Showing posts with label Medi. Show all posts
Showing posts with label Medi. Show all posts

Saturday, March 6, 2021

লোহায় পা কেটে গেলে কী টিটেনাস ইনজেকশন দিতে হয়?

0 comments

 মরচে পড়া লোহায় মরিচার সাথে আরও থাকতে পারে ময়লা আবর্জনা এবং বিভিন্ন ধরণের জীবাণু। এই জীবাণু গুলোই আমাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর।

একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani যা সাধারণত মাটি, আবর্জনা ও নোংরা স্থানে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর যখন তীক্ষ্ণ পেরেক বা ওইজাতীয় জীবানু বাহিত বস্তু দ্বারা চামড়া ভেদ করে শরীরের মাংসপেশিতে প্রবেশ করে তখন সেগুলো বংশবিস্তারের মাধ্যমে এক প্রকার টক্সিন (tetanospasmin) তৈরি হয়। এ টক্সিন মানবদেহের মোটর নিউরনে আক্রমন করে যা মাংসপেশির সন্ঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।



সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে পেশী খিঁচুনি ক্রমশ চোয়ালেও পরিলক্ষিত হয়, ফলে এই রোগের একটি সাধারণ নাম হল দাঁতকপাটি । এই রোগের অন্যান্য লক্ষণগুলি হল পেশীর অনমনীয়তা, গিলে খেতে অসুবিধা এবং দেহের অন্যান্য অংশে খিঁচুনি। শরীরের পেছনের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হয় বলে পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যায়। এই কারণে এই রোগকে (ধনুঃ + টঙ্কার) ধনুষ্টংকার বলে।

Saturday, November 28, 2020

সিজোফ্রেনিয়া : যে অসুখে মানুষ নিজের সঙ্গে একা কথা বলে

0 comments

 সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হলে মানুষ একা একা অনবরত কথা বলতে থাকেন।

আমরা স্মার্টফোনে সেলফির সঙ্গে সবাই পরিচিত। কিন্তু সেলফ টক বা একা একা কথা বলার সঙ্গে হয়তো আমরা অনেকেই তেমন পরিচিত নই। একা একা কথা বলা বা নিজে নিজে কথা বলা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়া বা মুড ডিসওর্ডারের লক্ষণ। ওই রোগীরা অনবরত একা একা কথা বলতে থাকেন। তাদের কথাগুলোর মধ্যে তেমন একটা সামঞ্জস্যতা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানুষের রোগজনিত অক্ষমতার প্রথম ১০টি কারণের একটি সিজোফ্রেনিয়া। এতে আক্রান্তরা সম্মানহীন, বন্ধুহীন, আত্মীয়হীন অবস্থায় জীবনযাপন করে। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট সিজোফ্রেনিয়া ডটকমের তথ্য মতে, চীনে এই রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ থেকে এক কোটি ২০ লাখ। ভারতে এই রোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৮০ লাখ ৭০ হাজার। বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ।

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অডিটরি হ্যালুসিনেশন সবচেয়ে বেশি হয়। অডিটরি হ্যালুসিনেশন মানে হলো অবাস্তব কিছু শুনতে পাওয়া। অর্থাৎ অস্তিত্ব নেই এমন কিছুর আওয়াজ শোনা। ব্যাপারটা স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রেও হতে পারে।

মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে এই হ্যালুসিনেশন অনবরত হতে থাকে। তারা অনবরত শুনতে থাকেন, তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলছে, কিংবা তাদের নিয়ে কেউ কথা বলছে। তাই তারা এসব কথার উত্তরও দিতে থাকেন। অগোছালো অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিংবা সামঞ্জস্যতাপূর্ণ। যারা মদপান করেন বা যারা মাদকসেবী তাদেরও অনেক সময় হ্যালুসিনেশন হয়।

সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের আচরণ স্বাভাবিক থাকে না। কখনো একেবারে চুপচাপ, আবার কখনো অতিরিক্ত নড়াচড়া করেন বা কখনো কখনো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পোশাক-আশাক এবং নিজেরাও অপরিষ্কার থাকেন। কোনো কাজেই উৎসাহ পান না। অনেকে অন্য কারো সাথে, বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে পারেন না। একা একা থাকতে চান।

মানসিক রোগ বা সিজোফ্রেনিয়াতে অনবরত হ্যালুসিনেশন হয় ব্রেইনের ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার মাত্রাতিরিক্ত হওয়াতে। এজন্যে ডোপামিন রিসেপ্টর ব্লকার ঔষধ দেওয়া হয়। এতে অবিশ্বাস্য রকমভাবে হ্যালুসিনেশন বন্ধ হয়ে যায়। রোগীদের একা একা কথা বলা কমে আসে। এক সময় সে সাধারণ মানুষের মতই সুস্থ হয়ে উঠে।

সিজোফ্রেনিয়া রোগীর চিকিৎসা সফল হতে হলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগটিকে শনাক্ত করে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক মনোভাব পরিবর্তন ও রোগীদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সিজোফ্রেনিয়া রোগের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা; মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ ও পাবনা মানসিক হাসপাতালে।

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আপনজনের সান্নিধ্যে রোগী অনেক ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে যান।

ঢাকা টাইমস২৪ থেকে সংগৃহীত

 

Friday, November 27, 2020

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে যা করবেন

4 comments

পৃথিবীতে মানবজাতি যেসব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে তার মধ্যে কিডনী রোগ অন্যতম। কিডনি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি রোগ নীরবে শরীরের খুব ক্ষতি করে। এজন্য এটাকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অত্যন্ত জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। বাংলাদেশে দুই কোটিরও অধিক লোক কোনো না কোনো কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘণ্টায় অকাল মৃত্যুবরণ করছে পাঁচজন। অন্যদিকে কিডনি রোগের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে, এদেশের শতকরা পাঁচ ভাগ লোকেরও সাধ্য নেই এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার।

মানবদেহের কোমরের কিছুটা ওপরে দুই পাশে দুটি কিডনি থাকে। পরিণত বয়সে একটি কিডনি ১১-১৩ সেমি লম্বা, ৫-৬ সেমি চওড়া এবং ৩ সেমি পুরু হয়। একটি কিডনির ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম। তবে বাম কিডনিটি ডান কিডনি অপেক্ষা একটু বড় ও কিছুটা ওপরে থাকে। প্রতিটি কিডনি প্রায় ১২ লাখ নেফ্রন দিয়ে তৈরি। নেফ্রন হলো কিডনির কার্যকর ও গাঠনিক একক। কোনো কারণে এই নেফ্রনগুলো নষ্ট হয়ে গেলে কিডনি দ্রুত অকেজো হয়ে যায়। কিডনি রোগে সাধারণত একসঙ্গে দুটি কিডনি আক্রান্ত হয়।


 

আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত অসংখ্য জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। এসব বিক্রিয়ায় উৎপন্ন দূষিত পদার্থ রক্তে মিশে যায়। আর কিডনি তার ছাঁকনির মাধ্যমে রক্তকে ছেঁকে পরিশোধিত করে এবং দূষিত পদার্থগুলো (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটনিন ইত্যাদি) দেহ থেকে মূত্রের সঙ্গে বের করে দেয়। এভাবে কিডনি আমাদের দেহকে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও কিডনির অন্যান্য কাজ আছে।

কিডনি বিকল হওয়ার আগে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কোনোভাবেই লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ অবস্থায় দেখা যায় খাওয়ায় অরুচি, বমি বমি ভাব, মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠলে চোখ-মুখ ফোলা দেখানো অর্থাৎ চোখের নিচের অংশ বেশি ভারী ভারী হয়ে থাকে।

