Wednesday, August 15, 2012

বঙ্গভবন

0 comments
বঙ্গভবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন। স্থাপনাটি ঢাকায় অবস্থিত। প্রাসাদটি মূলত ব্রিটিশ ভিক্টরি অব ইন্ডিয়ার অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলার সুলতানি আমলে বঙ্গভবন যে স্থানে অবস্থিত তা ছিল হজরত শাহজালাল দাখিনি নামক ঢাকার এক সূফী সাধকের। সুলতানের চরে দ্বারা সূফী সাধক এবং তার অনুসারীরা নিহত হলে তাদের এখানে কবর দেওয়া হয়। স্থানটি সাধকের ভক্তদের কাছে মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বঙ্গভবন এলাকায় 'মানুক হাউস' নামে একটি ইমারত ছিল। জনশ্রুতি আছে, ব্রিটিশ রাজত্বের সময় আর্মেনীয় জমিদার মানুকের নামানুসারে এর নাম দেওয়া হয়। ঢাকার নবাব আবদুল গনি মানুকের কাছ থেকে স্থানটি কিনে নিয়ে এখানে একটি বাংলো তৈরি করেন, যার নাম দেওয়া হয় দিলকুশা।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ববঙ্গ এবং আসামের সরকার এ স্থানটি কিনে নেয়। পরবর্তীকালে এখানে প্রাসাদোপম ভবন তৈরি করা হয় যা ১৯১১ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেলের অস্থায়ী বাসস্থান ছিল। ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটিকে গভর্নর হাউস নামে ডাকা হতো এবং বাংলার গভর্নরের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এখানে থাকতেন। ১৯৬১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ভবনটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১৯৬৪ সালে ভবনটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। চারদিকে লম্বা প্রাচীরঘেরা মূল ভবন ত্রিতল প্রাসাদোপম চত্বরের চার পাশে সবুজ বৃক্ষরাজি দ্বারা আবৃত। নিচতলায় মেঝের ক্ষেত্রফল ৬৭০০ বর্গমিটার। রাষ্ট্রপতির বাসভবন উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এর দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি সুদৃশ্য শয়ন কক্ষ রয়েছে। রয়েছে রাষ্ট্রপতির দপ্তর, সামরিক ও বেসামরিক সচিবালয়, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং দর্শকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কক্ষ। তৃতীয় তলায় বৈদেশিক কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে চারটি পৃথক কক্ষ, নিরাপত্তা অফিস, ডাকঘর, ব্যাংক, ক্যান্টিন, দর্জির দোকান, একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা রেজিমেন্টের জন্য ব্যারাক ইত্যাদি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর '৭২-এর ১২ জানুয়ারি গভর্নর হাউসের নাম পরিবর্তন করে 'বঙ্গভবন' করা হয়। ওইদিনই বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ও এটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছিল। বঙ্গভবন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম মর্যাদার প্রতীক যা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এবং ভারতের প্রেসিডেন্ট হাউসের সমমর্যাদা বহন করে। কারণ বঙ্গভবন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে এখানে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বসবাস এবং রাষ্ট্রের কাজ পরিচালনা করেন।

0 comments:

Post a Comment