Sunday, August 12, 2012

দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ

1 comments
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্গত একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ হলো দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ। এই দ্বীপটি ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও এই দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে থাকে। ভারত এই দ্বীপটির নাম দিয়েছে পূর্বাশা বা নিউমুর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি জেগে ওঠে। নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইটে মহাকাশ থেকে দ্বীপটির প্রথম ছবি নেওয়া হয়। এতে দেখা যায় আড়াই হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে দ্বীপটির অস্তিত্ব রয়েছে। পরে আরো অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বাড়ছে এবং একপর্যায়ে এর আয়তন ১০ হাজার বর্গমিটারে দাঁড়ায়। যেহেতু বাংলাদেশ-ভারতের সীমানা বিভাজক হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূলস্রোত দ্বীপের পশ্চিম ভাগ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে; সেহেতু 'নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি' অনুযায়ী দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তার পরও ভারত এই দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে। ভারত ১৯৮১ সালে সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে তাদের পতাকা ওড়ায়। যদিও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের দাবির মুখে ভারত সেনা প্রত্যাহার করে নেয়; কিন্তু এখনো এই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।