কিডনি রোগের প্রধান প্রধান লক্ষণ হচ্ছে হঠাৎ করে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, প্রস্রাবে পরিমাণ ও সংখ্যার পরিবর্তন বিশেষ করে রাতে বেশি প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত এবং প্রোটিন যাওয়া, চোখের চারপাশে ও পায়ের গোড়ালিতে পানি জমা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া করা ও অস্বাভাবিক গন্ধ হওয়া, রক্তশূন্যতা বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও শরীর চুলকানো, বমি বমি ভাব, প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বের হওয়া, হাত, পা মুখসহ সমস্ত শরীর ফুলে যাওয়া, গ্লোমেরুলার ফিল্টারেশন রেট ৯০-এর কম হওয়া।

সঠিক নিয়ম মেনে না চললে ও খাদ্যাভ্যাস যথাযথ না হলে, এমনকি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবেও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় রেখে সহজেই ক্রিয়েটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারেন।

প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস (২ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করা। তবে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে অধিক পানি পান করা প্রয়োজন।

দানা বা বীজ জাতীয় খাদ্য খান যেমন ব্রেড, নুডলস, বাদাম ইত্যাদি। সপ্তাহে অন্তত একটি কচি ডাবের পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত চারটি থানকুচি পাতা খেতে হবে। শসা, তরমুজ, লাউ, বাঙ্গি, কমলালেবু, লেবু, মাল্টা, ডালিম, বীট, গাজর, আখের রস, বার্লি, পেঁয়াজ, সাজনা ইত্যাদি পরিমাণ মতো খেতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং হাত পায়ে পানি জমে তারা নিয়মিত গোক্ষুর চূর্ণ তিন গ্রাম মাত্রায় সেবন করলে মূত্রের পরিমাণ ঠিক হয়ে যাবে এবং শরীরে জমে থাকা পানি বা ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

রক্ত চন্দন কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ। রক্ত চন্দন ডাই ডাইরুটিক হিসাবে কাজ করে।

এছাড়া প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বন্ধ করে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। জুনিপার বেরি মূত্রবর্ধক হিসাবে কাজ করে, কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পাথরকুচি পাতার নির্যাস কিডনি পাথরী ধ্বংস করতে খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কিডনি রোগীদের জন্য অন্য রোগীদের তুলনায় একটু বেশি ক্যালোরি নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য কার্বোহাইড্রেট থেকে পরিমাণ ৩০ থেকে ৩৫ ক্যালোরি হয়ে থাকে। ভাত/ রুটি (ময়দার বা চালের) চিড়া/ সাগু/ চালের সুজি ইত্যাদি কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ কিডনি রোগীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম প্রোটিন রোগীভেদে ডায়েটে দেয়া হয়ে থাকে। প্রাণীজ প্রোটিন থেকে রোগীর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে।

ডিমের সাদা অংশ, মুরগির বুকের মাংস, দুধ বা দই থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। মাছে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ফ্যাট ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ রেখে সহজেই এড়াতে পারেন কিডনির সমস্যা।

বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যালমন ও টুনাতে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। আমাদের মনে রাখতে হবে ৩০ গ্রাম প্রোটিন মানে ৩০ গ্রাম মাছ, মাংস বা ডিম নয়। যেমন একটি ডিমের সাদা অংশ থেকে আমরা মাত্র ৩.২ গ্রাম প্রোটিন পেয়ে থাকি। ফলের ক্ষেত্রে দিনে আপেল, নাসপাতি, পেয়ারা ও পেঁপে যেকোনো একটি এক কাপ পরিমাণ খেতে পারেন।

শাকসবজির পরিমাণও প্রতিবেলায় এক কাপ রাখতে পারেন, সঙ্গে পর্যাপ্ত সালাদ। প্রায় সবধরনের সবজি খেতে পারলেও পিউরিন ও উচ্চ পটাশিয়াম যুক্ত সবজি যেমন ফুলকপি, মটরশুটি, টমেটো, ঢেড়শ, কচুরলতি আরও বেশ কিছু সবজি কিডনি রোগীদের না খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় এক থেকে দেড় লিটার পানি রোগীকে বরাদ্দ করা হয়। যা পানি, চা, দুধ সব মিলিয়ে হিসেব করতে হবে। কিডনি রোগীর সোডিয়ামও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সাধারণত প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ গ্রহণ করতে পারেন। এক চামচ সমান পাঁচ গ্রাম।

