে কোথাও মোড় না নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ বরাবর (তখনও মসজিদ নির্মাণ হয়নি) পুরানা পল্টন-সেগুন বাগিচা এলাকার উপর দিয়ে আরো উত্তরে চলে যাবার কথা ছিল, এতে অভিজাত শ্রেনীর অনেক নাগরিকের আবাস্থলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এমতাবস্থায় উক্ত এলাকায় বসবাসরত অবাঙ্গালী ধনিক শ্রেনীর নেতৃত্বস্থানীয় কিছু ব্যাক্তি রাতারাতি বর্তমান স্থানে মসজিদ নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহন করে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের নিকট একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। যুক্তি হিসেব তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বোঝায় যে, পুরাতন এবং নতুন ঢাকার সংযোগস্থলেই ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ করা অধিকতর যুতসই হবে। এতে নতুন ও পুরাতন ঢাকার সকলেই এই মসজিদের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।উল্লেখ্য গুলিস্থান হতে দক্ষিনে ঢাকার মূল শহর যা পুরাতন ঢাকা হিসেবে পরিচিত ছিল এবং গুলিস্থান হতে উত্তরে তখন নতুন শহর অর্থাৎ নতুন নতুন আবাসিক এলাকা এবং অফিস ও বানিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছিল। সামরিক প্রশাসন এই প্রস্তাব গ্রহন করে মসজিদ নির্মাণের সকল খরচ ব্যাবসায়ী মহলকেই বহন করতে অনুরোধ করে।
 

এ প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আব্দুল লতিফ ইব্রাহীম বাওয়ানী সর্বপ্রথম মসজিদটি নির্মাণের সম্পূর্ণ অর্থ যোগানের দায়িত্ব গ্রহনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে মোতাবেক এটি নির্মাণের কাজ তদারকি ও সমন্ময় সাধনের জন্যে ১৯৫৯ সালে ‘ বায়তুল মোকাররম মসজিদ সোসাইটি’ নামে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
 
ঢাকায় বসবাস করেন তখনকার অনেক বিশিষ্ঠ জনের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং তাঁদের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, বায়তুল মোকাররম মসজিদটি যেস্থানে নির্মিত হয়েছে সে স্থানটিতে একটি বড় পুকুর ছিল এবং পুকুরটির নাম ছিল ‘ পল্টন পুকুর ‘।এছাড়া পুকুরটির পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গাটি মূল শহরের সীমানার বাইরে ছিল বিধায় (তখনও নতুন শহর গড়ে ওঠা শুরু হয়নি) পুরাতন শহরের সকল ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলা (Dumping Place) হতো। কালের আবর্তে ময়লা ফেলতে ফেলতে পুকুরটিও প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল।
 

বায়তুল মোকাররম মসজিদের নক্সা ও নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘ আব্দুল হোসেইন এম. থারিয়ানি এন্ড কোম্পানী ‘ কে। থারিয়ানি এন্ড কোম্পানী সে সময়ে বেশ সুনামধন্য একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। এ প্রতিষ্ঠানটি ‘ঢাকা নিউ মার্কেট, ‘শাহবাগ হোটেল’ (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বা পিজি হাসপাতাল ), তৎকালীন আদমজী গ্রুপের হেড অফিস ‘ আদমজী কোর্ট বিল্ডিং’ এবং ‘ডিআইটি বিল্ডিং(বর্তমানে রাজউক) নির্মাণ করে সুনাম অর্জন করে।
 
বায়তুল মোকাররম মসজিদের নক্সা করার সময় মসজিদকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম মার্কেট , অফিস, লাইব্রেরি, গাড়ী পার্কিং এবং দক্ষিন প্রান্তে আগ্রার তাজমহলের সম্মুখভাগের একাধিক ছোট ফোয়ারা শোভিত পানির আধারের ন্যায় লম্বা পানির আধার সম্বিলিত মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। 
পবিত্র কাবা শরীফ প্রতিটি ধর্মপ্রান মুসলিমের নিকট অতি পবিত্র একটি স্থান বিবেচিত। কাবা শরীফ কে কেন্দ্র করেই মুসলমানগন পৃথিবী যে যে প্রান্তেই অবস্থান করুন না কেন নামাজ আদায় করে থাকেন।এছাড়া কাবাঘরের ছবিটি সকলেই নিজ নিজ অন্তরে ধারন করে থাকেন যেন চক্ষু বন্ধ করলে চোখের ভেতর পবিত্র কাবা শরীফের দৃশ্যটি ভেসে উঠে।যেহেতু বায়তুল মোকাররম মসজিদটি হবে ঢাকার কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং পবিত্র স্থান; এ কথা চিন্তা করেই বায়তুল মোকাররমের বহি:দৃশ্যটি (Out look) যেন কাবা ঘরের মত দৃশ্যমান হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহ্যেরও যেন প্রতিফলন ঘটে সে কথা বিবেচনায় রেখে পবিত্র কাবা শরীফ ও মোঘল স্থাপত্য কলার সমন্ময় ঘটিয়ে বায়তুল মোবারক মসজিদের স্থাপত্য নক্সাটি করা হয়। কাবা শরীফের ন্যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের মূল অংশে কোন ডোম নেই, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া সহ পৃথিবীর অন্যান্য অন্চলে সাধারণত ডোম সম্বলিত মসজিদ হয়ে থাকে, একথা ভেবে মূল কাঠামোয় ডোম না রাখলেও ডোমের অভাব পূরনের জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণের প্রবেশ পথে দুটি ডোম সম্বিলিত প্রবেশ দ্বার নির্মাণ করা হয়। যদিও মূল নক্সা অনুযায়ী মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথটি পূর্বদিক থেকেই হবার কথা ছিল।
 
