Thursday, September 30, 2010

আহসান মঞ্জিল

1 comments
পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল বা নবাব বাড়ি সে এক অতীত ঐতিহ্য এ কথা সবার জানা। আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যারা জানেন তাদের কাছে নতুন করে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। আজ আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তা-ই যথেষ্ট নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে নবাব বাড়ির এক অন্ধকার অধ্যায়।

নবাব বাড়ির নবাব কি সত্যি নবাব ছিলেন? এর উত্তরে হয়তো সবাই বলবেন, অবশ্যই খাজা আবদুল গনি। কিন্তু কোথায় পেলেন তিনি এই নবাব খেতাব আর এই বাড়িটি তিনি কেনেন কোথা থেকে_ এসব জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে সুদূর অতীতে।

প্রাণেশ সমাদ্দারের কিশোর ইতিহাস 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' বইটিতে আহসান মঞ্জিল তথা নবাব বাড়ির আদি কথা তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস উত্তাল সারা ভারত। ইংরেজ বেনিয়া শাসককুল ঢাকায় বিদ্রোহ থামাতে অত্যন্ত সচেতন, কিন্তু ঢাকার সিপাহীদের থামাতে চাই ভিন্ন কৌশল। কারণ সিপাহীদের সদর কেন্দ্র জলপাইগুড়ি থেকে বিদ্রোহের খবর এসেছে। সদর কেন্দ্র বিদ্রোহী হলে ঢাকাকে রক্ষা করা যাবে না। তাই ইংরেজ জাত বাঁচানোর তাগিদে ৩০ জুলাই ঢাকা কলেজে এক সভা ডাকেন। (বাহাদুর শাহ পার্কের ঠিক পশ্চিমে যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পরিণত হয়েছে) সে সভায় সাদা জাতির তীক্ষ্ন বুদ্ধি থেকে বের হয় এক নতুন ষড়যন্ত্র। ঢাকার বিদ্রোহ দমাতে চাইলে, এদের শায়েস্তা করতে হলে একজন 'গাদ্দার' রেব করতে হবে। যাকে কেনা যাবে টাকা ও সম্পদের মোহ দিয়ে। অতি অল্প সময়ে পাওয়া গেল একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে। সেই নাগরিক হলেন ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি। এই সেই আবদুল গনি, ঢাকার উন্নয়নকল্পে তার অবদান অস্বীকার করা যায় না। তিনি মূলত ছিলেন চামড়া ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে ইংরেজদের সঙ্গে যোগযোগ প্রায়ই হতো। ফলে তাকে বাগে পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি ইংরেজদের। দেশবাসীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কোম্পানি বাহাদুর এনাম হিসেবে দিলেন নবাব এবং পরবর্তী সময়ে স্যার (কেসিএসআই) উপাধি। বেইমানির পুরস্কার হিসেবে তিনি ঢাকায় এক বিরাট ভূখণ্ড চিরস্থায়ী লিজ পান। এ ভূখণ্ডটিতে কোম্পানি বাহাদুর নবাব আবদুল গনির পুত্র আহসানের নামে এই ঐতিহাসিক আহ্সান মঞ্জিলটি গড়ে দেন। মূলত এ মঞ্জিলটি তৈরি হয়েছিল ইংরেজদের দুর্গ হিসেবে, পরে তা নবাব আব্দুল গনিকে এনাম হিসেবে দেওয়া হয়।

ইংরেজ জাতির চামচা হওয়ার ফলে 'নবাব' উপাধিও হয়ে যায় বংশগত উপাধি। ফলে বংশানুক্রমে নবাব আহসানউল্লাহ, নবাব সালিমুল্লাহ, নবাব হাবিবউল্লাহ আরো অনেকে নবাব উপাধি বহন করে এসেছেন। ঢাকার প্রকৃত ও আদি নবাবের বাড়ি ছিল ঢাকার নিমতলীতে। তাই তারা আবদুল গনিকে কাগুজে নবাব বলতেন। (শতবর্ষের ঢাকা : আহমেদ মীর্জা খবীর), এদিকে খাজা আবদুল গনি প্রচার করতে থাকেন খাজা আলিমউল্লাহ ১৮৩৫ সালে ফরাসি কুঠিয়ালদের কাছ থেকে এ বাড়ি কিনেছিলেন। তারপর থেকে সবাই জানে আহসান মঞ্জিলের সব বংশধর নবাব ছিলেন। এখন কথা হচ্ছে, '৪০০ বছরের ঢাকার ইতিহাস' এবং 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' এ দুটি বইতে আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা বিতর্কিত। কারণ, দুটি অতীত ইতিহাস ভিন্নরকম, প্রমাণ দেওয়া কঠিন আসল সত্য কোনটি। তবে মিথ্যা সত্যকে কখনোই পরাজিত করতে পারে না।

তথ্য সূত্র : সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা
জেরিন আকতার রুনা

1 comments:

Post a Comment