রোগীর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপলিমেন্ট বা ইঞ্জেকশন নিতে হতে পারে। তবে হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর জন্য না জেনে কখনোই কোনো খাবার গ্রহণ করা উচিত না।

প্রত্যেক কিডনি রোগীর জন্য যদিও স্বতন্ত্র ডায়েট - তারপরও কিছু খাবার আছে যা সব কিডনি রোগীকেই পরিহার করতে বলা হয়। যেমন: ডাল, কোল্ড ড্রিংকস, আঁচার, গরু, খাসির মাংস, ভাজাপোড়া খাবার, কফি, চানাচুর, পাপড়, বাইরের কেনা খাবার ও বাসি খাবার। এছাড়া পরিহার করতে হবে চকোলেট, চকোলেট দুধ, পনির, মুরগির মাংস, সস, পিচস, ব্রকোলি, বাদাম, মাশরুম, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, টমেটো, কলা, খেজুর ও আচার ইত্যাদি।

 

সংবাদ:ঢাকা টাইমস

Wednesday, March 11, 2020

বাংলাদেশে জরুরি সেবার নম্বরসমূহ

0 comments
স্বজন বা অন্যকেও হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে গেছে পরিবারের কেউ। হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স দরকার। অথবা চোখের সামনেই ঘটতে দেখছেন কোনো দুর্নীতি, কিংবা কোথাও আগুন লেগেছে। এমন সব জরুরি মুহূর্তে সরকারি সেবার জন্য ফোন করতে পারেন নির্দিষ্ট কিছু নম্বরে। চলুন জেনে নেয়া যাক কোন কোন নম্বরে পাবেন এই সেবা।

১০৫ :
জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য হালনাগাদ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে এই নম্বরে কল করতে পারেন। তবে এই সার্ভিসটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন না।

১০৬ :
এই নম্বরটি দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার। আপনার চোখে কোনো দুর্নীতি ধরা পড়লে ফোন করে জানিয়ে দিন এই নম্বরে। এই নম্বরটিতে ফোন করতে পারবেন বিনা মূল্যে।

১০৯ :
কোথাও হতে দেখছেন বাল্য বিয়ে। কিংবা কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কল করে জানিয়ে দিন এই নম্বরে। সরকারি এই সার্ভিসটিও পাবেন বিনা মূল্যে।

১৩১ :
এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের কল সেন্টারের নম্বর। ট্রেনের সময়সূচি এবং টিকিট সম্পর্কে জানতে পারবেন এই নম্বর থেকে। এই সুবিধাটিও পাবেন নির্ধারিত চার্জের বিনিময়ে।

৩৩৩ :
এটি জাতীয় তথ্য বাতায়নের কল সেন্টার। বাংলাদেশের যেকোনো তথ্য জানতে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে কল করতে পারেন এই নম্বরে। এটির জন্যও প্রযোজ্য হবে নির্ধারিত চার্জ।

৯৯৯ :
এটি বাংলাদেশের জরুরি সেবার কল সেন্টার। এখানে কল করে আপনি জরুরি মুহূর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নিতে পারবেন। যেকোনো অপরাধের তথ্য জানিয়েও সহায়তা করতে পারেন পুলিশকে। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই সেবাটি পাবেন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা।

১০৯৮ :
শিশুর সহায়তার কল সেন্টারের নম্বর এটি। আপনার আশেপাশে কোনো শিশুর যে কোনো সমস্যায় কল দিতে পারেন এই নম্বরে। এই সেবাটিও পাবেন বিনা মূল্যে।

১৬১০৮ :
এটি মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। কোথাও মানবাধিকার বিঘ্নিত হলে এই নম্বরে ফোন করে সহায়তা পেতে পারেন। এটিতে চার্জ প্রযোজ্য।

