Tuesday, September 28, 2010

সবুজ পাথর পান্না

0 comments
রত্ন হিসেবে পান্না এক কথায় অসাধারণ। রাশিচক্র অনুযায়ী, মে মাসে যাদের জন্ম তাদের বার্থস্টোন পান্না। প্রাচীনকালে এই রত্নকে বহু রোগের নিরাময়কারী হিসেবে ভাবা হতো। ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক পান্না

আজো সবার কাছে গ্রহণীয়।

পান্না মধ্যম থেকে গাড় সবুজ রংয়ের রত্ন পাথর। ষড়ভূজাতিকৃতির কেলাস আকারে এটি পাওয়া যায়। বেশিরভাগ পান্নাই ঘোলাটে বর্ণের এবং খুঁতযুক্ত। নিখুঁত ও সুন্দর পান্না খুবই দামি রত্ন। একই ধরনের খনিজ পাথরের সঙ্গে পান্নার পার্থক্য হলো_ শুধু পান্নাই অভ্র শিলাস্তরে বা চুনাপাথরে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কলম্বিয়ার মুজো এবং এল সিভর খনিতে। উরাল পর্বতমালার টকেভোয়া-তে আব্রখনিতেও পাওয়া যায়। অবশ্য সেখানে তা বেরিলিয়ামের আকরিক ক্রিসোবেরিল ও ফেনাকাইটের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। এছাড়াও অস্ট্রিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের কালিগুমানে পান্না পাওয়া যায়।

পান্না বা এমিরাল্ড আশ্চর্য এক রত্ন। আমাদের দেশে এই রত্নটি তেমন পরিচিত না হলেও পাশ্চাত্যে এর কদর যথেষ্ট। ঝলমলে পাথরে সবুজ রংয়ে বিচ্ছুরণ প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে মুগ্ধ ও মোহগ্রস্ত করছে।

পান্না এক বিরল রত্ন। বড়সড় আকারের সুন্দর করে কাটা এক খণ্ড পান্না হীরার চেয়েও দামি হয়ে ওঠতে পারে। তার কারণ, পান্না এক ধরনের বেরিল স্ফটিক। প্রায় সব রত্নে সাধারণ উপাদান অ্যালুমিনিয়াম। আর পান্না হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন ও বেরিলিয়ামের এক বিরল সমন্বয়। সেইসঙ্গে রয়েছে সামান্য পরিমাণ ক্রোমিয়াম কিংবা ভ্যানাডিয়াম, যার কারণে পান্নার এই সবুজ দ্যুতি।

এই রত্নের উৎপত্তিস্থল মিসর। খ্রিস্টজন্মের বহু আগে থেকেই সারাবিশ্বে পান্না জোগান দিত মিসর। কায়রোর ৪৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্ব ক্লিওপেট্রা মাইন। এই খনি থেকে মিসরীয়, রোমান, এমনকি তুর্কিরাও নির্বিচারে পান্না তুলেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০ থেকে ১২৩৭ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে পান্নার জোগানদার ছিল এই খনি। বিশ্বের পান্না বাণিজ্যে মিসরের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটে যখন স্পেনীয় উপনিবেশবাদীরা দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছায়। ১৫৫৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেনীয়রা বর্তমান কলম্বিয়ার মুজো নামক স্থানে পান্নার খনি আবিষ্কার করে। সবুজ পাথরের বিশাল সম্ভার তাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। স্পেনীয়রা তাদের আবিষ্কারকে কাজে লাগাতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি। স্থানীয় অধিবাসীদের দাস বানিয়ে শুরু করে পান্না উত্তোলন। ইউরোপ ও এশিয়ায় ব্যাপক হারে পান্না রপ্তানি হতে। আরবীয় বাদশাহ, পারস্যের শাহ, তুর্কি সুলতান কিংবা ভারতীয় মহারাজাদের অলংকারের অপরিহার্য উপাদান ছিল এই রত্ন। স্পেনীয়দের সময় থেকে আজো বিশ্বে এক নম্বর পান্না উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে কলম্বিয়া। রত্ন হিসেবে পান্না এক কথায় অসাধারণ। রাশিচক্র অনুযায়ী, মে মাসে যাদের জন্ম তাদের বার্থস্টোন পান্না। প্রাচীনকালে এই রত্নকে বহু রোগের নিরাময়কারী হিসেবে ভাবা হতো। ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক পান্না আজো সবার কাছে গ্রহণীয়। তবে পান্নার ঝলমলে আলোয় ঢাকা পড়ে গেছে খনি শ্রমিকদের নির্মম ইতিহাস। প্রাচীন মিসর থেকে কলম্বিয়া_ কোথাও পান্না শ্রমিকরা পায়নি তাদের ন্যায্য অধিকার। আজো শ্রমিকদের করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। একখণ্ড পান্নার মালিক হওয়া দূরের কথা, দুইবেলা খাদ্য সংস্থান করাই তাদের কষ্টকর। পান্নার সবুজ দ্যুতি আলোকিত করে না তাদের জীবন।
-
শামছুল হক রাসেল

0 comments:

Post a Comment