পুরান
ঢাকার ১৫ নম্বর মিউনিসিপ্যাল স্ট্রিটের লক্ষ্মীবাজারে ১৯৬৮ সালে
প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল। সার্বিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে
অবহেলিত নারীসমাজকে আলোকিত করে প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বেসরকারি
উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ঢাকার তৎকালীন মন্ত্রী ফকির আবদুল
মান্নান শাহ নিজ উদ্যোগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম অবস্থায় এটি ছিল
একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। তখন এ স্কুলটির নাম ছিল প্রিপারেটরি স্কুল। পরে এ
স্কুলটিতে বাংলা মিডিয়াম করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ফকির আবদুল
মান্নান গার্লস হাই স্কুল। পরবর্তী সময়ে স্কুলটি নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায়ে
উন্নীত হয়। তখনকার স্কুলের সঙ্গে এখনকার স্কুলের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া
যাবে না। স্কুলের গেট ছিল কাঠের নির্মিত একটি দরজা বিশেষ। গেট দিয়ে ঢুকতেই
হাতের ডানে ছিল একটি শিউলি ফুলের গাছ এবং বাঁয়ে ছিল একটি কামিনী ফুল গাছ।
সামনেই ছিল একটি আঙিনা, তারপর পুরনো আমলের একটি একতলা ইমারত, যেটাকে মেইন
বিল্ডিং বলা যেতে পারে। এখানেই ছিল অফিস কক্ষ, প্রধান শিক্ষিকার অফিস,
টিচার্স কমন রুম এবং নামাজের ঘর। এরই মধ্যে ছিল দু-তিনটা শ্রেণীকক্ষ। মেইন
বিল্ডিংয়ের দক্ষিণ পাশে ছিল পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা চার-পাঁচটি বেড়ার ঘর।
উত্তর পাশে ছিল পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বি চার-পাঁচ রুমের একটি পাকা
বিল্ডিং। ১৯৭০ সালেই স্কুলটি পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলের রূপ লাভ করে এবং নতুন
নামকরণ করা হয় 'ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল'। প্রথম পর্যায়ে স্কুলের
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল না। তবে আশির দশকে ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে হয়
প্রায় ২৩০০। ধীরে ধীরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত এবং নিরলস প্রচেষ্টায়
স্কুলটি বর্তমান পর্যায়ে উঠে এসেছে। বর্তমানে স্কুলটি সুনামের সঙ্গে
স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিদা খানম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলীর
নিঃস্বার্থ সহযোগিতায় অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকরা
অপরিসীম ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে
শিক্ষকমণ্ডলী নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে স্কুলে শিক্ষার্থীর
সংখ্যা পনেরো শ। ৩২ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো দিয়ে
যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে পাসের হার শতভাগ। দোতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনে ১৮টি কক্ষ
রয়েছে। রয়েছে অফিস রুম, একটি টিচার্স রুম ও একটি প্রশাসন ভবন। ছাত্রীদের
ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষার লক্ষ্যে ১১টি কম্পিউটার-সংবলিত একটি কম্পিউটার
রুম, একটি উপাসনালয় রয়েছে। বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে
রয়েছে একটি জেনারেটর।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও স্কুলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে নেই।
টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও তারা অংশগ্রহণ করে। ২০১২ সালে জাতীয়
টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
প্রথম স্থান লাভ করে। একই বছরে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায়
৩৬টি স্কুলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে। ২০১০ সালে বার্ষিক
সমাপনী পরীক্ষায় সূত্রাপুর থানার মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান লাভ করার
গৌরব অর্জন করে। ২০০৮ সালে ঢাকা বোর্ডের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় দশম স্থান
লাভ করে। এসব সম্ভব হয়েছে শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে। বর্তমানের
ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে স্কুলটি একদিন মেধার শীর্ষে অবস্থান করবে বলে
আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান শিক্ষিক শাহিদা খানম।
0 comments:
Post a Comment