১৬১২৩ :
কৃষকদের জন্য একটি জরুরি নম্বর এটি। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ বিষয়ক যে কোনো পরামর্শ জানতে পারবেন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। এটিও পাবেন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে।

১৬২৬৩ :
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য সেবার কল সেন্টার এটি। এখান থেকে যে কোনো সমস্যায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন । এই সেবাটি পাওয়া যায় দৈনিক ২৪ ঘণ্টা। তবে চার্জ প্রযোজ্য।

১৬৪৩০ :
এটি সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার। আইনগত যে কোনো পরামর্শ ও সাহায্য পেতে পারেন এই নম্বরে কল করে। আইনি সহায়তার এই নম্বরটিতে কল করতে পারবেন বিনা মূল্যে।

Sunday, August 4, 2019

কোন গ্রুপের রক্ত কে নিতে পারে

0 comments

আমরা জানি মানুষ ভেদে রক্তের গ্রুপের পার্থক্য হয়। সাধারণত A+, A-, B+, B-, AB+, AB-, O+, O- গ্রুপের রক্ত থাকে । এর  মধ্যে পৃথিবী তে সবচেয়ে O+ গ্রুপের মানুষের সংখ্যা বেশী। নিচে এশিয়ান দের  রক্তের গ্রুপের শতকরা হার দেয়া হল

O+ =39%
O- =1%
A+=27%
A- =0.5%
B+ =25%
B- =0.4%
AB+ =7%
AB- = 0.1%

প্রাপ্ত বয়স্ক যেকোন সুস্থ মানুষ অন্যকে রক্ত দিতে পারে।
রক্ত দেয়ার জন্য উপযুক্ত-
 মহিলা ও পুরুষ যাদের বয়স ১৮- ৪৫ বছর। পুরুষদের ক্ষেত্রে অবশ্যই  ৪৭ কেজি বা তার উর্ধে হতে হবে এবং মহিলা দের ক্ষেত্রে  ৪৫ কেজি বা তার উর্ধে হতে হবে।
যারা রক্ত দিবেন না- যাদের ৩ বছরের মধ্যে
 জন্ডিস হয়েছে, যাদের রক্ত বাহিত জটিল রোগ রয়েছে। ৪মাসের মধ্যে যারা রক্ত দিয়েছে।
যারা ৬ মাসের মধ্যে বড় কোন অস্ত্রোপাচার করিয়েছেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে যারা গর্ভবতী অথবা যাদের মাসিক বা ঋতু স্রাব চলছে।

রক্ত দানের সাধারন তথ্য - ১) এক ব্যাগ রক্ত দিলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। ২) রক্ত দানের ৫- ২১ দিনের মধ্যে ঘাটতি পূরণ হয়ে
যায়। ৩) রক্ত দিলে হাড়ের বোনম্যারোতে নতুন রক্ত কণিকা তৈরিতে উদ্দীপনা আসে।৪) রক্ত দানের পর প্রয়োজন মত পানি খেয়ে নিলে
জলীয় অংশের ঘাটতি পূরণ হয়।
নিচের সারণী থেকে আমরা সহজেই দেখে নিতে পারি কে কাকে রক্ত দিতে পারে বা কে কার কাছ থেকে  রক্ত নিতে পারে-
রক্তের গ্রুপ
যাদের দিতে পারবে
যাদের কাছ থেকে নিতে পারবে
A+
A+  AB+
A+   A-  O+  O-
A-
A+   A-   AB+  AB-
   A-   O-
AB+
AB+
সকল গ্রুপ
AB-
AB+  AB-
       A-   B-  O-  AB-
B+
B+   AB+
B+  B-  O+  O-
B-
B+  B-   AB+  AB-
B-   O-
O+
A+  B+   AB+  O+
O+  O-
O-
সকল গ্রুপ
O-










