Tuesday, December 11, 2012

ফাসিয়াখালী, চকোরিয়া, কক্সবাজার

0 comments
বাংলাদেশের যে কয়টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য আছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ফাসিয়াখালী। পর্যটন শহর কক্সবাজার থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার উত্তরে চকোরিয়া উপজেলায় এ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটির অবস্থান। আয়তনে খুব একটা বড় না হলেও এ অভয়ারণ্যের সর্বত্র জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকোরিয়া এলাকার ফাসিয়াখালী রেঞ্জের অধীন এ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনানুসারে ২০০৭ সালের এপ্রিলে এটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাসিয়খালী ও ডুলাহাজারা ব্লকের প্রায় ১৩০২ হেক্টর এলাকাজুড়ে এ অভয়ারণ্যেও বিস্তৃতি। ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটির বেশিরভাগ এলাকাই পাহাড়ি বনাঞ্চল।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ এ বনাঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ গর্জন। জঙ্গলের যে দিকেই চোখ যায় বিশাল বিশাল আকাশচুম্বী গর্জন গাছের দেখা মেলে। নানান গাছপালা আছে এ বনে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেগুন, শাল, বট, আকাশমণি, হারগোজা, হরিতকি, চাঁপালিশ, বহেরা, বাঁশ প্রভৃতি।

এশিয়ান হাতিসহ নানান প্রাণীরা অবাধ বিচরণ করে ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। বাংলাদেশের অতি বিপন্ন একটি বন্যপ্রাণী উল্লুক এ বনে কদাচিত্ দেখা মেলে। এ ছাড়াও এ জঙ্গলে সাধারণত দেখা মেলে লাল মুখ বানর, মুখপোড়া হনুমান, সজারু, খেঁকশিয়াল, মায়াহরিণ, বন্যশুকর, শিয়াল ইত্যাদি। এ ছাড়া এ বনের বাসিন্দার তালিকায় আছে নানান জাতের শাপ আর সরীসৃপ। নানান পাখিরও অভায়শ্রম ফাসিয়াখালী। এ অভয়ারণ্যে দেখা মেলে কাঠঠোকরা, ধনেস, টিয়া, বন মোরগ, লাল মৌটুসি, মথুরা, ঘুঘু, নীলকণ্ঠী, পাহাড়ি ময়না, ফিঙ্গে, বুলবুলি ইত্যাদি।

কীভাবে যাবেন

ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে যেতে প্রথমে আসতে হবে কক্সবাজার। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশেই এ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বাসে চড়ে অভয়ারণ্য এলাকায়ও নামতে পারেন। আবার কক্সবাজার থেকে লোকাল বাসে চড়েও আসতে পারেন। সড়কপথে ও আকাশপথে ঢাকা থেকে সরসরি কক্সবাজার আসা যায়। এ পথে গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, হানিফ, টিআর, বাগদাদ ইত্যাদি পরিবহন সংস্থার তাপনিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাস চলাচল করে। ভাড়া ১২৫০ টাকা ১৮৫০ টাকা। এ ছাড়া এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ইউনিক, ঈগল, হানিফ ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া ৭০০-৮৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার, জিএমজি এয়ার ও রিজেন্ট এয়ারের বিমানে সরাসরি যেতে পারেন কক্সবাজার।

কোথায় থাকবেন

ফাসিয়াখালী অভয়ারণ্য এলাকার সবচেয়ে কাছের থাকার ভালো জায়গা হলো চকোরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে ইনানী রিসোর্ট। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলো সাধারণত এখানে যাত্রা বিরতি করে থাকে। এ ছাড়া কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন প্রচুর হোটেল রয়েছে। ধরন অনুযায়ী এসব হোটেলের প্রতি দিনের কক্ষ ভাড়া ৮০০-২০০০০ টাকা। পাঠকদের সুবিধার জন্য নিচে কয়েকটি হোটেলের ফোন নম্বর দেওয়া হলো। কক্সবাজারে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪), মোটেল উপল (০৩৪১-৬৪২৫৮), মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১), মোটেল লাবনী (০৩৪১-৬৪৭০৩)। পর্যটন কর্পোরেশনের ঢাকাস্থ হেড অফিস থেকেও এসব হোটেলের বুকিং দেওয়া যায়। যোগাযোগ :৮৩-৮৮, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। ফোন :৯৮৯৯২৮৮-৯১। এ ছাড়া অন্যান্য হোটেল হলো হোটেল সি-গাল (০৩৪১-৬২৪৮০-৯১), ঢাকা অফিস ০২-৮৩২২৯৭৩-৬; হোটেল ওশান প্যারাডাইস (০৩৪১-৫২৩৭০, ৫২৩৭৯), ঢাকা কার্যালয় ০২-৮৪১৫৩৯৭; হোটেল লং বিচ (০৩৪১-৫১৮৪৩-৬), ঢাকা কার্যালয় ০২-৯৫৫৭৫৪৫, ফ্যাক্স +৮৮০২-৭১৬৯৬৫৬; হোটেল কক্স টুডে (০৩৪১-৫২৪১০-২২), ঢাকা কার্যালয় ০২-৯৮৮২৬৩৮; হোটেল সি প্যালেস (০৪৩১-৬৩৬৯২, ৬৩৭৯২), ঢাকা কার্যালয় ০২-৯৬৭২৮৭৬; হোটেল কোরাল রিফ (০৩৪১-৬৪৭৪৪-৫); ইউনি রিসোর্ট (০৩৪১-৬৩১৮১); হোটেল সিলভার সাইন (০৩৪১-৬৪৮৯৩-৪); হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০৩৪১-৬২৮৮১-৫); হোটেল সি ক্রাউন (০৩৪১-৬৪৭৯৫, ৬৪৪৭৪); হোটেল মিশুক (০৩৪১-৬৪৩২০)।

জঙ্গল ভ্রমণে কী করবেন

জঙ্গলে ভ্রমণে সব সময় হালকা কাপড় ও জুতা এবং কেমোফ্লাজ রঙের কাপড় পরিধান করবেন। রোদ চশমা, রোদ টুপি, ছাতা, পানির বোতল সঙ্গে নেবেন। বর্ষায় ভ্রমণে গেলে অবশ্যই রেইনকোট কিংবা পঞ্চ সঙ্গে নিন। পোকা-মাকড় ও মশার হাত থেকে বাঁচতে পতঙ্গনাশক ক্রিম সঙ্গে নিন। জোঁকের হাত থেকে বাঁচতে মোজার মধ্যে প্যান্ট গুঁজে নিন। দূরের বন্যপ্রাণী ও পাখি দেখতে দূরবিন নিতে পারেন। জঙ্গলে ভ্রমণকালীন সর্বোচ্চ নিরবতা অবলম্বন করুন। প্লাস্টিক জাতীয় প্যাকেট, বোতল, ক্যান সঙ্গে এনে বাইরে কোথাও ফেলুন।

জঙ্গল ভ্রমণে কী করবেন না

পিকনিক করতে জঙ্গলে যাবেন না। ভ্রমণে উচ্চ শব্দে মাইকে গান কিংবা কোনো কিছু বাজাবেন না। বন্যপ্রাণীরা বিরক্ত হয় এমন কোনো শব্দ কিংবা আওয়াজ করবেন না। ময়লা, প্লাস্টিক জাতীয় কোনো কিছু জঙ্গলে ফেলবেন না। বনে ধূমপান করবেন না।

লেখা মুস্তাফিজ মামুন
আলোকচিত্র সৈয়দ জাকির হোসেন

0 comments:

Post a Comment