বায়তুল মোবারক মসজিদ ৮ তালা বিশিষ্ট এবং এর উচ্চতা ৯৯ ফুট। মসজিদের নীচ তালার মূল নামাজের স্থানটি ২৬,৫০৭ বর্গফুট। এর পূর্বদিকে আরও ১৮৪০ বর্গফুট জায়গা রাখা হয়েছে নামাজ পড়ার জন্য। এছাড়াও মূল কাঠামোর বাইরে পূর্বদিকে আরও ২৮,৯৮৭ বর্গফুট খোলা জায়গা নামাজ পড়ার জন্য রাখা হয়েছে।
 

১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারী বায়তুল মোকাররম মসজিদের নির্মাণ কাজের উদ্ভোধন করে প্রথম পর্যায়ে দোতালা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। পরবর্তিতে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেড়িয়ে ১৯৬৮ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের কাজ সম্পূর্ণ হয়।বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান স্থপতি ছিলেন ‘ আব্দুল হোসেইন এম. থারিয়ানি এন্ড কোম্পানী ‘ এর স্বত্বাধিকারী মি: আব্দুল হোসেইন মোহাম্মদ থারিয়ানি’র পুত্র মো: সেলিম থারিয়ানি । ১৯৬৩ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম নামাজ পড়া শুরু হয় এবং ১৯৬৪ সাল হতে বায়তুল মোকাররম মার্কেট চালু হয়।
 
লিখেছেনঃ একেএম সামসুদ্দিন

Monday, June 14, 2021

গ্রাফোলজিঃ হাতের লেখায় মানুষ চেনা (পর্ব-৩) [মৃগাঙ্ক চক্রবর্তী]

0 comments

 

বদমেজাজি মানুষদের হাতের লেখা দেখে চেনা যায়। কেউ বদমেজাজি কীনা দেখতে গেলে, হাতের লেখায় লক্ষ্য করবেন t এর ক্রসবারটার দিকে। যদি দেখেন t এর ক্রসবারটা t-কে ছাড়িয়ে ডানদিকে সরে গেছে, তার মানে মানুষটা বদমেজাজি, শর্ট টেম্পারড। 
 
নীচের ছবিতে toy লেখাটায় t এর ক্রসবারটা লক্ষ্য করুন। দেখবেন ডানদিকে সরে গেছে।
 

একজন মানুষ খুব সহজেই ইরিটেট ফিল করে কীনা সেটাও কারো হাতের লেখা দেখে বোঝা সম্ভব। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে i আর j এর ডটের দিকে। 
 
সাধারণত এই ডটটা ছোটো একটা বিন্দু হয়। কিন্তু যদি দেখা যায় i এবং j এর ওপরের ডটটা একটা ছোট্টো বিন্দুর বদলে স্ল্যাস মতোন আকার নিয়েছে, তার মানে সেই মানুষটা সহজেই ইরিটেট ফিল করে, সহজেই ইরিটেট হয়ে যায়। নীচের joy আর Indian শব্দদুটোতে j আর i এর মাথার ওপরের ডটটা দেখো। দেখবে বিন্দুর বদলে স্ল্যাস আকার নিয়েছে। এর মানে মানুষটা সহজেই ইরিটেট হয়ে যায়। 
 
🖋️ Mriganka Chakraborty
Source:
BOOKS:
1) HANDWRITING ANALYSIS PUTTING IT TO WORK FOR YOU: ANDREA MCNICHOL (CONSULTED BY THE FBI, THE U.S DEPARTMENT OF JUSTICE, SCOTLAND YARD, TGE U.S DEPARTMENT OF DEFENCE, AND FORTUME 500 COMPANIES) WITH JEFFREY A. NELSON
2) HANDWRITING ANALYSIS : P. SCOTT HOLLANDER
3) HANDWRITING ANALYSIS TGE COMPLETE BASIC BOOK: KAREN KRISTIN AMEND AND MARY STANSBURY RUIZ
4) BART BAGGETT'S HANDWRITING ANALYSIS SECRETS OF LOVE SEX AND RELATIONSHIP: BART BAGGETT
VIDEO TUTORIAL:
1) A TO Z GRAPHOLOGY BY ZUBIN VEVAINA
2) GRAPHOLOGY BY FIONA MACKAY YOUNG
3) HANDWRITING ANALYSIS TUTORIAL BY BART BAGGETT