Saturday, August 3, 2019

ডেঙ্গু মশা কিভাবে চিনবেন

0 comments
মশা, অতিকায় ক্ষুদ্র এ প্রাণীটি আজ রীতিমত এ আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১১ প্রজাতীর মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে এডিস মশা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

এই জাতীয় মশার দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যে কারণে একে টাইগার মশা বলা হয়। মাঝারি আকারের হয়ে থাকে এবং এর অ্যান্টেনা বা শুঙ্গটি কিছুটা লোমশ দেখতে হয়।

এডিস মশার অ্যান্টেনায় অনেকটা দাড়ির মত থাকে। পুরুষ মশার অ্যান্টেনা স্ত্রী মশার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি লোমশ। ফিমেল এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে। অন্য মশা যখন কোথাও বসে, তখন ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে বসে; কিন্তু ডেঙ্গু মশা বসলে সমান্তরালভাবে বসে।

এ মশাগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠে যেমন থাকতে পারে, তেমনই ৪০০ থেকে ৬০০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায়ও নিমেষে উড়ে বেড়াতে পারে। প্রায় তিন মাইল পর্যন্ত উড়তে পারে ডেঙ্গুর মশারা। প্লেন, ট্রেন বা যেকোনো গণপরিবহনে করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র চলেও যেতে পারে। আফ্রিকা থেকে উৎপন্ন এ মশা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডেঙ্গু জ্বর ছড়াচ্ছে।

গবেষণা থেকে জানা যায়, ৫০ মিটার দূর থেকেই মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডের গন্ধ চিনতে পারে মশা। এদিকে মানুষের কাছাকাছি চলে এলেই ২০ সেন্টিমিটার দূর থেকে মশা ঘামের গন্ধ পায়। ঘামের মধ্যে মিশে থাকা ল্যাকটিক এসিড শনাক্ত করেই কামড়াতে আসে। এর মধ্যে রয়েছে রঙেরও প্রভাব। অন্তত ১০ মিটার দূর থেকেই মশা গাঢ় লাল, গাঢ় নীল, কালো ও অতি গাঢ় রংগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারে। এসব রঙের দিকে ছুটে আসে মশা। তাই হালকা রঙের পোশাক মশা এড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে।

এই মশা সাধারণত দিনেই কামড়ায়। তবে রাতেও যে কামড়ায় না তা অনিশ্চিত।
এডিস মশা সাধারণত একাধিক ব্যক্তিকে কামড়ায়। তাই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীর থেকে এডিস মশার মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হলে তখন ঐ মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে ডেঙ্গু হতে পারে।


ডেঙ্গু জ্বর যা ব্রেকবোন ফিভার নামেও পরিচিত, একটি সংক্রামক ট্রপিক্যাল ডিজিজ যা ডেঙ্গু ভাইরাস-এর কারণে হয়। স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‍্যাজিক ফিভার-এ পর্যবসিত হয় ,যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অনুচক্রিকার কম মাত্রা এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ অথবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম-এ পর্যবসিত হয়, যেখানে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম থাকে।

যাদের বয়স ১৫ এর নীচে তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সব থাকে বেশি।
ডেঙ্গু জ্বরের ধরন: ডেঙ্গু ২ ধরনের ।

১। সাধারণ ডেঙ্গু
২। জটিল ডেঙ্গু

সাধারণত জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রভাব দেখা যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে

