Sunday, September 26, 2010

লাউয়াছড়া

31 comments
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই উদ্যানে দেখা মিলে নানা বিরল প্রজাতির পশু-পাখি। প্রতিদিনই উদ্যানে আসা পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে বিলুপ্ত বন্য প্রাণী উল্লুকের ডাক। এছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন আদিবাসী খাসিয়াদের পান পুঞ্জি, উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজে ঘেরা সারি সারি চা বাগানের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য।

১৯৯৬ সালে সরকার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষণা করে। তখন থেকেই ইউএসএইডের অর্থায়নে নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প এ উদ্যানের বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্যে রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার কাজ শুরু করে। এরপর থেকে পার্কের পরিচিতি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছর প্রায় ১ লাখের অধিক পর্যটক লাউয়াছড়া ভ্রমণ করেছেন। ২০০৭ সালে ৩০ হাজার এবং ২০০৮ সালে ৬৩ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এবছর এ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী উল্লুক ছাড়াও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রয়েছে_ হনুমান, লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এর পাশাপাশি বিরল প্রজাতির বৃহৎ আকারের আফ্রিকান টিকওক, সারি সারি ডুমুর, লটকন, সেগুন, আমলকী, জলপাইসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া পাহাড়ি ময়না, ধনেশ, মথুরা, বনমোরগ, সবুজ ঘুঘুসহ ২৪৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে। আরো রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির পাহাড়ি পোকামাকড়। পাহাড়ের উঁচু-নিচু টিলায় ২টি খাসিয়া আদিবাসী পলি্ল।

ইউএসএইডের অর্থায়নে বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে সহায়তা প্রকল্পের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি আইপ্যাক সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর থেকে লাউয়াছড়ায় প্রবেশ ফি চালু করা হয়। ফি'র ৫০ ভাগ আইপ্যাক এ সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ৫০ ভাগ সরকার পাবে। লাউয়াছড়ায় বেড়াতে আসা দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপরূপ এ প্রাকৃতিক দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। গহিন অরণ্যে বেড়াতে এসে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তবে জাতীয় উদ্যানের ভিতর পর্যটকদের জন্য বসার স্থান, টয়লেট, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে।



-দীপংকর ভট্টাচার্য, শ্রীমঙ্গল

31 comments:

Post a Comment