0 comments
কোষ্ঠকাঠিন্যের বড় কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস। ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার ভয়ে অনেকে পানি কম খান, আঁশযুক্ত খাবারও প্রায়ই খাওয়া পড়ে না। আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) বা হাইপোথাইরয়েডের মতো রোগ নারীদের মধ্যে বেশি। এ দুটিও কোষ্ঠকাঠিন্যর অন্যতম কারণ। অনেকেই তেমন ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম করেন না। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি প্রধান কারণ। কিছু ওষুধও এর জন্য দায়ী। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অ্যানাল ফিসার, পাইলস, ইউটেরাইন প্রলাপস ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আপনি যা করতে পারেন:
  • প্রচুর পানি পান করুন। স্কুল–কলেজ বা অফিসে গেলে পানি পান কমিয়ে দেবেন না। বাথরুমে যেতে হলে চেপে রাখবেন না।
  • প্রতিদিনের বাউয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগের অভ্যাস স্বাস্থ্যকর করে তুলুন। একটু ভোরে ঘুম থেকে উঠুন। টয়লেট ব্যবহারের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকা ভালো, যেমন সকালের নাশতার ১৫ বা ২০ মিনিট পর। টয়লেট ব্যবহারে তাড়াহুড়া করবেন না।
  • দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করুন প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার। সকালের নাশতায় রাখতে পারেন লাল রুটি, ওটস, হোল গ্রেইন সিরিয়াল বা কর্নফ্লেক্স। রাখুন গোটা ফল, পারলে ফলের খোসাসহ। খেজুর, বাদাম, কিশমিশ, অ্যাভোকেডো, আম, কলা, পেঁপে খাওয়া ভালো। দুপুরের খাবারে সবজি এবং সালাদ অবশ্যই রাখবেন। রাতে এক গ্লাস গরম দুধ অনেক কাজে আসবে। ব্রকলি, বরবটি, মটরশুঁটি এবং যেকোনো ধরনের বীজজাতীয় খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়।
  • বিস্কুট, কুকি, ক্যান্ডি, আইসক্রিম ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ায়। এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • বয়স্ক নারীদের হঠাৎ নতুন করে কোষ্ঠকাঠিন্য, মাঝেমধ্যে ডায়রিয়া মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য, মলের সঙ্গে রক্তপাত, অল্প অল্প জ্বর, পেটব্যথা, ওজন হ্রাস ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।


Wednesday, October 26, 2016

নেট-আসক্তি কীভাবে কমাবেন

0 comments
স্বচ্ছ ক্লাস সেভেনে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে মায়ের স্মার্টফোনটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। খেতে খেতেও খেলতে থাকে গেম। বিরতিহীন। বাইরের কোনো খেলার দিকে তার মন নেই। পড়ালেখা নামমাত্র। স্কুলে যায় ঠিকই, কিন্তু ইদানীং তার ফল খারাপ হচ্ছে। বাসায় যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মা বা বাবার মুঠোফোন আঁকড়ে থাকে। নানা ধরনের গেম খেলে। বেড়াতে যেতে চায় না। বাসায় কোনো অতিথি বেড়াতে এলে সে তাদের সময় দেয় না। জোর করে মুঠোফোন সরিয়ে রাখলে বা গেম খেলতে বাধা দিলে কান্নাকাটি করে; চিৎকার করে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে।

মুঠোফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার নিয়ে অতি ব্যস্ত হয়ে থাকছে শিশু-কিশোর, তরুণদের একাংশ। প্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের প্রতি সন্তানের আসক্তি বাবা-মায়ের চিন্তার কারণ। কেউ মুঠোফোন বা ল্যাপটপে গেম খেলে, কেউ নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে গিয়ে উত্তেজক ছবি বা ভিডিও দেখে। আবার কেউ সফটওয়্যার ও অ্যাপ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কেউ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট করে।

কীভাবে জন্মায় ইন্টারনেট-আসক্তি

l সন্তানকে শান্ত রাখতে মুঠোফোনসহ নানা যন্ত্রপাতি তাদের হাতে তুলে দেন ব্যস্ত বাবা-মায়েরা। এ থেকে সন্তানের মধ্যে প্রযুক্তি উপভোগ করার অভ্যাস জন্মায়।

l অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে সন্তানকে সব সময় ঘরে বন্দী রাখতে চান। নিজের চোখের সামনে দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের হাতে মুঠোফোন-ল্যাপটপ তুলে দিয়ে আপাত স্বস্তি অনুভব করেন, যা শিশু-কিশোরদের যন্ত্রের প্রতি আসক্ত করে ফেলে।

l বাবা-মা নিজেরাও সারা দিন ইন্টারনেটনির্ভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মগ্ন থাকেন। সন্তানেরা এতে উৎসাহিত হয়।

l ‘আমার ছেলে এই বয়সেই মোবাইল ফোন-ল্যাপটপের সব কারিকুরি জানে, আমরা কিছুই পারি না’—এই বলে বাবা-মায়েরা অন্যদের কাছে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে থাকেন। ভাবেন, ‘আহ্‌ আমার সন্তান কত স্মার্ট’। কিন্তু দিন শেষে এই প্রযুক্তি-আসক্ত সন্তানটি স্মার্ট হওয়ার বদলে ব্যর্থ হয়।

l কখনো কখনো কিছু বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপাদান শিশুদের প্রযুক্তি বা গেমের প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে।

ক্ষতি কী?

l সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয় এবং কোনো বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ধীরে ধীরে সমাজ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

l জীবনের গুণগত মান কমে যায়। পড়ালেখাসহ সব কাজের গতি ও মান নিচে নামতে থাকে। হতাশা বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হতে পারে; ঘটাতে পারে আত্মহত্যা।

l অন্যদের সঙ্গে আচরণ সুষম হয় না, খিটখিটে মেজাজ আর অস্থিরতা দেখা দেয়, সম্পর্কের জটিলতা তৈরি হয়।

l সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া বা সাইবার জগতের অপরাধে জড়িয়ে আইনি ঝামেলায় পড়ে যেতে পারে।

l ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে; যা কারও পরবর্তী বিবাহিত জীবনকে অসফল করে তোলে। উত্তেজক ওয়েবসাইটের আসক্তির কারণে যৌন অপরাধ বা যৌন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

প্রতিরোধ আর প্রতিকার

l সন্তানের সার্বিক দিক বিবেচনা করে দেখুন, সে প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত কি না। অপরের প্রতি তার সম্মানবোধ আছে কি না। সে নিজেকে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

l গ্যাজেট আর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিলে তার একটি সময়সীমা বেঁধে দিন। সন্তানের সঙ্গে চুক্তিতে আসুন, যাতে নিয়মগুলো পালন করে। সময় মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।

l বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে (কমন এরিয়া) রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন।

l ১৮ বছরের নিচের সন্তানের ইন্টারনেটের যাবতীয় পাসওয়ার্ড জানুন। তবে লুকিয়ে নয়, তাকে জানিয়েই তার নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ডটি আপনার জানা দরকার; এটি বুঝিয়ে বলুন।

l নিরাপত্তামূলক অনেক সফটওয়্যার আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার বাসার সংযোগ থেকে কোনো নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা না যায়। এ বিষয়ে আপনার ইন্টারনেট সংযোগদাতা বা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

l আপনার সন্তান প্রযুক্তিতে অতি দক্ষ—এই ভেবে আত্মতৃপ্তি পাবেন না। তার বয়স প্রযুক্তির উপযোগী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।

l শিশুকে গুণগত সময় দিন। মা-বাবা নিজেরাও যতি প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত থাকেন, তবে সবার আগে নিজের আসক্তি দূর করুন। পরিবারের সবাই মিলে বাসায় ক্যারম, লুডু, দাবা, মনোপলি ইত্যাদি খেলার চর্চা করুন। নিয়ম করে সবাই মিলে বেড়াতে যান।

l প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট-আসক্তি কিন্তু মাদকাসক্তির মতোই একটি সমস্যা। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই আসক্তি দূর করুন।

আহমেদ হেলাল, সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Wednesday, October 12, 2016

হাড়ে আঘাত পেলে কী কী ঝুঁকি থাকে?

0 comments

বয়সটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ পেরোনোর পর শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায় বলে আঘাতের পর নানা ঝুঁকি বাড়ে। তখন ব্যথা পেলে হাড় ও মাংসপেশির প্রদাহ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ভারী জিনিসপত্র তুলতে গিয়ে এ রকম আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা বেশি।